50. প্রশ্ন : আপনি কি ধ্যান সম্বন্ধে আরও বলবেন এবং তা কিভাবে আমাদের আমিতুকে মুছে ফেলতে সাহায্য করতে পারে ?
Section 1
প্রশ্ন : আপনি কি ধ্যান সম্বন্ধে আরও বলবেন এবং তা কিভাবে আমাদের আমিতুকে মুছে ফেলতে সাহায্য করতে পারে ?
হ্যাঁ, প্রথমে তোমাদের বলি কিভাবে ও কেন ধ্যান-প্রক্রিয়াগুলি এল।
মানুষ তার সঙ্গির শুরু থেকে বিশ্বিত হয়েছে ও গবেষণা করেছে যে এই সুন্দর ব্রক্ষাণ্ডের সঙ্গি কি থেকে হয়েছে; এই সুন্দর পথিবীর সঙ্গি কি থেকে হয়েছে এবং তাকে মহাকাশে যুণমান কে করেছে; কি থেকে নদীগুলি প্রবহমান ও পর্বতগুলি উচ্চমান হয়। সে সিদ্ধান্তে আসে যে একটা বল বা শক্তি এই সাহিত্যিক আসে যে এক বিরাট শতিহু সংক্রমণ করেছে। সে
তখন অবাক হতে থাকে যে সেই শক্তির সাথে কিভাবে সংযোগ স্থাপন করা যায়।
প্রথম মানষেরা যারা অনসন্ধান বা রিসার্ট করে এইসব সিদ্ধান্তে আসেন এবং এই শক্তির সাথে সংযোগ স্থাপন করেন। তাঁরা ছিলেন খাবি বা জীবনমক্ত মাস্টার। জীবনমক্ত হবার পরে তাঁরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের এই শতির উপলব্ধির জন্য নানা পথ সষ্টি করেন। তাঁদের প্রত্যেকের দেওয়া বিভিন্ন পথগুলিই হ'ল নানাপ্রকার ধ্যান-প্রক্রিয়া এবং ধর্ম।
তাদের প্রত্যেকেই ঈশ্বরকে বিভিন্ন পথে উপলব্ধি করেছিলেন এবং তাদের খুঁজে পাওয়া পথ স্বতন্ড করেছিলেন। বিজ্ঞানীরা তাদের আবিষ্ঠারের ওপরে যেভাবে রিপার্ট-রিপোর্ট বানান, ঠিক তেমনি। প্রত্যেক ঋষি তাঁর জীবনমন্তির ওপরে একটা রিপোর্ট দেন এবং সেটা হয়ে যায় একটা ধর্ম বা একটা ধ্যান-প্রক্রিয়া।
এইসব আদি আত্মজ্ঞানীরা ব্রহ্মাণ্ড-পরিচালক জীবনীশক্তির এই ধারণাগুলিকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য বিভিন্ন ধর্মা তৈরি করেন। এই জীবনীশক্তিগুলিকে আমরা বলি যীণ্ড, আল্লা, শিব এবং আরও কত কি। তোমাকে কোন ভগবানকে বিশ্বাস করতে হবে না। নাস্তিক কোন ভগবানে বিশাস করে না. কিন্তু তাকে তো নিজের অভিতকে বিশ্বাস করতে হবে, তাই নম কি? আমরা যদি নিজের অস্তিতকে বিশ্বাস করি এবং 'আমি কে?' এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজি, সেটাই খ্যান-প্রক্রিয়া হয়ে যায় এবং আমরা ভগবান লাভ করি। যাই হোক, এই বিভিন্ন ধ্যান-প্রক্রিয়াগুলি সময়কালে বিভিন্ন ধর্ম হয়ে যায়।
কিন্তু তার পরে কি হল? নানা ধর্মের পিছনে এই মৌলিক ধারণাগুলি ফেলে দিয়ে লোকেরা ধর্মের নামে যুদ্ধ করতে শুরু করল।
একটা ছোট গল্প :
এক তামিল, এক ইংরেজ, এক উত্তর ভারতীয় এবং এক বাঙালী একসাথে ভ্রমণ করছিল। তারা দর থেকে একটা হুদ দেখতে পেল।
তামিল তাকে দক্ষিণ দিক থেকে দেখল ও তাকে বলল তান্নির - জলের তামিল শব্দ।
ইংরেজ তা খেল পশ্চিমদিক থেকে এবং বলল ওয়াটার।
উত্তর ভারতীয় হদটিকে উত্তর দিক থেকে দেখে বলে পানি।
বাঙালী তাকে দেখল পর্বদিক থেকে এবং বলল জল।
চারজন সবাই একই জিনিষ সম্বন্ধে বলছিল, জল। কিন্তু তারা নিজেদের মধ্যে লড়াই শুরু করে, প্রত্যেকে নিজে ঠিক বলে দাবী করতে থাকে।
চারজনের কেউই হলে নেমে জলকে নিজে পরীক্ষা করতে উদ্যত হল না। তামিলভাষী বলতে থাকে তার দাদু তাকে কি বলেছিল, ইংরেজ দাবী করে যে তার ঠাকুর্দা তাকে ওয়াটার বলতে শিখিয়েছিল : উত্তর ভারতীয় এবং বাঙালীও তাদের নিজের নিজের দাদুর কথা আঁকড়ে থাকল।
তারা হচ্ছের একটু জল মুখে না দিয়েই লডাই শুরু করে দিল।
আমরা হুবহু এটাই করি। যারা ধর্ম নিয়ে লড়াই করে, তারা এই জিনিষ্ট করছে। তাদের বুঝতে হবে আদি আত্মজ্ঞানীরা যে স্থান থেকে দেখেছিল, সেই স্থান থেকে তাঁরা তার নাম দিয়েছিল; কিন্তু সরই এক - অস্তিত বা ঈশ্বর। কষ্ণ ও ত্রাইস্ট একই জিনিষ বোঝাচ্ছেন। মানুষেরা তাদের আলাদা আলাদা স্থান থেকে দেখছে, ব্যাস।
সেই চারটে মানুষ হ্রদে না নেমে তাদের পূর্বপুরুষেরা কি বলেছিল তা নিয়ে লড়াই করছে ! কি হবে? তারা কেবল লড়াই করবে কারণ তারা প্রত্যেক ভাবে যে তাদের ঠাকুর্দা যা বলেছে সেটাই ঠিক। যদি তারা ঠাকুর্না কি বলেছে তা সরিয়ে রেখে হলে গিয়ে নামত এবং নিজেরা দেখত, তাহলে তারা বুঝত যে সবার ঠাকুর্দা একই জিনিম বুঝিয়েছিল! তবে কোন লড়াই হোত না।
আজকে যারা হলে নামে নি ও তার জল মুখে নেয় নি, তারাই লড়াই করে চলেছে। ধর্মের নামে যারা আতঙ্কবাদ ছড়াচ্ছে তারা আধ্যাত্মক্যা নামক সেই রদে নামে নি এবং সত্য আম্বাদন করে নি। যুদ্ধরত চারজন হলের তীরে লড়াই করছে। তাই বুঝে নাও কর যে সত্য বিভিন্নভাবে প্রকাশিত হয়, ব্যাস।
ধ্যানের কথায় ফিরে আসি। সহজে বলতে গেলে ধ্যান হ'ল তোমার মনকে আরাম করতে দেওয়া, ব্যাস। ধ্যান অর্থ একাগ্রতা (concentration) বা পূর্ণ-মনোযোগ নয়। একাগ্র হলে তুমি আসলে তোমার মন থেকে সবকিছু বাদ দেবার চেষ্টা করবে, আর সেটা অসম্ভব কাজ।
দুই মিনিট কেবল বসো এবং মন থেকে সব কিছু বাদ দেবার চেষ্টা কর; তুমি পাগল হয়ে যাবে। যাই তুমি বাদ দেবার চেষ্টা কর, তা ফিরে আসবে ও তোমাকে অত্যাচার করবে। তাই একাগ্রতা ধ্যান হ'ল সহজেই সবকিছুকে অন্তর্ভুক্ত করা ও স্বস্তিতে
থাকা।
यथनरे मतदा भारत निर्माण (वानाम) कव वर हान्नामा करवाई जम्मूल्य मजान रुप। वार्ममान्य रुपया मरण मन তোমার হৃদয় দিয়ে প্রবণ কর। পাখীর ডাক, হাওয়ায় ক্যালেন্ডারের পাতা ওড়ার ফানের আওয়াজ, চারপাশে মানুষের কোলাহল অথবা অন্য যা কিছু হতে পারে। উন্মক্ত হৃদয় দিয়ে শোন। মনে করিয়ে দিই , সেগুলি সব বিরতিকর নয়। তুমি তাদের সাথে প্রবহমান হ'লে তাদের বিরক্তিকর লাগবে না। যখন তাদের সাথে প্রবহমান হও, তারা বিরাক্ত করা বন্ধ করে।
এটা করতে করতে তামি উপলব্ধি করে যে তোমার ভিতরে এক প্রকার নির্দিষ্ট নীরবতা, এক যৌগিক অন্তঃসার আছে, যা সমস্ত কিছু প্রত্যক্ষ করছে। তুমি বেশী, আরও বেশী করে সেই অন্তরের নীরবতা বা শান্তি সম্মন্ধে সজাগ হতে থাকবে। তুমি তোমার অন্তরের সেই শান্তির আভাস পেতে থাকবে।
ধীরে ধীরে তুমি তোমার শরীরের চেতনা হারিয়ে ফেলবে। তোমার কেবল সজাগতা থাকবে, নিজেকে কেবল তোমার সজাগতা ছারা অনুভব করবে, তোমার শরীর বা মন দ্বারা নয়।
ধ্যান তোমাকে উপলব্ধি করতে সাহায্য করবে যে জীবনে তুমি কেবল এক দ্রুষ্টা। তা তোমাকে তোমার স্বরূপ বা সত্তার গভীরে কেন্দ্রিত করতে সহায়তা করবে ও তোমার বহির্জগতের কাজগুলি আরও অধিক দক্ষতা ও আনন্দের সাথে করে যেতে সাহায্য করবে। কারণ তখন তুমি তোমার অন্তরের শান্তি বহন করবে, যা তোমাকে কোনকিছুতে বিষল ও বিচলিত হতে দেবে না। যদি তুমি এটা করতে থাক, তুমি 'আমি' ও 'আমার'-কে ছাড়তে শুরু কর। তোমার আমিত বা অহংভাব মুছে যায়। তোমার আমিতু আর কিছুই নয়, সেটা হল নিজের দেহ ও মন সম্পর্কে তোমার প্রবল অনুভূতি ও পরিচিতি।
আমরা ধ্যানের জন্য বিশ্বব্যাপী যে আন্দোলন সষ্টি করার চেষ্টা করছি, তার সম্পর্কে তুমি কি মনে কর? ধ্যান হ'ল বিশ্বশান্তির একমাত্র চাবিকাঠি। যখন তুমি অন্তরে দেখতে শুরু কর, তুমি বহির্জগতের ধনদৌলত, কমতা, প্রতিশোধ ইত্যাদি উন্নততা দ্বারা প্রভাবিত হও না। তোমার সকল মল শক্তিগুলি উচ্চতর আধ্যাত্মিক শক্তিতে রূপান্তরিত হবে। সমষ্টিগত চেতনায় এক পরিবর্তন আসবে এবং স্বতক্ষলভাবে শান্তির বিজয় হবে।
তাই আমি ব্যক্তিগত রূপান্তরে ফোকাস করছি। যখন একদল মানুষ অভিজ্ঞতামূলক উপলব্ধি দ্বারা রূপান্তরিত হয়, তারা পালাক্রমে নিজেদের অভিজ্ঞতা দ্বারা অন্যদের অনুপ্রাণিত করবে এবং তা সমাজে এক সকারাত্মক নতুন মানসিক গঠন সঙ্গে পাকিস্তান করে।
তোমার উপলব্ধি অভিজ্ঞতা না হওয়া পর্যন্ত, রূপান্তর সম্ভব নয়। খ্যান তোমার উপলব্ধিকে অভিজ্ঞতা বানাতে পারে। ধ্যানই ব্যক্তির রূপান্তরের একমাত্র আশা, সুতরাং মানবজাতির রূপান্তরের আশা।
ধ্যান করলে বুদ্ধি বাড়ে। তুমি সমস্ত বিষয় সুস্পষ্টভাবে বুঝতে আরম্ভ কর। বিকল্পের জন্য কাউকে আর জিজ্ঞাসা করার দরকার তোমার নেই। তুমি সহজেই জান, ব্যাস। নিজের অন্তর্গ্বাদ সাথে সংযুক্ত থাকার জন্য তুমি জান। তুমি জান যে তা ভুল হতে পারে না।
তুমি তোমার সত্তা থেকে জানবে যে তুমি সঠিক পথে আছ। পথচলা কখনও কঠিন হতে পারে, কারণ তুমি সংখ্যাগরিষ্ঠদের বিপক্ষে, কিন্তু তুমি জান যে পরিণতি সুন্দর ও মুক্তিদায়ক হবে। তোমাকে কেবল অধ্যবসায়ী হতে হবে ও নিজের বুদ্ধিতে গভীর আস্থা রাখতে হবে।
নিজেকে ধ্যান দ্বারা প্রতিপালন করলে, তোমার ধারণক্ষমতা বন্ধি পাবে এবং তুমি বহির্জগতে অনেক কিছু করতে পারবে। তুমি কি করবে ও কি প্রকাশ করতে পারবে, তার কোন সীমা নেই। তুমি নানা মাত্রায় নিজেকে বাড়তে দেখবে।
আমিত্ব দ্বারা কাজ না করে অন্তর্গুদ্ধি দ্বারা কাজ করে তুমি দেখবে সবজেই আসছে। যখন কোন কিছু তোমার কঠিন লাগে, তার কারণ তোমাকে সেই জিনিম থেকে সরিয়ে দিচ্ছে। নিজেকে হারিয়ে অস্তিত্বের সাথে মিশে যেতে থাকলে কিছুই জটিল হবে না; তুমি সহজেই প্রবহমান হবে। তোমার বুদ্ধি স্বতক্ষলভাবে তোমার ভিতরের সেই অস্তিত্য-শক্তিকে গুছিয়ে নেবার জন্য কাজ করবে।
তুমি নিজেকে এক অলৌকিক মানুষ হিসাবে দেখতে শুরু করবে। যা আগে দুরূহ মনে হত, এখন হঠাৎ তা সহজ লাগবে। তুমি অনভিজ্ঞতা থেকে গভীর সজাগতায় চলে যাবে।