Kritajnyata KiChapter 15 of 17
Chapter 15

কৃতজ্ঞতা হল তোমার দেহকে ধন্যবাদ জানানো

1 sections

কৃতজ্ঞতা হল তোমার দেহকে ধন্যবাদ জানানো

58 একটা গুরুত্বপূর্ণ জিনিষ তোমাকে বুঝতে হবে, যদি তোমার দুঃখকষ্ট থাকে, কেবল তখনই তোমার আমিত্ব থাকতে পারে। দুঃখকষ্ট বিনা তোমার আমিত্ব বিদ্যমান থাকতে পারে না। দুঃখকষ্টই তোমার আমিত্বের মূল। এই তত্পর্যাপূর্ণ জিনিষটা তোমার বোঝা উচিত। আমরা সর্বদা উল্টা ভাবি - আমিত্ব দুঃখকষ্ট দ্বারা উপদ্রুত হয়। না! আমিত্ব দুঃখকষ্ট দ্বারা সমৃদ্ধ হয়। আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ জিনিষ - তোমার দুঃখকষ্ট কম হলে তোমার আমিত্বও কম হয়। 58 তুমি ভাব তুমি খুবই ছোট তাই তুমি তোমার দুঃখকষ্ট বাড়িয়ে ফেলো। তুমি দুঃখকষ্ট বাড়াও যাতে তুমি অনুভব করতে পার যে তুমি কেউ একজন। আমিত্ব মুছে গেলে তুমি আনন্দে মিশে যাও। আনন্দে মিশে গেলে তোমার আমিত্ব থাকে না। যখন তুমি সত্যসত্যই তোমার সত্তার গভীরে যাও, যখন তুমি অস্তিত্বের সাথে এক হও, যখন তুমি অভিজ্ঞতা কর, তখন শুধুমাত্র কৃতজ্ঞতা প্রবাহিত হয়, কেবলমাত্র কৃতজ্ঞতার অনুভূতি উপচে পড়তে থাকে। সেটা শুধুই কৃতজ্ঞতা। 58 সুফীদের একটি সুন্দর ধ্যান আছে। তাঁরা বলে - ঈশ্বরের সাথে সম্বন্ধস্থাপন করার একমাত্র পথ হল কৃতজ্ঞতা, কারণ কৃতজ্ঞতা সহকারে তুমি তাঁকে অভিজ্ঞতা করা আরস্ত কর। প্রার্থনার দ্বারা তুমি তাঁর সাথে সম্বন্ধস্থাপন করা শুরু কর; কৃতজ্ঞতার সাথে তুমি তাঁকে অভিজ্ঞতা করা শুরু কর; তোমার সত্তার গভীরতর স্তর, তোমার আধ্যাত্মিক স্তর কৃতজ্ঞতা সহকারে অভিজ্ঞতা করা শুরু করবে। 58 কয়েকটা জিনিষ বুঝে নাও। জীবনে তোমার ওপরে কত জিনিষই না বর্ষণ করা হয়েছে! ঈশ্বর কতই না বর্ষণ করেছেন। কিন্তু আমাদের ওপরে বর্ষিত জিনিষগুলোর দিকে কখনও তাকাই না। আমরা সর্বদা তাকাই 'এরপরে কি?' যখন তুমি সত্যসত্যই এক গভীর সমবেদনশীলতা সহকারে, বোধ সহকারে, জিনিষগুলিকে অবধারিত বলে গণ্য না করে বাস কর, তখন তুমি তোমার সত্তার এক নতুন আকাশ অভিজ্ঞতা করবে। তুমি তোমার সত্তায় এক গভীর আনন্দ অভিজ্ঞতা করবে। জীবনের প্রতি, মানুষের প্রতি, পরিস্থিতিগুলিতে ও সর্বশেষে সমগ্র অস্তিত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা অভিজ্ঞতা করবে। 58 59 ৩১ কৃতজ্ঞতা হল অস্তিত্বে আস্থা রাখা 60 তুমি স্বীকার কর কি না কর, অস্তিত্ব তোমার যত্ন নিচ্ছে এবং তোমাকে তার ওপরে কেবল আস্থা রাখতে হবে এবং তোমার কর্তব্য কৃতজ্ঞতা সহকারে করে যেতে হবে। অস্তিত্ব তাহলে তোমার ওপরে বর্ষণ করবে। আমরা অস্তিত্বের ওপরে আস্থা রাখতে একদম প্রস্তুত নই! তোমার সতায় বিশ্বব্রক্ষাকে বিশ্বাস করার গুণমান তোমাকে পৃথিবীতে ভগবানের মত জীবনযাপন করবে! যদি আমরা মহাজাগতিক শক্তির প্রতি অবিরত কৃতজ্ঞতা অনুভব করার বোধ সচেতনভাবে অনুভব করি, আমরা অনুভব করতে সমর্থ হব যে অস্তিত্ব তার কোলে আমাদের যত্ন করছে। আমরা অনুভব করব এই শক্তি আমাদের লালনপালন করছে, যেভাবে শিশুকে তার মা করে। তুমি এটা স্বীকার কর কি না কর, এটাই সত্য। তোমাকে শুধু কৃতজ্ঞতা হতে হবে! কৃতজ্ঞতা হবার সর্বশ্রেষ্ঠ উপায় হল, কারণ বিনা উপভোগ করা শেখা। যা কিছু দ্যাখো, যা কিছু শোন, যা কিছু কর, তাতে যেন অগাধ আস্থা থাকে যে অস্তিত্ব যত্ন নিচ্ছে। জীবন তখন তোমার চোখের সামনে রূপান্তরিত হতে থাকবে এবং তুমি সর্বদা উপরে পড়বে কারণ তুমি সবসময় উপভোগ করছ। জীবনকে প্রশ্ন না করে উপভোগ করতে শেখো, যদিও আমি বোঝাতে চাইছি না যে তোমার সমস্ত প্রশ্নের কাজ ফেলে দিয়ে সবসময়ে উপভোগ করা। সন্দেহ নেই, তোমাকে কাজ করতে হবে। কেবল উপভোগ করলে তোমাকে কেউ সবকিছু দেবে না। আমি কেবল বলছি যে উপভোগ করার জন্য কারণ খুঁজবে না, ব্যস। প্রশ্ন না করেই সহজভাবে সবকিছু উপভোগ কর। আনন্দ করাকে তোমার প্রকৃতি হয়ে যেতে দাও, তবেই কৃতজ্ঞতা তোমার সত্তা হয়ে যাবে। অস্তিত্ব বর্ষণ করে। সেই বর্ষণকে তুমি উপভোগ করা বেছে নিলে, তুমি করবে। সেটা তো একদম তোমারই পছন্দ। তুমি ভুল জিনিষ পছন্দ কর, আর পরে নালিশ কর অথবা অন্য কাউকে দোষ দাও। স্মরণ রেখো, তোমার সাথে ঘটে কোন কিছুর জন্য অন্য কেউ দায়ী নয়। সবকিছুই 60 তোমার অচেতনভাবে করা সচেতন পছন্দ। তোমার মধ্যে সজাগতা কম থাকার জন্য তুমি অচেতন ও একযোগে নিঃর্গুলিতে নাও এবং জীবন সম্পৰ্কে নালিশ কর। স্মরণ রেখো, স্বর্গ ও নরক পৃথিবীর বাইরে কোন ভৌগলিক অবস্থান নয়। তুমি তাদের তোমার ভিতরেই সৃষ্টি কর। যেই মুহূর্তে তুমি অস্তিত্বের ওপরে আস্থা হারাও, তুমি নিজেকে তার থেকে দূরে সরালে এবং যেখানে যাবে নিজের সাথে নরক বহন করবে। শুধু স্মরণ রেখো - কৃতজ্ঞতা সহকারে জীবনযাপন করার চেষ্টা কর এবং অলৌকিক ঘটনাগুলির ঘটনা লক্ষ্য কর। যদি কোন প্রশ্ন না করে তুমি উচ্চাশীল হৃদয়ে গ্রহণ করতে প্রস্তুত হও, অস্তিত্ব প্রদান করে। 61