Kritajnyata KiChapter 9 of 17
Chapter 9

কার্যকলাপ

1 sections

কার্যকলাপ

১৭ কৃতজ্ঞতা হল অপরকে শ্রদ্ধা করা 34 প্রথমে যে জিনিষটা বুঝতে হবে তা হল কেউ শুধুমাত্র তোমাকে সেবা করার জন্য জন্ম নেয় নি। প্রতিটি মানুষ আমাদের মতই জীবনের পথে আছে। দয়াশীল হবার জন্য ও প্রশংসিত তারা আমাদের জন্য কিছু জিনিষ করে। তোমার সেবা করে বা তোমাকে নানাকিছু যোগান দিয়ে বা তোমার যত্ন করে তোমার স্ত্রী বা স্বামীও এক অতী দয়ার কাজ করছে। অবশ্যই বিবাহ দেওয়া-নেওয়া দায়ী করে কিন্তু স্বামী বা স্ত্রীকে কখনও অবধারিত বলে গণ্য করা যায় না। তাদের ওপর আমাদের জন্মাধিকার আছে বলে চিন্তা করা যায় না। বিশেষ করে অংশীদারদের মধ্যে অনেক কিছুই অবধারিত বলে গণ্য করা হয়। প্রতিটি মানুষের আমাদের জীবনে সমান অবদান। কাউকে অবধারিত বলে গণ্য করা উচিত নয়। পৃথিবীতে প্রতিটি মানুষের জন্য কৃতজ্ঞতা থাকতে হবে। আমি সর্বদা লোকেদের বলি, তুমি ও তোমার স্বামী বা স্ত্রীর মধ্যে অথবা অন্যান্য সম্পর্কতা ঠিকঠাক না চলার জন্য বেড়িয়ে আসতে হলে, সেটাও কৃতজ্ঞতা সহকারে করতে হবে। প্রতিটি সম্পর্কতা তোমার জীবনে ভাল কিছু নিয়ে আসে। প্রতিটি সম্পর্কতাই শুধু সমস্যা হল আমরা ভাবি কিছু মানুষ আমাদের আঘাত করার জন্য অপেক্ষা করেছে। এরকম নয়। আমাদের অসুরক্ষার ভাবনা আমরা অন্যের ওপর অভিক্ষেপ করি। আমাদের একটি স্ব-প্রতিরক্ষা পদ্ধতি আছে যেটা কারণহিতভাবে সমস্ত সম্পর্কতাতে কার্য করে। অন্যরা আমাদের আঘাত করার অপেক্ষায় আছে - এই চিন্তার ওপর সেটা চালিত। এই পদ্ধতিটি কৃতজ্ঞতা প্রকটিত হলে মিলিয়ে যাবে। নির্দিষ্ট কিছু পথে প্রতিপালিত হবার জন্য বহু মানুষ তাদের পিতামাতা ও সমাজের ওপর অতিকতঞ্জ হয়ে থাকে। আমাদের দেওয়া কৃতজ্ঞতার ধ্যানগুলির মধ্যে একটিতে আমরা মানুষটিকে প্রথমে তার মাতাপিতা ও 34 যারা তাকে মানসিক গঠন ও মনোভাব প্রদান করেছে তাদের কৃতজ্ঞতা অর্পণ করতে বলি। বোঝো, তোমার এখনের বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তুমি বুঝতে পারছ, আগে তুমি সঠিক মানসিক গঠন পাও নি। তুমি এখন নতুন এক মানসিক গঠনে রূপান্তরিত হবার চেষ্টা করছ। সেটা একদমই ঠিক আছে। কিন্তু তোমার আগের মানসিক গঠন প্রদানকারীদের অভিসম্পাত করা ঠিক নয়। তোমাকে যারা এই দেহ ও মন দিয়েছে, তাদের কোনভাবেই আমাদের বর্ষিত বা বিমিশ্রিত করা ইচ্ছা ছিল না। তারা সর্বশ্রেষ্ঠ বলে যা জানত, তাই তারা কেবল সেগুলিই আমাদের দিয়েছে, ব্যস। আমরা সেগুলির আরো উন্নতি যাচ্ছি কারণ আমরা আরো বুদ্ধিদত্তা সম্পন্ন হয়েছি। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা অনুভব কর, তাহলেই যথেষ্ট। যখন তুমি তোমার সম্পর্কতায় মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা অনুভব করবে, তুমি কখনও তাদের অধিকার করতে চেষ্টা করবে না। তুমি তাদের দিকে তাকিয়ে দেখবে তারা কত সুন্দর এবং সেখানেই ছেড়ে দেবে। অধিকার করার প্রবণতা তখন ঘটে যখন তুমি অন্যান্যজনকে এক স্বতন্ত্র ব্যক্তি না ভেবে বস্তু বলে মনে কর। কৃতজ্ঞতা সহকারে তুমি ব্যক্তিটিকে তার নিজের আকাশে থাকতে দেবে। 35 যখন তুমি তোমার সম্পর্কতায় মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা অনুভব করবে, তুমি কখনও তাদের অধিকার করতে চেষ্টা করবে না। 35 ১৮ কার্যকলাপ 36 অন্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্য নীচে একটি শক্তিশালী ধ্যান দেওয়া হল। সচেতনভাবে নির্বায় নাও, পরের কয়েক দিন যখনই কোন মানুষ বা পরিস্থিতির সাথে মিথষ্ক্রিয়া করতে হয়, যখনই কিছু বল বা কর, তা সেই পরিস্থিতি যাই হোক না কেন - তুমি পবিত্র প্রেম ও কৃতজ্ঞতা সহকারে সাড়া দেবে। শুধুমাত্র দুই দিনের জন্য নির্বায় নাও, এতদিন যেভাবে প্রতিক্রিয়া করতে তা করবে না। নির্বায় নাও, তুমি কেবল পবিত্র নির্বিমান প্রেম সহকারে সাড়া দেবে। দেখবে তোমার সমস্ত সম্পর্কগুলি আরও ভাল হবার দিকে যাচ্ছে। স্বতঃস্ফুর্তভাবে তুমি প্রতিটি মানুষকে অস্তিত্বের এক অনন্য সৃষ্টি হিসাবে, ঐশ্বরিকতার প্রতিফলন হিসাবে দেখতে শুরু করবে। তোমার চারপাশে সবকিছু ও সবার সাথে তুমি গভীর সংযুক্তি অনুভব করবে। তুমি তোমার চারপাশে সবকিছুর প্রতি অসাধারণ করুণা অনুভব করবে। যদি তুমি আগে একটুতেই রেগে যেতে, দেখবে তোমার ক্রোধ মিলিয়ে যাচ্ছে। কৃতজ্ঞতা বৃদ্ধির সাথে যে সমস্ত শক্তি নকারাত্মক আবেগে বিনিয়োগ করা হয়েছিল তা উন্মোচিত হবে। তুমি করুণাময় ও প্রেমী হবে। 37 যখন তুমি তোমার সত্ত্বায় মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা অনুভব করবে, তুমি কখনও তাদের অধিকার করতে চেষ্টা করবে না। তুমি তাদের দিকে তাকিয়ে দেখবে তারা কত সুন্দর এবং সেখানেই ছেড়ে দেবে।