21. (সময় : ৩০ মিনিট। খালি পেটে করা উচিত)
# (সময় : ৩০ মিনিট। খালি পেটে করা উচিত)
দুঃখহুরণ খ্যান কুলার্ণির তন্ত্র থেকে নাওয়া হয়েছে। এটা তোমার ভিতরে সমস্ত দমিত ভাব বার করে আনবে। অনেক মাস্টার এই প্রক্রিয়া শিখিয়েছেন। এটা পুরো ৩০ মিনিট সময় নেয়।
শ্বাসপ্রশ্ন মহাবিশ্বের সেতু। এই প্রণালীতে তুমি মন নিয়ে বেঁচে আছ। যদি তোমার শ্বাসপ্রশ্নাস আরামে হবে। যদি তোমার চিন্তা উত্তেজিত হয়, তোমার শাসপ্রশ্নাসও উত্তেজিত হবে। মনকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য তোমাকে প্রথমে শ্বাসপ্রশ্নাসকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
এখন, আমাদের দমিত অবস্থায়, আমাদের প্রায় সবাই অর্ধ-জীবিত বা অর্থ-মত। এই ধ্যানের প্রথমে গভীর শাসপ্রশাস নাওয়া হয় এবং তাতে তোমার অবদমিত মনে এক মন্থন হয়। গহীত বর্ধিত অক্সিজেন দ্বারা তোমার মানসিক প্রণালীকে পুরোপুরি জীবন্ত করা হয়; তা অনেক প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। তোমার কোষণালী বা কালে এবং বেশী জৈবতড়িৎ বা জৈনশক্তি সা ক্ষিপ্ত করবে। এই শক্তি সমস্ত অবদমিত ভাবনাকে বরফ গলানোর মত গলিয়ে ফেলবে। এটা মূলাধার চক্রে হাওয়া দিয়ে তাকে উল্কে দেবার মত - যেভাবে কামার তার উনানে হাওয়া দিয়ে আগুন উদ্ধে দেয়।
এটা তুমি খালি পেটে করবে, সকালে করা শ্রেয়। একুশ দিন ধরে দুঃখহরণ করলে তোমার সত্তা রূপান্তরিত হবে ও তোমার মুখে ও শরীরে এক জ্যোতি প্রকাশ পাবে। এটা যেন একটা মানসিক স্নান। তুমি তোমার ভিতরে নীরবতার অভিজ্ঞতা লাভ করবে। যখন তুমি দুঃখকে হরণ বা হত্যা কর, আনন্দ তোমার ভিতরে প্রক্ষুটিত হবে এবং তোমার থেকে এক সুগন্ধ আসবে।
চোখ বন্ধ করে দাঁড়াও। গভীরভাবে ও ছন্দের সাথে শরীরের গভীর থেকে শাসপ্রশ্নাস নাও। মুখ বন্ধ রেখে কেবল নাক দিয়ে শ্বাসপ্রশ্নাস নাও। হাঁটু ভাঙ্গো এবং অর্ধেক বসার অবস্থিতিতে যাও এবং তারপর উঠে পড়। তুমি যেন একটা উড়ন্ত পাখী, ওপরে ও নীচে, হাঁটু ওপরে ও নীচে, বাহুদ্বয় ওপরে ও নীচে, সবই একটা ছন্দে, শাসপ্রশ্নাসের সাথে মিলিয়ে।
গতি আলতোভাবে রাখ। শ্বাস ভিতরে নেবার সময় উপরে ওঠ এবং শাস ছাড়ার সময় নীচের দিকে যাও। হার্টের সমস্যা থাকলে. যতটা পার ততটাই কর। একইভাবে গর্ভবতী মহিলারা ও অন্যান্য শারীরিক রোগগ্রস্ত ব্যক্তিরা যতটা পার কর।
এটা ১০ মিনিট ধরে কর।
পরের দশ মিনিট চোখ বন্ধ রাখ এবং শরীরের প্রতিটি অঙ্গ টানটান কর বা সংকচিত কর. তারপর তাকে আরাম করতে দাও: একটা অঙ্গ টানটান কর ও আরাম কর এবং তারপর পরের অঙ্গে যাও। পায়ের নীচের থাকে শুরু কর, তারপর পা, কাফ-মাসল, থাই বা উরু, পাছা, তারপর পেট, নীচের পষ্ঠদেশ: তারপর ছাতি ও ওপরের পিঠ: তারপর তোমার হাত, আঙ্গলের ডগা থেকে কাঁধ পর্যন্ত: তারপর ঘাড় ও কাঁধ: পরে মুখমণ্ডল এবং সবশেষে মাথার ওপরে। পরের অঙ্গে যাবার আগে প্রতিটি অঙ্গকে আরাম দিয়ে নেবে। তোমার শরীরের প্রতিটি অঙ্গের এটা যেন একটা সমমাপের (isometric) অনুশীলন।
এই দশ মিনিটের শেষে তুমি ভিতরে শন্য হয়ে পড়বে। তমি ঠাণ্ডা, শান্ত হবে।
পরের দশ মিনিট চোখে বন্ধ রেখে বসে পর এবং 'হ'-কার স্তব করা কেবল 'হ' শব্দ। এটাকে গভীরভাবে এবং সজোরে করার দরকার নেই। খালি আরাম করে স্তব করা যখন স্তব করছ, তোমার সত্তার ভিতরে ও বাইরে কি হচ্ছে প্রত্যক্ষ কর।
এই প্রক্রিয়ার প্রথম দুটি ভাগ আসলে ততীয় ভাগের জন্য প্রস্তুতিকরণ। ততীয় ভাগটি আসল ধ্যান। ততীয়ভাগে দেখবে মন বিনা প্রচেষ্টায় নিজে নিজেই নীরব হয়ে যায়। নীরবতা তোমার ওপরে চাপানো যায় না: তা কেবল নিজে থেকে ঘটতে পারে।
এই অবস্থায় হাসিমুখে ও আনন্দের মেজাজে আরাম করে বসে থাকা এই সময় অনেক অভিজ্ঞতা হতে পারে, তাদের খালি টেলিভিশন দেখার মত লক্ষ্য করা চিন্তা থেকে চিন্তায় তোমার মনকে প্রত্যক্ষ কর। এই ধ্যানের কোন সময়েই মলাধারের দিকে মন দিও না, তাহলে অলীক-কল্পনা শুরু হবে। প্রকৃতপক্ষে তৃণি তো এই অলীক-কল্পনাগুলিকেই সরিয়ে ফেলতে চাইছে।
দশ মিনিট পরে খব আস্তে আস্তে চোখ খোল। এই শক্তি ও নীরবতা নিজের সাথে রাখা।
ধন্যবাদ।




মরা মৃত্যুকে কেন বুঝতে চাইব?
আমাদের সমস্ত ভয়ের আসল কারণ হল মৃত্যুভয়, কিন্তু সমস্ত ভয়গুলি নানা ছদ্মবেশে থাকে। প্রতিটি ভীতি মুত্যুভয়ের সাথে সংযুক্ত, কিন্তু পরোক্ষভাবে। যেহেতু তা পরোক্ষভাবে, আমরা তাদের মৃত্যুভয় বলে দেখি না।
'मुजू' मब्बिव य वर्थन्न माथ वासना अज़िया आणि, जय विना वर्श्वशैन रूट्य याया।
তাহলে মৃত্যু কি?
তোমরা আমাকে বলবে, 'আমাদের জীবনের শেষে যে খটনা ঘটে, তা হল মত্যু।' মৃত্যু যদি এর চেয়ে বেশি কিছু না হ'ত, তো ব্যাপারটা অনেক সরল ছিল!
কিন্তু মৃত্যু আমাদের জীবনের শেষে হয় না। এটা আমাদের জীবনে প্রতিটি মুহূর্তে ঘটছে। আমাদের প্রতিটি কাজ অচেতনভাবে আমাদের মৃত্যুর সাথে সম্বন্ধ রাখে, মৃত্যুভয়ের সাথে সম্পর্ক রাখে। মৃত্যু আমাদের জীবনের গুণগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে দেয়। এটা সমাপ্তি নয়; এটা আমাদের জীবনের চরম পরিণতি - যার দিকে আমাদের সমস্ত জীবন মুখ করে আছে।
আমি কেন এটা বললাম? কারণ আমাদের সমস্ত জীবন মৃত্যুর ধারণা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এমনকি আমাদের সামাজিক গঠনও মৃত্যুর ধারণা দ্বারা নির্দেশিত। আসলে সব মহান ধর্ম ও বিশ্ব-দর্শন একটা প্রশ্ন থেকে উঠে এসেছে, 'মরণের পর কি হয়?'
এই একটা প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে নানা জীবন-সমাধানের সৃষ্টি হয়েছে।
যে সংস্কৃতি পুনর্জন্মের ধারণা ছাড়া একটিমাত্র জীবনে বিশ্বাস করেছে, তারা জীবনে খুব উন্নতি করার দিকে তাদের সমস্ত শক্তি ঢেলে দিয়েছে। তথ্য সংগ্রহ করা, জ্ঞানলাভ করা এবং বস্তুগত আরামে তারা অতি উন্নত হয়েছে।
এই সংস্কৃতি বিজ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল। বিজ্ঞান আমাদের জীবনকে আরামদায়ক করে তোলে।
যে সব সংস্কৃতি পুনর্জন্মে বিশ্বাস রাখে, তারা তাদের জীবনকে অন্তর্ভুক্ত তাদের অন্বেশ অন্য প্রকার। তারা জীবন তাড়াহুড়ো করে বাঁচতে চায় না, কারণ তারা অসীমতা স্বীকার করে নিয়েছে।
তুমি মানুষের ব্যবহারে তা দেখতে পাবে। ভারতে যদি কোন প্রোগ্রাম ছ টার সময় হবার কথা, তুমি নিশ্চিন্ত থাকতে পার যে তা সাড়ে সাতটার আগে শুরু হবে না, কারণ এখানকার লোকেদের সামনে অনন্তকাল আছে।
আমাদের সম্পূর্ণ মানসিক কাঠামো, জীবনের ধারা, আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের ধর্ম - সবকিছুই আমাদের মত্যুর ধারণার ওপর ভিত্তি করা। আমরা যথাসম্ভব চেষ্টা করি মৃত্যু সম্বন্ধে না ভাবা , কিন্তু মৃত্যু আমাদের জীবনে প্রতিটি মুহূর্তে পরিব্যাপ্ত হয়ে আছে!
মতুর পভীরতা, গুপ্ত কথা ও রহস্য যখন জানতে পারি, আমরা জীবনের রহস্য জানতে পারব। আমাদের মৃত্যুকে সমাধান করতে হবে এবং তাকে 'অন্য রূপে এক নিছক অবিচ্ছিন্নতা' হিসাবে দেখতে হবে। নয়ত আমরা জীবনকেই হারিয়ে ফেলব।
যদি আমরা বুঝি যে মৃত্যু হল অন্যরূপে অবিরাম চলমানতা, আমাদের মৃত্যুভয় থাকবে না। আর যখন আমরা মৃত্যুকে ভয় করা বন্ধ করব, আমরা তখন জানব যে জীবনকে আমরা কতটা হারাচ্ছিলাম।
আমরা জীবনকে মেনে নিয়ে এত অপভীরভাবে বাস করি যে আমরা জীবনের অনেক অভিমুখ হারিয়ে ফেলি। মৃত্যু সহজেই আমাদের জীবনকে আরও সচেতনভাবে দেখতে শেখায়। মৃত্যু সর্বকালের সবচেয়ে মহান গুরু।
কোন বিষয়ে দুর্ প্রত্যয় আমরা দুভাবে নিয়ে আসতে পারি : আমরা নিজেরা পরীক্ষা করে সত্যকে যাচাই করতে পারি অথবা যিনি সত্যকে অভিজ্ঞতা করেছেন তাঁর কথা মেনে নিতে পারি। আমরা এখন প্রাচীন ভারতের বৈদিক গ্রন্থ উপনিষদের এক কথা শুনব।