Books / Guaranteed Solutions For Lust Fear Worry... Bengali merged

58. যা তোমার কাছে ইতিমধ্যে আছে তার জন্য ধন্যবাদ দাও

# যা তোমার কাছে ইতিমধ্যে আছে তার জন্য ধন্যবাদ দাও

একটি লোক স্বপ্ন দেখল যে সে স্বর্গে গেছে এবং এক দেবদত তাকে স্বর্গ ঘুরিয়ে দেখাচ্ছে। সে দেবদুতের পাশে পাশে চলছিল।

প্রথমে তারা একটা বড় কাজের ঘরে প্রবেশ করল, সেখানে অনেক দেবদত ছিল। সেই ঘরে ব্যস্তাবে অনেক কাজ হচ্ছিল।

দেবদ্য-গাইড থেমে লোকটিকে বুঝিয়ে দিল, 'এটা হ'ল গ্রহণ বিভাগ (রিসিভিং সেকশন)। এখানে ভগবানের কাছে মানমের প্রার্থনার মাধ্যমে সমস্ত আবেদনগুলি গ্রহণ করা হয় ও তাদের গুছিয়ে ফেলা হয়।'

লোকটি চারিদিকে তাকাল। সে দেখতে পেল যে পুরো জায়গাটা ভীষণ ব্যস্ত এবং অনেক দেবদত বিভিন্ন রকম কাগজে লেখা বহু আবেদন বাছাই করে চলেছে - লম্বা কাগজ, টুকরা কাগজ ও কত কি। বিভিন্ন ভাষায় পথিবীর নানা জায়গা থেকে আসা ঐ আবেদনপত্রগুলি।

তারপর তারা দ্বিতীয় বিভাগের দিকে গেল ও সেখানে প্রবেশ করল।

এই বিভাগও অনেক ব্যস্ত, দেবদতে ভর্তি এবং সেখানে অসংখ্য পার্সেল ও কাগজ। গাইড দেবদ্ধত রাখা যায়। এটা भार्मन उ विजन विज्ञान विज्ञान समाव जनवर अनुश्य उ जानीर्वाद करवा भारियाद्य , स्थलिक शुरू वा नीत পথিবীতে বিতরণ করা হয়।'

তারা হেঁটে চলে ও লম্বা বারাদার শেষে একটা ছোট ঘরের দরজায় থামল। লোকটি অবাক হয়ে দেখে যে, সেখানে শুধুমাত্র একটি দেবদূত তার ডেস্কে অলসভাবে বসে আছে।

লোকটি গাইড দেবদ্যতকে জিজ্ঞাসা করে, 'এই বিভাগটি এত চুপচাপ কেন? এটা কোন বিভাগ!'

দেবদ্ধ বন্ধু শান্তভাবে উত্তর দিল, 'এটা আশীর্ষাদ-কীকতি বিভাগ। যারা আশীর্ষাদ পেয়ে স্বীকারোক্তি পাঠায়, সেগুলিকে এখানে গুছিয়ে রাখার কথা।'

আমরা সবাই চাই আর চাই, কিন্তু আমাদের মধ্যে কয়জন আমরা যা পেয়েছি তার জন্য ধন্যবাদ দিই? আমরা কয়জন কতজ্ঞতাকে প্রার্থনায় আমাদের চাওয়ার সাথে অন্তর্ভুক্ত করি ?

একা একা থাকলে এই ছোট অনুশীলনটি কর :

দুই ঘন্টা ধরে, তোমার উদ্বেগ ও চাহিদাগুলিকে সরিয়ে রাখ এবং যে অস্তিত্ব তোমাকে সব দিয়েছে তার দিকে নিবন্ধ হও। তুমি সঙ্গে সঙ্গে ভাববে, 'যদি আমি আমার চাহিদা সম্মন্ধে চিন্তা না করি, তাহলে আমি তা কিভাবে পরণ করব? আমার পরিবারকে কে দেখবে? আমার ব্যবসার কি হবে? মানলাম, তোমাকে এসব জিনিষ সম্বন্ধে ভাবতে হবে। কিন্তু মাত্র দ্বুই স্ন্যার জন্য, এই সমস্ত ভার তোমার মাথা থেকে সরিয়ে রাখ ও আমি যা বলছি তা কর।

যে করেই হোক, তুমি কি ভাব যে তোমার পরিবার অথবা তোমার ব্যবসা তোমার জন্য চলছে ? আমি তোমাদের বলি, জিনিষগুলি

আমাদের জন্য ঠিকঠাক চলছে তা নয়, কিন্তু আমরা থাকা সত্তেও সেগুলি ঠিকঠাক চলছে। যদি অস্তিতকে আমাদের পরিবার ও ধনসম্পদ রক্ষণাবেক্সণের জন্য আমাদের বদ্ধির করতে হ'ত, আমরা সবাই এতদিনে নিঃস্থ হয়ে যেতাম। আর পরিষ্কার করে বোঝ : কেবল দুশ্চিন্তা করে কিছুই পাওয়া যায় না। আমরা তো দুশ্চিন্তা সম্পর্কে আগে যথেষ্ট আলোচনা করেছি।

তাই কিছু মিনিটের জন্য তোমার চোখ বন্ধ কর এবং তোমার ওপরে যা কপা বর্ষণ করা হয়েছে, তোমার ইতিমধ্যে যা আছে, তাতে নির্দ্ধ হও। মানসিকভাবে সব কিছুর মধ্য দিয়ে চল - তোমার সম্পদ, যে সব লোকেরা তোমায় সহায়তা ও সাহায্য করে, তোমার বাড়ী, তোমার বিলাস-সামগ্রীগুলি, তোমার অবকাশ যাপনগুলি, সবকিছু। এই সবগুলিকে আরাম করে ও কতজ্ঞ হয়ে উপভোগ কর। যতক্ষণ সময় লাগে লাগুক।

তাড়াহুড়ো কোরো না এবং ব্যতিব্যস্ত হয়ে সেগুলির মধ্য দিয়ে যেও না। সেগুলির পুরোটাই তোমার মনের মধ্যে অতিযাহিত কর। সেই ভাব নিয়ে থাক। সেই পরিপর্শতার সন্দর ভাব নিয়ে কিছুক্ষণ থাকা ভাব যে তমি কতজ্ঞতায় ভরপর হয়ে যাচ্ছ এবং তাতে উথলে পড়ছ। এখন তুমি চোখ খোলার পর দেখবে যে তোমার কাছে যা তামার জীবন নির্বাহের জন্য প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশী! - এবং তুমি অবাক হবে যে তোমার আরও কত চাই !

কতজ্ঞতা হয়ে যাও ও উপভোগ কর!

তোমাকে শুধুমাত্র কতজ্ঞতা হয়ে যেতে হবে। কতজ্ঞতা হবার জন্য সবচেয়ে ভাল উপায় হ'ল কোন কারণ ছাড়াই উপভোগ করা। অস্তিত্ব যত্ন নিচ্ছে বলে পূর্ণ বিশ্বাস রেখে যা কিছু শোন এবং যা কিছু কর, তা উপভোগ কর। জীবন তখন সহজেই তোমার চোখের সামনে রূপান্তরিত হয়ে যাবে এবং তুমি সর্বদা উচ্ছুসিত থাকবে কারণ তুমি সর্বদাই জীবনকে উপভোগ করছ।

একটা ছোট গল্প :

একটি লোক আমবাগানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। সেই আমবাগান নানা প্রকার আমে ভর্তি। সে বাগানে প্রবেশ করল, চারিদিকে দেখল, পর্যবেক্ষণ করল, কিছু পরিসংখ্যান নিল ও আধা ঘন্টা পরে নানা তথ্য ও পরিসংখ্যান নিয়ে চলে গেল।

কিছুক্ষণ পরে আরও একজন লোক একই বাগানে এল। সে কিছু আম পাড়ল, তাদের আনন্দ সহকারে খেল এবং চলে গেল!

এখন আবার তোমরা অন্য আমরাগানের আম খেতে যেয়ো না। তোমাকে হয়ত কেউ পাথর মারতে পারে! আমি কি বলতে চাইছি তা বোঝার চেষ্টা করা প্রশ্ন না করে জীবনকে কেবল উপভোগ করতে শেখ, যদিও আমি বলছি না যে তোমার সব কাজ ফেলে দিয়ে তুমি সবসময়ে কেবল উপভোগ কর।

কোন সন্দেহ নেই যে তোমাকে কাজ করতে হবে। তুমি শুধু উপভোগ করতে থাকলে কেউ তোমাকে সবকিছু দিতে থাকবে না। আমি কেবল বলছি, উপভোগ করার জন্য কারণ খুজতে যেও না, ব্যাস। বিনাপশ্লে সবকিছু কেবল উপভোগ করা তোমার স্বভাব হোক, তখন কৃতজ্ঞতা তোমার সত্তা হয়ে যাবে।

তোমার পেশা, তোমার সামাজিক প্রতিষ্ঠা ও তোমার আর্থিক অবস্থা যাই হোক না কেন, এসব নির্বিশেষে যে কোন মানুষের উপভোগ করার সামর্থ্য আছে।

সমস্যা হল তুমি সর্বদা ভাব যে সবকিছুর জন্য একটা নিমিত বা হেতু থাকা প্রয়োজন, এমনকি আনন্দের জন্যও। তুমি তোমার মনকে এই প্রকার চিন্তার নকশা দ্বারা প্রয়েছ। এই কারণে তুমি পায়ই ভাব যে অন্যরা যোগ্যতার চেয়ে বেশী জিনিষ আশীর্বাদে পেয়ে গেছে, আর তোমাকে তোমার উদ্যমের জন্য যথেষ্ট প্রাপ্য দেওয়া হয় নি।

তুমি সর্বদাই ভাব যে উপভোগ করার জন্য তোমায় খুব পরিশ্রম করতে হবে। না! পরিশ্রম করা ঠিক আছে, কিন্তু তার সাথে উপভোগ করার সামর্থ্যের কোন সম্পর্ক নেই। এই ধারণাটা মুছে ফেল। একমাত্র এই পথেই তুমি অভিযোগ করা অথবা অসন্তুষ্ট হওয়া বন্ধ করবে।

অস্তিত্ব কপা বর্ষণ করে। যদি তা উপভোগ করতে পছন্দ কর, তুমি তা করবে। এটা একদম তোমারই পছন্দ। তুমি ভুল পছন্দ কর এবং তারপর অভিযোগ কর ও অন্য কাউকে দোষ দাও। মনে রেখা তোমার সাথে ঘটা ঘটনার জন্য অন্য কেউ দায়ী নয়। সবকিছুই এক সজ্জান পছন্দ যা তুমি অচেতনভাবে কর। তোমার সজাগতার অভাবের জন্য তুমি অচেতন ও বৈচিত্রহীন নির্ণয় নাও এবং জীবন সম্পর্কে অভিযোগ কর।

সবসময়ে মনে রেখ যে স্বর্গ ও নরক বহির্জগতে ভৌগলিক অবস্থান নয়। তুমিই তাদের নিজের ভিতরে সুষ্টি কর। যেই মুহূর্তে অস্থিতের ওপরে আস্থা হারাও, তমি নিজেকে তার বিরোধী করিয়ে দাও এবং যেখানেই যাও নিজের সাথে নরক বহন কর।

একবার এক শিক্ষক তার ছাত্রদের জিজ্ঞাসা করে, 'কেউ আমায় বলতে পার কি নরক কোথায়?' এক লম্বা নীরবতার পরে একটি ছাত্রী উঠে দাঁড়ায় ও উত্তর দেয়, 'আমার বাবার পড়ার ঘরে।' শিক্ষক বিস্তিত হ'ল ও তাকে প্রশ্ন করল যে সে এরকম কেন বলল। শিশুটি উত্তর দিল, 'প্রতিবার বাবার পড়ার ঘরে গেলে, বাবা চিৎকার করে বলে যে এখান থেকে নরক বার করে দাও (get the hell out of here)!'

কতজ্ঞতা সহকারে থাক, তাহলেই যথেষ্ট

বাচ্চাদের ছেলেবেলা থেকেই স্বর্গ ও নারী বলে ভাবতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তাদের শেখানো হয় যে ভগবান ওপরে কোথাও বসে আছেন - একটা মস্তবড সিংহাসনে এবং তিনি আমাদের প্রতিটি চলাফেরা লক্ষ্য করছেন এবং আমাদের পাপ ও পুণ্য লিখে রাখছেন।

এইরকম ভেবে আমরা আমাদের সমস্ত কাজেই কার্যকারণ চক্র কেলি। আমরা ভাল কাজের সাথে স্বর্গের ও খারাপ কাজের সাথে নরককে সংযুক্ত করি। আমরা মনে করতে শুরু করি যে ভগবান বা সম্পর্ণ অস্তিত্ব যেন এক লেনদেন - কেন্দ্র। আমাদের প্রকৃত পেশা নির্বিশেষে আমরা সবাই নিজের মত করে একেকজন ব্যবসায়ী হয়ে যাই !

মন্দিরে গেলে তুমি কি কর? তুমি ফুল, নারকেল ও ফল করা এবং পরিবারের নামে ঠাকুরকে অর্থ্য ও দৈবেদ্য দাও। তুমি তোমার ও পরিবারের সবার নাম, জন্ম নক্ষত্র, রাশি ইত্যাদি বল এবং আচারান্তুষ্ঠান সম্পন্ন কর।

বেচারা পুজারী একটা পাত্র তার হাতে ধরবে এবং তুমি তাকে তোমার পরিবারের প্রত্যেকের নাম ও অন্যান্য তথ্যের লম্বা লিস্ট বলতে থাকবে। ভগবান ভুল মানুষকে বা ভুল বাড়ীতে আশীর্ষাদ পাঠাবে ভেবে তুমি এত ভীত। তুমি তাঁকে সঠিক ভৌগলিক অবস্থান ইত্যাদি বল এবং তাঁকে জোর দিয়ে বল যে পজা দিতে তুমিই তাঁর কাছে এসেছ, অন্য কেউ নয়। এসব করার পর তুমি মন্দির থেকে চলে যাও। আমি ঠিক বলছি কি?

এসব না বললে ভগবান যেন তোমায় চিনতে পারে না! যেন তোমার বিদ্যমানতা তাঁকে মনে করিয়ে দিতে হবে, আর তারপর ভগবান যেন তোমার ওপরে কপা বর্ষণ করে।

তোমাকে শুধুমাত্র তাঁর জন্য কতজ্ঞতা অনুভব করতে হবে, ব্যাস। তিনি তো সর্বদাই তোমার ওপরে কপা বর্ষণ করছেন।

এমন নয় যে ভগবান তোমাকে সমস্যায় দেখে তা থেকে তোমাকে বের করে করে নিয়ে আসার নির্ণয় নেন। অথবা এরকমও নয় যে তিনি তোমাকে ঠিকঠাক দেখলে তোমায় উপেক্ষা করেন। এগুলি সবই ভগবান সম্বন্ধে আমাদের অভিক্ষিপ্ত ধারণা। এগুলি সবই সমাজ আমাদের ছেলেবেলা থেকে শিখিয়েছে।

মন্দিরে শুধুমাত্র কৃতজ্ঞতার ভাবনা নিয়ে প্রতিটি ঠাকুরের সামনে কয়েক মিনিট পভীর ধন্যবাদপূর্ণতা সহকারে দাঁড়াও এবং সেই একই খেয়ালে মন্দির ছেড়ে যাও। তাহলেই যথেষ্ট। বাকীটার যত্ন আপনা আপনি হবে। এটাই পরম প্রার্থনা। কৃতজ্ঞতাই পরম অর্ধ্য।

আমি যা বলছি তা কার্যকরভাবে অভিজ্ঞতা করার জন্য এখানে থাকার কয়দিনকে ঠিকভাবে প্রয়োগ কর। বহিরে থাকার এই কয়দিন কতজ্ঞতাকে শিকড় গাড়তে দাও। উন্মুক্ত হও ও নিজেকে প্রকুটিত হতে দাও। এটা তোমার জন্য এক দুর্লভ সুযোগ। এটা তোমার রূপান্তরিত হবার এক সুযোগ। এটা মিস কোরো না। তোমার ভিতরে সেই নতুন অন্তর্জগৎ সঙ্গি করে, এখান থেকে চলে যাবার পর যেটাকে তুমি সাথে করে নিয়ে যেতে পারবে।

কৃতজ্ঞতা হৃদয় থেকে হয়

Section 2

সমস্যা হল, আমরা সর্বদাই আমাদের মস্তিষ্ক দাবার জন্য চেষ্টা করছি। ঈশ্বরকে মস্তিষ্ক দিয়ে কখনও পাওয়া যায় না। यदि कूलि मर्शक राशादक मनिष्ठ बाथ, कूल सर्व काज कवर बन र लूनि जानिकान कबर रा जाता क ঈশ্বরের কাছে যেতে হবে না, ঈশ্বর তো তোমার ভিতরেই আছে!

তোমার মস্তিষ্ণ দ্বারা তুমি সর্বদাই বাইরে অন্ধেশ করবে এবং তুমি কখনও ভগবানকে বাইরে পাবে না। আবার, তুমি কৃতজ্ঞ হবার

জন্যও কারণ খুঁজবে। মস্তিষ্ণ থেকে হলে তোমার জন্য সম্পর্ণ নতুন স্থান খুলে যায় এবং তুমি উপলব্ধি কর যে তুমি তো আগেই জানতে। কেবল তোমার মন ভিতরে গণ্ডগোল পাকাচ্ছিল ও তোমাকে উপলব্ধি করতে দিচ্ছিল না।

যখন তুমি হৃদয় থেকে ক্রিয়াশীল হও, তুমি সর্বদাই কৃতজ্ঞ থাকেবে। আমরা কি কখনও 'মঙ্কিন্দ্রন্থ করে পারে। এই প্রায় করে পারে পারে পারে পারে পারে পারে। সামগ্রী প্রতিষ্ঠান পার্টি ক আমরা সর্বদা বলি 'হৃদয়-অনুভূত কৃতজ্ঞতা।' তাই নয় কি?

এরপর তোমরা জিজ্ঞাসা করবে, 'আমরা মস্তিষ্ক থেকে হৃদয়ে কিভাবে যাই, স্বামীজী!' কেবল তোমার মস্তিষ্ক সম্পর্কে সজাগ হও. সেটাই যথেষ্ট! যেহেতু তুমি তোমার মস্তিষ্ক সম্বন্ধে সজাগ নও, তুমি তাকে নির্বিয়ে কাজ করতে দাও, যন্ত্রের মত কাজ করতে দাও। একবার নিজের মস্তিষ্ক সম্বন্ধে সজাগ হলে তুমি তাকে সরিয়ে রাখতে সমর্থ্য হবে।

কৃতজ্ঞতা কোন গুণ নয়। তাকে তোমার মনোভাব হতে হবে। যখন কেবল কৃতজ্ঞতা অনুভব কর , সুন্দরভাবে অস্তিত্বের সুরের সাথে সুর মেলাতে পার, তখন অস্তিত্ব তার ঐন্তজালিক ঐশ্বয তোমার কাছে প্রকাশ করবে। তখন তোমার কাজ কেবল বসে থাকা ও উপভোগ করা!

সুর মেলানো বলতে কি বোঝাচ্ছি তা ব্যাখ্যা করি। আমরা সবাই জানি রেডিও কিভাবে কাজ করে। একই রেডিওকে তার ভৌতিক আকার পরিবর্তন না করে বিভিন্ন রেডিও স্টেশনের নানা প্রোগ্রামের সাথে সংযোগ করা যায়, তাই নয় কি? যখন তুমি একটি স্টেশনের কোন অনুষ্ঠান শুনছ, যদি তখন কোন গোলযোগ হয় বা অন্য স্টেশনের কথা শোনা যায়, তুমি কি কর? তুমি তাকে ফাইন টিউন (fine tune) কর। এখন ঠিক একই ধারণা অস্তিত্বের সাথে সুর মেলানোর জন্য প্রয়োগ কর।

আমাদের চারপাশে হাজার হাজার অনুষ্ঠান হচ্ছে। নিজেদের যেদিকে টিউন করব, তাই আমরা উপলব্ধি করব। এখন কোন অনুষ্ঠানের সাথে টিউন করব, তা একদমই নিজের পছন্দ। ইচ্ছামত যে কোন অনুষ্ঠান বাছাই করার স্বাধীনতা তোমার আছে, ঠিক? একইভাবে তুমি যদি অসন্তোষের সাথে বা একই প্রকার নকারগুল জিনিয়ের সাথে টিউন করা পছন্দ করে, তাহলে তুমি দুশ্চিন্তা, অসন্তুষ্টি, উভয়-সঙ্কট ইত্যাদির শেষ না হওয়া ঘূর্ণাবর্তে জড়িয়ে পড়বে। অন্যদিকে তুমি ফেন্সের সাথে নিজেকে টিউন করা পছন্দ কর, তাহলে তুমি চারপাশের বিশ্বাসা সংযোগ ঠিক রশিটি ধরতে পারবে এবং তুমি এই সকল वार्वन (शटक सूक रत्व। जूमि वक मून्न मूनक्कि कूल रूप कूटणे सेठेवा।

নিজেকে অস্তিতের সাথে যত বেশী ফাইন-টিউন করবে, জীবন ততই পরমানন্দদায়ক হয়ে উঠবে।

অসন্তোষ তোমাকে নীচে নামিয়ে আনবে, তোমাকে ভারী ও দুর্দশাগ্রস্ত করবে। অন্যদিকে কৃতজ্ঞতা তোমাকে লঘু ও আনন্দময় করবে।

কারণবিনা কৃতজ্ঞতা অনুভব কর

একটা ছোট গল্প :

এক খ্রীস্টান বাড়ীতে একটি মেয়ে তার মায়ের সাথে নৈশভোজনে বসেছিল। টেবিলে খাবার দেওয়া হল এবং সে ধন্যবাদের কথা না বলেই খেতে শুরু করল। তার মা অবাক হয়ে গেল এবং জিজ্ঞাসা করল যে সে এরকম কেন করল। মেয়েটি চট্টপট উত্তর দিল, 'এই প্লেন্টে এমন কিছু নেই যেটাকে আমি আগে অন্তত একবার ধন্যবাদ জানাই নি।

আমরা শুধুমাত্র একটা সুদৃঢ় কারণের জন্য কৃতজ্ঞ অনুভব করতে জানি।

আরেকটা গল্প :

একটি ছোট মেয়ে তার মাঝে প্রশ্ন করল, 'মা, ক্রিসমাসের আর কদিন বাকী?' মা জিজ্ঞাসা করল, 'সেটা কেন জানতে চাও?' মেয়েটি উত্তর দিল, 'আমার জানার কৌতূহল হচ্ছে যে এখন আমায় ভাল মেয়ে হতে হবে কিনা।'

এভাবে আমরা বাচ্চাদের চিন্তা করতে শিক্ষা দিই। আমরা তাদের কিভাবে লেনদেন করতে হয় তা শেখাই। আমরা তাদের শেখাই যে সবকিছু লেনদেন ছাড়া কিছুই নয়। আমরা তাদের স্বতঃস্ফূর্ত ও প্রবহমান হতে শেখাই না। আমরা তাদের উদ্দেশ্য বিনা জীবনযাপন করতে শিক্ষা দিই না। আমরা তাদের জন্য সবকিছুই লক্ষ্য -ভিত্তিক করে ফেলি।

ছোটদের ওপরে এভাবে নানা কিছু করা হয়েছে বলে, প্রথমে তোমাদের পরিশ্রম করে তাদের পর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে।

পরিষ্কার করে বোঝ যে আমি তোমাদের সাথে যা কিছু করছি তা কেবল তোমাদের পর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য। আমি অবিশ্রাম তোমাদের আলগা করছি বা পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে আসছি। কল্পনা কর, তোমাদের ওপরে কত কিছু করা হয়েছে। প্রজন্ম ধরে লোকেরা তোমার ওপরে তাদের ধারণা চাপিয়ে এসেছে। আমাকে প্রথমে সেখুলিকে আলগা করে তোমাদের বন্ধন মন্তব্য হবে এবং তারপর তোমার ভিতরে তোমার প্রস্ফুটনের জন্য এক স্থান সঙ্টি করতে হবে।

यथन जासि लाकित्व कारणव कित्तन विद्यांस कृष्ण्डवादास जनून कबराज बनि , जाना भाव बल भारताय बल, भारताबी, আজকাল আমি গাড়ির ড্রাইভারদের ও বাড়ির চাকরদের ধন্যবাদ বলি।' স্পষ্ট করে বোঝা : কৃতজ্ঞতা তোমার সত্যা হলে এইসব কথা কখনও রিপোর্টি করবে না।

যখন তুমি কোন নিকটজনের মৃত্যুর জন্য শোক কর, তুমি কি তোমার শোক ব্যক্ত কর? তুমি কি তোমার শোক ব্যক্ত করতে পারবে? না! সেটা তোমার এক গভীর আবেগ এবং তা তোমার এক অবস্থা হয়ে যায়। তুমি তাকে অনুভব করতে পার : তুমি তা কখনও রিপোর্ট করতে পার না।

একইভাবে কতজ্ঞতা যখন তোমার সত্য বা অবস্থা হয়ে যায়, তুমি তাকে রিপোর্ট করবে না। তুমি তাকে কখনো রিপোর্ট করতেও পারবে না। অবশ্যই ধন্যবাদ বলা সামাজিক কারণে ঠিক আছে কারণ তুমি তা প্রকাশ না করলে, তা অন্য লোকের কানে ঢোকে না।

কিন্ত আমি এখানে তোমাদের বলার চেষ্টা করছি যে তোমাকে মনের কৃতজ্ঞতা থেকে সত্তার কৃতজ্ঞতায় চলে যেতে হবে। আমরা যে কতজ্ঞতার কথা আলোচনা করছি, তুমি তাকে কখনও প্রকাশ করতে পারবে না কারণ তা অনেক গভীরে আছে।

আসল কৃতজ্ঞতা অনেক গভীরে থাকে

লোকেরা প্রায় আমায় বলে, 'স্বামীজী, আমরা আপনার ওপরে কত কৃতজ্ঞ যে আপনার সাহচর্যে আসার পরে আমাদের জীবনে কত কিছু ঘটেছে।'

সামাজিক শিষ্টাচারের খাতিরে তুমি হয়ত কোন মানুষকে কোন জিনিষের জন্য ধন্যবাদ দিতে পার, কিন্তু কতজ্ঞতা একটা এমন জিনিষ্ণ নয় যা তুমি কাউকে দিতে পারে। তাই কোন মানুষের কাছ থেকে কিছু পেয়েছ বলে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা অনুভব কর, সেটা শুধুমাত্র মনের কতজ্ঞতা। সেটা কতজ্ঞতার একদম শিশুপাঠের পর্যায়।

প্রকৃত কৃতজ্ঞতা হল তোমার ভিতরে এক গভীর উচ্ছুলিত অনুভূতি, যা কোন লাভের ফলে নয়, কিন্তু বিদ্যমান থাকার ভাবের জন্য, অস্তিত্ব নামক করুণাময় জীবনীশক্তি সম্পন্ন তোমার ভাবের জন্য। ব্যাস। এই কতজ্ঞতার কোন সম্মেলন হয় না : এটা কোন মানুষ বা জিনিয়ের ওপরে নির্ভর করে না: এটা কোন আবেগ যেমন, কোখ, হিংসা বা ভালবাসা, এদের বশবর্তী নয়। এটা শুধু 'আছে', ব্যাস।

তোমার আমিত্বের জন্য শব্দ দ্বারা তোমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর এবং তুমি চাও না যে লোকেরা তোমাকে অভদ্র ভাবুক। কিন্তু যেই মুহূর্তে তুমি তা প্রকাশ কর, তুমি কৃতজ্ঞতাকে ছোট করে ফেল অথবা মিথ্যা বর্ণনা কর।

আসলে তোমার শরীরের ভাষাই তোমার কৃতজ্ঞতার অবস্থা জানাতে পারে। তোমার চোখ তা জানাতে পারে; তোমার হাসি তা জানাতে পারে; তোমার উষ্ণতা তোমার কথার চেয়ে তা ভাল জানাতে পারে। কতজ্ঞতার অশ্রু সবকিছুর চেয়ে ভাল করে বোঝাতে পারে। যখন তুমি অভিভূত, যখন তুমি পরিপূর্ণ, অশ্রু প্লাবিত হবে।

আমি তোমাদের কাঁদতে বলছি না! আমি কেবল বলছি যে যখন তুমি অভিভূত হও, তোমার শরীর সেটা দেখাবে, তুমি তা লুকাতে পারবে না এবং সেটাই তোমার কৃতজ্ঞ অবস্থার আসল লক্ষণ।

আর মনে রেখা এই অশ্রুর কোন জাত, মত বা ধর্মবিশ্বাস নেই। তাদের বলা যায় না যে এটা হিন্দু আশ্রু বা ওটা মুসলমান অঞ্চ : এই অশ্রুর কোন ধর্ম নেই। এই অশ্রু সত্তায় থাকে এবং সত্তা এগুলির অনেক উর্ধে। কৃতজ্ঞতা মনু ম্যসৃষ্ট সমস্ত বাধা ও নিয়ন্ত্রণ মুছে ফেলতে পারে; সেইজন্য কতজ্ঞতা পরম প্রার্থনা।

কোন গভীর জিনিষই সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করা যায় না। কবিরা তাকে প্রকাশ করতে পদ্য লিখতে পারে, চিত্রকর তাকে প্রকাশ করতে চিত্র বানাতে পারে, লেখক তাকে জন্য লিখতে পারে, কিন্তু একটা ভাগ থেকে যাবে যাবে যাবে যাবে যাবে কখনও এসবের দ্বারা প্রকাশ করতে পারবে না। অস্তিত্বক কখনও সাধারণ জিনিম দ্বারা প্রকাশ করা যায় না। তাই এটা এত নিগ্যু ও আকর্ষণীয়। তাই তা শব্দাতীত, কিন্তু রোমাঞ্চকর! তাই তা অনুভূত, কিন্তু অপ্রকাশিত। তাই তোমরা এখানে বারবার আস!

। ।

। সতামারক আ াত ত্মিরয় তািা সতামারক অনয এক

। তা এত ত্মবশ্রী হয় সে সেিারন আিিণ কিা োয় অেম্ভব হরয় পরড়। সকন

যদি তুমি পরিতপ্তির সাথে কাজ করে থাক, তাহলে তো শত্রুতা বাড়ার কোন স্থানই তুমি দেখতে পাও নি। সেটা তোমার জন্য একটা অজানা ভাষা হবে। এমনকি অন্য মানুষটি শত্রুতা চালিয়ে যেতে চাইলেও, তুমি তার প্রতি যুগা অনুভব করবে না। যদি সে সম্বন্ধতা শেষ করে দিতে চায়, তুমি তা কতজ্ঞ হয়েই শেষ করবে!

কত পরিবারে লোকেদের চোখাচোখি হয় না অথবা তারা একে অপরকে প্রকাশ্য জায়গায় এড়িয়ে যাবার জন্য অনেক কষ্ট করে। এইসব অনর্থক ব্যাপার কেন? কেন তুমি এইসব ব্যাপারে শক্তি অপচয় করছ? কখনও যুণাকে তোমায় গ্রাস করতে দিও না। তার দিকে গভীর সজাগতা ও বুদ্ধি সহ তাকাও। ঘণা অদশ্য হবে, শুধুমাত্র প্রেম ও কতজ্ঞতা পড়ে থাকবে।

প্রশ্ন : আজকাল আমি আপনার প্রতি কেবল কতজ্ঞতা অনুভব করি, আমি আপনার কাছ থেকে কিছুই চাই না। কিন্তু অদ্ভুতভাবে আমি চাই আপনি আমার নাম মনে রাখবেন এবং আমাকে সেই নামে মাঝে ডাকবেন! স্বামীজী, এটা কি আমার একপ্রকার অসন্তুষ্টি বা বাসনা?

Section 3

তুমি একটা সুন্দর জিনিম বলেছ। এটা বোঝাচ্ছে যে তুমি নিজেকে পভীরভাবে বিশ্লেষণ করেছে। দ্যাখ : তুমি যখন ঈশ্বা ও অসন্তপ্টি সহকারে মন থেকে যত্ন চাও, তা এক অস্বাস্থ্যকর ব্যাপার। কিন্তু যখন তুমি প্রেম ও কতজ্ঞতা সহকারে চাও , তা বাসনা নয়; সেটা আমার জন্য তোমার গভীর প্রেম, ব্যাস।

যখন তুমি বাসনা সহকারে প্রার্থনা কর, সেটা পুরোপুরি অক্তজ্ঞতা ও আমিতের খেলা। কিন্তু যখন তুমি গভীর প্রেম থেকে চাও, তা এক কতজ্ঞতা ও ভক্তিপর্ণ প্রার্থনা হয়ে যায়। তাদের মধ্যে পার্থক্য আছে।

তুমি সজাগ আছ. তাই এটাকে অসন্তুষ্টি বা বাসনা বলা যায় না। সময়ের সাথে তোমার থেকে এটাও মুছে যাবে। আর একটা জিনিষ : এই প্রশ্ন করার সাহস তোমার হয়েছে! আমি জানি আরও অনেকেরই এই ভাবনা গোপনভাবে আছে, কিন্তু তারা তা মুখে প্রকাশ করে নি! তারা হয়ত নিজেদের সাতনা দিয়েছে এই বলে, 'নামে কি আছে,' অথবা তারা হয়ত বলতে লজ্জা পায়! অবশই নামে কিছু নেই। কিন্তু তোমাকে তার উর্ধে যেতে হবে অভিজ্ঞতামূলক জ্ঞান দ্বারা নিজেকে বিভ্রান্ত করে নয়। তুমি এই প্রশ্ন করেছ মানে তুমি সাহসের সাথে এর মধ্য দিয়ে যেতে চাও।

কতজ্ঞতা ও মাস্টার

লোকেরা আমায় জিজ্ঞাসা করে, 'সামীজী, আপনার জন্য কতজ্ঞতা দেখানোর জন্য আমরা কি করতে পারি?'

আমি তাদের বলি, 'আমার জন্য সবচেয়ে ভাল যেটা তুমি করতে পার তা হ'ল, প্রস্কুটিত হও!' আমার জন্য সেটাই সবচেয়ে ভাল কাজ তুমি করতে পার এবং সেটাই সবচেয়ে ভাল যা আমি তোমার জন্য করতে পারে। এটা বোঝা যখন তুমি এই কথাগুলি আত্মভূত কর ও কতজ্ঞতাকে তোমার সত্তা বানাও, তুমি আমার জন্য অনেক কিছু করে ফেলেছ।

কিন্তু যদি ভাব যে তোমাকে পরিবর্তে কিছু করতে হবে, সমাজসেবা কর; অন্যদের সাহায্য কর। তুমি যে আনন্দ আবিষ্কার করেছ তা অন্যদের মধ্যে জাগ্রত করার জন্য তাদের সহায়তা কর। সেটা তোমার অহংভাব বা শ্রেষ্ঠমন্যতা থেকে কোরো না। তা শেয়ার করার প্রেম থেকে কর, শেয়ার করার আনন্দ থেকে কর। তাতে তোমার সম্পূর্ণ শক্তি প্রদান কর এবং তা আনন্দে কর। সেটা তোমার জন্য হবে এক আনন্দপূর্ণ ধ্যান ও তাদের জন্য হবে এক জাগরণ।

প্রতিবার যখন তুমি গভীর কতজ্ঞতা অনুভব কর, তুমি আসলে ধ্যানে আছে। তাই কল্পনা কর, যদি তুমি নিত্য কৃতজ্ঞতা সহকারে থাক, তবে তুমি সর্বদাই ধ্যানে থাকবে।

কতজ্ঞতা কখনও শেখানো যায় না। অবশ্যই ছোটদের জানাবার জন্য তাদের ছেলেবেলাতে কতজ্ঞতা বিষয়ে বলা যায়। কিন্তু তা এক সামাজিক নিয়ন্ত্রণ হয়ে দাঁড়ায়; যেভাবে তোমাকে অথবা স্কুলে শিক্ষকদের সুপ্রভাত বলে শিষ্টাচার করতে শেখানো হয়। এটা মনের কেবল এক যান্ত্রিক প্রয়োগ, তোমার অন্তরের আসল ভাবনা নয়।

এমনকি পরিষ্কার করে বোঝা : আমি তোমাদের কৃতজ্ঞ হতে শিক্ষা দিচ্ছি না। আমি কেবল তোমার ভিতরে এক অন্তর্দেশ সঙ্টি করার চেষ্টা করছি যেখানে আমি যা বলছি তুমি তা অনুভব করবে, যেখানে সেটা তোমার নিজের অভিজ্ঞতা হবে। আমার কথার শক্তি সেই অন্তর্দেশ সৃষ্টি করতে সক্ষম।

তোমাকে যখন স্বাধীনতা দেওয়া হয়, তুমি আরও ভাল ব্যক্তি হও এবং তুমি উন্মুক্ত হতে প্রস্তুত হও। যখন তুমি মানসিক গোলামির প্রভাবে আছ, তোমার পক্ষে অন্তর্জণ করা এবং অন্তর্দেশ খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে যায়।

আমি সবসময়ে লোকেদের বলি যে আমি এক মুক্তিপ্রদানকারী গুরু ! মানুষের সাথে কাজ করার সময় আমি তাদের সুপ্রচুর স্বাধীনতা দিই। কেবল তখন তাদের পক্ষে অন্বেষণ করা ও বিকশিত হওয়া সহজ হয়।

অবশ্যই আমি বলছি না যে বাবামায়েরা সম্পর্ণ স্বাধীনতা দেবে ও হস্তক্ষেপ না করে তাদের দেখতে থাকবে। আমি শুধু বলতে চাইছি যে মানসিক গোলামি পরিহার করতে হবে। বাচ্চাদের বিকশিত হবার জন্য পরিবেশ সঙ্গি করে। দরকারি সাবধানতা নাও, তাতে কোন সন্দেহ নেই; কিন্তু তাদের জোর করে না ভক্ষণ করিয়ে, তাদের নিজে থেকে সত্যকে অভিজ্ঞতা করতে দাও। তাদের বিকশিত হবার জন্য ও অন্তরের আনন্দকে অভিজ্ঞতা করার জন্য যথেষ্ট জায়গা দাও।

কখন কখন লোকেরা আমায় জিজ্ঞাসা করে, 'স্বামীজী, আপনি সবসময়ে এত আনন্দে কিভাবে আছেন?'

কৃতজ্ঞতার গভীর অবস্থার জন্য মাস্টারেরা সর্বদাই এক পরমানন্দ অবস্থায় থাকেন এবং কৃতজ্ঞতা তাদের মধ্যে সর্বদাই টগ্রগ্ করছে; কারণ তাঁরা সর্বদা অস্তিতের সাথে যোগাযোগে থাকেন!

যখন তুমি আমার প্রতি বা অন্য কারো প্রতি কৃতজ্ঞতা অনুভব কর, তুমি পুরো ব্যাপারটা হারিয়ে ফেল। কৃতজ্ঞতা কোন রশিমিছটা নয় যেটা কোন সঠিক মানুষের দিকে নির্দেশিত হয়। সেটা তো এক সৌরভ বা সৌগন্ধ৷ তুমি যখন সেটাকে সাথে নাও, তা সহজেই তোমার থেকে ছড়াতে থাকবে। সেইজন্য মাস্টারকে সর্বদা এত আনন্দময় বলে বোধ হয়। মাস্টার এক সৌগন্ধের মত যা তুমি অভিজ্ঞতা ও উপভোগ করতে পার ! তাই তুমি এখানে বারবার আকর্ষিত হয়ে আস !

বোঝ যে প্রতিটি মুহূর্তই সুন্দর যদি তুমি তাকে গুহণ করার জন্য তৈরি থাক। আমরা যখন কোন ফাংশন বা অনুষ্ঠান উদ্‌যাপন করি অথবা কোন সফলতা প্রাপ্ত করি অথবা আমরা কোন কিছু অর্জন করি; এমন নয় যে কেবল সেই মুহূর্তগুলিই সুন্দর।

প্রত্যেকটি মুহূর্তই সুন্দর কারণ অস্তিত্ব সহজেই স্বচক্ষূর্তভাবে ও আনন্দপূর্ণ হয়ে বয়ে চলেছে এবং সমস্ত ঘটনা সকল সময়ে সামঞ্জস্যের সাথে হয়ে চলেছে। যখন এটা বুঝবে, কিছুই তোমার কাছে 'জুল' লাগবে না। তুমি তখন অবাক হবে যে লোকেরা সবসময়ে কিসব অভিযোগ করে চলেছে!

যখন তুমি অস্তিত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা অনুভব কর, সম্পূর্ণ অস্তিত্ব তোমার কাছে এক মন্দির হয়ে যায়। তখন তুমি যেখানেই যাও প্রার্থনা ও ধ্যানের খেয়ালে থাক। তোমাকে আর মন্দিরে গিয়ে প্রার্থনা করতে হবে না। তুমি সহজেই সম্পূর্ণের সাথে মিশে যাও এবং সর্বদা আনন্দ অনুভব কর।

সম্পূর্ণ অন্তিত্ব মন্দির হয়ে গেলে, বুক্তগুলি, আকাশ, পৃথ্যী সবকিছুই এক হয়ে যায়। যখন তার কাছে নত হও, তুমি আর কি চাইতে পার? এই নিগৃঢ় অস্তিত্বের এক অংশ হবার জন্য তুমি কেবল কৃতজ্ঞতা সহকারে নত হবে, ব্যাস।

এটা হলে, তুমি নিজেকে বুক, আকাশ, পৃথ্যী ও সবকিছুর সাথে সম্পর্কিত করতে পারবে। তুমি তখন মনের ভাষা (communication) থেকে হৃদয়ের ভাষায় (communion) চলে আসবে। তখন তুমি তোমার কেন্দ্রকে সারায় নিয়ে আসবে।

ঈশ্বর কিভাবে কাজ করেন

তোমাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস কর যে ভগবান তোমার প্রার্থনার উত্তর দেন, আমি তাদের বলি শোন : ঈশ্বর এত করুণায়য় যে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তিনি তোমার প্রার্থনাগুলিকে কোন উত্তর না দিয়ে ছেড়ে দেন!

এটা এরকম : সর্দিকাশিতে আক্রান্ত কোন বাচ্চা আইস্ক্রীম চাইলে, তুমি কি তাকে তা দেবে? না, তুমি তাকে তা দাও না।

এখন বাচ্চাটি হয়ত তোমার প্রতি অকৃতজ্ঞতা অনুভব করতে পারে , কিন্তু তুমি জান যে তুমি বাচ্চাটির জন্য যথাসাধ্য করছ কারণ সে জানে না যে সে যেটা চাইছে সেটা তার জন্য সেইসময়ে ঠিক বস্তু নয়।

একইভাবে গভীর অজ্ঞতার জন্য তুমি জান না যে তোমার জন্য কোন জিনিষ্টা সবচেয়ে ভাল ; কিন্তু ঈশ্বরের কাছে নানা জিনিষ চাইতে থাক। কিন্তু অবিমিশ্র করুণার জন্য, ঈশ্বর তোমার প্রার্থন এবং যে জিনিষগুলি তোমার প্রকৃতপক্ষে দরকার কেবল সেগুলি প্রদান করেন এবং তোমাকে উন্নততর বুদ্ধির দিকে চালিত করেন এবং সেটাই তোমার জন্য ঈশ্বরের একমাত্র চিন্তা। মনে রেখ, তোমার বুদ্ধি যত বাড়বে, তুমি তত কম প্রার্থনা করে চাইবে।

তুমি ভগবানের কাছে কি চাইতে পার? যেই মুহূর্তে তুমি চাও, তার মানে তুমি ভাবছ যে ভগবান কিছু জিনিম জানেন না ! তার

মানে তুমি ভাবছ যে তুমি না চাইলে ভগবান সেটা জানবেন না। এটা হাস্যকর শোনাচ্ছে, তাই নাঃ ভগবান জানেন না এমন জিনিষ কি হতে পারে?

বোঝ যে ভগবান তোমায় সেটাই দেন যেটা তোমার প্রয়োজন, যেটা তুমি চাইছ সেটা নয়। যদি তুমি যা চাইছ তাই তিনি দিতে থাকেন, তুমি তো দুর্দশা থেকে আরও দুর্দশাহাস্ত হবে! যে সময়ে যেটা তোমার প্রক্রতপক্ষে দরকার, ভগবান সেটাই দেন এবং তাতে তুমি বুদ্ধিমান থেকে আরও বুদ্ধিমান হও এবং একসময়ে তোমার চাওয়া শেষ হয় ও তুমি কৃতজ্ঞতা য় ডুবে যাও।

অসুবিধাকে পরাভ্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় বল ও সাহস ঈশ্বর তোমায় দেন। তথাকথিত সমস্যাগুলি মিটাবার জন্য তিনি তোমাকে জ্ঞান প্রদান করেন। তিনি তোমার সমদ্ধির জন্য তোমায় এক অতি মূল্যবান সম্পদ দেন, যা হ'ল আধুনিকীকত (updated) বুদ্ধি। তোমার নিজের প্রেম ও যতকে অনসন্ধান করার জন্য তিনি সুযোগ দেন। তিনি তোমায় এটা বোঝার জন্য বুদ্ধি দেন যে তোমার কাছে যা কিছু আছে, কেবলমাত্র তাই তোমার প্রয়োজন। তিনি তোমাকে সৌগন্ধ সহকারে প্রস্ফুটনের জন্য পরিপক্ষতা প্রদান করেন।

আমাদের সবার মৌলিক সমস্যা হল, আমরা বিশ্বাস করতে প্রস্তুত যে আমরা যা চাই তা দেবার শক্তি ঈশ্বরের আছে, কিন্তু বুঝতে পারি না যে আমরা যেটা চাইছি সেটা আমাদের জন্য ভাল কিনা তা বোঝার বুদ্ধিও ঈশ্বরের আছে ! যেহেতু সহজেই আমরা বিশ্বাস করি যে ঈশ্বরের শুধুমাত্র শক্তি আছে. আমরা চাইতেই থাকি।

আমরা সর্বদা ভাবি যে আমাদের জন্য কি সবচেয়ে ভাল তা আমরা জানি এবং ভগবানের কাছে তার জন্য প্রার্থনা করি। যা চাই তা পাবার জন্য আমরা আমাদের বুদ্ধি ও ভগবানের শক্তি ব্যবহার করতে চাই। আমরা পরিষ্কারভাবে তাঁকে বলি, 'এই জিনিষটা আমি চাই, এইভাবেই জিনিয়গুলির হওয়া উচিৎ, তাই দয়া করে তোমার জন্য এটা কর!' আমরা আমাদের সব চাহিদাগুলিকে, ব্র্যাকেটে পছন্দের অগ্রাধিকার সহ, ভগবানকে প্রার্থনা হিসাবে অর্পণ করি!

এই মনোভাব আমাদের জটিলতায় নিয়ে যায়। আমাদের বুঝতে হবে যে ভগবানের শুধুমাত্র শক্তি আছে তা নয় , কিন্তু তোমার জন্য কি ভাল তা বিচার করার বুদ্ধিও তাঁর আছে।

আমরা ভাবি যে সমস্ত দুনিয়া আমাদের বুদ্ধির জন্য চলছে। পরিষ্কার করে বোঝা : দুনিয়া আমাদের বুদ্ধি সত্ত্বেও চলছে।

একটা ছোট গল্প :

Section 4

ঈশ্বর ও বিশ্বের সব বিজ্ঞানীদের এক সমাবেশে এক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। সম্পন্ন যা বানিয়েছেন, বিজ্ঞানীরা তার হুবহু নকল অন্য কোন উপাদান দ্বারা তৈরি করছিল। বিজ্ঞানীরা সেগুলি কোন সমস্যা ছাড়াই বানিয়ে ফেলছিল। সবশেষে ঈশ্বর ধুলা থেকে মানুষ বানালেন ও বিজ্ঞানীদের চ্যালেঞ্জ করলেন। বিজ্ঞানীরা ধুলা ওঠাতে গেল... ঈশ্বর বললেন, 'দাঁড়াও! আমার ধুলা থেকে না বানিয়ে তোমার ধুলা থেকে মানুষ বানিয়ে দেখাও।'

মানুষকে বুঝতে হবে যে অস্তিতুই স্প্রা, সষ্ট ও সঙ্গি। কেবল তখন সে সহজেই জিনিষণ্ডলিকে পুরোপারি উপভোগ করতে পারবে। কেবল তখন সে তার অধিকার করার প্রবণতা ও কর্তাভাব পরিত্যাগ করতে পারবে।

লেনদেনের ধারণাতে আমরা এতই অভ্যন্ত হয়ে গেছি যে আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয় যে আমা দের রক্তের সম্পর্কে না হয়েও কেউ বিনিময়ে কিছু আশা না করে বিনাশর্তে আমাদের যত্ন নিতে পারে। এটা বিশ্বাস করা এক বিরাট ব্যাপার!

আমি বলি, অস্তিত্ব যে কোন মানুষের চেয়ে অনেক ভালভাবে তোমার যত্ন নেয়। এই সত্যটি আমি বলতে পারি, কিন্তু এটা প্রত্যেককে নিজে হুদয়ঙ্গম করতে হবে, নিজে অভিজ্ঞতা করতে হবে। শুধুমাত্র তখন সেটা তাজা ও বিশুদ্ধ জ্ঞান হবে।

আমি সবসময়ে লোকেদের বলি, 'আমি তোমাদের আধ্যাত্মিকতা শেখাতে পারি না, কিন্তু তুমি শিখতে পার!' আমি তোমাদের মহান সত্যগুলি বলতে পারি যাতে অন্ততপক্ষে তুমি জানবে যে তুমি কি জান না। কিন্তু সে ই সত্যটিকে তোমার নিজের উপলব্ধি বানানোর কাজ তোমার। তুমি যতবার সে সত্য শুনতে চাও, ততবার তোমায় তা বলার জন্য আমি তৈরি।

একটা ছোট গল্প :

প্রাচীন ভারতের মহান সন্ত আদি শংকরাচার্য একবার তাঁর শিষ্যদের নিয়ে পায়ে হেঁটে তীর্থযাত্রায় ছিলেন। এক জায়গায় এসে তিনি খব তম্পার্তবোধ করলেন।

শিষ্যেরা চারদিকে দেখল. কিন্তু তাঁর তৃণমূল বিশ্বব্যাপার জন্য কিছুই পেল না। সেখানে কেবল তালজাতীয় গাছ ছিল এবং লোকেরা সেখানে তাড়ি (একপ্রকার দেশী মদ) বানাচ্ছিল।

শঙ্করাচার্য সেই তালবাগানে গিয়ে কর্মীদের জিজ্ঞাসা করল যে তষ্কা মিটাবার জন্য কিছু আছে কিনা। তারা বলে যে তাডি ছাড়া তাদের কাছে অন্য কিছু নেই। শঙ্করাচার্য তাড়ি চাইলেন ও তা পান করলেন। শঙ্করকে পান করতে দেখে শিষ্যেরাও তাড়ি পান করল!

তাড়ি শঙ্করকে প্রভাবিত করতে পারে নি. কারণ তিনি তো জীবনমুক্ত. সীমাহীন চৈতন্যের অধিকারী! তিনি সোজাই হাঁটতে লাগলেন, কিন্তু শিষ্যরা তাঁর পিছনে মাতালের মত টলতে চলতে লাগল!

কয়েকদিন পরে তাঁরা চলতে চলতে মরুভূমি অঞ্চলে পৌঁছালেন। তম্ভার্ত অবস্থায় তাঁরা সবাই একটা কামারশালা দেখতে পেলেন। তথ্য মিটাবার জন্য সেখানে কিছুই উপলব্ধ ছিল না।

শঙ্কর শ্রমিকদের জিজ্ঞাসা করলেন যে পান করার জন্য কিছু আছে কিনা। শ্রমিকেরা কিছুই নেই বলে জানাল।

কিন্তু শঙ্কর গলা তরল লোহা দেখতে পেলেন ও তাদের কাছ থেকে তাই চাইলেন ও পান করে ফেললেন।

গলা লোহা পান করার পরে তিনি শিষ্যদের দিকে ফিরলেন এবং তা তাদের দিতে গেলেন!

শিষ্যরা ভীষণ অবাক হ'ল।

শঙ্করাচার্য শিষ্যদের বোঝানোর চেষ্টা করা উচিৎ যেটা তিনি বলেন, যা তিনি করেন তা নয়। তাড়ি তাঁকে প্রভাবিত করতে পারে নি কারণ তিনি সীমাহীন চৈতন্যে প্রতিষ্ঠিত। নিজে অভিজ্ঞতা না করলে তুমি তা জানবে না। তাই বাইরে থেকে তুমি সেটাকে শুধু অনুকরণ করতে পারবে না। এটাকে তোমাদের প্রত্যে কের ভিতরে ঘটতে হবে এবং তাহলেই তুমি জানবে।

তুমি সত্যকে কতটা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ও সংযুক্ত হয়ে অনুভব করতে চাও, সেটা তোমাকেই নির্ণয় করতে হবে। আমি কেবল তাদের সাহায্য করতে পারি যারা নিজেদের সাহায্য করে। শুধমাত্র নীচে থেকে তমি এক হাত আমার দিকে বাড়াতে ইচ্ছা করলেই আ মি তোমাকে ওঠানোর জন্য হাত বাড়তে পারি। যদি তমি সত্যিই উখিত হতে চাও, তমি অন্তত আমার দিকে হাত তো বাড়াবে। নয়ত, যেখানে আছ, সেখানেই থাকার তোমার স্বাধীনতা আমি মেনে নেব, ব্যাস। সেইজন্য বলা হয়, 'ঈশ্বর তোমাকে বন্ধনে থাকার স্বাধীনতা দেন!'

আমাদের মধ্যে বেশীর ভাগই ভাবি যে ভগবানের যেভাবে করা উচিৎ সেভাবে উনি আমাদের সাহায্য করছেন না। আমি বলি, তুমি নিজেকে যতটা জান, ভগবান তোমায় তার চেয়ে বেশি জানেন। এটাই সত্য। তোমাকে সেটা বুঝতে হবে , ব্যাস। শুধু সন্দেহ মুছে ফেল এবং বিশ্বাস নিয়ে আস; তবেই যথেষ্ট। বাকীটা স্বতক্ষলভাবে হয়ে যাবে।

একটা ছোট গল্প :

মাছের জলাধারে দুটি গোল্ডফিশ ছিল। একটি অন্যটিকে জিজ্ঞাসা করল, 'তুমি কি সত্যি সত্যি ভগবান আছে বলে বিশ্বাস কর?' অন্যটি উত্তর দিল, 'তোমার কি মনে হয়, কে আমাদের জল রোজ পরিবর্তন করে?'

যদি তুমি বিশ্বাস কর যে অস্তিত্ব তোমার সমস্ত প্রয়োজনের জন্য যত্ন নেয়, তুমি তাহলে যে কোন রকম দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত হবে। কিন্তু মনে রেখ, যা আমি আগেও বলেছি : তোমার প্রয়োজন ও তোমার চাহিদা, দুটি ভিন্ন জিনিষ। তোমার প্রয়োজন খুবই কম, কিন্তু তোমার চাহিদা প্রচুর। তোমার প্রয়োজনগুলি স্বতক্ষদভাবে অস্তিত্ব দ্বারা পুরণ হয়। যখন তো মার চাহিদা বেড়ে যায়, তুমি অস্তিত্বের ওপরে বিশ্বাস হারাও কারণ তুমি তাদের পরণ হতে দেখতে পাও না।

তোমরা দ্যাখো, সাধারণ বিশ্বাস হচ্ছে খুধু বিশ্বাস করা, ব্যাস। কিন্তু অন্যদিকে নিষ্ঠা হল বিশ্বাসকে কার্যকর করার জন্য তাতে শক্তির সঞ্চার করা। তুমি বিশ্বাস নিয়ে শুরু করতে পার, কিন্তু তোমাকে নিষ্ঠা নিয়ে আসতেই হবে। বিশ্বাস করলে কোথাও একটু সংশয় থাকবে; কিন্তু নিষ্ঠা হ'লে কোন সন্দেহ থাকবে না, কারণ তুমি নিজে তার অভিজ্ঞতা পেয়েছ। যখন তুমি নিজে কতজ্ঞতার অলৌকিক ব্যাপার অভিজ্ঞতা করেছ, তুমি নিজের দিকে বেশী ও আরও বেশী সম্দি আকর্ষণ করবে। আমি এটা আমার অভিজ্ঞতা থেকে ঘোষণা করছি।

কৃতজ্ঞতা তোমাকে আরও দেয়

একটা ছোট গল্প :

  • একবার একটি ছেলে রাজপ্রাসাদ পরিদর্শন করতে গেল। সেখানে একরাত থাকার জন্য সে রাজাকে অনুরোধ করল। রাজা রাজী হল ও বালকটি সেখানে থাকল।
  • পরদিন সকালে ছেলেটি রাজার কাছে গেল ও তাকে দেওয়া নিরাসনের ক্রটিগুলি সম্পর্কে অফুরন্ত অভিযোগ করতে লাগল।
  • রাজা বালকটিকে বার করে দেওয়ার জন্য আদেশ দিল এবং বলল যে তার মত কাউকে একদিনের জন্যও সেখানে থাকতে দেওয়া একটা বিরাট ভুল।
  • বালকটি খুব দুঃখ পেল ও এক সুফি সন্তের কাছে গেল এবং তাঁকে রাজার কথা সব খুলে বলল। সুফি সন্ত কিছুই বললেন না। তিনি কেবল বালকটিকে তাঁর শিষ্য হয়ে যেতে বললেন।
  • কয়েক মাস পরে, সন্ত বললেন যে তিনি রাজাকে দেখতে যাচ্ছেন এবং বালকটিকে তাঁর সাথে আসতে বললেন। তাঁরা রাজপ্রাসাদে গেলেন ও সেখানে কয়েকদিন থাকার জন্য রাজাকে অনুরোধ করলেন। রাজা রাজী হল।
  • পরদিন সকালে রাজা সন্তকে জিজ্ঞাসা করল যে তাঁর জন্য করা সমস্ত আয়োজনে তিনি আরামে আছেন কিনা। সমস্ত আয়োজনের জন্য সন্ত রাজাকে তাঁর হৃদয় অনুভূত কৃতজ্ঞতা জানালেন।
  • রাজা খুব খুশী হল এবং তার লোকেদের সন্তের জন্য আরও ভাল করে যত্ন নেবার জন্য আদেশ দিল।
  • সুফি সন্ত ছেলেটিকে বললেন, 'এখন দেখলে? এটাই জীবনের গোপনকথা। কৃতজ্ঞ বোধ কর এবং তোমার ওপরে কৃপা বর্ষণ হবে।'

তোমাকে যা দেওয়া হয়েছে তার ছিদ্রান্তে বা করে তুমি যখন অস্তিত্বকে ধন্যবাদ দাও , তখন এমনটি ঘটে। কৃতজ্ঞ বোধ করে তুমি সকারাত্মক স্পন্দন ছড়িয়ে দাও এবং সেটা তুমি যা কল্পনা করেছ, অজ্ঞিত্ব স্বতক্ষলভাবে তার চেয়ে অনেক বেশী তোমায় দেবে।

তার মানে এই নয় যে তোমাকে লোকেদের কথা বলে প্রশংসা করতে হবে এবং আরও পাবার জন্য চতুরভাবে তাদের ধোঁকা দেবে। না! তুমি যখন সর্বদা এক ধন্যবাদপূর্ণ অবস্থায় আছ, বহির্জগতে তোমার অবস্থা নির্বিশেষে, কৃতজ্ঞতা তোমার থেকে বিকিরণ হতে থাকবে। তখন তোমার আশেপাশে সহজেই ঘটনাগুলি ঘটনে আরম্ভ করবে।

লোকেরা আমায় জিজ্ঞাসা করে, 'স্বামীজী, আমাদের চারিদিকে কত দুঃখকষ্ট। এরকম কেন?' আমি তোমাদের বলি, এর কোন অর্থই নেই। প্রথমত তুমি যতটা দাবী কর মোটেই ততটা দুঃখকষ্ট আছে, ঠিক আছে, কিন্তু তোমার নিজের মন তাকে বিবর্ধিত করে। যদি তুমি সঠিক পরিসংখ্যান নাও এবং দেখ, বুঝবে যে তোমার মন এতে কতই না খেলা করে। এসব কথা বলা একটা নৈমিত্তিক সামাজিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং পুরো পরিস্থিতিকে অতিরঞ্জিত করা হয়। দ্বিতীয়ত, আমাদের নিষ্ঠা মুছে গেছে, তাই দুঃখকষ্ট আছে, ব্যাস। অচেতনতার দ্বারা চালিত হয়ে আমরা লালসাপূর্ণ হয়ে গেছি।

বোঝ যে অস্তিত্ব বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সব ঘটনাই সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করে। সমস্য ঘটনাগুলি এত সমলয়ের সাথে পরিচালনা করা হয় যে তুমি যত সজাগ হবে, ততই আগের বিশঙ্খল মনে হওয়া ঘটনাগুলিকে সুশঙ্খল বলে অবহিত হতে পারবে। এর সম্বন্ধে আমাদের শুধুমাত্র সজাগ হতে হবে এবং তদন্তসারে আমাদের ভূমিকায় অংশগ্রহণ করে যেতে হবে ; জীবন তখন চলাবে।

তুমি যখন এই বিষয়ে সংবেদনশীল হও, সে ছোটই হোক আর বড়ই হোক, তুমি উপলব্ধি করতে শুরু করবে যে কিভাবে जिनिश्चलिक भूनविनाम कवा रय उ जामान माथ घणेताना रा। जूसि जा वरे मम्भूर वाकियाय बक सेनकबाराज । সমকালীনতার (coincidence) শক্তি তার সমস্ত আড়ম্বর নিয়ে তোমার কাছে নিজেকে প্রকাশিত হতে থাকবে। তুমি সচেতন হবে যে তুমি নিখিল বিশ্বের এই অর্কেস্ট্রার এক অংশ এবং এখানে তোমাকে সেই সঙ্গীতের সাথে প্রবহনান হয়ে তাকে উপভোগ করতে হবে! কেবল যখন তুমি এই প্রবাহের সাথে লড়াই কর, তার বিপরীতে যেতে চাও, সমস্যার সূত্রপাত হয়।

প্রবাহ্বের সাথে বয়ে চল

একটা ছোট গল্প :

একদিন জনতা একটি লোকের কাছে তাড়াহুড়া করে এল এবং তাকে বলল যে তার বড় নদীতে পড়ে গেছে ও তাতে বয়ে চলে গেছে।

লোকটি সাথে সাথে নদীর দিকে দৌড়াল, তার কাপড়চোপড় খুলে ফেলে তাতে ঝাঁপ দিল ও নদীর প্রেতের প্রতিকুলে সাঁতার কাটতে লাগল।

জনতা চীৎকার করল, 'উজানস্রোতে কেন যাচ্ছ? তোমার বউ নিশ্চয়ই লোতে ভেঙ্গে গেছে।'

লোকটি চেঁচিয়ে উত্তর দিল, 'আমি আমার বউকে জানি। নদীতেও সে শ্রোতের বিরুদ্ধেই যাবে, প্রোত বরাবর যাবে না।'

Section 5

আমরা প্রোতের বিরুদ্ধে গেলেই সমস্যা শুরু হয়, কারণ তখন আমাদের মাঝখানে আমরা আমিতুকে আসতে দিয়েছি। অপরদিকে আমরা যদি অভিতের প্রবাহ বুঝি এবং তার সাথে চলি, আমরা স্বতঃক্ষত হব: আমাদের পথে যা কিছু আসে আমরা তার মুখোমুখী হতে পারব এবং আমরা কতজ্ঞতায় প্রসারিত হব।

স্বতঃক্ষত হলে তুমি যে কোন দায়িত্ব নিতে প্রস্তত। আমি সর্বদাই লোকেদের বলি যে দায়িত্ব হল স্বতক্ষুর্তভাবে সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা। মাস্টারেরা সমস্ত বিশ্বের দায়িত্ব নেন! কিভাবে? কারণ তাঁরা তো স্বতঃস্ফূর্ত এবং সর্বদাই অস্তিত্ব সাথে প্রবহমান! তাঁরা জানেন যে তাঁরা অস্তিতের সাথে প্রবহমান হ'লে অস্তিত্ব স্বাভাবিকভাবে জিনিষগুলি ঘটাবে!

তুমি যদি আমাদের আশ্রমবাসীদের সাথে কথা বল, তারা তাদের অভিজ্ঞতা সম্বন্ধে তোমাদের বলবে। তাদের পক্ষে আগে থেকে জিনিষগুলিকে জানা খুবই কঠিন কারণ এখানকার ঘটনাগুলি স্বতঃস্ফূর্তভাবে হয়! সময়কালে, তারা কোন কাজ করার জন্য যথেষ্ট সময় আগে সঙ্গেতের প্রয়োজনীয়তা প্রথমে যুদ্ধে যেন তারপর ধীরে ধীরে তারা যে কোন সময়ে যে কোন কিছু করার জন্য প্রস্তুত হতে শেখে!

একজন বাইরের মানুষ আশ্রমে ঘটা সুশঙ্খলতা দেখে অবাক হবে। সে পুজাই হোক বা কোন অনুষ্ঠানই হোক বা কোন অনুষ্ঠানই হোক, আমি তাদের কয়েক ঘন্টা আগে বলি এবং জিনিষণ্ডলি ঠিক হয়ে যায়।

অস্তিত্বে সাথে প্রবহমান হতে শিখলে আমরা কোন দুশ্চিন্তা ছাড়াই বাস করতে পারি। কিন্তু যে করেই হোক, আমরা সবাই অস্তিত্বের সাথে লড়াই করার কলাতে পার্লা হয়ে গেছি। তাই আমরা ভুগি। যদি তুমি নিজেকে অস্তিত্বের প্রবাহের সাথে মিলিয়ে দাও, প্রতিটি মুহূর্তে তুমি দেখবে যে তোমার যত্ন নাওয়া হচ্ছে এবং সেই মুহূর্তে তোমার যা প্রয়োজন তা তোমাকে প্রদান করা হচ্ছে।

নিজেকে সুরে বাঁধলে করলে তুমি তোমার সাথে অন্ডিতের দীপ্তি ও শক্তি বহন করে। তুমি দেখবে যে জিনিষগুলিকে নতুনভাবে বিন্যস্ত করা হচ্ছে, জিনিষণ্ডলির জিগ্রস্থ পাঁধাগুলি (jigsaw puzzle) তোমার জন্য অনায়াসে সমাধান হয়ে যাচ্ছে; যেখানেই যাও তুমি অনুভব করতে পারবে যে মানুষেরা তোমাকে এক অদুষ্ঠপূর্ব স্বতঃক্ষততা ও প্রবল উৎসাহের সাথে গ্রহণ করছে। লোকেরা তোমার দিকে অন্যভাবে তাকাবে। তারা তোমার দিকে এক অব্যাখ্যেয় আকৃত্ব করবে। তোমার জীবন এক সঙ্গীত হয়ে উঠবে যা এক অদশ্য সুরকার সুর করে চলেছেন, যাতে তুমি কেবল নেচে চলেছ। জীবন কেবল সঙ্গীত ও নৃত্য হয়ে ওঠে। তা এক আনন্দ উদযাপন হয়ে যায়!

প্রকত অলৌকিক ঘটনা দেখতে শুরু করে !

আনন্দ উদযাপন না করে আমরা সর্বদা আরও খুঁজে চলেছি, অলৌকিক ঘটনা অন্ধেশ করে চলেছি। আমরা সর্বদাই অলৌকিক ঘটনা ঘটার জন্য প্রতীক্ষা করে আছি এবং ভাবছি যে সেরকম ঘটনা ঘটছে না।

অলৌকিক ঘটনা কখনও করা হয় না; সেগুলি অবিশ্রাম তোমার চারিদিকে হয়ে চলেছে! তোমার স্বীকৃতিই সেই ঘটনাগুলিকে অলৌকিক বানিয়ে দেয়! অস্তিত্বের সাথে টিউন করার জন্য কজ্ঞতাকে ব্যবহার কর এবং তুমি অলৌকিক ঘটনাগুলি ঘটছে বলে প্রত্যক্ষ করতে পারবে! কৃতজ্ঞতা তোমায় অলৌকিকতার সাথে টিউন করবে। হয় তুমি তাদের উপভোগ কর অথবা তুমি তাদের মিস কর। সেটা তোমার পছন্দ!

যখন তুমি তাদের মিস কর, তুমি অসন্তই হয়ে থাকবে, এটা এরকম : দরজা খোলা আছে, কিন্তু তুমি তাতে একটানা খট খটিয়ে যাচ্ছ! আমি তোমাদেরকে বলছি যে তোমার যা কিছু প্রয়োজন তা ইতিমধ্যে আছে এবং তোমাকে কেবল তা গ্রহণ করতে হবে। কিন্তু তুমি তা বিশ্বাস করতে তৈরি নও। তোমার চারিদিকে ঘটা অলৌকিক ঘটনাগুলি তুমি দেখ না এবং পরিবর্তে তুমি তা অন্বেশ করে যাচ্ছ।

জলকে সুরায় পরিবর্তিত করা অলৌকিকতা নয়। মানুষকে ভগবান বানিয়ে ফেলাই প্রকৃত অলৌকিক ঘটনা। বিখ্যাত জাদুকর পি সি সরকার প্রথমটি করে। পরেরটা করতে গভীর উপলব্ধি চাই।

শ্রীরামক্ষম পরমহংসের প্রায়ই বলা একটা ছোট গল্প :

দুই ভাই একসাথে থাকত। বড় ভাই ব্যাবসা চালিয়ে যাওয়া ঠিক করল এবং ছোট ভাই সন্ন্যাসী হতে চাইল। বহু বছর পর তাদের পরস্পরের সাথে দেখা হ'ল। তারা একে অপরকে জিজ্ঞাসা করল যে বিগত বছরগুলিতে তারা কি কি অর্জন করেছে। বড ভাই বহির্জগতে যা যা বস্তুগত জিনিষ অর্জন করেছে তার লিস্ট বলে গেল। সে তার ব্যবসা সম্বন্ধে ব্যাখ্যা করল এবং কত সম্পদ পঞ্জীভূত করেছে তা বলল। তারপর সে ছোট ভাই কি অর্জন করেছে জিজ্ঞাসা করল। ছোট ভাই তাকে এক নদীতে নিয়ে গেল এবং জলের ওপরে পায়ে হেঁটে নদী পার করে দেখাল এবং গর্বের সাথে যোষণা

করল. 'আমি এটা অর্জন করেছি।' বড় ভাই একটা নৌকা ভাড়া করে নদীর অপর পাড়ে গেল এবং বলল, 'কি? যেটা করতে দুঃ টাকা লাগে, সেটা তুমি এত বছর পর অর্জন করলে?'

লোকেরা ভাবে যে তারা যদি অলৌকিক জিনিম করতে পারে তারা আধ্যাত্মিক ও শক্তিশালী হয়েছে। না। বোঝ : আধ্যাত্মিকতা বহির্জগতে অলৌকিকতার খেলা নয়। তোমার ব্যক্তিতকে স্বতন্ত্র অস্তিতে পরিবর্তিত করার জন্য এটা অন্তর্জগতের এক খেলা, এবং সর্বোত্তম অলৌকিকতা! ব্যক্তিতকে (personality) স্তন্ত্র অস্তিতে (individuality) রূপান্তরিত করাই সর্বশ্রেষ্ঠ অলৌকিক ঘটনা।

লোকেরা প্রায়ই আমায় অলৌকিক ঘটনা ঘটাতে বলে। আমি তাদের বলি যে এই তথাকথিত অলৌকিক ঘটনাগুলি আমাকে মাপার জন্য মানদণ্ড নয়। কিন্তু তারা শুনতে চায় না। যদি আমি সাধারণ কিছু বস্তুর মূর্তকরণ প্রক্রিয়া করি, তবে লোকেরা শুধুমাত্র এইসব বিষয়কর জিনিষ দেখতে এখানে আসবে, যেন জাদুর প্রদর্শনী হচ্ছে, তারা আমার কাছে নিজের রূপান্তরের জন্য আসবে না! সেটাই আমার চিন্তা।

একদিন, কয়েকজন নাছোড়বান্দা ভক্তের মিনতির জন্য, আমি একটা লক্ষ্মীমর্তি মর্তকরণ (teleportation) করে তাদের দিলাম। আমি তাদের ব্যাখ্যা করে বললাম যে এটা কোন অলৌকিক ঘটনা নয়। যেহেতু তোমরা যা দেখছ তার কার্যকারণ (cause and effect) চক্র সম্বন্ধে জান না, তাই তোমরা এটাকে অলৌকিক ঘটনা ভাবছ।

টেলিবহনে আসলে কি হয়? যেভাবে টেলিফোনে তোমার গলার আওয়াজের শব্দতরঙ্গ বিদ্যুতে পরিবর্তিত হয় এবং কোন মাধ্যম দ্বারা বাহিন্দু হয়ে অন্য দিকে আবার শব্দতরঙ্গে পরিবর্তিত হয়, আমিও বস্তুকে শক্তিতে রূপান্তরিত করি, তাকে বাতাসের মধ্য দিয়ে নিয়ে যাই এবং আবার সেটাকে বস্তুতে রূপান্তরিত করি, ব্যাস। এতে কোন অলৌকিকতা নেই।

তাই অলৌকিকতা খোঁজা বন্ধ কর। অস্তিতের প্রতি কতজ্ঞতা ও প্রেমের ভাব নিয়ে বাস কর এবং স্বতক্ষকারে তুমি আসল অলৌকিকতা তোমার মধ্যে ঘটনে দেখবে। তোমার রূপান্তর হল সবচেয়ে বড় অলৌকিকতা যা মাস্টারের জন্য হতে পারে! আর মনে রেখ, মাস্টারের কাছ থেকে অলৌকিকতা তোমার চাই না: তোমার কেবল বদ্ধি চাই।

যখন তোমার বুদ্ধি বিকশিত হয়, তুমি তোমার দৈনন্দিন জীবন অনায়াসে যাপন কর এবং তুমি শান্তিতে থাকে। তদুপুর প্রথম পা কোন ম্যানেজার হ'লে অনেক কর্তব্য থাকে : তুমি লোক নাও, তাদের কার্য সম্পাদন পর্যবেক্ষণ করে তাদের মাইনে ঠিক কর ইত্যাদি। তুমি কি এসব জিনিষ্ণ চাপে না পডে করতে সমর্থ হও? বুদ্ধির সাথে তুমি তাদের চাপে না পডে পরিচালনা করতে পারবে। তমি শান্তিতে থাকবে। তোমার কেবল বদ্ধি চাই, বল নয়। মনে রেখা।

যখন তুমি বোঝ, যখন তুমি অভিজ্ঞতা কর যে অস্তিত্ব যত্ন নিচ্ছে, তুমি রূপান্তরিত হবে এবং সমস্ত মায়া থেকে মুক্ত হয়ে যাবার দিকে এগিয়ে যাবে। আমরা সর্বদা আমাদের নিষ্ঠা রাখি জ্যোতিষী, ভাগ্যগণক, গ্রহ, নক্ষত্র এবং আরো কতক্ষিছুর ওপরে; কিন্তু অস্থিত, যা নাকি ব্লক্ষাণ্ডের জীবনের উৎস, তাতে কখনও আস্থা রাখি না।

ভারতবর্ষের লোকেদের তোতাপাখিকে ভবিষ্যৎ জিজ্ঞাসা করার একটা রোমাঞ্চকর প্রথা আছে। রাস্তার ফুটপাথে একটা খাঁচায় তোতা আর পাশে তার মালিক বসে থাকবে। পথচারীরা সেখানে থানবে এবং মালিককে কিছু টাকা দেবে ও বিশ্বাস সহকারে নিজেদের ভবিষ্যত সম্বন্ধে প্রশ্ন করবে। মালিক খাঁচটা খুলে দেবে ও তোতাকে বেড়িয়ে এসে স্তপীকত কিছু কাগজ থেকে একটা কাগজ নিতে আদেশ দেবে।

তোতা খাঁচা থেকে বেড়িয়ে এসে একটা কাগজ ঠোঁটে করে নিয়ে তার মালিককে দেবে। তোতার মালিক তাতে কি লেখা আছে পড়ে শোনাবে। সেটাই সেই মানুষটির সম্বন্ধে ভবিষ্যৎবাণী!

ছয়টি জ্ঞানেন্দ্রিয় বিশিষ্ট একজন মানুষ চারটি ইন্দ্রিয়বিশ্টি তোতাকে নিজের ভবিষ্যৎ জিজ্ঞাসা করছে। সেটা কিভাবে সম্ভব? এসব বোকামি বিলকুল ছাড় এবং নিজেকে সঠিক সুরে বাঁধ; তোমার কেন্দ্রের তন্ট্রীটিকে ধর যেটা হ'ল কতজ্ঞতা এবং অভিত্তর সাথে ঐকতানে এগিয়ে চল।

মাস্টারেরা কৃতজ্ঞতার মূর্ত প্রকাশ

মাস্টারদের লক্ষ্য করলে তাঁদের কত মাধ্যময় মনে হয়, কত অলৌকিক এবং কত দিব্য ় মান হয়। তার কারণ তাঁরা অস্তিত্বের সাথে সুর মিলিয়ে বলেন। কিন্তু তুমি তাঁদের অবস্থা (state) বোঝ না; তুমি কেবল তাঁদের প্রতিষ্ঠা (status) দেখা তমি তাদের অবস্থা বোঝ, তুমি বুঝবে যে তাঁরা অভিতের সাথে একদম মিশে আছেন, দ্রবীভূত হয়ে আছেন এবং তাদের সবসময় এত আনন্দপূর্ণ লাগে। তোমাকে তো এই অবস্থা পাবার জন্যই চেষ্টা করতে হবে।

তার পরিবর্তে তুমি কি বল? 'ও! দ্যাখো, উনি এক মাস্টার: উনি সর্বদাই আনন্দে আছেন। উনি আমাদের সমস্যা কিভাবে ব্যবহার প আমি এখানে আমার পেট চালানোর জন্য কষ্ট করে যাচ্ছি, আর উনি আমায় সবসময়ে কতজ্ঞ থাকতে বলছেন।'

তুমি মাস্টারের পদয়গলে কেবল গোলাপের পাপডিগুলি দেখ: তুমি কেবল তাঁর প্রতিষ্ঠা দেখ এবং ভাব যে তিনি তোমার দৈনন্দি ব্যাপারে কিছুই জানেন না। মনে রেখে, তিনি মানুষের শ্রদ্ধা আকৃষণ করেন তাঁর প্রতিষ্ঠার জন্য নয়। এই অবস্থা অর্জন করার জন্য সংগ্রাম সম্পর্কে তোমার কোন ধারণাই নেই।

তুমি পেট চালাবার জন্য সংগ্রামের কথা বল। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তোমাদের বলি যে আমার পরিবর্জ্যার সময়ে বহু দিন আমি খাবার ছাড়াই থাকতাম। সেই সময় আমি এই পরিস্থিতিকে অঙ্কিতের ঘাটতি বলে কখনও ভাবি নি। তখন আমি এত ঐকান্তিকভাবে সত্যকে অন্বেষণ করছিলাম যে সবকিছুই ধ্যান হয়ে গিয়েছিল, এমনকি খাবার না খেয়ে থাকাও।

Section 6

শোন. আমি দেখেছি দক্ষিণ ভারতের কয়েকটি দানশীল ঘর ও উত্তর ভারত প্রোমীজী এখানে পর্ব ও পশ্চিম ভারতকেও উত্তর ভারতের মধ্যে ধরেছেন। ছাড়া সন্নাসীদের এড়িয়ে চলা হয়। সন্ন্যাসীদের সবসময়ে সন্দেহের চোখে দেখা হয়। লোকেরা ভাবে সন্নাসীরা তাদের ধনসম্পদ চুরি করতে এসেছেন। আমি তোমাদের বলি, কখনও তাঁদের তাড়িয়ে দিও না। তাদের এক পাত্র চাউল দাও না কেন? সেটাই তাঁদের পক্ষে যথেষ্ট। দান করার সময় কখনও কপণতা কোরো না। মনে রেখে : যদি তুমি দানী হতে ইচ্ছুক না হও, তুমি তো মহাদানী হয়ে যাবে। দানী মানে যে তার সম্পদের ছোট অংশ দি যে দেয়, আর মহাদানী তো সমস্ত ধনসম্পদ রেখে মারা যায়!

যাই হোক, এটা বোঝ যে আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। এমনকি সবচেয়ে সমস্যা ও সংগ্রামে, যদি তুমি অটল আস্থা ও কতজ্ঞতার সাথে কাজ করে যাও এবং তোমার অন্তর্গুদ্ধি ব্যবহার করে সেই সমস্যাগুলির মধ্য দিয়ে যাও , তুমি দেখবে যে তুমি সেগুলিকে সমাধান ক'রে এবং আরও কৃতজ্ঞ ও বুদ্ধিমান হয়ে উত্থিত হচ্ছ !

যদিও তুমি বহুমূল্য কিছু হারাও, সেটাকে কিছুদিন উপভোগ করার জন্য তুমি শুধু কুজ্জে হয়েই থাক, ব্যাস। যখন তুমি বিশুদ্ধ কতজ্ঞতা হয়ে যাও, তুমি কোন কিছু হারালে কাঁদবে না। যতক্ষণ তা থা করে তুমি কেবল তাকে উপভোগ করবে এবং তা চলে গেলে তার সম্বন্ধে কৃতজ্ঞতা অনুভব করতে থাকবে।

একটা ছোট গল্প :

  • এক রাজা তার রাজ্যে রাতে ছদ্ববেশে ঘুরে বেড়াত। প্রত্যেক রাতে যখন পুরো শহর ঘুমিয়ে থাকে রাজা দেখত যে একটা গাছের নীচে একজন মাস্টার আনন্দ-অবস্থায় বসে থাকেন।
  • এক রাতে রাজা মাস্টারের প্রতি শ্রদ্ধা অনুভব করল এবং তাঁকে প্রাসাদে গিয়ে থাকতে অনুরোধ করল।
  • মাস্টার বললেন, 'ঠিক আছে, আমি আজকেই যাব, কাল কি হবে কে জানে।'
  • মাস্টার নিমন্ত্রণে অপ্রত্যাশিতভাবে রাজী হওয়ায় রাজা অবাক হল, কিন্তু তাঁকে প্রাসাদে নিয়ে গেল।
  • রাজপ্রাসাদে রাজা তাঁকে সবচেয়ে ভাল ঘরটা দিল এবং খব ভাল খেলে খেতে দিল। মাস্টার সবকিছু সম্পর্কপে উপভোগ করলেন।
  • রাজা তাঁকে লক্ষ্য করছিলেন যে তিনি কিভাবে সমস্ত বস্তগত জিনিম উপভোগ করছেন। সে বিশ্বাস করতে পারছিল না যে একজন প্রকৃত মাস্টার জিনিয়গুলি এভাবে উপভোগ করবেন, তাই দিনের পর দিন মাস্টারের ওপরে তার শ্রদ্ধা কমতে লাগল। রাজা নিজেকে প্রতারিত মনে করলেন।
  • সবশেষে মাস্টার একদিন রাজাকে বললেন, 'মনে হচ্ছে, তুমি কোন সমস্যায় আছে। আমাকে সেটা বলছ না কেন?'
  • রাজা বলল, 'হ্যাঁ, যখন আমি আপনাকে এইসব উপভোগ করতে দেখি, আমি বুঝতে পারি না যে আমার ও আপনার মধ্যে পার্থক্য কোথায়?'
  • মাস্টার হেসে বললেন, 'ঠিক আছে, চলো, আমরা একটু হেঁটে আসি।'
  • রাজা রাজী হ'ল এবং দুজনে হাঁটতে চললেন। অনেক সময় ধরে তাঁরা নিঃশব্দে চললেন। চলতে চলতে তাঁরা একটি

নদীর সামনে এলেন, সেই নদীটা রাজার রাজ্যের সীমারেখা। মাস্টার বললেন, 'ঠিক আছে, আমার এখানে থাকা শেষ। তোমার রাজ্য ছেড়ে আমি যাচ্ছি, তুমি আসছ কি?' রাজা বলল, 'আমি কি করে তা করি? আমার তো আমার রাজ্য আছে, আমার প্রজা আছে এবং কত কিছু আমাকে সমাধান করতে হবে!' মাস্টার হাসলেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন, 'তাহলে এখন কি তোমার প্রশ্নের জবাব পেয়েছ?'

মাস্টারের কথায় রাজা বিরাট ঝাঁকুনি খেলেন।

মাস্টারেরা জানেন যে সব কিছুর মালিক হ'ল অস্তিত্ব। সেইজন্য তাঁরা সম্পর্শভাবে প্রতিটি মহুর্তে বাস করেন, তাকে পুরোপরি উপভোগ করন। প্রতিটি নিমেষ পূর্ণতার সাথে বাস করা হয়। তাঁরা কোনকিছু হারাবার জন্য ভয় পান না , কারণ কোন জিনিয়টা তোমার যে তুমি হারাবে?

সর্বদা মনে রেখ, সবকিছুই অস্তিত্বের। তুমি কেবল তার অস্থায়ী অধিকারী, ব্যাস। যত জিনিষেরই অধিকারী হও না কেন, সর্বদা কৃতজ্ঞ বোধ কর। সেটাই মুক্তজীবনের পথ। এই একটা বিষয় বুঝলে সুপ্রচুর স্বাধীনতা ও সন্তুষ্টি উপভোগ করতে পারবে ।

সন্তুষ্টির সৌন্দর্য

অসন্তুষ্ট হওয়া যেন মনকে চিবানোর জন্য কিছু খাদ্য দেওয়া। মন তাকে খেতে থাকবে ও নিজেকে ব্যস্ত রাখবে। আমরা খুব সন্তুষ্ট অনভব করলে কি হয়? মন খাবার পায় না। সে তখন ব্যবহার করে। মন তখন খাদ্য খুঁজতে আরম্ভ করে !

একজন মহিলা জুতার দোকানে গেল। সে তার পায়ের মাপের জুতা চাইল এবং সেলসম্যান ধৈর্য ধরে অনেক জতা দেখাল। মহিলাটি একটার পর একটা জুতা চেষ্টা করে গেল এবং ভাবল যে তার পায়ে একটাও নিখুঁতভাবে মানানসই হচ্ছে না।

সবশেষে, সেলসম্যান একজোডা জতা দেখিয়ে তাকে সেটা পরে দেখতে বলল।

মহিলাটি সেটা পরল ও বলল, 'এটা তো পরতে একদম ঠিক লাগছে। কিন্তু এটা সঠিক মাপের কিনা কে জানে।'

যখন তুমি সন্তুষ্ট হবে না বলে দ্যুসঙ্গল্প করেছ, তখন কেউ তোমাকে সাহায্য করতে পারে না। এটা তোমার মনের এক অবস্থা, যাকে কেবল তুমিই সাহায্য করতে পার। আমরা অনেকেই অসন্তুষ্ট হয়ে কথা বলা ও অসন্তুষ্ট অনুভব করার সময় নিজেরা একটা আরামপ্রদ অঞ্চলে আছি বলে মনে করি। কারণ তখন কিছু কথা বলার থাকে: মন সর্বদাই কিছু জিনিষে ব্যস্ত থাকে।

সর্বদা সন্তুষ্ট থাকা যেন মনকে হারিয়ে ফলা। তাই আমরা যদিও বলি যে আমরা সন্তষ্ট হতে চাই, আসলে আমরা তার জন্য প্রস্তুত নই। আমাদের মন সর্বদাই চতুরভাবে খেলা করে, কারণ চিবাবার জন্য তার কিছু চাই।

দিগন্তরেখার দিকে দৌড়ালে আমরা নিজেদের নিরাপদ মনে করি। দিগন্তরেখা কেবল একটি কাল্পনিক রেখা, কিন্তু আসরা তার দিকে দৌড়াতে নিরাপদ মনে করি কারণ দৌড়াবার জন্য কিছু একটা আছে ! মন তো সর্বদা দৌড়াবার জন্য প্রশিক্ষণ পেয়েছে।

এইপ্রকার হ'লে আসলে তুমি নিজেকে বোকা বানাচ্ছ, ব্যাস। তুমি নিজের জন্য পরম্পরবিরোধী ফলগুলি সাষ্টি করছ। উদাহরণস্বরূপ, তুমি তোমার হৃদয়ের গভীর থেকে পরিত্তপ হতে চাও; কিন্তু তোমাকে যা দেওয়া হয়েছে, অবিরত তা না দেখার জন্য ও তার জন্য অভিযোগ করার জন্য নিজেকে পরিতৃপ্ত থেকে বঞ্চিত রাখা তুমি কিছু একটা চাও, কিন্তু নিজের ওপরে অন্য কিছু নিয়ে আস। আর পরিতৃপ্তি অর্জনের জন্য চেষ্টা করাকে সারা জীবনের এক বিশেষ প্রক্রিয়া ভেবে আরামে থাক !

বোঝ, যেই মুহূর্তে তুমি নিজের জন্য পরস্পরবিরোধী ফল সুষ্টি কর, তোমার দুর্দশা শুরু হয়। তোমার জীবন কিরকম চাও, সে সম্মে পরিষ্কার হও এবং তাকে সফল করার জন্য তোমার সমস্ত শক্তিকে সেই দিকে চালিত কর। যখন তুমি এই স্পষ্টতা সহকারে কাজ কর, তুমি কখনও নিজেকে বিভ্রান্ত করবে না এবং শীঘ্রই দেখবে যা হতে চেয়েছিলে, হয়ে গেছ!

যখন এমন এক জায়গায় প্রবেশ কর যেখানে কতজ্ঞতা তোমার ধ্যান হয়ে যায়, পরিতৃপ্তি স্বতশ্চলভাবে ঘটে। সাধারণ সন্তুষ্টি, যা আমরা সবাই জানি, তা সর্বদা একটা কারণ থেকে আসে। এটা বহিজগতে ঘটা কোন ঘটনার সাথে সম্পর্কিত, যে ঘটনা সাময়িকভাবে তোমার ব্যস্ত মনকে একটু বিশ্রাম দিয়েছে, ব্যাস। মন শান্ত হলে বল যে তুমি পরিতৃপ্ত। এটা আসল পরিতৃপ্তি নয়।

আসল পরিত্তপ্তি হয় যখন তুমি অস্তিত্বের দয়াশীলতার প্রতি চিরস্থায়ী কতজ্ঞতা অনুভব কর। আসল পরিতৃপ্তি আর কিছুই চায় না। তা কেবল সবকিছুই কোন কারণবিনা উপভোগ করে; তার কোন কারণের প্রয়োজন হয়ে না। এই অবস্থায় পৌঁছালে, তুমি জানবে না যে অতৃপ্তি কি ব্যাপার।

একটা ছোট গল্প :

একটি লোক অনিদ্রার জন্য ভাক্তার কাছে গেল। ডাক্তার তাকে জিজ্ঞাসা করে, 'তাহলে আপনি সারারাত ঘুমাতে পারেন না?' লোকটি উত্তর দেয়, 'আমি রাতে ভালই ঘুমাই, ডাকারবাবু।' ডাক্তার জিজ্ঞাসা করে, 'তাহলে সমস্যা কি?' লোকটি বলে, 'দুপুরে আর সন্ধ্যায় আমি ঘুমাতে পারি না।'

কোনরকম মাপদণ্ড ছাড়া আমরা কেবল চেয়েই চলেছি। যদিও বা আমাদের কোন মাপদণ্ড থাকে, সেটা হবে অসীম; সেটাই সমস্যা। আমরা বেশী বেশী চাইবার মনোভাবের জন্য পুরোপুরি অন্ধ হয়ে গেছি। সেজন্য আমরা জানিও না যে আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে আছি। আমরা বহুকাল অন্তরে তাকিয়ে দেখি নি।

কখনও কোন কিছু বিব্রত করলে এই জোকটি মনে রাখার চেষ্টা কোরো। সঙ্গে সঙ্গে জোকটির সাথে সংযুক্ত হবার চেষ্টা কর এবং সজাগ হয়ে দেখ যে কি তোমাকে বিব্রত করছে। গভীরে যাও এবং দেখ যে সত্যিই তোমার সমস্যা আছে কিনা অথবা তুমি কেবল তোমার মনকে খেলতে দিচ্ছ। তুমি শেষে কেবল হাসতে পার।

একটি মহিলা দুরপাল্লা উড়ানে ভ্রমণ করছিল। বিমানসেবিকা সবাইকে ভোজন বিতরণ করছিল। সে মহিলাটিকে গভীর নিদ্রায় দেখতে পেল এবং তাই সে অন্যদের যত্ন নিতে চলে গেল।

মহিলাটি কিছুক্ষণ পরে উঠে পড়ল ও তার খাবার চাইল। বিমানসেবিকা তখন তার জন্য খাবার নিয়ে এল।

মহিলাটি খাবার ছুঁয়ে দেখল ও রেগে গেল, 'কি ধরণের বিমান তোমরা চালাচ্ছ? খাবার গরম নয়। আমি অনেক কষ্ট করে দাম দিয়ে এই বিমানের ভাড়া দিয়েছি, আর এখন গরম খাবার পর্যন্ত পাব না।'

বিমানসেবিকা ক্ষমা চেয়ে বলে, 'ম্যাডাম, দয়া করে ক্ষমা করবেন। গরম করার মেশিন কাজ করছে না। অন্যেরা এই খাবারই খেয়েছে।'

মহিলাটি বলল, 'তাই নাকি? তাহলে ঠিক আছে।'

দ্যাখ, খাবার তো ঠাণ্ডাই থেকে গেল, কিন্তু অন্যেরা একই রকম খাবার খেয়েছে জেনে মহিলাটি আর অসন্তট থাকল না। আমি সেটাকে বোঝাচ্ছি যখন আমি বলি যে সবকিছুই মনের খেলা ; সবকিছুই মনের দ্বারা খাপ খাইয়ে করা। মন তার ভঙ্গিমা পরিবর্তন করতে থাকে এবং তোমার সাথে খেলতে থাকে, কারণ তুমি মনকে পরিচালনা করতে অনুমতি দিয়েছ। তুমি নিজেকে সন্তুষ্টিতে কেন্দ্রিত কর নি, তাই তুমি মনের পরিচালনায় আন্দোলিত হতে থাক।

তাই আমি বলছিলাম, যদি তুমি দিনের শেষে হাসতে না পার, তার মানে তুমি পুরো ব্যাপারে এখনও গম্ভীর আছ; তুমি এখনও ভাবছ যে তুমি সমস্ত পথিবীকে কাঁধে নিয়ে আছ এবং কেবল তোমার জন্যই সমস্ত পথিবী চলছে।

অস্তিতের সৌন্দর্য

দ্যাপো, একদম গভীরে গেলে যে সত্য পাওয়া যায়, সেটা হল, আমরা অভিতেরই অংশস্থরূপ, অজিতুই পরম বা চড়ান্ত এবং সর্বত্র পরিবাগঞ্চ শক্তি যে সম্পূর্ণ শো নিয়ন্ত্রণ আমাদের স্বাভাবিক প্রকৃতি হ'ল সেই সংযোগকে আবার খুঁজে বার করা যাতে আমরা কোন সমস্যা ছাড়া প্রবহমান হতে পারি। কিন্তু কোথাও আমরা সেই বোধ হারিয়ে ফেলি এবং বস্তপত জিনিষঙলির পিছনে ছুটতে শুরু করি এই ভেবে যেন সেগুলিকে আমরা খুঁজছি।

Section 7

জীবনে যদি একবার চিড়িয়াখানায় গিয়ে থাক, তুমি লক্ষ্য করে থাকবে যে সবচেয়ে লম্না লাইন বাঘ সিংহের খাঁচার সামনে হয়। সর্বদাই লোকেরা অনেক সময় ধরে বাঘ সিংহের সামনে থাকে এবং তাদের দিকে বিস্ময় ও সম্মান সহকারে মুগ্মদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।

না বুঝেই আমরা এরকম করি কারণ, আমাদের চেয়ে বড় ও শক্তিশালী কিছু দেখলে অদ্ভুতভাবে আমরা নিজেদের ভিতরে আশ্বস্ত হই। এটা আমাদের আরাম বোধ দেয় যে আমরা চরম শক্তি নই। আমরা জানি যে আমরা পরম শক্তি নই। আমাদের সত্তা প্রকল্পক্ষে অনেষণ করছে যে কিভাবে এই প্রকার এক বিশালতা বা মহিমার সাক্ষাৎ পাওয়া যায় এবং যে মহিমা এই নিখিল বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে আমাদের আসল ভূমিকা মনে করিয়ে দেবে।

লোকেরা মন্দিরে শুধুমাত্র এই আশাস পাবার জন্য যায় এবং তা তারা বিগ্রহগুলি দেখলে পেয়ে যায়। যারা এই প্রকার আশ্বাসন মন্দিরে পায় না, তা তারা অন্যস্থানে পায়। কিন্তু যে করেই হোক, আমাদের গভীরে আমরা জানি যে আমরা চরম শক্তি নই। এই ভাবনা আমাদের জন্য এক অভিজ্ঞতামলক বাস্তবতা হওয়া উচিৎ। তাহলে অবশ্যই আমরা জানব।

यदि रिमालद्य यांड, जून जुलाई के बाद में दिन को मानी के बाद हो गया है। दिन कि मिश्रद्ध कर रहे हैं कि क হয়, পর্বত হয়ে যায় উপত্যকা এবং উপত্যকা পর্বত হয়ে উঠে যায়, কোথায় তা শুরু হচ্ছে আর কোথায় তা শেষ হচ্ছে বোঝা যায় না। গঙ্গানদী উপত্যকাতে বয়ে চলেছেন বিভিন্ন মেজাজে, নানা চিহ্ন সহকারে, অস্তিতের ভাষায় কলকল করতে করতে ও হাসতে হাসতে। যদি কোন দুনিয়া থাকে যা মানুষ বানায় নি, তা হ'ল হিমালয়। হিমালয় প্রমাণ করে যে মানুষ পরম রাজা নয়।

যখন হিমালয় দেখ, তুমি দেখবে, শত কিলোমিটার ধরে, বরফের পর্বতমালা প্রথমে শুধুমাত্র বরফের পর্বত রূপে দশ্যমান হয়, তারপর পর্বত ও জল, শেষে শুধুমাত্র জল। এ তো প্রকৃতির সবচেয়ে বড় বিস্ময়।

বই যা তোমাকে শব্দ দ্বারা শেখাতে পারে না, শুধু দেখার অভিজ্ঞতা দ্বারা হিমালয় তোমায় শিক্ষদান করতে পারে। তোমাকে কেবল তা গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এক সম্মু নীরবতা সহকারে হিমালয় এক জীবন্ত শফিকেত্র। তোমাকে কেবল সেই সম্ম নীরবতাকে তোমার পভীরে প্রবেশ করতে দিতে হবে। যদি তুমি বোঝ যে তুমি অন্তত্যের একটি কণামাত্র , তুমি কোন প্রশ্ন না করে তাকে অনুগ্রহ ও বিনম্রতার সাথে গ্রহণ করবে।

যখন তুমি অস্তিতের কাছে উন্মুক্ত হও, অস্তিত্ব তোমায় পরিপর্শ করে। তুমি যতটা খুলে ধর, ততটাই সে ভরে দেয়। তোমরা স্বাই ভাব যে ভগবানকে পাবার জন্য তোমাদের অনেক পরিশ্রম করতে হবে। একদম নয়। একটা বানরশিশু কিভাবে তার মাকে আঁকড়ে থাকে দেখেছ? যেন যে কোন সময়ে সে পড়ে যেতে পারে। কিন্তু বিড়ালের ক্ষেত্রে তার মা বিড়ালকে মুখে ধরে রাখে : তাতে বিড়ালছানা একদম সুরক্ষিত থাকে।

তোমাকে ভগবানকে আঁকড়ে থাকতে হবে না। যদি তুমি নিজের কর্তব্য করে যেতে দাও ও বাকীটা ভগবানের ওপরে ছেড়ে দাও, ভগবান তোমায় আঁকড় ধরবে। ভগবানকে ধরা বড় ব্যাপার নয়। ভগবান তোমায় ধরবে, সেটা বড় ঘটনা! এটা হবে যখন তোমার অকুতোভয় নিষ্ঠা থাকে এবং তুমি প্রেম ও সেবার জীবন যাপন কর।

একটা সুন্দর ছোট গল্প :

একজন ঈশ্বর সচেতন প্রেমময় মানুষ তার জীবনে অনেক ভাল কাজ করেছিল। সে জানতে পারল যে একটি লোকের কাছে একটি বিশেষ খাতা আছে, যেখানে যারা ঈশ্বরকে ভালবাসে তাদের নাম লেখা আছে। নিজের নাম সেই খাতায় আছে কিনা দেখার জন্য সে খুব উৎসুক হ'ল এবং সেই লোকটির বাড়ী গিয়ে সেই খাতায় নিজের নাম দেখতে চাইল। সে পুরো খাতা বহুবার খুঁজেও নিজের নাম দেখতে পেল না। ঈশ্বর সচেতন মানুষটি খুব হতাশ হল ও সেখান থেকে চলে গেল।

এক বছর পরে সে আবার এসে সেই খাতায় নিজের নাম দেখতে এল। আবার সে তার নাম সেখানে পেল না। যখন সে চলে যাচ্ছিল, লোকটি বলল, 'দয়া করে একটু অপেক্ষা করুন। এই খাতাটায় যারা ঈশ্বরকে ভালবাসে তাদের নাম আছে। আমার আরেকটা ছোট খাতা আছে যাতে কয়েকটা নাম লেখা আছে। ঈশ্বর যাদের ভালবাসেন, সেই খাতার লিস্টে তাদের নাম আছে।'

এই বলে সে তাকে খাতাটি দেখাল।

ঈশ্বর সচেতন মানুষটি সেখানে নিজের নাম দেখতে পেল।

ভগবানকে প্রেম করা খব সোজা। আর যাই হোক, তিনি তো কত প্রেমময়, কত দানশীল, কত বলবান এবং আরও কত কিছু। তুমি বলে যেতে পার যে তুমি তাকে ভালবাসো; এদিকে হয়ত, যেখানেই থাকবে। কিন্তু যখন তুমি ঈশ্বরকে সত্তান্তরে অনুভব করতে শুরু কর, তোমার পরিবর্তন ঘটবে এবং ঈশ্বর তোমাকে ভালবাসবেন! তুমি দেখবে তুমি কত ভাবে ভালবাসা পাচ্ছ যা আগে জানতে না। ভগবানের সকরুণ প্রেম এরকম।

আমাদের সর্বদা প্রকৃতি, ঈশ্বর ও অস্তিত্ব থেকে সতর্ক থাকতে শেখানো হয়েছে। পথিবী যাতে আমাদের ব্যাথা না দেয় তার জন্য আমাদের চপ্লল পরতে শেখানো হয়েছে। আমাদের গায়ে ব্যুষ্ঠি না লাগাতে শেখানো হয়েছে। হাওয়া চললে ঘরের ভিতরে থাকতে আমাদের শেখানো হয়েছে। জন্তু জানোয়ার থেকে আমাদের দূরে থাকতে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। এই রকম বহু শিক্ষা আমরা পেয়েছি।

আমি বলি, পথীগ্রহে অস্তিত্বই তোমার একমাত্র বন্ধু। তুমি কি জান পথিবীকে অনুভব করে হাঁটা কত চমৎকার? আমি ছোটবেলায় কখনও চটি পরতাম না, কেবল কলেজের নিয়মের জন্য কলেজে যাবার সময় পরতাম। আমি খালি পায়ে হাঁটতাম। সে ঘর হোক, কি স্কুল হোক অথবা আমার পরিব্রজ্যার দিনগুলিই হোক।

এমনকি এখনও আশ্রমে, আমি বেশীরভাগ সময়ে খালি পায়ে হাঁটি। অবশ্য আমার আশেপাশে লোকেরা আমায় চটি পরতে বলে যাতে আমি পায়ে ব্যথা না পাই। আমি তাদের প্রশ্ন করি কিভাবে পাহুটি এখন ব্যথা পেতে পারে; এই পাদ্রটি তো পুরো ভারত জুডে খালি পায়ে ভ্রমণ করেছে!

তুমি এগুলি করে প্রকৃতির সাথে সংযোগ জায়গা দিয়ে চলার পরেও আপনার পাহুটি এত মসূণ ও নিখুঁত কি করে রয়েছে?' আমি তোমাদের এখন বলি : আমি কখনও অস্তিতের বিরোধী হই নি: তাই। সেটাই আসল কারণ। আমি সবসময়ে ভাবতাম যে আমি অস্থিতের এক অংশ।

সর্বদা আমি নিজেকে প্রকৃতির অংশস্থর ভাষি কোনরকম সতর্কতা অবলম্ন না করে, কোন কিছুকে ভয় না পেয়ে ঘুরে বেড়াতাম।

কেল কল্পনা কর যদি তোমাকে অন্ধকার জঙ্গলে বন্য জন্মদের সাথে কোন খাবার ছাড়া এবং পরে কোথায় খাবার পাবে তার ভাবনা ছাড়া, শোবার জন্য আকাশের নীচে ব্যতীত অন্য কোন আশ্রয় ছাড়া, একা থাকতে হ'ত। তোমার কেমন লাগবে? পরাদন্তর আতঙ্কিত হবে, হবে না কি?

তার কারণ তোমাকে কখনও শেখানো হয় নি যে অস্তিত্ব তোমার নির্ভরযোগ্য বন্ধু। তুমি সবসময় মানুষের কাছে সাহায্য চেয়ে এসেছ কারণ তুমি বিশ্বাস করতে যে কেবল মানুষেরাই সাহায্য করতে পারে। তুমি বুঝতে পার নি যে অস্তিতই মানুষের দ্বা সাহায্য করে। সর্বদা তোমার বিশ্বাস ছিল মানুষের ওপরে, অস্তিত্বের ওপরে কখনও নয়।

অস্তিতের ওপরে নিষ্ঠা রাখলে তুমি পথিবীতে প্রভু হয়ে বাস করতে পার। আমি আমার পরিব্রজ্যার দিনগুলি উপভোগ করেছি। যেখানে আমার পা আমাকে নিয়ে গেছে, পরের গন্তব্যস্থলের কোন ধারণা ছাড়াই আমি সেখানে হেঁটেছি। আমি যে কোন ট্রেনে চড়ে পরতাম এবং যে স্টেশনের দশ্যাবলী আমায় আকৃষ্ট করত সেখানে নেমে পরতাম। তখন হিন্দীভাষা জানতাম না এবং আমার পরিব্রজ্যার বেশী সময়ে উত্তর ভারতে ও হিমালয়ে কেটেছিল। আর কাজ চালানোর জন্য কিছু হিন্দী শব্দ শিখেছিলাম।

আসলে কোন ভাষা শেখার জন্য প্রথম প্রতিবন্ধক হ'ল তোমার চিন্তা যে তুমি সেই ভাষাটা জান না। তুমি প্রথমে ভাষাটির বিরূপ হও এবং পরে সেটাকে কঠিন মনে হয়। এখানাও তুমি তোমার সবজান্তা প্রকতি নিয়ে নিজের সাথে বিরোধ করছ।

যাই হোক, বেশীর ভাগ সময়ে আমি একই চলে বেড়িয়েছি, কোন পরিবাজক ভিক্ষুকদলের সাথে নয়। আমি কখনও নিজেকে একা ভাবিনি। অক্টিতের অংশ হয়ে আমি উপভোগ করেছিলাম। যখন প্রকৃতির সাথে সম্বন্ধ করতে পার্, তুমি অস্তিত্বের আনন্দ অনুভব করতে পারবে। আমাকে কখনও খাবারের জন্য ভিক্ষা করতে হয় নি। যখন আমি কুখার্ত হতাম বা অন্য সময়েও, হালকা থাক এবং অস্তিত্ব তোমার যত্ন নেবে।

লোকেরা আমায় জিজ্ঞাসা করে, 'সামীজী, আপনি জীবনে এত কষ্ট করেছেন এবং তারপর আপনার লক্ষ্যে পৌঁছিয়েছেন। আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছুরার জন্য কি আমাদেরও সংগ্রাম করা উচিৎ নয়?' আমি কষ্ট করেছিলাম কারণ আমি একটা তালা খোলার জন্য ১০,০০০ চাবি ব্যবহার করছিলাম। আমি বহু বছর পরে পরীক্ষা করছিলাম ও শেষে সঠিক চাবি পাই। এখন আমার কাছে সেই সঠিক চাবিটা আছে। কেউ চাইলে সেটা আমি তাকে দিতে প্রস্তত। এটা দিয়ে খুলতে তোমার কেবল এক মুহূর্ত লাগবে! অবশ্যই, যদি তুমি মনে কর কর যে তোমাকে কষ্ট করতে হবে, তাহলে সেটা তোমার স্বাধীনতা; আমি তাতে হস্তক্ষেপ করব না!'

প্রশ্ন : ধ্যান কিভাবে পরিতৃপ্ত অনুভব করতে সাহায্য করে?

যখন তমি একটানা ধ্যান করে তুমি কোমল ও ভেদনীয় হও। তুমি বহুরন্ধু, সংবেদনশীল ও সজাগ হও। তুমি দেখবে যে তোমার চেতনা প্রতিটি নিমেষে প্রসারিত হচ্ছে। তোমার চেতনা তোমার ভাবনা ও কাজ নির্ণয় করে। তাই বারংবার আমি তোমাদের ধ্যান করতে বলি। সেটা তোমাদের চেতনাকে বিশুদ্ধ করবে। জিনিষগুলি তোমার কাছে আরও স্পষ্ট হবে।

তুমি অনুভব করতে সমর্থ হবে যে মন থেকে তোমার কেন্দ্র হৃদয়ে সরে যাচ্ছে। যখন তোমার মধ্যে দুরত্ব বাড়ে , তোমার সমগ্র সত্তা এক ভিন্ন অনুভবে স্পন্দিত হয় এবং এই অনুভবই পরিতৃষ্ঠিত, এক গভীর পরিপূর্ণতা, কোন কারণবিনা পূর্ণতার প্রতি এক গভীর প্রেম, এক অবিরাম হর্ষ ও আনন্দের উপলব্ধি।

নকারাত্মক চিন্তা ও অত্পির জন্য যত শক্তি আগে খরচা করেছ, তা বিষুক্ত হবে এবং তুমি আনন্দময়, সংহত ও শক্তিতে ভরপুর অনুভব কর। তখন কৃতজ্ঞতা তোমার প্রার্থনা হয়ে যায় এবং 'তোমাকে ধন্যবাদ' হয়ে যায় তোমার মন্ত্র!

ঘুমাতে যাবার সময়, অস্তিত্বের সাথে আরও একদিন কাটানোর জন্য এক গভীর কৃতজ্ঞতা সহকারে ঘুমাতে যাও। যখন ঘুম থেকে ওঠ, অস্তিত্বের সাথে আরও একদিন কাটাতে পারবে বলে এক গভীর কৃতজ্ঞতা সহকারে উঠে পড় ! কতজ্ঞতাকে একদম তোমার সত্তা বানিয়ে ফেলার জন্য এটাই সবচেয়ে সহজ ও সর্বোত্তম কার্যকর ধ্যান।

Section 8

আমি তোমাদের বলি, কেবল কৃতজ্ঞতাকে অনুভব করে ও তা তোমার সত্তা থেকে কিরণবর্ষণ করে, তুমি পৃথীগ্রহের চেহারা পালটে ফেলতে পার। সন্ত্রাসবাদ, যুদ্ধ, ধর্মান্ধতা, অস্বাস্থ্য, দারিদ্র ইত্যাদি সবই সমূলে উৎপাটন করা যায় যদি কৃতজ্ঞতা সম্বন্ধ সজাগতা সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, যদি প্রতিটি মানুষের মধ্যে কৃতজ্ঞতা নিয়ে আসা যায়।

যখন প্রত্যেকে কৃতজ্ঞতা অনুভব করে ও তা বিকিরণ করে, তখন কোন ভালবাসা থাকবে না, কোন স্বা शाकरव ना। क्वल वर् वक्ति कावना माता विद्युन मास्क नकावाज्यक्रणन मण्डा जिलिएका विनाम कबा याय, कानव নকারাত্মকতার সমস্ত ভিত্তি এর দ্বারা লুপ্ত হয়ে যাবে। এটাই কতজ্ঞতার মাধুর্য !

ঠিক আছে; এখন আমাদের কিছু সময় ধরে একটা সুন্দর ধ্যান করা যাক, যার নাম সহস্রার ধ্যান - কতজ্ঞতার ধ্যান।

আবেগ : কৃতজ্ঞতা চক্র : সহস্রার চক্র অবস্থান : মাথাও ওপরে

সংস্কৃতে সহস্রার অর্থ 'হাজার পাপড়ি সহকারে প্রস্কুটিত।' এই চক্র সক্রিয়া হলে মাথার তালুতে হাজার পাপড়ি সহকারে প্রস্ফুটিত পদ্মের এক নিগৃঢ় অতীন্দ্রিয় (mystical) অভিজ্ঞতা হয়।

অসন্তুষ্টি এবং জীবনের সবকিছুকে অবধারিত বলে ধরে নেবার মনোভাব থাকলে এই চক্র তালাবদ্ধ থাকে। উচ্ছুসিত কৃতজ্ঞতা ও পরিতৃপ্তি দ্বারা এই চক্রকে প্রস্ফুটিত করা যায় !

গভীর কৃতজ্ঞতায় প্রক্ষুটিত হওয়ার ধ্যান প্রক্রিয়া : সহস্রার ধ্যান, এটি সুফি সম্প্রদায়ের একটি খ্যান প্রক্রিয়া।

সহস্রার ধ্যান (পুরো সময় : ৬০ মিনিট)

নিত্য-ধ্যান এই ধ্যানের অংশ

নিত্যধ্যান কেন?

আবেগ ও চিন্তা আমাদের মানসিক গঠন ও মনোভাবের জন্ম দেয়। আবেগ ও ভাবনাগুলির খেলা বুঝতে পারাই সেগুলিকে অতিক্রম করার প্রথম ও শেষ ধাপ। মন থেকে আনক্লাচ্ (unclutch) করার জন্য ও মনকে অতিক্রম করার জন্য, নিত্যপ্যান নিত্যানন্দ দ্বারা পরিকল্পিত একটি ৩৫ মিনিটের ধ্যান প্রক্রিয়া।

মানুষ তার স্বাভাবিক প্রকৃতি অনুযায়ী এক আনক্লাচ্‌ড় ও আনন্দপূর্ণ সত্তা। আমরা আন্‌কক্লাচ্‌ড্‌ বলতে কি বোঝাইং

((আন্তরাষ্ট্র, unclutch, একটি নতুন শব্দ এটি আধ্যাত্মিক জগতকে ও ইংরাজী ভাষাকে পরমহংস নিত্যানন্দের দেওয়া এক উপহার। শব্দটি খুবই শক্তিশালী। আমরা এখানে এই শব্দটির কোন বাংলা অনুবাদ করতে চাই না। আনু ক্লাচ করলে আনুক্লাচ্ছ অবস্থায় চলে যাওয়া হয়। ইংরাজীতে ক্লাচ্‌ মানে আঁকড়ে ধরা। তাই আনুক্লাচ-এর অর্থে আঁকড়ে ধরার বিপরীত তাৎপর্য আছে এবং আনুরাচ মানে 'ছেড়ে দেওয়া' বা 'বন্ধন খোলা' বা 'সুক্ত করা' বলা যেতে পারে। যাই হোক, আমরা বিশ্বব্যপী প্রচলিত আনুক্লাচ্ শব্দটি বাংলায় প্রয়োগ করব, কারণ স্বামীজী শব্দটিতে বিশেষভাবে শক্তির সঞ্চার করেছেন।))

আমাদের মধ্যে উদ্ভূত হওয়া প্রতিটি চিন্তা বুদুদের মত , তা তৈরি হয়, ওঠে ও মিলিয়ে যায়। প্রতিটি চিন্তা পরবর্তী চিন্তা আসার আগে স্বতন্ত্রভাবে আবির্ভূত হয় ও মিলিয়ে যায়। দুষ্টান্তস্বরূপ, যদি তুমি একটি চেয়ারে বসে থাক ও হঠাৎ উঠে পর, তাহলে লক্ষ্য কর যে যেই মুহূর্তে তুমি উঠে পরার নির্ণয় নিয়েছ সেই মুহূর্তে বসে থাকার চিন্তা তোমাকে ছেড়ে গেছে। যদি তুমি কম্পিয়ুটারে কাজ করছ ও তাকে শাট ডাউন বা বন্ধ করা ঠিক কর, সেই মুহূর্তে তোমার কাজ করার ইচ্ছার চিন্তা মিলিয়ে গেছে। তাই প্রতিটি চিন্তাই অন্য চিন্তার সাথে অসংযুক্ত এবং চিন্তাগুলি ধারাবাহিকভাবে একটার পর আরেকটা হয়ে যেতে থাকে। পরবর্তী চিন্তা আসার আগে পূর্ববর্তী চিন্তাটিকে মিলিয়ে যেতে হবে। এটাই আমাদের আসল প্রকৃতি।

আমাদের স্বাভাবিক প্রকৃতি হ'ল প্রতিটি মুহূর্তে চিন্তাগ করতে থাকা; প্রতিটি চিন্তাকে বুদ্বুদের মত উঠতে দিয়ে তাকে ফাটিয়ে ফেলা এবং পরের চিন্তান উঠে আসতে দেওয়া। আমাদের চিন্তার কেবল এক উল্লয় (vertical) অন্তত্ব আছে, বুদ্বুদ ওঠার মত।

চিন্তাগুলির সাথে সংযুক্ত না হয়ে তাদের উঠতে দেওয়ার প্রক্রিয়াকে আমরা আন ক্লাচড় হওয়া বলি। যতক্ষণ এই স্বাভাবিক প্ৰক্ৰিয়াকে ঘটতে দেওয়া যায়, ততক্ষণ সব ঠিক আছে।

কিন্তু আমরা কি করি? আমরা এই চিন্তাগুলিকে এলোমেলোভাবে যথেচ্ছভাবে সংযুক্ত করতে আরম্ভ করে এবং একটি দণ্ড বা শাফ্ট্ (shaft) वानिया कलिंग वायरस देविक मराया माना जन्ना जन्म (vertical) 3 वानक्लाफ़् व्यक्तियादक वनूनुस्तिक (horizontal) वानिद्य एकलि। अथान र मानाव मुवादा एक का किसक से किसक सेक्ट एक आ उ शिलिय राज करण करना হয়, আমরা আমাদের শারীরিক ও মানসিক স্তরে যে কোন পরিমাণ ভার বহন করতে পারি এবং আমাদের চেতনা লঘু ও আনন্দপূর্ণ থাকে। একবার চিন্তাগুলি সংযুক্ত করতে থাকলে, আমাদের চেতনা কষ্ট পায় এবং আমরা ভারপ্রস্ত অনুভব করতে শুরু করি। তাতে আমাদের সত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সমস্ত আবেগ যেমন দুশ্চিন্তা, কাম, অসন্তুষ্টি, ঈর্য, আমিতু এবং দুষ্টি আকর্ষণের চাহিদা, এগুলির একমাত্র কারণ হ'ল, স্বাধীন ঘটনাবলীর মধ্যে ও স্বাধীন চিন্তা সমূহের মধ্যে আমরা সংযোগ খুঁজে বার করি এবং আমাদের নিজেদের জন্য এক ধারণার সঙ্গি করি এবং সেই ধারণার সাথে নিজেদের সম্পর্কিত করা শুরু করি। আমাদের চিন্তাগুলি দ্বারা আমরা একটা কাল্পনিক শাফ্ট্ বানিয়ে ফেলি ও সেইজন্য কষ্ট পাই।

এই আবেগঞ্জলিই পৃথিবীতে ধর্মীয় যুদ্ধ, সামাজিক সংঘাত অথবা রাজনৈতিক উত্তেজনা - সমস্ত প্রকার হিংমতার সৃষ্টি করে। আমাদের আবেগই সমস্ত হিংসার ভিত্তি এবং আমাদের আবেগঞ্জলির ভিত্তি হ'ল আমাদের চিন্তাগুলি দ্বারা কালানিক নানা শাফ্ট্ তৈরির স্বভাব এবং সেই শাফ্টগুলিকে আমাদের ওপরে কাজ করার জন্য ক্ষমতা প্রদান করা।

এই দণ্ড বা শাফ্ট্ তৈরির সময়ে প্রধান জিনিষ যেটা আমরা সুখ চাই না দুঃখ চাই তার ওপরে নির্ভর ক'রে আমরা চিন্তাগুলি পছন্দ করি। আমরা যথেছেভাবে সুখের চিন্তাগুলিকে উঠিয়ে নিই এবং তাদের সংযুক্ত করে সুখের শাফ্ট্ বানাই অথবা নকারত্বক চিন্তাগুলিকে উঠিয়ে নিয়ে দুঃখের শাফ্ট বানাই। আমরা আমাদের জন্য সুখ ও দুঃখের শাফ্টগুলি পর্যায়ক্রমিকভাবে সষ্টি করতে থাকি এবং এই আবেগের মধ্যে আন্দোলিত হতে থাকি। এই শাফ ট থেকে আনক্লাচ করাই আনন্দময় জীবনের জন্য প্রধান সত্র।

যদি তুমি গভীরভাবে বিশ্লেষণ কর যে আমরা কিভাবে চিন্তাগুলিকে মিলিয়ে যেতে না দিয়ে তাদের সংযুক্ত করি , তাহলে তুমি বুঝবে আমরা কিভাবে আমাদের জন্য দুঃখকষ্ট সঙ্গি করি। মনই এই সংযুক্ত করার কাজ করে। আসলে তো চিন্তাগুলির মধ্যে কোন রকম সংযোগ নেই।

আমাদেরকে সর্বদাই শব্দ (কথা) ও চিন্তা ভঙ্গণ করে থাকতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাই আমরা এই শাফটগুলি তৈরি করি। আমরা শব্দ ভক্ষণ করি কারণ আমরা সবসময়ে ভয় ও লোভ থেকে কাজ করি। ভয় ও লোভ থেকে আমরা আমাদের চিন্তাগুলিতে সংযোগ সাধন করি। আমরা এই প্রক্রিয়াটাকে ছেড়ে দিতে পারি না, কারণ যদি আমরা তাকে ছেড়ে দিই, আমাদের ধরে থাকার জন্য কিছুই থাকবে না। আমরা কখনও মনের এক আনক্লাচড অবস্থা অভিজ্ঞতা করি নি যেখানে কোন শাফট নেই, যেখানে আছে শুধুমাত্র বদ্বদের মত চিন্তা।

আনুরুাচ্চ অবস্থায় ভয় ও লোভের কোন সুযোগ নেই। তুমি কেবল 'থাকবে', ব্যাস। এই মাত্রা আমরা কদাচিৎ অভিজ্ঞতা করি কারণ আমরা চিন্তাগুলির দ্বারা তৈরি সুপরিচিত শাফটে ক্লাচ করতে (আঁকড়ে ধরতে) অভ্যন্ত হয়ে গেছি।

একটা ছোট গল্প :

একজন চোখের ডাকার এক জন্মান্ধ মানুষকে পরীক্ষা করল। ডাকার তাকে আশঙ্কা করল, 'একবার আপনার চোখ অপারেশন করি, আপনি দুষ্টিশক্তি পেয়ে যাবেন এবং আপনার লাঠিটা ফেলে দিতে পারবেন।'

অন্ধ মানুষ তা শুনে ভয় পেল। সে জিজ্ঞাসা করল, 'আমি বুঝলাম আমার দুষ্টিশক্তি পেয়ে যাব, কিন্তু লাঠি ছাড়া আমি চলব কি করে?'

লোকটি লাঠি নিয়ে চলতে এতই অভ্যন্ত যে ব্যবহে পারছে না যে দষ্টিশক্তি পেয়ে গেলে তার চলার লাঠি আর লাগবে না ! একইভাবে যখন সত্য হ'ল এই যে আমরা আনক্লাচড অবস্থায় আনন্দে থাকতে পারি, আমরা বিস্মিত হই যে চিন্তার শাফটে ক্লাচ না করে আমরা কিভাবে থাকব। আমরা এটাকে অপরিহার্য মনে করি।

আমরা দেখতে অসফল হই যে পুরো ব্যাপারটা কত অবাস্তব। আমাদের মন একটা ভ্রম। আমরা তাকে ক্ষমতা দিয়েছি এবং তার গোলাম হয়ে গেছি৷ এটা তো একেবারে মনের জন্য গোলামী৷

শুধু তোমার মধ্যে চিন্তাগুলিকে উঠতে লক্ষ্য করা স্পষ্টভাবে দেখ কিভাবে প্রতিটি চিন্তার উদয় হয় ও মিলিয়ে যায় এবং পরবর্তী চিন্তা এসে পরে। প্রত্যক্ষ করে তার কিন্তাগুলিকে অনায়াসে সংযুক্ত কর া হয়েছে করে এবং ভাবনা ও ধারণা সঙ্গি করা প্রত্যক্ষ কর কিভাবে এই ধারণাগুলি তোমার সাথে খেলা করে; তুমি বুঝতে পারবে কিভাবে তুমি এই অলীক কল্পনাগুলির সঙ্গি করা চিন্তাগুলিকে সংযুক্ত করাই আদি পাপ (original sin)।

আনক্লাচড অবস্থায় বাস করাই আনন্দন জীবনযাপনের একমাত্র উপায়। শুধু ফয়সালা কর যে তুমি কখনও দুটি চিন্তাকে সংযুক্ত করবে না, যে তুমি কোন চিন্তা বা ঘটনা সম্বন্ধে কোন প্রকার রায় দেবে না। যেই মুহূর্তে তুমি দেখবে যে তুমি সংযোগ করছ, তখন তার থেকে একদম আনক্লাচ করে ফেল। যখনই এই প্রক্রিয়া মনে পরে, আনক্লাচ করতে থাক; তোমার মানসিক গঠন স্বতশ্চলভাবে রূপান্তরিত হবে।

যখন আনক্লাচড অবস্থায় কাজ কর, দেখবে যে তোমার ধারণক্ষমতা বাড়ছে: তুমি কোন চাপে না পরেই অনেক বেশী দায়িত্ব নেবে: সখ ও দুঃখের মধ্যে তোমার মেজাজ আন্দোলিত হতে দেখবে না: তমি সর্বদা আনন্দপর্শ থাকবে। আমরা কারণ সহকারে আসা সুখের সাথে একদম অভ্যন্ত হয়ে গেছি। এই কারণও একটি শাফ ট যেটা আমরা আমাদের চিন্তাগুলি দ্বারা সঙ্গি করি। একবার এই শাফটগুলি বানানো বন্ধ করলে তুমি সর্বদাই আনন্দময় হয়ে থাকবে।

আনক্লাচড মানে এই নয় যে তুমি তোমার চারিদিকের লোক ও পরিস্থিতি থেকে নির্লিশ্চ, নিরুতাপ ও আগ্রহীন হয়ে থাকবে। শুধুমাত্র তোমার চিন্তাগুলিকে সংযুক্ত কোরো না এবং শাফট্ বানাবার প্রক্রিয়া শুরু কোরো না, ব্যাস।

মনে রেখ যে তুমি স্নাভাবিকভাবে একজন সুন্দর ও আন্কাচড় সত্তা, সেটাই যথেষ্ট। তুমি নিজের জন্য ও অপরের জন্য কষ্ট সঙ্গি করা বন্ধু করবে।

निवासान जातान मनीतिवन कित्तरणून मानिकनुकुलनाक एक करव उ जान मानित मकान करना पर माकिक्कमुखलि

আন্দোলিত আবেগ ও সঞ্চিত নকারাত্মক স্মতির জন্য দায়ী। নিত্যধ্যান তোমার সিস্টেমে প্রগায় সজাগতা আনে ও অন্তর্গ্ধ জাগরিত করে। নিত্যধ্যান তোমার চেতনার বর্ধমান বিস্ফোরণের অভিজ্ঞতার কারণ হয় এবং এই চেতনা তোমাকে পরিপর্ণ জীবনের দিকে চালনা করতে পারে। নিত্যধ্যান গভীরে খোদিত নকারাজ্জক স্মতি ও নিগ্রহগুলিকে দুর করে।

তোমার দেহ, মন ও আত্মার আসল প্রকৃতি অভিজ্ঞতা করার জন্য ধ্যান তোমায় পরিত্র করে ও ভিত স্থাপন করে। যে দেশে মন কিছুই আঁকড়ে ধরা ক্লাচ করে না, নিত্য আনন্দের সেই দেশের সাথে সংযোগ সাধন করার জন্য ধ্যান একটি সরাসরি প্রক্রিয়া।

নিত্যধ্যান প্রক্রিয়া তোমাকে ভারতে তারা কেন্দ্রে এবং তোমাকে দেহ, মন ও আত্মার সাথে সম্পর্শ ঐক্যানে থাকতে দেয়। নিত্যধ্যান দ্বারা অন্তর্গ্বীকে জাগিয়ে শক্তি হিসাবে ব্যবহার করে অন্তর্জগৎ ও বহির্জগতে শ্রেষ্ঠতর হওয়া যায়।

এটি একটি পাঁচ ধাপের পরিচালিত ধ্যান প্রক্রিয়া। দয়া করে মনোযোগ সহকারে নির্দেশগুলি শোন।

নিৰ্দেশ্যৰলী :

ধাপ ১

কোমরে হাত রেখে বজাসনে বস। মেঝেতে মাদুর বা শতরঞ্চি পেতে পা বিস্তৃত করে বস। এবারে পা দুটি একটার পর আরেকটা হাঁটু থেকে ভাঁজ কর এবং পাছা গোড়ালির ওপরে রাখ, তোমার পায়ের আঙ্গলগুলি বাইরের দিকে করে থাকবে। তোমার হাত কোমরে। অসুবিধা হলে ছোট বালিশ বা তোয়ালে রোল করে গোড়ালির নীচে রাখতে পার। মাথা, গলা ও মেরুদণ্ড সোজা করে একই সরলরেখায় রেখে আরাম করে বস। এখন চোখ বন্ধ করে এবং এলোমেলো বা অব্যবস্থিতভাবে ৭ মিনিট ধরে শ্বাসপ্রশ্নাস নাও। শ্বাসপ্রশ্নাসে কোন তাল বা লয় থাকবে না। শুধু তোমার সমস্ত শরীর দিয়ে জোরে জোরে, যত জোরে পার গভীরভাবে ও অব্যবস্থিতভাবে তোমার পেটের নীচের থেকে শ্বাসপ্রক্রিয়া চালিয়ে যাও।

ধাপ ২

বজাসনে বহাল থাক। আঙ্গুলম্বারা চিনমুদ্রা রচনা কর। চিনমুদ্রা এইভাবে করা হয় : হাত দুটি হাঁটুতে রাখ। হাতের খোলা তালু ওপরদিকে করে থাকবে। তর্জনীর ডগা বুড়া আঙ্গুলের ডগাকে ছোঁবে ; তাতে একটা ব্যত্ত তৈরি হবে। অন্য তিনটি আঙুল, বাহু ও হাত আরাম করে রাখা থাকবে। তুমি এখন ৭ মিনিট ধরে এই ভঙ্গীতে যত জোরে পার, যত তীব্র পার ও যত লম্বা পার, ঠোঁটদুটো মিলিত রেখে নাভি অঞ্চল থেকে গুঞ্জনধ্বনি (মমমমমম... ধ্বনি) কর। তোমার সম্পর্ণ চেতনা গুঞ্জনে লাগাও। গুঞ্জন হয়ে যাও। এটা আসলে মহামন্ত্র গুঞ্জন। (তৃতীয় অধ্যায়ের শেষে মহামন্ত্র ধ্যান করা হয়েছিল)

এখন তুমি চাইলে পা আড়াআড়ি করে মাটিতে বসতে পার বা বজ্রাসনে বহাল থাকতে পার। এবার ৭ মিনিট ধরে তুমি তোমার সজাগতাকে মূলাধার চক্র থেকে সহস্রার চক্রে নিয়ে যাবে। মুলাধার চক্র - মেরুদণ্ডের গোড়াতে স্বাধিষ্ঠান চক্র - মুলাধারের ২ ইঞ্চি ওপরে মণিপুরক চক্র - নাভি কেন্দ্রে অনাহত চক্র - হৃদয় কেন্দ্রে বিশুদ্ধি চক্র - কন্ঠ কেন্দ্রে আজ্ঞা চক্র - ভ্রুদ্বয়ের মাঝে সহস্রার চক্র - মাথার ওপরে

প্রতিটি চলে এক মিনিট ধরে এই প্রকার সজাগতা সহকারে থাক : চক্রটি পরিতে পূর্ণ এবং চক্রটি বিকিরণ

নিশ্চিত সমাধান

করছে চিরন্তন আনন্দ, নিত্য আনন্দ, নিত্যানন্দ।

ধাপ ৪ নীরবতা পালন করে ৭ মিনিট ধরে আনক্লাচ কর।

কতজ্ঞতা জানাবার জন্য পরিচালিত ধ্যান

এই পরিচালিত ধ্যান সুফিদের থেকে নাওয়া।

সোজা হয়ে বস। হাতে কিছু ফুল নাও ও চোখ বন্ধ কর। তোমার সহস্রার চক্রে কেন্দ্রীভূত হও। শরীরের অন্য সমস্ত অংশ ভুলে যাও। শুধুমাত্র তোমার মাথার তালুর কেন্দ্রে কেন্দ্রে কেন্দ্রীভূত হও এবং সেখানে আরাম কর। মুখে যেন একটা হাসি থাকে এবং স্বস্তিতে থাক।

তোমাকে এই শরীর প্রদান করার জন্য, তোমার সম্পর্ণ সত্তার সাথে তোমার মাতাকে কতজ্ঞতা জানাও। মাকে মনে কর এবং তোমার সমগ্র সত্তার সাথে মাকে কৃতজ্ঞতা অর্পণ কর।

কতজ্ঞতা অর্পণ কর তোমার পিতাকে, তোমাকে এই জীবন প্রদান করার জন্য এবং তোমার সকল প্রয়োজনের যত্ন নেবার জন্য।

কৃতজ্ঞতা অর্পণ কর সব ডাক্তার ও নার্সদের, যারা তোমাকে এই পথিবীতে প্রথম অভ্যর্থনা করে।

কতজ্ঞতা অর্পণ কর তাদের, যারা সেই হাসপাতাল বা বাড়ি নির্মাণ করেছিল, যেখানে তোমার জন্ম হয়।

কৃতজ্ঞতা অর্পণ কর তাদের, সবাইকে যারা তোমাকে শৈশবে যত্ন নেয়।

কতজ্ঞতা অর্পণ কর তাদের, যারা ছোটবেলায় তোমার খাবার, কাপড় ও বেঁচে থাকার জন্য কাজ করেছে।

কতজ্ঞতা অর্পণ কর তোমার বিদ্যালয়ের সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের, যারা তোমায় প্রাথমিক শিক্ষা প্রদান করে।

কতজ্ঞতা অর্পণ কর তোমার ছোটবেলার সমস্ত বন্ধুদের যারা তোমার জীবনকে খুশী ও আনন্দপূর্ণ করেছিল , যারা তোমার সাথে তাদের সরলতা ও খুশী শেয়ার করেছিল।

কতজ্ঞতা অর্পণ কর তোমার ভাইরোনদের ও অন্যান্য আত্মীয়মজনদের, যারা তোমাকে প্রতিপালন করেছিল। জেনে বা না জেনে, সচেতন বা অচেতনভাবে, যদি তাদের কোনভাবে আঘাত দিয়ে থাক তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর।

ক্তজ্ঞতা অর্পণ কর সকল মানুষদের, যারা তোমাকে পেশাগত শিক্ষা প্রদান করে, যারা তোমাকে তোমার পেশায় দাঁড়াতে সাহায্য করে, যারা তোমাকে তোমার নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহস দেয়।

কতজ্ঞতা অর্পণ কর তাদের, যারা দরকার মত তোমাকে আর্থিক দিক থেকে সহায়তা করে।

ক্ততজ্ঞতা অর্পণ কর সমস্ত ডাক্তারদের ও নার্সদের যত্ন নিয়েছে, যারা তোমাকে যখন দরকার তখন চিকিৎসা সংক্রান্ত সহায়তা করেছে।

কৃতজ্ঞতা অর্পণ কর তোমার পত্নী বা পতিকে, যে তোমাকে জীবনে ভালবাসা ও সুরক্ষা দিয়েছে। তাদেরকে ক্ষমা কর যদিও তাদের কোন কাজ হয়ত তোমায় আঘাত দিয়েছিল। তাদের ক্ষমা প্রার্থনা কর, যদি জেনে বা না জেনে কোন কাজ করে তাদের কোনভাবে আঘাত দিয়ে থাকে।

কৃতজ্ঞতা অর্পণ কর সমস্ত মানুষদের, যারা তোমাকে উৎসাহিত করেছে এবং তোমাকে তোমার আধ্যাত্মিক জীবনের জন্য অনুপ্রেরণা দিয়েছে।

কতজ্ঞতা অর্পণ কর তাদের সবাইকে যারা কোন না কোনভাবে তোমাকে সারা জীবন ধরে সেবা করেছে : গোয়ালা যে দুধ দিয়ে যায়, মুদী, খোপা, জঞ্জাল সংগ্রহকারী, তোমার ড্রাইভার, যাদেরকে তুমি ধরেই নিয়েছিলে যে তাদের তো এসব কাজ করতেই হবে। তাদের যদি ইচ্ছা করে বা ইচ্ছা না করে, সচেতনভাবে বা অচেতনভাবে, কোনভাবে আঘাত দিয়ে থাক, তবে তার জন্য তাদের কাছ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করে।

কতজ্ঞতা অর্পণ কর তোমার শত্রুদের যারা তোমাকে আঘাত করেছে, যারা তোমায় বলবান ও ক্ষমশীল তৈরি করেছে। যদি তাদের কোন আঘাত দিয়ে থাক, তার জন্য তাদের ক্ষমা প্রার্থনা কর।

कृत्वजन वर्ण कर वार्मव मनारिक यात्रा जानादक भारतीविकलाव, मानाजिक्कादव, जार्थिकलाव, वार्थिकारव ववर আধ্যাত্মিকভাবে সাহায্য করেছে।

তাদের সবাইকে এক এক করে মনে কর এবং নিজের সময় নিয়ে কতজ্ঞতা অর্পণ কর।

কতজ্ঞতা অর্পণ কর তোমার শরীরকে এবং তার সমস্ত অংশদের - এক এক করে।

কতজ্ঞতা অর্পণ কর তোমার মনকে তার অলৌকিক কাজকর্মের জন্য।

কতজ্ঞতা অর্পণ কর ঐশ্বরিকতাকে, পর্ণতাকে, ভগবানকে - এই সকল জিনিষ তোমার জীবনে সম্ভব করার জন্য।

ধাপ ৫

শেষের সাত মিনিট ধরে তুমি বসে থেকে 'গুরু পুজা মন্ত্র'-এর স্তব করতে পার অথবা ক্যাসেট বা সিডি প্লেয়ারে হওয়া স্তবের সাথে বয়ে চলতে পার এবং অস্তিত্ব ও জীবনমুক্ত মাস্টারদের মহান পরস্পরাকে তোমার কতজ্ঞ তা অর্পণ কর। তোমার সমস্ত সত্তা দিয়ে তোমার কতজ্ঞতা অর্পণ কর।

এবারে তুমি তোমার পুষ্প অর্পণ কর