কর্ম ও ধর্ম
কর্ম ও ধর্ম
কর্ম হল আমাদের বহন করা অপূর্ণতাগুলি এবং যেগুলিকে অতীত জীবন ও বর্তমান জীবন থেকে বারংবার নিয়ে এসে লালন করি। বারংবার অপূর্ণতাগুলির লালিত হওয়া হল কর্মপ্রভাব। যদি আমরা অপূর্ণতাগুলির সাথে পূর্ণত্ব করি, কর্ম আমাদের ছেড়ে যায় এবং আমরা ধর্মের জীবন যাপন করি। ধর্ম অর্থ জীবন যাপন করার সঠিক বুদ্ধিমত্তা।
যদি তুমি অন্যদের আক্রমণ না কর ও তাদের ক্ষতি না কর, সেটা ভাল কর্ম। যদি তুমি জেনেশুনে অন্যদের ক্ষতি কর, সেটা মন্দ কর্ম।
অপরের জন্য না করলে সেটা কর্ম।
জীবনের এক সহজ সাধারণ প্রবাহ হল ধর্ম ও কর্ম। তুমি অন্যদের সম্পর্কে কি ভাব ও অন্যেরা তোমার সম্পর্কে কি ভাবে - সেটার স্বাভাবিক নিয়মে চলে আসা হল ধর্মের বিষয়! যখন তুমি অস্তিত্বের স্বাভাবিক নিয়মে আয়ত্ত হও, এটি সঠিক কর্ম। তুমি কখনও বেঠিক কর্ম করতে সমর্থ হবে না।
যখন তুমি স্মৃতি ও সংস্কারের গভীরে থাক এবং সম্পূর্ণরূপে জীবনের মানবিক নিয়মগুলির সাথে যুক্ত থাক, তখন যদি তুমি অতীতে অসৎ কর্ম করে থাক, তার শক্তি চলে যায়!
অতীত থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে, অতীতের ব্যাপারে চিন্তা করা নয়, বরং সেই অভিজ্ঞতা কর্ম হয়ে যায়।
কর্ম হল জীবনশৈলী ও বুদ্ধিমত্তা। কর্ম অর্থ অপূর্ণতা। পূর্ণত্ব ক্রিয়া করলে কর্ম ধর্ম হয়ে যেতে পারে।
জীবন তোমার ভিতরে বহন করা আকাশ ও স্পন্দনে সাড়া দেয়, কেবল তোমার দ্বারা কৃত কার্যসমূহে নয়। যদি তুমি তোমার অন্তরে বহন করা আকাশকে বদলে ফেল, তাহলে পূর্বের তথাকথিত বেঠিক বা নকারাত্মক কর্মও মুছে যাবে এবং তোমার ওপরে সেগুলির প্রভাব মিলিয়ে যায়। তোমার ওপরে সেগুলির প্রভাব আর থাকবে না।