38. প্রশ্ন : আমরা যদি তুলনা করা ছেড়ে দিই, তার মানে কি আমরা সবকিছু ত্যাগ করব এবং আধ্যাত্মবাদী হয়ে যাব ?
Section 1
প্রশ্ন : আমরা যদি তুলনা করা ছেড়ে দিই, তার মানে কি আমরা সবকিছু ত্যাগ করব এবং আধ্যাত্মবাদী হয়ে যাব ?
্রেই মুহূর্তে আমি তুলনা করা, দৌড়ানে করে বারণ করি, বেশীর ভাগ মানুষেরা ভাবে আমি তাদের পাথিব বস্তু থেকে পলায়ন করতে বলছি এবং আধ্যাত্মবাদী হতে বলছি।
আধ্যাত্মিকতা বা সন্ন্যাস মোটেই ত্যাগ সম্বন্ধীয় নয়। তা হ'ল গভীর সচেতনতা সম্বন্ধীয়, যা পাগলের মত বাসনা কমিয়ে তোমাকে মৌলিক প্রয়োজনের স্তরে নামিয়ে আনে এবং তা পুরণ করার জন্য তোমায় শক্তি দেয়।
বহির্জগতে যা করা দরকার তা তো করতে হবে, সেখানে কোন সন্দেহ নেই। তোমাকে বাঁচার জন্য রোজগার করতে হবে; তোমাকে তোমার শরীর সতেজ রাখতে হবে ইত্যাদি। সব মিলিয়ে আমি বলছি যে এই সব কাজে সচেতনতা নিয়ে এসো যাতে করে বহির্জগতের অপ্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান স্বতক্ষণতার মহে যায় এবং তুমি তোমার জন্ম ও জীবনের উদ্দেশ্য স্বচ্ছভাবে বুঝে জীবনযাপন করতে পার।
মায়ার সকল আকার, যাবতীয় বাসনা, সমস্ত সঞ্চারিত ভয়, সব রকম ঈশা ও তলনা, প্রচণ্ড আবেগ ও কামলালসা তখন সম্পর্শ রূপান্তরিত হবে এবং তোমার কাছে মহানন্দের শক্তি হয়ে যাবে।
আরেকটা ছোট গল্প :
এক মাস্টার তাঁর শিষ্যদের সাথে চলতে চলতে এক নদীর ধারে এসে পৌঁছালেন। শিষ্যেরা অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করল, 'মাস্টার, এখন কি আমরা নদী পার হব?' মাস্টার শান্তভাবে উত্তর দিলেন, 'হ্যাঁ, তাই। তোমাদের সাবধান হতে হবে যাতে তোমাদের পা না ভিজে!'
শিষ্যেরা ব্যবহার করে বলে চাইছেন। মাস্টার তাদের বলতে চাইছেন যে আধ্যাত্মিকতা পরোটাই হ'ল পা না ভিজিয়ে সাগর পার হওয়া। যেন পুকুরে পদ্ম হবার মত - গভীর জলে থেকেও জল দ্বারা অস্পষ্ট।