22. মৃত্যু সবচেয়ে মহান শিক্ষক
# মৃত্যু সবচেয়ে মহান শিক্ষক
কঠোপনিষদ উপনিষদের এক ভাগ। তাতে আছে একটি বালকের সাথে যমরাজের কথোপকথন। হিন্দু পুরাণে যম হল মৃত্যুর দেবতা।
वाजनवा नाता वक सूर्यिनित बाजा किला जा रहा रिश्वर नियल्व कवाद वामना आभन वर्त बाजार का बाजार क (विश्वजि९) यज्ब कवल। मतदा विश्वक मामन कवाद रेण्डा जागरल पर याज कवा श्य।
এই যজ্ঞের নিয়ম অনুযায়ী যে সমস্ত মূল্যবান জিনিষে সে অনুরক্ত, তাদের যজ্ঞে আহতি দিতে হবে। একমাত্র তবেই সে সমগ্র বিশ্বের রাজা হতে পারবে।
রাজারা সর্বদাই ভাল ব্যবসায়ী হয়। তাদের তা হতে হবে, নয়ত তারা রাজা হতে পারবে না এবং তাদের বিশাল ধনসম্পদ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। তারা দেখে যে কত কম দিয়ে কত বেশী নিয়ে নাওয়া যায়।
রাজা দান করতে লাগলেন, যেমন বেশী বয়সের গরু, যারা আর দুধ দেয় না ও অনেক বাছুরের জন্ম দিয়ে ফেলেছে এবং মরবার জন্য তৈরি। রাজা এরকম সব মল্যহীন জিনিষ দান করতে থাকলেন।
তার সাত বছরের পুত্র নচিকেতা এইসব দেখছিল। নচিকেতা এই গল্পের নায়ক। সে জানত তার পিতা ঠিক কাজ করছে না, কিন্তু ব্যবহৃত পারছিল না পিতাকে কিভাবে বলা যায়।
দ্যাখো, শিশুরা খব তীক্ষ্মধী ও বদ্ধিমান। তাদের বোকা বানানো যায় না। সমাজ তাদের বিকত ও নিয়ন্ত্রণ করা শুরু করে নি। সে তার পিতাকে মনোযোগ দিয়ে দেখছিল। অবশেষে সে তার কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করে, 'পিতা, আপনাকে বেশী মূল্যবান সমস্ত জিনিষগুলি দান করতে হবে। আমিও তো আপনার এক বহুমুল্য স্বত্ব। আপনি আমাকে কাকে দান করছেন?'
রাজা বুঝতে পারল যে তার কাজের জন্য ছেলে তাকে খোঁচা দিচ্ছে। কিন্তু নিজের আমিত তাকে টলাতে পারল না। সে আজেবাজে দান করেই যেতে থাকল।
আরও একবার, বালক পিতাকে একই প্রশ্ন করে ও রাজা নিরুত্তর থাকে।
ততীয়বার সে পিতাকে ঝাঁকিয়ে জিজ্ঞাসা করে যে পিতা তাকে কাকে দান করছে।
রাজা এবার রেগে গেল ও বলে ফেলল, 'আমি তোমাকে যমরাজকে দিলাম। তমি যুমের কাছে যাও।'
সাধারণ বালক হ'লে বলত, 'আমি কেন যাব? তুমি তোমার পুরো জীবন উপভোগ করে নিয়েছ, তুমি যাও!'
কিন্তু নচিকেতা খুবই আন্তরিক ও দায়িত্বশীলতা ও সততা তার ওপরে যেন ভুতর যেন ভুতের মত ভর করেছিল। তার পিতার কথার সম্মান রাখার জন্য সে যমরাজের কাছে যাওয়া ঠিক করল।
মনে রেখ যে নচিকেতা হল প্রথম ও শেষ মানুষ যে পথিবী থেকে গিয়ে যমরাজের সাথে দেখা করেছে। সাধারণত যম মানুষের সাথে দেখা করতে আসে, কিন্তু প্রথমবার এমন হল যে একজন যমের সাথে দেখা করতে গেল।
সে যমের রাজ্যে গেল. কিন্তু যম সেখানে তখন ছিলেন না! তিনি বাইরে গিয়েছিলেন। নচিকেতা তিন দিন অপেক্ষা করল।
এখানে একটা জিনিষ বোঝ : গল্পের এই জায়গায় একটা বড় সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। যখন আমরা মত্যুর সন্ধানে যাই অথবা আমাদের মৃত্যুর মুখোমুখি হবার সাহস থাকে, মৃত্যু সেখানে আমাদের জ্ঞান-মাফিক থাকবে না!
যাই হোক, যমরাজ তিন দিন পরে ফিরে এলেন। তাঁর লোকেরা তাঁকে বলল যে একটা ছোট ছেলে তার জন্য অপেক্ষা করছে। যম নচিকেতাকে দেখার জন্য দৌড়ে গেলেন। তিনি নচিকেতাকে সময়ে অভ্যর্থনা না করতে পারার জন্য ক্ষমা চাইলেন। তিনি আরও বললেন, 'তোমাকে তিন দিন অপেক্ষা করাবার জন্য আমি তোমাকে যে কোন তিনটি বর দিতে রাজী আছি।'
নচিকেতার জন্য মৃত্যু হয়ে গেল এক ভগবান, যে তাকে বরপ্রদান করে!
নচিকেতা তিনটি বর চায়।
প্রথমটি হল, 'আমার পিতা যেন আর কুদ্ধ না হন। আমি ফিরলে তিনি যেন আমাকে চিনতে পারেন ও আমাকে প্রেমপুরক গ্রহণ করেন।' নচিকেতা পিতার প্রেমের জন্য এই বর চেয়েছিল যাতে পুত্রকে যমরাজের কাছে পাঠিয়ে তার পিতা কোনরূপ কষ্টভোগ না করেন।
যম সেই বর দিলেন।
দ্বিতীয় বরটি হল, 'আমি অগ্নিহোত্র-বিধি শিখতে চাই যার দ্বারা মর্ত্যের মানুষ হয়েও নরক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়ে স্বর্গে অবস্থান করতে পারি যেখানে মত্যু নেই, দুঃখ নাই।'
যম তথাস্ত বলে নচিকেতাকে অগ্নি আহুতির মধ্য দিয়ে নিয়ে গেলেন ও সেই অগ্নির নাম রাখলেন নচিকেতা অগ্নি। এই অগ্নি কারোর চেতনাকে স্বর্গীয়সুখের অভিজ্ঞতায় উন্নীত করে।
তৃতীয় বরের জন্য নচিকেতা বলে, 'আমাকে অস্তিত্বের ও জীবন-মত্যুর সত্যতার শিক্ষা প্রদান করুন। আমি মত্যুর পরে
বিদ্যমান থাকি কি না? দয়া করে আমাকে বলুন!'
যম নচিকেতার প্রশ্নে বিকম্পিত হলেন।
তিনি বললেন, 'দয়া করে আমায় এ প্রশ্ন কোরো না। তুমি মত্যুর রহস্য জিজ্ঞাসা করছ যা আমি তোমাকে বলতে পারি না। যদি চাও, তোমাকে অটেল ধনদৌলত দেব, কিন্তু এই প্রশ্ন কোরো না।'
কিন্তু নচিকেতা নাছোড।
ে বলে, 'আমি যদি আপনার কাছ থেকে ধনসম্পদ নিই, আমি তো খালি তার ট্রাস্টি হয়ে একশ থেকে এক হাজার বছর পর্যন্ত বাঁচব, ব্যাস। তাহলেও তো আমার সময় ফুরিয়ে গেলে আমাকে আপনার রাজ্যে আসতে হবে ! তাহলে সেই ধন আমার কি কাজের? তাই অনুগ্রহ করে বরঞ্চ আমাকে মত্যুর রহস্য বলুন।'
সত্য জানার প্রতি বালকের পরিপক্ষতা ও অঙ্গীকারকে যম দেখলেন। তিনি ঠিক করলেন নচিকেতাকে সত্য জানাবেন। যে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তিনি বালককে নিয়ে গেলেন সেটা বালকের আত্মার অভিজ্ঞতা হয়ে গেল এবং নচিকেতা প্রস্ফটিত হলেন এবং জীবনমুক্তি লাভ করলেন।
এটি উপনিষদের এক সুন্দর কাহিনী। বিশ্লেষণ করতে যেও না যে ঘটনাটি সত্য কিনা। ইতি হাস থেকে এর তারিখ ও সময় খুঁজতে যেও না। গল্পটি সত্যকে বহন করে, সেটাই যথেট। সত্যে পৌঁছুবার জন্য এটাকে কেবল সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে থেকো না, তাহলে সত্যকে পাবে না।
একজন সাধারণ মানুষের যমের সাথে সাক্ষাৎ এবং নচিকেতার যমের সাথে সাক্ষাতে কি পার্থ ক্য?
যমের সাথে সাধারণ মানুষের দেখা হলে, যম মানুষটির অনুমোদন ছাড়াই তাকে তার পরিবার থেকে সরিয়ে ফেলেন। যম তার সমস্ত সুখ কেড়ে নেন। সবশেষে যম তার জীবনকেও নিয়ে নেন। তার পরিবার, সুখ ও জীবন, এসব প্রিয় জিনিষ, যম তার সম্মতি না নিয়েই হঠাৎ করে নিয়ে নেন। আবার একজন সাধারণ মানুষ মনের কাছে কখনই যায় না। অবাঞ্ছিত অতিথি হয়ে যমই তার কাছে আসেন। কিন্তু নচিকেতা যমের কাছে গিয়েছিল এবং যম প্রথম বরে তার পরিবার ফিরিয়ে দেন। দ্বিতীয় বরে যম তাকে স্বর্গীয়সুখের অভিজ্ঞতা দেন এবং সবশেষে তৃতীয় বরে যম তাকে জীবনমুক্তি দেন।
এই গল্প থেকে চারটি জিনিষ শেখার আছে। যখন আমরা মতুরে খেঁজে যাই, যখন আমরা মতু্যুর মুখোমুখি দাঁড়াই, মৃত্যু সেখানে আমাদের ভাবনা অনুযায়ী থাকবে না। নচিকেতার আগমনকালে যমের যমরাজ্যে অনুপস্থিত থাকা এতে প্রতীকায়িত হয়েছে। দ্বিতীয়ত, মুত্যু থাকলেও আমাদের ভাবনামত সে ভয়ঙ্কর নয়; সে প্রেমপূর্ণ ও দাতা। সেটা দেখা যায় যম কিভাবে নাচকেতাকে অভ্যর্থনা করেন ও তার সাথে বার্তালাপ করেন। ততীয়ত, মৃত্যু আমাদের সর্বকালের সবচেয়ে মহান শিক্ষক। তাই যম নচিকেতাকে অনেক শিক্ষাদান করেছিলেন। সবশেষে, মৃত্যু আমাদের চূড়ান্ত উপহার দিতে পারে - জীবনমুক্তি - যা যম দিয়েছিলেন।
বেশীরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে জীবন মত্যুভয়কে ছাড়িয়ে যায় না। আমরা বাসনা ও ভয়ের মাঝখানে বাঁচি ও মরি। আমরা অন্য কোন প্রকার জীবনধারণ জানি না। অথবা অন্যরকম জীবন অনুসরণ করার সাহস আমাদের নেই।
আগেকার দিনে মানুষ জীবনের নিরাপত্তা ছাড়াই বাস করত ; আজ জীবন অনেক নিরাপদ। মারাত্মক রোগের বিরুদ্ধে কোন টিকা া কৰিছিল। তেওঁ পাৰে পাৰে পাৰে পাৰে পাৰে। তেওঁ পাৰে পাৰে প্ৰথম কৰিছিল। তেওঁ প্ৰথম কৰিছিল। তেও জুর্ভিক্ষ ও বন্যা থেকে কোন নিরাপতা ছিল না। তাই লোকেরা সর্বদাই মানসিকভাবে সংগ্রাম করার জন্য প্রস্তত ছিল, এমনকি মত্যুর জন্যও। বিশেষ করে যোদ্ধবর্গ যে কোন সময়ে মরবার জন্য সদা-প্রস্তত থাকত।