Books / Guaranteed Solutions For Lust Fear Worry... Bengali merged

3. ভিতরে ও বাইরে কথা বলা

# ভিতরে ও বাইরে কথা বলা

ঠিক আছে, এবার বিশ্লেষণ করা যাক যে দুশ্চিন্তা হলে মনের ভিতরে কি হয়?

যখন কিছু ব্যাপারে দুশ্চিন্তা করছ, নিজের মনকে লক্ষ্য কর।

দেখবে যে মন থেকে অনেকগুলি চিন্তান প্রেস - সংযোগহীন, অসংলগ্ন কণ্ঠশুলি চিন্তা এবং বেশীর ভাগই নকারাত্মক চিন্তা। নকারাত্মক ও পনরাবত্তিক কথার এই অবিরাম অন্তঃপ্রবাহ তোমার মনে তডিৎ প্রবাহে র মত লাগবে।

দ্যাখো, আমরা দুই প্রকার বাচনভঙ্গি ব্যবহার করি - বহির্বাচন ও অন্তর্বাচন। বহির্বাচন মানে অপরের সাথে কথা বলা, যাকে আমরা বার্তালাপ বলি। অন্তর্বাচন হল নিজের সাথে কথা বলা। আসলে এই অন্তর্বাচন অনগল আমাদের মধ্যে হয়ে চলেছে। এই অন্তর্বাচনকে 'ভিতরের কিচিরমিচির' বলা যায় এবং এটাকে আমরা দুল্চিন্তাও বলি।

দুপ্চিন্তা হল মনের ভিতর হয়ে যাওয়া এই অনর্গল, অনিয়ন্ত্রিত 'ভিতরের কিচিরমিচির তোমার প্রভু হয়ে বলে ও তোমাকে নিয়ন্ত্রিত করে।

বহির্বাচনে যা কথা বল, তমি সতর্ক হয়ে বল, কারণ তা না করলে সমাজ তোমাকে সতর্ক করে দেবে। কিন্তু তোমার অন্তর্গাচনের ওপর কারো নিয়ন্ত্রণ নেই। তোমার বহির্বাচন যদি নিয়ন্ত্রণ করতে পার, তবে অন্তর্বাচন কেন ন্দ্রণ করে অন্তর্ভাচন কেন নিয়মন্ত্রণ করে নিয়মন্ত্রণ করে পার না?

তমি অন্তর্জাচন নিয়ন্ত্রণ কর না কারণ তোমার আত্মসম্ভব বা নিজের ওপর শ্রদ্ধা নেই। যা ইচ্ছা তাই ভিতরে বলতে থাকা খাবারের থালায় কি নোংরা ফেলা হয়? না। আমরা তা কেবল ডাস্টবিনে ফেলি। তুমি অন্যকে খাবারের থালার মত দেখ এবং নিজেকে ডাস্টবিনের মত মনে কর। এইজন্য তুমি হজম করতে পার না।

ভয়ংকর ব্যাপার হল, বহির্বাচনে বিরাম বা ব্রেক পাওয়া যায়। যখন বার্তালাপ হচ্ছে না, তখন সেটা বেক-এর সময়। কিন্তু অন্তর্জাচন অবিশ্রাম চলে, কোন বিরাম নেই। তা তোমাকে পাগল করে দেয়! তুমি বাইরে কথা বল কারণ তুমি অন্তর্বাচন থেকে পালাতে চাও। তাই পথিবীতে এত কথাবার্তা চলাকেরা নীরব থাকতে ভয় পায় কারণ তাদের ভিতরে তো এক পাগলাগারদ। তাই তারা অন্যের সাথে মেলে, সোসালাইজ করে, কথা বলে এবং নিজেদের ব্যস্ত রাখে।

'ভিতরের কিচিরমিচির' বলতে ঠিক কি বলছি?

এই ছোট অভ্যাসটি যখন নিজের মত আছ. করে দেখা চোখ বজে কিছু মিনিট বসে থাক। একটা পেন ও পেপার সাথে রেখো। মনকে কোন কিছুতে কেন্দ্রিত কোনো না। কেবল দেখা তোমার মনে কি চলছে। যেই মহুর্তে চোখ বন্ধ কর্ , তুমি দেখবে যে মনে অবিশ্রাম চিন্তার মেয়ে চলেছে। যে যে চিন্তা আসছে, সততার সাথে সেগুলি লিখে ফেল। যা হচ্ছে তাই লিখতে থাক, যতই অসংলগ্ন চিন্তা হোক না কেন। পাঁচ মিনিট ধরে এটা কর।

এখন বসে বসে পড় কি লিখেছ। তুমি অবাক হয়ে যাবে! যা তুমি পেপারে লিখেছ তা তোমার ভিতরের কিচিরমিচির। পড়লে তুমি বুঝবে তোমার চিন্তাগুলি কত অসংলগ্ন ও অপ্রাসঙ্গিক। এই মুহূর্তে তুমি আমেরিকাতে, আবার চলে গেছ তোমার অফিসে, পরের মুহূর্তে তোমাদের বাচ্চাদের কথা চিন্তা করছ !

তুমি তোমার জীবনকে এই মনটির ওপরে বিশ্বাস করে সঁপেছ। এই মনই যত দুঃশিল্পা উৎপাদন করে। এই মনই যেন তোমায় বাঁচিয়ে রাখছে। এই পদক্ষেপটি বুঝতে পারলে, বাকীটা সোজা।

একটা ছোট গল্প :

একদিন রাস্তায় একটা দুর্ঘটনা হয়। লোকেরা ভীড করল এবং দেখল যে একটা নতুন গাড়ী দেওয়ালের সাথে ধাকা খেয়েছে। তারা ড্রাইভারকে জিজ্ঞাসা করল, 'ঠিক করে গাড়ী চালাতে জান না তো গাড়ি চালাচ্ছ কেন?' ্রে বাংলাদেশ আমি গাড়ী চালাতে জানি', লোকটি উত্তর দিল, 'আমি কেবল থামাতে জানি না।'

লোকটি গাড়ী চালাতে জানে কিন্তু থামাতে জানে না! তুমিও এক গাড়ী চালাচ্ছ, যেটাকে তুমি থামাতে জান না। এটা খুবই বিপজ্জনক। তোমার মন একটি গাড়ীর মত যেটাকে তুমি থামাতে জান না। খালি তোমার ভিতরের কিচিরমিচির বন্ধ করার চেষ্টা কর, এমন কি এক সেকেন্ডের জন্য। পারবে কি? যখন তাকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা কর, চিন্তার সংখ্যা বেড়ে যায়। মনকে থামানো এখন তোমার আরেকটি নতুন দুশ্চিন্তা হয়ে গেল।

তুমি তোমার মনকে চালাচ্ছ না, মন তোমায় চালাচ্ছে।

দুশ্চিন্তাকে বোঝার জন্য, মনের স্বভাবধর্ম সম্বন্ধে আমাদের গভীর অন্তর্দ্বী চাই।

দুশ্চিন্তার রাস্তা মন থেকে শুরু হয়, তাই দুশ্চিন্তামুক্ত হবার রাস্তাও মন থেকে হয়। কিন্তু আমরা ভুল জায়গায় উত্তর খুঁজতে থাকি। উত্তর আমরা সর্বদা বাইরে খুঁজি। আমরা ভাবি, যদি আমার বেশী টাকা থাকত, আমার সব দুশ্চিন্তা শেষ হয়ে যেত! যদি আমাকে আরও ভাল দেখতে হলে ... যদি আমার এর থেকে ভাল চাকরী হ'ত ... যদি… যদি… যদি… যদি…

সমাধান বাইরের জগতে পাওয়া যাবে না। তা পাওয়া যাবে কেবল আমাদের ভিতরে।

একটা ছোট গল্প :

বুদ্ধের দশ হাজার শিষ্য ছিল এবং তিনি তাদের রোজ সকালে সম্ভাষণ করতেন। একদিন তিনি একটি শক্ত করে গিঁট বাধা দড়ি নিয়ে এসে সবার কাছে রাখলেন ও জিজ্ঞাসা করলেন, 'কেউ কি এই গিঁট খলতে পারবে?' সব শিষ্যেরাই এল. গিঁট নিয়ে টানাটানি করল কিন্তু গিঁট খলল না।

এক বদ্ধিমান শিষ্য এল. কিছুক্ষণ ধরে গিঁটটাকে ভাল করে দেখল এবং তাকে সহজেই খলে ফেলল।

তোমাকে গিঁট দেখতে হবে, দেখে বুঝতে হবে কিভাবে তার সুষ্টি হয়েছে, তাহলে তুমি তাকে খুলতে পারবে। টানাটানি করলে কিছুই হবে না, বরং গিঁট আরও শক্ত হয়ে যাবে।

একই ব্যাপার আমাদের সমস্যার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। যে সমস্যাবলী, অসখগুলি ও আবেগগুলির সাথে এখন লড়াই করছ. সেগুলি তোমার সিস্টেমে বা তন্ত্রে একেকটা গাঁট। একবার যদি বুঝে ফেল যে কিভাবে এই গাঁটগুলির সঙ্গি হয়েছে, তুমি ঠিক পদক্ষেপ নিয়ে তাদের খলে ফেলবে।

দুপিন্তা মণিপরক চক্রের সাথে সম্বন্ধিত। এই চক্রটি নাভি অঞ্চলে আছে। নকারাত্মক চিন্তা সরাসরিভাবে মণিপরক চক্রকে আক্রমণ করে।

এই ছোট পরীক্ষাটি কর : যখনই ভাবো যে নকারাত্মক চিন্তা আসছে, তাদের ভাল করে দেখা ও লক্ষ্য করে যে সেগুলি কোথা থেকে আসছে। দেখবে যে তারা সর্বদাই নাভি অঞ্চল থেকে উঠছে।

া কার্যালয় আর কার্যালয়ের হওয়া হয়ে যে তুমি তা একদমই সামনাতে পারছ না , তখন প্রথমেই তোমার নাভি অঞ্চল, তোমার পাকস্থলী, ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিষাদেশক্ততাকে তুমি শাহীনিকভাবে পেটে অতিরিক্ত ওজন হিসাবে অনুভব করবে। তাই আমরা বলি, 'আমি এটা পেটে সইতে পারছি না: এটা হজম করতে পারছি না।' এই কথাটি সমস্ত ভাষাতেই আছে। এটা বিশ্বজনীন। অবিশ্রাম দুশ্চিন্তা মণিপুরক চক্রকে তালাবদ্ধ করে দেয়।

তাই দুশ্চিন্তামূক্ত হবার রাস্তা কি?

কেবল সকারাত্মক শব্দ সচ্চি কর

আমি যদি তোমাদের জিজ্ঞাসা করি যে কিভাবে দুশ্চিন্তামুক্ত হওয়া যায়, তোমরা বলবে, 'কোন অবস্থাতেই আমাদের দুশ্চিন্তা করা উচিত নয়. স্বামীজী।'

কেবল নিজেকে বলতে থাক যে দুশ্চিন্তা করা উচিৎ নয়। কি হবে? তুমি 'দুশ্চিন্তা না করা' বলে আরও একটা দুশ্চিন্তা সঙ্গি করবে। কখনই বলবে না, 'দুশ্চিন্তা বন্ধ কর'; এটা একদমই অসম্ভব। তুমি একটাই জিনিষ করতে পার, সেটা হল : 'দুশিকা সম্মেন্স দুশ্চিন্তা করা বন্ধু কর!'

দুপ্তিন্তা সম্মে দুঃমিন্তা না করা বলতে কি বলছি? দুশ্চিন্তাগুলি কেবল দেখ, লক্ষ্য করে এবং সেগুলিতে উত্তেজিত হয়ো না, ব্যাস। খালি যখন তুমি তোমার দুশ্চিন্তাগুলিকে নিজের কাছে বারবার নিয়ে আস. আসল দুলিন্তা শিক্ষ্য সম্মে দুশ্চিন্তা করা বন্ধু কর' - বলতে আমি তাই ব্যাচ্ছি। তোমার দুশ্চিন্তাগুলিকে জীবন্তু কোরো না। তাদের রক্ত এবং মাংস দিও না।

যখন তুমি বলছ, 'মনকে নিয়ন্ত্রণ করে না বলে না' - এটা যেন দ্বির গিঁটকে আরও শক্ত করে দেওয়া। তোমার মন আরও উত্তেজিত ও সংক্রচিত হয়ে যায়। এতে গাঁট খোলায় সাহায্য হবে না।

যখন দমন কর বা চেপে রাখো, দমন করার স্মতি সরাসরি দুশ্চিন্তা-কেন্দ্রে চলে যায়। এই কেন্দ্র বিষয়ে সমস্ত কার্যকলাপে এক অচেতন হিংমতা থাকবে। তুমি গাছের পাতা ছিঁডবে, তুমি জিনিষপত্র ধ্বংস করবে, নিজের শরীরের সাথে দুর্ব্যবহার করবে, নিজের ও অন্যের সাথে লড়াই করবে।

এগুলি সবই দমিয়ে রাখার সম্মু প্রকাশ। তাই লোকেরা বলে যে তাদের পেট কোনো জুলছে অথবা তারা পেটে খুব ভারীবোধ করছে। চেপে রাখা ক্রোধ আরও বেশী নকারাত্মকতার জন্ম দেয়।

নকারাত্মকতা কি?

ধর, ব্যবসায় কোন কারণে অসফল হলে। তাহলে কিভাবে সাড়া দেবে? তুমি অসফল হলে তোমার দুঃখ হবে; সেটা ঠিক আছে। কিন্তু তুমি তাতে থামবে না। আরও অনেক প্রকার জিনিষকে তুমি প্রশ্রয় দেবে।

ও, এটা আমার খারাপ সময়! আমি যাই করি, অসফল হই! আমি এক অপদাৰ্থ!

। ।

। ।

। তারিি মরধ্য সকান পাথুকয সনই। মন ত্মিন্তা এবং ত্মিন্তাই মন। মন ত্মিন্তােমূরহি েংগ্রহ োড়া ত্মকেুই নয়

দুশ্চিন্তাগুলি তোমারই সঙ্গি। তুমি দেখতে সমর্থ হবে যে তোমার মন কিভাবে তোমায় টেনশন দেয়।

যখন আমি তোমাদের বলি দুশ্চিন্তা অহেত্ব, তোমরা তা কেবল বুদ্ধি দিয়ে বোঝ। যখন এটা তোমাদের অভিজ্ঞতা হয়ে যায়, তুমি দুশ্চিন্তা ছাড়িয়ে চলে গেছ। বিষাদ তোমায় ছুঁতে পারে না। তুমি দুঃখদুর্দশার উপরে উঠে গেছ।

একটা ছোট গল্প :

Section 2

কোলকাতায় ঈশা ভাষ্য উপনিষদের কলস নেবার সময় একজন আমাকে দেখতে আসে। সে বলল, 'স্বামীজী, আমার একটা সমস্যা আছে। আমি রাতে ভাল ঘুমাতে পারি না কারণ আমাদের পাড়ার কুকুরগুলি আওয়াজের সমস্যায় আমার একদম বিশ্রাম হচ্ছে না।' আমি তাকে বলি, 'আজ রাতে ঘরে এটা চেষ্টা কর। ঘেউ যেট শুনলে, তোমার ভিতরে জেগে ওঠা নকারাজ্জক ভাব কোশকে মুছে ফেল। তাদের চিৎকার কোনরকম বিরোধিতা না করেই শোন। নিজেকে বল যে কুকুরগুলি ঘেট্‌যেই প্রায় করছে, ব্যাস। নিজেকে এতে কোনপ্রকার সাড়া দিতে অনুমতি দিও না। সমস্যা ঘেউঘেউতে নয়, সমস্যা এর সঙ্গে তোমার বিরোধিতায়।' লোকটি চলে গেল এবং আমি যা বলেছিলাম তা চেষ্টা করল। কয়েকদিন পরে সে ফিরে এল এবং বিরুণ দিল্ 'मात्रोज़ी, आभनि व्यक्ति बल्लिकलन वालि लिकासिका बक्क कर्मा करवा करण करवार को जार म আমার ঘুমের বারোটা বাজাচ্ছে - না ভেবে, আমি আরাম করে ভাবছিলাম কুকুরগুলি ঘেউঘেউ করছে। তারা আমার ঘুম নষ্ট করছে ... ককরগুলি ঘেউঘেউ করছে ... কিছু জানোয়ার কিছু আওয়াজ করছে ... যে সময়ে আমি এই বাক্যে এলাম, আমার মনে হয় আমি ঘুমিয়ে পড়লাম। যাই হোক এই ক'দিন ধরে আমার খুব সন্দর ঘুম হচ্ছে। ধন্যবাদ স্বামীজী!'

এটা তোমার সাথেও হতে পারে। যে কোন অবস্থার সাথে মোকাবিলা করা যায়, যদি তুমি নকারাত্মকতাকে কিভাবে মুছে যেলতে হয় জান, যদি জেনে থাক কিভাবে তোমার নকারাত্মকভাবে সাড়া দেওয়ার অভ্যাসকে বদলানো যায়।

ভিতরের কিচিরমিচিরের চেনা পরিচিত নকশাগুলিকে পুনরাবৃত্ত করার জন্য মন কিন্তু অধীর। মন সর্বদাই জিনিষণ্ডলিকে টাইপকাস্ট করতে চায়। তা সবসময় অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ তলনা করে এবং দুশ্চিন্তার জন্ম দেয়।