Books / Guaranteed Solutions For Lust Fear Worry... Bengali merged

37. মাস্টারদের বাণীর পরো সদ্যবহার কর

# মাস্টারদের বাণীর পরো সদ্যবহার কর

প্রশ্ন : মাস্টারেরা বারংবার কিছু চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য আমাদের মধ্যে অনুপ্রাণিত করার চেষ্টা করেছেন, যেমন, ঈর্ষা ছাড়া প্রেম, আরও ভাল উপলব্ধি এবং বিচার না করার মনোভাব। কেন এই উপলব্ধিগুলি আমাদের মধ্যে হচ্ছে না?

দ্যাখো, এতে দুটি জিনিষ আছে। যখন আমরা মাস্টারের বাণী ঠিক বুঝে নিজেদের অকপটভাবে রূপান্তর করার প্রচেষ্টা করি , তার অর্থ আমরা ঠিক রাস্তা খুঁজে পেয়েছি এবং আমরা হাহান্দসাগরে প্রবেশ করেছি। কিন্তু তার বদলে আমরা যখন মাস্টারের ব্যক্তিত্বকে গুরুত দেওয়া আরম্ভ করি, সেখানেই সমস্যার শুরু।

মাস্টারের শিক্ষা অনুসরণ করলে তুমি আধ্যাত্মিক ফল পাবে। কিন্তু তাঁর ব্যক্তিত্বকে ধরে রাখলে , তুমি এক ধর্মীয় উন্মাদ হয়েই থাকবে। ধর্মীয় উন্মাদেরাই সমাজে বিভ্রান্তি ও সংঘাত সুষ্টি করে।

ভগবদ্ধীতায় শ্রীক্ষেত্র বাণী হোক, পবিত্র কোরাশে মহম্মদের বাণী হোক অথবা পরিত্র বাহিরেলে যিখের বাণীই হোক, সবার বাণীই এক, কেবল নানা প্রকাশ। যে মাস্টারকে তোমার অনুসরণ করার ভাগ্য হয়েছে, তাকে অনুসরণ করে। কিন্তু তুমি যখন কম্পকে অনুসরণ করছ, আর ভগবদ্গীতা থেকে শ্রীকষ্ণ তোমার কাছে বেশী গুরুতপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়, তুমি নিজের ও অন্যের জন্য সমস্যার সঙ্গি করছ।

কম্প ও যিশুর দেখা হলে তাঁরা পরস্পরকে আলিঙ্গন করবেন। কিন্তু যখন কুম্ভের গরু ও যিশুর ভেড়া একত্ব হয়, তারা লড়াই করবেই!

প্রত্যেকে শান্তি ছড়াতে চায় এই ব'লে যে তার মাস্টারের দর্শন সবচেয়ে ভাল। তো কি হয়? শান্তি ছড়াবার বদলে আমরা নিজেরা খণ্ড খণ্ড হয়ে পড়ি!

পথিবী গ্রহে নিছক করুণা-বশত মাস্টারেরা সম্ভব হতে থাকেন। কিন্তু যেভাবেই হোক, মানুষেরা তাদের এড়িয়ে যাবার ব্যবস্থা করে নেয়!

শীঘ্র রূপান্তরিত হবার আরেকটা পথ হ'ল. অন্যদের দিকে আঙুল না দেখিয়ে অথবা অভ্যাস করার জন্য ভাল সময়ের জন্য অপেক্ষা না করে, যদি সবাই বাণী শুনেই সেই মুহূর্তে অভ্যাস করা শুরু করি। তাহলে আমাদের চারিদিকে শুভ ঘটনাবলী স্বতক্ষলভাবে ঘটনে থাকবে।

উদাহরণস্বরূপ, আমি তোমাদের উদ্ভিদ, পঙ্গ, গাছ ও মানুষকে সমানভাবে প্রেম করতে বললাম। এটা অভ্যাস করার জন্য কোন শুভ মুহূর্তের জন্য প্রতীক্ষা না করে তুমি তা শুভ মুহূর্তের জন্য প্রতীক্ষা করে করে তুমি হয়ত তা ভুলেই যাবে।

শুরু করার সহজ উপায় হ'ল রাস্তা দিয়ে চলার সময় বা তোমার বাড়ীর ভিতরে থাকার সময় প্রকৃতির সাথে অপব্য বহার বর্জন করা। হাঁটার সময় আমাদের কারো কারো অভ্যাস আছে গাছের ডাল ভাঙ্গা বা ফুল ছেঁড়া। তুমি সচেতনভাবে এসব করা বন্ধ কর এবং এসবের দিকে আরও সচেতনতা ও প্রেম সহকারে দেখ।

মাস্টারের শিক্ষাগুলি হারিয়ে না ফেলার জন্য এই উপায়গুলি বিদ্যমান।

কিন্তু তুমি কি কর? মাস্টারদের ভাষণ শোন অথবা তাদের কিছু বই পড় এবং বল, 'কি বিরাট বক্তা তিনি', এবং পরে সেই সম্বন্ধে সব ভুলে যাও। অথবা তুমি কিছু বন্ধুরে তাঁর ভাষণ শুনতে পরামর্শ দাও এবং তোমার ঘরে গিয়ে আগের মতই জীবন যাপন করতে থাক। তাহলে আর কি করা যায়?

দয়া করে বোঝ : আমি চাই না যে তোমরা কেবল আমার দেওয়া শিক্ষা প্রচার কর: আমি চাই যে তোমরা তা অভ্যাসও কর।

এই ছোট গল্পটি শোন :

একজন আফ্রিকায় ছুটিতে গেল। সে তার পিছনের উঠানে একদিন হাঁটছিল। এমন সময় একটি সিংহ তার দিকে লাফ দেয়। সে সত্যর নীচ হয় এবং সিংহ পাশের ঝোপে গিয়ে পড়ে।

পরের দিন লোকটি আবার হাঁটতে বেরুল এবং সিংহটি পুনরায় তাকে আক্রমণ করল। লোকটি ঠিক সময়ে আবার নীচ হবার জন্য সিংহ তাকে ধরতে পারল না ও পাশের ঝোপে আরও দুরে গিয়ে পড়ল।

পরের দিন লোকটি ঘরের ভিতরেই ছিল এবং সিংহটি বাইরে কোথাও আছে কিনা ঘর থেকে দেখতে থাকল। সিংহটিকে সে ঝোপের পিছনে দেখতে পেল। অতি বিস্ময়ে সে দেখে যে সিংহটি নীচ লাফ দেওয়া অভ্যাস করছে।

দ্যাখো, যখন সংগ্রহ করা জানকে কাজে লাগাও, তুমি জীবনে এগিয়ে চলবে। আর জ্ঞান যদি কেবলমাত্র সংগ্রহ করতে চাও, তা কোন কাজের নয়। কেবল জ্ঞান সংগ্রহ করলে তোমার স্মৃতি বাড়তে পারে, কিন্তু তোমার সত্তার কিছুই হবে না।

মাস্টারেরা পরম সত্য ভাষণ করেন যা অন্য কেউ প্রকাশ করতে পারে না।

এটা এরকম : একটা বিস্তীর্ণ ঘন জঙ্গলের অন্ধকারে তুমি একটা ছোট প্রদীপের আলোয় অনুসন্ধান করছ। সেই আলোতে তুমি কয়েক ফুট আগে দেখবে এবং যা দেখবে তাকে সত্য বলে লিখে রাখবে।

বিজ্ঞানীরা এটাই করে। তারা আজ কয়েক ফুট দেখে তা থেকে একটা থিয়োরি (তত্ত) লিখে ফেলে। তারপর সেই আলো নিয়ে তারা আরও কয়েক ফুট এগিয়ে চলে ও আরও কিছু দেখে। তারপর তারা আগের মোমিত সত্যকে বাতিল করে ও নতুন সত্য প্রদান করে। পরিষ্কার করে বোঝ যে, যা আজকে সত্য ও আগামীকাল সত্য নয়, তা আজকের জন্যও সত্য হতে পারে না।

যাই হোক. এভাবে বিজ্ঞানীরা তাদের মন দ্বারা একটা ঘন জঙ্গলে অনুসন্ধান করার চেষ্টা করছে।

এখন ভাব যে আকাশে বিদ্যুৎ চমকাল এবং সেই পুরো জঙ্গল একটি চমকেই দুষ্টিগোচর হ'ল! তাহলে তুমি পুরো জঙ্গলকে জানবে এবং দরকার পড়লে তুমি তাকে সঠিকভাবে বর্ণনা করতে পারবে।

জীবনমুক্তি এরকমই! তা যেন বিদ্যুতের এক ঝলকে পরো জঙ্গল দেখে নাওয়া। তাই জীবনমুক্ত মাস্টারেরা চরম সত্যকে জানেন।

দুর গ্রামের বেশীরভাগ চায়ের দোকানে এক পরিচিত দশ্য দেখতে পাবে। কিছু লোক প্রায় রোজই সেই দোকানে আসবে, তারা পথিবীর সমস্ত মহান দর্শনগুলি নিয়ে আলোচনা করবে। তারা সব দেবতাদের, মাস্টারদের ও রাজনীতিবিদদের মাথাগুলি ভাল করে চিবাবে ও হজম করবে।

কোন ব্যতিক্রম ছাড়াই শহরে ঘটা সমস্ত জঘন্য কাজগুলি সম্বন্ধে আলোচনা হবে। সম্পূর্ণ বিশ্বের অবস্থা ও শঙ্খলা দেখে তাকে গভীরভাবে তদন্ত করা হবে। সবশেষে যে মানুষটি এসব কথা বলল, সে তার চা শেষ করে এবং পরের দিন চায়ের দাম দেবে বলে চলে যায়!

যে মানুষটি চায়ের দাম দিতে পারে না। সে চায়ের দোকানে বলে খবরের কাপজের প্রথম পাতা পর্যন্ত পড়ে সমস্ত খবরগুলি সম্বন্ধে নিজের রায় দেয়। সেই কাগজের সম্পাদক মহাশয়ও পুরো পেপারটা হয়ত এত ভাল ভাবে পডে না।

তাই অভ্যাস শুরু কর। প্রাচীন ভারতের প্রাপ্তক পতঞ্জলির কথামত, 'যদি তুমি আজকে পাঁচ ইঞ্জি বেঁকতে পার, কাল আরও আধা ইঞ্চি বেঁকোবার চেষ্টা করা' এইভাবে আমি যে সত্য তোমাদের দিচ্ছি তা উপলব্ধি করার জন্য নিয়মিতভাবে কাজ করবে। নয়ত, তুমি চায়ের দোকানের মানুষগুলির মতই হয়ে থাকবে। তারা দোকানের বেঞ্চে টেল খাওয়ায়, আর তুমি এখানে মাদুরে গর্তের কারণ হচ্ছে, ব্যাস!

সমস্যা হ'ল, বেশীর ভাগ সময়ে আমরা যখন জ্ঞানের কথা শুনি, আমরা ভাবি যে ঠিক এই কথাগুলি আমাদের সাথে বসা বন্ধু বা আত্মীয়টির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আমরা গোপনভাবে ইচ্ছা করি যে তারা যেন বার্তাটি পায়। কিন্তু আমরা নিজেরা বার্তাটি হারিয়ে ফেলি। মনে রেখা : যদিও হলযুরে হাজার মানুষ আছে, আমি কিন্তু 'তোমার' সাথেই কথা বলছি।

আমার প্রতিটি কথাই শক্তিতে গর্ভবতী, সেই শক্তি তোমারই জন্য। তাই ওসব ভাবনা মনে এনে আমার কথা শুনো না। বিশেষ করে যখন পতি পত্নী একসাথে ভাষণ শুনতে আসে, আমি যখন তাদের বাস্তব জীবন সম্পর্কে কিছু বলি, পতি ভাববে পত্নীর এটা শোনা উচিৎ' এবং পত্নীও ভাববে যে তার পতি যেন সেটা শোনে। শেষে তারা দুজনেই জিনিষটা হারিয়ে ফেলে।

মানুষের স্বাভাবিক প্রকৃতি হ'ল ধনদৌলত ও বস্তুগত সামগ্রী স্তপাকার করা। এক সময় সে বোঝে কিছু জিনিম ধন দ্বারা পাওয়া যায় না। তার ধন সঞ্চয় করার গতি স্বচক্ষলভাবে কমে যায়। সে তখন বৌদ্ধিক জ্ঞান সঞ্চয় করতে থাকে। যে করেই হোক প্রক্রিয়া চলতে থাকে। সে বেশি ও আরও বেশি শব্দের জন্য লোভী হয়ে পড়ে।

যে ধন ও শব্দ সঞ্চয় করা বন্ধ করেছে সে আসল জ্ঞান প্রায় করবে। প্রায়ই আমরা প্রশ্ন করি এই ভেবে নয় যে আমরা আসলে জানতে চাই, কিন্তু আমরা আরও বেশি শব্দের জন্য লোভী অথবা আমরা দেখাতে চাই যে আমরা কিছু জানি।

यदि भन्ने विश्व का का के द्वार बन र लांगेर जातान जना बना जनवाद जानि भन्ना। क्यून जनवर कुल भारत करते हैं। জীবনমুক্ত হবে!

আমাকে একজন জিজ্ঞাসা করেছিল, 'স্বামীজী, ভগবান কি?'

আমি ধীরে বিষয়টি পরিবর্তন করি এবং তার পরিবার ও ব্যবসা সম্বন্ধে জানতে চাই। আমরা প্রায় দুই ঘন্টা কথা বলি। সেই দুই ঘন্টায় সে তার প্রথম প্রশ্নে ফিরে গেল না।

সবশেষে আমি বললাম, 'ভাই, ঠিক আসার সময় তুমি আমাকে একটা প্রশ্ন কর। আমি সেই প্রশ্নের উত্তর দিই নি কারণ সেটা তোমার গভীরতা থেকে আসে নি।'

প্রশ্ন আমাদের গভীরতা থেকে এলে তা কখনই ভুলতে পারি না বা সম্ভুষ্টিকর উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত আমরা বিশ্রাম করতে পারি না। কিছু মানুষ প্রশ্ন করে, নিজেরাই নিজেদের উত্তর দেয় এবং পরে আমাকে উত্তর দিতে বলে!