কার্যকলাপ
কার্যকলাপ
৩২ কৃতজ্ঞতা হল মঙ্গলত্বে বাস করা 62 একটা জিনিষ স্পষ্টভাবে বোঝা প্রয়োজন : সমগ্র অস্তিত্ব এক মঙ্গলজনক ঘটনা। তুমি অস্তিত্বের এক অংশ, তাই তোমার চারপাশে সমস্ত ঘটনাও মঙ্গলজনক। অস্তিত্বের এটাই সত্য। অস্তিত্বে ঘটো কোন কিছুই অশুভ বা অমঙ্গল নয়। 62 সবকিছুই কোন না কোন আঙ্গিক এবং আঙ্গুলের তার জন্য কৃতজ্ঞ হওয়ার ইঙ্গিত; যদি এটা স্পষ্টভাবে বোঝা যায়, তোমার চোখ কৃতজ্ঞ চোখ হয়ে যায়। তখন তা সবকিছুই অসাধারণ বলে দাবখে। কোনকিছুই নিরস মনে হয় না। সবকিছুই আলৌকিক মনে হয়। 62 আমাদের চোখের সামনে সর্বদা আলৌকিক ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু আমরা তা অনবরত মিস্ করি! কেবল যেহেতু সেগুলিকে আমরা মিস্ করি, জীবনকে কখন কখন নিরস মনে হয়। যখন আমরা সেগুলিকে অনুভব করা শুরু করি, আমাদের সমগ্র জীবন আলৌকিক হয়ে যায়। সত্য হল, আমাদের জীবনে অনেক অনেক আলৌকিক ঘটনা ঘটে চলেছে। 62 অস্তিত্বের সমস্ত মাত্রাগুলি ও তাতে সকল আপাতবৈপরীত্যে সহকারে অস্তিত্বকে স্বীকার কর ও উদযাপন কর। কোন কিছু বিচার কোরো না। তুমি অনবরত কি হচ্ছে তা বিচার কর : কিছু ঠিক কিছু বেঠিক কিছু এভাবে হওয়া উচিত, কিছু ঐভাবে হওয়া উচিত। সজাগ হও যে অস্তিত্বে যা কিছু ঘটে তা শুভ। দ্বিতীয় দলের মানুষেরা অনুভব করে যা ঘটছে তা তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ঘটছে এবং জিনিষগুলিকে সবসময়েই একটু কিছু রদবদল করতে হবে। 62 এই প্রকার মানুষেরা বিচার, পরিবর্তন ও সমালোচনা করার চেষ্টা করবে এবং বিশ্বের ঘটনাগুলিকে নিজেদের ধারণা অনুযায়ী গড়ার চেষ্টা করবে। এই মানুষেরা অবিশ্রাম কষ্ট পায় কারণ তারা সর্বদা জিনিষগুলিকে পরিবর্তিত করতে চেষ্টা করে। 62 প্রতিটি জিনিষ আমাদের বার্তা দেয়, এমনকি মৃত্যু ও রোগও। প্রতিটি জিনিষ আমাদের কিছু না কিছু শিক্ষা দেয়। প্রতিটি ঘটনা আমাদের বুদ্ধিমত্তা বৃদ্ধি করে, আমাদের চেতনার কম্পাঙ্ক উন্নীত করে। অস্তিত্ব চায় তুমি এখানে থাক। তুমি এখানে একটা দূর্ঘটনা নও, তুমি এক ঘটনা। তুমি অস্তিত্বের এক আলৌকিক ঘটনা। এটাই সোজাসুজি সরল সত্য। 63 ভেবো না এটা সকারাত্মক চিন্তা (পজিটিভ থিকিং)। না। এটা সহজ সত্য। যদি তুমি এই সত্যে আস্থা রাখ, তুমি স্বতঃচালভাবে সকারাত্মক হবে, ব্যাস। রবীন্দ্রনাথ, তুমি অস্তিত্বের এক পরিবর্ধিত অস্তিত্ব তোমাকে মিস্ করবে। তোমার সমস্ত ধনসম্পদ, সমৃদ্ধতা ইত্যাদি কোন দূর্ঘটনা নয়। অস্তিত্ব চায় তুমি এগুলো সব গ্রহণ কর; অস্তিত্ব তোমার মধ্য দিয়ে সজীব হতে চায়, তোমার মধ্য দিয়ে পরিপূর্ণ হতে চায়! এটাই বোঝ। 63 অস্তিত্ব একটা দূর্ঘটনা নয়। সেটা এক স্বতন্ত্র বুদ্ধিমত্তা। যখন তুমি বোঝ যে অস্তিত্ব এক স্বতন্ত্র বুদ্ধিমত্তা, যখন তুমি বোঝ অস্তিত্ব এক নিগূঢ় রহস্য যাঁর অভিজ্ঞতা করার জন্য এবং সমাধান করার জন্য নয়, তখন তোমার জীবন নিজে থেকেই উন্মুক্ত হবে এবং তোমার কাছে অস্তিত্ব তার বহন করে আন পাঠ বা শিক্ষাকে ব্যক্ত করবে। 63 উপরের যেভাবে বোঝা হল, সেভাবে জীবনযাপন করাই তোমার গভীর কৃতজ্ঞতা জাগরণের সর্বশ্রেষ্ঠ উপায়। 63 যখন উপচে পড়া কৃতজ্ঞতা সহকারে জীবনযাপন কর, তখন তুমি সেই আকাশকে পেয়ে গেছ যেখানে আর কিছুতেই চাই না। তার অর্থ তুমি ধ্যানে চলে গেছ। তখন তুমি কোন কিছু সম্পর্কে উদ্বিগ্ন হবে না। তুমি সঠিক পথে আছ। 63 ৩৩ কার্যকলাপ 64 কৃতজ্ঞতাকে প্রার্থনা রূপে অভিজ্ঞতা করার জন্য এটি একটি শক্তিশালী ধ্যান। সহস্রার ধ্যান (প্রার্থনা রূপে কৃতজ্ঞতা) এই ধ্যান সহস্রার (সহস্র দল বা পাপড়ি) চক্রকে নিরাময় করে। চক্রটির অবস্থান : মাথার তালুতে চক্রটি তালাবদ্ধ থাকার কারণ : অপরিপূর্ণতা চক্রটি উন্মুক্ত করার উপায় : কৃতজ্ঞতা ও আনন্দ সময় : ৩০ মিনিট সহস্রার ধ্যান খুবই সহজ একটি ধ্যান প্রক্রিয়া! আমাদের জীবনে সবকিছু থাকার জন্য, যেগুলিকে আমরা এতদিন ধরে অবধারিত বলে গণ্য করেছি, সেগুলির জন্য অস্তিত্বকে কৃতজ্ঞতা জানান করার এটি একটি আনায়াস প্রক্রিয়া। যদিও ধ্যানটি অবিশ্বাস্যভাবে সহজ, আমাদের সচেতন ও অচেতন মনে এটার অসামান্য প্রভাব আছে। যখন আমরা শ্বাস নাকি, আমাদের অস্তিত্বের সমগ্র পরিকল্পনার এক অংশ এবং প্রতিটি মিনিটে অস্তিত্ব প্রেমপূর্ণ হয়ে আমাদের যত্ন করছে, তখন আমরা কৃতজ্ঞতায় আচ্ছন্ন হই। প্রতিটি মুহূর্তে আমরা যা কিছু পেয়েছি তার জন্য সত্যি সত্যি ৩৩ কার্যকলাপ 65 ধন্যবাদপূর্ণ হই, এমন কি সেটা কোন মৌলিক জিনিষ যেমন আমাদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও ইন্দ্রিয়গুলি হলেও। অস্তিত্বের প্রাচুর্যকে স্বীকার করে তোমার সাড়া দেওয়া হল কৃতজ্ঞতা। এটা তোমার মধ্যে এক সুন্দর বিকাশশীল শক্তি। প্রতিদিন নিজের সাথে আধা ঘন্টা বসো। চোখ বন্ধ কর এবং যে কোন চিন্তা, মানুষ বা পরিস্থিতিকে তোমার মনে আসতে দাও। সেটা যদি সকারাত্মক চিন্তা হয়, কোন মানুষ যাকে তুমি ভালবাস বা কোন পরিস্থিতি যা তুমি সযত্নে লালন কর, তার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা অনুভব কর এবং সেটাকে চলে যেতে দ্যাখো। সেটা যদি নকারাত্মক চিন্তা হয়, বা কোন পছন্দ না লাগা মানুষ বা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি হয়, তার জন্যও কৃতজ্ঞতা অনুভব কর ও তাকে গভীর কৃতজ্ঞতা সহকারে আসীবাদ কর। দেখবে, কয়েকদিনের মধ্যে তোমার সম্পূর্ণ মনোভাব কোমল ও করুণাময় হয়ে যাবে। তুমি সবকিছুকে গভীর করুণা ও সুগ্রাহী হয়ে দেখতে আরম্ভ করবে। কৃতজ্ঞতা হল পরম প্রার্থনা। কৃতজ্ঞতা সর্বশ্রেষ্ঠ মনোভাব। ইশ্বরের প্রতি, মানবসতার প্রতি, জীবনের প্রতি, মানুষের প্রতি এবং পরিস্থিতিগুলির প্রতি কৃতজ্ঞতা হল সর্বশ্রেষ্ঠ মনোভাব।