Kritajnyata KiChapter 3 of 17
Chapter 3

কৃতজ্ঞতা - প্রসন্নতার চাবিকাঠি

1 sections

কৃতজ্ঞতা - প্রসন্নতার চাবিকাঠি

কৃতজ্ঞতা হল ঐশ্বরিকতার দিকে এগিয়ে যাবার পথ 10 ঐশ্বরিকতার দিকে কৃতজ্ঞতার মনোভাব নিয়ে অগ্রসর হও। কৃতজ্ঞতা অনুভব করলে, ঐশ্বরিকতার সাথে গভীরভাবে সংযুক্ত থাকলে আমাদের সম্পূর্ণ জীবন পরিবর্তিত হয়। লোকেরা বিভিন্ন স্তর থেকে মাস্টারের দ্বারস্থ হয়। 10 আমি দেখেছি কি প্রকর মানুষেরা আমার কাছে আসে। ১) কেউ আমার কাছে লোভবশত আসে; ২) কেউ আমার কাছে ভয়বশত আসে; ৩) কেউ আমার কাছে দুঃচিন্তার জন্য আসে; ৪) কেউ আমার কাছে নামযশের জন্য আসে; ৫) কেউ আমার কাছে আসে ঐশ্বর্য ও তুলনা করার জন্য ৬) কেউ আমার কাছে আসে তাদের জন্য আসে, তাদের আমিত্বকে আরও শক্তিশালী করার জন্য; 10 ৭) খুবই কম মানুষই আমার কাছে কৃতজ্ঞতাবশত আসে যারা আমার কাছে লোভবশত আসে তাদের একটা সমস্যা আছে। তাদের যে কেবল লোভই আছে তা নয়, তাদের একজন মাস্টার সম্পর্কে নিজেদের ধারণা ও অতিকল্পনা থাকে। যখন কোন ব্যাপারে আমাদের অতিকল্পনা থাকে, আমরা বাস্তবতার সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে পারব না। যারা ভয় সহকারে আসে, তারা সেই ভয় কাটিয়ে উঠতে পারে না। তারা আটকে থাকবে কারণ ভয় তো এক অতিকল্পনামাত্র। 10 মানুষেরা বিভিন্ন স্তরে মাস্টার অথবা ঈশ্বরের দ্বারস্থ হয়। আমরা যত পরিপক্ক হই, তত আমরা সেই মানুষটির সাথে সংযুক্ত অনুভব করি যে 10 আমাদের পরিপূর্ণতা প্রদান করে। পরিপক্ক হলে, ভয় ও লোভের উর্ধ্বে গেলে আমরা একই মাস্টার, একই ভগবানের কাছে আরও পরিপক্ক সহকারে যাব। 11 পরিপক্কতা অনুসারে আমাদের মনোভাব ভিন্ন ভিন্ন হয়। যত বেশী পরিপক্ক হই, তত বেশী কৃতজ্ঞতা ঘটে। পরিপক্কতা যত কম হবে, তত আমরা আমাদের জীবন প্রার্থনা দিয়ে ভরে দই। তোমরা প্রার্থনা (prayer) কর লোভবশত, আর স্বীকারোক্তি বা কবুল কর (confession) ভয় থেকে! তাই আমি বলি, ‘কৃতজ্ঞতা হল সর্বশ্রেষ্ঠ প্রার্থনা এবং ‘ধন্যবাদ’ হল সর্বোত্তম মন্ত্র’ ঈশ্বরের দিকে আমাদের কিভাবে অভিগমন করি, তার ওপর ভিত্তি করে সম্প্রদায়ের রীতি নিয়ম সৃষ্টি হয়। সমাজের সাথে আমরা কতটা শেয়ার করব তা নির্ভর করে আমরা কতটা পরিপক্ক। একই পরিপক্কতা সহকারে আমরা ভগবানের দ্বারস্থ হই। যদি আমরা টাকাপয়সা নেই বলে মনে করি, আমরা সেই দেবতার কাছে যাই যিনি ধনদৌলত দেন। যদি জ্ঞানের অভাব অনুভব করি, আমরা সেই দেবতার কাছে যাই যিনি জ্ঞান প্রদান করেন। যদি অসুরক্ষিত অনুভব করি, সুরক্ষা প্রদানকারী দেবতার কাছে যাই। যদি আমরা আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার, পরম অভিজ্ঞতার অভাব অনুভব করি, তখন ঈশ্বরের চূড়ান্ত অভিব্যক্তি, ঐশ্বরিক অবতারের কাছে যাই। 11 তোমার পরিপক্কতার স্তর হিসাবে তোমার ঐশ্বরিক অভিজ্ঞতা হবে যতক্ষণ তুমি ভয় ও লোভে আটকে আছ, তুমি কেবল সেই প্রকার দেবতাদের কাছেই যাবে। যে কোন একটি স্তরে শুরু করা ঠিক আছে কিন্তু আমরা যেন সেই স্তরটিতে থেমে গিয়ে সেখানেই থেকে না যাই সেটা যেন ক্লাস ওয়ান থেকে ক্লাস টুতে যেতে না পারা। ভগবান বিশ্বুর অবতার শ্রীকৃষ্ণ পবিত্র ভগবদগীতায় বলেন, ‘যে মানুষ আমার কাছে প্রেম ও কৃতজ্ঞতা সহকারে আসে, সে সর্বোত্তম, কারণ আমি তার প্রিয় এবং সে আমার প্রিয়’ 11 ৬ কৃতজ্ঞতা হল পরিপূর্ণতার প্রকাশ 12 পরিপূর্ণতা কি? পরিপূর্ণতা পরিতৃপ্তি থেকে একেবারে আলাদা। তুমি যদি 'আমার নেই, আমার নেই' এই ধারণা সহকারে শুরু কর, তুমি কেবল অধিকার করতে থাকবে। যদি তুমি এই বাস্তবতা সহকারে শুরু কর, 'আমার উপরে বর্ষণ করা হয়েছে' আরে! আমি এখনও বেঁচে আছি, আমার কিডনি (বৃক্ক) কাজ করছে, আমার লিভার (যকৃৎ) কাজ করছে, আর আমার মস্তিষ্ক কথনসক্ষম কমপক্ষে কাজ তো করে! আমার হৃৎপিণ্ডও কাজ করছে, আমার ফুসফুস কাজ করছে। তাই আমার সিস্টেমে খুব জিনিষ কাজ করছে! আমি এখনও জীবিত অনুভব করছি' - তাহলে কোটি কোটি সম্ভাবনা উন্মুক্ত হয়ে যায় যে মুহূর্তে তুমি সজীব অনুভব কর। যে মুহূর্তে তুমি এই দরজার বাইরে যাবে, কোটি কোটি তারা দেখা যাবে, কোটি কোটি সম্ভাবনা উন্মুক্ত হবে। একইভাবে যে মুহূর্তে অনুভব কর যে তুমি সদ্য আছ, কোটি কোটি সম্ভাবনা উন্মুক্ত হতে থাকে। কোটি কোটি সম্ভাবনার দ্বারটি হল 'আমি জীবিত' তার প্রথম অভিজ্ঞতা। সেটাকে স্বীকার করে উদযাপন করছ না কেন? তোমার দেহ যে জীবন ঘটছে তা একটা উপহার। তোমার উপরে অনবরত বর্ষণ করা হয়েছে। তুমি যদি এই ভিত্তিতে খাড়া থাক, তবে তুমি দশ গুণ বেশি ধনসম্পদ সৃষ্টি করতে পার। তুমি পরিকাঠামো সৃষ্টি করতে পার। দ্যাখো, 'আমার নেই' এই মেজাজ থেকে জীবন শুরু করলে তুমি ধনসম্পদ সৃষ্টি করতে পারবে না। তুমি ধনসম্পদ ছিনিয়ে নিয়ে তা আঁকড়ে থাকবে। যদি তুমি জীবনকে আশীর্বাদপুষ্ট অনুভূতির সাথে শুরু কর, তুমি ধনসম্পদ সৃষ্টি করবে, তুমি ছিনিয়ে নেবে না। দুটোতে বিরাট পার্থক্য আছে। বুঝে নাও। জীবন 'আমার নেই' এই ভাব নিয়ে শুরু করলে তুমি ছিনিয়ে নিতে থাকবে ; তুমি কখনও সৃষ্টি করবে না। তুমি ছিনিয়ে নেবার সুযোগগুলির অপেক্ষায় থাকবে। মাঝে মাঝে আমাকে লোকেরা বলে, 'স্বামীজী, আমি পুরোপুরি পরিতৃপ্ত' আমি তাদের বলি, 'ও সেটা দারুণ ব্যাপার! যদি তুমি কোন লটারী পাও, কয়েক কোটি টাকা পাও, তুমি কি বলবে তুমি তা চাও না?' তারা বলে, 'না, না, না!' তাহলে তুমি পুরোপুরি পরিতৃপ্ত বলতে কি বোঝাচ্ছ? না। পরিতৃপ্তি থেকে পরিপূর্ণতার দিকে যাওয়া।