2. শিচন্তা কি?
# শিচন্তা কি?
তোমরা কেউ বলতে পার দুশ্চিন্তা কি?
(এক মহিলা উত্তর দেয়...) স্বামীজী, আমাদের ব্যবসা সম্পর্কে যখন ভাবি দুশ্চিন্তা হয় অথবা যখন ভাবি আমাদের সন্তানদের সম্বন্ধে বা আমাদের স্বাস্থ্য বিষয়ে…
তুমি যা বলছ তা দুশ্চিন্তার কারণ। আমি তো দুশ্চিন্তার কারণ জিজ্ঞাসা করেছি 'দুশ্চিন্তা কি? আমি যদি দুশ্চিন্তার কারণ জিজ্ঞাসা করি, এই সেশন কখনই শেষ হবে না! তোমাদের সকলেই এক লম্বা লিস্ট নিয়ে যাবে -
স্বামীজী, আমার ব্যাবসা নীচ্চের দিকে যাচ্ছে ... বাড়ীতে আমার কোন মনের শান্তি নেই! আমার এত সমস্যা যে আপনি ভাবতেই পারবেন না ...! আমার কোন সন্তান নেই, সেটা আমার দুশ্চিন্তা! আমার সন্তানই আমার দুশ্চিন্তা!
সবসময়ে আমাদের এত দুশ্চিন্তা। আর যদি কোন দুশ্চিন্তা না থাকে, আমরা দুশ্চিন্তা না থাকার জন্য দুশ্চিন্তা করি। আমাদের দুপ্চিন্তা না থাকলে, আমরা নিরাপত্তাহীন বোধ করতে শুরু করি! কিছু রিটায়ার্ড মানুষ আমার কাছে এসে বলে. 'সামীজী, আমরা জানি না কি করতে হবে। আমাদের সন্তানদের বিয়ে হয়ে গেছে এবং তারা তাদের নিজের বাড়ীতে সংসার করছে। তারা আমাদের কাছে কিছুই চায় না: ভাববার কিছুই নেই। বাঁচার আর কোন মানেই হয় না। আমরা শান্তিতে মরতে চাই।'
তারা জানে না কি করতে হবে কারণ তাদের কোন দুল্চিন্তা নেই। তারা খুব চেষ্টা করে যে কি করে কোন বিষয়ে মনকে ব্যস্ত রাখা যায়, কিন্তু কিছুই খুঁজে পায় না। আর তাদের পক্ষে এটা একটা নতুন ব্যাপার, কারণ আগে তারা জীবনে সর্বদাই কোন না কোন বিষয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ছিল।
দুশ্চিন্তার সংজ্ঞা দেবার আগে, আমি তোমাদের সিনিয়ে দিতে চাই যে আমাদের সংস্কৃতি, আর্থিক অবস্থা, রয়স ইত্যাদি যাই হোক না কেন, আমরা সবাই একটি ব্যাপারে এক : আমাদের সবারই দুশ্চিন্তা আছে।
কেন দুশ্চিন্তা কর প্রশ্ন করলে তোমরা দেখাবে। তুমি সর্বদাই ভাব যে দুশ্চিন্তা বাইরে থেকে আসে এবং তুমি সব সময়ে তোমার আশেপাশের মানষদের দোষ দিতে থাক।
হয়েছে। কিন্তু তাই কি? যার সাথেই দেখা হয় সবারই দুশ্চিন্তা আছে, তাই নয় কি? সে ধনী কি গরীব, বিবাহিত কি অবিরাহিত, সন্তান আছে কি নেই, চাকরি করে কি ব্যাবসা করে - সবারই দুলিন্তা আছে।
র কারণ, যদিও আমরা ভাবি যে দুশ্চিন্তার কারণ বাইরে, আসলে দুশ্চিন্তার কারণ আমাদেরই ভিতরে, গভীরে। সেইজনাই সবারই সব সময় কিছু না কিছুতে দুশ্চিন্তা।
তাই আমরা সেই প্রশ্নতেই ফিরে এলাম : দুশ্চিন্তা কি?
यदि भजेत वर्ष करव माथ, वुबाद या घुम्हिला रून कान घणनाय काणाव माणा द्वारा सज्ञा प्रक्ति मुक्ति का কিনা তা নির্ভর করে তৃণি কিভাবে সাডা দিতে পছন্দ কর।
উদাহরণস্বরূপ, তোমার বন্ধু একটা নতুন চাকরী পেয়েছে এবং তোমার কাছে এসে সেই কাজের মাইনে ও অন্যান্য সুবিধাগুলি সম্পর্কে বলছে, তাহলে তামি কিভাবে সাড়া দেবে? অচেতনভাবে তোমার ভিতরে কিচিরমিচির শুরু হয়ে যাবে : ও, সে একটা নতুন চাকরী পেয়েছে। সে এতগুলি সুবিধা পাচ্ছে। আমার কি হবে? ওর মাইনে আর সুবিধাগুলি শুনলে আমার স্ত্রী কি বলবে ? ভাল হয় ও যদি আমার স্ত্রীর সাথে না দেখা করে, নয়ত আমার সমস্যা হবে। আমিও কি আরেকটা চাকরী খাঁজব ? না পেলে কি হবেং আমার কিছুই ঠিকঠাক করে হয় না ...
এটা হল দুশ্চিন্তা! অবাঞ্চিত কিন্তু অনর্গল কথার ধারা যা আমাদের ভিতরে সর্বদাই বয়ে চলেছে।.
কেন ও কিভাবে আমরা দুশ্চিন্তা করি
যখন তুমি নিজেকে বাইরের রেফারেঙ্গ ফ্রেন্সে বারবার তুলনা করতে থাক এবং তা নিয়ে নিজের সাথে অনগল বক্তব্য করতে থাক, সেটাই দুশ্চিন্তা। সময়কালে এটা তোমার মানসিক গঠন হয়ে যায়। তোমার মানসিক গঠনই দুশ্চিন্তা হয়ে যায়।
তমি ভাববে :
আমি কি আমার প্রতিবেশীর মত উন্নতি করছি? আমার বসকে কিভাবে খুশী করব? আমার ছেলেমেয়েরা কি ভাববে?
সর্বদাই আমাদের অন্যের অনুমোদন পাওয়া চাই - পরিবারে, কর্মক্ষেত্রে বা সমাজে। এটা আমাদের দুশ্চিন্তার প্রধান অংশ। আমাদের জীবন যেন কেবল অপরের কাছ থেকে সার্টিফিকেট সংগ্রহ করার এক কার্যকলাপ। যদি অন্যরা আমাদের ভাল পতি, ভাল কর্মচারী, ভাল অফিসার, ভাল প্রতিবেশী - এসব সার্টিফিকেট না দিতে থাকে, আমরা দু শিল্পাগ্রস্ত হয় আমরা দেশে পারে। এরপর প্রতিষ্ অর্থহীন হয়ে গেছে। আমরা আমাদের ব্যক্তিত্ব অপরের সার্টিফিকেটগুলি দিয়ে বানাই। আমরা সবাই নিজেকে বিশ্বাস করা বন্ধ করে দিয়েছি, সেটাই সমস্যা।
শৈশবে আমরা সকলেই নিজের সত্তায় দ্বাভাবে কেন্দ্রিত থাকি। লোকে কি ভাববে তা নিয়ে কখনও কি একটি শিশুকে দুশ্চিন্তায় দেখেছ? না! একটি শিশু সুন্দর, কারণ তার কোন দুশ্চিন্তা নেই। অন্যেরা কি বলবে সে সম্বন্ধে সে দুশ্চিন্তায় নেই।
আমরা বড় হতে থাকলে, সমাজ আমাদের অপরের ভাবনা ও মতামত দ্বারা নিজেদেরকে মল্যায়ন করতে শেখায়। সমাজ আমাদের প্রত্যেকটি কর্ম ও কথার জন্য বাহ্যিক সাহায্য ও অপরের সার্টিফিকেটের ওপর নির্ভরশীল করিয়ে ফেলে। সেইজন্য অন্যেরা আমাদের সম্বন্ধে কি বলবে তাতে আমাদের সর্বদাই দুশ্চিন্তা।
আবার, তুমি যখন কিছু ব্যাপারে দুশ্চিন্তা করছ, তুমি তখন ভাব যে তোমার একটা নির্দিষ্ট সত্র আছে যাকে মনে রেখে তোমায় জীবন চালাতে হবে। তাই দুশ্চিন্তা তোমার জীবনে এক গতিপথ দেখায়। দুশ্চিন্তা ছাড়া তোমার মনে হয় যে তোমার কোন অক্ষরেখা বা অ্যাকিস নেই যার চারিদিকে তুমি ঘরতে পার। তাই তুমি আসলে দুলিন্তাগুলিকে প্রতিপালন কর।
তোমাদেরকে একটা ছোট গল্প বলতে দাও :
তিনজন লোক এক পরিত্যক্ত দ্বীপে বসে আছে। তারা ভুলে গেছে কত বছর ধরে তারা সেখানে আছে। তাদের মধ্যে একজন একদিন হঠাৎ একটা বোতল পেল ও সেটাকে উঠিয়ে নিল। সে বোতলে আঙ্গল ঘষল ও তা থেকে তৎক্ষণাৎ এক জিন (দৈত্য) অবতীৰ্ণ হল। তারা ভীষণ অবাক হয়ে গেল। জিন তাদের বলে, 'আমাকে এই বোতল থেকে করার জন্য ধন্যবাদ। তোমরা প্রত্যেকে ইচ্ছামত একটা করে বর চাইতে পার এবং আমি তা পরণ করব।' তারা খব উল্লসিত হল ও কিছুক্ষণ চিন্তা করল। প্রথম মানষটি বলে, 'আমি আমার প্রেমিকাকে বিয়ে করে সুখী জীবনযাপন করতে চাই।' জিনি বলে, 'ঠিক তাই হবে। তোমার ইচ্ছা পূরণ হবে।' প্রথম মানুষটি দ্বীপ থেকে অদশ্য হয়ে গেলে জিন এবার দ্বিতীয় লোকটির দিকে তাকাল। দ্বিতীয় লোকটি বলল, 'আমি এক ধনী ব্যবসায়ী হতে চাই।' জিনি বলে, 'ঠিক তাই হবে। তোমার ইচ্ছা পরণ হবে।' দ্বিতীয় মানুষটিও দ্বীপ থেকে অদশ্য হয়ে গেল। জিন এবার তৃতীয় লোকটিকে জিজ্ঞাসা করে যে সে কি চায়। ততীয় লোকটি বলে, 'আমি আমার দুই বন্ধুর সাথে এত বছর একসঙ্গে ছিলাম, কিন্তু এখন তাদের হারিয়ে ফেললাম। আমি তাদের এখানে চাই।' জিনি 'ঠিক তাই হবে' বলে অদশ্য হয়ে গেল। সবশেষে তিনটি মানুষ সেই পরিত্যক্ত দ্বীপেই থেকে গেল !
আসলে ততীয় মানুষটি নির্জন দ্বীপে পরিত্যক্ত হবার দুশ্চিন্তার সাথে ভীষণভাবে জুড়ে ছিল ! এইজন্য আমি বলি যে আমাদের দুপ্চিন্তাগুলি আমাদের কত প্রিয়! আমরা বলি যে সেগুলি আমাদের কষ্ট দেয়, কিন্তু তাও আমরা তাদের সাথে কিভাবে জুড়ে থাকি।
লোকেরা আমার কাছে এসে বলে, 'স্বামীজী, আমার ব্যবসা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। আগের মাসে অনেক
লোকসান হয়েছিল এবং আমি জানি যে পরের মাসে আরও বেশী লোকসান হবে।'
আমি তাদের জিজ্ঞাসা করি। 'যদি তুমি সেটা জেনেই গেছ, তবে ব্যবসাটা এক্ষুণি বন্ধ কর না কেন? কষ্ট পাওয়া বন্ধ কর?'
কিন্তু তারা আমার কথায় ধাকা খেয়ে যায়। অবিশ্বাস নিয়ে আমায় জিজ্ঞাসা করে, 'কি বলছেন স্বামীজী? তাহলে আমি করেটা কি?'
যে মহুর্তে আমি তোমার দুল্লিন্তার জন্য কোন সমাধান দেই, তুমি ধাকা খাও, কারণ দুষ্টিন্তা করার কারণ ছাড়া তোমার আমিত রহাল থাকার কারণ হারিয়ে ফেলে। তাই তমি দুশ্চিন্তার মধ্যে থাকা পছন্দ করা দুলিনায় থাকলে তমি ভাব যে তনি একজন কেউ। তুমি নিজেকে বলিষ্ঠ ভাব।
অথচ দ্বন্দিন্তামক হ'লে তমি আনন্দময় হও, আর এই আনন্দময় অবস্থায় তমি কিন্তু কেউ নও। কোন কিছুই তোমাকে ব্যস্ত রাখবে না। কিছুই সমাধান করার নেই। তুমি নিরাপত্তাহীন বোধ কর যেন তোমার কোন অন্তিতই নেই। তাই আমি তোমাদের বলি, দুশ্চিন্তামুক্ত অবস্থা উপভোগ করতে গেলে তোমাকে প্রথমে এক বলিষ্ঠ -অস্তিত্ব হবার আমিত ছাড়তে হবে।
মনকে খোরাক দিতে ও তাকে ব্যস্ত রাখতে দুশ্চিন্তা করার জন্য তো তমিই নিষ্পত্তি করেছে। তার ওপরে প্রত্যেক মানুষ ভাবে যে তার অনেক তার দুঃখিল্ডা, কেবল সে-ই অসুখী এবং অন্য সবাই সুখী: কিন্তু অদ্ভত ব্যাপার হল সবাই এইরূপে ভাবে! কি করে এটা সম্ভব?
একটা ছোট গল্প :
- এক রাজ্যে রাজার নজরে এল যে তার রাজ্যে সবাই খুব উদ্বেগিত, কারণ প্রত্যেকে ভাবছে যে তারই সবচেয়ে বেশী দুশ্চিন্তা এবং অন্যদের অত দুশ্চিন্তা নেই। তাই রাজা 'দুশ্চিন্তা বিনিময় প্রস্তাব' ঘোষণা করল, লোকেরা তাদের দুশ্চিন্তা নিয়ে এসে অন্যের কম দুশ্চিন্তার সাথে নিজের দুশ্চিন্তা বিনিময় করবে।
- একটা বিরাট জায়গা তৈরী করা হল এবং তার কেন্দ্রে একটি বড় 'দুশ্চিত্তা-পাত্র' রাখা হল। যে চায় এসে তার দুশ্চিন্তা তার ভিতরে রাখতে পারে এবং বিনিময়ে অন্য যে কোন দুশ্চিন্তা উঠিয়ে নিতে হবে।
- ব্যাপারটা হল তাদের সবাইকে অন্য কারো দুশ্চিন্তা উঠিয়ে নিতেই হবে।
- লোকেরা এল. একে অপরের সাথে মিলল এবং নিজেদের দুশ্চিন্তা সম্মন্ত কথা বলতে লাগল। অনেকক্ষণ পরে দুশ্চিন্তা বিনিময়ের প্রোগ্রামের উদ্বোধন হল।
- অনেক সময় গড়িয়ে পেল এবং কোন মানুষই তাদের দুশ্চিন্তা বড় পাত্রটিতে রাখার জন্য এগিয়ে এলো না। রাজা তার মন্ত্রীদের কি হচ্ছে জিজ্ঞাসা করল।
- এক মন্ত্রী বলল, 'রাজামশাই, নিজেদের মধ্যে লম্বা আলোচনার পর সবাই ভাবছে যে তাদের নিজের পরিচিত ছোট ছোট দুশ্চিন্তাগুলি অন্যের দুশ্চিন্তার চেয়ে অনেক ভাল!'
আমাদের তথাকথিত দুশ্চিন্তাপলির পভীরে ঢুকলে আমরা জিনিষণুলিকে বাড়িয়ে দেখি এবং আসলে জিনিষগুলি অতটা খারাপ নয়। বাস্তবে না গিয়ে আমরা হাওয়ায় কথা বলি। কিন্তু তাদের সত্যতা দেখলে বা ব্যবহার করে তারবেল . তমি আগের এক দশমাংশ (১/১০) দুশ্চিন্তাও করবে না।