Kritajnyata KiChapter 2 of 17
Chapter 2

কৃতজ্ঞতা কি?

1 sections

কৃতজ্ঞতা কি?

3 কৃতজ্ঞতা - প্রসন্নতার চাবিকাঠি 6 আজ পৃথিবীতে প্রকৃত সুখের চাবিকাঠি হল : যে কোন কার্যের একটা কারণ চাই। উপযোগিতা থাকলে কার্য হয় না তবা কার্যের ন্যায্যতা প্রতিপাদন করা কঠিন হয়ে যায়। প্রকৃত কৃতজ্ঞতার কখনও কারণ থাকে না। সেটা তোমার মধ্যে কারণরহিত প্রক্ষুটিত হয়ে ঘটতে থাকে। ফুল কি কোন কারণে প্রক্ষুটিত হয়? না! ফুল ফোটে, কারণ সেটা তার প্রকৃতি। কৃতজ্ঞতা আমাদের সতিকার প্রকৃতি। সমাজের নিয়মত্রের অনেকগুলি প্রলেপ তাকে ঢেকে দিয়েছে। সমাজ কৃতজ্ঞতার ভাষা জানে না। তা কেবল উপযোগিতার ভাষা জানে। সমাজ সরাসরি আমাদের মধ্যে লোভ ও ভয় প্রবেশ করায় যাতে আমরা সমাজকে সমাজের দরকারী ফলাফলগুলি দিই। সমাজ জানে না যে কৃতজ্ঞতার এক পথ আছে, যেটা ভয় ও লোভের পথ থেকেও আরও ভাল ফলাফল দেবে। সেটাই সমস্যা। কৃতজ্ঞতা অনুভব করার অশেষ কারণ আছে। এই জীবনটাই তো আমাদের পাওয়া এক উপহার। মানুষ চেতনা সহকারে জন্ম হওয়াই তো আমাদের পাওয়া প্রথম আশীর্বাদ। সেখান থেকে আমাদের কৃতজ্ঞতা আরম্ভ হওয়া উচিত। আমরা যে আছি, কেবল তার জন্যই কৃতজ্ঞতা অনুভব করা উচিত। বোঝ, যদি তুমি কখনও অনুভব কর জীবন নীরস, জীবন যেরকম হবার কথা সেরকম নয়, তার কারণ হল, তোমার মধ্যে কৃতজ্ঞতা ঘটেনি। কৃতজ্ঞতা এমন এক শক্তি যা তোমার জীবনকে প্রতিটি মুহূর্তে প্রগাঢ় ও উদ্দীপনাময় করে। যখন তুমি নিজের মধ্যে কারণরহিত কৃতজ্ঞতায় সমাচ্ছন্ন হও, বাইরের পরিস্থিতি নির্বিশেষে জীবন সর্বদা মধুর হয়ে যাবে। যখন কৃতজ্ঞতা হারাও, ঘনঘন তুমি এই প্রকার ভাবনার কবলে পড়বে যে জীবন বেদনাময়, কিন্তু তুমি সেই ভাবনার প্রকৃত কারণ জানবে না। জীবনে প্রতিটি ছোট জিনিসকে এক উপহার হিসাবে গ্রহণ কর। যখন আহার করার জন্য তুমি প্লেট নাও, প্লেটটাকে এক উপহার হিসাবে দেখো। মানবচেতনা সহকারে জন্ম হওয়াই তো আমাদের পাওয়া প্রথম আশীর্বাদ। 7 যখন প্লেটে খাবার পরিবেশন কর, খাবারকে উপহার হিসাবে দেখো। যখন আহার করার জন্য চেয়ারে বসে পড়, চেয়ারটিকে উপহার হিসাবে দেখো। এক উপহার হিসাবে দেখে দ্যাখো। খাবার পরে যখন হাত ধোও আলজুলগুলি উপহার হিসাবে দ্যাখো। এমন মানুষ আছে যাদের খাবার জন্য প্লেট নেই। এমন মানুষ আছে যাদের আলজুল নেই, যে আলজুল দিয়ে তারা খেতে পারে! আমরা কেবল তাদের দিকে তাকাই যাদের আলজুলে ছিঁড়ার আঁচড় আছে। আমরা তাদের দিকে তাকাই না যাদের আলজুল নেই। সেইজন্য আমাদের জীবনে আমরা কোনকিছুতেই উপহার বলে অনুভব করি না। প্রতিদিন সকালে জেগে বিছানা থেকে ওঠার আগে শুধুমাত্র বিদ্যমান থাকার জন্য, এই সুন্দর অস্তিত্বে মানুষ হয়ে বাস করার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা অনুভব করার চেষ্টা কর। একইভাবে, প্রতি রাত্রে ঘুমানোর আগে বিদ্যমান থাকার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতার অনুভূতি নিয়ে ঘুমো। সেটা তোমার সমস্ত দেহ ও মনে অনুভব কর। সমস্ত বিচার পাশে রেখে দাও এবং কৃতজ্ঞতা অনুভব কর। যখন আমরা ছোট জিনিষগুলির জন্য ধন্যবাদপূর্ণ অনুভব করতে শুরু করি, আমাদের সমগ্র সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি পায়। যখন সংবেদনশীলতা ঘটে, প্রতিটি মুহূর্ত অস্তিত্বের ঘটনাগুলির প্রতি অতিশ্রদ্ধ বিষ্ময়ে কাটবে। আনন্দময় হও! 7 8 কৃতজ্ঞতা হল মহত্তম মনোভাব 8 বারংবার লোকেরা আমায় প্রশ্ন করে, ‘স্বামীজী, আমার যখন এতগুলো সমস্যা, আমি কিভাবে কৃতজ্ঞ হই?’ দেখো, আমরা বারবার প্রার্থনা করি, ‘হে ভগবান, আমাকে এটা হীরের আংটি দাও’ আমরা কি কৃতজ্ঞতা বোধ করি যে হীরের আংটি পারার জন্য তিনি আমাদের আংগুল দিয়েছেন? না! আংগুল তো আমাদের জন্মাধিকার নয়। হাজার হাজার মানুষের তো হাত বা আংগুল নেই। সেটা আমাদের জন্মাধিকার নয়। আমরা অবিরাম জোরে জোরে সমস্ত সম্ভাব্য উপায়ে প্রার্থনা করি, ‘হে ভগবান, আমাকে এটা দাও। হে ভগবান, আমাকে ওটা দাও।’ কিন্তু আমাদের ওপর যা বর্ষিত করা হয়েছে তার জন্য আমরা কখনও কৃতজ্ঞবোধ করি না। এই জীবনটাই তো এক আশীর্বাদ! আমরা কি বলতে পারি যে বিশ্বের বৈকুণ্ঠ অথবা শিবের কৈলাসে আমরা কিছু কাজ করেছি বলে পারিশ্রমিক হিসাবে আমাদের জীবন প্রদান করা হয়েছে? না! এমন নয় যে আমরা কৈলাসে একশ বছর কাজ করেছি এবং একটা চেক পেয়েছি যাতে লেখা আছে, ‘ঠিক আছে, সত্তর বছরের জীবন নাও’। সেবাবহিনীতে কাজ করলে আমাদের পড়াশুনা করার জন্য টাকা দেয়া হয়। এটা সেরকম নয়; আমরা তো আর জীবনকে বেতন হিসাবে পাই নি। জীবন তো আমাদের জন্য পবিত্র আশীর্বাদ হিসাবে বর্ষিত হয়েছে। শ্বাসপ্রশ্বাসই তো এক আশীর্বাদ! জীবনটাই তো এক আশীর্বাদ। অনবরত আমরা সেগুলিকে মিস্ করছি যেগুলি আমাদের অধিকারের অংশ নয়। কিন্তু ঈশ্বর দ্বারা আমাদের ওপর বর্ষিত জিনিষগুলির কখনও আমরা অভিজ্ঞতা করি না। আমাদের যা যা দেওয়া হয় নি, তা তালিকা আমরা যদি সততার যখন আমরা অনুভব করি জীবন এক আশীর্বাদ এবং ঐশ্বরিকতার দিকে গভীর প্রেম ও কৃতজ্ঞতা সহকারে এগিয়ে যাই, তখন কেবল ঐশ্বরিক চেতনা নয়, আমরা ঈশ্বরকে পেয়ে যাই। 9 সাথে বানাই সেটা অশেষ অসীম তালিকা হবে। যদি আমাদের যা যা দেওয়া হয়েছে তার তালিকা ঐকান্তিকভাবে বানাই সেটাও অশেষ অসীম হবে। এখন এটা আমাদের ওপর যে আমরা না পাওয়া তালিকাটি দেখব ও অবিশ্রাম দীর্ঘ অনুভব করে নরকবাস করব, নাকি আমাদের ওপর বর্ষিত জিনিষের তালিকায় তাকিয়ে স্বর্গে থাকব। দ্বিতীয় পথটি আমাদের গভীরভাবে কৃতজ্ঞতা অনুভব করায়। আমরা কৃতজ্ঞবোধ করি এবং আমাদের নিজেদের স্বর্গ বানাই। এটা তো একদম আমাদেরই চয়েস্ (পছন্দ)।