Books / Guaranteed Solutions For Lust Fear Worry... Bengali merged

28. প্রতিটি ক্ষণে সজীব হয়ে বাস কর ও এগিয়ে চল!

# প্রতিটি ক্ষণে সজীব হয়ে বাস কর ও এগিয়ে চল!

যদি তুমি গভীরভাবে মত্যুভয়কে বিশ্লেষণ কর, তুমি জানতে পারবে যে লোকেরা মরতে ভয় পায় কারণ অচেতনভাবে তারা মনে করে যে তারা এখন যেখানে আছে তার চেয়ে উচ্চতর স্থানে তাদের অবস্থান করা উচিৎ ছিল। তারা ভাবে যে জীবনে আসল জায়গায় তারা পৌঁছায় নি এবং তাই তারা চলে যেতে প্রস্তুত নয়।

কিছু লোক ভাবে যে অন্যেরা তাদের দিকে খারাপ নজর দিয়েছে এবং তাই তারা উন্নতি করতে পারে নি। সত্যি কথা হল, তুমি নিজের দিকে ঠিকভাবে নজর দাও নি। সেইজন্য তোমার শেষ দিনগুলিতেও তমি চাও মত্য অপেক্ষা করুক।

যদি তোমার বাসনা, ভয় এবং অন্যান্য আবেগখুলিকে সঠিকভাবে বিশ্লেষণ কর ও নিজে বোঝ, তবে তুমি কাউকে কোন কিছুর জন্য দোষ দেবে না।

এইপ্রকার জটিল ভয় ছাড়া যারা জীবন ধারণ করে, তারা মৃত্যুকেও ধারণ করতে পারবে। আমি যেরূপ তোমাদের আগে বলেছি যে মাস্টারদের জীবদ্দশায় বহু গল্প আছে যেখানে তাঁদের মৃত্যুর দিনক্ষণ তাঁরা শিষ্যদের বলে দিয়েছেন এবং তাঁরা সেই সময়েই দেহ ছেড়ে গিয়েছেন।

অনেক শিষ্যরা মাস্টারের মত্য থেকে শিক্ষা নিয়েছে যা তারা মাস্টারের জীবনকালে দেওয়া শিক্ষা থেকে শিখতে ব্যর্থ হয়েছিল। যখন বলছি যে তাঁরা মত্যুকে ধারণ করেছিলেন, তার মানে তাঁরা মত্যুর ভবিষ্যৎযাণী করতে পেরেছিলেন ও সচেতনভাবে মৃত্যুকে বরণ করেছিলেন। তাঁদের ক্ষেত্রে তাঁদের মৃত্যু ছিল আক্ষরিক অর্থে 'দেহ ত্যাগ করা', ব্যাস।

আমরা সবাই আমাদের শরীর অচেতনভাবে ছেড়ে যাই, অনেক কষ্ট পেয়ে - একদিকে অতঃ বাসনার অত্যাচার, অন্যদিকে শরীরের ওপর অত্যাচার - এদের টানাহেঁচড়ার মধ্যে। শরীর বলে যে অনেক হয়েছে এবং সে অনেক সহ্য করেছে। মন ও শরীরের মধ্যে গরমিল আমাদের জীবনকালে যন্ত্রণা দেয়, এমনকি মরণকালেও পীড়া দেয়। জীবনকালে নিজের সীমার ভিতরে, নিজের শরীরের ভিতরে বাস করলে আমরা আমাদের শরীর শান্তিতে ছেড়ে যাব। সমস্যা হ'ল, যখন বেঁচে থাকি, আমরা সর্বদাই শরীরের বাইরে থাকি, কখনও ভিতরে নয়।

আমি এটা তোমাদের রুঝিয়ে দিই। নিজের জীবনধারার দিকে গভীরভাবে কেবল তাকাও। খুব সকালে যখন দাঁত মাজছ , তো কি করছ? তুমি কাজে যাবার কথা চিন্তা করছ। যখন কাজে আছ. তুমি বাস ধরে ঘরে যাবার কথা ভাবছ। যখন ঘরে আছ. তুমি পরের দিনের কাজের কথা চিন্তা করছ! যখন ছুটিতে আছ. অফিসের কথা ভাবছ এবং যখন অফিসে আছ ছুটির কথা ভাবছ।

যেখানেই তোমার শরীর আছে, তুমি নিশ্চিত হতে পার যে সেখানে তোমার মন নেই। তুমি তোমার জীবনের কোন মুহূর্ত সম্পর্কারে বাঁচ নি। তুমি সর্বদা হয় ভবিষ্যতে বাস করেছে। এটাকেই বলে নিজের সীমার ভিতরে না বাঁচা। সেইজন্য মত্যুকালে তুমি এত দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ও অতপ্ত থাক যে চলে যেতে চাও না। তাই তুমি মত্যুকে ভয় পাও।

তুমি প্রশ্ন করতে পার যে সচেতনভাবে মরা সম্পর্কে কেন জানা প্রয়োজন। যখন তুমি মৃত্যু সম্পর্কে জান , কেবল তখন তুমি জীবনকে ঠিকভাবে বুঝে বাঁচতে পারবে। নয়ত, তুমি সঠিকভাবে জীবন ধারণ করবে না।

গড়িমসি করা ছাড়

জীবনে তুমি সবকিছুই স্থগিত রাখা তুমি তোমার খুশী মুলতবি রাখ, তোমার কাজ মলতবি রাখ, সব কিছু আগামীকালের জন্য মুলতবি রাখা তুমি একটা জিনিম বোঝার চেষ্টা করে যে 'আগামীকাল' কেবল 'আজ' হয়েই আসে! যখন তা আজ হয়ে আসে, তুমি আবার তাকে 'আগামীকাল' বল! এই খেলা তুমি নিজের সাথে খেলতে থাক।

সবশেষে যখন মত্য আসে, তুমি কত অপ্রস্তত! তুমি মনে কর কত কিছু করার আছে। তুমি জীবন দ্বারা প্রতারিত হয়েছ বলে মনে কর। সত্য হ'ল, তুমিই তো প্রথম থেকে নিজেকে প্রতারিত করছিল। কিন্তু তুমি সবকিছুর জন্য জীবনকে দেখা যাওয়াও। সেইজন্য তোমার বাঁচার জন্য মত্য সম্পর্কে একটা স্পষ্ট ধারণা চাই। তাহলে কোন বিভ্রান্তি থাকবে না এবং তুমি যে কোন সময়ে মরতে প্রস্তুত থাকবে।

গড়িমসি করা একটা মানসিকতা যার দ্বারা আমরা জীবনকেই হারিয়ে ফেলি। লোকেরা আমায় জিজ্ঞাসা করে, 'স্বামীজী, আপনি এত স্বল্প সময়ে এত কিছু কিভাবে করতে পারেন? আমার পুরো বছরের ক্যালেন্ডার দেখে তারা অবাক হয়। সারা বিশ্বে নানা জিনিম সারা বছর ধরে হবে দেখে তারা খুব বিষ্মিত হয়। আমি তাদের বলি, 'এটা খুবই সোজা - আমি সম্পর্ণরূপে বর্তমানে বাস করি। আমি তোমাদের মত গড়িমসি করি না।'

আমাদের ধ্যান প্রোগ্রামে আমারা লোকেদের একটা নিয়ন্ত্রিত ধ্যানের মধ্য দিয়ে নিয়ে যাই। তাদের ছবির মত মনে করতে হয় যে তারা ২৪ ঘন্টার মধ্যে মারা যাচ্ছে এবং মরার আগে তাদের যা কিছু করার ইচ্ছা তা সম্পর্ণ করতে বলা হয়। এটা একটা সুন্দর ধ্যান-প্রক্রিয়া। তাদের নিজের অন্ত্যেষ্ঠিত্রিয়াও প্রত্যক্ষবৎ স্মরণ করতে বলা হয়।

একবার এই ধ্যানের পর একটি বাচ্চা মেয়ে তার ভাবনা জানাচ্ছিল।

সে বলে, 'স্বামীজী, আমি একটা পোস্টার দেখেছিলাম যাতে লেখা ছিল - যখন তুমি পরিকল্পনা করছ, তোমার ভবিষ্যতের বছরগুলিকে মনে রেখে পরিকল্পনা করে। যখন কার্য সম্পাদন কর তাম নির্বাচন করে তামি পরের মিনিটে মনে যাবে ভেবে কার্য নির্বাহ কর। এই ধ্যান করে আমি তার মানে যথার্থ বঝলাম।'

দ্যাপো. তুমি যখন পরিকল্পনা করে তোমার ভবিষ্যৎসখী পরিকল্পনা চাই. যাতে বেশ কয়েক বছর ধরে বেশী কিছুর জন্য আর নতুন ব্যবস্থা করতে না হয়। কিন্তু যখন কার্য নির্বাহ করে তোমাকে সমস্য খুঁটিনাটি বিষয় মনে রেখে মাস্টার-প্লান থেকে সাব-টাঙ্গ সফলভাবে সবই পঙ্খানপঙ্খরূপে সম্পাদন করতে হবে - কোন ত্রুটি না রেখেই।

তাহলে তোমার মরণকাল পর্যন্ত তুমি যে কার্যসমূহ সম্পাদন করেছ তা সবই নিখুত হবে এবং পরের লোকেদের জন্য মাস্টার -প্লান থেকে যাবে যা থেকে তারা অনসরণ করতে বা দরকারমত সেগুলিকে আরও উন্নত করতে সক্ষম হবে। সেটা সম্ভব হবে . একমাত্র যদি তমি গডিমসি ছাড়া প্রতিটি ছোট ছোট কার্য (সাব-টাস্ক) সম্পাদন করে থাক।

প্রায়শ গড়িমসি তোমাকে দারিদ্র্য প্রদান করে। দারিদ্র্য তোমার নিজের পছন্দ। যখন তুমি সিদ্ধান্ত নিতে দেরী কর্ , তুমি দরিদ্রতার ি করে তার বা পারে আমরা এই ব্যাপারে মহানন্দে অচেতন। তামি ভাব যে ভগবান তোমাকে ঠিক করে দেখে নি এবং তোমার স্বপ্ন সার্থক করার নিষিত তোমার জীবন খুব সংক্ষিপ্ত ছিল। যদি তুমি তোমার সর্বশক্তি ঠিক পথে চালিত করতে , তোমার এরকম ভাবনা আসত না এবং তমি সর্বদাই মত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকতে।

যদি রোজ আয়নায় দেখ এবং নিজেকে বল যে আজ জীবনের শেষ দিন. তুমি তবে গড়িমসি করবে না। তোমাকে সমস্ত জীবন ধরে রোজ এটা বলতে হবে না; এক মাস করলেই চলবে। নিজে থেকেই তুমি গড়িমসি ছাড়া তোমার জীবন ধারণ করতে শুরু করবে। কেবল তাই নয়, তোমার মর্যাদা, লজ্জা, গর্ব ও প্রত্যাশা হারাবার ভয় সবই মিলিয়ে যাবে, কারণ তুমি জেলে গেছ যে তোমার কিছুই হারাবার নেই।

দুর্ঘটনা থেকে অল্পের জন্য বেঁচে যাওয়া, ক্যাম্গার থেকে সেরে ওঠা বা সেরকম কিছু থেকে বেড়িয়ে আসা লোকেদের অনেক সময় 'প্রায়-মৃত্যুর অভিজ্ঞতা' (NDE, near death experience) হয়। এই প্রকার মানুষেরা আরও নির্ভয় হয়ে বাঁচে কারণ তারা জানতে পেরে গেছে যে তাদের হারাবার জন্য কিছুই নেই। তারা তাদের বাকি জীবন আরও বেশী স্পষ্টতা ও বুদ্ধি সহকারে কাটায়।

তোমাকে সমস্ত শিক্ষা থেকে প্রথম পাঠ শেখা দরকার যে সঠিক সময়ে সম্পন্ন করে এগিয়ে চলা উচিৎ। যে করেই হোক, আমরা সবশেষে এই শিক্ষা সম্পর্করে লাভ করি! অন্য সমস্ত শিক্ষার মধ্য দিয়ে যাবার পর আমরা এটা শিখি!

গড়িমসিকে তুমিই নিজের জীবনে নিয়ে আস। কিন্তু সমাজ তোমার ভিতরে অন্যান্য ভয় ঢোকায়। সমাজ তোমাকে ভয় পাইয়ে দেয় নিজের, অপরের ও ভগবানের থেকে। নাম ও আকার, সম্মান প্রভৃতি সাধারণ জিনিষ দিয়ে সমাজ তোমাকে নিজের ওপরেই ভয় পাইয়ে দেয়।

নৈতিকতার নামে সমাজ তোমাকে অতিথি হাসিন করে যা এবং তাই তুমি নৈতিকতা বিষয়ে নিজের সময়ে এত অনিশ্চিত। যখন তুমি ভয়ের দরুণ নৈতিকতাকে মেনে নাও, তোমার ভিতরের বুদ্ধি তোমাকে গাইড করার সুযোগ পাবে না।