Books / Guaranteed Solutions For Lust Fear Worry... Bengali merged

6. মনের একই কাঠামোতে থেকো না

# মনের একই কাঠামোতে থেকো না

একটি নদীর কথা ভাব : যখন নদীতে প্রথমবার পা দাও ও তাকে বার করে নাও এবং দ্বিতীয়বার পা দাও, সেটা কি একই নদী? না! নদী পরিবর্তিত হয়েছে, একই জল সেখানে আর নেই; নতুন জল বয়ে এসেছে, তাই নয় কি?

তাই নিজেকে কোনকিছুর সাথে চিহ্নিত করার প্রচেষ্ঠা কোরো না, জীবন সর্বদাই পরিবর্তনশীল। সংকীর্ণ বিশ্বাসের জন্য তোমার আধ্যাত্মিক উন্নতি বাধা পায়। তুমি ঘোড়ার মত হয়ে যাও যে সামনে রাস্তায় কেবল এক সীমিত জায়গা দেখতে পারে। জীবনে বিস্তৃত দৃষ্টিশক্তির প্রয়োজন।

আমাদের পর্বপরুষেরা আমাদের অনেক খাদ্য দিয়েছেন, কিন্তু খাদ নেবার জন্য জিহ্বা দেন নি। এই বিশ্বকে আনন্দের সাথে

উপলব্ধি করা আমাদেরই হাতে। কিভাবে উপলব্ধি করছ, তাতেই আনন্দ, বহির্জগতের বস্তপ্তলিতে আনন্দ নেই। এটা পরিষ্কার করে বুঝতে হবে। তোমার মানসিক গঠনই জীবনকে আনন্দময় বা দুঃখময় করে।

যখন তোমার এক পরিক্ষার মানসিক গঠন হয়েছে, তুমি কখনই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হবে না। কেবল যখন তুমি জটিল চিন্তার নকশা ও শব্দ দ্বারা বিভ্রান্ত হও, তুমি দুশ্চিন্তা করবে। আমি সর্বদাই লোকেদের বলি : যখন তুমি দুশ্চিন্তা করবে যে গ্রহগুলি কোথায় আছে। তুমি বিশ্লেষণ করবে যে কোন গ্রহ কোন দেশে আছে এবং তা তোমাকে কিভাবে প্রভাবিত করছে। আসল সমস্যা হল তমি তোমাতে কেন্দ্ৰিত নও।

সময় থাকলে নিজের মনের ওপরে কাজ কর। গভীরে দেখ ও মনকে পরিষ্কার করে রাখা তুমি তো এই মনের সাথে ২৪ ঘণ্টা আছ, তাই নয় কি?

আমি লোকেদের সন্দরভাবে ঘর সাজিয়ে রাখতে দেখেছি। তারা ভাকয়াম ক্লীনার দিয়ে কার্পেট সাফ করতেই থাকে, যতক্ষণ না কার্পেটে ফুটো হয়। আর যে ঘরে তুমি ২৪ ঘণ্টা আছ, তাকে সাফ করার ব্যাপারে কি হল? - মানে তোমার মন। তুমি তো তার সাথে ২৪ ঘণ্টা ধরে আছ: তোমার প্রতিটি ভাবনা ও কাজে সে জড়িয়ে আছে।

যবের ভিতরকে পবিত্র ও শক্তিপূর্ণ অবস্থায় রাখার জন্য তুমি বাস্তশাস্ত্র, ফেল্ডেই ইত্যাদি ব্যবহার করা কিন্তু তোমার একটা জিনিষ বোঝা উচিত : তোমাকে তোমার ঘরকে অবিশ্রাম শক্তিপূর্ণ করতে হয় কারণ তুমি তাকে তোমার নকারাত্মকতা দিয়ে তাকে দ্বুতি করতে থাক।

তুমি যখন বাড়ীর ভিতর নকারাত্মক ভাবনা ও তোমার দুষ্টিন্তা দ্বারা দুর্ধিত কর, সেই স্থানে একই নকারাত্মকতা তোমার ওপরে প্রতিফলন করতে শুরু করে। বাড়ী ঢুকলেই তুমি নকারাত্মকতার এক দুষ্টচক্রে পড়ে যাও।

কতবার তুমি অনুভব করেছ যে বাড়ী ঢোকার আগে পর্যন্ত তুমি ভালই ছিলে? যেই ঢুকলে, তুমি এক পরিচিত নকারাত্মক চিন্তার নকশায় যেন আটকে গেলে। এই প্রকার চিন্তাগুলি দিয়েই তো তুমি তোমার ঘর পর্ণ করে রেখেছ। তাহলে তুমি কি করবে? তুমি বাস্তশাস্ত্রে অভিজ্ঞ একজনকে ডেকে নিয়ে এসে ঘরের না এক পুরুত ডেকে যজ্ঞ করবে বা ফেঞ্চই প্রয়োগ করবে।

সন্দেহ নেই যে আন্তরিকভাবে করলে এগুলি কার্যকর হবে। কিন্তু তোমাকে একটা জিনিষ্য বুঝ তে হবে : এগুলি সবই সম্পরক প্রক্রিয়া। আসল ব্যাপারটা হ'ল তোমার নিজের ভিতরটা পরিষ্কার করা ও এক আনন্দময় মানসিক গঠন বিকিরণ করা, যাতে করে স্বতঃস্ফর্তভাবে তোমার বাসস্থান এই প্রকার শক্তি বিকিরণ করে।

একটি মানুষকে জিজ্ঞাসা করা হয় তার অতীত ও বর্তমানের মধ্যে পার্থক্য কি?

সে বলে, 'আগে আমি মেঝেতে মাদুর পেতে বলে খেতাম। এখন টেবিলে খাই।'

অতীত ও বর্তমানে তার মুখ একই আছে। যদি তোমার জীবনে কোন আমল পরিবর্তন না আসে, তোমার এইটুকু পরিবর্তনই চোখে পড়বে। ঠিক যেমন সৌন্দর্য দ্রষ্টার চোখে থাকে, স্বাদ বিচ্ছে তার জিভে থাকে। তোমার মানসিক গঠন নির্ণয় করে তোমার জীবনরসের আস্বাদন কেমন হবে।

বেশীর ভাগ সময় আমরা জানি যে আমাদের পরিবর্তিত হতে হবে, কিন্তু যে করেই হোক আমরা বর্তমান পরিস্থিতিতেই থেকে যাই। আমরা বারবার একই চক্রে ঘুরতে থাকি। আমাদের একদিক বলে পরিবর্তিত হতে , আর অন্যদিক অচেতনভাবে পরিচিত প্যাটার্নে ঠেলে দেয়। যদিও তোমাকে প্রয়োগগুলি জানিয়ে রাখা হয় , তুমি বর্তমান অবস্থাতেই আরাম অনুভব কর ও সেখানেই থেকে যাওয়া পছন্দ কর।

তোমার সন্তানদেরও সাহায্য কর

যদি তুমি দ্যু মানসিক গঠন নিয়ে বাস কর, তাহলে খুব বিপদ : তোমার সন্তানদের তোমার থেকে সেটা আত্মস্থ করার সম্ভাবনা খুব বেশী।

একটা জোক মনে আসছে :

পতি ও পত্নী পেশায় উভয়েই পকেটমার। তারা প্রায় আলোচনা করে যে তাদের বাচ্চা হলে খুব সমুদ্ধি হবে এবং শীঘ্রই তাদের একটি শিশু হল।

নবজাতকের ডান হাত শক্ত করে বন্ধ করা ছিল এবং তারা সেটা খুলতে পারে নি। ডাক্তার অ নেক চেষ্টা করল, কিন্তু অসফল রইল। শেষে একটি সোনার হার বাচ্চাটির চোখের সামনে দোলাতে লাগল। বাচ্চাটি আস্তে আস্তে হাত খুলল এবং তাতে ছিল ধাই-মার সোনার আরটি।

এটা কেবল একটা জোক. কিন্তু বোঝ যে মাতাপিতা হয়ে তোমাদের মানসিক গঠন বাচ্চাদের হস্তান্তরিত করে দেবার খবই সম্ভা বনা আছে। তাই সরক্ষণ সচেতন থাক এবং তোমার চেতনার ওপরে কাজ কর: ভিতরের কিচিরমিচির ও কাঠামো সাফ করার জন্য কাজ কর।

আমরা সর্বদাই বাচ্চাদের নিয়ন্ত্রণ করে চেষ্টা করি ও তাদের প্রচল বানিয়ে ফেলি। বাচ্চারা প্রচণ্ড শতিতে পর্য প্রায় সং শক্তিকে বাক্সবন্ধ করতে চাই যাতে তাকে পরিচালনা করতে সুবিধা হয়।

একটা ছোট গল্প :

দুটো কুকুর রাস্তায় হাঁটছিল। প্রথমটি বলে, 'আমার নাম স্যাণ্ডি। তোমার নাম কি?' দ্বিতীয়টি একটি থেমে বলল, 'আমার মনে হয় আমার নাম - না না টমি।'

দিতীয় কুরুরটি যাই করুন না কেন তার মালিক নিশ্চয় সবসময় বলতে থাকে, 'না না টমি'! কুকুরটি ভাবতে শুরু করেছে যে তার নাম 'না না টমি'! ঠিক এই কুকুরটির মত, বাচ্চারাও আমাদের কথা ও দেহভঙ্গিমার অর্থ আত্মীভূত করতে ও শিখতে থাকে। যখন শিশুরা খুব ছোট, তারা আমাদের শব্দ ও কাজকম অবচেতন হয়ে লক্ষ্য করে ও তাদের সত্য বলে গ্রহণ করে। তাই তুমি যখন বাচ্চাদের সাথে আছ. আরও বেশী সচেতন থাক, অন্ধের মত বাচ্চাদের নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা না করে তাদের বুদ্ধিকে জীবন্ত রাখার চেষ্টা কর।

মায়েরা অবিশ্রাম এটা করার চেষ্টা করে। উদাহরণস্বরূপ, যদি বঞ্চি হয়, মা বাচ্চাদের ঘরের ভিতরে থাকতে বলবে কারণ তাদের সর্দি লাগতে পারে। মা যদি এই জিনিষ্টা কয়েকবার করে, যয়ংক্রয়ভাবে বাচ্চা বৃষ্টি দেখলেই সর্দি লাগার কথা ভাবনে। ছিটেফেটা হলেও তার নাক বইতে থাকবে।

আসলে মানুষের শরীর সবচাইতে বুদ্ধিমান; এতে আছে স্ব-সংশোধন ও নিজে থেকে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা। কিন্তু যে করেই হোক, আমরা শরীরের সহজাত বুদ্ধিকে না মেনে আমাদের মনকে বিশ্বাস করি। সেখানেই সমস্যা ও সব দ্বুশিন্তার সত্রগাত।

একটা ছোট গল্প :

বাবা-উট ছেলে-উটকে তাদের প্রজাতির শরীরের গঠন সম্বন্ধে বুঝিয়ে দিচ্ছিল। সে বলে, 'তুমি জান, আমাদের শরীরে কুঁজ আছে যাতে আমরা মরুভুমিতে থাকার সময় কয়েক দিন পর্যন্ত জল সঞ্চয় করে রাখতে পারি।' ছেলে জিজ্ঞাসা করে, 'আমাদের চোখের পাতার লোম এত লম্বা কেন?' বাবা বলে, 'বালু ঝড় থেকে আমাদের চোখ বাঁচাতে।' ছেলে-উট জিজ্ঞাসা করে, 'আমাদের পায়ের পাতা এত নরম কেন?' বাবা-উট উত্তর দেয়, 'যাতে আমরা মরুভূমিতে তাড়াতাড়ি যেতে পারি।' 'বাবা', ছেলে প্রশ্ন করে, 'আমরা তাহলে এই চিডিয়াখানায় কি করছি?'

দ্যাপো, আমাদের শরীর কত সুন্দরভাবে সংকল্পনা করা হয়েছে। আমরা যদি তাকে তার স্বাভাবিক বুদ্ধিতে চলতে দিই, তা খুব ভাল কাজ করবে। যেই মুহূর্তে শরীরকে জবরদস্তি নিয়ন্ত্রণ করতে চাও, তুমি নানা সমস্যার মুখামুখি হতে থাক।

হিমালয়ে সাধুরা, ঘুরে বেড়ানো ভিক্ষুকেরা গুহার ভিতরে বাস করেন। তাঁরা সবচেয়ে স্বাস্থ্যবান মানুষ। রোদ বৃষ্টি বরফ যাই হোক না কেন তাঁরা বেঁচে থাকেন; তাঁদের শরীর নিজেকে পারিপার্শিক অবস্থার সাথে মানিয়ে নেয়া প্রকৃতি ও নিজেদের রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতার ওপরে আমাদের বিশ্বাস চাই। কিন্তু যে করেই হোক আমরা আমাদের দুশ্চিন্তা ও মানসিক গঠন শরীরের ওপরে চাপিয়ে দিতে থাকি। এটা আমাদের সমস্ত রোগের মল কারণ।

মাস্টারের উপস্থিতিতে আবার জন্মাও!

একজন মাস্টার তোমাকে এক নতুন মানসিক গঠন বা পুনর্জন্ম দিতে পারেন এবং তিনি সেটা কেবল তাঁর উপস্থিতি ছারাই দিতে

পারেন। তন্ত্র মাস্টারের উপস্থিতিতে থাকলেই যথেষ্ট। যখন মাস্টারের শক্তি তোমাকে বন্যায় ভাসিয়ে দেয়, তোমার মানসিক গঠন পরিবর্তন হয়, তুমি আবার জন্ম নাও। তুমি এমন এক জায়গায় প্রবেশ কর যা আছে বলে তুমি আগে জানতেই না।

এইভাবে আবার জন্ম নিলে তুমি সর্বপ্রকার আবেগ থেকে মুক্ত হবে। আগে জানতেই না যে তুমি এত সহজে এই আবেগঞ্জলকে পরিচালনা করতে পারবে। চারপাশে যা হচ্ছে তুমি কেবল তার এক পর্যবেক্ষক হবে।

একটা ধ্যানের ওয়ার্কশপ হবার সময় আমি একদিন হোটেলে টেলিভিশন দেখছিলাম। একটা ভারতীয় চ্যানেলে প্ররানো সিনেমা থেকে একটি দৈতসঙ্গীত চলছিল। আরেকটা ভারতীয় চ্যানেলে নতুন মুভি থেকে একটা দ্বৈতসঙ্গীত হচ্ছিল। আমি আমার সেক্রেটারীকে বললাম যে এই দুটি চ্যানেল দেখাচ্ছে যে এত বছর গড়িয়ে যাবার পরেও মানুষের চেতনার কোন বাস্তব উন্নতি হয় নি।

একই নকশা বারবার পুনরাবাতি হচ্ছে - যেন পাঁচজন লোক একটা বলে লাখি মেরে যাচ্ছে। পরিচিত প্যাটার্ন আমাদের বুদ্ধিকে মেরে ফেলে। এমনকি আমাদের দুশ্চিন্তাগুলি হ'ল মনে সঞ্চিত পরিচিত নকশা-সমষ্টি, যা আমাদের ওপরে বারংবার চেপে বসে।

সচেতন হও, আনন্দময় হয়ে যাও!

আমি যখন লোকেদের এসব বলি, তারা বলে, 'স্বামীজী, যা বলছেন আমি বুঝছি; কিন্তু আমি তা পরাভূত করতে পারি না।' আমি তাদের বলি, 'কেবল আমার কথাগুলিকে তোমাকে ভেদ করতে দাও, আর তোমার ভিতরে একটি নতুন স্থান সঙ্গি কর, তাহলেই যথেষ্ট।' এই ব্যাপারে ধ্যান সাহায্য করতে পারে। ধ্যান-শিবিরে আমি তোমাদের বুদ্ধিগত বোধ দিই এবং তারপর তাকে তোমার ভিতরে ভেদ করার জন্য ধ্যান করাই।

Section 2

কিন্তু লোকেরা আমায় বলে, 'স্বামীজী, আমাদের নিজেদের কাজ থাকে, বিল পে করতে হয়, ডেডলাইন অনুযায়ী কাজ করতে হয়; আমরা তবে কি করে ধ্যান করব?' আমি তাদের একটা সোজা ধ্যান-প্রক্রিয়া দ্বারা উত্তর দিই : বিল পে করা বল, ডেভলাইন মীট করা বল, তোমার নিশ্চয় শাস নেবার জন্য সময় আছে? নয়ত তুমি বেঁচে থাকতে না। এখন তুমি সোজাসুজি এই শাসপ্রশাসে সচেতনতা যোগ কর, ব্যাস। সেটাই ধ্যান। কেবল তোমার শাস-প্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ কর। সেটা খুব সোজা অথচ সবচেয়ে শক্তিশালী ধ্যান।

यथनरे वर्र धनिया मतन भद्व, अन्ताम कब। मोघुरे बार राज्य राजन करण्या मारण मारण मारण नाम काम , एसि বর্তমান ক্ষণে আছে। বর্তমানে বাস করা তোমায় আনন্দে নিয়ে যায়। 'এখন'-এর শক্তি হল আনন্দে যাবার সিধা রাস্তা। প্রতিটি শ্বাস ও প্রশ্নাসে সচেতনতা যোগ কর।

তাই আনন্দ প্রাপ্তির জন্য তোমার আলাদা করে সময় বার দরকার নেই, ছুটি নিয়ে কোন নির্জনবাস বা ধ্যান-শিবিরে যাবার প্রয়োজন নেই। তুমি তোমার নিত্যনৈমিত্তিক কাজ করে যেতে পার। তোমার সঙ্গ বর্দ্ধিত সচেতনতার সাহায্যে ডেড় লাইন ও অন্যান্য লক্ষ্যবস্তু আরও দক্ষতার সাথে তুমি লাভ করবে।

ধ্যান হল তোমার চেতনায় এক পরিবর্তন। এটা তোমার সত্তায় এক 'শক্তি-অপবর্তন' (energy shift)। এটা এক কোণায় পা ভাঁজ করে মেরুদণ্ড সোজা করে বসে মন নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা নয়। তুমি যদি তা করতে চেষ্টা কর তোমার ঘাড় অথবা পিঠে র‌্যাথা হবে! তোমার আরও একটা দুশ্চিন্তা হবে যে তুমি ঠিক করে বসে ধ্যান করতে পারছ না।

তোমাকে কেবল বর্তমানে বাস করতে হবে, এখন ও এখানে। বর্তমানে থাকলে তুমি অস্তিত্বের সাথে সঙ্গতপূর্ণ হয়ে চলবে। যখন তুমি বর্তমানে আছ, অস্তিত্ব নিজেই তোমাকে শেখাবে।

অস্তিত্ব মহান মাস্টার। 'জীবন এক বড় শিক্ষক' বলতে তাঁরা এটাই বোঝাতে চাইছেন। যখন তুমি এটা হারিয়ে ফেল, তুমি শেখার জন্য নিজের মত সময় নাও। তুমি জীবনভর শেখো। নিজের ইচ্ছামত আস্তে শিখতে থাকলে জীবন কখন কখন ধাকা দেয় যাতে তুমি জেগে উঠে তাড়াতাড়ি শেখো!

এখন, তুমি হয় অতীতের পিছনে অনুতপ্ত হয়ে, নয়ত ভবিষ্যতের পিছনে উদ্বিগ্ন হয়ে দৌড়াচ্ছ। এই প্যাটার্নের জন্য তুমি বর্তমানকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দাও। তাতে হয় কি? তুমি কখনও ঠিক ভাবে ক্রিয়া কর না, তুমি কেবল প্রতিত্রেরা করে অতীতের অনুতাপ বা ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তার ওপর ভিত্তি করে। যখন প্রতিক্রিয়া করছ, তুমি তোমার সম্পূর্ণ সম্ভাবনা ব্যবহার করছ না। তুমি কেবল এক প্রোগ্রাম করা রোবটের মত ব্যবহার করছ; অন্ধ যুক্তি থেকে কাজ করছ, সচেতনতা বা বুদ্ধি থেকে নয়।

তোমার ৮০% শক্তি অতীত ও ভবিষ্যতে আটকে আছে। খালি ২০% বর্তমানের জন্য পাওয়া যায়। তাই তোমার মনে হয় যে তমি নিষ্প্রভ, যেন শক্তি নেই। সম্প্রসারিত চেতনার সাথে এই অবস্থার পরিবর্তন করা যায় এবং তোমার জীবনকে এক উচ্চতর তলে উঠিয়ে আনন্দ, হর্ষ ও উৎফল্লতার সাথে বাঁচা যায়!

প্রশ্ন : তাহলে আপনি বলছেন যে কেবল শ্বাস প্রত্যক্ষ করে আমরা আনন্দ লাভ করতে পারি?

উত্তর : হ্যাঁ। এটা খুব শক্তিশালী প্রক্রিয়া। তুমি যখন তোমার শ্বাসপ্রশ্নাস লক্ষ্য করে, তোমার চেতনা প্রগাদ হয় এবং কোন চিন্তাই তোমার কাছ থেকে অচেতন হয়ে পালাতে পারে না। যখন প্রতিটি ভাবনা তোমার চেতনার মধ্য দিয়ে যায়, তমি তোমার জন্য স্বতঃস্ফর্তভাবে কোন নকারাত্মক ভাবনা সষ্টি করবে না।

তোমার ভাবনাগুলিকে সংশোধন করার জন্য সময় নষ্ট করতে হবে না: চেতনা তোমার জন্য সেই কাজ করে দেবে। তোমার চিন্তা প্রণালী আপনা আপনি নতুন কাঠামো পেয়ে যাবে। সচেতনতার শক্তি এবং তোমার চিন্তা প্রণালীকে সকারাত্মক শক্তিতে রূপান্তরিত করে।

তোমার চিন্তাসমূহ, শব্দাবলী ও কাজগুলিকে একীভূত কর

রম্ভব আমাদের ভারতে শেখনো হয়েছে যে কেবল যদি আমরা কাজ করে কোনয়ন্তে বেদনার অভিজ্ঞতা পাই, আমরা সংখ্য যোগ। তাই আমরা ব্যাথা না হওয়া পর্যন্ত দৌড়া না খাওয়া অবধি আমরা দৌড়াতে থাকি। আমরা বেড়ার ধারণাতে এতই অভ্যন্ত যে বেড়া নেই বললেও আমরা বিশ্বাস করতে প্রস্তুত নই। আমরা যে করেই হোক একটা বেড়াতে ধারা খেয়ে বেদনা অনভব করে থানি, বেদনা পেয়ে সন্তুষ্ট হই। আমরা সর্বদাই ভাবি যে অভীষ্ট পাবার যোগ্য হবার জন্য আমাদের ব্যাথা-বেদনা, উদ্বেগ, দুশ্চিন্তার মধ্য দিয়ে যেতেই হবে।

আরও কিছু লোক আছে যারা তাদের দুশ্চিন্তা নিজেরাই সষ্টি করে এবং তারপর দুল্চিন্তা ভোলার জন্য মদ্যপান করে। আজকাল এটা খুব সাধারণ ঘটনা। এটা এইপ্রকার : একটা শুকর নিজের বাসস্থানের দুর্গন্ধ সহয করতে পারছে না, আর সেই দুর্গন্ধ এডানোর জন্য সে আবর্জনার মধ্যেই নাক ঢুকিয়ে দিল। তুমি ভাবছ তুমি মদ খেয়ে সব দুশ্চিন্তা জয় করেছ, আসলে তুমি তো তাতে আরও ডবেছ।

আমরা একটা জিনিষ্ণ চাই, কিন্তু আমরা তার পরস্পরবিরোধী কিছু সঙ্গি করার জন্য কাজ করি - তোমার চিন্তা, কথা ও কাজ একীভূত কর বলতে এটাই আমি বলতে চাইছি, নয়ত তোমার জীবনে পরম্পরবিরোধী ফল সষ্টি হবে।

একটা ছোট গল্প :

একজন অযাচিত অতিথি একজন লোকের বাড়িতে এল। লোকটি তার পত্নীকে চেঁচিয়ে কফি আনতে বলল। তার পত্নী রান্নাঘরে ছিল।

পত্রী রান্নাঘর থেকে চেঁচিয়ে বলল যে ঘরে কফি কেনার পয়সাও নেই। পতি রেগে গেল ও পত্নীকে বক্ষতে লাগল এবং শেষে পত্নীকে কফি না করার জন্য এক চড় মারল। পত্নী কাঁদতে থাকল।

অতিথি এসব দেখে ধীরে উঠে চলে গেল।

পত্নী তার চোখের জল মুছে বিজয়ীর মত পতিকে বলে, 'দেখলে? আমি কাঁদার ভান করে তাকে তাড়িয়ে দিলাম!'

পতি উত্তর দিল, 'ভাল! আর আমি তোমার সাথে রাগ করার ভান করলাম ও তোমায় কাঁদালাম!'

অতিথি ফিরে এল, 'আমি চলে যাবার ভান করেছিলাম। এখন আমি ফিরে এলাম!'

আমাদের চিন্তা আমাদের শব্দের থেকে আলাদা, আমাদের কাজের থেকে আলাদা, তাই আমরা জীবনে অবিশ্রাম পরস্পরবিরোধী জিনিম আমন্ত্রণ করেছে। শ্রীরামক্ষক পরমহংস বলেন, 'আমাদের চিন্তা ও কাজকে ঐক্যবদ্ধ করা যেন প্রায়শিত করা।' কিন্তু আমরা কি করি? আমরা আমাদের চিন্তাকে কাটছাট করি, সম্পাদনা করি এবং তাদের থেকে শব্দ বা কথা তৈরী করি। কথা বার করার আগে কত হিসাব নিকেশ চলতে থাকে। আমরা কথা বলার আগে লাভ লোকসান দেখি এবং ভবিষ্যতে গিয়ে বিশ্লেষণ করি। আমাদের ব্যক্তিতে কখনই একাঙ্গীভবন হয় না, এই কারণে আমরা টুকরা টুকরা ভাবে অসম্পর্ণ হয়ে থাকি।

লোকেরা আমায় জিজ্ঞাসা করে আমি কিভাবে কোন প্রস্তুতি ছাড়াই ঘন্টার পর ঘন্টা ভাষণ দিয়ে যাই। দ্যাশো, আমি সত্য যেভাবে আছে সেভাবে বলি, সতঃস্ফূর্তভাবে, ব্যাস। আমি সত্যকে অনাবত করতে উদ্বিগ্ন নই। আমি কখনই আমার কথা কাটছটি বা সম্পাদনা করি না। আমার কাছে চিন্তা করা হলা। এদিকে তুমি প্রথমে চিন্তা কর; তারপর তোমার চিন্তার কাটছাট হয় এবং শেষে কথা বার হয়। এই পদ্ধতিতে সরলতা হারিয়ে যায় আর তুমি শব্দাবলীতে জড়িয়ে পড়।

তুমি আমাকে অনেক ঘন্টা ধরে শুনতে পারছ তার কারণ আমি স্বতঃস্ফর্তভাবে বলে যাচ্ছি। নয়ত তুমি অস্থির হয়ে উঠতে। এখানে এসে যে তোমরা সময় সম্পর্কে বিব্রত হচ্ছ না. সেটা আমি যা বললাম তার যথেষ্ট প্রমাণ।

যখন স্বতঃস্ফর্ততা ঘটে. প্রবাহ ঘটে এবং তাই তা এত হৃদয়গ্রাহী হয়। নতুবা তুমি একপেশে (ওয়ান-ট্র্যাক) মন নিয়ে নিশ্চল হও।

একটা ছোট গল্প :

প্রতিবেশীর কুকুরগুলির একটা লোকের ঘুমের বারোটা বাজছিল। কয়েক রাত ধরে এই অবস্থা চলছে। সে সবশেষে কুকুরগুলির মালিকের সাথে কথা বলবে বলে ঠিক করল।

সে তার বাড়ীতে গিয়ে এই ব্যাপারে অভিযোগ করল।

প্রতিবেশী নিশ্চল, তার ওপরে কোন প্রভাব হ'ল না। প্রতিবেশী বলে, 'আমি কিছুই করতে পারব না। আপনার কি করার প্ল্যান?'

লোকটি উত্তর দিল, 'ঠিক আছে, আজ রাতে আমি সব কক্ষরগুলিকে আমার পিছনের উঠানে বেঁধে রাখব এবং তাহলে আপনি ব্যাপারটা বুঝতে পারবেন।'

দ্যাপো. লোকটি কেমন বোকার মত প্রস্তাব রাখল! সে বারবার বিষয়টিতে ওয়ান-ট্র্যাক মন নিয়ে ঢুকছে। সে কিভাবে সমাধান পাবে? তুমি স্বতঃস্ফূর্ত হলে কোন মুহূর্তেই তোমাকে কেউ চ্যালেঞ্জ করছে বলে লাগবে না। তুমি তৎক্ষণাৎ কোন সম্মান পেয়ে যাবে। যখন তুমি স্বতঃস্ফূর্ত, তুমি যেকোন উঁচু পাহাড় থেকে লাফ দেবে ও নীচে যাওয়ার সময় নিজের পাখা তৈরি করবে।