Upanishad SamuhChapter 1 of 11
Chapter 1

প্রথম পরিচ্ছেদ উপনিষদসমূহ : সম্পূর্ণ পূর্ততের আদি উৎস

1 sections

প্রথম পরিচ্ছেদ উপনিষদসমূহ : সম্পূর্ণ পূর্ততের আদি উৎস

এই অভিব্যক্তিকে বলা হবে অদ্বৈতজীবন সিরিজ। আমি ব্যাখ্যা করতে যাচ্ছি না, আমি কেবল ঋষিদের মধ্যে ঠিক যেমন কথোপকথন হয়েছিল তা শ্রবণ করে তোমাদের উপহার দিতে যাচ্ছি! ॐ পূর্ণমদঃ পূর্ণমিদং পূর্ণাত্ পূর্ণমুদচ্যতে । পূর্ণস্য পূর্ণমাদায় পূর্ণমেবাবশিষ্যতে ॥ ॐ শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ ॥ পরিচ্ছেদ ১ উপনিষদসমূহ : সম্পূর্ণ পূর্ণত্বের আদি উৎস অদ্বৈতজীবন অর্থ উপলব্ধি করা যে তুমি পূর্ণ, পূর্ণের সাথে এক, তুমি ভগ্ন, বিচ্ছিন্ন বা খণ্ডিত অংশ নও। সম্পূর্ণ পূর্ণত্বের সেই উপলব্ধি, এমনকি অতীতের সাথেও, কেবল উপনিষদই প্রদান করতে পারে। ভগ্ন, বিচ্ছিন্ন ও খণ্ডিত অর্থ বরাবরের মত আলাদা হয়ে যাওয়া, ভিতরে বিভক্ত হওয়া ও অন্তরীণ পুনর্বিভাজন। তুমি ভগ্ন নও, বিচ্ছিন্নও নও, আবার পূর্ণ থেকেই কোন খণ্ডিত অংশেও প্রবেশ কর নি। পূর্ণ পূর্ণ হয়েই আছে। এমন নয় যে তুমি এখন পূর্ণত্ব প্রাপ্ত করবে এবং ভবিষ্যতে সম্পূর্ণ পূর্ণত্ব অভিজ্ঞতা করবে। যখ ন তুমি উপলদ্ধি কর যে তোমার অতীতেও তুমি সর্বদা সম্পূর্ণ পূর্ণ ছিলে, তখন পূর্ণতা হ’ল সম্পূর্ণ পূর্ণতা। যখন তুমি বোঝ যে অতীতেও তুমি পূর্ণ ছিলে, তখন পূর্ণতার গভীরতা তোমার মধ্যে পূর্ণ হয়। যখন তোমার অতীতের অপূর্ণতা কেবল অর্থহীন ও অপ্রাসঙ্গিকই নয়, তা স্মরণেই আসে না ও বোধগম্যও হয় না, তখন তুমি অদ্বৈত জীবন যাপন করছ। যে মানুষ বলে, ‘ভবিষ্যতে আমি পূর্ণ হব,’ সে যোগী। যে মানুষ বলে, ‘এখনই আমি সম্পূর্ণরূপে পূর্ণ,’ সে তান্ত্রিক। যে মানুষ হৃদয়ঙ্গম করেছে, ‘কেবল ভবিষ্যৎ ও বর্তমানেই নয়, অতীতেও আমি সম্পূর্ণ পূর্ণ ছিলাম,’ সে অদ্বৈতী। অদ্বৈত জীবন যাপন অর্থ, ভবিষ্যৎ ও বর্তমানে তুমি মায়া থেকে মুক্ত হবার অভিজ্ঞতা পাবে, কেবল এই উপলদ্ধি নয়। অদ্বৈত জীবনে উপলদ্ধি হয় যে অতীতেও তুমি কখন মায়ার জালে আটকে ছিলে না। উপনিষদসমূহ হল সমস্ত ধর্মগুলির আদি উৎস, সমস্ত সত্যের মূল উৎস! উপনিষদের প্রধান বাণী এই নয় যে ভবিষ্যতে তুমি পূর্ণ হবে, তা 'যোগসূত্র'-এর বাণী। 'তুমি তো এখনই পূর্ণ,' তা 'শিবসূত্র'-এর বাণী। 'অতীতেও তুমি পূর্ণ ছিলে,' তা উপনিষদের বাণী। ভবিষ্যৎ ও বর্তমানে পূর্ণ হবার সাথে যখন তুমি উপলব্ধি কর যে অতীতেও তুমি পূর্ণ ছিলে, তখনই তোমার সম্পূর্ণ হিলীং (নিরাময়) ঘটে। অতীতেও তুমি যে সম্পূর্ণরূপে পূর্ণ ছিলে, তোমাকে সে কথা বলার ও অভিজ্ঞতা প্রদান করার সাহস কেবল উপনিষদের আছে! তুমি যোগসূত্র অভ্যাস করলে কি ঘটবে তার পূর্বাভাস পাওয়া যায়। শিবসূত্র অভ্যাস করলে কি ঘটবে তা ব্যাখ্যা করা যায়। কিন্তু উপনিষদ উপলব্ধি করলে কি ঘটবে তার পূর্বাভাস পাওয়া যায় না, আবার ব্যাখ্যাও করা যায় না। ঐশ্বত জীবন যাপন অর্থ কেবল ভবিষ্যৎ ও বর্তমানের সাথে সম্পূর্ণভাবে পূর্ণ হওয়া নয়, কিন্তু অভিজ্ঞতামূলকভাবে উপলব্ধি করা যে অতীতেও তুমি সম্পূর্ণরূপে পূর্ণ ছিলে। তোমার মধ্যে কখনও কোন অপূর্ণতা ছিল না। এই উপলব্ধি হল ঐশ্বত জীবন এবং একমাত্র উপনিষদ তা প্রদান করতে পারে। কেবল তোমার ভবিষ্যৎ ও বর্তমানকে নয়, ঐশ্বত জীবন তোমার অতীতকেও নিরাময় করে, পূর্ণ করে, পরিতৃপ্ত করে ও আনন্দময় করে। কেবল ঐশ্বত জীবনই তোমার অতীতকে পরিবর্তন করতে সমর্থ। তুমি ভাবতে পার, 'অতীত কিভাবে পরিবর্তিত হবে? তা তো হয়ে গেছে!' না! কিছুই হয়ে যায় নি! অতীতের যা কিছু তুমি স্মরণে রাখ, তা এখনও আছে, তা বিদ্যমান। যা কিছু অনুপস্থিত তার জীবন নেই বা তোমার ওপরে প্রভাব নেই। তাই অতীত বা ভবিষ্যৎ হল বর্তমান। যতক্ষণ তুমি স্মরণে রাখ , তা জীবন্ত। ভবিষ্যতের জন্য ইচ্ছিত তোমার সমস্ত বাসনা, সৃষ্টি ও ঘোষণাগুলি তো বর্তমানেই আছে। তাই সেগুলিকে অভিজ্ঞতা করার উদ্দেশ্যে সেগুলির দিকে তোমায় চালিত করার জন্য তারা এত শক্তিশালী । তোমার সমস্ত বেদনা, অপরাধবোধ ও অপূর্ণতা হল অতীত সম্বন্ধীয়, কিন্তু তা আছে বর্তমানে। তাই তা এখনও দুঃখজনক, অভিজ্ঞতামূলকভাবে অপূর্ণ। অভিজ্ঞতামূলকভাবে অতীতকে বর্তমানে, ভবিষ্যৎকে বর্তমানে ও বর্তমানকে বর্তমানে পূর্ণ করতে, কেবল উপনিষদই এক স্বচ্ছ প্রতীতি সহকারে ঘোষণা করে। আর যখন বর্তমানের বর্তমানে, অতীতের বর্তমানে ও ভবিষ্যতের বর্তমানে পূর্ণতা ঘটে, তখন সম্পূর্ণ পূর্ণতা ঘটে। তখন তোমার কেবল বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নয়, অতীতও রূপান্তরিত হয়! মহাবিশ্বে অদ্বৈত উপলব্ধি ক'রে জীবন যাপন শুরু না করা পর্যন্ত কোন হিসাবই মিটে যায় না। জীবনে সর্বশেষ বিজয় হ'ল অদ্বৈত জীবন এবং তা অর্জন করলে তোমার সমস্ত ইতিহাস, তোমার অতীত পুনর্লিখিত হবে। জেনে রাখ, কেবল তোমাকে অদ্বৈত জীবনে প্রবেশ করানোর জন্য তোমার অতীত জমা থাকে, কিন্তু রেকর্ড করা হয় না। তোমার (অতীতের) সমস্ত ফাইলগুলি পেশিং (মূলতবি) থাকে, আর্কাইভ (সংরক্ষণাগারে) থাকে না। যখন কারো অতীত বৃক্ষাণে রেকর্ড হয়ে যায়, তা 'পুরাণ' হয়ে অবতরণ করে। তার অর্থ অ্যামিবা থেকে অনন্তনারায়ণ, এই মহাযাত্রা সে সম্পূর্ণ করেছে, বিজয়ী হয়েছে এবং তা বৃক্ষাণে রেকর্ড হয়েছে। তাই এখন সে ভগবত্ পুরাণে প্রকাশিত হয় মৎস্যাবতার থেকে কক্ষি অবতার পর্যন্ত। এমনকি এখনই জাগ্রত হয়ে এবং অদ্বৈত জীবন যাপন করে আমরা ইতিহাস পুনর্লিখন করতে পারি। কেবল সামাজিকভাবেই নয়, মহাজাগতিকভাবেও! যোগপিতা পতঞ্জলি সাহস করে বলেন, 'তোমার ভবিষ্যতকে পূর্ণ করা যায়।' মহাদেব সাহস করে বিজ্ঞান-ভৈরব-তন্ত্রে এই পর্যন্ত বলেছেন, 'এই প্রক্রিয়াগুলি অভ্যাস কর, এমনকি তোমার বর্তমানও পূর্ণ হবো।' একমাত্র উপনিষদ, যা বাস্তবিক কেউ লেখে নি, কিন্তু চ্যানেল-কৃত হয়েছ; বলার দুঃসাহস রাখে, 'কেবল তোমার ভবিষ্যৎ ও বর্তমান নয়, তোমার অতীতকেও রূপান্তরিত ও পুনর্বিন্যাস করা যায়।' কারণ অদ্বৈত জীবন যাপন আরম্ভ না করা পর্যন্ত কিছুই পূর্ণ হয় না। মহাদেব নীরবে বটবৃক্ষতলে দক্ষিণামূর্তি হয়ে উপবেশন ক'রে বেদসমূহ বা মহাজাগতিক জ্ঞানকে স্পন্দিত করেন এবং তাকে এক অনুবাদশীল প্রাণবন্ত নীরবতা হিসাবে বিকিরণ করেন। আর ঋষিগণ তা আকাশ লেখন হিসাবে পাঠ করেন এবং বিশ্বের সাথে শেয়ার করেন। এইভাবে উপনিষদ ঘটে এবং পৃথিবীতে প্রকাশিত হয়।