Kritajnyata KiChapter 1 of 17
Chapter 1

অবতরণিকা

1 sections

অবতরণিকা

অবতরণিকা ১ কৃতজ্ঞতা কি তা নিয়ে চিন্তা করলে তোমার মনে কি আসে? মনে প্রথমে কোন জিনিষটা আসে? শব্দাবলী যেমন, ধন্যবাদ, কথায় ও কাজে প্রেমের প্রকাশ, সমর্পণের ভাবনা, বাধিত হওয়া ইত্যাদি তোমার মনে আসতে শুরু করবে। অভিধান অনুযায়ী কৃতজ্ঞতার সংজ্ঞা হল ধন্যবাদপূর্ব হবার বা শুণমান অথবা কৃদর করার প্রবণতি এবং অনুগ্রহ বিনিময়। এই গ্রন্থে আমরা কৃতজ্ঞতাকে আধ্যাত্মিক দিক থেকে অন্বেষণ করব। কৃতজ্ঞতা কি, কৃতজ্ঞতার বিভিন্ন প্রকার, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার কারণ, কৃতজ্ঞতার প্রভাব এবং সবশেষে কৃতজ্ঞতা আমাদের কোথায় পরিচালিত করে। সারা গ্রন্থটিতে তোমাদের জন্য অনেক কার্যকলাপ ও ধ্যান প্রক্রিয়া দেওয়া হয়েছে যাতে এই গ্রন্থে দেওয়া জ্ঞানের তোমরা ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা লাভের চেষ্টা করতে পার। পুরো গ্রন্থটি পড়ে ‘কৃতজ্ঞতা কি’ এবং তার অনেক অভিমুখ সম্পর্কে তুমি আরও ভাল বুঝতে পারবে। << কৃতজ্ঞতা আমাদের বাস্তবিক প্রকৃতি... কৃতজ্ঞতা এক শক্তি যা তোমার জীবনকে প্রতিটি মুহূর্তে প্রগাঢ় ও উদ্ধীপনাময় করে। যখন তুমি কারণহিত কৃতজ্ঞতায় সমাচ্ছন্ন হও, বাইরের পরিস্থিতি নির্বিশেষে জীবন সর্বদা মধুর হবে >> ২ ~ পরমহংস নিত্যানন্দ 2 কৃতজ্ঞতা কি? 4 যখন আমরা স্বীকার করি যে আমরা অস্তিত্বের সম্পূর্ণ পরিকল্পনার অংশ এবং প্রতিটি মিনিটে অস্তিত্ব প্রেমবশত আমাদের যত্ন নিচ্ছে, আমরা কৃতজ্ঞতায় অভিভূত হই। আমরা প্রতিটি মুহূর্তে যা পেয়েছি তার জন্য ধন্যবাদপূর্ণ হই, সেই পাওয়াটা আমাদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও ইন্দ্রিয়গুলোর ব্যবহারের মত মৌলিক ব্যাপারও হতে পারে। কৃতজ্ঞতা হল অস্তিত্বের অতিপ্রাচুর্যকে স্বীকার করার জন্য সাড়া দেওয়া। তোমার জীবনে সবকিছুর যত্ন নেওয়ার জন্য যদি কোন শক্তি থাকে, তা হল কৃতজ্ঞতার শক্তি! যদি ভাবো তোমার জীবনে কিছু মিস্ হচ্ছে, তার কারণ তুমি কম কৃতজ্ঞতা অনুভব করছ। কৃতজ্ঞতা তোমাকে সরাসরি ঐশ্বরিক শক্তির সাথে সংযুক্ত করে। 4 কৃতজ্ঞতাকে মানুষের শ্বাসপ্রশ্বাস হতে হবে। তা তোমার মধ্যে ও তোমার আশেপাশে ঘটনাগুলিকে রূপান্তরিত করে। সেটা এমন এক শক্তি যা তোমাকে মহাজগতের শক্তির সাথে ঐকতানে নিয়ে আসে এবং তোমাকে অসাধারণ সমৃদ্ধি প্রদান করে। তুমি দেখবে, কৃতজ্ঞতার সাথে অস্তিত্ব সহজেই তোমাকে সাড়া দেয়। সেটা হল অস্তিত্বের সাথে অত্যস্ত আন্তরিকতার সাথে বিনিময় করার চ্যানেল। 4 এটা বোঝা : যখন সব কিছুর প্রতি তুমি কৃতজ্ঞতা অনুভব কর, তার অর্থ তুমি পরিপূর্ণতা অনুভব করছ, তুমি আনন্দপূর্ণ হচ্ছ। তাই যখন কৃতজ্ঞতা বিকিরণ কর, তোমার পরিপূর্ণতার শক্তি তোমার দিকে পরিপূর্ণতা আকর্ষিত করে বস্তুগত লাভ, উত্তম সম্বন্ধতা, ভাল স্বাস্থ্য ইত্যাদির রূপে। মুখ্য ব্যাপার হল, কৃতজ্ঞতা তোমাকে অস্তিত্বের সাথে অনুরণন করায় এবং তোমাকে সুন্দর মানুষ্যতে রূপান্তরিত করে। 4 সমাজ আমাদের শিখিয়েছে যে কৃতজ্ঞতা এক সামাজিক শিষ্টাচার যেটা আমাদের সবার অভ্যাস করা উচিত - যা পেয়েছি তার জন্য ধন্যবাদপূর্ণ হওয়া উচিত। কিছু চাইলে আমরা তা অস্তিত্ব বা ভগবানের কাছে চাই এবং সেটা পেলে আমাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। ঈশিত জিনিষ সন্দেহ চাইবার মানসিক থেকেও যদি আমরা অস্তিত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা অনুভব ও প্রকাশের মানসিকভাবে চলে যাই, তাহলে কি হবে? 5 কৃতজ্ঞতা আমাদের বাস্তবিক প্রকৃতি...কৃতজ্ঞতা এক শক্তি যা তোমার জীবনকে প্রতিটি মুহূর্তে প্রগাঢ় ও উদ্দীপনাময় করে। যখন তুমি কারণহীন কৃতজ্ঞতায় সমাচ্ছন্ন হও, বাইরের পরিস্থিতি নির্বিশেষে জীবন সর্বদা মধুর হবে। 5 তুমি সর্বদা বিশ্বাস কর তোমাকে যা দেওয়া হয়েছে তুমি তার যোগ্য অথবা সেটা এক দুর্ঘটনা। 5 যখন অস্তিত্বের সেই অদৃশ্য হাত তোমার যত্ন নিচ্ছে বলে দেখতে ও অনুভব করতে শুরু কর, তুমি বুঝবে অস্তিত্ব তোমাকে এখানে চায়। কেবল তখন তুমি উপলব্ধি করবে যে অস্তিত্ব তোমার উপরে অনবরত বর্ষণ করে চলেছে। 5