কৃতজ্ঞতা হল ঐশ্বরিকতার দিকে এগিয়ে যাবার পথ
কৃতজ্ঞতা হল ঐশ্বরিকতার দিকে এগিয়ে যাবার পথ
৯ কার্যকলাপ 18 তোমার ভিতরে ও বাইরে সবকিছুর জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্য নীচে একটি শক্তিশালী ধ্যান দেওয়া হল। সোজা হয়ে বসো এবং তোমার চোখ বন্ধ কর। কেবল তোমার সহস্রার চক্রে কেন্দ্রিত হও ও সেখানে স্বস্তিতে থাক। সম্পূর্ণ সত্তা সহকারে, এই দেহ প্রদান করার জন্য তোমার মাতাকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। স্মরণ কর এবং তোমার সমগ্র সত্তা দিয়ে তাকে কৃতজ্ঞতা অর্পণ কর। এই জীবন প্রদান করার জন্য এবং তোমার সমস্ত আবশ্যকতার যত্ন নেবার জন্য তোমার পিতাকে কৃতজ্ঞতা অর্পণ কর। এই পৃথিবীতে তোমার আগমনের সময় যে ডাক্তারেও ও নার্সেরা তোমাকে গ্রহণ করেছিল তাদের কৃতজ্ঞতা অর্পণ কর। তোমার যেখানে জন্ম হয় সেই হাসপাতাল বা বাড়ী যারা নির্মাণ করেছিল তাদের কৃতজ্ঞতা অর্পণ কর। তোমার শৈশবে যারা তোমাকে যত্ন করেছিল তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা অর্পণ কর। তোমার ছোটবেলায় যারা তোমার খাদ্য, কাপড় ও জীবনধারণের জন্য কাজ করেছিল তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা অর্পণ কর। তোমার জীবনে যে বন্ধুরা খুশী ও আনন্দ নিয়ে এসেছিল তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা অর্পণ কর। তোমাকে প্রতিপালন ও যত্ন করার জন্য তোমার ভাই বোন ও অন্যান্য আত্মীয়দের প্রতি কৃতজ্ঞতা অর্পণ কর। ইচ্ছা বা অনিচ্ছায়, সচেতন বা অচেতনভাবে তাঁদের কোন ক্ষতির কারণ হয়ে থাকলে তাঁদের কাছে ক্ষমা চাও। যারা তোমাকে শিক্ষা প্রদান করেছে, যারা তোমাকে দু পায়ে দাঁড়াতে সাহায়তা করেছে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা অর্পণ কর। প্রয়োজনে যারা তোমাকে আর্থিক সাহায্য করেছে তাদের সবাইকে কৃতজ্ঞতা অর্পণ কর। তোমার স্ত্রী বা স্বামীকে প্রেম ও সুরক্ষা প্রদান করার জন্য কৃতজ্ঞতা অর্পণ কর। তাদের কোন কাজে আঘাত পেয়ে থাকলে তাদের ক্ষমা কর তোমার জানাসরে বা অজ্ঞানে তাদের কোন প্রকার আঘাত দিয়ে থাকলে তাদের ক্ষমা প্রার্থনা কর। তোমার আধ্যাত্মিক গুরুগণ যারা তোমাকে উৎসাহিত ও উদ্বুদ্ধ করেছে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা অর্পণ কর। তাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা অর্পণ কর যারা কোন না কোনভাবে তোমার জীবনে সেবা করেছে : মুদী, জঞ্জাল সাফাই কর্মী ইত্যাদি যাদের তুমি অবধারিত বলে গণ্য কর, তাদের ইচ্ছা বা অনিচ্ছা, সচেতন বা অচেতনভাবে কোন আঘাত দিয়ে থাকার জন্য তাদের কাছে ক্ষমা চাও। তোমার শত্রুরা যারা তোমাকে আঘাত দিয়েছে, যারা তোমাকে বলবান ও ক্ষমাশীল বানিয়েছে, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা অর্পণ কর। তাদের কোন প্রকার আঘাত দিয়ে থাকলে তার জন্য তাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নাও। তোমার দেহকে ও তার সমস্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলিকে একটি একটি করে কৃতজ্ঞতা অর্পণ কর। তোমার মনকে আলৌকিকভাবে কাজ করার জন্য কৃতজ্ঞতা অর্পণ কর। তোমার জীবনে এই সমস্ত জিনিষগুলিকে সৃষ্টি করার জন্য অস্তিত্ব, পূর্ণ ও ঈশ্বরকে কৃতজ্ঞতা অর্পণ কর। কৃতজ্ঞতার এই আকাশে কয়েক মিনিট বসে থাক। তোমার সমস্ত সত্তা দিয়ে কৃতজ্ঞতা অর্পণ কর। 19 ১০ কৃতজ্ঞতা? না ধন্যবাদ! 20 সারা জীবন তুমি ‘আপনাকে বা তোমাকে ধন্যবাদ’ শব্দগুলি ব্যবহার কর। শৈশব থেকেই তোমাকে ‘ধন্যবাদ’ বলা শেখানো হয়। প্রাপ্তবয়স্ক হবার আগেই সেটা আমাদের একটা অংশ হয়ে যায়। আমরা শব্দগুলিকে যান্ত্রিকভাবে, ব্যবসায়ের মত ব্যবহার করি। ধন্যবাদ শব্দটিতে যে আবেগ থাকা প্রয়োজন তা কদাচিৎ থাকে : কৃতজ্ঞতা। কার্যত আমরা জীবনকে বিষাক্ত করে তুলি। আমরা বলি : প্রত্যাশা। আমাদের সম্পর্কগুলিতে আমরা ভালবাসা দাবী করি। সমাজে আমরা দাবী করি মনোযোগ। নিজেদের থেকে আমরা ভাল, আরও ভাল কর্মক্ষমতা দাবী করি। আর অন্যরা যা দিতে পারে না, তা আমরা ভগবানের কাছে দাবী করি! আমাদের কাছে যা আছে তার জন্য ধন্যবাদ না দিয়েই আমরা চাইতে থাকি, দাবী করতে থাকি। 20 কৃতজ্ঞতা তোমার ওপরে চাপানো কোনও প্রকার নৈতিকতা নয়। সেটা তোমার নিজের আনন্দের মূল তত্ত্ব! যতক্ষণ তুমি চাইতে থাক, তুমি বাইরের ঘটনাগুলির নিয়ন্ত্রণে থাক। যখম তুমি কৃতজ্ঞতা সহকারে জীবনধারণ কর, কেউ বা কোনকিছুতেই তোমার আনন্দকে স্পর্শ করতে পারবে না। 20 প্রত্যাশা নিয়ে জীবনযাপন করলে, তোমার প্রত্যাশা ও সেগুলির পরিপূর্তার মধ্যে ব্যবধান থাকতেই হবে। যেই মুহূর্তে একটি বাসনা তৃপ্ত হয়, আরও দশটি মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। অবশ্যই প্রত্যেকের জীবনে চাওয়া-পাওয়ারই আছে। সবসময়েই কিছু অপূর্ণ বাসনা থাকবে। সেটা স্বাভাবিক। বলতে শুনেছি নিশ্চয়, তুমি গ্লাসকে আধা ভর্তি নাকি আধা খালি দেখতে পছন্দ কর ? 20 যতক্ষণ তুমি জীবনে যা নেই তাতে কেন্দ্রিত থাক, জীবন তোমার শূন্য লাগবে। “আমি……চাই” কথাটা যেন এক ব্ল্যাক-হোল। সেটা নিশ্চিত তোমার জীবনে যা কিছু আছে তা শুষে ফেলবে এবং তোমাকে শূন্যতার অনুভূতি দেবে। 20 কৃতজ্ঞতা জানিও না, কৃতজ্ঞতা হয়ে যাও! জীবনব্যাপী আনন্দের জন্য কৃতজ্ঞতা হল সবচেয়ে অনায়াস পথ। 21 তোমার জীবনে এখন যা চাইছ সে-গুলো চিন্তা কর। তাদের একটি তালিকা বানাও। আরেকটি তালিকা বানাও যা তোমার ইতিমধ্যে আছে। কোন তালিকাটি তোমাকে আনন্দ দেয় আর কোনটা তোমাকে অস্বস্তি দেয়? উত্তর সংশয়াতীত। তাহলে কোন তালিকাতে তোমার কেন্দ্রিত থাকা উচিত? সম্ভবত জীবের তার নিজের আনন্দকে সংরক্ষিত করার বোধ আছে! আমরা তা করি না? ভারতবর্ষে আমাদের একটি সুন্দর ধারণা আছে : এখানে দাতা বলে ‘ধন্যবাদ’! তার কারণ অন্য জন তাকে দান করার সুযোগ দিয়েছে, অন্য জন তার দান গ্রহণ করেছে। ভারতবর্ষে দেওয়াকে পাপ এবং দেওয়াকে সৌভাগ্য বলে গণ্য করা হয়। তাই দাতা গ্রহীতাকে অনুগ্রহ করার জন্য, তার দান গ্রহণ করার জন্য ধন্যবাদ জানপান করে। 21 কিন্তু আমি বলি, যখম তুমি কোনও প্রকার প্রত্যাশা ছাড়া দান কর অথবা গ্রহণ কর, উভয়ই পবিত্র কল্যাণ হয়। 21 করুণা সম্পর্কে শেষগুরুইয়র সুন্দর বলেন : যে দেয় ও যে নেয়, উভয়ই ধন্য। বাস্তবতার সাথে, অস্তিত্বের সাথে সংযুক্তি রাখার একমাত্র উপায় হল কৃতজ্ঞতার মাধ্যমে। তোমার জীবনের ভিত্তি চাওয়ার ওপরে নাকি কৃতজ্ঞতার ওপরে বানাবে, তা পুরোপুরি তোমারই হতে। যখম তুমি প্রেমময়, প্রবীণমন ও কৃতজ্ঞতাপূর্ণ হও, তোমার মধ্য দিয়ে অস্তিত্বের প্রবাহিত হবার বিরাট শক্তিকে তুমি সর্বদাই অনুভব করবে। 21 ধন্যবাদ বলতে হবে না, ধন্যবাদ হয়ে যাও! কৃতজ্ঞতা জানাতে হবে না, কৃতজ্ঞতা হয়ে যাও! এটাই ‘তথাক’ - জীবন যা দেয় তা শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা সহকারে স্বীকার করা। জীবনব্যাপী আনন্দের জন্য কৃতজ্ঞতা হল সবচেয়ে অনায়াস পথ। 21