14. যেখানেই যাও স্বর্গকে সাথে নিয়ে চল
# যেখানেই যাও স্বর্গকে সাথে নিয়ে চল
মূলাধার চক্র সম্বন্ধে সুন্দর ব্যাপার হল, যদি এই চক্র খুলে যায় তাহলে তোমার ৫০% সমস্যা অদশ্য হয়ে যাবে। এই একটি চক্র তোমার ৫০% জীবন নিয়ন্ত্রণ করে। তুমি যাই কর তাতে এই চক্রের চিহ্ন পাবে। এমনকি তোমার স্বাক্ষরেও এর চিহ্ন আছে। মানে, তুমি যেভাবে স্বাক্ষর কর তা দেখায় যে তোমার ভিতরে কি ধরণের ভাবনা ভরা আছে। মুলাধার চক্র সক্রিয় হলে, তোমার স্বাক্ষর অন্যরকম লাগবে। যদি একটা ফুল ছেঁড়, সেই কাজ করায় একটা তফাৎ থাকবে। সেটা অনেক মদু ও শান্ত হবে, কোন হিংসা ছাডাই।
নয়নমার বলে এক তামিল সাধুদের সম্প্রদায় আছে। একটা গানে তাদের সম্পর্কে বলা হয় , তারা যখন ফুল চয়ন করে, গাছ কোন বেদনা অনুভব করে না! এতে তুমি কি বুঝছ? এই চক্র উন্মুক্ত হলে তুমি এত সংবেদনশীল ও প্রেমনয় হয়ে পড়।
যখন মূলাধার চক্রের শক্তি রূপান্তরিত হয়, তা তোমার থেকে প্রেম হয়ে উপচে পড়ে।
সেক্স হল কার্বন, প্রেম হীরা। সেক্স পাঁক, প্রেম হল সেই পাঁকে ফোটা কমল। এটা একই সারবন্ধ। কিন্তু তোমাকে জানতে হবে যে তাকে কি করে প্রসেস করবে। কেবল তোমার প্রত্যাশাগুলি ত্যাগ কর, শক্তির এক ভীষণ উচ্ছুাস দেখবে।
আমি চাই আজ তোমরা সবাই বাড়ী গিয়ে এই অভ্যাসটি চেষ্টা কর :
বসো এবং মুলাধারের ওপরে পূর্ণ মনোযোগ দাও। যদি লক্ষ্য কর, দেখবে যে তোমার এই চক্রটি সর্বদাই এক চাপে আছে। এখানে সব সময়ে একটা টানটান ভাব।
পাঁচ মিনিটের জন্য তোমার পতি বা পত্নী যা কিছু অশান্তি করেছে তার জন্য তাদের মন দিয়ে ক্ষমা কর। সত্যি স্কমা কর। তোমার সমস্ত সংশয়ের মূলে যাও এবং অসন্তুষ্টির ভাবনা ত্যাগ কর। তারা যেমন, সেভাবেই তাদের স্বাগত কর। তাদের তোমার গভীর প্রেম দাও।
ঠিক পাঁচ মিনিট পরে দেখবে যে মলাধার চক্র পুরোপুরি শিখিল ও বিল্যাক্সড় হয়ে গেছে।
যদি কেবল পাঁচ মিনিটে এই ফল পাও, কল্পনা কর তোমার পুরো মনোভাবকে পরিবর্তন করলে কি হবে। কি প্রচণ্ড শক্তিপ্রবাহ তুমি অনুভব করবে!
তুমি এখন যেভাবে বাস করছ, তোমার কাছে যেন ১০০,০০০ টাকা আছে, কিন্তু তার মধ্যে ৯০,০০০ টাকা তুমি এক জায়গায় এমনভাবে তালাবদ্ধ রেখেছ যে তুমি তালাটি খুলে এখন সেই টাকা বার করে আনতে পারছ না। বাকী ১০,০০০ টাকা দিয়ে তুমি তোমার সমস্ত জীবন চালিয়ে দেবার চেষ্টা করছ। তাই স্বভাবতই নিজেকে দীন মনে হবে!
একইভাবে তোমার সমস্ত শক্তি এই চক্রে তালাবদ্ধ ছিল - ক্রোধে, সেক্সে এবং আরো কত কিছুতে। দৈনন্দিন জীবনযাপনের জন্য তোমার যথেষ্ট শক্তি নেই! একবার এই চক্র উম্মুক্ত হলে, তোমার জীবন সমদ্ধ হবে। তুমি আরও ভাল করে চিন্তা করতে, বুঝতে ও পরিকল্পনা করতে পারবে। তুমি বুঝবে যে এই শক্তি সচেতনভাবে তোমার ওপরে কাজ করছে। এটা এক এমন নুতন মাত্রা খুলে দেবে যার অভিজ্ঞতা তোমার আগে কখনও হয় নি। তুমি প্রকৃতপক্ষে হৃদয়ঙ্গম করবে যে তোমার পতি , পত্নী এবং বিশ্বের সবাই হল আধ্যাত্মিক সত্তা!
তোমার বোঝা উচিৎ যে স্বর্ণ এবং নরক ভৌগলিক স্থান নয়। তাদের মানচিত্রে নির্দেশ করা যায় না। তারা কেবল মানসিক জগতে বর্তমান। জীবনকে স্বর্গ বা নরকে রূপান্তরিত করা তোমার ওপর নির্ভরশীল।
যখন তুমি প্রত্যাশাতে ভরা, তুমি তোমার নিজের নরক নিজের ভিতরে বহন কর। তাই যেখানেই যাবে তোমার নরক তোমার সাথেই চলবে! সার্কাস পার্টি যেভাবে তাঁর নানা জায়গায় নিয়ে তাঁর খাটায় , সেভাবে তুমিও তোমার নরক তোমারই সাথে নানা জায়গায় নিয়ে যাও। আর এইভাবে দুজন মিলিত হলে, দুই নরকের ভীষণ যুদ্ধ হয়!
কেন তুমি এই বোঝা নিজের সাথে বহন করতে চাও? এবারে অন্তত এটাকে একদম ফেলে দাও!
কেবল মনে কর যে তোমার প্রত্যাশা পূরণের জন্য অন্যদের খোদাই করার চেষ্টা করে তুমি কত শক্তি অপচয় করা ছেনি -হাতুড়ি ফেলে দেওয়া কি অনেক সোজা নয়? এমনকি সেই শক্তির ১০% শক্তিকে ধ্যানে ব্যবহার করলে, তোমার জীবন সত্য জীবনে রূপান্তরিত হতে পারে।
সজীবতা হল : 'সজাগতার সাথে ও স্বাধীনভাবে জীবনে এগিয়ে চলা।' বেছে নেবার কাজটা আমাদের সচেতন হবার সুযোগ আছে। সিদ্ধান্ত নাওয়াটা আমাদের ওপর নির্ভর করে।