57. তুমি আরও কি চাও?
# তুমি আরও কি চাও?
একটা অতি প্রয়োজনীয় জিনিষ্ণ আমাদের বুঝতে হবে যে বাসনা ও কৃতজ্ঞতা একসাথে থাকতে পারে না । তোমার একটার পর একটা বাসনার উদয় হওয়া মানে তুমি কতজ্ঞতা সহকারে বাস করছ না। যখন তুমি কতজ্ঞ হয়ে বাস কর ; তোমার কখনও কোন বাসনা থাকতে পারে না। কতজ্ঞতা সহকারে থাকলে, তোমাকে যা দেওয়া হয় তাতেই তোমার সেই মুহূর্তে যা দরকার তা সহজেই পূর্ণ হবে, ব্যাস। এমনকি চাওয়ার আগেই, তুমি পেয়ে যাবে, তাই চাইবার কোন প্রশ্নই থাকবে না!
কতজ্ঞতা সহকারে কাজ করলে জিনিষ্ঠশিল্প সর্বদাই নিখুঁত হবে। নয়ন , জিনিষগুলিতে সবসময়ে কিছু খুঁত থাকবে ও সেগুলি অসুন্দর হবে। মানুষের লোভ এমনই যে তাকে পৃথিবীর রাজা বানিয়ে দিলেও সে ভাববে, 'সাগরগুলি আমাকে মানে না; সুর্য ও তারাগুলি আমার আদেশ পালন করে না!'
শিবপুরাণে শিব ও ব্রহ্মকপাল হ'ল একটা মাথার খুলির ওপরের অংশ যা শিব ভিষ্ণুক সেজে ঘরে
বেড়াবার সময় ভিক্ষাপাত্র হিসাবে ব্যবহার করেন। ব্রহ্মকপাল সম্বন্ধে বিশ্বয়কর ব্যাপার হল, যা কিছু ভিক্ষা মানুষ তাতে দেয়, ব্রক্ষকপাল তা সাথে সাথে গিলে ফেলে। শিব সেই পাত্রটিকে ভরার অনেক চেষ্টা করলেও পাত্রটি সবসময় খালি থেকে যায়।
আসলে এই ব্রক্ষকপাল আমাদের ভিতরে আছে। সেটাই আমাদের অহংভাব; আমিতু সবকিছুকে গিলে ফেলে এবং আরও চায় ! এই আমিত্ব, আমরা যা পেয়েছি, তা আমাদের উপভোগ করতে বাধা দেয়।
তুমি তোমার জীবন 'চাওয়া' নাকি 'কৃতজ্ঞতা'-র ওপরে ভিত্তি করতে চাও তা কেবল সম্পূর্ণরূপে তোমারই পছন। কৃতজ্ঞতা কোন নৈতিকতা নয় যা তোমার ওপরে বাইরে থেকে চাপানো যায়। এটা এমন এক মনোভাব যাকে অস্তিত্ব ও তার পথের গভীর উপলব্ধি থেকে অন্তর থেকে প্রস্তুটিত হতে হবে। যখন আসল কুতজ্ঞতা ঘটে , তা তোমার জীবন সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা পরিবর্তন করে দিতে পারে এবং তোমার জন্য চিরন্তন শান্তি ও আনন্দ নিয়ে আসতে পারে।
একবার একটি লোক রামানা মহুষির কাছে যায় ও বলে, 'ভগবান, আমি শান্তি চাই।' রামানা উত্তর দেন, 'তোমার নিজের কথা থেকে 'আমি' শব্দটা সরিয়ে দাও আর 'চাই' শব্দটা দুর করে দাও - যা পরে থাকল তাই 'শান্তি'!'
বাস্তবতার সাথে, অস্তিত্বের সাথে জীবন্ত সংযোগ রাখার একমাত্র পথ হলে তোমার আমিত্বকে ছেড়ে দেওয়া এবং তোমার চারপাশে যে দেওয়াল বানিয়েছ তাকে জেলা; তাহলে দেখতে সমর্থ হবে যে সেই সংযোগ সর্বদাই ছিল! তোমাকে বিশেষভাবে কিছু করতে হবে না; যেটা নয় তাকে সহজেই ফেলে দিতে হবে, ব্যাস!
যখন কৃতজ্ঞতায় পূর্ণ হয়ে প্রেম করছ ও তাতে প্রবাহিত হচ্ছ, তুমি সর্বদাই অনুভব করবে যে অস্তিত্বের অদেল শক্তি তোমার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং তুমি সবসময়ে একটা পরিপূর্ণতার ভাব নিয়ে আছ , কোন লাভের জন্য নয়, কিন্তু তোমার সত্যয় মিশে যাবার জন্য! এই পরিপূর্ণতাই চরম পরিপর্ণতা যা সকল মানুষ অন্ধেশ করছে, যদিও সে সেটার সম্মন্ধে সজাগ নয়। সে বারবার সেটা সমস্ত বস্তুগত জিনিষে খুঁজতে থাকে ও তা হারাতে থাকে।
অস্তিত্বে আস্থা রেখ
তুমি মান কি না মান, অস্তিত্ব তোমার যত্ন নিচ্ছে এবং তোমাকে কেবল তার ওপরে আস্থা রাখতে হবে এবং তোমার কর্তব্য কতজ্ঞতা সহকারে করতে হবে। তখন তোমার ওপরে অস্তিত্ব মঙ্গল বর্ষণ করবে।
কিন্তু আমাদের আস্থা নেই।
একটা ছোট গল্প :
- একজন মানুষ কোন বিশ্বাস ছাড়াই বাস করত। একদিন অক্সাৎ সে পাহাড়ের ওপর থেকে পড়ে গেল এবং দেখল যে সে একটা গাছের শিকড়ে আটকে ঝুলছে। সে প্রচণ্ড ভয় পেয়ে গেল।
- তার হঠাৎ মনে পড়ল যে লোকেরা সবসময়ে ঈশ্বরের কথা বলে। সে মনে মনে ভাবল, 'সাহায্যের জন্য ঈশ্বরকে ডেকে চেষ্টা করা যাক' এবং চ্যাঁচাল, 'হে ঈশ্বর! তোমার কখনও বিশ্বাস ছিল না; তুমি কি সত্যিই আছঃ তুমি কি আমায় বাঁচাতে পার?'
- স্থবের বজুকণ্ঠ শোনা গেল, 'সে পুত্র! নিঃসংশয়ে। এ গাছের শিকড়টা ছেড়ে দাও এবং আমি তোমাকে নীচে থেকে ধরে ফেলব।'
লোকটি আবার চ্যাঁচাল, 'আর কেউ আছে কি যে আমাকে বাঁচাতে পারে?'
আমরা অন্তিত্বের ওপরে বিশ্বাস রাখার জন্য একদম প্রস্তত নই। তোমার সত্তার অন্ধিত্ব আঙ্গা রাখার গুণমানই তোমাকে পৃথীলোকে দেবতার মত বাস করাবে! এই সুন্দর সুযোগ তুমি তোমার অজ্ঞানতা ও আমিত্তের জন্য হারাচ্ছ।
আমরা যদি মহাজাগতিক শক্তির দিকে এক অবিরাম কৃতজ্ঞতা অনুভব করতে থাকি, তবে আমরা অনুভব করতে সমর্থ হব যে সেই মহাশক্তিই তার কোলে আমাদের যতুনিচ্ছে। মা যেভাবে শিশুকে লালনগালন করে, এই মহাশকিও সেইভাবে আমাদের লালনপালন করছে বলে আমরা অনুভব করব; তুমি মান কি না মান এটাই সত্য।
একজন মানুষ স্বপ্ন দেখল যে ঈশ্বর ও সে জীবনের যাত্রায় সমুদ্রতীরে বেলাভুমিতে হেঁটে চলেছে।
সে ঈশ্বরকে বলল, 'হে প্রভু! আমি স্বপ্ন দেখলাম যে তুমি ও আমি সমুদ্রতীরে এই বালুর ওপর দিয়ে হেঁটে চলেছি। যখন বালির ওপরে ছাপগুলি দেখলাম, আমি বুঝলাম, যখন জীবন খুব কষ্টের ছিল, যখন আমার বড় বড় সমস্যাগুলি ছিল, তখন কেবল একজনের পায়ের ছাপ ছিল: অন্যজনেরটা ছিল না। ঐ সময়খলিতে তুমি কিভাবে আমায় ছেড়ে ছিলে? ঈশ্বর উত্তর দিলেন, 'পত্র! ঐ সময়গুলিতে আমি তোমায় বহন করছিলাম!'
আমার অভিজ্ঞতা থেকে তোমাদের বলতে দাও : আমার পরিব্রজ্যার সময়, আমি হাজার কিলোমিটার পায়ে হেঁটে বেড়িয়েছি। আমি কেবল দুটি কাপড় ও এক ভিক্ষাপাত্র নিয়ে ভ্রমণ করেছিলাম টাকা ছোঁব না এবং পরবর্তী ভোজনের জন্য খাবার বাঁচিয়ে রাখব না।
লোকেরা আমায় জিজ্ঞাসা করে সেটা কিভাবে সম্ভব। আমি তোমাদের বলি : আমি সহজভাবে অস্তিতের ওপরে আস্থা রেখেছিলাম এবং আমার জীবনমুক্তির লক্ষ্যের দিকে পূর্ণ মনোযোগ দিয়েছিলাম এবং অস্তিত্ব আমার যত্ন নিয়েছিল; এইভাবে এটা সম্ভব হয়েছিল।
যখন তোমরা আমাকে বলতে শুনবে, 'অস্তিতের ওপরে বিশ্বাস রাখ,' তোমরা ভাবতে পার যে এটা হয়ত আগেকার ন্যায়পরায়ণ ও সাধুদের সময়ের ধারণা। একদম নয়। আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি: তোমার চোখের সামনে যে এখন বসে আছে তার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। আর আমার মনে হয় আমি এই সমাবেশে বয়সে সবচেয়ে ছোট! তাই আমি তো অনেক আগের দিনের কথা বলছি না। বুঝতে পারছ আশা করি।
শুধুমাত্র কতজ্ঞতা সহকারে বাস করার চেষ্টা কর এবং অলৌকিক ঘটনা ঘটা প্রত্যক্ষ কর। অন্তিত্ব প্রদান করে , যদি তুমি কোন সন্দেহ বিনা উচ্ছলিত হৃদয়ে গ্রহণ করতে প্রস্তুত থাক।