Books / Guaranteed Solutions For Lust Fear Worry... Bengali merged

30. মান-সম্মান হারানো ঠিক আছে

# মান-সম্মান হারানো ঠিক আছে

নৈতিকতার মত মান-সম্মানও ভয়ের কারণ হয়। সম্মান, নাম ও যশ, সামাজিক প্রতিষ্ঠা - এগুলি সবই ভয়ের কারণ হয়। এই ভয়গুলি কিছুই নয়, কেবল নিজের আঘাত করার ভয়। কোন সম্মান তুমি রক্ষা করার চেষ্টা করছ ? কেবল অন্তরের পরিপূর্ণতা ও মর্যাদা নিয়ে থাক; তবেই যথেষ্ট। যে মানুষ নিজের সম্মান প্রহরা দেয়, সে ভণ্ড।

এমন মানুষও আছে যারা অবিশ্রাম ভয়ে বাস করছে। তথাকথিত সম্মান তাদেরকে ভীষণভাবে নিয়ন্ত্রি ত করছে।

একটা ছোট গল্প :

একদিন নদীতে একজন মাছ ধরছিল। অনেকক্ষণ কোন মাছ ধরা দিল না এবং সে বসেই আছে। ছিপ হাতে করে সে ঘুমিয়ে পড়ল।

হঠাৎ একটা বড় মাছ ধরা পড়ল এবং ছিপে টান পড়ল। লোকটি জাগার আগেই জলে পড়ে গেল।

একটি বালক দূর থেকে দেখছিল। সে তার বাবাকে জিজ্ঞাসা করল, 'বাবা, লোকটা মাছ ধরছিল, নাকি মাছটি লোক ধরছিল।'

মান-সম্মান বিষয়ে তোমাকে খুব সাবধান হতে হবে। যখন সম্মান তোমার জীবন থেকে বড় হয়ে যায় , তা তোমাকে নিঃশেষ করতে থাকবে।

মান-সম্মান তোমাকে ভাবায় যে তুমি অসাধারণ। সম্মান তোমাকে সমাজে এক দৃঢ় পরিচয় দেয়। যাদের ধনসম্পদ ও সম্মান আছে. তারা সমস্ত রকম অর্থহীন ও অনৈতিক কার্যকলাপ করে ও তা থেকে পার পেয়ে যায়। লোকেরা তাদের পিছনে কথা বলে এবং তাদের ক্ষমতা ও মান-সম্মানকে ভয় করে বলে তাদের মুখোমখি হলে আপ্যায়ন করে।

এই প্রকার সম্মান তারা এত যত সহকারে প্রহ্মণ দিতে চাইছে। বোঝ : তমি এরকম হলে অস্তিত তোমাকে কখনও বেছে নেবে না। বস্তগত জগতে হয়ত তুমি যা চাও পেতে পার, তোমাকে হয়ত সফল দেখাবে, কিন্তু অস্তত্তের চোখে তুমি দরিদ্রই থাকবে। বেছে নেবার ব্যাপারে অস্তিতের নিজের নিয়মাবলী আছে।

বোঝ যে মান-সম্মান, নাম, যশ ও ক্ষমতা সমস্তই তোমার নিজের কল্পনা। তদিই তাদের জীবনদান করে। তমি তাদের সঙ্গি করে ও তাদের হারাবার ভয় তৈরি কর।

তোমার চারিদিকের সবকিছু ও সব মানুষের প্রতি অসীম প্রেম সহকারে বাস কর। যা কিছু বা যে কেউ তোমার কাছে আসে তার জন্য গভীর প্রেম অনুভব কর। এইভাবে বাঁচলে মান-সম্মান নিজে নিজেই তোমার কাছে আসবে। মানুষেরা তোমায় শ্রদ্ধা করবে তোমার গুণের জন্য, পরিমাণের জন্য নয়। আর এই প্রকার সম্মান থাকলে হারাবার ভয় থাকে না। তোমাকে তাকে সর্বদা প্রহরা দিতে হবে না।

নিজের আমিত্বতে আঘাত পাবার ভয়

এমনকি জনসাধারণকে সম্ভাষণ করে ভয়ু একভাবে নিজের সম্মান হারাবার ভয়। যখন তুমি লোকেদের সামনে কথা বলতে ভয় পাও, তুমি আসলে ভয় পাও যে তারা তোমার সম্বন্ধে কি বলবে। তুমি ভয় পাও যে তাদের কোন মন্তব্যে তোমার আমিত্ব কষ্ট পেতে পারে। তাই তোমার মঞ্চ-ভয় (stage fear) হয়। এটা তোমার আমিতকে প্রহরা দেবার এক অতিরাধ প্রয়াস। ভয় আমিতেরই এক প্রকাশ এবং সেটা ভাল করে বোঝা।

তাহলে লোকেরা তোমার কথা সমর্থন না করলে কি হবে? যেই মুহূর্তে অন্যেরা কি বলবে তাতে ভয় পাও, তখন তুমি তো নিজের আমিতকেই প্রহরা দিচ্ছ।

আমিতের কষ্ট পাবার ভয় থেকে অনেকে ধ্যান করতে ভয় পায়। যখন ধ্যান কর, সর্বদাই নিজেকে হারাবার ভয় থাকে - অস্তিত্বের কাছে, তোমাকে পরিবর্তন অস্তিত-শক্তির কাছে। তাই তুমি থেনে যাও। তুমি ধ্যানকে প্রতিরোধ করা। বরঞ্চ আমি যদি তোমাকে কিছু া কৰে। তেওঁ পাৰে পাৰে পাৰে পাৰে। তাতে কোন ভয় থাকবে না।

তোমার আমিত্ব দ্রবীভৃত হয়ে যাবে ভেবে ভীষণ ভয়ে থাকে। যদি তা গলে, সমস্ত লেবেলগুলি যেগুলির সাথে তুমি নিজেকে পরিচয় করাও, তাও গলে যাবে। তুমি 'কেউ না' হয়ে যাবে! তাই তুমি প্রতিরোধ কর এবং নিদেনপক্ষে নিজের কাছে 'কেউ একটা' হয়ে থাক। এই প্রতিরোধ পুরোপুরি আমিতেরই ভয়।

অজানার ভয়

প্রশ্ন : স্বামীজী, আপনি অজানার থেকে ভয়ের কথা বলেছেন? সেই বিষয়ে আরও একটু ব্যাখ্যা করে বলবেন?

উত্তর : হ্যাঁ, আমি সেখানে আসছি।

অজানা থেকে ভয় আর কিছুই নয়, অন্ধকার, ভুত, অশরীরী, ভগবান এবং সবশেষে আমাদের মত্যু থেকে ভয়।

একটা ছোট গল্প :

একটা মানুষ ট্রেনে যাচ্ছিল। টিকিট কালেক্টর তার কাছে এল ও টিকিট দেখতে চাইল। সে উত্তেজিতভাবে টিকিট খুঁজতে লাগল তার ওয়ালেটে, মালপত্রে ও প্যান্টের পকেটে। টিকিট কালেক্টর তাকে লক্ষ্য করছিল ও বলল, 'স্যার, আপনার কোটের পক্ষেটে দেখুন না।' লোকটি উত্তর দিল, 'দয়া করে এখন তাতে দেখতে বলবেন না। আমার একমাত্র আশা যে সেটি ওখানেই আছে।'

আমরা তাকাতে এত ভয়ভীত। আমরা আমাদের ভয়ের দিকে তাকাতে ভয় পাই: সেটাই পুরো সমস্যা। তাই আমরা নিজেদের

আরামদায়ক অঞ্চলে বিভ্রান্ত রাখি এবং চলতে থাকি।

কখনও তাকাতে ভয় পেও না। যেই মুহূর্তে তাকাতে ভয় পাও, তুমি তখন আরও ভয় সুষ্টি করছ কারণ সেটা তোমার কাছে আরও वजना रूय याया।

যখন আমরা অজানা থেকে ভয়ের কথা বলি, অশরীরী ও ভুত থেকে ভয় খুবই স্বাভাবিক। তাদের ভয় পাবার কিছুই নেই। এটা রুঝে নাও যে অশরীরী ও ভুতেরা আমাদের চেয়ে কম বলবান। আমরা তাদের স্বাভাবিক থেকে অনেক বেশী বলপ্রদান করে ফেলি এবং ভয় দ্বারা তাদের আমাদের নিয়ন্ত্রণ করতে দিই। সেখানেই সমস্যার শুরু।

অশরীরী ও ভুতের বিষয়ে বেশী ভেবো না। এতে কোন কাজ হবে না। তুমি যদি ভালভাবে নিজেতে কেন্দ্রিত থাক ও নিজের সম্বন্ধ স্পষ্টতা রাখ, তাহলেই যথেষ্ট। তাহলে কোন কিছুই তোমাকে ছুঁতে পারবে না এবং এসব জিনিষ থেকে তোমার ভীতি উৎপন্ন হবে না।

অন্ধকার থেকে ভয়ও অজানার ভয়। অন্ধকার থেকে ভয় আসলে মৃত্যুভয়। তোমার বাড়ীর বাগানে দিনের বেলা বেড়াবে, কিন্তু সেখানে রাত্রিবেলা যাবে কি? না! তুমি ভয় পাও! কেন? তুমি তোমার বাগানের সীমারেখা ভাল করে জান, তাহলে ভয় কেন? তুমি বাগান থেকে ভয় পাও না, ভয় অন্ধকার থেকে।

তুমি ভাব যে অন্ধকারে তোমার কিছু হতে পারে। আমি সেটাই বোঝাতে চাইছি যে তোমার সমস্ত ভয়ঙলি মৃত্যুতয়ের সাথে সম্পর্কিত। অন্ধকারের ক্ষেত্রে এটা খুব স্পষ্ট, কিন্তু তোমার অন্যান্য ভয়ের বেলায় সেটা সূক্ষ্ম।

আসলে অন্ধকার তো সুন্দর! সেটা তোমার মায়ের গর্ভের মত। যখন তুমি মাতৃগর্ভে ছিলে তুমি সম্পূর্ণ অন্ধকারে ছিলে। কিন্তু পথিবীতে আসার পর তুমি সেই অন্ধকারের সাথে সম্পর্ক হারিয়ে ফেলেছ। তুমি সেটাকে অজানা ভেবে ভয় পাও। তান্ত্রিকেরা অস্তিত্বের নিবিড়তা অনুভব করার জন্য অন্ধকারের ধ্যান করেন।

অন্ধকার থেকে ভয় পাবার দরকার নেই। কেবল একবার যদি অন্ধকারকে গভীর প্রেম সহকারে দেখ, শান্তভাব নিয়ে তাকে মায়ের গর্ভাশয় হিসাবে ভাব, তুমি অন্ধকার থেকে আর ভয় পাবে না।

শিশু অন্ধকার থেকে ভয় পেলে তাকে বোলো না, 'সাহসী হও!' তাকে এটা বললে সে ভয়কে দূর করার জন্য আরও স্নায়বিক চাপে পড়বে। তার অন্ধকারের থেকে ভয় দূর হবে না। তাকে অন্ধকার-ভয়ের মধ্য দিয়ে যেতে দাও। তাকে একটু কাঁপতে দাও। निर्माण का कारक भवीका कवाद कर मुयान भारत। যাবে।

এবার আসি ভগবান থেকে ভয়। ভগবান আমাদের অজানা এবং তাই আমরা তাঁকে ভয় পাই। এটা বোঝ যে অতিত্ব, ব্রহ্মাণ্ড, অস্তিত্ব-শক্তি ও মহাবিশ্বে পরিব্যাপ্ত জীবনীশক্তি - এগুলিকেই আমরা আরেকটা নাম দিয়েছি - ভগবান। এই অস্তিত্ব ও মহাশক্তি কেবল প্রেম করতে জানে। যদি তুমি এটা বেশী করে বোঝা, আপনা আপনি মস্ত ভয় দুর হয়ে যাবে।

ভগবানকে ভয় পাবার প্রয়োজন নেই

লোকেরা আমায় জিজ্ঞাসা করে, 'স্বামীজী, লোকেরা বলে পুণ্য করলে স্বর্গে যাব আর পাগ করলে নরকে যাব। এটা কি সত্যি?'

প্রথমত, বোঝা যে স্বর্গ ও নরক ভৌগলিক স্থান নয়। তোমার মাথার ওপরে কোন স্বর্গ নেই অথবা তোমার পায়ের নীচ্চ কোন নরক নেই। তোমার ভিতরে ভয় ও লোভ ঢুকানোর জন্য কেবল এগুলি বানানো হয়েছে। নরক ও সর্গকে এইভাবে ব্যাখ্যা করা যায় যে একটা হ'ল বিশৃঙ্খল মৃত্যু, অপরটা সচেতন মৃত্যু, ব্যাস।

যে মুহূর্তগুলিতে তুমি ধ্যান করে কাটিয়েছ, সেগুলি পুণ্যের সময়। ধ্যান মানে আমি চোখ বুজে বসে থাকা বলছি না। তার মানে সচেতনভাবে বর্তমানে থাকা, যখন সচেতনতা তোমার সাথে থাকে।

যে মুহূর্তগুলি এই রকম অবস্থায় কাটানো হয় নি সেই সময়গুলি পাপ। সমস্ত সচেতন মুহূর্তগুলি তোমার ব্যাংক ব্যালেঙ্গের মত। মৃত্যুকালে এই অবস্থাগুলি সামনে আসবে ও তোমাকে মুক্ত করবে।

লোকেরা ভাবে মন্দিরে দেবমূর্তিকে পাত্রভর্তি দুধ অর্গণ করলে তাদের পুণ্য বাড়বে এবং সংগঠন । আমি তোমাদের বলি : ভগবানকে দুধ অর্পণ করলে কিছুই হবে না। অস্তিত্বের জন্য পরম কৃতজ্ঞতা অনুভব করলে দেবমূর্তিকে অস্তিত্ব মনে করে সেই কৃতজ্ঞতা তুমি দুধ অর্পণ করতে পার। সেটা একদমই ঠিক আছে। তাকে পুণ্যের সাথে জুড়ো না।

এমনকি বিশুদ্ধ আনন্দ ও কতজ্ঞতার সাথে এক ফোঁটা দুধ অর্পণ করার মুহূর্তটি এক আন্তরিক ধ্যান এবং তা তোমাকে মৃত্যুকালে সাহায্য করবে। অন্যদিকে পুণ্যসঞ্চয়ের সুযোগ হারানোর ভয়ে পাত্রের পর পাত্র ভর্তি দুধ অর্পণ করেও কোন লাভ নেই। তাই দয়া করে তোমার সজাগতা বাড়াও ও সচেতন হয়ে বাঁচ। যাই কর না কেন, প্রতিটি নিয়েষকে এক ধ্যান বানাও। তবেই যথেষ্ট। তাহলে তমি পাপের ভয় ছাড়া বাঁচতে পারবে।

তোমাদের একটা ঘটনা বলি :

আমি সুদর গ্রামে এক শিবমন্দিরে যাই। সেখানে গর্ভগহের প্রবেশদ্বারে একটা টিউবলাইট জলছিল। আলো প্রায় ছিল না কারণ তাতে কালো কালিতে লেখা ছিল, বিষয়নাথন বি এসসি।

আমি অবাক হয়েছিলাম যে ভগবান শিবকে কিভাবে বিষ্ণুনাথ বলা হয়। তারপর তার নীচে ছোট করে লেখা দেখলাম, কেলাসনাথন - যেটা শিবের এক নাম।

আসলে বিষয়নাথন বলে একজন লোক মন্দিরে টিউবলাইট দান করেছিল!

আমাদের জীবনে ভাল কাজ সংগ্রহ করতে শেখানো হয়েছে। তাই আমরা ভাল কাজের ব্যাংক ব্যাল্যাঙ্গ তৈরি করি। আর আমরা তাতেও থাকি না। আমরা ভগবানকে আমাদের ভাল কাজগুলি মনে করিয়ে দিতে থাকি - যাতে ভগবান ভুলে না যান! এমনকি ভগবানের ক্ষেত্রেও আমরা বস্তবাদী হয়ে পড়ি।

Section 2

বোঝ : ভগবান স্বর্গে কোন রিসর্ট বা ভ্রমণ বিনোদনের জায়গা চালাচ্ছেন না, যেখানে তুমি পথিবীতে ভাল কাজ করার জন্য প্রবেশ করতে পারবে। এই রকম মনে করা একটা স্বপ্ন - যেন তুমি স্বপ্নে একটা বাড়ী বাড়ী বানাজিলে -জেগে উঠে দেখলে সেটা এক স্বপ্ন ছিল। কোথায় গেল বাড়ীটা? জেগে ওঠার কি কোন মল্য আছে? না! একইভাবে এই 'ভাল কাজ'-এর ধারণা দিয়ে তমি নিজেকে বিভ্রান্ত করছ।

আমি দেখেছি অনেক লোকেরা ঠিক করে যে তারা একটি বিশেষ দেবতাকে প্রতি সপ্তাহের এক বিশেষ দিনে, ধর শনিবারে, পুজা করবে। একটি শনিবারে তা করতে না পারলে তারা ড্রাইভারের হাতে করে তাদের পুজা পাঠিয়ে দেবে !

তুমি নিজেকে যতটা জান, ভগবান তোমাকে তার চেয়ে বেশী জানেন। তাই তাঁকে ভয় পাওয়ার বা খুশী করার কোন কারণ নেই। এমনকি তোমার বাবা-মায়ের থেকেও তিনি তোমায় বেশী চেনেন। খালি এই জন্মেই তিনি তোমাকে চেনেন তা নয়, তিনি তোমাকে সব জন্ম ধরেই চেনেন। তুমি তাঁর সামনে একটা খোলা খাতা। তিনি যে কোন স ময়ে তার যে কোন পাতা উল্টে দেখতে পারেন।

তাই তোমার ভগবান-ভীতি মুছে ফেল এবং তাঁকে সম্পূর্ণ অভিজু হিসাবে দেখা তাঁকে পরম বন্ধু হিসাবে দেখা সমাজ যতই তোমার মনে ভগবান-ভীতি ঢোকাক, তমি তাতে কান দিয়ো না। তাঁর সাথে তোমার নিজের সম্বন্ধ গড়ে তোল - একটা বলিষ্ঠ ও বিশ্বাসের সম্বন্ধ: একমাত্র যে সম্বন্ধ তোমার জীবনে প্রয়োজন।

যখন তুমি ভগবানের অথবা অস্থিতের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে শুরু কর, তুমি নিজের সাথে আগের তুলনায় অনেক ভাল সম্পর্ক স্থাপন করবে। তুমি জানবে তোমার ভিতরে কি চলছে। তোমার অন্তর্জুদ্ধি বিকশিত হতে থাকবে। তোমার ভয় দূর হবে। কোন জিনিষ থেকে ভয় পাবার আগে তার দিকে সঠিকভাবে তাকাতে শিখবে। কোন কিছু করার জন্য বাধ্যবাধকতা বোধ করবে না। বুদ্ধি ভয়কে প্রতিস্থাপিত করবে। তুমি আরও আরাম ও আনন্দে থাকবে। তুমি মুক্ত অনুভব করবে।

অস্তিত সম্বন্ধে এটা বুঝলে ধর্মের নামে যত যুদ্ধ চলে তা আর থাকবে না। যে মানুষেরা তাদের ধর্মকে ভয় করে, যারা তাদের ধর্মের নামে যুদ্ধ করে, তারা প্রেময় অস্তিত্বক বোঝে নি। তারা পুরো জিনিষ্টাই ধরতে পারে নি। তারা যেন সবাই অন্ধ এবং একে অপরের সাথে লড়াই করে।

আর সবচেয়ে দরকারী হ'ল, দয়া করে তোমার সন্তানদের মধ্যে ভগবান সম্বন্ধে তোমার ধারণা পাস করে দিও না এবং ভগবান-ভয় ঢুকিয়ো না। তাদের ভগবানকে আলিঙ্গন করতে শেখাও যে ভগবান সর্বব্যাপী অস্তিত্ব। তাদের শিক্ষা দাও যে ভগবান বিশুদ্ধ প্রেম ছাড়া আর কিছুই নয়। তাদের ভগবান ও অস্থিতের প্রতি প্রেমভাবনা নিয়ে সমগ্রন্সপে বিকশিত হতে সাহায্য কর।

প্রশ্ন : আমরা প্রায়ই অবাক হই, আমাদের সাথে যা কিছু ঘটছে, তা নিয়তি নাকি আমাদের পছন্দ।

উত্তর : প্রশ্নটা অনেক জায়গায় করা হয়।

তোমার বর্তমান মহুর্ত সমস্ত অতীত সিদ্ধান্তখনির সমগ্রতা। এখন তুমি একদম ভোরে ওঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলে , ঠিক রাস্তা বেছে নিয়েছ, এখানে এসেছ, বসেছ এবং এখনও বলে আছ, ঠিক কিনা?

সেইভাবে, তোমার অতীতের সমস্ত সিদ্ধান্তখলি তোমার বর্তমান তৈরি করে - যেমন এখানে বসে থাকা। তোমার ভবিষ্যৎ তোমার বর্তমানের সমস্ত সিদ্ধান্তখনির উপরে নির্ভর করবে। আমরা যখন অচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নিই এবং তাতে পাওয়া ফলঙ্গলির মধ্যে কিছুকে আশা না করে থাকি, আমরা তাকে অদৃষ্ট বা নিয়তি বলি।

আমরা যখন সচেতন হয়ে সিদ্ধান্ত নিই, আমরা তার পার্শ-প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী-প্রভাব সম্মেল সচেতন থাকি। পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী-প্রভাব সম্বন্ধে সচেতন না থাকলে আমরা তাকে নিয়তি বলি। আসলে জীবন তো আমরা প্ররোপুরি রেছেই নিয়েছি। আমরা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিই: আমাদের জন্য অন্যরা কখনও নেয় না। হতে পারে কিছু প্রধান জিনিষ্ঠ হচ্ছে। কিন্তু তাদেরকেও পরিবর্তন করা যায়। সমস্ত কিছুর জন্য ভাগ্যকে জড়িয়ে ফেলা তো পলায়নবাদ।

ভগবান কত করুণাময় তা দ্যাখ, এটা তাঁর বিশ্ব হলেও, তিনি আমাদের বেছে নিতে দেন! সঠিক সিদ্ধান্ত নেবার একমাত্র পথ হ'ল তোমার প্রতিটি শ্বাসপ্রশ্নাস সম্বন্ধে সচেতন হওয়া যাতে করে তোমার প্রতিটি কাজ ও সিদ্ধান্ত সচেতনতা সহকারে হয় এবং তমি যেন কখনও অবচেতন বা অচেতন অবস্থায় সিদ্ধান্ত না নাও। তাহলে তোমাকে নিয়তি, ভাগ্য এবং অদট - এসবের জন্য চিন্তা করতে হবে না।