40. শক্তির তিনটি স্তর
# শক্তির তিনটি স্তর
ঠিক আছে...এখন, আমরা যা আলোচনা করলাম, তাতে তোমরা বুঝলে যে তুলনা ও ঈর্ষা অন্তিত্বীন এবং তোমাদের কাছে তার কোন প্রাসঙ্গিকতা নেই। এবার বিশুদ্ধি চত্র সম্মন্ত্র আরও ব্যাখ্যা করি ও এটা কেমন শক্তি-স্থল তা বলি।
আমাদের তিনটি স্তরের শক্তি আছে। প্রথম স্তরের শক্তি আসে মন থেকে এবং তা আমরা দৈনন্দিন কাজের জন্য সকাল থেকে রাত্রি পর্যন্ত ব্যবহার করি। এই শক্তি খরচা হলে আমরা ক্লান্ত বোধ করতে আরম্ভ করি এবং আরও কাজ এলে বিরক্ত হই।
িতীয় স্তরের শক্তি হ'ল জরুরি অবস্থার স্তর। এই শক্তি আমাদের আবেগ থেকে আসে। জন্মর অবস্থায় এই শক্তি উদ্যাটিত হয়। ধর, তমি খব পরিশ্রান্ত ও কাজ করে বাড়ীতে হেঁটে ফিরছ। তমি ভাব যে তোমার কেবল ঘরে গিয়ে বিছানায় ঝাঁপ দেবার শফিটকই আছে। সেই সময় হঠাৎ একটা কুকুর তোমায় তাড়া করল, তুমি কি করবে? তুমি ভীষণ জোরে দৌড়াবে এবং অত জোরে হয়ত আগে কখনও দৌড়াও নি। যদিও একেবারে পরিশ্রান্ত ছিলে, যদিও একটি আগে অঙ্গপ্রত্যক্ষ চলাতে অসবিধা হচ্ছিল, হঠাৎ তমি অন্য প্রকার শক্তি দ্বারা চালিত হয়ে দৌড়ালে! আবেগবশত এই জরুরি শক্তি উদ্যাটিত হয়।
ততীয় স্তরের শক্তি হ'ল সত্তা-ম্তরের শক্তি। এটা তোমার ভিতরে এক অসীম শক্তির উৎস, যা তামি ব্যবহার কর না। এই শক্তি স্তর গভীর ধ্যানে উন্মক্ত করা যায় ও তার অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়। তমি মান কি না মান, তমি এই তিনটি শক্তি স্তরের সাথে সংযত। বিশুদ্ধি চলে কাছে এই উচ্চতর শক্তিস্তরের চাবিকাঠি আছে।
পরিব্রাজক হয়ে ঘোরার সময়ের আমার একটা অভিজ্ঞতা বলি :
- হিমালয়ে আলমোরা একটি সন্দর শহর। সেখানে কয়েকটি কটির সহ একটি ছোট আশ্রম আছে এবং যার ধান। করার ইচ্ছা সে সেখানে ধ্যান করতে পারে।
- সেখানে রাতে প্রায়ই বাঘ আসে বলে শোনা যায়! আমি পরিবার্জক হয়ে ঘোরার সময় সেখানে অল্প কয়েক দিন ছিলাম। আমি সেখানে অনেক ঘন্টা ধরে ধ্যান করতাম।
- তাদের একটা নিয়ম ছিল যে বাঘ আসার আঁচ পেলে আশ্রমের প্রধান ঘন্টা বাজাবেন এবং সমস্ত সন্ন্যাসীরা তাদের কুটীরে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করবেন এবং যতক্ষণ না বলা হয় ভিতরেই থাকবেন।
- একদিন আমরা যখন ধ্যান করছিলাম, ঘন্টা বাজল ও আমরা সবাই নিজের নিজের কুটীরে প্রবেশ করলাম।
পরদিন আশ্রমের প্রধান আমরা সবাই ভাল আছি কিনা দেখতে এলেন। তিনি দেখলেন একটি কুটীরের জানালা দিয়ে একজন সন্ত্যাসী মুখ বার করে জোরে কিসব বলছেন। সেই কুটীরের দরজা বন্ধ ছিল। আমরা দৌডে তাঁর দরজা খোলার চেষ্টা করলাম, কিন্তু পারলাম না। সবশেষে আমাদের কয়েকজন জানালা দিয়ে সেই ঘরের ভিতরে ঢুকলাম এবং অবাক হয়ে দেখলাম যে সেই সন্মাসী একটি বিরাট পাথর দরজার সামনে রেখেছেন যাতে বাঘ দরজা ঠেলে ঘরে না ঢুকতে পারে। সবাই একসাথে মিলে পাথরটা সরালাম ও দরজা খলল।
হঠাৎ আমাদের মনে হ'ল তিনি কিভাবে ঐ পাথরটা দরজায় রাখলেন! আমরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম যে পাথরটা তিনি কিভাবে ঠেললেন।
তিনি উত্তর দিলেন, 'ঠেললাম? পাথরটাকে ওঠালাম ও সেখানে রাখলাম!'
বাঘ আসার সঙ্কেত পেয়ে তিনি সহজেই পাথরটা তুলে দরজার পিছনে রাখলেন, ব্যাস!
জরুরি অবস্থার শক্তি বলতে আমি ঠিক সেটাই বোঝাচ্ছি। সাধারণ পরিস্থিতিতে একই মানুষ সেই পাথরটা তুলতে সমর্থ হবে না। বুঝতে পারলে? এই গল্পে বাঘ আসার জরুরি অবস্থা চলে যাবার পর, তিনি নিজেই সেই পাথর দরজা থেকে সরাতে পারলেন না!
ভয় ও লোভ থেকে দ্বিতীয় স্তরের শক্তি উন্মুক্ত হয়। উদাহরণস্বরূপ, একটা জরুরি মিটিং থাকলে কি তুমি ক্লান্ত বোধ কর? না! তুমি জীবন্ত ও সতেজ থাকবে। মিটিংয়ে যাওয়ার বাসনা ও লোভ তোমাকে তেজোময় অবস্থায় রাখে।
বিশুদ্ধি চক্র এমন একটা দরজা যার মধ্য দিয়ে তিনটি শতিস্তর উন্মক্ত করা যায়, কিন্তু তুমি তা জানো না কারণ তুমি এই স্তরগুলি বহু সময় ধরে সঠিকভাবে ব্যবহার কর নি।
এটা এরকম : সমস্ত হার্বার বা পোতাশ্রয়ে বোট-জেটীতে নৌকা রাখা হয়। বলা হয় যে জেটিতে বেশীদিন বোট রাখলে তা জলযাত্রা করা ভুলে যায়!
একইভাবে ততীয় স্তরের শাকি বহুদিন ব্যবহার না করার দরুণ তুমি ভুলে গেছ সেই শক্তি তোমাতে পরিবারের আছে। ধ্যান তোমার জন্য এই ততীয় স্তরের শক্তি উন্মক্ত করতে পারে।
এই চক্র পরিত্র অবস্থায় রাখলে, তুমি বহির্জগতে অনেক এবং অন্তর্জগতের গভীরে যেতে পারবে। যখন তোমার নিম্ন আত্ম-মর্যাদা বা ঈর্ষা থাকে। নিজের সম্পর্কে নিম্ন ধারণা পোষণা পোষণা পোষণা বা নিম্ন আত্ম-মর্যাদা ঈর্ষাকাতরতার অক্রিয় প্রকাশ, ব্যাস। ঈশ্চ আর নিম্ন আত্ম-মর্যাদা অতিরা। দুটোই তুলনা করার ফল। নীচ আত্ম-মর্যাদার সাথে তমি নিজেকে কোন কিছুর উপযুক্ত মনে কর না এবং নিজেকে সেই ভাবনায় ডবিয়ে রাখা ঈর্ষা হ লে তুমি তা সহযোগ পার না এবং প্রতিক্রিয়া কর: এটাই পার্থক্য।
তোমার কোন আত্মমর্যাদা যদি নিজেকে ভগবানের চেয়ে কম বলে ইঙ্গিত করে তা হ'ল নিচ্ছ আত্মমর্যাদা, কারণ তুমি ভগবান। তাই আমি বলি, তোমাকে অন্য কারো সাথে তুলনা করার কোন সুযোগই নেই।
তোমার ভিতরে যে অসীম সম্ভাবনা গুপ্ত আছে তা বোঝার জন্য এই চক্রে লুকানো দিতীয় ও তৃতীয় স্তরের শক্তির অভিজ্ঞতা তোমার হওয়া প্রয়োজন। এই চক্র আমাদের জন্য বাস্তবিকই শক্তিস্থল। আমরা যখন সেখানে কেন্দ্রীভূত হই, আমরা এর থেকে শক্তি বিচ্ছুরিত হওয়া অনুভব করতে পারি।
প্রারম্ভিক দিনগুলিতে পরিব্রজ্যার সময়ে আমি হিমালয়ে মাইলের পর মাইল খালি পায়ে চলতাম। বিশুদ্ধি চক্রে কেন্দ্রীভূত হয়ে আমি ধীর গতিতে চলা শুরু করতাম। এই চক্রে কেন্দ্রীভূত থেকে আমি ধীরে ধীরে গতি বাড়াতাম। কিছু সময় পরে আমার শরীর এক ছন্দে চলতে থাকত ও আমি কেবল তা প্রত্যক্ষ করতে থাকতাম! এইভাবে বহু মাইল চলে যেতাম।
যা খাদ্য খাও ও ব্যায়াম কর তা কেবল প্রথম স্তরের শক্তিকে সাহায্য করে। কেবল খাদ্যই শক্তির উৎস নয়। এটা একটা সাধারণ ভুলধারণা যে কেবল খাদ্যই তোমাকে শক্তি দেয়। খাদ্য শক্তির একটা উৎস, ব্যাস।
তিরতে যোগীরা কিছু খান না। তাঁরা কেন্দ্রে খোলে জল খান। আমি সেইভাবে ছয় মাস হিমালয়ে ছিলাম। আমি শক্তি প্রতিষ্ঠা করে পারে করা হয়ে জল থেকে, শাস নেবার সময় বাতাস থেকে। এখন সব যৌগিক প্রক্রিয়া। সমস্ত জীবন ধরে জীবনমন্ত্রির জন্য তপস্যা করা হয়। তা তোমার সত্তায় স্পন্দিত হয়।
যখন তুমি অন্যের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু কর, তুমি নিজের সত্তা ভুলে যাও। তুমি নিজের সত্তা সুদ্দ্য করতে ভুলে যাও – যে সত্তা কিনা তোমার অব্যবহৃত শক্তির আসল উৎস। আত্মশক্তি বিনা তোমার শারীরিক শক্তি ও বৌদ্ধিক শক্তি কোন কাজের নয়। একমাত্র যখন তুমি নিজের আত্মার শক্তি আবিষ্কার কর, তখন তুমি তোমার জীবনের উৎস ও শক্তিকে স্পর্শ কর।