4. দুশিস্তা মুছে ফেল, মুহূর্তে প্রবেশ কর
# দুশিস্তা মুছে ফেল, মুহূর্তে প্রবেশ কর
মনের পরিচিত বাসস্থানের নক্ষণা হল দুশ্চিন্তা। মনোবিজ্ঞানে এই পরিচিত নকশাগুলিকে এনগ্রাম হল অতীতের খোদিত স্মৃতি, যা আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের কার্যের জন্য এক অবাঞ্চিত রসদ হিসাবে আমাদের ভিতরে কাজ করে। এই সকল সঞ্চিত এনগ্রামের জন্য আমরা বর্তমানে অযৌক্তিকভাবে সাড়া দিই।
প্রতিটি মুহূর্ত যেমন আছে সেভাবে নিতে পারি না কেন ? আমাদের বর্তমানের মুহূর্তকে অতীত ও ভবিষ্যতের মুহূর্তের সাথে সংযুক্ত করার প্রয়োজন্বোধ কেন করি? কেন আমরা সবকিছুতে সঙ্গতি খুঁজি? আর যখন সঙ্গতি থাকে না, তা হজম করতে কেন এত কষ্ট হয়? এগুলি হয়, কারণ আমাদের মাহায্যে ও সঞ্চিত এনগ্রামগুলির সাহায্যে আমরা সর্বদাই কাঠামো গড়তে চাই; আর যখন পারি না, আমরা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হই।
আমাকে কি কখনও দুশ্চিন্তায় দেখেছ? তোমরা অনেকেই আমায় জিজ্ঞাসা করেছ আমি কি করে সবসময়ে এত আনন্দে থাকি? তার কারণ, আমি প্রতিটি ক্ষণে বাস করি, ব্যাস। আমি অতীত্কে রেফারেন্স হিসাবে মনে বহন করি না। আমি মন্তক ভবিষ্যৎ দ্বারাও ভারাক্রান্ত করি না। সবই হয় স্বতঃস্ফূর্ততা থেকে, নকুশা বা প্যাটার্ন থেকে নয়।
তোমাদের অনেকেই গঙ্গা নদীকে হিমালয়ে বইতে দেখেছ। কত সুন্দর। তাঁকে কোথাও শান্ত দেখায়, কখন স্বচ্ছ, কখন ঘোলা। মানুষ গঙ্গাকে কোথায় দেখছে, সেই হিসাবে তার অভিজ্ঞতা হবে। এটাই স্বতঃস্ফূর্ততা।
গঙ্গা দেখে কি দুটি মানুষ তাদের পর পর তুলনা করে অভিযোগ করতে পারে ? সেটা তো বোকামি হবে। নদী খালি বয়ে চলে, ব্যাস। এর কোন প্ল্যান নেই। জীবনমুক্ত মাস্টারেরা নদীর মত। তারা প্ল্যান ছাড়াই বয়ে চলেন, কেবল স্তঙ্কফুর্তভাবে, কোন দুশ্চিন্তা ছাড়াই।
কিন্তু লোকেরা আমাকে জিজ্ঞাসা করে, 'সামীজী, আপনি যা বলেন ও করেন তা এত পরস্পরবিরোধী!' লোকেরা আমায় বিচার করে. বলে আমি সঙ্গতিহীন। তোমাদের মধ্যে কতজন আমার অসঙ্গত কথা ও আচরণ সম্পর্কে অভিযোগ করেছ? চল, হাত তোল।
(অনেকক্ষণ পর, কয়েকজন সাহস করে ...) আমি নিশ্চিত যে তোমাদের মধ্যে বেশীরভাগই কোন না কোন সময়ে এটা ভেবেছ, খালি এই কয়জন সাহস করে হাত তললে।
গঙ্গাকে কি সামঞ্জস্যহীন বলতে পার কি গঙ্গার আরও সুবিন্যসভাবে প্রবাহিত হওয়া উচিত ছিল ? না! গঙ্গা সেই ভাবেই বয়ে চলে, ব্যাস: তুমি তাতে পার না। একইভাবে এক মাস্টারও বয়ে চলেন। তো মরা আমাকে সামঞ্জস্থীন বলতে পার না। আমি ক্ষণ থেকে ক্ষণে বাস করি। তোমরা বাস কর সংযুক্ত ও জটিল ক্ষণগুলিতে। তোমরা ভারাত্রান্ত বোধ করে ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হও।
যখন এতগুলি ক্ষণ তোমার ওপরে চাপ দিচ্ছে, তুমি তো ভারী বোধ করবেই। একইভাবে যখন মাত্র একটি ক্ষণ তোমার ওপরে আছে, তুমি কত হালকা বোধ করবে। তুমি অতীতের নকশা দিয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যৎক সংযুক্ত কর বলেই দুশ্চিন্তাগুলি হয়। এমন করতে করতে তৃষ্ণি বর্তমানকে হারিয়ে ফেল. বর্তমান তো তোমার পাওয়া এক উপহার। অতীত ও ভবিষ্যতের জন্য তমি অবিশ্রাম বর্তমানকে হারাতে থাক। সবশেষে কেবল অতীত ও ভবিষ্যৎ পড়ে থাকে, বর্তমান কখনই নয়।
দুশ্চিন্তার প্রবাহ সঙ্গি করার এই নকশাগুলি তোমার জন্য জীবনধারণের উপকরণ হয়ে গেছে।
একটা ছোট গল্প :
দুই বন্ধু এক নতুন মুক্তিপ্ৰাপ্ত ছায়াছবি দেখতে গেল।
- সিনেমা দেখার সময় একজন লক্ষ্য করল যে অন্যজন বারবার ঘড়ি দেখছে। শেষে সে জিজ্ঞাসা করে, 'তোমার কি সিনেমাটা ভাল লাগছে না?'
- বন্ধুটি উত্তর দিল, 'ভাল লাগছে। আমি কেবল দেখছি উপভোগ করার আর কত সময় বাকী আছে।'
আমরা প্রায় সবাই এই প্রকার। আমরা দুশ্চিন্তা করতে এত অভ্যন্ত যে দুশ্চিন্তা করার কিছু না থাকলে আমাদের দুশ্চিন্তা হয় যে কতক্ষণ এই দুশ্চিন্তা-না-হওয়া অবস্থা চলবে। যখন আমরা উপভোগ করি যে উপভোগ করার আর কত সময় বাকী আছে। তাহলে কিভাবে কখন আমরা উপভোগ করব? অবিশ্রাম এইভাবে ভাবলে তো তুমি নিজেকে সর্বদাই ভবিষ্যতে রাখছ। যখন এরকম কর, তুমি তো বর্তমানের মজাই হারিয়ে ফেলছ!
দুপ্চিন্তাকে আশ্রয় দিয়ে সকলেই নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রস্থ মনে করে। আসলে একজন যত বেশী দুশ্চিন্তা করে , তার নিজেকে তত বেশী ভাল লাগে কারণ সে মনে করে যে এতগুলি দুশ্চিন্তা সে সামলাচ্ছে! তাই দেখবে প্রায়ই যখন কারো সঙ্গে তোমার দুপিন্তা সম্পর্কে কথা বল, সে বলে উঠবে, 'আ! এটা তো কিছুই নয়: আমার সমস্যাগুলি শোন: তাহলে বুঝতে দুশ্চিন্তা কি জিনিষ।' লোকেরা বড় দুশ্চিন্তা বহন করার জন্য নিজেকে শ্রেষ্ঠতর ভাবে!
সর্বদা দুশ্চিন্তা সম্বন্ধে ভাবলে কিছুই না। তোমার দশটা দুশ্চিন্তার সাথে, এগারতম দুশ্চিন্তা হবে, যাকে বলে বিষাদগ্রস্ত হওয়া, ব্যাস।
কাজ করার সময় আমরা দুশ্চিন্তা করি। দুশ্চিন্তা থাকলে কাজ করতে পার না এবং তুমি ঘুণি হিস্তা করতে পার না। যেখানে দুশ্চিন্তা আছে, সেখানে সজনশীলতা নেই এবং যেখানে সজনশীলতা আছে, সেখানে কোন দুঃ্মিন্ডা शाकरण भारत ना। मुजनीलजा जगवानव काऊ। यशन मुजन कवर, जूसी जनवानव निकट जाए। मुजनमीला रामदा शारण দুশ্চিন্তা আসে মন থেকে।
অতীত একটি অবাঞ্চিত বোঝা। তাকে ফেলে দাও
অতীতের পিছনে দৌড়ে বা ভবিষ্যতের সম্বন্ধে চিন্তা করে, তুমি বর্তমানকে হারিয়ে ফেলছ। আধ্যাত্মিকতায় অতীতকে ফেলে দিয়ে বর্তমানে বাস করতে হয়। এই মুহূর্তে তুমি অতীত পুঞ্জীভূত করছ। তুমি এইজন্য পাঁকে নিমজ্জিত হচ্ছ।
তুমি তোমার অতীতের বোঝা নামাতে জান না। তুমি ভাব যে তোমাকে সেটা বহন করতে হবে। সমাজ তোমাকে তা বহন করতে
শিখিয়েছে। তুমি এই বোঝা নামাবার চেষ্টা করলে নিজেকে দোষী ভাবতে শেখানো হয়েছে।
সমাজ তোমাকে বলে যে অতীতকে ফেলে দিলে তুমি অক্তজ্ঞ হবে। তোমার অতীতকে বহন করার কোনও প্রয়োজন নেই। যারা তোমাকে এসব বলে তারা জানে না যে অস্টিতের জন্য, সমষ্টিগতভাবে সকলের জন্য তোমার অবিশ্রাম করে উচিত। জীবনে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনাবলীর জন্য অনুভূতি কতজ্ঞতা নয়।
অতীতকে ফেলে দিলে বর্তমান তোমাকে বিশ্বিত করবে। সমাজ তোমাকে সর্বদাই বর্তমানকে অতীত হিসাবে উপভোগ করার প্রায় করে বাংলা করে পারে কার্যালয় না। এটা তোমায় সরকিছুকে অতীত বানিয়ে পরে উপভোগ করতে শেখায়।
আমি লোকেদের ছুটিতে যাওয়া দেখেছি - তারা সবসময়ে তাদের ক্যামেরা নিয়ে ব্যস্ত। নৈসর্গিক স্থানে গিয়ে চারপাশ উপভোগ না করে দশ্যাবলি ধরে রাখার জন্য তারা কেবল ক্যামেরাগুলি নিয়ে হুড়াহুড়ি করতে থাকে।
তারপর তারা ঘরে ফিরে যাবে, ফিল্ম রোল ওয়াশ করবে, চার দেওয়ালের ভিতরে সোফায় বসবে এবং ক্যামেরায় ধরা একই দশ্য উপভোগ করবে। আর পরিবার ও বন্ধুদের ফটোগুলি দেখাবে এই বলার জন্য যে তারা ঐ ছবির জায়গাণ্ডলিতে গিয়েছিল। কিন্তু তারা কখনই সেখানে থাকাকালীন সেই জায়গা উপভোগ করে নি!
তুমি বর্তমানকে অতীত বানিয়ে উপভোগ কর। তাই লোকেরা বলে, 'সেই দিনগুলি স্বর্ণময় ছিল।' যখন দিনগুলি আসলে ছিল, নিশ্চিত তুমি সেই দিনগুলিকে সোনালি মনে কর নি। সেই সময়ও তুমি বলছিলে যে আগের দিনগুলি স্বর্ণময় ছিল !
তুমি যখন বর্তমানে আছ. প্রতিটি ক্ষণ হয়ে যাবে এক উৎসব উদযাপনের জন্য অতীতের ঘটনা খুঁজবে না।
দুশ্চিন্তার জন্য অতীতকে ব্যবচ্ছেদ করা তো সময় বরবাদ করা, কারণ তুমি প্রতিটি মুহূর্তে এক নতুন মানুষ। প্রতি ক্ষণে তুমি বিকিশিত হচ্ছ: প্রতিটি মুহূর্তে তোমাকে আধুনিক বা আপডেট করা হচ্ছে। তুমি অজিতের অংশ আর অস্তিত্ব প্রতিটি ক্ষণে পরিবর্তন হয়। তাহলে অতীতের ঘটনাকে তুমি কিভাবে আধুনি ক বা নতুন বুদ্ধি দিয়ে ব্যবচ্ছেদ করবে? এটা পুরাদম্ভর অবান্তর ও অৰ্থহীন।
কখনই আপডেটেড (আধুনিকীকৃত) বুদ্ধি দিয়ে অতীতকে বিশ্লেষণ কোরো না। সেটা একেবারেই বোকামি। তাতে কেবল আরও বেশী দুশ্চিন্তা ও অপরাধবোধ আসবে। প্রতিটি ক্ষণে তুমি মরে গিয়ে পরের ক্ষণে নতুন মানুষ হচ্ছ। এটাই সত্য।
তুমি কি কখনও একটা গরু বা মোমকে দুশ্চিন্তায় দেখেছ? গাছ দুশ্চিন্তা করে বলে কখনও শুনেছ? তারা কি বিত্রত না হয়ে বেঁচে নেই? তুমি কেন তাহলে দুশ্চিন্তা কর? আমি তোমাদের বলি : দুশ্চিন্তা হল মানুষের সবচেয়ে নিষ্ণলা অভ্যাস।
শব্দ দুশ্চিন্তার একক বা ইউনিট
আমাদের সমস্ত দুশ্চিন্তাগুলি হল আমাদের পরিচিত ভাষায় শব্দের সমষ্টি। আর তারা অনেক বিভ্রান্ত করে ও ভুল ব্যাখ্যা প্রদান করে। কিন্তু কি করা যায়? মানুষ একমাত্র শব্দাবলী দ্বারা যোগাযোগ করতে অভ্যস্ত।
আমি সর্বদা লোকেদের বলি : যখন আমি কিছু বলি, তুমি সেটা অন্য কিছু বলে বোঝ। আর সেখানেই সমস্যার সত্রপাত। প্রত্যেকে নিজের নিজের ডিকশনারী সষ্টি কর এবং শব্দগুলির অর্থ নিজের মত করে গ্রহণ কর।
একটা ছোট গল্প :
একজন তার পতীকে বলে, 'তমি জান কি রঙের তলি তৈরী করতে বছরে ৫০০০ উট ব্যবহার করা হয়?' পত্নী উত্তর করে, 'ও ভগবান! কি আবাক কাণ্ড। দ্যাখ দেখি, মানুষ জানোয়ারদের দিয়ে কি কি করিয়ে নেয়?'
পতি এক কথা বলে, পত্নী অন্যক্ষি বোঝে। আমরা প্রায় সবাই এইভাবেই বুঝি। তাই আমি বলি যে, কথা বা শব্দ বিভ্রান্তি সঙ্গি করে। দুঃখের কথা, মানুষ কেবল শব্দ দ্বারা যোগাযোগ করতে জানে। সে শব্দজালে জড়িয়ে পড়তে থাকে।
দ্যাখো, শব্দ থেকে আরও বেশী শব্দের উৎপত্তি হবে। কিন্তু দুটি শব্দের মাঝে এক নীরবতা আছে - এই ছোট বিরতি আমরা হাদয়ঙ্গম করতে পারি না: এই বিরতি সম্বন্ধে আমাদের সচেতন হতে হবে। এই বিরতিই তো আমরা খুঁজছি।
এই বিরতি এত মাইক্রো-কম্মিক বা ক্ষুদ্র-মহাজগৎ, যদিও আমরা প্রতিদিন এর মধ্য দিয়ে যাই, আমরা এর সম্পর্কে অদ্ভতভাবে
বিষ্ণত বা অচেতন থাকি। আমি যখন কথা বলি তোমরা আমার কথা শোনার জন্য পর্ণনার কেন্দ্রীভূত হও। কথন কখন , শব্দাবলীর মাঝে আমি লম্বা বিরাজ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিশ্বাস বিশ্বকাপে প্রত্যক্ষ ও আত্মীভূত করাতে পারে, সেইজন্য আমি এই বিরামগুলি দিই - নীরবতাই তো আসলে তুমি খুঁজছ। কিন্তু ব্যতিক্রমহীনভাবে কি হয়? যেই মহতে আমি বিরাম দিই, তুমি চঞ্চল হয়ে পড়। তমি তোমার জিনিষপত্র নাড়াচাড়া করতে থাকে, এদিক দেখতে থাকো, কথা বল, আবার শব্দাবলী সঞ্চয় কর!
প্রকৃত নীরবতা সেটাই যা তোমাকে ভরিয়ে দেয় সচেতনতায়, অন্য কিছু নয়। কেবল মুখ বন্ধ রাখলে তা হয় না।
Section 2
এখন তোমার মন জিজ্ঞাসা করতে থাকবে। 'কি করে এই ভিতরের কিচিরমিচির ও চিন্তা বন্ধ করতে পারি? কিভাবে প্রকৃত নীরবতা উপলব্ধি করতে পারি?' এই চিন্তা তোমাকে তাড়া করতে থাকবে এবং এটাও একটা দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়াবে।
বোঝার চেষ্টা কর : তুমি চিন্তা বন্ধ করতে পার না। 'চিন্তা করা বন্ধ করতে হবে' চিন্তাটাও তো একটা চিন্তা। জোর করে এক সেকেণ্ড নীরবতা চেষ্টা করার নীর্য আমরা অর্জন করতে চাই না; এটা তো এক জবরদন্তি করা মৃত নীরবতা। যে নীরবতা আমরা লাভ করতে চাই তা তো অস্তিতের স্পন্দমান ও আনন্দময় নীরবতা।
তাহলে কি করতে হবে? সোজাসুজি মনকে প্রত্যক্ষ কর, ব্যাস। একজন পর্যবেক্ষক হও। বিচার কোরো না; কোন চিন্তাকে প্রতিরোধ কোরো না। তাকে তোমাকে দেওয়া ভগবানের উপহার বলে নাও এবং গভীর কতজ্ঞতা সহকারে সেই চিন্তাকে প্রত্যক্ষ কর। স্বতক্ষলভাবে নীরবতা হবে।
তোমার সচেতনতা ধীরে ধীরে বাড়বে, তোমাকে নিজের মধ্যে কেন্দ্রীভূত করবে এবং তোমার নীরবতা বন্ধি পাবে। আমি যখন বলছি ভিতরের নীরবতা বাড়বে. তার মানে ভিতরের কিচিরমিচির কমবে এবং তমি একজন প্রত্যক্ষদর্শীর মত হবে। সেই বর্দ্ধিত নীরবতার সাথে তোমার ভিতরে আরও বেশী সচেতনতা আসবে এবং এটা এক চক্রাকার প্রক্রিয়া হয়ে যাবে।
বর্ধিত সচেতনাতার সাথে তুমি তোমার চতুষ্পার্শ্বের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবে। এমন নয় যে এই সৌন্দর্য হঠাৎ করে এল , তা তো সর্বদাই ছিল। কিন্তু তুমি তাতে সচেতন ছিলে না। তুমি নিজেকে নিয়েই খুব ব্যস্ত ছিলে। এখন তোমার সচেতনতার সাথে তুমি তাকে উদযাপন করতে পারবে। অক্সাৎ, প্রকৃতি নিজেকে তোমার কাছে অতিসম্মদ হয়ে ধরা দিতে শুরু করবে। তোমার অন্তরাত্মা রূপান্তরিত হবে এবং তার সাথে সাথে বহির্জগতও রূপান্তরিত হবে!
যখন তুমি সচেতন হতে শেখ, তুমি তোমার মনকে বিচক্ষণতার সাথে ব্যবহার করতে পারবে। মন এক মুখ্য হাতিয়ার হয়ে যাবে। যখন চাও তখন এটাকে ব্যবহার করতে পারবে। ভয়ংকর শত্রু থেকে, তোমার মন হয়ে যায় এক বিশ্বাসযোগ্য মিত্র।
প্রতি সেকেণ্ডে চিন্তার সংখ্যা কমাও
তোমার অন্তর্বাচন বা ভিতরের কিচিরমিচির যখন কমে যায়, যখন তোমার প্রতি সেকেণ্ডে চিন্তা বা টিপিএস (TPS - Thoughts per second) এক সেকেণ্ডের কম সময়ের জন্যও কমে, সেই টুকরো সেকেণ্ডে তুমি পুরোপুরি বর্তমানে আছ এবং সেই টুকরো সেকেণ্ডে তুমি তোমার অতীত ও ভবিষ্যৎকে একটা খোলা বইয়ের মত পড়তে পার ! ভিতরের কিচিরমিচির খুব বেশী হওয়া অর্থ তোমার টিপিএস বেশী এবং তুমি সর্বদা অতীতে অথবা ভবিষ্যতে আছ; বর্তমানে কখনই নয়।
তোমাকে এবার ব্যাখ্যা করে বলি অতীত ও ভবিষ্যতে প্রবেশ করা মানে কি বলতে চাইছি। তোমরা হয়ত কখনও অভিজ্ঞতা লাভ করেছ যখন তোমরা কোন পাটি, লেকচার বা অন্য কোথাও আছ. হঠাৎ কেমন মনে হয় যে পুরো ঘটনাস্থল ও দশ্য যেন আগে ঘটেছে। গলার আওয়াজ, কথাবার্তা, জায়গা, এমনকি সেখানকার কিছু শিল্পকর্মও তোমার আগে দেখা ঘটনা বলে প্রতিপন্ন হবে। তুমি হতবাক হও।
অথবা তুমি হঠাৎ একজনের কথা চিন্তা করছ, এক বন্ধু যার সাথে বহুদিন যোগাযোগ হয় নি এবং সেই মানুষটির ফোন এল। পরের কয়েকটা মুহূর্তে কি হবে তার ভবিষ্যৎয়াণী তুমি করতে পারছ। তোমার সাথে এরকম ঘটলে তুমি অবাক হয়ে যাও । পরিষ্কার করে বোঝা : এই কয়েকটা মুহূর্তে তুমি দুর্ঘটনাক্রমে পুরোপুরি বর্তমানে ছিলে। দুর্ঘটনাক্রমে, যে করেই হোক তুমি বর্তমানে এসে গিয়েছিলে।
ত প্ৰতিষ্ঠা কৰিছিল। তেওঁ পাৰে পাৰে পাৰে পাৰে পাৰে পাৰে। তেওঁ পাৰে। তেও বর্তমানকে না ছুঁয়ে। এটাই সত্য। কিন্তা দুর্ঘটনাত্রমে মুহূর্তের জন্য তোমার টিপিএস বা প্রতি সেকেলে চিন্তা করে যায় এবং তুমি বর্তমানে ধপাস করে পর।
যখন তুমি বর্তমানে পূর্ণরূপে এক সেকেণ্ডের জন্যও আছ, তোমার অতীত ও ভবিষ্যৎ তোমার কাছে স্বচ্ছ হয়ে যায়। সেইজন্য
এইপ্রকার অন্তর্জ্ঞান-মলক ঘটনা তোমার ভিতরে ঘটতে থাকে।
আমাদের চিন্তাধারা কখনই পরিষ্কার নয়। এটা সর্বদাই কেবলমাত্র অনুষঙ্গ: এটা কখনই নির্ভেজাল চিন্তা নয়।
এবার বলি অনুষঙ্গ বলতে কি বোঝাছি। সকালে ঘুম থেকে উঠলে এবং বাগানে একটা গোলাপ ফুটেছে দেখলে। সঙ্গে তোমার মন চলে গেল যে কেউ তোমাকে একটা গোলাপ অনেকদিন আগে দিয়েছিল। তখন তোমার চিন্তা সেইসময় গোলাপ দেখে যা হয়েছিল সেদিকে অথবা যে মানুষটি গোলাপ দিয়েছিল তার দিকে চলে গেল। তারপর ভাবতে থাকেলে সেই মানুষটির সাথে কি কি হয়েছিল। শেষে কি হয়? যে গোলাপটা তোমার সামনে আছে তমি তাকে হারিয়ে ফেললে !
এইভাবে তমি অতীতের পিছনে ছোট ও বর্তমানকে হারাও। এটাকে আমি বলি 'অনুষঙ্গ' (association)। তোমার অধুনা মানসিক গঠনের স্বভাব এই রূপ। যতক্ষণ তোমার মানসিক গঠনের স্বভাব কেবল সংসর্গ, নিজের ভিতরে শব্দের পর কথার পর কথা সষ্টি করে তমি অতীত ও ভবিষ্যতের পিছনে দৌড়তে থাকবে।
জীবনমুক্ত মাস্টারেরা সর্বদাই বর্তমানে বাস করেন। তাই তাঁরা অতীত ও ভবিষ্যতের অগাধ সমুদ্রে প্রবেশ করতে পারেন। তোমার ক্ষেত্রে এটা দুর্ঘটনা। টুকরো সেকেলে হয়। এমন কি যখন এরকম ঘটে তুমি ভয় পাও ! তুমি অচেতনভাবে বাস করতে এত অভ্যন্ত হয়ে গেছ যে তুমি যখন সম্মেলতায় হঠাৎ করে এসে পড় , তোমার পক্ষে সেটা খুব বেশী হয়ে যায়। বাস্তবতা न्यून बनी रूट्या याया।
বর্তমান থেকে তুমি কত দুরে আছ, তাতে তোমার টিপিএস প্রধান ভূমিকা নেয়। যখন টিপিএস বেশী, তুমি অচেতনভাবে বাস কর; তুমি বাস্তবতা থেকে অনেক দুরে আছ৷ আর যখন টিপিএস নীচে , তুমি ধ্যানের অনেক কাছে হও। টিপিএস কমানোর পথ ধ্যান ও সচেতনতা।
লোকেরা আমায় বলে, 'স্বামীজী, আমরা যখন ছুটিতে বেড়াতে যাই, তখন সেটা যেন নরক হয়ে যায়।' আমি বলি, 'নরক তোমারই ভিতরে; তুমি তাকে তোমার সাথে সর্বত্র নিয়ে বেড়াও৷ তাকে নিশ্চিত তুমি যেখানেই যাও পাবে ! যখন বেঁচে থাক, তুমি অপরকে নরক দেখাও। যখন মর, নরকে যাও! যেখানেই যাও, তুমি তোমার নরককে সাথে করে বয়ে নিয়ে যেতে চাও। তুমি নরকের সাথে এত পরিচিত যে তোমাকে স্বর্গ দেখালেও নিজেকে সেখানে মানাতে পারবে না।'
একটা ছোট গল্প :
তিনজন মৎসজীবী মহিলা মাছ বিক্রি করে ঘরে ফিরছিল এবং সেদিন ঘরে ফিরতে অনেক রাত হয়ে গিয়েছিল। তারা টিক করল যে রাতটা রাস্তায় কোন বাড়িতে কাটাবে। তারা এক মহিলার ঘরে গেল, সেই মহিলাটি জুঁইফল বিত্রি করত। মৎসজীবী মহিলারা জুঁইফুল বিক্রেতাকে রাতে থাকতে দিতে অনুরোধ করল ও সে রাজী হয়ে তাদের শোবার জন্য একটা ঘর দেখিয়ে দিল।
মহিলাটির পরো বাড়ী জুঁইফলের সন্দর গন্ধে ভরে ছিল। কিন্তু তিনজন যতই চেষ্টা করুক না কেন, তারা ফলের গন্ধে একদম ঘুমাতে পারছিল না। তারা এপাশ করছিল এবং বুঝতে পারছিল না কি করা যায়।
তখন হঠাৎ তাদের মধ্যে একজন উঠল ও মাছের খালি ঝুড়িগুলি নিয়ে এসে সবার মাথা ঢেকে দিল। কোন সময় নষ্ট না করেই তিনজন ঘুমিয়ে পড়ল!
আমরা আমাদের দুশ্চিন্তাগুলি সর্বত্র বহন করে নিয়ে যেতে ও তাদের প্রতিপালন করতে ভালবাসি! আবার আমরা অভিযোগও করি যে আমাদের সদাই কত দুশ্চিন্তা! আমরা কিছু থেকে ছাড়া পেতে চাই কিন্তু আমরা ছাড়া পাওয়ার জন্য রূপান্তরিত হতে চাই না। সেটাকেই আমি স্ব-বিরোধী হওয়া বলি। যদি আমরা দুশ্চিন্তা না করতে চাই, তাহলে আমাদের দুশ্চিন্তা করা উচিত নয়। একদিকে আমরা দুশ্চিন্তা করতে চাই না, অপরদিকে আমরা সর্বদাই দুল্চিন্তা করতে চাই।