কৃতজ্ঞতা হল মহত্তম মনোভাব
কৃতজ্ঞতা হল মহত্তম মনোভাব
৯ কার্যকলাপ 14 কারণহিত কৃতজ্ঞতা প্রতিপালন করার জন্য এখানে একটি শক্তিশালী ধ্যান দেওয়া হল। প্রতিদিন সকালে ঘুম ভেঙ্গে বিছানা ছাড়ার আগেই শুধুমাত্র বিদ্যমান থাকার জন্য, এই সুন্দর অস্তিত্বে মানুষ হয়ে বাস করার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা অনুভব করার চেষ্টা কর। এই বোধটি নিয়ে এসো, তুমি যা কিছু উপভোগ করছ তা করতে পারছ কেবল তুমি মানুষ হয়ে জন্মেছ বলেই। তার জন্য কৃতজ্ঞ হবার চেষ্টা কর। কয়েক মিনিট সেই কৃতজ্ঞতা সহকারে দ্বীভূত হও। সমস্ত দিন ধরে ছোট বা বড় যা কিছু তোমার আছে তার জন্য কৃতজ্ঞ হও। যখন ভোজন করার জন্য প্লেট না ও, সেই প্লেটটিকে এক উপহার হিসাবে দেখো। সেই প্লেটে খাবার পরিবেশন করা হলে, খাবারকে উপহার হিসাবে দেখো। যখন ভোজন করার জন্য চেয়ারে বসো, সেই চেয়ারকে এক উপহার হিসাবে দেখো। যখন খাবার পরে হাত ধোও, নিজের আঙ্গুলগুলিকে এক উপহার হিসাবে দেখো। রোজ রাতে ঘুমাতে যাবার আগে বিছানায় বসো এবং সততার সাথে কেবলমাত্র বিদ্যমান থাকার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা নিয়ে এসো। সেটা তোমার সম্পূর্ণ দেহ ও মন দিয়ে অনুভব কর। যদিও তোমার দিনটা খারাপ গিয়ে থাকে, তাও ঠিক আছে। সবকিছু সরিয়ে রেখে কেবল বিদ্যমান থাকার জন্য কৃতজ্ঞতা অনুভব কর। সব দিনই তো আর খারাপ হয় না। এমন অনেকেই আছে যাদের দিনগুলি তো তোমার সবচেয়ে বাজে দিনটির চেয়েও খারাপ হয়। তাই সমস্ত বিচার সরিয়ে রাখ এবং কৃতজ্ঞতা অনুভব কর। এই ভাবনা সহকারে ঘুমাতে যাও। মানুষ চেতনা সহকারে জন্ম হওয়াই তো আমাদের পাওয়া প্রথম আশীর্বাদ। সেখান থেকে আমাদের কৃতজ্ঞতা শুরু হওয়া উচিত। 15 কৃতজ্ঞতা হল সবকিছুকে উপহার বলে উপলব্ধি করা 16 কৃতজ্ঞতার অভিজ্ঞতা মিস্ করার প্রধান কারণ হল তুমি সবকিছুকে অবধারিত বলে গণ্য কর। তুমি ভাব মানুষ তোমার জন্য যা কিছু করে তা তোমার জন্মাধিকার। বুঝে নাও, জিনিষগুলি তোমার জন্য না করে মানুষেরা তো অন্যান্যদেরও করতে পারতো। সেইজন্য তোমাকে তাদের ধন্যবাদ দিতে হবে। 16 জীবনে প্রতিটি ছোট জিনিষকে উপহার হিসেবে গ্রহণ কর। যখন তুমি ভোজন করার জন্য প্লেট নাও, সেটাকে এক উপহার হিসেবে দ্যাখো। যখন সেই প্লেটে খাবার পরিবেশন করা হয়, খাবারকে উপহার হিসাবে দ্যাখো। যখন চেয়ারে বসে খেতে যাও, চেয়ারটাকে এক উপহার বলে দ্যাখো। খাবার পরে হাত ধোবার সময়, আঙ্গুলগুলিকে উপহার হিসাবে দ্যাখো। 16 আমরা কখনও দেখি না যে অনেকের খাবার জন্য প্লেট থাকে না। অনেকের আঙ্গুল দিয়ে খাবার জন্য আঙ্গুল থাকে না! আমরা কি কখনও তা চিন্তা করেছি? আমরা কেবল তাদের দিকে তাকাই যাদের আঙ্গুলে হীরের আংটি আছে। সেটাই সমস্যা। তাই আমরা জীবনে কোনকিছুকেই উপহার বলে অনুভব করি না। 16 যখন আমরা ছোট জিনিষের জন্য কৃতজ্ঞতা অনুভব করতে শুরু করি, আমাদের সম্পূর্ণ সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি পায়। আমরা আরও পরিশুদ্ধ হই। জীবনের প্রতি আমাদের সম্পূর্ণ মনোভাব এক ভিন্ন স্তরে চলে যায়। স্মরণে রেখো, ছোট জিনিষের প্রতি ধন্যবাদপূর্ণ না হলে বড় জিনিষের জন্য কখনও ধন্যবাদপূর্ণ হবে না। 16 এমনকি বড় জিনিষগুলিকেও অবধারিত বলে গণ্য করা হবে। বর্তমানে আমরা ভাবি আমরা যা কিছু পাই তাতে আমাদের অধিকার আছে। এই মনোভাবেৱ জন্য আমরা অস্তিত্ব বা ঈশ্বরের দয়াশীলতা দেখতে পাই না। অস্তিত্ব থেকে বর্ষিত উপহারগুলির প্রতি আমরা অসংবেদী হয়ে থাকি। 17 আমরা জীবনে ঠিক এই প্রকার অসংবেদী! আমরা সবকিছুকে অবধারিত বলে গণ্য করি। যদি আমরা নিজেদের কৃতজ্ঞতা সহ সংবেদী করি, আমরা কোনকিছুই অবধারিত বলে গণ্য করব না, সেটা আমাদের আঙ্গুল হোক বা আমাদের ধনদৌলত হোক বা অস্তিত্বের সময়োপযোগী দয়াশীলতা হোক। সংবেদনশীলতা ঘটলে প্রতিটি মুহূর্ত অস্তিত্বের ঘটনাগুলির জন্য গভীর বিষয়ে কাটে। 17