56. তজ্ঞতা থেকে প্রার্থনা কর, ভয় থেকে নয়
# তজ্ঞতা থেকে প্রার্থনা কর, ভয় থেকে নয়
একজন মানুষ ভগবানের কাছে রোজ প্রার্থনা করে, 'হে ভগবান, আমার যথেষ্ট টাকা নেই। দয়া করে আমায় একটা লটারীতে দশ কোটি টাকা জিততে সহায়তা কর! যদি আমি জিতি, আমি প্রতিজ্ঞা করছি যে আমি ২০ শতাংশ টাকা তোমার মন্দিরে দেব। যদি আমাকে বিশ্বাস না করে দু কোটি কেটে রেখে বাকী আট কোটি আসায় দিও।'
আমাদের সমস্ত আচরণ এরকমই - নিহুক ব্যবসা! আমাদের জীবনে তা হয়ত সুস্পষ্ট নয়, কিন্তু তুমি যদি তোমার প্রার্থনার মনোভাব গভীরভাবে বিশ্লেষণ কর, তুমি বুঝবে যে তুমি সবার সাথে ব্যবসা করছ, ভগবান সমেত।
একটা ছোট গল্প :
একদিন এক গরীব মানুষ বাদশা আকবরের প্রাসাদে গেল। সে তার ছেলের পড়াশুনার জন্য কিছু অর্থ চাইবে বলে ঠিক করেছিল।
সবাই জানত কেউ কিছু চাইলে আকবর কখনও তাকে খালি হাতে ফিরিয়ে দেয় না।
প্রাসাদে পৌঁছে লোকটি দেখল আকবর প্রার্থনা করছে। সে কিছু না বলে চলে গেল। কিন্তু আকবর তাকে দেখেছিল ও ফিরে ডাকল।
আকবর জিজ্ঞাসা করে, 'তুমি যে কিছু না চেয়েই চলে যাচ্ছ?'
গরীব মানুষটি উত্তর দিল, 'জাহাপনা, আমি আপনার কাছে ভিক্ষা চাইতে এসেছিলাম, কিন্তু দেখলাম আপনি নিজেই ভিক্ষা করছেন!'
যদি আমাদের প্রার্থনাসকল লক্ষ্য করে তুমি বুঝতে পারবে যে আমরা আসলে কেবল ভিক্ষা চাইছি। আমরা কেবল চাই, চাই আর চাই। আমাদের প্রার্থনা ভিক্ষাপাত্র ছাড়া আর কিছুই নয়। বস্তগত জিনিষ, ভাল সম্পর্ক, ক্ষমতা, উদ্দেশ্যসিদ্ধি, শারীরিক সৌন্দর্য এবং কত কিছুর জন্য আমরা ভিক্ষা করি।
আমাদের মনে আমরা সর্বদাই কিছু না কিছু চেয়ে চলেছি। আসলে আমরা চাইতে এতই অভ্যন্ত হয়ে গেছি যে সেটা আমাদের মধ্যে এক অচেতন প্রক্রিয়া হয়ে গেছে, এমনকি আমরা চাইছি বলে স্বীকার নাও করতে পারি। আমরা সেগুলিকে চাওয়া বলে গণ্যই করি না। এটা আমাদের এক স্বাভাবিক জীবনধারা হয়ে গেছে। আমরা এতে ভীষণভাবে জড়িয়ে পড়েছি এবং তাই তা থেকে সরে এসে তাকে সতেজ মন দ্বারা অবলোকন করতে পারছি না।
বোঝ যে বিশ্বে কেবল দুই প্রকার ধর্ম আছে; প্রার্থনা ভিত্তিক ধর্ম এবং কতজ্ঞতা ভিত্তিক ধর্ম।
প্রার্থনা ভিত্তিক ধর্ম হ'ল ভগবানের কাছে কোন না কোন কিছু চাওয়া। তা জনগণ অনুসরণ করতে পারে, কারণ তার সাথে আমাদের চাওয়ার মনোভাবের মিল আছে। ছোটবেলা থেকে আমাদের যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে তার সাথে এই মনোভাবের সামঞ্জস্য আছে। ছোটবেলা থেকে আমাদের চাওয়ার প্রার্থনা শেখানো হয়েছে। এটাকে ভগবান বা অস্তিত্বের নির্টবর্তী হবার জন্য সবচেয়ে স্বাভাবিক পথ বলে মনে হয়।
অন্যদিকে কতজ্ঞতা-ধর্ম ভগবান বা অস্তিতের জন্য ভিতরের এক অভিভূকারী কতজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করা। ছেলেবেলা থেকে যা শেখানো হয়েছে, এটা তার একদম বিপরীত। যদি কিছু পাই তার জন্য আমাদের ধন্যবাদ দিতে শেখানো হয়েছে, ব্যাস। কতজ্ঞতাকে এক সামাজিক ভদ্রতা হিসাবে আমাদের শেখানো হয়েছে, তার চেয়ে বেশী কিছু নয়!
তাহলে আমরা কিভাবে সর্বদাই ধন্যবাদপূর্ণ থাকব? এটা হজম করা খুব কটিন! সেজন্য বাছাই করা খুব কম মানুষ এই কৃতজ্ঞতা ভিত্তিক ধর্মকে অনুসরণ করে।
া কৰে। তেওঁ প্ৰায় প্ৰায় প্ৰায় কৰিছিল। তেওঁ পাৰে জেনাৰ প্ৰতিষ্ঠান কৰিছিল। তেওঁ প্ৰথম কৰিছিল। তেওঁ পাৰে ক ধর্মগুলিকে অনুসরণ করে, কিন্তু অনুসরণকারীদের গুণমান উচ্চ।
প্রার্থনায় কোন ভুল নেই, কিন্তু চাইতে প্রার্থনায় আটকে যাওয়া থেকে সমস্যার শুরু হয়। ধ্যানে প্রবেশ-দ্বার হিসাবে প্রার্থনাকে ব্যবহার করা উচিৎ; ধ্যানে কৃতজ্ঞতা হয়ে যায় প্রার্থনা এবং তোমার সত্তা হয়ে যায় আনন্দ !
তুমি ভাবতে পার, 'কৃতজ্ঞতা জানানো একটা সামাজিক অভ্যাস হতে পারে, কিন্তু তা ধ্যান কিভাবে হয়? আমি কি বলছি তা বুঝতে পারবে যখন তুমি আসল কৃতজ্ঞতা দেওয়া আরম্ভ করবে। কৃতজ্ঞতা জানানো শুরু করলে তু মি জীবনের মূল্য বুঝতে পারবে।
আমি তোমাদের বলি : তুমি শুধু তাদের জান যারা সরাসরি তোমায় দেয় ও যত্ন নেয়। কিন্তু অস্তিত্ব, বিশ্বব্রহ্মাণ্ড বা মহাজাগতিক শক্তি যে সবসময়েই তোমাকে সহায়তা করছে, রক্ষা করছে ও যতু নিচ্ছে, তা অনুভব করার জন্য কোন সজাগতাই তোমার নেই।
তুমি বিশ্বাস কর যে তোমাকে যা দেওয়া হয়েছে তুমি তার যোগ্য বা তা একটা আকস্মিকতা। যখন তুমি দেখতে ও অনুভব করতে শুরু করবে যে অস্তিত্বের অদশ্য হাত তোমার যত্ন নিচ্ছে, তখন তুমি জানবে যে অস্তিত্ব তোমাকে এখানে চায়। কেবল তখনই তুমি বুঝবে যে তোমার ওপরে অস্তিত্ব অনবরত মঙ্গল-বর্ষণ করে চলেছে।
তুমি যে বেঁচে আছ, এই সত্যতাই প্রমাণ করে যে অস্তিত্ব তোমায় এখানে চায় এবং সে তোমার যত্ন করে। এটা না বুঝলে তুমি নিষ্প্রভ ও বিষণ্ণ হবে এবং পৃথিবীর সবচেয়ে বঞ্চিত ব্যক্তির মত চাইতে থাকবে।
তুমি যদি তোমার সত্তা থেকে এখানে যা বলা হ'ল তা ভাল করে শোন, তাহলে তুমি নিজেকে সুরে বাঁধতে পারবে এবং অস্তিত্বের দেওয়ার এই সুন্দর ধরণকে বোঝার জন্য সংবেদনশীল হবে !
ঈশ্বর প্রেমময়, ভয়ংকর নয়
বেশীরভাগ মানুষই ভগবানকে ভয় সহকারে প্রার্থনা করে। মায়েরা সন্তানদের বলে যে কথা না শুনলে ভগবান তাদের ওপরে রাগ করবে। এই কথাগুলি একদম ছোটবেলাতেই বাচ্চাদের ভিতরে গেঁথে যায় এবং তাদের ভগবান সম্বন্ধে এক ভল ধারণা দেয়। ছোটদের ছেলেবেলায় এইভাবে তোমরা নিয়ন্ত্রণ করে তারা বড হয়ে এর জন্য উভয়সঙ্কটের সম্মুখীন হয়। প্রেম ও কতজ্ঞতা সহকারে অস্তিত্বকে আলিঙ্গন না করে তারা ভগবানকে সম্মান ও ভয় করে দুরে দাঁ ডিয়ে থাকে।
ধর্মকে যদি ভয়ের জন্য অনুসরণ কর, তা তোমায় কোথাও নিয়ে যাবে না: তা তোমার রূপান্তর ঘটার জন্য পথ তৈরি করে দেবে না। বিশ্বাস সহকারে চাওয়ার জন্য তুমি হয়ত বস্তুগত দিক থেকে লাভবান হবে, কিন্তু তুমি সত্তাস্থরে যেখানে ছিলে সেখানেই থেকে যাবে। জীবনের উদ্দেশ্য ও আসল পরিপূর্ণতা বস্তগত পথে কখনও হয় না; তা কেবল সত্তার স্তরেই ঘটতে পারে। যেসব সামুকেরা 'সাফল্যের বিষয়তা'-র মধ্য দিয়ে গেছে, তারা বেশী ভাল করে বুঝতে পারবে আমি কি বলছি। আমরা আগের সেশনগুলিতে সাফল্যের বিষণাতা সম্বন্ধে আলোচনা করেছি।
ঈশ্বর বা অস্তিত্বে জন্য গভীর প্রেম ও কৃতজ্ঞতা থেকে ধর্ম অনুসরণ করা উচিৎ। যদিও সমাজ তোমাকে ভয়ের নামে ভগবানকে পজা করতে শেখায়, আমি তোমাদের বলি, কখনও তা কোরো না। ঈশ্বরের প্রতি সর্বদা প্রেম ও কতজ্ঞতা সহকারে প্রার্থনা কর।
একটা ছোট গল্প :
এক সুফি মাস্টার, জুনেদ ভগবানকে দিনে পাঁচবার কৃতজ্ঞতা জানাতেন।
একবার তিনি তাঁর শিষ্যদের সাথে কতগুলি গ্রামের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই গ্রামগুলি ধর্ম হিসাবে সুফি -বাদ তখনও গ্রহণ করে নি।
প্রথম গ্রামে লোকেরা তাদের ভিক্ষা করার জন্য অভিযুক্ত করল ও যৎসামান্য ভিক্ষা তাদের দিকে ছুঁড়ে দিল।
পরদিন দ্বিতীয় গ্রামে লোকেরা তাদের কোন ভিক্ষা দিতে অস্বীকার করল।
তৃতীয় দিন তারা আরেকটা গ্রামে গেল, কিন্তু সেখানে লোকেরা এত ক্ষেপে গেল যে লাঠি ও পাথর মেরে তাদের গ্রাম থেকে বার করে দিল।
সেই রাতে নিয়মিতভাবে জুনেদ নতজানু হয়ে ভগবানকে কৃতজ্ঞতা জানাল।
তাঁর শিষ্যরা তাঁকে লক্ষ্য করছিল। তারা সেটা সহ্য করতে পারল না। তারা বুঝতে পারল না জুনেদ কেন ভগবানকে ধন্যবাদ দিচ্ছেন। তারা ভীষণ ক্ষেপে গেল। তারা চিৎকার করে বলল, 'মাস্টার! তিনদিন ধরে আমরা কিছু খাই নি! আজকে আমাদের সেই গ্রাম থেকে কুকুর তাড়াবার মত তাড়িয়ে দেওয়া হ 'ল! আপনি কি সেজন্য ধন্যবাদ দিচ্ছেন?'
জুনেদ তাদের দিকে তাকালেন ও বললেন, 'তোমরা তিন দিনের ক্ষুধার কথা বলছ! গত ত্রিশ বছর ধরে তোমরা যে খাবার পেয়েছ তার জন্য ভগবাদ দিয়েছ? আর একটা জিনিম জান : আমার কতজ্ঞতা কোন কিছু পাওয়া বা না পাওয়ার জন্য নয়। এটা আমার সত্তায় গভীর আনন্দ ও প্রেমের একটা সহজাত প্রকাশ। এই প্রকাশে কোন বাছাবাছি নেই, এটা এক প্ৰাৰ্থনাপৰ্ণ অভিব্যক্তি।
যখন তুমি ভিতরে এক অভিভূতকারী কৃতজ্ঞতা সহকারে বাস কর, তুমি এমন এক স্থান পেয়ে গেছ যেখানে আর কিছুই চাই না। তার মানে তুমি ধ্যানে প্রবেশ করেছ। তাহলে তুমি আর কিছুর জন্য উদ্বেগিত হবে না। তুমি সঠিক পথে আছে। তোমার মন তোমার
এগিয়ে চলার পথে আর বাধা নয়; তোমার মন অদশ্য হয়েছে। যখন তুমি হৃদয়ে কানায় কানায় কানায় কানায় পূর্ণ, মন সেখানে প্রবেশ করতে পারে না। মনের জন্য কোন স্থান না থাকলে, কোথা থেকে অসন্তোষ আসবে? অসন্তোষ বা অতপ্তি হৃদয় থেকে আসতে পারে না। তা কেবল মনেরই সঙ্টি।
অস্তিত্বের সৌন্দর্যে জাগো
তোমার মন সর্বদাই 'তুমি' ও অস্তিত্বে মাঝে এসে যায়। তা তোমাকে অস্তিত্বের সাথে শুনতে, দেখতে, অনুভব করতে ও আবেগভরে কাজ করতে বাধা প্রদান করে। একবার মনের উদ্ধে যেতে পারলে এবং অভিতের সৌন্দর্য দর্শন করতে পারলে, কৃতজ্ঞতা তোমার সত্তার প্রার্থনা ও আনন্দ হয়ে যাবে। তুমি তখন মুক্তি ও চিরস্থায়ী আনন্দ উপভোগ করবে !
यथन जूसि मतनव नीत्रम यूकि क्यूल मांड, कूलि वक नमीन सर भवारिका काज़ा, विना भटकोंग्र, बानक्य নদীর স্লোতের সাথে বয়ে চলবে। তুমি তখন তোমার ভূমিকা নেবে এবং তার প্রতিটি মুহুর্তকে উপভোগ করবে। তুমি তখন বুঝবে যে তুমি এক সুন্দর নাটকের অংশ, যেখানে তুমি ডাইরেক্টরের প্রতি যত সংবেদনশীল হবে ততই ভাল অভিনয় করবে ও তা উপভোগ করবে!
স্থানে বিপরীতে গেলে, তোমাকে নানা চেষ্টা ও বাছবিচার করতে হবে। প্রোতের সাথে গেলে তোমাকে কোন প্রচেষ্টা করতে হবে না: তুমি ক্লান্ত হবে না: তুমি হতাশ হবে না: তুমি কেবল এক প্রবহমান লঘিমা (হালকা ভাব) অনুভব করবে। তখন সবকিছুই সুন্দর মনে হবে।
একটা ছোট গল্প :
- একটা লোক ট্রেনে যাচ্ছিল। সে সব সময় জানালার পাশে বসে বাইরে প্রকৃতির দৃশ্য দেখছিল।
- তার পাশে একজন বয়স্ক মহিলা বসেছিল। তাকে লোকটি বলে যে এই ভ্রমণে সবচেয়ে ভাল জিনিষ হল বাইরের শ্বাসরোধ করা সুন্দর দৃশ্যাবলী।
- মহিলাটি মাথা নাড়াল এবং জানালার পাশে বসে কিছুক্ষণ ধরে বাইরে দেখতে থাকল ও পরে চলে গেল।
- মহিলাটি ফিরে এল এবং কিছু সময় ধরে আবার জানালার পাশে বসে কিছুক্ষণ ধরে বা ইরে দেখতে থাকল ও চলে গেল।
- সে আবার এলো ও জানালার কাছে লোকটির সামনে বসল। কয়েক মিনিট পরে মহিলাটি তাকে টোকা মেরে বলল, 'মাফ কর, কিন্তু তুমি কি এমন জিনিষ দেখ যা আমি দেখি না?'
আমরা অন্তিত্বের সৌন্দর্য সহজেই হারিয়ে ফেলি! কি উপভোগ করি না, সে সম্বন্ধে প্রশ্ন করে আমরা সর্বদাই উপভোগ করার জন্য কারণ খুঁজি, আনন্দ উদ্যাপন করার জন্য কারণ খুঁজি! সেইজন্য আমরা অস্তিত্বের সাথে সম্পূর্ণত সংযোগ হারিয়ে ফেলেছি।
আমাদের চারপাশে সবকিছুর জন্য কৃতজ্ঞতা অনুভব না করে আমরা সবসময়ে চেয়ে যাচ্ছি ও প্রশ্ন করে চলেছি। আমাদের অস্তিত্বে সাথে এই সংযোগ আবার ফিরে পেতে হবে। কৃতজ্ঞতা এই সংযোগ ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করতে পারে। তা তোমাকে তোমার মুল আবার পাইয়ে দিতে সাহায্য করতে পারে। তা তোমাকে প্রকৃতির সাথে একাত্ম হতে সাহায্য করতে পারে।
একটা ছোট গল্প :
একটি লোক একদিন মন্দিরে গিয়ে খুব প্রার্থনা করে, 'হে প্রভু! আমায় আগামী ১৫ দিন ধরে রোজ ১০০০ টাকা দাও। আমার সেটা খুব দরকার। আমি আমার বেতন পেলে, এই টাকা আজ থেকে ১৬তম দিনে ফিরিয়ে দেব।'
মন্দিরের পুরোহিত তার এই প্রার্থনা সে লোকটিকে এই অবস্থায় দেখে খুব দুঃখিত হ'ল। তার কাছে ৫০০ টাকা ছিল। সে একটা খামে সেই ৫০০ টাকা রেখে তাকে দিয়ে বলে যে ভগবান তাকে এই টাকা দিতে বলেছেন।
লোকটি খুব খুশী হ'ল। সে খামটি নিল ও ঘরে গিয়ে খামটি খুলল। সে টাকাগুলি গুনে দেখে যে তাতে ৫০০ টাকা আছে , ১০০০ নয়।
পরের দিন সে মন্দিরে গিয়ে আবার প্রার্থনা করে, 'হে ভগবান! দয়া করে পরেরবার আমাকে পুরোহিতের হাত দিয়ে টাকা পাঠিও না। সে তার অর্ধেক নিয়ে নেয়।'
আমরা সবকিছুকে নিশ্চিত ধরে নিই ও অতপ্ত হয়ে থাকি !
কোন কিছু অবধারিত বলে মেনে নিও না
মনে রেখ, জীবন নিজেই তোমার পাওয়া একটা উপহার! তুমি কি তাকে পেতে খুব কষ্ট করেছ? তোমাদের মধ্যে কেউ কি বলতে পার যে এই জীবন পাবার জন্য তোমাকে পরিশ্রমের কাজ করতে হয়েছে? না! তাই আমরা এর মল্য বুঝি না। আমরা সবকিছু নিশ্চিতভাবে ধরে নিই - আমাদের রোজের খাবার, প্রকৃতির সৌন্দর্য - সবকিছু আমরা অবধারিত বলে গণ্য করি। আমরা ভগবানের কাছে হীরার আখটি চাই - কিন্তু আমরা তাঁকে আধুটি প্রার জন্য আঙ্গলগুলি পাবার জন্য কি ধন্যবাদ দিই? এমন কি হীরার আংটিও সময়কালে আমাদের কাছে মূল্য হারিয়ে ফেলে !
একদিন ভগোলের টিচার বাচ্চাদের পথিবীর সাতটি আশ্চর্য জিনিষ লিখতে বলল। সব বাচ্চারা আশ্চর্য জিনিষের লিস্টে লিখল. চীনের প্রাচীর, মিশরের পিরামিড, আইফেল টাওয়ার ইত্যাদি। একটি মেয়ে লিখছিল এবং লিখেই যাচ্ছিল - খুব আগ্রহ সহকারে এবং মাথা ঝাঁকিয়ে। টিচার তার সামনে এসে জিজ্ঞাসা করল, 'কি ব্যাপার? তুমি কি শিখেছ তা কি ভুলে গেছ?' ছোট মেয়েটি বলে, 'না। আমি একটু বিভ্রান্ত। সাতটার চেয়েও অনেক বেশী আছে।' টিচার অবাক হ'ল ও তার খাতা নিয়ে পড়তে লাগল। সে তখন পুরো ক্লাসের জন্য জোরে জোরে পড়ল, 'পথিবীর সপ্ত वाम्य र'ल, जासि म्मूल भावि: वासि स्वर्ट भावि: वासि शक्य एक राजि: आसि सन्दर्शन के बाद साम গ্রহণ করতে পারি; আমি হাসতে পারি; আমি ভালবাসতে পারি...' ক্লাস হঠাৎ অদ্ভতভাবে নীরব হয়ে গেল।
এই ছোট জিনিষ্ণুলি ভলে থাকা হয় কারণ আমরা তাদের ছোট বলে ভাবি। সহজেই উপলব্ধ হলে সবকিছুই আমাদের কাছে ছোট श्य याया।
এই পথিবীতে কত লাখ মানুষ আছে যারা দেখতে পায় না, শুনতে পায় না, কথা বলতে পারে না, স্বাদ গ্রহণ করতে পারে না। আমরা কখনও এসব সম্বন্ধে ভাবি না। আমরা সর্বদাই ভেবে চলি 'আরও কি', 'আরও ভাল', 'এরপর কি।'
একটা ছোট গল্প :
একটি লোক তার গ্রামে যাবার জন্য বড় রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল। এক ঘন্টা যাবার পর তার গাড়িতে একটা ঝাঁকুনি হ 'ল ও থেমে গেল। সে ঘাবড়ে গেল ও দেখল যে গাড়িতে ইন্ধন নেই।
প্রার্থনা করতে করতে, ঘামতে যাঁফাতে হাঁফাতে সে কয়েক কিলোমিটার পায়ে হেঁটে এক শহরে পৌঁছাল। সে একটা পেট্রল পাম্প দেখতে পেল ও সেখানে গেল। সে ব্যাখ্যা করল যে তার এক পয়সাও নেই. কিন্তু গ্রামে যাবার জন্য গাড়িতে ইন্ধন চাই। তারা লোকটিকে ভাগিয়ে দিল।
কিছু দূরে সে আরেকটি পেট্রল পাম্প দেখতে পেল এবং একই অনুরোধ করল।
পাম্প স্টেশনের ম্যানেজার সহৃদয় ব্যক্তি ছিল ও তাকে কয়েক লিটার তেল বিনামূল্যে দিতে রাজী হ'ল।
লোকটি জিজ্ঞাসা করল, 'আপনি কি তার বদলে আমাকে টাকা দেবেন? ওই পেট্টল পাম্পের তেল এখানের চেয়ে সন্তা।'
যতক্ষণ আমাদের কাছে কিছু না আসে ততক্ষণ তাকে মূল্যবান মনে হয় এবং আমরা এক প্রার্থনাপূর্ণ মেজাজে থাকি : যেই মুহূর্তে তা এসে যায়, সেটা মুল্য হারিয়ে ফেলে এবং আমরা এগিয়ে চলি ...আরেকটা প্রার্থনায়!
আমরা সর্বদাই 'এরপর কি' মনোভাব নিয়ে থাকি। সেজন্য আমরা কৃতজ্ঞতার সাথে সম্বন্ধ স্থাপন করতে পারি না।
উদাহরণস্বরূপ, যদি আমরা দোকানে গিয়ে কোন নতুন বৈশিষ্ট্যের একটি অভিনব আলার্ম ঘড়ি দেখি, সঙ্গে সঙ্গে আমরা ভাবি যে এই নতুন বৈশিষ্ট্য দ্বারা আমাদের জীবন অনেক সুন্দর হয়ে উঠবে। আমরা ভাবি যে এই নতুন বৈশিষ্ট্যগুলি উপলব্ধ করলে আমাদের জীবনের সম্পর্ণ গুণমান পরিবর্তিত হবে। আমরা মনে করি যে এই ঘড়িটি পেলে আমরা আমাদের জীবনে অনেক বেশী দক্ষ হয়ে উঠব। তাই আমরা সেটা কিনি ও তাকে ঘরে নিয়ে আসি।
কিছু দিন পরে কি হয়? সেই মল্যবান ঘড়িটা মোছারও সময় হয় না ! বেচারা ঘড়িটা কোথাও একটা ধলো মেখে পড়ে থাকে এবং আরেকটা নতুন জিনিয় কিনে ঘরে গাদাগাদি করার জন্য তোমাকে কথাও শুনতে হয়েছে! আর তুষিও তখন নতুন অন্য এক গ্যাজেটের দিকে আকর্ষিত হয়েছ, অন্য একটা বাসনা!
আমরা সর্বদাই ভাবি যা আমাদের কাছে নেই তা একটা পর্বতের মত বিশাল এবং তাকে ছাড়া আমরা বাঁচতে পারব না। কিন্তু যখন
তা আসলে পেয়ে যাই, তা আমাদের কাছে খুব ছোট জিনিম হয়ে দাঁড়ায়। এইভাবে আমরা আমাদের জীবনে কতজ্ঞতার অপর্ব মনোভাব হারিয়ে ফেলি। আমরা সর্বদাই 'এরপর কি?' তার পিছনে দৌড়ে বেড়াই।
ভারতের জীবনমুক্ত মাস্টার ভগবান রামানা মহার্ষি ঈশ্বরকে বলেন, 'আমি কত বুদ্ধিমান। আমি তোমাকে আমার যা কিছু আছে তা সব দিয়ে দিয়েছি, আমার দ্বংখকষ্ট ভরা সমস্ত জীবন। তুমি তার বদলে করুণা করে আমায় দিলে তোমার আনন্দের উপস্থিতি !'
এই বিচক্ষণ বিনিময়ের জন্য ভগবান রামানা বলছেন যে তিনি ঈশ্বরের চেয়েও বেশী বুদ্ধিতের জন্য তাঁর এই অসীম কতজ্ঞতার ভাব কত বন্দনীয়!
শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসের একটা গল্প বলি :
বলা হয় যে যখনই রামকম্ব চৈতন্য মহাপ্রভর স্থান থেকে কেউ এসেছে দেখতেন, তিনি তাঁর পায়ে পড়তেন। চৈতন্য মহাপ্রভু ভারতের এক মহান জীবনমুক্ত মাস্টার ছিলেন।
একবার রামকৃষ্ণ যখন এরকমভাবে কারো পায়ে পড়লেন, আশেপাশের মানুষেরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন যে তিনি কেন এভাবে সাধারণ মানুষের পায়ে পড়েন।
তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, 'তারা সাধারণ হোক, যায় আসে না, তারা বানিগাতি (পাণীহাটি) থেকে আসছে - যেখানে শ্রীষ্টিতন্য এক তাৎপর্যপ সংকীর্তন করেছিলেন। যেই মহুতে আমি শুনি যে তারা সেখান থেকে আসছে , সেই নামই (পাণীহাটি) আমার মধ্যে শ্রীচৈতন্যের স্মৃতি জাগ্রত করে; সেটাই যথেষ্ট। শ্রীচৈতন্যকে আমার স্মরণে নিয়ে আসার জন্য আমি তাদের পায়ে পডে কতজ্ঞতা জানাই। যদি আমার তাদের সাথে সেই সময় দেখা না হত আমি হয়ত কোন মূল্যহীন জিনিষ চিন্তা করতাম। তারা হ'ল সেই যন্ত্র, যারা আমার মধ্যে ঐশ্বরিক স্মৃতি ও ধারণা জাগিয়ে দেয়।'
সেটা ছিল রামকম্বের উত্তর!
শ্রীচৈতন্যের চিন্তা মনে আনার জন্য, রামকর্ষণ তাদের পায়ে পড়তেন! আজকের দিনে কি তা কল্পনা করতে পার? সেটাই আমি বোঝাতে চাইছি যে সবকিছুকে ও সবাইকে কৃতজ্ঞতা সহকারে দেখা উচিৎ, তারা যাই করুক না কেন। তারা সবাই অভিত্তের অংশ এবং তারা সবাই অস্তিত্ব দ্বারা স্ট সমলয়ে সুবিন্যসভাবে এগিয়ে চলেছে। আমরা যখন এই ঘটনায় সংবেদনশীল, যেভাবে জিনিষগুলি ঘটছে তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ থাকতে সমর্থ হব।
মহান মাস্টারদের থেকে আমাদের এই কতজ্ঞতা বোধ আত্মভূত করতে হবে। একমাত্র এই জিনিষটাই তাঁদের থেকে আমাদের শিখতে হবে: মতশুলিকে যত্ন শক্তি তোমার যত্ন নেবে এবং অস্তিত্ব তোমার ওপরে সহজেই ক্ষণা বর্ষণ করবে। কিন্তু আজকে ব্যাপারটা কত আলাদা।
এই ছোট গল্পটা শোন :
একটি ভিখারী রাস্তায় একটি লোককে থামিয়ে জিজ্ঞাসা করে, 'দুই বছর আগে আপনি আমাকে ২০ টাকা দিতেন। গত বছর মাত্র ১০ টাকা দিলেন। আর এই বছর শেষ হতে চলল এবং এখন পর্যন্ত কেবল ২ টাকা দিয়েছে। কেন?
লোকটি উত্তর দিল, 'প্রথমে আমি অবিবাহিত ছিলাম, তারপর বিয়ে করলাম আর এখন আমার একটি সন্তান হয়েছে। তাই।'
ভিখারীটি চেঁচিয়ে উঠল, 'কি? তুমি আমার টাকা দিয়ে পরিবার চালাচ্ছ?'
ভিখারীর কথা শোন, 'তুমি আমার টাকা দিয়ে তোমার সংসার চালাছ!' আসলে আমরা অনেকেই ভাবি যে আরেকটা মানুষ আমাদের ও আমাদের প্রয়োজনে সাহায্য করবে বলে আশা করাটা আমাদের জন্মগত অধিকার। আর আমরা তাদের অবধারিত বলে ধরে নিই।
এটা বোঝ : এমনকি আমাদের নিজের বাবা বা মা বা পতি বা পত্নীকেও অবধারিত বলে মেনে নাওয়া উচিৎ নয়।
তাই বোঝ : অতগ্তি, উদ্বেগ ও বিষাদ অন্ধেশ করার মনোভাব থেকে পরিবর্তিত হয়ে যখন তমি কতজ্ঞতার সাথে বর্তমানকে অন্ধেষণ করার মনোভাব নিয়ে আস. তখন তুমি স্বতক্ষলভাবে অস্তিত্বের শক্তিকে আরও ভাল করে আহরণ করতে পারবে। তখন তুমি অস্তিত্বকে আরও ভাল করে কদর করতে পারবে ও কতজ্ঞতা তোমার জীবনশৈলী হবে।
একদিন এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর জন্য দোকান থেকে সবজি আনতে গেল। সে কিছু ঢ্যাঁড়স কিনল ও বাড়ি ফিরে সেগুলি
স্ত্রীকে দেখাল।
Section 3
তার বউ সেগুলি দেখে বলে, 'ও! এগুলি তো বুড়ো হয়ে গেছে। আমি এগুলো রান্না করতে পারব না।' লোকটি পরদিন বাজারে গিয়ে অনেক সতর্কতার সাথে আরও ঢ্যাঁড়স কিনে ঘরে ফিরল এবং তা স্ত্রীকে দেখাল। বউ বলে, 'কি নিয়ে এসেছ? এগুলো তো এতই কোমল যে আমি যা বানাতে চাইছি তা এগুলি দিয়ে হবে না।' পরের দিন লোকটি বাজারে গেল ও দোকানদারকে মিনতি করে বলল, 'দয়া করে আমায় এমন কিছু ঢ্যাঁড়স দিন, যেগুলো বুড়োও নয় আবার কোমলও নয়।'
দোকানদার সবচেয়ে ভাল ঢ্যাঁড়স নিজে বেছে দিল ও লোকটি তা নিয়ে ঘরে এসে তার স্ত্রীকে দেখাল। স্ত্রী তা দেখল ও বলল, 'কি ব্যাপার? তুমি আজকেও ঢ্যাঁড়স নিয়ে এসেছ?'
আমরা যখন জিনিষগুলিকে অবধারিত বলে ধরে নিই, সেগুলিকে আমরা কখনও স্বতঃস্ফর্তভাবে কদর করতে পারি না। আমাদের বিভিন্ন সম্পর্ক সহকারে কোন কিছুই কদর করতে পারি না।
আরেকটা ছোট গল্প :
- একটা মানুষ কাজ থেকে ঘরে ফিরে দেখে যে তার স্ত্রী প্রচণ্ড খারাপ মেজাজে আছে। সে লোকটির দিকে চেঁচিয়ে বলল, 'আমি কাজের মহিলাটিকে এতদিন ধরে ঘরের সমস্ত কাজ শেখালাম আর এখন সে ছেড়ে চলে গেল।'
লোকটি সহানুভূতি দেখিয়ে জিজ্ঞাসা করল, 'প্রিয়ে, কারণটা কি?'
পত্নী উত্তর দিল, 'তুমিই তার কারণ! সে বলে যে তুমি তার সাথে টেলিফোনে খুব বাজে করে কথা বলেছিলে। তা শুনে ে ঠিক করে যে তাকে তার আত্মসম্মান বাঁচাতে হবে এবং তাই সে ছেড়ে চলে গেছে।'
লোকটি হতভম্ভ হয়ে গেল ও বোকার মত বলল, 'কিন্তু আমি ভাবলাম আমি তোমার সাথে কথা বলছি।'
আমরা সম্পর্ক সর্বদা অবধারিত বলে ধরে নিই। প্রতিটি মানুষকে পূর্ণের এক অংশ ভেবে তার সাথে আচরণ কর এবং তার প্রতি কৃতজ্ঞতা অনুভব কর; তাহলে তুমি কাউকেও অবধারিত বলে গণ্য করবে না। তুমি সবাইকে অস্তিত্বের অংশ বলে পূজা ও শ্রদ্ধা করবে।
জিনিষণ্ডলিকে অবধারিত বলে গণ্য না করলে তুমি যা পেয়েছ তাতে কৃতজ্ঞ থাকবে। যদি তুমি বসে বিশ্লেষণ কর, তবে দেখবে যে আমরা যা পাই নি সর্বদা সেগুলিকে ব্যগ্রহতে থাকি - তা সে আমাদের ওপরে যতই কুগা বর্ষণ হয়ে থাকুক না কেন। আমরা সুখী নই কারণ আমরা সেগুলি সম্বন্ধে ভাবছি যেগুলি এখনও আমাদের কাছে আসে নি!
কল্পনা কর, তোমাকে বলা হয়েছে যে বসো জিনিষ তোমার ওপরে বর্ষিত হয়েছে বলে মনে কর তার একটা তালিকা বা লিস্ট বানাও। তুমি তোমার চোখ থেকে শুরু করতে পার। আগেই বলছিলাম , তুমি কি জান যে কতজন মানুষ দুষ্টিশক্তির আশীর্বাদ পায় নি? তুমি কি কল্পনা করতে পারে যে একদিন সকালে উঠে যদি বোঝ তুমি অন্ধ হয়ে গেছ , তো কি হবে? তুমি বিছানা থেকে উঠে বাথরুম পর্যন্ত যেতে পারবে না। যে সমস্ত কাজগুলি তুমি এতদিন কৃতজ্ঞ না হয়ে করেছ, সেগুলি করার জন্য তখন অনেক প্ৰয়াস লাগবে।
যাই হোক, যদি তুমি একটা লিস্ট লেখা শুরু কর যে তোমাকে জীবনে কি কি দেওয়া হয়েছে, তা একটা লম্না লিস্ট হবে। সেই লিস্ট শেষ করার পর, আরেকটা লিস্টে লেখ যে তুমি কি ভাব যে তোমাকে কি কি দেওয়া হয় নি। সেটাও একটা লম্বা লিস্ট হবে...আসলে বিরাট লম্বা লিস্ট। সেই লিস্ট হয়ত একটা মার্সেডিস বেঞ্জ গাড়ি দিয়ে শুরু হবে এবং বেঞ্জ গাড়ির চেয়ে লম্না হয়ে শেষ হবে! দুটো লিস্টেরই শেষ নেই, আসলে দুটিই অসীম হবে, যদি তুমি একটা জিনিষও না ভুলে আন্তরিকভাবে লিখতে পার।
ঠিক আছে, এখন আমাদের সামনে দুটো লিস্ট আছে। এখন এটা আমাদের ওপরে নির্ভর করে যে আমরা কোন লিস্টের ওপরে ফোকাস করব। আমরা কি আমাদের ওপরে যে যে জিনিষ কুপা বর্ষণ করা হয়েছে তা দেখে আমাদের জীবন সুন্দর বানাব অথবা আমাদের যা পাইনি তা দেখব এবং আমাদের জীবন নীরস ও মৃতবৎ বানিয়ে ফেলব। এটা তো আমাদের পছন্দ!
া মানুষ সব কিছু অবধারিত বলে মনে করে সে দ্বিতীয় লিস্টটি লোভ ও অসন্তোষের সাথে দেখবে। যখন তুমি লোভী , তুমি কার্যালয় করেন অসন্তই অনুভব করবে, কারণ তোমার লোভের কোন শেষ নেই এবং তাই তোমার সন্তুষ্টি কখনও ঘটতে পারে না! যাই হোক, এই মানুষটি জীবনের আনন্দ পুরোপুরি হারিয়ে ফেলে যা প্রথম লিস্টে আছে।
সে জীবনে যাই পেয়ে থাকুক না কেন, তা ছোটই হোক আর বড়ই হোক, তার কাছে তা সাধারণ মনে হবে এবং সে কেবল পরের জিনিষটির জন্য অপেক্ষা করবে। আর পরের জিনিষ্ঠা পেলে, সেটাও তার কাছে সাধারণ লাগবে কারণ সে ইতিমধ্যে পরের জিনিষটার জন্য চিন্তা করছে!
তার প্রতিষ্ঠা করে পারেন করে সে দ্বিতীয় লিস্ট আছে বলে জানবেই না ! সে খুধুমাত্র প্রতিটি মানুষ প্রতিটি মহজে করেছে। এই প্রকল্প করে পারে পারে পারে পারে পারে পারে পারে পারে পারে जनवर करता क्राक्कार युवा समाज करना बना जना जन्म करना बना जनवर के मान के मान स करण को कारण कर राजका उ আনন্দপূর্ণ। তাকে দেখতে থাকলে কত আনন্দ হতে থাকে। সে নিজের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ অনন্য সৌন্দর্য ছড়াতে থাকে।
स्थूलाव मरममता का कारण कर को करण कर को का जिल्ला जिनियालय को कान का को कार्य का जाता है। जाति তোমাদের বলি, কেবল তোমার জিনিয়ারি বলে ধরে নেবার মনোভাবের জন্য তুমি ভাব যে তোমার জীবন নীরস হয়ে গেছে। তোমার ভাবনা অনুযায়ী জীবন নীরস নয়। প্রতিটি ছোট জিনিষই সুন্দর। তোমার মন হ'ল নীরস; তোমার মনই তোমাকে গভীরে যেতে দেয় না, তাই দেখতে পাও না যে অস্তিত্ব কত সুন্দরভাবে প্রবহমান হচ্ছে।
তোমার মন একটা মৃত নকশা বা প্যাটার্ন হয়ে গেছে যা কেবল বারবার বলে 'এরপর কি?'
যখন সব জিনিষকে এক বিষয়-ভরা মনোভাব নিয়ে দেখতে সমর্থ হও, তুমি কতজ্ঞতা ও পরিপর্ণতায় ভরে যাও কারণ তুমি সে সময় প্রশ্ন করছ না। তুমি তোমার মনকে একদম খেলতে দিচ্ছ না। তুমি সহজেই তোমার হৃদয়ের সাথে অনুরণিত হচ্ছ। এই সময়ে তমি শিশু হও এবং শিশু হলে কিছুই নীরস নয় : সবকিছুই বিস্ময়কর!
সবকিছুর দিকে কৃতজ্ঞতা ও বিশ্বয় সহকারে তাকাতে শেখ। তোমার শরীরকে উদাহরণস্বরূপ নাও। এই ছোট অনুশীলনটি এখন কর। বসো ও চোখ বোজ। প্রত্যক্ষবৎ স্মরণ করে তোমার ডান হাতের কনিষ্ঠ আঙ্গুলটি কোন ছোট দুর্ঘটনায় কেটে গেছে। কল্পনা কর যে তোমার কনিষ্ঠ আঙ্গলটি এখন আসল সাইজের কেবল তিন চতুর্থাংশ হয়ে গেছে। তোমার শরীরে আর কোন অঙ্গবেকল্য তোমার জানা নেই। তোমার শরীর একদম নিখুঁত। হঠাৎ শুধুমাত্র তোমার কনিষ্ঠ আঙ্গুল কেটে গেছে।
তোমার প্রতিক্রিয়া কি হবে? তোমার পক্ষে সেটা হজম করা বেশ শক্ত হবে। প্রতিটি সাধারণ কাজের জন্য, যেখানে তোমার হাত ব্যবহার করা হয়, সেখানে কনিষ্ঠ আঙ্গুলের ভূমিকা থাকে। তোমার কি অবস্থা হবে? তুমি হয়ত বিষাদগ্রস্ত হয়ে যাবে।
এখন খালি ভাব, এই পথিবীতে কত মানুষ বিকলাঙ্গ হয়ে আছে। কত মানুষের পাঁচটা আঙ্গলই নেই ! মাথা থেকে পা পর্যন্ত, কেবল একটি অঙ্গে বিকতি থাকলেও তুমি জীবনের কোন না কোন একটি দিক উপভোগ করতে পারবে না।
রোজ কয়েক মিনিট ঘরে একা বসে দেহের সমস্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলিকে প্রেমের সাথে স্পর্শ কর এবং তোমাকে জীবনে কত কিছু উপভোগ করাবার জন্য প্রত্যেকটিকে ধন্যবাদ দাও।
তুমি কি কখনও তোমার শরীর সম্পর্কে এইভাবে ভেবেছ? তুমি তোমার শরীরকে কত অবধারিত বলে গণ্য কর ! তোমার শরীরকে তুমি কত অনাদর কর। আমরা অনেকে আমাদের শরীরকে ঘণা করি, কারণ আমরা ভাবি যে এটা যথেষ্ট সুন্দর নয়। আমি বলি, তুমি যদি এই অভ্যাস রোজ কর এবং দেহের প্রতিটি অংশের জন্য প্রেম ও কৃতজ্ঞতা অনুভব কর , তুমি দেখবে যে তোমার সমস্ত শরীর ও মুখ এক নতুন উজ্জ্বলতায় দীপ্ত হবে।
তোমার শরীর তোমার মনকে সাড়া দেয়। কখনও তাকে অবহেলা কোরো না অথবা তাকে অবধারিত বলে ধরে নিও না। সব সত্ত্বেও, শুধুমাত্র তোমার শরীরের জন্যই তুমি কত কিছু উপভোগ করতে পারছ। এমনকি আজ এখানে আসার জন্য এবং এই কথা সহজভাবে শোনার জন্য তোমার দেহের সমস্ত অংশগুলিকে সুষ্ঠভাবে কাজ করা দরকার।