26. সম্পর্ণরূপে সজীব থাক
# সম্পর্ণরূপে সজীব থাক
জীবনে সম্পূর্ণ সজীব না থাকাই মানুষের মৃত্যুভয়ের প্রধান কারণ। তারা কারণ তারা বেগরোয়া হয়ে ভাবে যে জীবনকে তারা যথেষ্ট উপভোগ করে নি। তারা এরকম ভাবে কারণ তারা সমস্ত জীবন ধরে অতীত-স্মৃতিতে বা ভবিষ্যতের দুপ্চিন্তায় বা অপরের জন্য বাস করছিল, কখনই বর্তমানে বাস করে নি। আমাদের প্রতিটি ক্রিয়ার কারণ হল পরম্পরের আমিত্ব বা পরস্পরের বাসনা বা পরস্পরের ভাবনা ইত্যাদির মধ্যে টানাহিঁচড়া।
তুমি যদি গভীরভাবে নিজের জীবনকে বিশ্লেষণ কর, আমি কি বলছি তা বুঝতে পারবে। তোমার বাবা-মা যেখানে ছেড়ে গেছে সেখান থেকে তুমি তোমার জীবন শুরু কর। বাসনা, অপরাধবোধ, ভয় ইত্যাদির মুকুট যা কয়েক প্রজন্মের পুরানো, তা তুমি
সহজেই বাবা-মায়ের থেকে নিয়ে পডে ফেল। তুমি কখনই সম্পর্শরূপে সজীব থাকো নি।
সম্পর্করণে সজীব থাকা বলতে আমি কি বোঝাছিল আরও বেশী স্পষ্টতা নিয়ে বাঁচ, ব্যাস। অন্যেরা তোমার ওপরে যা কিছ চাপাবার চেষ্টা করছে, তাদেরকে সেগুলির অর্থ বুঝতে সাহায্য কর। স্পষ্টতার সাথে, তুমি শনাক্ত করতে পারবে যে তোমার নিজের বাসনাগুলি কি. অন্যরা তোমার ওপর কি চাপিয়েছে এবং অন্যের থেকে তুমি কোন বাসনা ধার করেছে। কেবলমাত্র এই প্রথম বাসনাগুলির কোন মানুষের বা কোন সম্পত্তির ক্ষতি ছাড়াই পরণ হওয়া উচিৎ। পরের দুটিকে স্পষ্টতার সাহায্যে ফেলে দেও য়া উচিৎ।
এইভাবে বাঁচলে আর অপর থেকে ধার করা বাসনা পুরণ করতে থাকবে না এবং আর অপরের জীবন যাপন করবে না। তুমি অপরের জীবন না বেঁচে তোমার নিজের জীবন যাপন করবে ও পূর্ণতা অভিজ্ঞতা করবে এবং সময় এলে তুমি মরণের জন্য প্রস্তত থাকবে। তোমার মত্য সম্মেল্ট কোন বিশেষ বিভ্রান্তি ও ভীতি থাকবে না। আমি তোমাকে সার্থপর হতে বলছি না। আমি তোমাকে পুরো ব্যাপারে কেবল একটা স্পষ্টতা নিয়ে আসতে বলছি।
একটা ছোট গল্প :
একবার এক জেন-সাধুকে রাজা মত্যদণ্ড দিলেন। পরের দিন তাঁর সেই দণ্ড পাবার কথা। জেন সাধু শান্ত ও নীরব রইলেন। তাঁর এক শিষ্য এই শান্তরূপ দেখে জিজ্ঞাসা করল, 'আপনি কি বুঝতে পারছেন যে আপনার কাছে বাঁচার জন্য কেবল ২৪ ঘন্টা আছে? আপনি কি ভয়ভীত নন?' জেন সাধু শান্তভাবে উত্তর দিলেন, 'আমি বেঁচেছি এবং তাই আমার মরতে ভয় নেই।'
তিনি বোঝাতে চাইছেন যে তিনি তাঁর জীবনে প্রতিটি ক্ষণ বেঁচেছেন, প্রতিটি নিমেষ বেঁচেছেন। প্রতিটি মহুত তাঁর কাছে ছিল মল্যবান ও প্রিয়! তিনি ভয় কেন পাবেন?
যদি তুমি গভীরভাবে দেখ, আমরা প্রায় সবাই মত্যুকে ভয় পাই না, কিন্তু আমরা জীবনকে যথেষ্টভাবে না বাঁচার জন্য ভয় পাই। আমরা ভয় পাই যে আমরা এক কত্রিম জীবন বেঁচেছি। আমরা এই পুরো ব্যাপারে এক অব্যাখ্যেয় অনুতাপ বোধ করি। আমরা ভাবি আমরা যেভাবে চেয়েছিলাম সেভাবে বাঁচি নি। আমরা সম্পূর্ণতা বোধ করি না এবং সেখান থেকে মত্যু ত্ব হয়।
অপরের জন্য অবিশ্রাম আপোস-মীমাংসা করা, নিজের সাপেক্ষে একটা কত্রিম জীবন যাপন করা, আমাদের জন্য সমাজ ছারা নির্মিত ধাঁচে নিজেকে উপযোগী করা; এই সমস্ত জিনিম অপূর্ণতার দিকে নিয়ে যায়। জীবন থেকে ভয়ই মৃত্যুভয় রূপে প্রতিফলিত হয়।
পুরো সন্তুষ্টি সহকারে তুমি যখন যথাসাধ্য গভীরভাবে বেঁচেছ, তুমি মত্যুকে ভয় পাবে না। ভয় ছাড়া বাঁচ।
যতটা পার গভীরভাবে নিজের ব্যক্তিস্বভাব নিয়ে বাঁচ। পুরো সন্তুষ্টি নিয়ে বাঁচ, তবে মৃত্যুভয়কে হারিয়ে ফেলবে।
কোন ভাবনার বশীভূত না হয়ে তুমি যদি সম্পর্ণভাবে বাঁচ, তুমি যদি তোমার ভাবনাগুলিকে স্পষ্টতা ও সম্পূর্ণতা সহ প্রত্যক্ষ করে বাঁচ, তোমার কখনই নিজের আত্মীয়-পরিজন হারাবার ভয় থাকবে না।