Books / Guaranteed Solutions For Lust Fear Worry... Bengali merged

44. পূর্ণতার জন্য উদ্যমী হও, নিখুঁত হবার জন্য নয়

# পূর্ণতার জন্য উদ্যমী হও, নিখুঁত হবার জন্য নয়

নিখুঁত হবার জন্য বেশী প্যানপ্যান কোরো না। আমি বলছি : নিখুঁত হবার মানসিকতা তোমাকে বাতিকগ্রস্ত করে তুলতে পারে। যাই কর, সমগ্রভাবে কর, সম্পূর্ণতার সাথে। তাহলে স্বতক্ষলভাবে, তুমি নিখুঁত হবার জন্য কখনও উদ্বিগ্ন হবে না।

নিখুঁত হওয়া ব্যাপারটা তোমার মন থেকে আসে। তা তোমার লক্ষ্য হয়ে যায়। তুমি তার দিকে লক্ষ্য হিসাবে কাজ করে। আর যখন তুমি তার দিকে লক্ষ্য হিসাবে কাজ কর তা মৃত ও নীরস হয়ে যায়। কিন্তু যখন তুমি তামার হৃদয়ে প্রতিষ্ঠিত থাক ও তা এক গভীর অভিজ্ঞতা হয়ে যায়। পরিণতি সুন্দর হবেই এবং তা তোমাকে আনন্দ দেবে। তাহলে যা কিছু করবে, তুমি অস্তিতের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ থাকবে।

নিখুঁত হবার মানসিকতা কখনও আনন্দ দেয় না; তা কেবল তোমার আমিত্বকে তৃপ্ত করে। যদিও তুমি শেষে তৃপ্ত মনে কর, তা কেবল তোমার আমিতের তৃপ্তি, সত্যার পরিতাপ্তি কখনও নয়। পরিষ্কার করে বোঝা যে যাদের নিখুঁত হবার বাতিক আছে, যারা নিখুঁতবাদী, তারা সবচেয়ে বড় আমিত্বাদী। তারা পূর্ণ হবার মাত্রা হারিয়ে ফেলে। সম্পূর্ণতা সম্ভব যখন তুমি তাতে তোমার সত্তা থেকে গভীরভাবে প্রবেশ কর। নিখুঁত কখনই হওয়া যায় না কারণ সেটা মনেতে আছে এবং তোমার মন নিখুঁত হবার মাপকাঠি পরিবর্তন করতে থাকে।

আবার, ভুল করার সাহস রেখো। গম্ভীর লোকেরা ভুল করতে ভয় পায়। তারা নিজেদের ভীষণ গুরুতররূপে নেয়। তারা নিজেদের সম্বন্ধে খুব বেশী বেশী ভাবে। ভুল করা দ্বারা ভুল ধরিয়ে দেওয়া, ভীষণ ব্যাপার। আসলে যে মানুষগুলি ছোট ছোট ভুল করার জন্য ভয় পায়, তারা শেষে সাংঘাতিক ভুল করে বসে!

ভুল করায় বেঠিক কি? তুমি বলবে, 'স্বামীজী, আমি কাজে কোন ভুল করার ঝুঁকি নিতে পারি না; তাই আমি এত গম্ভর।' তা তোমার কথা সত্যি হতে পারে; তোমার কাজ তোমাকে হয়ত ভুল করতে অনুমতি দেয় না, কিন্তু আমি এখানে সেই কথা বোঝাচ্ছি না। যখন তুমি ভুল কর, লোকেরা সেটার দিকে অঙ্গুলিনির্দেশ করবে এবং তুমি সেটা সহ্য করতে পারবে না। তোমার আমিত্ব আঘাত পারেই এবং তুমি সে ব্যাপারে খুব সংবেদনশীল ; তুমি এটা জান। তাই তোমার আমিত্তকে আঘাত না দেবার জন্য, তুমি ভুল না করার জন্য যথাসাধ্য সচেষ্ট হও!

এরকম অচেতনভাবে একটানা তুমি আমি তুলে প্রহরা দেবার পরিকল্পনা করা কিন্তু যে কারণ তুমি দেখাও , তা আলাদা। তুমি মিথ্যা বলছ তা নয়। তুমি আসলে তোমার প্রণালী কত সূক্ষ্মভাবে কাজ করে তা জান না। কিন্তু যদি তুমি পভীরভাবে বিশ্লেষণ কর ও দেখ, আমি কি বলছি তা বুঝতে পারবে।

ভুল করায় বেঠিক কিছুই নেই। আসলে কয়েকটা ভুল করে তুমি বুঝতে পারবে যে ভুল করা কিভাবে এড়িয়ে চলা যায়। ভুল করা থেকে যত শেখ, ততই তুমি জানতে পার ভুল না করে কিভাবে করা যায়।

ভুল কিভাবে না করতে হয় জানা একটা জরুরি ব্যাপার। একমাত্র তাহলেই তুমি তার দ্বই দিক দেখেছ; একমাত্র তাহলেই তার দুটি দিকের অনুসন্ধানের অভিজ্ঞতা পেয়েছ। নয়ত সংকটপূর্ণ সময়ে এক অজানা জায়গায় পতন ঘটার বিপদ থেকে যায় , তার ঝুঁকি তুমি নিতে পার না।

যাই হোক, একই ভুল পুনরায় কোনো না! তোমার মন সর্বদা নক্শা বা ছক পুনরাবৃত্তি করে। ভুল করেও সেটা কোরো না। নতুন ভুল কর! এবং আরও ভাল উপলব্ধির জন্য এগিয়ে চল!

আমি ইচ্ছাকত ভুল করার কথা বলছি না। সেটা আবার বোকামি। আমি কেবল বলছি যে, ভুল হতে পারে বলে উদ্বেগিত না হয়ে প্রবল উৎসাহ ও বুদ্ধি সহকারে কাজ কর। যেই মুহূর্তে ভুল হতে পারে বলে দুশ্চিন্তা কর, আসলে তখন তুমি তোমার আমিতু আঘাত পেতে পারে বলে উদ্বেগিত।

যখন তোমার আমিত্ব আঘাত পাবে বলে উদ্বেগিত নয়, তখন তুমি যে কোন প্রকার লাফ দেবার জন্য সাহস পাবে। তোমার সমস্ত তথাকথিত উদ্বেগ হ'ল তোমার আমিতে আঘাত লাগার বিষয়। এর থেকে মুক্ত হলে তুমি আরও বেশী স্বাধীনতা ও সাহস অবলম্বনে কাজ করবে। তুমি পরীক্ষা করার জন্য আরও ইচ্ছুক হবে।

একটা ছোট গল্প :

একজন একটা কলাবুহাউসে তাস খেলা শেষ করে চলে যাচ্ছিল। সে তার কোট রাখার জায়গায় গিয়ে কোট পরছিল। এমন সময় হঠাৎ একটা বিনম্ভ্র আওয়াজ পিছন থেকে এল, 'স্যার, আপনি কি মিস্টার ফিলিপ?'

লোকটি ঘুরের দাঁড়িয়ে বলল, 'না।' বিনম আওয়াজ বলে চলে. 'ভগবানের অপার করুণা। আমি ফিলিপ এবং ঐ কোটটা আমার।'

আমাদের ভুল হতে পারে বলে ও নিজের আমিত আঘাত পেতে পারে বলে, আমরা ভয়ে ভয়ে থাকি। তাই নিছক নিশ্চিত হবার জন্য আমরা সহৃদয়তার সাথে সাবধানে চলি। এখনি কিছুই নয়, কেবল অক্রিয় (passive) আমিতু। তোমার আমিত আঘাত পাবে বলে এতই ভয় পাও যে তুমি এই প্রকার ব্যবহার কর। আমিতের সব প্রহরা সরিয়ে ফেল এবং সাধীন হয়ে চল।

গম্ভীরতা থেকে সরে যাও। যে কোন ভাবেই হোক আমরা আধ্যাত্মিকতার সাথে গম্ভীরতা সংশ্লিষ্ট করি। এটা একটা বড় ভ্রান্তধারণা। গম্ভীরতা কখনও ধর্ম বা আধ্যাত্মিকতা হতে পারে না।

তোমাদের কি মনে হয়, আমি তোমাদের সাথে এত রসিকতা কেন করতে থাকি বা এত এত ছোট গল্প কেন বলি? যদি আমি এসব না বলি. তোমরা গম্ভীর হয়ে যাবে এবং তোমরা গম্ভীর হ'লে মত ও ভারী হয়ে যাও। তোমরা সতেজ ও হাল্কা থাকবে না। আমি তো এখানে তোমাদেরকে ভারী করার জন্য আসি নি।

আমি এখানে তোমাদেরকে খালি এবং হালকা করার জন্য আছি। আমি এখানে আছি তোমাকে দেখাবার গম্ভীরতা আসলে কিছুই নয় এবং সেটা তোমার আমিতের একটা রূপ।

যারা অতীত ও ভবিষ্যতের দ্বারা ভারাত্রান্ত, তারা সবাই গম্ভীর। তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে হাসতে জানে না। অতীত ও ভবিষ্যতকে বহন করা একটা কর্তব্য বলে তারা মনে করে এবং তাতে বিরাট গাম্বীয় সহকারে নিমজ্জিত হয়। এটা একটা বিরাট আমিত-পূর্ণ মনোভাব। তারা ভাবে যে তারা এটা না করলে, তা করার অন্য কেউ জন্য নেই।

তা বিষয়ে তার করার কোন দরকার নেই। কেবল বর্তমানে থাক, তাহলেই যথেষ্টার মানুষগুলি বর্তমানকে পুরোপুরি হারিয়ে ফেলছে। তাদের জীবনে তারা হাসি হারিয়ে ফেলছে।

হাস এবং তোমার আমিতকে চলে যেতে দাও

হাসি তোমার সত্তা থেকে এক বলক শক্তি শরীরে নিয়ে আসে ও তোমার পুরো সত্যকে নবতেজোদ্দীপ্ত করে। হাসি অন্য যে কোন কিছুর চেয়ে বেশী নিরাময় করতে পারে। হাস্য তোমাকে বর্তমানের সুন্দর বলেক দেখায় যা তুমি নানা ধ্যান-প্রক্রিয়া দ্বারা প্রাপ্ত করার চেষ্টা কর। হাসি সবচাইতে শক্তিশালী ধ্যান-প্রক্রিয়া।

হাস্য এক খব বড় বৈশিষ্টপূর্ণ আধ্যাত্মিক গুণ। আন্তরিকতা ও হাস্য সর্বদাই একসাথে চলে। আমি আগে বলেছি, পম্ভীরতা ও হাসি কখনও একসাথে থাকতে পারে না। হয় তুমি গম্ভব। আন্তরিক হলে তুমি হাসতে পার এবং আন্তরিকতার সাথে তোমার কর্তব্য করতে পার।

আমরা ক'জন পুরো হলয় দিয়ে হাসতে পারি? এমনকি হাসিতেও আমরা নিয়ন্ত্রণ রাখি! তথাকথিত সামাজিক আদবকায়দা আমাদের মার্জিতভাবে হাসতে শিখিয়েছে। যখন বাচ্চারা হাসে, আমরা তাদের নিয়ন্ত্রণ করি। তাদের হাসিতে আমরা ঠাণ্ডা জল স্প্রে করি। আমরা তাদের বলি, 'হয়েছে, এখন অনেক হয়েছে।' এমনকি তাদের হাসিও আমরা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করি।

আমি মায়েদের মেয়েদের বলতে শুনেছি, 'পুরুষের মত হেসো না; মেয়েদের মত হাসো।' তুমি কিভাবে হাসি অভ্যাস করবে? হাসি তো তোমার সত্তা থেকে আসে। আমি বলছি, বাচ্চাদের নিয়ন্ত্রণ করে তুমি তাদের ঠিক তোমার মত ভোঁতা ও মৃত বানিয়ে ফেল। তাদেরকে তোমার অবিকল প্রতিরূপ না বানিয়ে তুমি ছাড় না।

এই বছর আমেরিকাতে কয়েকটি বাচ্চার সাথে কিছু সময় কাটাই। আমি প্রায় এক ঘন্টা তাদের সঙ্গে ছিলাম ও মিথাস্ত্রয়া করছিলাম। আমি এত অবাক হলাম যে আমি তাদের সাথে যতই রসিকতা করি না কেন তারা হাসেই না। বাচ্চারা আজকাল ক্রিম পরিপক্ষতা দেখায় এবং নিজেদের জীবন থেকে হাসি বাদ দিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করে ফেলে। যদি ছোটবেলায় হাসতে না পার, বড় হয়ে কি করবে? তাদের দেখে আমি খুব ব্যাথা পেয়েছিলাম।

লোকেরা বলে যে আমার হাসি সাংক্রামিক। সেই বাচ্চাগুলির সাথে প্রথমবার মনে হল আমার হাসি সংক্রামক নয়। তারা মুখে এক প্রকার পরিপক্ততা নিয়ে আমার দিকে কেবল তাকিয়ে ছিল। তারা আমাকে গম্ভীর করে দিতে পারে, এই ভয়ে আমি তাদের ছেড়ে চলে গেলাম!

দ্যাপো, পরিপক্ষতার সাথে তুমি কিভাবে হাস তার কোন সম্পর্ক নেই। কিন্তু যে করেই হোক আমরা ভাবি যে পরিপক্ষ হলে