কৃতজ্ঞতা হল পছন্দনীয়তার আকাশ
কৃতজ্ঞতা হল পছন্দনীয়তার আকাশ
কৃতজ্ঞতা হল মনকে ছাড়িয়ে যাওয়া ২১ তুমি ও অস্তিত্বের মাঝে সর্বদা তোমার মন দাঁড়িয়ে। মন তোমাকে অস্তিত্বকে শুনতে, দেখতে, অনুভব করতে ও অস্তিত্বকে আবেগভরে গ্রহণ করতে বাধা দেয়। একবার তুমি তোমার মনকে ছাড়িয়ে গেলে অস্তিত্বের সৌন্দর্য দেখলে, কৃতজ্ঞতা তোমার সত্তার প্রার্থনা ও আনন্দ হয়ে যায়! তুমি মুক্তি ও ভিত্তরতম আনন্দ উপভোগ করবে! যখন তুমি মনের নীরস যুক্তি ফেলে দাও, তুমি এক নদীর মত প্রবাহিত হবে - শ্রোতের সাথে পছন্দহীনভাবে, অনায়াসে, আনন্দপূর্ণ হয়ে। তুমি তখন তোমার ভূমিকা নির্বাহ করবে এবং প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করবে। তুমি বুঝবে তুমি এক সুন্দর নাটকের অংশ, যেখানে তুমি পরিচালকের প্রতি যত বেশী সংবেদী হবে, তোমার ভূমিকা তত বেশী ভাল করে নির্বাহ করতে পারবে! যখন তুমি শ্রোতের বিপরীতে যাও, তোমাকে প্রচেষ্টা ও বাঁচাবাঁচি করতে হবে। শ্রোতের সাথে গেলে তোমাকে কোন প্রচেষ্টাই করতে হবে না, তুমি ক্লান্ত হবে না, তুমি হতাশ হবে না; তুমি কেবল প্রভাবমান হয়ে হালকা অনুভব করবে। তখন সবকিছুই সুন্দর প্রতীয়মান হবে। আমাদের চারিদিকে সবকিছুর জন্য কৃতজ্ঞতা অনুভব করার পরিবর্তে, আমরা সর্বদা প্রশ্ন ও জিজ্ঞাসা করছি। অস্তিত্বের সাথে আমাদের এই সংযুক্তিকে আবার ফিরে পেতে হবে। কৃতজ্ঞতা সেই হারানো সংযুক্তিকে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করতে পারে। তা তোমার শিকড়কে পুনরায় খুঁজে বার করতে সাহায্য করতে পারে। তা তোমাকে প্রকৃতি ও অস্তিত্বের সাথে একাত্ম হতে সাহায্য করতে পারে। 22 কৃতজ্ঞতা তোমাকে 'কেউ না' বানায় 44 কেউ আমাকে একবার আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিল, 'আপনি কেন ওখানে আছেন, আর আমরা কেন এখানে?' আমি তাকে সুন্দরভাবে যা বলেছিলাম, সেই কয়েকটি ধারণা প্রসঙ্গে তোমাকে কৃতজ্ঞতা সম্পর্কে গভীর অন্তর্দৃষ্টি দেবে যে কোথায় আমরা মিস্ করি ও কি মিস্ করি। আমি তাকে বলেছিলাম, 'যেহেতু আমি 'কেউ না' আমি এখানে আছি। যেহেতু তুমি কেউ একজন তুমি সেখানে আছ।' বুঝে নাও, যদি তুমি কেউ একজন হও, যদিও তোমাকে এখানে বসতে দেওয়া হয় তুমি চিন্তা করবে, 'মনে হয় আমার যোগ্যতা অনুযায়ী এটাকে আরও ভাল হওয়া উচিত।' যেখানেই তুমি যাও, যেভাবে তুমি সম্মান পাও, তুমি অনুভব করবে যে আরও বেশী পাবার ছিল, আরও বেশী কিছু করার ছিল। যদি তুমি কেউ না হও, তুমি সম্মান পাও কি না পাও তুমি কখনও বিব্রত থাকবে না; তুমি কতই না সহজভাবে স্বস্তিতে, আরাবে, নির্বিঘ্নে থাকবে। যে মানুষ 'কেউ না' হয়েছেন, সে যেখানেই যাক না কেন, স্বস্তিতে থাকবে। যে 'কেউ একজন' হয়েছেন, সে যেখানেই থাকুক না কেন, তার কিছু জটিলতা, কিছু ভুল বোঝাবুঝি থাকবে। কৃতজ্ঞতা তোমাকে 'কেউ না' বানাবে; তুমি এক প্রবাহমান শক্তি হয়ে যাবে। সুফি অতীন্দ্রিয়বাদীদের কবিতায় আমি সেই প্রবহমান শক্তি দেখেছি। সুফি পরম্পরা সমপ্রূর্ণরূপে কৃতজ্ঞতার ওপর ভিতি করে। আর যেভাবে তাঁরা প্রবাহিত হন, তা কতই না সুন্দর প্রবাহ, কত না কৃতজ্ঞতার ওপর ভিতি করা ঐতিহ্য। সুফিবাদে ঐশ্বরিক অভিজ্ঞতার জন্য কোন প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয় না। অন্য সমস্ত প্রখ্যাতে ঐশ্বরিক অভিজ্ঞতার জন্য, মনের অতীত অভিজ্ঞতার জন্য বহু সময় লাগে। তাই এই একটি মহান গুণমানকে বোঝ; সেটা তোমাকে ভিন্ন এক স্তরে চালিত করে নিয়ে যাবে। 44 ২২ কৃতজ্ঞতা তোমার কর্মসকল দগ্ধ করতে পারে 45 বোঝ, কৃতজ্ঞতার সহজ সরল শুভময়ান শুরু হলে, কৃতজ্ঞতার অল্প অল্প তোমার সমস্ত কর্মকে দগ্ধ করতে পারে। কর্ম কি? কর্ম হল তোমার অপরিপূর্ণ কার্য যা তোমাকে পরিপূর্ণ করতে বারংবার টানে। আমাদের জমানো সমস্ত কর্মকে পরিপূর্ণ ও নিঃশেষ করার জন্য আমরা বারবার জন্ম নিই। কেবলমাত্র কৃতজ্ঞতার শক্তির সাথে বিদ্যমান থাকলে এই কর্মগুলি দগ্ধ হয়ে যায়! সমস্ত কর্ম, যা তুমি নিয়ে এসেছ, বহন করছ ও সংগ্রহ করছ - তা সবই দগ্ধ করা যায়। কৃতজ্ঞতার স্মরণ কেবল মাষ্টারের প্রতি নয়, সকল সত্তার প্রতি, সবকিছুর প্রতি কৃতজ্ঞতা অনেক সংবেদনশীলতা নিয়ে আসে। তা কতই না প্রেম, কতই না সৃষ্টির ভাবনা, কতই না সংযুক্তির অনুভূতি প্রদান করে। তা তোমার সমস্ত কর্মকে দগ্ধ করতে পারে। কৃতজ্ঞতার এমনই ক্ষমতা। কৃতজ্ঞতা তোমাকে 'কেউ না' বানাবে; তুমি কেবল এক প্রবাহিত শক্তি হবে। 45