পূর্ণত্ব দ্বারা কর্ম অতিক্রম করতে পার
পূর্ণত্ব দ্বারা কর্ম অতিক্রম করতে পার
কর্ম কি? নিজের জন্য ও অপরের জন্য সৃষ্টি করা অপূর্ণ কার্য, চিন্তা, বাসনা এবং প্যাটার্ন (সংস্কার) সকল হল কর্ম। কর্ম তোমার জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রকে প্রভাবিত করে - তোমার ব্যবসা, সম্বন্ধতা, জীবন ও সবকিছুকে -এমনকি ধনসম্পদ আকর্ষণ করাকেও।
জীবনে বহুবার তুমি হজম করার সামর্থ্যের অতিরিক্ত গিলে ফেল। হজম করার সামর্থ্যের চেয়ে বেশী খেয়ে ফেললে অসুস্থতা হল কর্ম। যদি তুমি কিছু সিদ্ধান্ত নাও নিতে পারো, যদি তুমি শান্তি ফিরে পেতে না পারো বা শান্তি অনুভব করতে না পারো তবে সেটিও কর্ম। যদি তুমি সেটাকে পূর্ণ করতে পার এবং সমাপ্ত কর, সেটা কর্ম থেকে মুক্তি - বিকর্ম!
কর্ম অর্থ, তোমার চাই পূর্ণত্ব, পূর্ণত্ব, পূর্ণত্ত্ব! যখন তুমি তোমার পতি বা পত্নীর সাথে পূর্ণতু কর, হঠাৎ তোমার ব্যবসা উন্নতি করতে শুরু করবে। তুমি ভাবতে পারো : "এ দুটোর মধ্যে সম্পর্ক কি?" যদি আমি আমার ক্লায়েন্ট ও গ্রাহকদের সাথে পূর্ণতু করি, আমার ব্যবসা উন্নতি করবে। সেটা বুঝলাম। কিন্তু আমার পতি বা পত্নীর সাথে পূর্ণতু করার জন্য আমার ব্যবসা কিভাবে উন্নতি করবে ? তুমি জানো না একটা অপূর্ণতা কিভাবে তোমাকে অপ্রত্যাশিতভাবে প্রভাবিত করতে পারে। যদি সকালের যোগ-এর সাথে তোমার অপূর্ণতা থাকে, তা তোমার সন্ধ্যার অবকাশ প্রভাবিত করতে পারে। তাই অপূর্ণতা তোমাকে যে কোন জায়গাতে যে কোন ভাবে আক্রমণ করতে পারে। পূর্ণতা সব কর্ম থেকে স্বাধীন ও মুক্ত রাখে, তাই স্বাভাবিকভাবে তোমার ব্যবসা, তোমার জীবন, তোমার সম্বন্ধতা এবং সবকিছু সম্প্রসারিত হয়। সবকিছু বর্ধিষ্ণু হয়।
অন্যের সাথে নিরন্তর পূর্ণতত্ত্ব থাকা তোমার বহন করা মনস্তাত্ত্বিক বোঝা কমায়।
তোমার বহন করা মনস্তাত্ত্বিক ভারকে আমরা সংস্কৃতে কর্ম বলি। কর্ম মনস্তাত্ত্বিক উন্মাদনা ছাড়া আর কিছুই নয়। কর্ম সেই বোঝাকে সরিয়ে ফেলে।
জন্মের সময় তুমি পূর্ণত্ব ঘোষণা কর এবং পুরো জিনিসটাকে আবার নতুন করে শুরু কর। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় প্রারব্ধ কর্ম। যে কর্ম তুমি অতীত জীবন থেকে নিয়ে আস তা নতুন। যদি তুমি সর্বদা পূর্ণ আকাশের বহাল থাক, তুমি একেবারেই অপূর্ণ হও না। তখন তুমি এক অবতার!
পূর্ণত্ব সরাসরি তোমাকে কর্ম থেকে মুক্ত করে।
যারা পূর্ণত্ব জানে না তাদের সাথে বাস করবে না , কারণ তারা কর্ম চক্র সৃষ্টি করতে থাকবে। যখন কারও ভিতরে ক্রোধ অপূর্ণতা থাকে এবং সে সেই অপূর্ণতাকে ছড়ায়, তারা অন্য কাউকে উত্তেজিত ক'রে তার মধ্যে ক্রোধ সৃষ্টি করবে। আর সেই মানুষটির মধ্যে কর্ম চক্র সৃষ্টি হবে।
পূর্ণত্বের বিজ্ঞান শেখ। নিজের সাথে পূর্ণত্ব কর এবং অপরের সাথে পূর্ণতু কর। পুনরাবৃত্তি ক'রে এবং মুক্ত ক'রে তোমার দুঃখদুর্দশার জন্য দায়ী কার্মিক প্যাটার্নগুলির সাথে পূর্ণতত্ত্ব কর। একমাত্র পূর্ণতত্ত্বের পরে অন্যদের ও জীবনকে সমৃদ্ধ করার সংকল্প বাস্তবায়িত হয়।
পূর্ণত্ব, পূর্ণত্ব! পূর্ণত্ব হল জেসাস। পূর্ণত্ব হল জীবন। পূর্ণত্ব তোমাকে মহাজগতের দিকে নিয়ে যায়। আক্ষরিকভাবে পূর্ণত্ব তোমাকে সবকিছু প্রদান করে। পূর্ণত্ব তোমাকে সমস্ত কর্ম থেকে মুক্ত করে। সেটা নাশ-দোষ হোক, মণি-দোষ হোক, বাল-দোষ হোক, বাক্য-দোষ হোক বা যে কান আদিশ-দোষ হোক না কেন, তুমি সমস্ত দোষ থেকে মুক্তি পাবে যদি বসে বসে কেবল পূর্ণত্ব অভ্যাস করে।