31. নিরাপত্তাহীনতার ভয় দূর কর
# নিরাপত্তাহীনতার ভয় দূর কর
আরেকটা জিনিষ বোঝ : কেউই তোমার ধন-সম্পদে হাত লাগাবার জন্য এবং দুর্ভাগ্য দেবার জন্য অপেক্ষা করে না। যে করেই হোক আমরা একটা ভয় নিয়ে সর্বদা থাকি যে লোকেরা আমাদের সম্পত্তি লুঠে নেবার ধান্ধায় আছে। সেটা সত্যি নয়।
এই ভয়ের দরুণ আমরা আমাদের চারিদিকে নানা দেওয়াল নির্মাণ করি। সবশেষে আমরা নিজেদের সেই প্রকোর্ডের ফাঁদেই আটকে পড়ি। তাই আমি বলি, 'দরজা খোল, বাতাস আসতে দাও।' বিশ্বাস রাখ যে জীবনীশক্তি তোমার যত নেবে। আমি বলছি না যে বাড়ীতে তালা লাগাবে না। বাড়িতে না থাকলে তালা লাগাবার পরে তালা লাগাবার পরে তালার ওপর আচ্ছন্নতা দর কর, ব্যাস!
একটা উদাহরণ নাও। তুমি টেলে যাচ্ছ। কামরাতে আরাম করে বসার পর তমি কি করে ? তুমি পাশে বসা লোকেদের সাথে কথা বলা শুরু কর। তুমি জিজ্ঞাসা করে তারা কোন চেষ্টা কর তারা কোন ধর্ম অবলম্বন করে। তুমি তাদের ব্যাকগ্রাউণ্ড ইত্যাদি জিজ্ঞাসা করা কেন? তমি কি সত্যি তাদের সম্বন্ধে আগ্রহী? না! এর কারণ তন্ত্রি তাদের অচেনা বলে ভাব এবং তাদের সম্পর্কে এইসব জানলে, মানসিক দিক থেকে তুমি তাদের সাথে সফর করা নিরাপদ মনে কর, ব্যাস।
তুমি যদি হিন্দু হও ও তারাও হিন্দু হয় তুমি স্বস্থিবোধ কর। তুমি হিন্দু হয়ে সে যদি মুসলমান হয় তুমি অস্বস্থিবোধ কর , ভয় পাও; তাদের সন্দেহের চোখে দেখা তুমি হয়ে কথা চিন্তা করা শুরু করে দেবে। এইভাবে তোমার ভয় কাজ করে। তমি সর্বদা অচেতন অবস্থায় কিছু হারাবার ভয়ে আছ।
রামকৃষ্ণ পরমহংসের ঐশ্বরিক সঙ্গিনী সারদা দেবী বলেন, 'শোষিত হলেও অপরের ওপর আস্থা রাখা। মহাবিশ্বের ওপর আস্থা রাখার গুণই তোমাকে এই পথিবীতে ভগবানের মত থাকতে দেবে।'
यथन मुक्त वादि श्र, जूसि विज्ञानीत सरकार भारता। यथन मुक्तू वारव भूका विकास को कारण करणार करणार करणार करणार জীবনমুক্তি প্রস্কুটিত হয়। তাই ভয় দুর কর এবং তোমার মধ্যে উপলব্ধি ও আস্থা হতে দাও।
তোমার সম্পত্তি থেকে ভয় দুর কর। সবকিছুর মালিক হ'ল অস্তিত্ব। তুমি কেবল তার এক অস্থায়ী স্বতাধিকারী, ব্যাস। তুমি যদি এই উপলব্ধিতে আরাম কর, তবেই যথেষ্ট।
ভয়-স্ট্রোক
প্রশ্ন : স্বামীজী, যখন আমরা ভয় পাই, আপনি আমাদের আরও সচেতন হয়ে তার দিকে তাকাতে বলেছেন। কিন্তু কোন কোন সময়ে, ভয় এতই অকস্মাৎ যে সেটা হঠাৎ একটা বিরাট ধাক্কা দিয়ে আসে ও চলে যায়। আমাদের তার দিকে তাকাবার সময় পর্যন্ত পাই না।
তুমি যা বলছ তার হ'ল ভয়-স্টোক।
ভয়-সৌশক সেকেণ্ডে আসে ও চলে যায়; কিন্তু বড় কাঁটার মিয়ে বিশে বিধে। ধর, তুমি রাস্তায় হাঁটছ। হঠাৎ একটা দড়ি দেখে তাকে সাপ ভাবলে। হঠাৎ করে তোমার ভয় উৎপন্ন হবে, কিন্তু সেটা কয়েক সেকেণ্ডে মিলিয়ে যায়, কারণ তুমি বুঝে গেছ যে সেটা একটা দডির টকরা। এটাই ভয়-স্টোক।
আমাদের মধ্যে সর্বদাই ভয়ের এক তরঙ্গ আছে। মাঝে মাঝে সেটা চড়ায় ওঠে, ব্যাস্। কম সময়ের জন্য হলেও ভয়-স্ট্রোক কখনও প্রচণ্ড তীব্র হতে পারে। ভয়-স্ট্রোক আমাদের প্রতিষেধক বা ইমিউন সিন্টেমকে দুর্বল করে দেয়। এতে বিষাদ জনিত রাসায়নিক ক্ষরণ হয় এবং শীয়্ বার্ষের নিয়ে আসে। বলা হয় যে এতে হার্ট-অ্যাটাক হতে পারে বা চল সাদা করে দিতে পারে।
বলা হয় যে গড়পড়তায় প্রতিটি মানুষের দিনে ছয়বার ভয়-স্ট্রোক হয়, অচেতনভাবে বা সচেতনভাবে। ভয়-স্ট্রোকের উদাহরণ : মধ্যরাতের পরে টেলিফোন বেজে ওঠা বা গাড়ী চালাবার সময়ে হঠাৎ করে সামনে এক মোটর সাইকেল এসে যাওয়া বা ভয়ের সিনেমা দেখছ, তখন কেউ তোমার কাঁধে টোকা দিল ... এরকম কত ঘটনাই যে আছে।
তুমি স্বপ্নেও ভয়-মৌর্ক পাও, কিন্তু জেগে উঠলে তা ভুলে যাও। ভয়-মৌল যেন গোলাপ গাছকে শিকর থেকে ঝাঁকানো। আমাদের সিস্টেমের জন্য এটা খুবই বিপজ্জনক।
তুমি যা বললে, ভয়-স্টোকের সময় তোমার সচেতন হবার কোন সময় থাকে না। তুমি ভগবানের নাম করার সময় পাবে না। কিন্তু ভয়-স্টোকের পরে তাকে ভাল করে বিশ্লেষণ করতে পার এবং ভয়কে আরও ভাল করে পভীরভাবে বুঝতে পার। এতে ভয় ভাবনা দূর করার জন্য সাহায্য পাওয়া যাবে।
আমাদের নিয়মিত-ভয়ের প্রাবল্য ও গভীরতা কমিয়ে ভয়-স্টোকের প্রাবল্য ও সংখ্যা অনেক কমানো যায়। একমাত্র নিয়মিত-ভয় থেকেই ভয়-স্টোকের উৎপত্তি হয়। যদি গভীরতর উপলব্ধি ও স্পষ্টতা দ্বারা নিয়মিত-ভয় কমানো যায়, ভয়-স্টোকও কম হবে।
সাধারণত ভয় এত শক্তিশালী যে তুমি তোমার নিয়ন্ত্রণ পুরো হারিয়ে ফেলবে।
একটা ছোট গল্প :
দীক্ষার জন্য এক সুফি মাস্টারকে এক শিষ্য খুব অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। শেষে মাস্টার তাকে বলেন যে তিনি দীক্ষা দেবেন যদি সে কাছের শহরে গিয়ে একটা বোরখা পড়া মেয়েকে চুমু খায় ও তারপর বনে গিয়ে একটা বাঘকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আসে। অন্যান্য শিষ্যরা বলে যে এটা তো সোজা কাজ। মাস্টার হাসলেন এবং তাদের অপেক্ষা করতে বললেন। এক সপ্তাহ পরে সেই শিষ্য ফিরে এল। সে ভীষণভাবে ক্ষতবিক্ষত ও রক্তাক্ত ছিল। মাস্টার জানতে চাইলেন কি হয়েছে। শিষ্য বলল, 'জানি না কেন, কিন্তু আমি এক মহিলাকে লাঠি মেরেছি ও বাঘকে চুমু খেয়েছি।'
ভয় তোমাকে সহজেই অন্ধ করে দেয়! ভয় তোমার চিন্তাশক্তি ও বুদ্ধি কয়েকক্ষণের জন্য সরিয়ে ফেলে। তাই তোমাকে ভয়কে গভীরভাবে বুঝতে হবে এবং তাকে জয় করতে হবে।
কত ঘটনায় দেখা যায় যে আগুন লাগলে বা অন্য কোন দুর্যোগের সময় লোকেরা চতুর্দিকে ভয়ে দৌড়াদৌড়ি করে। তারা ভুল দরজা খুলে ফেলবে। তারা ভুল প্রস্থান দ্বারের দিকে দৌড়াবে যদিও তারা জানে যে সেটা ঠিক প্রস্থান দ্বার নয়। তথ্য এত অন্ধ করে দেয়।
याला योनकारनाटक मटणवा घाना (ब्रत्य भविवर्णिक कवा याथ, स्थि मण्डलन्त्र बादा जयादक निर्णया उ शूक्लिश्छाय পরিবর্তিত করা যায়।
কোন কিছুকে দাবিয়ে রাখলে তা অন্য আকার ধারণ করে। তা মূল থেকে পুরোপুরি ধরংস হয় না। তাই দাবিয়ে রেখে ভয়কে জয় করা যায় না। সচেতনতাই পথ। আসলে ভয়কে দাবিয়ে রাখলে তুমি তাকে জয় করার সুযোগ হারিয়ে ফেলছ।
যদি তোমার ভয়গুলির দিকে একটানা সজাগতা সহকারে তাকাও, তাহলে এমনকি মৃত্যুর সময়েও তুমি মৃত্যুর দিকে সজাগ হয়ে তাকাবে এবং মৃত্যুকে তোমার মধ্যে ঘটতে দেবে। এটা করা খুব দরকার কারণ পরিণামে তোমার সমস্ত ভয়গুলিই তো মৃত্যুভয়। তুমি তোমার দৈনন্দিন ভয়ের কাজ করলে তোমার মত্যুভয় অচেতনভাবে কম হবে এবং যখন তোমা র মৃত্যুভয় কম হয়, তোমার দৈনন্দিন ভয়গুলি কমতে থাকে! এটা এক পবিত্র ঘটনাচক্র।
ভয়ের সাথে সরাসরি কাজ করার জন্য আমরা এখন একটা সুন্দর ধ্যান করব। ধ্যানটির নাম 'নির্ভয় ধ্যান' এবং এটা আমাদের ভয়গুলির সাথে সরাসরি কাজ করে।
আবেগ : ভয় চক্র : স্বাধিস্থান চক্র অবস্থান : নাভি থেকে ২" নীচে।
সংস্কৃতে স্বাধিস্থান মানে স্ব-অধিস্থান, যেখানে তোমার সত্তা প্রতিষ্ঠিত।
এই চক্র তালাবদ্ধ থাকে ভয়ের দরুণ, বিশেষ করে মৃত্যুভয় এবং এটাকে প্রকুটিত করা যায় ভয়ের মুখোমুখি হয়ে, মৃত্যুর মুখোমুখি হয়ে।
ভয়ের মুখোমুখি হবার ধ্যান : নির্ভয় ধ্যান - প্রক্রিয়াটি বেদান্ত থেকে নাওয়া।
অন্ধকার-ধ্যান
(পুরো সময় : ৩০ মিনিট। লাইফ ব্লিস ফাউণ্ডেশন থেকে শিক্ষাপ্রাপ্ত শিক্ষকের উপস্থিতি ছাড়া এই ধ্যান কেউ যেন না করে)
নির্ভয় ধ্যান প্রক্রিয়া বেদান্ত থেকে নাওয়া হয়েছে। এটা অন্ধকার-ধ্যান মনকে জ্ঞাত বিষয় সম্বন্ধে ভাবা বন্ধ করায়। মন যখন পরিচিত বিষয় সম্বন্ধে ভাবা বন্ধ করে, চিন্তাগুলি নিজে নিজেই মিলিয়ে যায়। এই ধারণা দিয়ে ধ্যানটি তৈরি।
মেবেতে আরাম করে বস। মেঝেতে যারা বসতে পার না, তারা চেয়ারে বস। মাথা, ঘাড় ও মেরুদণ্ড সরলরেখায় থাকতে হবে।
চোখ বন্ধ কর। গভীরভাবে শাসপ্রশ্নাস নাও। কল্পনা কর যে তুমি এক ঘন জঙ্গলে হাঁটছ। তুমি বনের সবচেয়ে ঘন অঞ্চলে ঢুকছ।
তুমি এক গভীর, অন্ধকার গুহায় ঢোক। তুমি চোখ দিয়ে কিছুই দেখতে পারছ না। তুমি অন্ধকার গুহায় বসে পড়। তুমি নিজের শরীর দেখতে পারছ না। সেখানে থাকার ভাবনা ছাড়া তোমার কোন পরিচয় নেই।
या र क्रिकेट के द्वारा कि किसूरे द्वारा का किस बाद करना बाद सूर्य घाना दूर्या बाद दूर्या का पूर्वा जाया। ( वक মিনিট)
তুমি মায়ের গর্ভাশয়ে অন্ধকার থেকে জন্মেছ এবং তুমি সেই প্রেময়, করুণাময় অন্ধকারে মিলিয়ে যাও। (এক মিনিট)
তোমাকে বেষ্টিত ঘোর অন্ধকারকে তুমি গভীর শাসের সাথে ভিতরে নাও। যে অন্ধকার তোমার পরিচয় মুছে দিয়েছে তাকে গভীর শ্বাসের সাথে ভিতরে নাও।
ধীরে, খুব ধীরে, উপলব্ধি কর যে তোমার শরীর অন্ধকারের সাথে মিলিয়ে যাচ্ছে। (৫ মিনিট)
ধীরে, খুব ধীরে, উপলব্ধি কর যে তোমার শরীর অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে। (৫ মিনিট)
শরীরের প্রতিটি কোষ দ্বারা গভীরভাবে অন্ধকারকে শ্বাস দ্বারা নাও ও শাস দ্বারা ছাড়। (১৫ মিনিট)
নিজেকে অনুভব করতে শুরু কর। পুরো শরীরকে তোমার সমস্ত চেতনা দিয়ে অনুভব করতে শুরু কর। বসা অবস্থায় তোমার শরীর খুব ধীরে নাড়াও। উঠে পড় ও গুহার বাইরে এস। গভীর জঙ্গল থেকে বেড়িয়ে এস।
এই ধ্যান-হলঘরে ফিরে এস ...(৩ মিনিট)
এই নীরবতাকে নিজের সাথে ধরে রাখ।
ধন্যবাদ।




লনা বীজ, ঈর্ষা তার ফল!
আমরা সবসময়ে নিজেদের অপরের সাথে তুলনা করি এবং প্রায়ই ভাবি যে অন্যদের যা আছে, অন্যরা যা পেয়েছে তা আমাদের যা আছে তার তুলনায় অনেক বেশী এবং আমরা ঈর্ষাকাতর হতে শুরু করি। যখন আমরা অপরের
উৎকর্ষতা সহ্য করতে পারি না. আমরা ঈশ্বাকাতর হই। তুলনা বীজ, ঈর্ষা তার ফল!
(ঈর্ষাকে পরশ্রীকাতরতা বা মাৎসর্য অথবা অসুয়া-ও বলা হয়।)
তুলনা এবং ঈর্ষা, দুইটিরই প্রকৃতপক্ষে কোন অস্তিত্ব নেই! আমরাই তাদের কিভাবে জয় করা যায় সে সম্বন্ধে অনেক কথা বলতে থাকি। তুলনা যেন বন্ধ বিনা ছায়া। তুলনার ধারণার কোন ভিত্তি নেই। এটা কেবল আমাদের কল্পনার এক মিথ্যা বস্তু।
একটা ছোট গল্প :
একটি লোক এক সঙ্গীতদলের অংশ ছিল ও তারা সমস্ত পথি বীতে লাইভ-শো করত।
Section 2
একটা বিশেষ শো-তে সে কিছু গানের জন্য কালো পরচুল ও বাকী গানের জন্য লাল পরচুল পড়া ঠিক করল। সে পরচলগুলি পরিবর্তন করতে থাকল এবং অনুষ্ঠানের প্রথম ভাগ শেষ হ'ল।
বিরতির সময় শো-ডাইরেক্টর ডেসিংরুমে এসে তাকে বলে, 'স্যার, আমরা আপনাকে অনুরোধ করছি যে আপনি বাকী শো লাল পরচল পড়েই করুন।'
শিল্পী অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করে, 'কেন?'
ডাইরেক্টর বলে, 'লোকেরা লালচুলের কণ্ঠস্বর কালোচুলের কণ্ঠস্বরের চেয়ে অনেক বেশী পছন্দ করে।'
আমরা সর্বদাই তুলনা করতে এত ব্যস্ত যে আমরা কখনই জিনিষ্ঠশিল্প যেভাবে দেখি না ! আমাদের মন তুলনা করতে এত অভ্যন্ত হয়ে গেছে যে তা সত্যকে দেখতে পায় না। আমরা তুলনা করার মনোভাব পরিত্যাগ করলে, আমরা যেটা যেমন সেটাকে তেমন দেখতে পারব।
তুলনা কি?
প্রধান কোন কোন ক্ষেত্রে আমরা তুলনা করি?
সৌন্দর্য স্বামীজী ... ধন-সম্পদ... নাম ও যশ... বল, মান-সম্মান... জ্ঞান… স্বাস্থ্য…
ঠিক আছে, সাধারণত এইসব ক্ষেত্রে আপরের সাথে তুলনা করি। আমরা এগুলিকে চারটে শ্রেণীতে ভাগ করতে পারি : ধন, জ্ঞান, সৌন্দর্য্য যার মধ্যে স্বাস্থ্য আছে এবং প্রতিষ্ঠা। আমাদের সমস্ত সমস্যা, মনের সব জটিলতা, এই চারটি শ্রেণীর অন্তর্গত, ঠিক কি না?
এখন...ধর তুমি বিশ্বের সব মানুষকে ধনের পরিমাণের ক্রম উর্ধারী হিসাবে লাইনে দাঁড় করিয়ে দিলে। তুমিও সেই লাইনে আছে। তুমি সেই লাইনে কোথায় থাকবে বলে তোমার মনে হয় ?
মাঝখানে কোথাও স্বামীজী...
ঠিক তাই! তুমি মাঝখানে কোথাও থাকবে। এমনকি তুমি লাইনের আগে বা পিছনে লোকসংখ্যা গুনতেও পারবে না।
আর লোকেদের নিজের জায়গা হয়ত পরিবর্তন করতে থাকতে হবে কারণ তাদের টাকাকডির পরিমাণ প্রতি মিনিটে বদল হচ্ছে! এখন তোমাকে ঠিক করতে হবে যে তুমি তোমার সামনে লোকেদের লম্বা লাইন দেখে ঈর্ষাকাতর হবে নাকি পিছনের লম্বা লাইন দেখে কতজ্ঞ হবে! এটা তোমারই হাতে।
তুমি ভাল করেই জান যে লাইনে তুমি কোথায় আছ সে সম্বন্ধে কিছুই বলা যায় না, কিন্তু সেই চিন্তা তোমাকে সর্বদাই উত্তেজিত
করে! আমরা এমন একটা ব্যাপারে অস্বস্তিতে থাকি, যার কোন বাস্তবিক অস্তিত্ব নেই! তুলনার একটা পরিষ্কার নকারঘুর অস্তিত্ব আছে।
তোমাদের বোঝাই নকারত্বক (negative) অতিত্ব কি জিনিষ। আমার পাশে এই ঘন্টাটিকে দেখ। যদি আমি এই ঘন্টাটি সরাতে চাই, আমি তাকে নিয়ে ঘরের বাইরে রেখে আসব এবং তা এখানে আর থাকবে না, ঠিক কিনা? এই ঘন্টার একটি সকারতার প্রকাশ করেছেন বিশ্বাস করে পারে। এই স্বাম্ অস্থিত আছে তাই আমার পক্ষে এই কাজটি করা সম্ভব। এখন ধর, আমরা বলি যে এই ঘরে অন্ধকার আছে। তোমার পক্ষে কি সেই অন্ধকারকে বাইরে রেখে দিয়ে আসা সম্ভব? না।
কিন্তু আমি যদি এই ঘরে আলো নিয়ে আসি, অন্ধকার নিজে নিজে অদৃশ্য হয়ে যাবে, ঠিক? তার কারণ অন্ধকারের কোন সকারত্বক অস্তিত্ব নেই; সেটার অস্তিত্ব নকারত্বক অস্তিত্ব আছে, আমরা তাকে ঘন্টার মত সরাসরি সরিয়ে ফেলতে পারি না।
একইভাবে, তুলনার কোন সকারত অস্তিত্ব নেই এবং তা আছে কেবল আমাদের মনেতে। কোন বিশেষ চিন্তা মনে চর্চা করলে তুলনা ঘটে। যেহেতু তুলনা বাস্তবে বিদ্যমান নেই, তুমি কেবল তাকে চলে যেতে বললে সে যায় না। তার সম্বন্ধে জান আহরণ করে তুমি তাকে পরাভৃত করতে পার, যেভাবে আলো নিয়ে এসে অন্ধকারকে দুর কর।
সংস্কৃতে মায়া শব্দটি বাংলাতেও ব্যবহার করা হয়। ইংরাজীতে তাকে ইলিউশন (illusion) বলা যায়। আমরা বলি 'য মা ইতি মায়া', অর্থ, 'যার অস্তিত্ব নেই তাই হ'ল মায়া'! याव वर्णिक तरे, किलु या वरिष्ठाल करन! सायाव बजेर मुक्त।
তুলনা মায়ামাত্ৰ।
বাসনা ধার করা বন্ধ কর
যখন আমি লোকেদের টাকাকড়ির পরিমাপে মানুষের এই লাইন সম্বন্ধে বলি, তারা আমায় বলে, 'স্বামীজী, লাইনের কোন দিকে না তাকালেই ভালা' আমি তাদের জিজ্ঞাসা করি, 'কেন? তুমি তাকাতে ভয় পাবে কেন?' তুমি তাকাতে চাইছ না মানে তুমি নিজের মনের কাছ থেকে পালিয়ে যাচ্ছ। যদি তাকাতে পার, কিন্তু যা দেখছ তাতে প্রভাবিত না হও - তাহলে তুমি সঠিক পথ পেয়ে গেছ।
তোমার যা আছে ও যা অপরের আছে - যখন তুমি সবকিছুর দিকে তাকাতে পার এবং সর্বদাই পরিপূর্ণতা বোধ কর, তাহলে তুমি ঠিক আছ।
আমি ইচ্ছা করেই 'সন্তুষ্টি' শব্দটা ব্যবহার করছি না। লোকেরা প্রায়ই বলে, 'সন্তষ্ট থাকতে শেখ' তুমি কখনও সন্তট থাকা শিখতে পার না। সন্তুষ্টি প্রক্ষুটিত হবে যখন তুমি তুলনা ও ঈর্ষার নকারকার অস্তিত্ব বুঝতে পারবে। সন্তুষ্টি প্রকৃতিত হবে যখন প্রতি মিনিটে তোমার ওপরে যা বর্ষিত হচ্ছে তার জন্য তুমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞতা অনুভব করবে। সন্তুষ্টি বাইরে থেকে চাপানো যায় না।
যখন তুমি বাড়ীতে নিজের মত আছ, তুমি ভাব যে নিজের একটা বাড়ী থাকলেই যথেষ্ট। তুমি এই ভাবনাতে আরাম বোধ কর। তুমি ক্ষণিকের জন্য কতজ্ঞতা ও পূর্ণতা অনুভব কর। কিছুক্ষণ পরে যখন গাড়ি নিয়ে বাড়ীর বাইটে থাম, তখন কি হয়? এটা মার্সেডিস বেঞ্জ তোমার গাড়ির পাশে এসে দাঁড়ায়, আর তোমার মন উল্টো চিন্তা করতে থাকে। মন বলে যে তোমার গাড়িটা অতি সাধারণ। মন বলে যে তোমার নতুন গাড়ি কেনার সময় হয়ে গেছে, মার্সেডিস বেঞ্জ হলেই ভাল।
কয়েক মিনিট আগে তুমি তোমার জিনিষে খুশী ছিলে. কিন্তু এখন কি হ'ল? তুমি একটা নতুন বাসনা তৈরি করে ফেললে, একটা 'ধার করা বাসনা।' পরিষ্কার করে বোঝা যে এটা তোমার নিজের বাসনা নয়। এটা যার মাসেন্ডিস বেঞ্জ - তার বাসনা। এইভাবে তুমি তুলনা ও ঈর্ষার দরুণ অন্যের বাসনাকে নিজের মনে নিয়ে এসে কাজ কর।
আরেকটা উদাহরণ নাও : তুমি হয়ত তোমার ঘরে রেফ্রিজারেটারের প্রয়োজন কখনই মনে কর নি , কিন্তু তোমার প্রতিবেশী ফ্রিজ কিনলে, তুমি সাথে সাথে ভাব যে ফ্রিজ ছাড়া থাকা যায় না ! সঙ্গে সঙ্গে তুমি তোমার ফ্রিজ কেনার সমস্ত কারণগুলি আবিষ্কার করে ফেলবে। তখন পর্যন্ত তুমি ফ্রিজ ছাড়া আরামেই ছিলে। কিছুই পরিবর্তন হয় নি, কিন্তু কি হ'ল? তোমার মন তুলনা করতে শুরু করেছে।
ধার করা বাসনা মনে এত সুস্মভাবে ঘটে যে তারা অবিশ্রাম ঘটা সত্ত্বেও আমরা বলতে থাকি যে আমরা অপরের দ্বা রা প্রভাবিত নই!
একটা ছোট গল্প :
একটা লোক তার পাড়ায় প্রায় দশ বছর পরে ফিরে এল। সে তার বন্ধুর সাথে পাড়াতে ঘুরতে লাগল ও সেখানে অনেক পরিবর্তন ঘটাতে অবাক হল। সে তার বন্ধুকে বলে , 'সমদ্ধি পুরো পাড়াটাকে বদলে দিয়েছে।' তার বন্ধু বলে, 'সমৃদ্ধির জন্য নয় নয়, কেবল ঈর্ষার জন্য।'
আমরা সর্বদাই অপরকে টেকা দিতে প্রচেষ্টা যখন তুমি ধার করা বাসনা পুরণের জন্য দৌড়াও, তুমি কখনই থাম না, কারণ তুমি যেই সেটা প্রায় পুরণ করছ, আরেকটা ধার করা বাসনা কোথা থেকে এসে যায় এবং তুমি দৌড়াতেই থাক !
তুমি দৌড়াতে থাক কারণ তুমি নিজের মধ্যে কেন্দ্রিত নও, বাইরে কোথাও কেন্দ্রিত। তোমার কেন্দ্র অন্য লোকের ভিতরে। আর তাদের কেন্দ্র অন্য জায়গায়, তাদের নিজেদের ভিতরে নয়! কল্পনা কর, সামদায়িক বিকেন্দ্রিত ও আলোলিত ভাবনা ও আবেগের জন্য তোমাকে কত দৌড়াতে হবে, তোমাকে কত টানাহ্যাঁচড়া করতে হবে! তুমি তো পুতুল হয়ে গেছ।
আমি তোমাদের বলি : প্রতিবার তুমি যখন কিছু চাও, নিজের পাশে বসে পড় এবং ভাব যে তুমি কি সত্যিই তা চাও নাকি অন্য কারো সেটা আছে বলে তুমি সেটা চাইছ। তোমার প্রতিটি বাসনা সামনে এলে , তাকে সততার সাথে বিশ্লেষণ করে দেখ। সমস্ত সুখ্যাতিজনিত সম্মানগুলি (prestige) ফেলে দাও এবং আত্ম-বিশ্লেষণ কর। একা থাকার সময় যদি প্রেস্টিজ সরিয়ে না রাখতে পার, তো মানুষের মধ্যে থাকলে তা সরাবে কিভাবে?
তুমি যদি কেবল নিজের বাসনাগুলি পূরণ করতে থাক, তোমার শান্তিতে মৃত্যু হবে; তা রেলের প্লাটফর্মে হলেও। যদি তুমি সমস্ত জীবন ধার করা বাসনাগুলি নিয়ে বাঁচ, তুমি আসল সম্পূর্ণতা কখনই দেখবে না এবং শ্বেতপাথরের প্রাসাদে থাকলেও অসম্পূর্ণ বাসনাগুলি থেকে মুক্ত না হতে পেরে টানাহ্যাঁচড়ার মধ্যে তোমার মরণকাল লম্বা হবে।
জৈনদের মধ্যে একটা বিশ্বাস আছে যে জন্মের সময় তোমার পুরো জীবনকালে যত খাদ্য ও শক্তি প্রয়োজন তা তোমার সাথে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তার মানে তোমার এই জীবনে যা কিছু প্রকৃত প্রয়োজন , তা পূরণ করার জন্য অস্তিত্ব তোমায় পথিবীতে পাঠাবার আগেই তোমাকে প্রয়োজনীয় শক্তি দিয়ে সজ্জিত করেছে।
কিন্তু সেই শক্তি তুমি যখন ধার করা বাসনা পূরণের জন্য ব্যবহার করতে শুরু কর, তুমি ভাব যে তোমাকে কিছুই দেওয়া হয় নি; কিছুই যথেষ্ট নয়। কিছুই হচ্ছে না বলে তুমি কলান্ত, নিঃশেষিত ও হতাশ বোধ কর।
'আবশ্যকতা' ও 'চাহিদা'-র মধ্যে তফাৎ আছে। তোমার আবশ্যকতার প্রতি যত্ন নাওয়া হয়েছে। তোমার আবশ্যকতাকে তৃপ্ত করা যায়, কিন্তু তোমার চাহিদাকে কখনও মিটানো যায় না কারণ তা সর্বদাই পরিবর্তনশীল।
উদাহরণস্বরূপ : তুমি একটা দোকানে ঘরের জন্য পাখা বা ফ্যান কিনতে গেছ। কিন্তু রাস্তায় কিছু বন্ধুর সাথে দেখা হ ল। তারা বলে যে তারা অন্য দোকানে অন্য কিছু কিনতে যাচ্ছে। সঙ্গে তুমি তাদের সাথে গিয়ে সেই জিনিম কিনতে প্রলুর হও এবং তুমি রাস্তা বদল করে তাদের সাথে গিয়ে সেই জিনিষ্টা কিনে ফেল। তারপর দেখ যে তোমার কাছে ফ্যান কেনার জন্য যথেষ্ট টাকা নেই!
ভারতে কথাও কোথাও বাঁদরখেলা হয় এবং কিছু লোক এই বাঁদরখেলা দেখিয়ে রোজগার করে। তারা একটা লাঠি বহন করে এবং সেই লাঠি দিয়ে ইচ্ছামত বাঁদরকে নিয়ন্ত্রণ করে। লাঠি ঘুরিয়ে তারা চেঁচায়, 'নাচ রাম! নাচ!' আর বাঁদর নাচতে থাকে।
তারপর তারা বলে, 'ঠেলাগাড়ি চালাও রাম! ঠেলাগাড়ি ঠেল!' আর বাঁদর ঠেলাগাড়ি চালায়।
বাঁদর লাঠির সুরে নাচতে থাকবে।
সেইভাবে তুলনা নামক একটা লাঠিকে আমাদের জীবন চালাতে দিই। আমরা তার সুরে নাচি, লাঠির দারা নির্দেশিত হয়ে যে কাজ আমাদের নয় তা করি।
আমরা অবিশ্রাম ইঁদুর-দৌড় বা র্যাট-রেস (rat race) করে যাচ্ছি। র্যাট-রেস মানে সামাজিক প্রতিষ্ঠা লাভ করার জন্য বেগরোয়া প্রতিযোগিতা। আর ইঁদুর-দৌড়ে অংশগ্রহণ করে জিতলেও, তুমি তো ইঁদুরমাত্র।
Section 3
কিন্তু যে করেই হোক জীবনে বিলম্বে কোন একটা সময়ে তুমি বোঝ যে এই ইঁদুর -দৌড়ে সফলতা তোমাকে সম্পূর্ণতার ভাব দেয় না। এমনকি সাফল্যও এক গভীর অসন্তুষ্টির দিকে নিয়ে যায় কারণ, তুমি বহির্জগতে বস্তগত সমস্ত বাসনাগুলি পুরণ করলেও
। ।
। ।
।
।
।
নিশ্চিত সমাধান
আছেই, পরেরটার জন্য দেখা যাক।'
ক্রিয়া, ভোগ, সত্তা (করা, চাওয়া-পাওয়া (ভোগ করা) ও সত্যা)
আমরা সবাই এই তিনটি অক্ষে (আক্সিস) কাজ করি : ক্রিয়া, ভোগ ও সত্তা (doing, having and being)। 'সত্তা'-তে আনন্দ অন্তর না করে, 'ভোগ'-এর জন্য 'ক্রিয়া'-ই আমাদের দুঃখদুর্দশার একমাত্র কারণ। 'ক্রিয়া' কখনও 'ভোগ'-এর নাগাল পায় না। প্রতিবার যখন আমরা কঠিন পরিশ্রম করে কোন বাসনা পুরণ করি, আরও নতুন বাসনা আমাদের দৌড়াতে প্রত্ত করে।
কখনও ভেবো না, 'এখন কাজ করি, পরে আনন্দ করব।' ভেবো না যে তুমি পরে ফিরে আসবে ও আনন্দ করবে ! আমি বলছি যে তা কখনও হবে না। প্রতিটি আগামীকাল আজ-রূপে আসে। প্রতিটি মুহূর্তে 'করা' যেন সত্তাকে ছোঁয়, তবেই তুমি সঠিক পথে আছ।
সজীব থাকা স্থগিত রেখ না। আনন্দ করা জীবনকে উপভোগ কর - এখন অথবা কখনও নয়। আমরা সবাই পরে আনন্দ করতে পারর ভেবে সারা জীবন কাটিয়ে দিই, কিন্তু সবশেষে শাশানে গিয়ে পৌঁছাই। তুমি যখন দৌড়পথে (রেসিং ট্র্যাক) প্রবেশ কর, তুমি আনন্দ করার প্রকৃত সামর্থ্য হারিয়ে ফেল। তুমি আনন্দ করা ভুলে যাও।
বলা হয়, 'অভীষ্টলাভের চেয়ে অনুসরণে বেশি মজা।' সর্বদাই যতক্ষণ তুমি কিছুর পিছনে ধেয়ে যাচ্ছ, মনে হয় তা সারা বিশ্বের মত মূল্যবান, কিন্তু তা পাবার পর, যে ভাবেই হোক তার গুরুত হারিয়ে ফেলো! যদি তুমি নিজের সম্বন্ধে সম্মেলন হও এবং ঠিক কি চাও তা বোঝ এবং তা একা করার চেষ্টা কর, তুমি কখনই নিজেকে এই প্রকার স্বারায়ী ও বিচ্ছিন্ন অবস্থায় দেখবে না।
রামানা মহার্ষি সন্দর বলেছেন :
'অডৈভাদর মুন্ খাড়ুগে অনালুম মলয়াই কাটি অভৈন্ধা পিন্ মলৈয়ে অনালুম কাডুঘাই কাঠুম মায়া মনম'
তার মানে, 'মন হল সেই মায়া যা সর্বেদানাকে না পাওয়া পর্যন্ত তাকে বিশাল পর্বত হিসাবে দেখায় এবং পর্বত্যে প্রথম পর তাকে তুচ্ছ সরযেদানা হিসাবে দেখায়।'
লোকেরা আমায় জিজ্ঞাসা করে, 'স্বামীজী, তুলনা না করলে কিভাবে জানব যে আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে?'
এই পথিবীতে এমন কেউ নিশ্চিত আছে যে তুমি যাই কর না কেন, তোমার চেয়ে সে সেই কাজে ভাল। ৯৯.৯৯% চাঙ্গ যে তুমি বিশ্বের সবচেয়ে ভাল ইঞ্জিনীয়র, দ্রুততম রানার অথবা সবচেয়ে মেধাবী চিত্রশিল্পী নও। তার মানে কি এই যে তুমি এই কাজগুলি কম উপভোগ কর? কেবল যখন তুমি ভাব যে তুমি হয়ত অন্য কারো চেয়ে কম উপভোগ করছ, তখন তুমি কম উপভোগ করা শুরু কর! যে মুহূর্তে 'অন্য কেউ হয়ত তোমার চেয়ে বেশী উপভোগ করছে' চিন্তা আসে. তোমার পরো যাদগন্ধ পরিবর্তিত হয়। তুমি অস্বস্তিকর বোধ কর ও ঈর্ষাপরায়ণ হও।
এটা এরকম : দারিদ্র্য নিজে আমাদের সমস্যায় ফেলে না। 'আমরা দরিদ্র' - এই চিন্তা আমাদের অস্থমিতে ফেলে! আমরা যে রকম আছি তাতে আমরা হয়ত এক শান্তিপূর্ণ জীবন যাপন করছি, কিন্তু যেই 'আমরা গরীব' এই চিন্তা আমাদের ভিতরে ঢোকে, আমরা কষ্ট পাই। আর এই চিন্তা কিভাবে আসে? অন্যদের দেখে ও তুলনা করে। আমরা এরকম ভাবি কারণ এই চিন্তা আমাদের আমিত্বকে সরাসরি আঘাত করে এবং আমরা আমের মত চপসে যাই।
একটা ছোট গল্প :
রাস্তার দুই পাশে দুটি দোকান একই প্রকার জিনিম বিক্রি করত। তাদের মধ্যে সবসময়ে ভীষণ প্রতিযোগিতা। একজন দোকানদার একদিন তার দোকানের বাইরে এক সাইনবোর্ড লাগাল : '১৯২৯ সালে প্রতিষ্ঠিত।' অন্য দোকানদার তা দেখছিল। সে পরদিন তার দোকানের বাইরে সাইনবোর্ড লাগাল : 'সব তাজা মাল। পুরানো জিনিষ নেই।'