Upanishad SamuhChapter 10 of 11
Chapter 10

দশম পরিচ্ছেদ মহাজগতের মত জীবনযাপন করার জন্য মহাজাগতিক চেতনা

1 sections

দশম পরিচ্ছেদ মহাজগতের মত জীবনযাপন করার জন্য মহাজাগতিক চেতনা

টীকাপুঞ্জ অদ্বৈত : দুই নয় এমন; বিশ্বব্রক্ষাণ্ডের সাথে একত্ব ও অসীমত্ব অভিজ্ঞতা করার এমন এক আকাশ যেখানে প্রত্যেকে অসীম শক্তিময় ও অমিত বুদ্ধিমত্তাশীল; সেই আকাশে সবই ‘তুমি’ এবং ‘তুমি’ই সব। অদ্বৈতী : যে অদ্বৈত অবস্থায় আছে। অনুভূতির সংযুক্তি : Feeling connection আস্তিত্ব : বাস্তবতা, সত্তা, being, existence আকাশ : space, স্থান, জায়গা। এখানে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমন, অন্তর-আকাশ আকাশ-লেখন : আকাশিক রেকর্ড। আকাশে অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যতের সমস্ত ঘটনাবলীর মহাজাগতিক রেকর্ড। একমাত্র এক অবতার যিনি স্থান-কালের ঊর্ধ্বে, তিনি সরাসরি মহাজপতের সংরক্ষণাগার (আর্কাইভ) থেকে এই সত্য-লেখন পাঠ করে তার রহস্যোদ্ধার করে প্রকাশ করতে পারেন। আত্মসংশয়, আত্মঘৃণা ও আত্মবরর্জন : self-doubt, self-hatred and self-denial; আত্মসংশয় থেকে আত্মঘৃণা এবং পরে আত্মঘৃণা থেকে আত্মবরজন হয়। আদি শংকর : অষ্টম শতাব্দীর জীবনমুক্ত অবতার ও মাস্টার শংকরাচার্য; তিনি অদ্বৈত বেদান্তের ব্যাখ্যাকারী ও সনাতন ধর্মের পুনরুদ্ধারকারী। ৬৬ আবেগ-বল : emotional strength আর্কইভ : (ইংরাজীতে Archive), সংরক্ষণাগার, মহাফেজখানা। উপনিষদ: পবিত্র মহাজাগতীয় প্রকাশ সমূহ যা পৃথীীগ্রহে সমস্ত আধ্যাত্মিক গ্রন্থ বা বেদসকলের উৎস। আক্ষরিক অর্থে উপনিষদ হল ‘মাস্টারের সাথে বসা’। বেদের ১১৮০টি শাখার সাথে সম্পর্কিত ১১৮০টি উপনিষদ ছিল; তাতে ১০৮টি হল মুখ্য উপনিষদ। কুণ্ডলিনী : প্রতিটি মানুষের মূলাধার চক্রে স্থিত সম্ভাবনাত্মক শক্তি। গুরু : মাস্টার, যিনি গু (অন্ধকার) থেকে রু-তে (আলোক) পরিচালনা করেন; যিনি জন্মমৃত্যুচক্র থেকে মুক্ত করেন। চার্বাক : আক্ষরিক অর্থ হল স্বকীয় কথন। বৌদ্ধিক প্রথার ‘নাস্তিকা’ গোত্র জোর দেয় দ্বানিয়ার দিকে নির্দেশিত বস্তুবাদ, দাশনিক সংশয়বাদ এবং নাস্তিক্যবাদী তত্ত্বের দিকে। চৈতন্য মহাপ্রভু: বাংলার পঞ্চদশ শতাব্দীর জীবনমুক্ত মাস্টার ও অবতার। তিনি ভারতবরকে কৃষ্ণভক্তি র রসে প্লাবিত করেন। চ্যানেল : ইংরাজীতে channel, পথ। জীবনমুক্তি : সোজা কথায় মুক্তি। মুক্ত জীবন লাভ করা, পরমালোক বা পরমজ্ঞান প্রাপ্তি, বুদ্ধত্ব প্রাপ্তি, enlightenment, liberation জৈবস্মৃতি : Bio-memory জ্ঞানসম্বন্ধর : সপ্তম শতাব্দীতে তিরুজ্ঞানসম্বন্ধর ছিলেন এক তামিল বালক ও অবতার। তিনি শৈব-সিদ্ধান্তকে পুনর্জাগরিত করেন। ডি এন এ : DNA বা ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড একটি লম্বা অণু যা কোষের ভিতরে জীবের বিশেষ জেনেটিক কোড বহন করে। তারক বন : ঋষিগণ অধ্যুষিত অরণ্যের ভিতরে সবচেয়ে পুরাতন আধ্যাত্মিক বিশ্ববিদ্যালয়। ত্যাগরাজা : ত্যাগের রাজা, শিবকে ত্যাগরাজা বলা হয়। দক্ষিণামূর্তি : দক্ষিণদিকে মুখ করা নিরাকার বিগ্রহ। আদি গুরু মহাদেব শিবের এই স্বতন্ত্র শক্তি স্পন্দনময় নীরবতায় মুক্তি প্রদান করেন। নকারাত্মক : নেতিবাচক, negative নৈমিষারণ্য : গোমতী নদীর তীরে পুরাণ ও মহাভারতে উল্লেখিত প্রাচীন বন। বহু ঋষির প্রকাশ ও কথন এখানে ঘটে, ঋষমন, মহাভারত। পতঞ্জলি : যোগের পিতা ও প্রতিষ্ঠাতা। তিনি যোগশাস্ত্র ‘পতঞ্জলি যোগসূত্র’-এর জন্য সুবিদিত। পরিচিতি : Identity, পরিচয় সম্পর্কিত পুরাণ : পুরাণকে mythology (মাইথলজি) বলে ভুল করা হয়। পুরাণে আছে মহান ঐতিহাসিক ঘটনাবলী, ঐশ্বরিক লীলার বর্ণনা। পূর্ণত্ব : Completion (কমপ্লিশন)। পূর্ণত্বের আকাশ বা অবস্থা যা এই সত্যকে সূচিত করে যে পূর্ণ থেকেই পূর্ণের উদয় হয়; পরমহংস নিত্যানন্দ এই ‘পূর্ণত্বের বিজ্ঞান’ প্রকাশিত করেছেন। স্বামিজী ‘পূর্ণ’ বোঝাতে ইংরাজীতে complete (কমপ্লিট) শব্দটি প্রয়োগ করেছেন। প্রসঙ্গ : context, উপলক্ষ্য, অনুষঙ্গ, পূর্বাপর সম্বন্ধ। বিজ্ঞান ভৈরব তন্ত্র : ভগবান শিব তার সঙ্গী দেবী অথবা শক্তির জন্য দেওয়া ধর্মোপদেশ সম্বলিত পবিত্র গ্রন্থ। এতে পরম বাস্তবতাকে অভিজ্ঞতা করার জন্য ১১২টি ধ্যান প্রক্রিয়া (ধারণা) দেওয়া আছে। বিবেকানন্দ : উনবিংশ শতাব্দীর জীবনমুক্ত মাস্টার, রামকৃষ্ণ পরমহংসের প্রধান শিষ্য। তিনি রামকৃষ্ণ মিশন স্থাপনা করেন। ইউরোপ ও আমেরিকাতে হিন্দুধর্ম ও যোগ ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য তিনি প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করেন। ব্রক্ষসূত্র : বা বেদান্তসূত্র; ব্রক্ষণের ওপরে ৫৫৫টি সূত্র বা বাণী সংগঠিত আধ্যাত্মিক গ্রন্থ। বলা হয় বেদব্যাস বা বদ্রায়াণ এর গ্রন্থকার। ব্রক্ষসূত্রে বেদান্তের বিভিন্ন শিক্ষাসমূহ হকে সমষ্টিগতভাবে যুক্তিসম্মত, প্রণালীবদ্ধ করা হয়েছে। ভগবত্ গীতা: আক্ষরিক অর্থ হল ভগবানের গীতা। এটি হিন্দুদের প্রধান ধর্মগ্রন্থের মধ্যে একটি। ভগবান কৃষ্ণ দ্বারা তাঁর শিষ্য অর্জুনকে সরাসরি উক্ত কথামৃত এতে লিখিত আছে; এতে পরমসত্য ও মুক্তির সুগন্ধসার আছে। ভগবত্ পুরাণ: আক্ষরিক অর্থ হল পরমেশ্বরের শাশ্বত ঐশ্বরিক ঘটনাবলী; শ্রী বেদব্যাস সংকলিত এই গ্রন্থ ঐশ্বরীয় প্রেমের সমৃদ্ধতম দর্শন। এটি জীবনের পথ ও লক্ষ্য নির্দেশিত করে এবং এতে ব্রক্ষাণ্ডের (অস্তিত্বের) বিজ্ঞানসম্মত ইতিহাস আছে। মনন : চিন্তন, contemplation, সনাতন ধর্মের অভ্যাসে শ্রবণ-মনন-নিদিধ্যাসনের মধ্যে দ্বিতীয়টি মনন। মহাজগৎ: ব্রক্ষাণ্ড, cosmos, universe মহাদেব-উপাদান : Mahadeva component মানিক্কবাসাগর : নবম শতকের তামিল সন্ত ও কবি; শিবভক্তির স্মৃতি তিরুবাসাকম্ লেখেন; শৈব-সিদ্ধান্ত তিরুমুরই-এর প্রধান গ্রন্থকার। মাদুরাই: বা তিরুম্যালাই। দক্ষিণ ভারতে মীনাক্ষীদেবী ও শিবের মন্দির-নগর। বৈদিক সংস্কৃতে সমৃদ্ধ একটানা অধ্যুষিত সবচেয়ে পুরাতন নগর। মাধবাচার্য: এক মহান সন্ত, দার্শনিক ও অবতার। তিনি বৈষ্ণবধর্ম ও তত্ত্ববাদ প্রতিষ্ঠিত করেন। তত্ত্ববাদ হল বাস্তবতার দর্শন। তিনি বেদ, উপনিষদসমূহ ও ব্রক্ষসূত্র প্রস্থানের ওপরে বিস্তৃত ভাষ্য লেখেন। মাস্টার: গুরু, যিনি গু (অন্ধকার) থেকে রু-তে (আলোক) পরিচালনা করেন; যিনি জন্মমৃত্যুচক্র থেকে মুক্ত করেন। মুক্ত চিন্তাধারা : liberated thinking যোগ : অস্তিত্ব, চৈতন্য অথবা ঈশ্বরের সাথে একীভূত হওয় যাবার অবস্থা। যোগসূত্র : যোগের পিতা পতঞ্জলি লিখিত যোগের ওপরে গ্রন্থ। যোগী : যিনি দেহ-মন-সত্তা সহকারে ঈশ্বর অথবা চৈতন্যের সাথে একীভূত। রামকৃষ্ণ পরমহংস : বাংলার দক্ষিণেশ্বরে ঊনবিংশ শতকে কালীভক্ত অবতার এবং ঈশ্বরমূখ হয়ে সমাধিতে থাকতেন। বিবেকানন্দ তাঁর শিষ্য ছিলেন। রামদাস : মহারাষ্ট্রে সপ্তদশ শতকের সন্ত ও কবি। তিনি প্রভু রাম ও হনুমানের পরমভক্ত ছিলেন। রামানুজ বা রামানুজাচার্য : একাদশ শতকের এক অবতার ও বিশিষ্ট-অদ্বৈত তত্ত্বের প্রতিষ্ঠাতা। হিন্দু দর্শনের এক মহানতম শিক্ষক। সনত, সনতকুমার, সনাতন, সনকাদি ঋষিগণ : চার চিরতন যুবা ঋষি; তাঁরা দক্ষিণামূর্তিরূপী শিবের শিষ্য। সনাতন ধর্ম : ধর্মনিষ্ঠ জীবনের শাশ্বত পথ (পরে একে হিন্দুধর্ম বলা হয়); বিবর্ধনের সম্ভাবনা সহকারে পরম সত্যের সবচেয়ে শক্তিময়, সূক্ষ্ম ও বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন উপস্থাপনা। এটা রিলিজিয়ান (religion) নয়, এটি জীবন, মৃত্যু ও তা ছাড়িয়ে এক পূর্ণ বিজ্ঞান। সন্ন্যাস : পার্থিব জীবনের সাথে পূর্ণত্ব করে তা পরিত্যাগ করা; অন্যদের সমৃদ্ধ করার জন্য বাস করা। সমাধি : মন-বিহান, চিন্তা-বিহান অবস্থা; এই অবস্থায় মানুষ তার আদি অবস্থায়, মুক্ত অবস্থায় চলে যায়। সারিবদ্ধ : Aligned সংস্কৃত : সমস্ত ভাষার উৎস; দেবভাষা; স্বরবিষয়ক স্পন্দনের ওপরে ভিত্তি করা ঐশ্বরিক ভাষা। সিদ্ধ : নিখুঁত বিশুদ্ধ সত্তা, তাঁর জৈব-স্মৃতিকে পরিপূর্ণভাবে রাঁধা (সিদ্ধ) হয়েছে। স্তোত্র : পবিত্র ভক্তি সম্বলিত অন্তরাকাশ থেকে স্তবগান, স্তুতি বা বন্দনা। সৎসঙ্গ : সত্যের সাথে থাকা; এক জীবনমুক্ত মাস্টারের দেওয়া সত্য সম্বন্ধে আধ্যাত্মিক কথন বা ধর্মোপদেশ। শিব : মহাদেব, দেবাদিদেব মহাদেব, হিন্দুদের ত্রিদেবের (ব্রক্ষা, বিষ্ণু, মহেশ্বর) মধ্যে নবতেজোদ্দীপ্তকারী মহেশ্বর। শিব অর্থ ‘কারণবিনা শুভতা - মঙ্গলত্ব’। এই মঙ্গলত্বই তো অস্তিত্বের মূল সারপদার্থ। শিবগণ : শিবকে পূর্ণরূপে অন্তরাকাশে গ্রহণকারী এক দল সত্তা; কৈলাশে শিবের সেবকবৃন্দ। শিব-সূত্র: ‘বিজ্ঞান ভৈরব তন্ত্র’-এ বর্ণিত শিবোহম্ : শিব অহম্, শিব আমি। এটি মহাবাক্য বা মহামন্ত্র যা ঘোষণা করে তোমার ভিতরে ‘আমি’ হল ‘শিব’, তুমিই পরম চৈতন্য, সর্বোচ্চ সম্ভাবনা যা তুমি প্রত্যক্ষবৎ স্মরণ করতে পার। শৈব-প্রথা : বৈদিক প্রথার বিস্তার্ণ এই শাখাতে ভগবান শিবকে পরমেশ্বর মান্য হয়। ভক্তরা বিভূতি ও রুদ্রাক্ষ ধারণ করে ও তাদের শৈব বলা হয়। শংকর : আগে ‘আদি শংকর’-এ বর্ণিত। উভয়ই এক। শ্রুতি : যা শ্রবণ করা হয়েছে। শ্রুতি নির্দেশ করে প্রাচীন শাস্ত্রসকল যেমন, বেদ, উপনিষদসমূহ ও ভগবৎ গীতাকে; এইসকল প্রকাশিত শাস্ত্রসকলকে ঋষিরা কেবল একবার শ্রবণ করে ধরে রাখতে পেরেছেন। হিলিং: (ইংরাজীতে Healing) নিরাময় করা