43. ম্ভীরতা হ'ল আমিত
# ম্ভীরতা হ'ল আমিত
গাম্ভীর্য বা গম্ভীরতা কি?
গম্ভীরতা আর কিছুই নয়, বাকীদের অবজ্ঞা করে নির্দিষ্ট কিছুকে অন্যায্য গুরুত দেওয়াই গম্ভীরতা। পুরো জীবন একটি নাটক যেটা প্রতিটি মিনিটে উন্মোচিত হয়ে চলেছে - এই সত্য অনুধাবন করতে না পারার অক্ষমতা থেকেই গম্ভীরতা উদ্ভত হয়। জীবন থেকে অতি প্রত্যাশা করার ফল গম্ভীরতা।
একটা ছোট গল্প :
ভেঙ্গে দেয়। অন্য বালকটি রাজাকে গিয়ে নালিশ করল।
কেবল বালুর দুর্গের জন্য এত কিছু হচ্ছে দেখে রাজা হাসতে আরম্ভ করল। কিন্তু রাজার পরামর্শদাতা , একজন জেন্ সাধু, রাজাকে দেখে হাসতে লাগলেন।
তিনি জিজ্ঞাসা করেন, 'আপনি তো পাথরের দুর্গের জন্য করেন ও রাত্রের ঘুম নষ্ট করেন; তাহলে বালির দুর্গের জন্য ছেলেদের লডাই দেখে হাসছেন কেন?'
যদি বাস্তবিক দেখতে পার, আমাদের সমস্ত গম্ভীরতা বালির দুর্গের জন্য কম বয়সে বালুর দুর্গ মূল্যবান বলে মনে হয় আর বড় হলে পাথরের দুর্গ মূল্যবান হয়ে যায়, ব্যাস। দুর্গ বালির হোক কি পাথরের হোক, ছটোর জন্য গন্ধীরতা একই; কেবল গম্ভীরতার বস্তু পৃথক। তাই বাচ্চারা বালুর দুর্গ নিয়ে ঝগড়া করলে হেসো না।
গম্ভীরতা তোমার মনকে জীবনের উন্মুক্ততা ও স্বাধীনতা থেকে বন্ধ করে রাখে। তা তোমাকে ভোঁতা ও মত বানিয়ে ফেলে। গম্ভীরতা তোমার চিন্তায় লাগাম দেয় এবং তোমাকে চেনা পাটার্নে আটকে রাখে। তা তোমায় অহংবাদী করে তোলে।
একটি জেন আখড়ায় শিষ্যদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হচ্ছিল যে কার বাগান কত সুন্দর।
একজন শিষ্য খুব গম্ভীর ধাঁচের। সে প্রতিযোগিতাকে খুব গম্ভীরতার সাথে নিল। সে বাগা ন সর্বদাই পরিষ্কার রাখত। তার বাগানের সমস্ত ঘাস একই সাইজের। সমস্ত ঝোপ সুন্দরভাবে ছাঁটা। সে প্রথম পুরষ্কার পাবার জন্য সুনিশ্চিত।
প্রতিযোগিতার দিন মাস্টার সমস্ত বাগানে গেলেন ও ফিরে এসে সবাইকে র্যাঙ্ক দিলেন। এই শিষ্যটির বাগান সবচেয়ে নীচের র্যাঙ্ক পেল। সবাই অবাক।
শিষ্যটি মাস্টারের কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করে, 'মাস্টার, আমার বাগানে কি সমস্যা? আমাকে সবচেয়ে নীচের র্যাঙ্ক দিলেন কেন?'
মাস্টার তার দিকে তাকিয়ে বললেন, 'যেখানে সমস্ত পাতাগুলি মরা?'
বাগানকে এইভাবে প্রতিপালন করা হয়েছে যে সেটা জীবন্ত নয়! সেটা মত।
গম্ভীরতা সুজনশীলতাকে নষ্ট করে। তা স্বতঃস্ফূর্ততা ধ্বংস করে।
বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে যে তুমি যখন কোন কাজ খুশী হয়ে ও হালকা হয়ে কর, তোমার চিন্তা ও সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা স্বতশ্চলভাবে বেড়ে যায়। একই কাজ গম্ভীরভাবে করলে তা তোমার মনকে ভোঁতা করে দেয়।
আমাদের সব গম্ভীরতাই ব্যাধি। যখন আমি বলছি 'সব', আমি বোঝাজ্জি 'স---ব।' আমাদের সব ব্যাধি পম্মিরতা থেকেই উৎপন্ন হয়। গম্ভীরতা জন্ম দেয় ব্যাধির এবং ব্যাধি জন্ম দেয় গম্ভীরতার।
এক রাতে একজন আমায় ফোন করে ও কাঁদতে শুরু করে।
া বলে, 'আপনার পায়ে পড়ি, স্বামীজী! দয়া করে আমায় সাহায্য করুন। আমি খুব বিষাদে আছি। আমি আমার জীবনকে শেষ করতে চলেছি!' আর সে বলেই চলে।
আমি তাকে শান্ত করার চেষ্টা করলাম এবং শেষে বললাম, 'কাল সকালে আশ্রমে এস এবং কিছু সময় আমার সাথে কাটিয়ে যাও না কেন? দেখা যাক কি করা যায়।'
সে উত্তর দিল, 'আগামীকাল স্বামীজী? ও...কালকে আমাকে অফিসে যেতে হবে। ...আমি পরের সপ্তাহ-শেষে আসব?'
আমরা বেশীর ভাগই এরকম : নিজেদের তথাকথিত সমস্যায় অহেতুক উদ্বেগিত। কেবল একটা ধাক্কাই যথেষ্ট ও গম্ভীরতা চলে
যাবে। আমরা যখন বাস্তবে জাগ্রত হই, আমারা দেখি যে আমাদের সমস্যাগুলি আসলে কতই তচ্ছ।
যখন তুমি কোন কিছু খুব গম্ভীরভাবে কর, যখন তুমি ফল সম্বন্ধে খুব উদ্বিগ্ন থাক, তখন তুমি নিজেকে সবচেয়ে অনুষ্ঠায় কাজ করতে দিচ্ছ না।
অবশ্যই তোমাকে পরিকল্পনা করতে হবে, তোমাকে আগে চিন্তা করতে হবে, কিন্তু আন্তরিকতার সাথে, গম্ভীরতার সাথে নয়। গম্ভীরতা আর আন্তরিকতা এক নয়। আন্তরিকতা হ'ল কাজটিতে উৎসাহ ও তারুণা সহকারে নির্বিষ্ট হ'ল, ফলের জন্য অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন না হয়ে, সাধ্যমত সবচেয়ে ভাল করে কাজটি করা।
যখন তমি গম্ভীর, তমি উপভোগ কর না: তমি হাস না। গম্ভীর থাকলে তমি কিভাবে হাসবে? হয় তমি গম্ভীর, অথবা তমি হাসছ। তোমার দুটো একসাথে হ'তে পার না কারণ গম্ভীর শব্দটির সংজ্ঞা সেভাবেই হয়।
কিন্তু আন্তরিক হ'লে, তুমি হাসবে ও ক্রীড়াপরায়ণ থাকবে। তুমি ক্রীড়াপরায়ণ ও হর্মোংফুল অবস্থায় কাজ করতে থাকবে এবং আন্তরিকভাবে কাজ সষ্ঠভাবে সমাপন করবে।
আন্তরিকতার সাথে কোন উদ্বিগ্নতা নেই. কেবল প্রবল উৎসাহ আছে।
যখন তুমি পম্ভীর, তুমি অহংবাদী, কারণ তুমি পুরো জিনিষটাকে একটা মহাজাগতিক খেলা বলে দেখতে সমর্থ হও না। তুমি ভাব তোমার স্বতন্ত্র অস্তিত আছে ... সেটাই তো 'আমি'-র জন্য যথেষ্ট এবং তাই তমি গম্ভব। যদি তমি বোঝ যে এই পরো ব্যাপারটাই একটা নাটক, তুমি কখনই গম্ভীর হবে না। যখন এই বোধ একটা গভীর স্তরে হয়, মহাজাগতিক নাটক বা অস্তিতের সাথে ঐক্তানে চলার জন্য তমি পর্ণ আনন্দে কাজ করতে থাকবে।
কালানুক্রমিক পরিকল্পনা বনাম মনস্তাত্ত্বিক পরিকল্পনা
তুমি দ্যাখো, দুই প্রকার পরিকল্পনা আছে : কালানুক্রমিক পরিকল্পনা ও মনস্তাত্ত্বিক পরিকল্পনা।
কালানুক্রমিক পরিকল্পনা সময়ের মাপদণ্ডে হয়। তুমি ঠিক করলে যে তুমি এতটার সময় উঠবে , নির্দিষ্ট সময়ে সকালের রুটিন কাজ শেষ করবে, নির্দিষ্ট সময়ে অফিসে পৌঁছাবে এবং সেইদিন অফিসে কি কাজ শেষ করবে। এসব ঠিক আছে। এটা म्बद्ध जान रूल भारतान जना राजान का शुक्लू नाउयान थाट्यानिक भक्ति। बरे भवाव भारथ আন্তরিকতা দিয়ে কাজ করলে, তমি আনন্দ থেকে আরও আনন্দে চলে যাবে।
অন্যদিকে স্থান-কালের সাথে প্রাসঙ্গিক পরিকল্পনা মস্তিষ্কতে হয়। কালানুক্রমিক পরিকল্পনা ছাড়া , নিছক পঞ্জীর এই পরিকল্পনা তোমার মস্তিষ্কে অবিশ্রাম হয়ে চলেছে। এটা কেবল ইতঃপূর্বে হয়ে যাওয়া কালানুন্সমিক পরিকল্পনাতে জাটিল নকারাত্মকতা ঢুকিয়ে দেওয়া। এটা তোমাকে মনে করায় যে তুমি গম্ভর, রাশভারী ও কর্তব্যনিষ্ঠা কিন্তু তুমি আসলে একটি ভোঁতা অবস্থায় চলে যাচ্ছ কারণ তোমার সকল শক্তি বারংবার একই পরিকল্পনা বিশ্লেষণ করায় ব্যবহৃত হচ্ছে।
মনস্তাত্ত্বিক পরিকল্পনা তোমার আমিনা বাংলা করে। তা তোমাকে মহান ও উপযুক্ত মনে করায় যে তুমি খুব গুরুত্বপূর্ণ বিরাট কাজ করছ। কাজে উদ্বিগ্ন হওয়া ও তা সম্পন্ন করা, সব তোমারই হাতে পুরোপরি আছে বলে তা মনে করায়। এটা মনস্তাত্ত্বিক পরিকল্পনা।
এটা প্রকৃতপক্ষে আনন্দকে স্থগিত রাখার পন্থা, জীবনকে স্থগিত রাখার পন্থা, যেন বিশেষ কিছু ঘটার পরেই জীবন উপভোগ করা শুরু করবে।
আমরা সর্বদা ভাবি, বিয়ে করলে আমাদের জীবন প্রতিষ্ঠিত হবে। তাই বিয়ে করার জন্য কাজ করা যাক। আমার দুটি সন্তান হলে জীবন পর্ণ হবে। রিটায়ার বা অবসর করলে শান্তি পাব।
এই মনোভাব হ'ল : 'এখন আমি গম্ভীর, পরে আমি সুখী হব।'
সবশেষে, তুমি এখন বা পরে, কখনও খুশী হলে না। তুমি যে কোন সময়ে খুশী হবার ক্ষমতা হারিয়ে ফেল।
কেবল সরলতা, স্বতঃস্ফূর্ততা ও নিষ্পাপতার সাথে সজীব থাক. তা নিজেই কার্য সম্পাদন করবে।