46. প্রশ্ন : কিন্তু হাসার জন্য তো আমাদের একটা কারণ চাই। কৌতুকপূর্ণ কিছু না পেয়ে আমরা কিভাবে হাসার সিদ্ধান্ত নেব ?
Section 1
প্রশ্ন : কিন্তু হাসার জন্য তো আমাদের একটা কারণ চাই। কৌতুকপূর্ণ কিছু না পেয়ে আমরা কিভাবে হাসার সিদ্ধান্ত নেব ?
আমরা সর্বদাই ভাবি যে আমাদের হাসার জন্য একজন কমেডিয়ান অথবা কোন জোক বা রসিকতা চাই। বর্তমান মুহূর্তে বাস করা শুরু করলে তোমার অস্তিত্ব। তোমার শাসপ্রশ্নাস, শরীরের ভিতরে খাদ্য রক্তে রূপান্তরিত হওয়ার প্রক্রিয়া, অস্তিত্বে সমলয়ে ঘটনাগুলি ঘটতে থাকা; সবই কতই না সুন্দর হবে। তুমি কর্তই না সুন্দর হবে। তুমি সর্বদা সহাস্যে থাকবে। তোমার সম্পর্ণ সত্তা হাস্য এবং আনন্দ ঝরাতে থাকবে।
রসিকতায় হাসা ঠিক আছে, কিন্তু অস্তিত্বের সাথে সুর মেলালে তুমি এই বিরাট মহাজাগতিক নাটক কেবল উপভোগ করবে এবং मरकिकूट राज्य। उथन भरोवणन कान स्वान नरे, वासिट्ठन कान जायना निरे। जूनि चान कोठेन नए। जूसि वर्षुक्त (porous) ও কৌতুকপূর্ণ হয়েছ। তখন তুমি অস্তিতের খেলা সম্পর্কে এক গভীর উপলব্ধি তৈরি কর এবং তুমি হাস।
তুমি দেখতে সক্ষম হও যে প্রত্যেকেই কেবল এক অভিনেতা যে তার ভূমিকা সম্পর্কে কত গম্ভীর বা রাশভারী হয়ে পড়েছে এবং তুমি তাতে হাস। এই অভিনয়ের সময় একে অপরকে কিভাবে প্রতারিত করছে দেখে তুমিও এক খেলা খেলছ বুঝে তুমি হাস! যখন তুমি হাসতে পারছ, তুমি প্রত্যক্ষদর্শী হয়েছ এবং যখন প্রত্যক্ষদর্শী হ'লে, তুমি আমিনু, মানে 'আমি' ও 'আমার', থেকে আলাদা হয়েছ।
একটা ছোট গল্প :
আধ্যাত্মিকতার আসল অর্থকে উদ্দেশ্য করে বৌদ্ধ সন্ত্রাসীদের এক সম্মেলন হয়। প্রত্যেক সন্ন্যাসী মঞ্চে গিয়ে লম্বা লম্বা ভাষণ দিলেন।
সবশেষে এক জেন-সাধুর পালা। তিনি মঞ্চে গিয়ে কেবল হাসতে থাকলেন। তিনি তাঁর সত্তা থেকে হাসতেই থাকলেন। হাসি তাঁর পেট থেকে উঠছিল। তিনি হাসির সাথে ভীষণভাবে আন্দোলিত হতে থাকলেন।
তাঁর হাসি এত সংক্রামক ছিল যে সেখানে সবাই কিছু না জেনেই হাসতে লাগল ! সব সন্নামীদের হাসি সেই স্থানে সকারাত্মক শক্তির এক বিরাট ঢেউ সঙ্গি করল। সন্ন্যাসীরা এক অতি উচ্চ অবস্থায় পৌঁছালেন। তাদের চিন্তা চূণবিচুর্ণ হয়ে গেল এবং তাদের সত্তা আনন্দে ভরে গেল।
জেন সাধু শেষে বললেন, 'এটাই আসল আধ্যাত্মিকতা।'
হাসি সর্বোচ্চ আখ্যাত্মিক গুণ। তা তোমাকে জীবনমুক্ত করতে পারে! হাসি এক মহৎ নিরাময়-শক্তি। যদি তুমি তোমার রোগকে দেখে হাস, তুমি নীরোগ হবে। অন্তিত্বের শক্তির সাথে সংযুক্ত হবার জন্য হাসি এক সুন্দর উপায়। হাসি তো এক বিশুদ্ধ নিরাময় শক্তি।
আমাদের ধ্যান অনুষ্ঠানে আমরা সর্বদাই হাস্য ও নৃত্য অন্তর্ভুক্ত করি। বুদ্ধ হবার জন্য তা সবচেয়ে সহজ উপায় ! নাচ তোমাকে সরল ও হালকা করতে পারে। হাস্যের মত নতাও এক সহজ এবং উপভোগ্য ধ্যান। চিন্তামুক্ত হয়ে যখন তুমি নিজেই নত্য হয়ে যাও। তখন তোমার থেকে শক্তি প্রবলভাবে প্রবাহিত হয়।
চিন্তামুক্ত হয়ে তুমি তখনই নাচতে পার্টি তুমি তোমার মেকি পরিচয় থেকে মুক্ত হয়েছ। যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি ভাব যে তুমি একজন কেউ, আনন্দে না। নত্য অন্তরের আনন্দের এক বহিঃপ্রকাশ। আর আমি প্রোগ্রাম করা নাচের কথা বলছি না যেখানে কোন পদক্ষেপের পরে কোন পদক্ষেপ আসবে তা আগে থেকেই ঠিক করা থাকে। আমি বলছি তোমার তথাকথিত পরিচয়কে মুছে ফেলে অস্তিত্বের সাথে এক হয়ে যাওয়া সম্বন্ধে এবং সেই আনন্দে নেচে ওঠা প্রসঙ্গে।
আত্ম-সচেতন মানুষেরা আত্মশ্লায়ী (egoist)। অন্যেরা তাদের নাচ দেখে কি বলবে তাতে তারা বিব্রত। তাই তারা চপচাপ বসে থাকে। তারা তাদের আমিত্বকে পাহারা দেয় এবং জীবনের আনন্দকে একদম হারিয়ে ফেলে।
কখনোসখনো তোমার ঘরে কোন গান বাজাও ও তার সাথে নত্য কর। একদম ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নাও। তা একটা গভীর ধ্যান হতে পারে এবং তা তোমাকে তোমার মনের সীমা অতিক্রম করাতে পারে এবং তোমাকে একভাবে রূপান্তরিত করবে যা কথা পারে না। স্বাভাবিক হও। অভিনব হও। যারা তোমার নাচের সমালোচনা করছে তারা তো নাচের আনন্দকে একদমই হারিয়ে ফেলছে। তাদের জন্য বিব্রত হয়ো না। কেবল দ্রবীভূত হও এবং নত্য হয়ে যাও। আমিতু বেড়ে ফেলার জন্য ও অভিতের সাথে এক হয়ে যাবার জন্য, হাস্য ও নত্য সবচেয়ে সহজ প্রক্রিয়া।
প্রশ্ন : আমার কখন জানতে পারব যে আমাদের আমিতু বা অহংবোধ আর নেই?
উত্তর : সহজভাবে বলতে গেলে, তুমি যখন নিজেকে আর আলাদা সত্তা হিসাবে অনুভব কর না, তোমার আমিত্ব দ্রবীড়ত হয়েছে। যখন তুমি জীবনমুক্ত হও, তোমার আমিত্ব পরিপক্ষ ও বিদূরিত হয়। তোমার আমিত্ব মুছে গেলে আগের মত আর বিরোধ করবে না এবং অস্তিত্ব তোমার মধ্য দিয়ে সহজেই প্রবাহিত হবে।
তুমি জান কি না জান, মান কি না মান, পছন্দ কর কি না কর, অস্তিত্ব প্রতিটি মিনিটে তোমার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হতে চেষ্টা করছে, কিন্তু তুমি আমিতুতে এত পূর্ণ যে তুমি তা হতে দিতে পারছ না। তুমি অস্তিত্বের সাথে সংযোগসাধন করতে অসমর্থ এবং তাই তুমি আমিত্ব, অজ্ঞান ও দুর্দশা নিয়ে বাস কর।
তুমি আমিত্বতে এতই পূর্ণ যে তুমি তোমার সত্তা থেকে অনেক দূরে বাস করছ। তোমার ভিতরে অনেক পুঞ্জীভূত জিনিষ হয়ে গেছে। তোমাকে তাদের থেকে মুক্ত হবে। এক জন্ম নয়, এই জিনিষগুলি অনেক জন্ম ধরে পুঞ্জীভূত হয়েছে। এমনকি নিজের জন্য তোমার ভিতরে স্থান নেই! আর সেজন্য তুমি তোমার ভিতরে সত্তা থেকে না করে তোমার চৌহদিন বা বাহ্যসীমা থেকেই সর্বদা কাজ করে যাচ্ছ।
আমিত্ব দ্বীভূত হলে তোমার আলাদা অস্তিত্ব থাকে না। তুমি অস্তিত্বে নিমজ্জিত হও। জীবনমুক্ত মাস্টারেরা এই অবস্থাতে থাকেন। আমি প্রায়ই লোকেদের বলি, 'যা তুমি নও তা ধ্বংস কর।' লোকেরা আমার দিকে অবাক হয়ে তাকায়। আমার এটা বলা মানে আমি বোঝাতে চাইছি যে তুমি হলে তোমার ভিতরের সত্তা। সেই সত্যা, তুমি যা নও - সেই নানারকম সক্রিয় ও অক্রিয় আমিতু
।
162 । । ।
। ।
।
প্রশ্ন : রদি দ্বারা যদিও আমরা বুঝি যে আমাদের আমিত্বক সমর্পণ করা উচিৎ কিন্তু আমরা তা করতে পারি না। কেন?
দ্যাপো, মানুষ কখনই সম্পর্শ করতে চায় না। সে সর্বদা কোন একটা কিছু আঁকড়ে ধরতে চায় এবং সেই 'একটা কিছু' হ'ল তার আমিত্ব। তোমার আমিত তোমার শক্তি। তুমি তাকে বহু বছর ধরে কত ভাল করে পাহারা দিয়ে ছা। তোমার অস্তিতের ভিত্তি হল তোমার আমিত্ব।
তুমি জান না যে তোমার আমিত ছাড়িয়ে এক দুনিয়া আছে যেটা এখন যা অনুভব করছ তার চেয়েও অনেক বেশী আনন্দপূর্ণ। তোমার আমিত তোমার কাছে জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজনীয়। কিন্তু সহজ সত্য হ'ল - তোমাকে সেটা মছে ফেলতে হবে।
এটা অনেকটা এরকম : কল্পনা কর যে একটা বীজ বপন করা হয়েছে। গাছ হবার জন্য বীজকে বিদারিত হতে হবে, তাই নয় কি? রীজ যদি ভাবে সে গাছ হবার পরে বিদীর্ণ হবে, তা কি সম্ভব? না। একই ভাবে প্রস্তুতিত হবার জন্য, মানুষকে তার আমিতকে বিদীর্ণ করতে হবে। যত বেশী সময় সে তার আমিত্বকে প্রহরা দেয়, ততই সে নিজের প্রস্কটন স্থগিত রাখছে।
মানুষ তার মাস্টারের সাক্ষাৎ না পাওয়া পর্যন্ত জানেই না যে সে কোথায় আটকে আছে, তার আমিতু তাকে কোথায় বাধা দিচ্ছে। কিন্তু একবার তার মাস্টারের সাথে দেখা হলে সে জানবে! সে রূপান্তরিত হতে পারবে। মাস্টারের একমাত্র উদ্দেশ্য হ'ল তাঁর প্রতিটি শিষ্যের আমিত মুছে ফেলা।
যখন তুমি মাস্টারের কথা ও কাজ তোমার যুক্তি দ্বারা বোঝার চেষ্টা কর তোমার কাছে তা আকস্মিক ও অনুপযোগী মনে হবে । কিন্তু তা সত্যে গর্ভবতী: তোমার আমিতুকে ধ্বংস করার একমাত্র উদ্দেশ্য নিয়ে তা অন্তঃসত্ত্বা। মন্যজাতির ওপরে নিছক করুণা করেই একজন মাস্টার নিজে থেকে অবতরণ করেন। তাঁর নিজের জন্য বা অন্য কারো জন্য কোন কায়েমী স্বার্থ নেই। তিনি কামনার বিশ্বাসঘাতক সমুদ্র থেকে বহু উর্ধ্বে। তিনি এখানে এসেছেন কেবল তোমাকে তাঁর অবস্থায় তুলে নেবার জন্য : এক চিরন্তন আনন্দের অবস্থায় – এমন এক অবস্থা যেখানে 'আমি' ছাড়া কেবল চেতনা বিদ্যমান।
দেবী বা স্ত্রীশক্তি-তত্ত্বের ৭০০ সংস্কৃত প্লোক সম্মলিত চণ্ডীদেবী নানা দুষ্ট অসুরকে বধ করেন। এটা এই নয় যে দেবী প্রকৃত মানুষদের বধ করেন। যদি তিনি আসল মানুষদের হত্যা করে থাকতেন, আমরা তাঁকে চণ্ডীপাঠ দ্বারা পুজা করতাম না!
সাংকেতিকভাবে অসুরেরা মানুষের ভিতরের নানা দুর্বতি ও আমিতুকে প্রতীক্ষীকরণ করে এবং মানুষকে আমিত থেকে মুক্ত করার জন্যই দেবী এই আমিতুকে বধ করেন। আমাদের সেটা বুঝতে হবে। মহিষাসুর নামে এক অসুরের মহিষের মাথা ছিল। এটা আমাদের বোঝানোর জন্য যে আমাদের কেউ কেউ খবই মোটা মাথার এবং মাস্টার বারবার তাঁর পথে নিয়ে যাবার জন্য জাগাতে চেষ্টা করলেও আমরা নিজেদের রাস্তাতেই দঢ়ভাবে টিকে থাকি। আমরা মাস্টারের ডাকে সংবেদনশীল নই। এটা বোঝা যে মাস্টারের সাথে ঝগড়া করা হ'ল নিজেকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া। তোমায় সত্যি কথা বলি, যখন তুমি মাস্টারের সাথে ঝগড়া কর, কেউ তোমার জন্য তার চেয়ে বেশী খারাপ করতে পারবে না। তমি নিজেই নিজের যথেষ্ট খারাপ করে ফেল।
যাই হোক, মাস্টার জানেন যে কিভাবে কাজকে নিজের মত করে প্রস্তুটিত করাতে হয়। তাঁর কাছে কেবল বিশ্বাস ও সাহস নিয়ে তোমায় নিজেকে খুলে ধরতে হবে।
প্রশ্ন : যদিও আমি জানি যে আপনি আমার মাস্টার, আপনার উপস্থিতিতে আমি দ্বিধাগ্রস্ত ও ভীত থাকি।
উত্তর : এই কথাটি বলা মানে তুমি তোমার ভয়কে দমন করতে চাও। তুষি ঝাঁপ দেবে বলে ঠিক করেছে।
আমাকে ব্যাখ্যা করতে দাও। তোমার সত্তা পরিষ্কারভাবে আমায় চিনতে পেরেছে; কিন্তু তোমার মন লড়াই করছে। তোমার সত্তা আমায় চিনতে না পারলে তুমি বারবার আমার কাছে আসতে না। আমার কাছে আসার জন্য বাড়ীতে অনেক সমস্যার মুখোমধ্ হতে হয়, ঠিক কিনা? তোমার পক্ষে সবচেয়ে সোজা পথ হ'ল বাড়ীতে থাকা ও নিজের কাজ করা। তা হয়ত তোমার পরিবারকে খুশী রাখত।
Section 2
কেন এরকম হয় যে তুমি বারবার আশ্রমে আসতে চাও এবং আমায় দেখতে চাও? এখানে আসার জন্য কেন তুমি বাড়ীতে বারবার কলহের সম্মুখীন হও? কেবল বাড়ীতে থাকা ও সবাইকে খুশী রাখা কি অনেক সহজ কাজ নয় ? কারণ হল, যে আকর্ষণ তুমি অনুভব করছ তা সত্তা স্তর থেকে আসছে। একবার যখন তোমা র সত্তা আমাকে চিনেছে, তা তোমাকে ফিরে যেতে দেবে না। চেষ্টা করে দেখ, তুমি পালাতে পারবে না!
তোমার সত্তা এখন আমাকে চেনে। কিন্তু তোমার মন যেন এক বাধা। সর্বদা হুদয়কে অনুসরণ করতে স্মরণ রেখা সেটাই তোমার
এখানে করা দরকার। যখন হুদয়কে অনুসরণ করে, তুমি আমাতে পৌঁছাবে। যখন তুমি মনকে অনুসরণ কর, তুমি আমাকে হারাতে থাকবে।
তুমি আমার কাছে নিজেকে হারাবার জন্য করে আছ। সেটাই তোমার সমস্যা। তোমার আমিত বিপদে পড়েছে। নিজের পরিচয় হারানোর ভয়ে অসুরক্ষিত বোধ করে তা শুরু কর যে নিজের পরিচয় ছাড়া তুমি কোথায় চলে যাচ্ছ। আমার সামনে এলে তোমার আমিত এক গুরুতর সঙ্কটের সম্মুখীন হয়।
আমিত সঙ্গে সঙ্গে তার আহার্য চায় এবং একমাত্র আমার কাছ থেকে পালিয়েই তাকে তা দেওয়া যায়। হাতির শুঁডের মত তোমার মন দুলতে থাকে, একদিকে আমার জন্য গভীর ভালবাসা আর অন্যদিকে প্রচণ্ড ভয়।
মনে রেখ প্রেম হৃদয় থেকে আসে, কিন্তু ভয় আসে মনে থেকে। সর্বদাই তোমার হৃদয়কে অনুসরণ করে। প্রেম স্বাভাবিক: ভয় সামাজিক। ভয় ও সন্দেহ গভীরভাবে সম্বন্ধিত এবং তোমাকে ভিতরে নিছক নিয়ন্ত্রণ করছে।
ভাল করে বুঝে নাও যে সন্দেহ করা খারাপ নয়। সন্দেহ হ'ল জীবনমুক্তির জন্য তোমার টর্চ। মনের পক্ষে সন্দেহ ছাড়া এগিয়ে চলা খুব কঠিন। কিন্তু তোমার সন্দেহগুলিকে সবশেষে বিশ্বাসে রূপান্তরিত করতে হবে। একমাত্র তাহলেই তুমি অগ্রসর হয়ে চলেছ। যখন তমি ভিতরের দিকে চল. এটা হবে।
প্রশ্ন : আমাদের কি করা উচিৎ?
কেবল সম্পর্ণরূপে প্রেমে পড়ু, ব্যাস। প্রারম্যান প্রকাশ করে আমিত্যহীন অবস্থায় চলে যাওয়া। সেইজন্য একজন মাস্টার যিনি আমিত্বান অবস্থায় আছেন, তিনি কেলমাত্র প্রেম ও করুণা করতে সক্ষম। অন্য সমস্ত আবেগ, যেমন কোশ্য, বিরক্তি ইত্যাদি তাঁর অসীম প্রেমেরই কত্রিম প্রকাশ। তিনি কোম্পি বা বিরক্ত হওয়ার ভান করেন। তিনি তোমার স্তরে নেমে আসেন, তোমার স্তরের আবেগকে ভান করেন এবং তোমাকে উপলব্ধির আরেকটি স্তরে নিয়ে যান, ব্যাস। তিনি তোমার ভাষায় ততক্ষণ কথা বলেন যতক্ষণ না তমি তাঁর ভাষা - অস্তিতের ভাষা, ব্রঝতে পার।
প্রশ্ন : কিন্তু আমরা কিভাবে সম্পর্ণভাবে প্রেমে পড়তে পারি? মনে হয়, বলা সোজা, করা কাঠিন!
প্রথম জিনিষ হ'ল যাই কর তাতে তোমার চেতনার বন্যা ঢেলে দাও। প্রত্যক্ষদর্শী হও। তুমি অনুভব করতে থাকবে যে এই পুরো জিনিয়াই একটা নাটক এবং তমি প্রসঙ্গত্র তাতে একটি ভূমিকা নিয়ে সেই নাটককে কেবল প্রত্যক্ষ করে। দ্বিতীয়ত যা কিছ দেখছ তার সম্বন্ধে বিচার করা বন্ধ করে। যখন বিচার করা বন্ধ কর, তুমি সবাইকে ও সবকিছুকে পুরো সরল হয়ে শুধুমাত্র ভালবাসবে।
যখন বিচার করতে থাক, কি 'আছে'. সেটাকে দেখতে পাও না, যা দেখতে চাও কেবল সেটা দেখ। আমরা বেশীর ভাগই আমাদের মতামত আগে তৈরি করে ফেলি। তারপর আমরা শুধুমাত্র তাদের ভিত্তি করে কাজ করি। যা কিছু দেখি, প্রথমেই আমাদের মতামতের মধ্য দিয়ে তাদের দেখি।
এইভাবে কাজ করলে আমরা জিনিষগুলি যেভাবে আছে সেই অবস্থায় তাদের কিভাবে দেখব? আমরা কিভাবে কখনও প্রেমে পড়ব? তুমি প্রেমে পড়তে পার যদি তুমি সমস্ত কিছু সতেজ ও সরলভাবে সাদরে গ্রহণ করতে পার। কিন্তু তুমি কি করা তুমি প্রেমের জন্য ভাল মন্দ বিশ্লেষণ করতে থাকা বিশ্লেষণ শুরু করলে তো তুমি প্রেম হারিয়ে ফেলবে। সবশেষে যখন তুমি সেটা করতে সিদ্ধান্ত নেবে, তখন হয়ত অনেক দেরী হয়ে গেছে।
দ্যাপো, একমাত্র তোমার আমিত্ব হারিয়ে ফেলার জন্য গুরু-শিষ্য সম্মদ্ধ রয়েছে। যখন তুমি তোমার আমিত হারাতে পারবে না। তোমার আমিতে সুছে ফেলার জন্য শুরু বা মাস্টার সেই মাধ্যম বা সাহায্য। তুমি তাঁর মধ্যে যত মিলিয়ে যাও . ততই তুমি নিজেকে খুলে ধরতে পারবে এবং তোমার আমিত্বকে হারাবে। কখন তুমি জানবে যে তোমার আমিত মুখে যাচ্ছে ? যখন তুমি এক নির্দিষ্টপ্রকার আনন্দ অনুভব করা আরম্ভ করবে যা আগে কখনও করনি।
তুমি কোন কারণ ছাড়াই আনন্দ অনুভব করবে। শুধুমাত্র বিদ্যমান থাকাই তোমায় খুশী রাখবে। অবশ্যই, মাস্টারের সাথে তোমার আমিতের সার্জারী সর্বদাই চলছে এবং আমিতুকে চিরে ফেলার জন্য কখনও কষ্ট হবে। কিন্তু যখন সেই সব মুহুর্তগুলি থেকে বেড়িয়ে এলে, তুমি তোমার রাস্তায় সামনে দিকে অনেকগুলি পদক্ষেপ এগিয়ে গেলে এবং তুমি বিনা কারণে অসীম আনন্দ অনুভব করবে।
কেবল ছোটদের দ্যাপো। তারা জীবনের জন্য কত অত্যুৎসাহী। তার কত প্রেমময়। কখনও কি অবাক হয়ে ভে বেছ যে তুমি তাদের
মত এত উৎসাহী কেন নও? একসময় তুমি তাদের মতই ছিলে, তাই নয় কি? তাহলে এই উৎসাহ ও সরলতা আমরা কোথায় হারিয়ে ফেললাম?
একজন অংশগ্রহণকারী সাহস করে বলে, 'সামীজী, আমরা বড় হয়েছি ও আরও বেশী পরিপকু হয়েছি। আমরা তাদের চেয়ে বেশী অভিজ্ঞতা লাভ করেছি।'
অভিজ্ঞতা কিসের? একঘেয়েমি জনিত বিরক্তি? পরিষ্কার করে বোঝা : আমরা সবাই ভাবি যে আমরা বাচ্চাদের তুলনায় বেশী পরিপক এবং জীবনের প্রতি আমাদের মনোভাব বাচ্চাদের চেয়ে বেশী সঠিক। আমরা ভাবি যে জীবনে অনেক পথ চলে বাচ্চাদের এই পরিপকতা লাভ করতে হবে।
সত্য হ'ল, আমরা এত বুদ্ধিনতিক (intellectual) হয়ে পড়েছি যে আমরা আমাদের হৃদয়ের সাথে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছি। আমরা পরোপরি মন থেকে কাজ করি। এমনকি আমাদের আবেগগুলিও মন দ্বারা নির্দেশিত হয়। আমরা আমাদের সত্তা থেকে আবেগভরে কোন কাজ করি না। আমরা আমাদের অন্তঃস্থল থেকে বিছিন।
আমরা যখন এই পথিবীতে আসি, আমারা এক আনন্দ-উদযাপন ও স্বতঃক্ষতার অবস্থায় থাকি। তদন্তর বছর সমাজ আমাদের নিয়ন্ত্রণ করে এবং আমাদের জন্য মন সষ্টি করে। মন তারপর নিজেকে ঘনীভত করে এবং নিজের শর্তাবলী আমাদের ওপর চাপাতে থাকে। আমাদের স্বতঃস্ফর্ততা কোথায় হারিয়ে যায়।
তোমাদের বলি, এই আমিতু মুছে ফেলার প্রক্রিয়ায় আমরা আমাদের ভিতরের শিশুটিকে পুনরায় আবিষ্কার করতে চেষ্টা করছি। আমরা যখন ছোট ছিলাম, আমারা ঈশ্বরের অনেক নির্দেশ্চ ছিলাম। যতই বড় হই ও তথাকথিতভাবে পরিপক্ হই, আমাদের ওপরে সামাজিক নিয়ন্ত্রণ ভিতরের শিশুটাকে নষ্ট করে ফেলে।
কত লোকে আমায় জিজ্ঞাসা করে, 'স্বামীজী, এত চরম সত্যের কথা বলেলেও, কিভাবে আপনি এত শিশুসুলভ?' এখন আমাকে বল, আমি বড় হইনি ও পরিপক্ হইনি বলে কি আমি শিশুসলভ ? না। তমি নিজের সবিধা দেখে তোমার দার্শনিক ভঙ্গীতে সহজভাবে জিনিষণ্ডলিকে ব্যাখ্যা করে ফেল।
কিন্তু সামাজিক নিয়ন্ত্রণ ছাড়া আমাদের কোন প্রশিক্ষণ ছাড়াই সাঁতার কাটা ও ওড়ার সক্ষমতা আছে। তোমাদের এটা উদ্ভট লাগতে পারে, কিন্তু তা সত্যি। আমাদের ভিতরে এইসব সামর্থ্য আছে। যদি আমরা কারো কাছ থেকে শুনে না থাকি যে আমাদের সন্তরণ ও উড্ডয়নের ক্ষমতা নেই, আমরা কিন্তু এই দুটি কাজ নিজে থেকেই করতে পারি। দেখা গেছে যে নবজাত শিশুকে সাইমিংপলের জলে ছেডে দিলে সে তার স্বভাববশত ভেনে থাকতে জানে।
আমিত নিজেকে কতভাবে প্রকাশ করে এবং তার মত করে আমরা প্রতিটি মিনিট জীবনযাপন করি। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আমরা আসলে মুখোশ পরে থাকি। মায়ের সঙ্গে ব্যবহার করার একটা মুখোশ, বাবার সঙ্গে ব্যবহার করার জন্য অন্য একটা মুখোশ, অফিসে বসের জন্য অন্য আরেকটা এবং এরকম কত মুখোশ। যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা নির্দিষ্ট মানুষের জন্য সঠিক মুখোশ র্যবহার করি, ঠিক আছে। যেই মুহূর্তে কারো সামনে ভুল মুখোশ পরি, তখন আমিত একেবারে সামনে এসে পরে। তোমাকে কেবল সুদক্ষ হয়ে মুখোশগুলি পরিবর্তন করতে হবে। তার অর্থ তোমার সত্য তোমার সত্তা ঘন্টাভূত হয় নি। তুমি প্রত্যক্ষদর্শী হলে এবং সেই খেলায় জড়িয়ে পড় নি।
তুমি কেবল তখনই উপভোগ করতে পার যখন তুমি জানতে পার যে তুমি মুখোশ ছাড়িয়ে অন্যকিছু। নতুবা তুমি মুখোশে আসক হয়ে উঠবে এবং জীবনের সম্পূর্ণ চারুত হারিয়ে ফেলবে। যখন তুমি কেবল যুখোশ ব্যবহার করছ , তোমার বাসনাগুলি ঝরে পড়বে।
এটা অনেকটা এরকম : যখন তুমি বড় হও, তুমি তোমার খেলনাগুলি নিজে থেকেই ফেলে দাও। খেলনাগুলি তোমাকে আর আকর্ষণ করে না। একইভাবে, যখন এই মুখোশগুলির দিকে বুদ্ধি সহকারে তাকাবে, সেগুলির জন্য তোমার কোন বাসনা থাকবে না, তুমি কেবল সেগুলিকে ব্যবহার করবে ও এগিয়ে চলতে থাকবে।
আমিত্ব নানা ধর্ততা সহ প্রকাশ পায়। তাই তার সম্মন্ধে এত সব ব্যাখ্যার প্রয়োজন। এইসব তোমাকে দেখতে সাহায্য করবে যে তোমার অন্তর্যাত্রার পথে তমি নিজে কোথায় কোথায় বাধা হয়ে আছ।
তোমার ভিতরে যত কম বাধা থাকে, তুমি তত তরল ও প্রবহমান হও। ভিতরে বাধা কম থাকলে তুমি আরও বেশী বহুরস্কু ও অরক্ষিত হবে। ভিতরে বেশী বাধা থাকলে তুমি কঠিন হও ও তোমাকে ভেদ করা শত। তোমার আমিতু সবকিছুতেই এ কটা বিরাট বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
।
। ।
166 । । । ।
তাই পরিষ্কার করে বোঝ : বেশীরভাগ ক্ষেত্রে মানুষ ভাবে যে সক্রিয় আমিতু। না। আক্রয় আমিতুও আছে এবং তাকে ঠিক করা বেশী শক্ত।
মানুষের সক্রিয় আমিতু শুকনো শক্ত গাছের ডালের মত। যদি আঘাত কর , তা ভেঙ্গে যায়। অক্রিয় আমিত্ব বিশিষ্ট মানুষেরা সতেজ সবজ ডালের মত। প্রতিবার তাদের আমিত পেলে তারা বেঁকে যায়, কিন্তু ভাঙ্গে না! তাদের আমিত এত সুন্দরভাবে সুরক্ষিত যে তার সাথে কারবার করা বেশ কঠিন। আসলে তারা আমিতকে সরক্ষিত রাখতে কঠিন পরিশ্রম করে , কিন্তু এক মিষ্ট ও অক্রিয় অবস্থায়। অক্রিয়-আমিত সক্রিয়-আমিতের চেয়ে বেশী ভয়ংকর।
Section 3
উদাহরণস্বরূপ, তুমি এখন আমার সাথে এই ক্লাসে আছ। তোমার মনে নিশ্চয়ই অনেক প্রশ্ন আসছে। কিন্তু তুমি কি তাদের সবকটিকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে জিজ্ঞাসা করা না। তুমি তাদের নিজের সুবিধা মত পরিচালনা কর এবং সবশেষে তাদের চেপে রাখা এটা কর কারণ তুমি ভাব যে প্রশ্ন করলে তোমাকে বোঝা দেখাতে পারে। তুমি বোকার মত দুষ্টিগোষর হতে চাও না এবং তুমি প্রশ্ন কর না। তুমি তোমার আমিতুকে পাহারা দিচ্ছ। তোমার প্রশ্ন যদি আমার উপস্থিতিতে দ্রবীভূত হয়ে যায় , সেটা আলাদা ব্যাপার। কিন্তু এখানে তুমি তোমার প্রশ্নকে চেপে রাখছ।
তোমার সম্পর্কে অন্যের প্রতিক্রিয়া ও মতামত সম্মন্ধে তুমি করই না প্রযুশীল হও। এই আমিতুই তোমার নোঙর -বিন্দু (anchor point)। তাকে ঝাঁকুনি দিলে সে নোঙরহীন মনে করে। তাই আজ্ঞানুবর্তী হবার ছল করে তুমি চুপচাপ থাক। তুমি মাস্টারের উপস্থিতিতে নিজের আমিত্বক অনাবত করার আরও একটা সুযোগ হারাও। তুমি প্রস্তুতিত হবার দিকে পদক্ষেপ নেবার আরও এক সুযোগ হারাও।
তোমাদের একটা জিনিম বলি : দিনের শেষে সমস্ত প্রশ্নই বোকামিপূর্ণ। কোন মহুতেও ভেবো না যে কিছু প্রশ্ন অন্য প্রশ্ন থেকে বেশী জ্ঞানগর্ভ। যখন গভীর উপলব্ধি হয়, প্রশ্নগুলি নিজে থেকেই দ্রবীভূত হবে। সেটা হল প্রকৃত প্রাজ্ঞতা। যাই হোক, আমাদের আমিত্বকে নিরাপদে রক্ষণ করার জন্য আমরা সবাই কতই না সাবধানে খেলতে থাকি।
সামাজিক আমিত্ব
আমিতের আরেকটা খেলা আমরা সবাই খুব ভাল করে প্রতিপালন করি - তাকে বলে সামাজিক আমিত্য।
সামাজিক আমিত কি?
তুমি ভাব যে তোমার জীবন তোমার কাছে খুবই ব্যক্তিগত এবং কেউ যেন তার আঁচ না পায়। আবার তুমি নিজের একটা সামাজিক প্রতিচ্ছবি তৈরি করেছ এবং তাকে তমি সরক্ষিত রাখা।
উদাহরণস্বরূপ, লোকেরা তাদের সন্তানের খেয়ালী ব্যবহার আলোচনা করতে আসে। কিন্তু আশেপাশে অন্যেরা থাকলে তারা স্বস্তি পায় না। তুমি অন্যদের সেগুলি জানতে দিতে চাও না কারণ তুমি সমাজের চোখে তোমার পরিবারের সদস্যদের জন্য এক ভাবসতি বানিয়ে রেখেছ। যদি তুমি অন্য লোকেদের তোমার পরিবারের ব্যাপারে ঢুকতে দাও, তুমি ভাব যে তুমি নিজেকে সম্পর্ণরূপে তাদের কাছে খুলে ধরছ। তুমি ভয় পাও যে তোমার প্র তিচ্ছবি চুর্ণ হয়ে যেতে পারে এবং সমাজে তোমাকে তুলে ধরার কেউ থাকবে না। এটাই সামাজিক আমিত্য।
যে প্রতিচ্ছবি তুমি এত কষ্টসহিষ্ণু হয়ে তৈরি করলে, যে প্রতিচ্ছবি তোমার পরিচয় হয়ে গেছে ও যার দ্বারা তুমি নিজেকে সমাজে পরিচিতি দাও, তা এখন সংকটাপন্ন। এটা তোমার কাছে অপরের চেয়ে তোমার নিজেরই একটা পরিচিতি! যদি তুমি নিজেকে ও নিজের পরিবারকে যেরকম আছ সেরকম দেখাও, তুমি অনেক বেশী স্বস্তিতে থাকবে, কারণ তাহলে কিছু লুকানোর জন্য কোনই চাপ থাকবে না।
অবশ্যই তুমি বলতে পার, 'পামীজী, এই বিষয়গুলি গোপন রাখার একমাত্র কারণ হল, আমরা চাই না অন্যেরা এই নিয়ে গালগল্প করুক।' তোমাদের বলি : কেউই অন্য কারো ব্যাপারে কথা বলার যোগ্য নয়। যদি বলে, তারা হ'ল বোকা। এটা মনে রেখে. তাহলে যে শক্তি তাদের ও তাদের কথায় দাও তা স্বতশ্চলভাবে মিলিয়ে যাবে। তোমাকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা তুমিই তাদের দিয়েছ, তাই নয় কি? এখন সেই ক্ষমতা চলে যাবে।
কেবল সিদ্ধান্ত নাও, এক খোলা খাতার মত জীবন ধারণ করবে, ব্যাস। তোমার সাহস ও শরীরের ভাষা দেখে লোকেরা নিজে থেকেই বুঝতে পারবে যে তোমার সম্বন্ধে গল্প করে কোন লাভ হবে না ! তোমার সামাজিক আমিত মুছে ফেল এবং কোনপ্রকার গোপনতা ছাড়াই বাস কর। সেটা একটা বিরাট মুক্তি।
আমাদের সামাজিক আমিতের জন্য, আমরা সর্বদাই কত আত্ম-সচেতন। আমরা আত্ম-সচেতন কারণ আমরা ভাবি যে লোকেরা সর্বদা আমাদের দেখছে ও আমাদের সম্মন্ত গল্প করছে। পরিষ্কার করে বোঝ : তুমি যখন আত্ম-সচেতন, তুমি তখন ভীষণ তা পারে। তার বে তুমি বিরাট বন্ড কেউ এবং সবার চোখ সরসময়ে তোমার দিকে তাকিয়ে আছে। আসলে তাদের অন্য অনেক ভাল কাজ আছে!
তুমি 'কেউ না' ভাবলে কি তুমি কি আত্ম-সচেতন হবে? একমাত্র যেহেতু ভাব যে তুমি 'কেউ', তুমি আত্ম-সচেতন হও। আর তদুপরি তুমি ভাব যে তুমি আত্ম-সচেতন হয়ে বিনমতা প্রদর্শন করছ। সেটাই বিপদ!
আমিত্ব সচেতন হলে তুমি বেঁচে থাকলেও জীবন্ত নও। এটা যেন তোমার সৌন্দর্য ও চারুতের পথে বাধা। এজন্য তোমার সৌন্দর্য স্বাভাবিকভাবে সামনে আসে না। প্রাণীজগৎ ও প্রকৃতির দিকে তাকাও। তারা কত সুন্দর ও সহজভাবে প্রবহমান। কেন এমন হয় ? কারণ তারা আত্ম-সচেতন নয়। অস্তিত্বের সাথে এক হয়ে তারা সহজেই খুশী। যেই মহুর্তে চিন্তা করতে শুরু কর যে লোকেরা তোমায় লক্ষ্য করছে, আমিত ঢুকে পড়ে এবং তোমার স্বাভাবিক সৌন্দর্য হারিয়ে ফেল।
রাচ্চারা বড়দের মত আত্ম-সচেতন নয়। যদি তুমি তাদের খেলতে দেখ, তুমি দেখবে : পুরো ব্যাপারটায় কত সৌন্দর্য ও সরলতা। এমনকি যখন তুমি নিজের ফটো নাও, লক্ষ্য করে থাকবে যে তোমার অলক্ষ্যে নাওয়া ফটোগুলি তোমাকে ক্যামেরার সামনে জানিয়ে নাওয়া ফটোগুলির চেয়ে অনেক ভাল!
যেই তোমাকে ক্যামেরার সামনে ভঙ্গি করে দাঁড়াতে বলা হয়, তুমি আত্ম-সচেতন হও। তোমার আমিত ভয় পায় যে ফটো কেমন হবে। আত্ম-সচেতন আমিত সর্বদা সব কিছুতেই ভাল মন্দ হিসাব করছে। তা সব সময়ে অন্যের চোখগুলি ও মতামত ওজন করে চলেছে এবং নিজের স্বাধীনতা হারিয়ে ফেলছে।
এমনকি আমাদের ধ্যানের ক্লাসে যদি দেখ, ধ্যান-প্রক্রিয়া শুরু হবার আগে একটা কাপড়ের টুকরা দিয়ে আমি তোমাদের চোখ বাঁধতে বলি। কিন্তু প্রথমে তুমি কি কর? তুমি প্রথমে দেখ যে অন্য লোকেরা তাদের চোখ ঠিকভাবে বাঁধছে কিনা ! তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ ঠিক করে ধ্যান কর না কারণ তোমরা আত্ম-সচেতন থাক সেচ্ছাসেবক ও আমার সম্বন্ধে - যাদের চোখ বাঁধা হয় না! তমি দমিত অবস্থায় ধ্যান কর এবং ধ্যান শিবিরে আসার আসল উদ্দেশ্যই হারিয়ে ফেল।
যখন হিসাব করা থানাও, তুমি সরল ও উন্মুক্ত হওয়া শুরু কর। তুমি বিস্ময় ও সতেজতায় সর্বদাই পূর্ণ থাক। তোমার জীবন কখনও নীরস ও দমিত হয় না।
আবার একজন সরল ব্যক্তি কারোর ক্ষতি করতে পারে না, কারণ ক্ষতি করতে গেলে হিসাব করতে হবে। তারা না জেনে ক্ষতি করলেও লোকেরা আঘাত পাবে না, কারণ তারা আঘাত দিতে চায় নি। তাদের শরীরের ভাষা তাদের সরলতা বলে দেবে এবং তাদের পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্য করবে।