1. Upanishads - Akashic Records About Upanishads Revealed By Nithyananda Paramahamsa
এই অভিব্যক্তিকে বলা হবে অদ্বৈতজীবন সিরিজ। আমি ব্যাখ্যা করতে যাছি না, আমি কেবল ঋষিদের মধ্যে ঠিক যেমন কথোপকথন হয়েছিল তা শ্রবণ করে তোমাদের উপহার দিতে যাচ্ছি!
র্ড পূর্ণমদঃ পূর্ণমিদম্ পূর্ণাত্ পূর্ণমুদচ্যতে । পূর্ণস্য পূর্বমাদায় পূর্ণমেবাবশিষ্যতে ।। ।। ওঁ শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ ।।
উপনিষদসমূহ : সম্পূর্ণ পূর্ণতত্ত্বের আদি উৎস অদ্বৈতজীবন অর্থ উপলব্ধি করা যে তুমি পূর্ণ, পূর্ণের সাথে এক, তুমি ভগ্ন, বিচ্ছিন্ন বা খণ্ডিত অংশ নও। সম্পূর্ণ পূর্ণত্ত্বের সেই উপলব্ধি, এমনকি অতীতের সাথেও, কেবল উপনিষদই প্রদান করতে পারে।
ভগ্ন, বিছিন্ন ও খণ্ডিত অর্থ বরাবরের মত আলাদা হয়ে যাওয়া, ভিতরে বিভত হওয়া ও অন্তরীণ পুলিশুর নও, আবার পূর্ণ থেকে কোন খাতিত অংশেও প্রবেশ করে নি। পূর্ণ হয়েই আছে। এমন নয় যে তুমি এখন পূর্ণ পূর্ণিত অভিজ্ঞতা করবে। যখন তুমি উপলব্ধি করে। যখন তুমি উপলব্ধি করে যে তোমার অতীতেও তুমি সৰ্বদা সম্পূৰ্ণ পূৰ্ণ ছিলে, তখন পূৰ্ণতা হ'ল সম্পূৰ্ণ পূৰ্ণতা।
যখন তুমি বোঝ যে অতীতেও তুমি পূর্ণ ছিলে, তখন পূর্ণ হয়। যখন তোমার অতীতের অপূর্ণতা কেল অর্থহীন ও অপ্রান্তিতে অপূরণেই আসে না ও বোধগম্যও হয় না, তখন তুমি অদ্বৈত জীবন যাপন করছ।
যে মানুষ বলে, 'ভবিঘ্নতে আমি পূর্ণ হয়,' সে যোগী। যে মানুষ পর্ণ,' সে তান্ত্রিক। যে মানুষ হনসম করেছে, 'কেবল ভবিষ্যৎ ও বর্তমানেই নয়, অতীতেও আমি সম্পূর্ণ পূর্ণ ছিলাম,' সে অদ্বৈতী।
घटना जा जा रहा था। इन कर बाद कर सामन कूरि सांस (शाक रुक रवाद वाल्य कर करना कर जनवर के लेक्टर का किसान का क वर्षण जीवन सेमनक्कि रूप या अर्जीटक छूसि कथन मायाव जाटन घाण्टक ছिंटल ना।
উপনিষদসমূহ হল সমস্থ ধর্মগুলির আদি উৎস, সমস্ত সত্যের মূল উৎস। উপনিষদের প্রধান বাণী এই নয় যে ভবিষ্যতে তুমি পূর্ণ হবে। 'তা 'বাগসূত্র'-এর বাণী। 'তুমি তো এখনই পূর্ণ,' তা 'শিবসূত্র'-এর বাণী। 'অতীতেও তুমি পূর্ণ ছিলে,' তা উপনিষদের বাণী।
ভবিষ্যৎ ও বর্তমানে পূর্ণ হবার সাথে যখন তুমি উপলব্ধি করে যে অতীতেও তুমি পূর্ণ হিন্দী: (নিরামর) ঘটে। অতীতেও তুমি যে সম্পূর্ণ পূর্ণ ছিলে, তোমাকে সে কথা বলার ও অভিজ্ঞতা প্রদান করার সাহস কেন্দ্রে তুমি মোগসূত্র অভ্যাস করলে কি ঘটনে তার পূর্বাভাস পাওয়া যায়। শিবসূত্র অভ্যাস করলে কি ঘটবে তা ব্যাখ্যা করা যায়। কিন্তু উপনিষদ উপলব্ধি করলে কি ঘটবে তার পূর্বাভাস পাওয়া যায় না , আবার ব্যাখ্যাও করা যায় না।
অদৈত জীবন যাপন অর্থ কেবল ভবিষ্যৎ ও বর্তমানের সাথে সম্পূর্ণভাবে পূর্ণ হওয়া নয়, কিন্তু অভিজ্ঞতামূলকভাবে উপলব্ধি করা যে অতীতেও তুমি সম্পূর্ণরূপে পূর্ণ ছিলে। তোমার মধ্যে কখনও কোন অপূর্ণতা ছিল না। এই উপলব্ধি হল অদ্বৈত জীবন এবং একমাত্র উপনিষদ তা প্রদান করতে পারে।
কেল তোমার ভবিষ্যৎ ও বর্তমানকে নয়, অফৈত জীবন তোমার করে, পূর্ণ করে, পরিতপ্ত করে ও আনন্দময় করে। কেল অহিত জীবনই তোমার অতীতকে
পরিবর্তন করতে সমর্থ। তুমি ভাবতে পার, 'অতীত কিভাবে পরিবর্তিত হবে? তা তো হয়ে গেছে।' না! অতীতের যা কিছু তুমি স্বরণে রাখ, তা এখনও আছে, তা বিদ্যমান। যা কিছু অনুপস্থিত তার জীবন নেই বা তোমার প্রভাব নেই। তাই অতীত বা ভবিষ্যৎ হল বর্তমান। যতকণ তুমি স্মরণে রাখত পারেন জন্য ঈন্সিত তোমার সমস্ত বাসনা, সৃষ্টি ও যোগাযালি তো বললিকে অভিজ্ঞতা করার উদ্দেশ্যে সেগুলির দিকে তোমায় চলিত করার জন্য তারা এত শক্তিশালী । তোমার সমস্ত বেদনা, অপরাধবোধ ও অপূর্ণতা হল অতীত সম্বন্ধীয়, কিন্তু তা আছে বর্তমানে। তাই তা এখনও দুঃখজনক, অপর্ণা।
অভিজ্ঞানুলকভাবে অতীত্বে বর্তমানে ও বর্তমানকে বর্তমানে পূর্ণ করতে, কেবল উপনিষদই এক স্মচ্ছ প্রতীতি সহকারে যোগণা করে। আর খখন বর্তমানের বর্তমানে, অতীতের বর্তমানে ও ভবিষ্যতের বর্তমানে পুর্ণা পূর্ণা ঘটে। তখন তোমার কেবল বর্তমান ও ভবিষ্ণ নয়, অতীতও রূপান্তরিত হয়। মহাবিশ্বে অফিত উপলব্ধি ক'রে জীবন যাপন শুরু না করা পর্যন্ত নেতি যায় না। জীবনে সর্বশেষ বিজয় হ'ল অফিন করলে তোমার সমস্ত ইতিহাস, তোমার অতীত পুরার্ণিখিত হবে। জেনে রাখ, কেল তোমাকে অন্য তোমার অতীত জমা থাকে, কিন্তু রেকর্ড করা হয় না। তোমার (অতীতের) সমস্ত ফাইলগুলি পেণ্ডিং (মুলতবি) থাকে, আর্কাইভে (সংরক্ষণাগারে) থাকে না।
যখন কারো অতীত ব্রকাণ্ডে রেকর্ড হয়ে যায়, তা 'পুরাণ' হয়ে অর্থ অ্যামিনা থেকে অনন্তনায়ণ, এই মহাযাত্রা সে সম্পূর্ণ করেছে, বিজয়ী হয়েছে এবং তা ব্রহ্মাণ্ডে রেকর্ড হয়েছে। তাই এখন সে ভগবত্ পুরাণে প্রকাশিত হয় মৎসাবতার থেকে কন্ধি অবতার পর্যন্ত।
এমনকি এখনই জাগ্রত হয়ে এবং অভিনয় যাপন করে আমরা ইতিহাস পুনলিখন করতে পারি। কেবল সামাজিকভাবেই নয়, মহাজাপতিকভাবেও। যোগপিতা পতঞ্জলি সাহস করে বলেন, 'তোমার ভবিষ্যৎক পূর্ণ করা যায়।' মহাদের সাহস করে বিজ্ঞান-ভৈরব-তন্ত্রে এই পর্যন্ত বলেছেন, 'এই প্রক্রিয়াজলি অভ্যাস কর, এমনকি তোমার বর্তমানও পূর্ণ হবে।' একমাত্র উপনিষদ, যা বাস্তবিক কেট নেখে নি, কিন্তু চ্যানেল-কৃত হয়েছে; বলার দ্বংসাহস রাখে, 'কেবল তোমার ভবিষ্যৎ ও বর্তমান নয়, তোমার অতীতকেও রূপান্তরিত ও পুনর্বিন্যাস করা যায়।' কারণ অদ্বৈত জীবন যাপন আরম্ভ না করা পর্যন্ত কিছুই পূর্ণ হয় না।
মহাদের নীরবে বটবল্লাহু বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ববিদ্যালয় বা মহাজাপতিক জানান করে পারে। প্রথম বিশ্বাস করে বেদসমূহ বা মহাজার্গতিক জানান করেন এবং তাকে এক অনুনাদশীল প্রাণবন্ত নীরবতা হিসাবে বিকিরণ করেন। আর ঋষিগণ তা আকাশ লেখন হিসাবে পাঠ করেন এবং বিশ্বের সাথে শেয়ার করেন। এইভাবে উপনিষদ ঘটে এবং পৃথিবীতে প্রকাশিত হয়।
মুক্তি বা জ্ঞানালোকপাঞ্চি (Enlightenment) শব্দ ছাত্রা, যে প্রতিষ্ঠিত দেওয়া হয়েছে, অদ্বৈত জীবনের সত্য তার চেয়েও অনেক মহত্তর। মুক্তি কেলনাত্র ভবিষ্যৎ বা বর্তমান সম্বন্ধীয়। একমাত্র অদৈতি অতীত সম্পর্কে সত্য বলতে পারে। ভবিষ্যৎ পূর্ণ না হলে অতীত্তকে পূর্ণ করা যায় না! তোমার মৃত্যু রা শেষ মুহুর্ত না আসা পর্যন্ত তোমার পুরো জানা একইভাবে তোমার ভবিষ্যৎক শেষ না করা পর্যন্ত তোমার অতীতকে জমাট বাঁধানো যায় না। তাই এই বিভ্রমে থেকে না যে তুমি তোমার অতীত্বে ইতিমধ্যে যাপন করে নিয়েছে বর্তমান , অতীত ও সবকিছুকে অভিজ্ঞতামূলকভাবে রূপাত্তরিত করার নিৰ্ণয় হ'ল অদ্বৈত জীবন।
পূর্ণতু - এই মহান সত্যটিকে নিয়ে পভীরভাবে মনন করা শুরু করা হয়েছে ও বর্তমান সম্বনীয় নয়, তাতে অতীত্তও যুক্ত। বান কর, তুমি তা উপলব্ধি করবে।
অদ্বৈত জীবনযাপনের নির্ণয় অর্থ, সম্পর্ণ পূর্ণতার আকাশে পৌঁছানোর সংকল্প, যেখানে অতীতও পুনর্লিখিত হয়; কেবল বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নয়।
অপৌর্ষেয়, বিশুদ্ধ সত্যের গ্রন্থকার ছাড়া গ্রন্থ
অপৌরষেয় শব্দের অর্থ গ্রন্থকার-ব্যতীত্, কেবল এই একটি শব্দ দ্বারা উপনিষদসমূহকে তোমাদের কাছে উপস্থাপিত করা হয়েছে।
কোনও প্রযুক্তি বাংলা আগে আমাদের স্বষ্ট করতে হয়, প্রহ্টির উদ্দেশ্য করেছে। কিন্তু সেই উদ্দেশ্য ব্যক্ত করার আগে আমাদের ব্যাখ্যা করতে হবে, কে সেটা লিখেছে। যখন কোন বই লেখা সত্য ও যে ব্যক্তি সেই সত্যকে উপস্থাপিত করছে, উভয়ই সেই বইয়ে প্রকাশিত হয়। সমস্ত বই তার লেখকের জীবনচরিত, কারণ এমন কোন বই নেই যেখানে লেখকের পদ ও উপস্থিতি নেই। যত বেশী ব্যক্তিগত সংশ্লিষ্টা থাকে, সেটা ততই বড় অলীক কাহিনী বা উপন্যাস হয়ে যায়। যে বহুৱাৰী বিশ্বাস কৰিছিল। তেওঁ পাৰে প্ৰকাশিত হয়; যত বেশী ব্যক্তিগত স্পৰ্শ, বাস্তবতা তত কম হয়।
কারেনী সার্থপুরে সারায়ে রাখতে হবে। মনের ভয় বা লোভ দ্বারা চালিত হয়ে লাভ ও ব্যবসা-কেন্দ্রিক হয়ে মানুষ ইতিহাস লেখে। দুর্ভাগ্যবণতন্ত্র, সমাজ সেই মনের ভয়, লোভ ও কায়েমী সার্থগিতে স্বীকার করে না। যখন কেউ বস্তুগতভাবে লোভী হয় ও তোমরা তা স্বীকার করা কিন্তু মানসিকভাবে লোভী মানুষ মানবচেতনায় যে ক্ষতি করে, তা সমাজ স্বীকারই করে না।
জীবনের মৌলিক জিনিয়ার সানব মনের পাগলামি থেকে সরিয়ে রাখা উচিত। মানব-মন কোন কেতৃত্বে পারেল, সেই ব্যক্তির করা ও লোভকে নির্ণয় নিতে অনুষতি দেওয়া হয়। তখন সত্য অশুদ্ধ হয় অথবা সত্যের হনন হয়।
সামাজিকগত বা আইনারুল সামাজিক উন্মততাগুলির মধ্যে ভয় পড়ে না। কিন্তু হুর্তাগ্যবশত লোভ মানবস্যতায় বৈধ উম্মততা হয়ে গেছে। লাভ-কেতিক কায়েসী যার্থসকল, বিশেষত ভাবানগণত ভয় ও লোভ থেকে দূরে থাকা উচিত। যে সমাজ শান্তিতে বাস ও উপনিষদ মুগের সতলোক সঙ্গি করতে চায়, সেই সমাজের বোঝা উচিত - ইতিহাস থেকেই তুমি নিজেকে উপলব্ধি কর, ইতিহাস থেকে শিক্ষা প্রদান করা হয়। সেজন্য যারা তোমাদের ইতিহাস লেখে, তাদের মানসিক ভয়, লোভ ও কারেনী স্বার্থ থেকে মুক্ত থাকা উচিত। পার্থপর মানুষের দেখা ইতিহাসের ঘটনাগুলি পড়ে যদি তোমরা নিজেদের সমন্ধে এক ধারণা সৃষ্টি করা তাহলে সেই ইতিহাস লেখক যে সমস্যাগুলিতে কই পাচ্ছিন তা বিশ্ববিদ্যালয় বাবার সময় তুমি করার সময় তুমি করে পারে। তারা সেই খাদ্য তোমার জীবনের অংশ হবে। একই প্রকার সতর্কতা অবস্থিত করে বাবা ভঙ্গণ করতে যাও; যেমন বই পড়া, কোন তথ্য গ্রহণ করা। তোমাদের শিক্ষকে অনাভ বা লাভজনক (নস-প্রফিট, ফর-প্রফিট) ব্যবস্থা থেকে পুরোপুরি বাইরে হ'তে হবে। জ্ঞান নিঃস্থ। সেইজন্য তোমাদের কাছে উপনিষদ এখন বিনামূল্যে উপলব্ধ।
উপনিষদের সভ্যতাকে পুনরুদ্ধার করার একমাত্র উপায় হল - ইতিহাস যেন এমন মানুষেরা লেখে যাদের দুষ্টি অকলুষিত।
ভয় ও লোভ যারা প্রভাবিত দুষ্টি দেখা জিনিয়কে বিকৃত করে যেনে। বিকৃতভাবে লেখা সেই ঘটনা পড়ে তোমরা তা নিজেদের জীবনে আত্মভূত করা শুরু কর এবং সেই ইতিহাসবেতার ভয় ও লোভের একই সংস্কারগুলিকে নিজেদের জীবনে আত্মভূত করা খাদ্য ও ওষুধে তামার দেহকে অখন করে। ইতিহাস ও প্রাঙ্খলিতে ভয় ও লোভ তোমার মনকে কলুষিত করে ফেলে। ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক ধারণাখলিতে ভয় ও লোভ তোমার চেতনাকে বন্ধনে ফেলে। শারীরিক , বপ্তগত ও মানসিক কায়েমী স্বার্থ থেকে ধর্ম ও আধ্যাত্মিকতাকে সম্পূর্ণরূপে বাইরে রাখতে হবে।
উপনিষদের কোন ঋষি কারো ভৃত্য বা বস্ ছিলেন না। তাদের কোন কান সংস্থার প্রতিপালন হেতু না সেই সংস্থাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য কোন ভাবাল ছিল না। এইরূপে কোন মানসিক বা বস্তপত কার্যালয়নের ঐতিহ্য বিশ্বকে থেকে যায়। কোথাও ব্যক্তিগত প্রভাব দুলে পড়লে, তার খদ্দতা কম হয়। ব্যক্তি যত বেশী বিজভিত, মানবতার জন্য তা তত্ত্বা এবং পর্যন্ত, মানবতা খুবই ব্যক্তিভি ক, ব্যক্তিতা প্রকৃতি পার্টিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্প করেছে।
উপনিষদ প্রথম লাইন থেকে, ভূমিকা থেকেই নিগ্যু রহস্যময়। 'অপৌরষের', কেবল এই একটি শব্দ দ্বারা তোমাদের সবার কাছে উপনিষদ উপস্থিত করা হন। কেন কোন লেখক নেই? কারণ এটাতে কোনা নেই। সেই সার্থগুলির নানা স্তর আছে : বস্তগত নম্ভব - টাকাপয়সা। তারপর মানসিক স্তব - লোকেদের ইচ্ছামত প্রত্যবিত ক'রে তাদের লীডার হওয়া। তারপর সংগ্রহণের পর প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে জীবন্ত রাখার চেষ্টা ও মানবতাকে সেই ভাবালা ছারা প্রভাবিত করার চেষ্টা এবং মানবতাকে সেই ভাবাদশ দ্বারা নিয়ন্ত্রণে ও বন্ধনে রাখা। উপনিষদ এই সব স্তরগুলির কলুমিতা থেকে মুক্ত।
উপনিষদসমূহ হল অখ্যতামুক্ত প্রথম সমস্ত মহাজগতের জন্যের উৎস। কোন ব্যক্তি নেই, কোন ব্যক্তি নেই, কোন ব্যক্তি হেই, কোন ব্যক্তি হেরা করে কোন কায়েমী স্বাৰ্থ এতে বিদ্যমান নেই।
।। অপৌরষেয় অপ্রমেয় অচিন্ত্য অনির্বচনীয় ॥
এর কোন গ্রন্থকার নেই, অপরিমেয়, অচিন্তনীয়, অবর্ণনীয়
অপৌর্ষের অর্থাৎ প্র্যুরার বিহীন। যে ঋষিরা এগুলি বেংছেন, তাদের নাম রেকর্ড করা হয় নি কারণ সেই ঋষিদের কোন প্রভাবই উপনিষদ প্রস্তে প্রকাশিত ভাবনাগুলিতে বা মহান সত্যগুলিতে নেই। তাই তা অপৌরষেয়। ব্রক্ষসূত্রের প্রথম শ্লোক হল :
অথাতো ব্রক্ষজিজ্ঞাসা ।। ১.১.১ ।।
এখন আমারা প্রকত সত্যের অন্বেষণ করি।
এর অর্থ কোন কায়েনী যার্থ নেই, এটা কোন তত্ত্ব বাংলা ইস্থানে করি এরপ কোন অনুমানও নয়। ব্রক্ষসূত্র পাঠ করার পর শিষ্য নাকিক বা অভিন হওয়া পছন্দ করে নিতে পারে। এত সুবিশাল সম্ভাবনা ও মুক্তির উৎস থেকে জানের প্রবাহিত হওয়া উচিত। কোন ভাবদন বা ধারণার প্রতি কায়েমী স্বারণা সাথে বিনা উপনিষদের ঋষিদের অন্তর-আকাশ কত বিশ্বয়! সেইজন্য তাঁরা নিজেদের আধুনিকীকরণ ও নতুন করে আবিষ্কার করার জন্য এত প্রাণকন্ত ছিলেন।
এই আধ্যাত্মিক সত্যঞ্জলি লেখকদের কোন কার্যা প্রতাবিত নয়। সত্যগুলি প্রকাশিত করার সময় ভাবাদর্শের কত বিথমতা প্রতিপালন করা হয়েছে। উপনিষদ এসেছে পরে সভা এবং সুষ্মতম মঞ্চি থেকে। যদি আমাদের সভ্যতা ভবিষ্যতে , কয়েক হাজার বছরে, পরিপক্ষতা লাভ করে, তখন ধর্ম, ইতিহাস, তথ্য সম্প্রচার, এই তিনটি পুরোপুরি অনাভজনক (নন-প্রফিট) ব্যবহার করে এবং বাজি হারা প্রভাবিত থাকবে না। যখন সংস্থাপত অগ্রাধিকার চলে আসে ও বিবেচনাধীন হয়, তখন সত্যের সাথে আপোস করা হয়।
ভয় ও লোভের হস্তক্ষেপ বিনা সেই শিক্ষাগুলির বিশ্বদ্ধতা বজায় রাখা হল থানা আমরা আমাদের কতজ্ঞতা, প্রেন, শ্রদ্ধা উৎসর্গ করতে পারি সেই মহাত্মা উপনিষদের প্রতি, তাদের বিশ্বকা, বলিনান ও উৎসর্জনের প্রতি। শরিগণ সত্যের বিখ্যমতা বজায় রেখেছিলেন কারণ সেটাই তো বিদ্যমান থাকায়, শ্রাসপ্রাপ নেবর, খাদ্য গ্রহণ করার, পোশাক পরিধান করার, জীবনের সুখ উপভোগ করার, চিন্তা করার, অনুভব করার সবচেয়ে উত্তম উপায়; অজিমান থাকার সর্বশ্রেষ্ঠ উপায় - সেটাই তো বিশুদ্ধ পথের উৎসে থাকা।
উপনিষদের প্রথাতে ধার্মিক ও আধ্যাত্মিক তত্তগুলির সম্পূর্ণ বিশুদ্ধতা প্রতিপালিত হয়।
নিজেকে আশীর্ষা প্রতিষ্ঠান করে যে বৈদিক প্রথা আধ্যাত্মিক তত্ত্বপূর্ণ করেন বস্তগত বা মানসিক কারেনী শাখা ছাড়া সর্বোত্তম বিশ্বদ্ধতা রেখেছে।
পথিবীতে প্রথম ও সবচেয়ে প্রামাণিক গ্রন্থাবলী
উপনিষদসমূহ হল পথ্থীগ্ৰহে লিখিত প্ৰথম গ্ৰন্থাবলী। যখন ঋষিরা অন্তর্ধান করেন, অস্তিত্ব মহাজাগতিক সত্যসকলকে অভিব্যক্ত করে। অপৌরষেয়ত্ব বা গ্রন্থকার বিহীনতা এই সত্যসকলের শক্তি প্রমাণ করে ও উপনিষদসমূহকে সর্বাধিক প্রামাণিক শাস্ত্র হিসাবে প্রকাশ করে
বে কোন সত্য, ধারণা, ধর্মতত্ত্বে যদি ব্যক্তি থাকে, তবে তা কেবল সেই ব্যক্তিবিশেষের জন্য বেশী উপযোগী হয়, তা সবার জন্য, মানবতার জন্য, সমাজের জন্য অত উপযোগী নয়। ব্যক্তি যত কম উপস্থিত থাকবে, তত বেশী সত্য, ধারণা, ধর্মতত্ত্ব, দর্শন সমস্ত মানবতার জন্য, সবার জন্য উপযোগী হবে। ব্যক্তির প্রভাব করতত্ত্বের জন্য হওয়া উচিত, কখনও সেই ব্যক্তির পরিচিতিকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য নয়।
যুদ্ধে বিজয়ীরাই সদা ইতিহাস লিখেছে। সেইজন্য কোন বলছেন সংগ্রামে ঘটেছিল - তা নয়। যখন কিছু নির্দিষ্ট ভাবাদেশের ওপরে লেখকের নিজের কারেনী স্বার্থ, ভয় ও লোভ থাকে না, কেবল তখন ইতিহাস বাস্তব ও পূর্ণ হয় এবং তা সমগ্র বিশ্বের জন্য ও সম্পূর্ণ মানবজাতির জন্য উপযোগী হয়।
কোন কায়েমী সাথ বিনা যে ইতিহাস লেখা হয় তাকে বলে পুরাণ। কায়েমী স্বার্থ সহকারে লিখিত ইতিহাসের চেয়ে পুরাণসমূহ অনেক বেশী বাস্তব। যে পুরুষে লেখক বেশী করে উপস্থিত, সে পুস্তক পড়বে না। যদি গ্রন্থকার তার নিজের অন্তর্ভূিত হয়ে থাকেন এবং তাঁর কোন কায়েমী স্বার্থ, ভয় বা লোভ থাকে না, তাহলে সেই মানুষটিকেও অধ্যয়ন কর, কেবল তাঁর গ্রন্থই নয়। সেই ব্যক্তির জীবন অধ্যয়ন করা তাঁর আশেপাশে থাক এবং শেখ, তুমি সত্য জানতে পারবে।
যদি গ্রন্থকার তার নাম প্রতিষ্ঠিত করতে চায়, সেখানে কলুষিত কারেনী স্বার্থ, ভয় বা লোভ আছে। কখন কখন লেখকেরা নিজের নাম ব্যবহার না করে কোন জনপ্রিয় নাম ব্যবহার করে, কারণ জনপ্রিয়তার দ্বারা তারা। কেবল যেন ব্যক্তি অনুপস্থিত, তার নিজস্ব কায়েমী স্বার্থ, ভয় ও লোভ অদৃশ্য হয়, দ্রবীভূত হয়ে যায়। সে তখন অস্তিত্বের নিজের বিদ্যমানতার গীত প্রকাশিত হবার জন্য এক বিশুদ্ধ চ্যানেল হয়ে যায়।
অপৌরষেয়ত্ব। উপনিষদ হল অস্তিত্বের নিজের অস্তিত্ব সম্পর্কে গান! নিজের অস্তিত্ব সম্পর্কে অস্তিত্বের গান! উপনিষদসমূহ এতই অসাধারণ যে কেউ তাতে মালিকানা ঘোষণা করতে পারে না।
মানুষ মানবতার শুরু থেকে পৃথিবীর চারিদিকে বহু নগর নির্মাণ করেও আমরা কি পৃথিবীর ওপরে মালকানা দাবি করতে পারি? না। এতে মালিকানা দাবি করা হয়। এর বিশাল বাসায় ও দুর্যোগপূর্ণ হল বারংবার আমাদের উদ্দেশ্যে দেওয়া প্রকৃতির 'লিগাল নোটিস', যা বলে, 'কেবল যেহেতু তোমরা এতগুলি নগর নির্মাণ করেছ, তার মালিকানা দাবি করে না। উপনিষদে অভিযান খুবই বিশাল। তোমার মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়া সত্ত্বেও তুমি তার মালিকানা দাবি করতে পার না। কোন একটি দেশে পৌঁছানোর সমুদ্রপথ আবিষ্কার করা নেই দেশের ওপরে মালিকানা দাবি করা তো এক বোকামি। যেহেতু তুমি আবিষ্কার করেছ যে পৃথিবী গোল, সেজন্য তুমি পৃথিবীর ওপরে মালিকানা দাবি করতে পার না।
উপনিষদে অভিযুক্ত সত্যগুলি খুবই বিতীর্ণ, বিশাল; ঋষিকণা দাবি করেন নি, আবার তাঁরা লেখক হিসাবে তাঁদের নামগুলিও সেখানে রেখে যেতে ইচ্ছাপ্রকাশ করেন নি। সেই কয়েকজন মহাত্মা যাঁরা ব্রহ্মণের অনুরণিত করার জন্য উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন, তাঁরা তো সেই ব্রহ্মণের সাথে একীভূত হয়ে মিশে গেছেন। সেভাবে একীভূত হবার পরে তাঁরা যে সকল সত্য পেয়েছিলেন, যে সব তারা নিজেদের মধ্য দিয়ে অভিযাক্ত করতে পেরেছিলেন, তা উপনিষদসমূহ হয়ে লিপিবদ্ধ হয়ে যায়। এই
র প্রায় বুঝি পারে পারে। তাঁরা নিজেরা মিলিয়া সামাজিক সংযোগ করার স্পষ্ট নির্ণয় তাঁরা নিয়েছিলেন।
যে গোয়ালা জীবিকা নিমিত্ত কয়েকটিনাত্র গরু নিয়ে এক ছোট গোশালা চালায়, যদি সে তার সমস্ত দুধ কোন বিগ্রহের অভিষেকের (গণ্য স্নান) জন্য দান করে দেয়, সেটা সর্বোত্তম সমর্পণ, কারণ সেই দুধ ছিল তার সম্পূর্ণ জীবনের প্রচেষ্টার কোন লেখকের পক্ষে তার নাম ও গ্রন্থকারিতা বর্জন করা, নাম উল্লেখ না করা - অপৌরষেয়ত্ব - হল সর্বোত্তম সমর্পণ। যদি তুমি গ্রন্থকার হও, তবে এটা বুঝতে পারবে। আর উপনিষদের ঋষিরা এমন সুউচ্চ ধারণা অভিযাক্ত করার পরেও নিজেদের নাম জানান নি। কোন ধুলিকণাও যদি উপনিষদসমূহ আত্মভূত করে, তা মহাদেব হয়ে উপবেশন করবে, তা মহাদেব হয়ে যাবে!
কোন শব উপনিষদসমূহ আত্মভূত করলে, তা হয়ে যাবে শিব!
তেজ, শান্তি, উৎসাহ, উদ্দীপনা, জীবন, আনন্দ, বুদ্ধিমত্তা - এসব তোমার মধ্যে উপনিষদসমূহ যেভাবে সঞ্চার করে তাতে যে কোন শব্দ শিব হয়ে যাবে। এজবে তুমি अथवा य कान वालि मशास्व, मित्र राय यटक भारता।
এই অপৌরষেয়ত্ব, গ্রন্থকার বিহীনতা উপনিষদ সাম্প্রদায়িক শাস্ত্র নিয়েছে। ইতিহাসবেত্তার ব্যক্তিগত স্বার্থ অন্যান্য হলে, সেই ইতিহাস সত্য ও বাস্তব হয়। যখন বৈজ্ঞানিকের কায়েমী স্বার্থ না, বিজ্ঞান তখন সর্বজনীন ও উপযোগী হয়। বিজ্ঞানের প্রথম অনেক কিছুই বিজ্ঞানসম্মত নয়। এখন বেশির ভাগ বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা ও গবেষণার উদ্দেশ্য হল কোন ভাবনা বা ধারণাকে প্রমাণিত করা যাতে সেই গবেষণায় যারা টাকা ঢেলেছে তাদের স্বার্থসিদ্ধি হয়। সিদ্ধান্ত আগেই ঠিক হয়ে আছে এবং তারপর হাইপোথেসিসকে খুঁটিয়ে না দেখেই গবেষণা করা হচ্ছে। সত্য অনেকগুণে তো যে কোন হাইপোথেসিসকে খুঁটিয়ে দেখা উচিত। কায়েমী স্বার্থ প্রবেশ করলে সত্য বিনয় হয়। সত্য কোথাও লক্ষ্য নয়। কারোর যদি আসনা যান তুমি সত্য জানতে চাও, তবে সেই সব বিজ্ঞানীদের কাছে যাও যাদের কেউ নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য ব্যবহার করে না।
এই অপৌরষেয়ত্ব বিরাজ করে, কারণ তাঁরা সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য কোনভাবেই আগ্রহী নন, লাভ বা অলাভজনিত আগ্রহের কথা তো ওঠেই না। সত্যের মহানতা দ্বারা অভিভূত হলে বুঝতে পারবে তুমি সেই সত্যের মালিকানা নিতে পার না। তুমি জানতে এ সত্য তোমার চেয়ে অনেক বড়। তুমি সত্যের ওপরে দাঁড়িয়ে আছ, সত্য তোমার ওপরে নির্ভর ক'রে নেই।
মহান ঋষিরা আবিষ্কার করেন যে এই সত্যসকল কোন ব্যক্তির সাথে চিহ্নিত করে কলুষিত করা উচিত নয়। ব্যক্তি সম্পর্কে তোমার মতামত সর্বদাই তার বলা কথাকে তুমি কিভাবে নেবে তা প্রভাবিত করে। স্বামী বিবেকানন্দের কথিত কিছু মহান সত্য বিশ্বজনীন; কিন্তু যেই মুহূর্তে তুমি ঠিক কর যে 'তিনি এক হিন্দু সন্ন্যাসী', তুমি তাঁকে শোন না, সমগ্র বিশ্ব তাঁকে শোনে না, কেবল হিন্দু মানুষ সম্পর্কে তোমার ধারণা তৈরি করে এবং তাদের অভিযুক্ত মহান সত্যগুলিও তুমি শুনতে পাও না। উপনিষদের ঋষিরা এই প্রকার হানি জানতেন, যে হানি লিখিত ধারণাগুলির ওপরে লেখকের জন্য হয়। উপনিষদের ঋষিদের কি দারুণ মহানভবতা ও তাঁদের সমর্পণের কি নিদারুণ নিদর্শন!
যদি তুমি কোন ব্যবহার করে প্রচার দেখাতে চাও, কিন্তু তুমি টাকা পেতে থাকবে', সে তা মানবে, কারণ টাকার জন্য সে অনেক কিছুই ছাড়তে খুশী হয়। কিন্তু সে টাকাকে ছাড়বে না কারণ সে তার সম্পূর্ণ জীবন বানিয়েছে। একইভাবে একদল নেতা টাকা ছাড়তে পারে প্রচার ও খ্যাতির জন্য, কারণ সে তার পুরো জীবনকে খ্যাতি ও প্রচার দিয়েই তৈরি করেছে। কিন্তু নেতা তার নাম ছাড়বে না। এক লেখক খাবার, ঘুম, টাকা সবকিছু ছাড়তে পারে, কিন্তু গ্রন্থকারিতা ছাড়তে পারে না, কারণ সে তার পুরো জীবন তো সেটা দিয়েই নির্মাণ করেছে। কিন্তু উপনিষদের গ্রন্থকারেরা মহত্তম।
পৃথিবীতে প্রথম গ্রন্থ হল উপনিষদসমূহ। প্রথম গ্রন্থের এঁরাই রচয়িতা। কি তাঁদের পরিপক্কতা: তাঁরা তো ত্যাগরাজা, ত্যাগের রাজা: যতদিন উপনিষদের ধারণাগুলি স্মারণাপনে থাকবে, ততদিন এই পৃথিবীত্বান রাখবে। তাই উপনিষদসমূহ কেবল প্রথম গ্রন্থ নয়, উপনিষদসমূহ পৃথিবীতে শেষ গ্রন্থ বটে, কারণ যতদিন এই সত্যসকল জীবিত থাকবে, পৃথিবীও টিকে থাকবে। এই সত্যসকল মুছে গেলে, পৃথিবীও শেষ হয়ে যাবে!
মানবজাতির জন্য করে পরেও যদি এই পৃথিবী টিকে যায়, তা কেবল এই উপনিষদের সত্যগুলিকে সজীব রাখার জন্য হবে, কারণ এই সত্যসকল কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত কাছে আছে, দেবতা ও অসুরদের কাছে নেই। এই সত্যসকল প্রাপ্ত ক'রে বিকিরণ করার জন্য কেবল মনুষ্যতন্ত্রই উপযোগী।
বিজ্ঞান পূর্ণ হয় যখন বৈজ্ঞানিক সত্যে নিজেকে উৎসর্গ করেন। উপনিষদের ঋষিরা তারা সর্বোত্তম উৎকৃষ্ট সত্তাধিকারী ও সর্বোচ্চ সিদ্ধির অধিকারী।
প্রথম ও প্রধানতম পবিত্র গ্রন্থাবলী
বৈদিক প্রথায় উপনিষদসমূহ প্রথম ও প্রধানতম গ্রন্থাবলী। বৈদিক প্রথাই বিশ্বের প্রথম ও প্রধানতম প্রথা। উপনিষদের জীবনশৈলী ষড়দর্শন অর্থাৎ ছয়প্রকার মুক্ত চিন্তাধারার জন্ম দেয় যা থেকে পরে অগণ্য সম্প্রদায়, পরম্পরা, প্রথা ও ধর্মের জন্ম হয়।
পৃথিবীতে বৈদিক প্রথা হল সর্বপ্রথম ও প্রধানতম আধ্যাত্মিক প্রথা। একইভাবে উপনিষদসমূহ হল বৈদিক প্রথার সর্বপ্রথম ও প্রধানতম প্রকাশিত চিন্তাধারা, সমস্ত আধ্যাত্মিক চিন্তাস্রোতের উৎস।
বৈদিক প্রথায় আমরা মুক্ত চিন্তার জন্য ছয়টি উপায় পাই এক চিন্তাশীলী যা আমাদের সর্বদা সক্রিয়, উৎসাহী, প্রফুল্ল, নিজেকে নবতেজোদীপ্ত, স্বভাবত বুদ্ধিমত্তাশীল, জীবনের সাথে যাতায়াতাবে সারিবদ্ধ এবং প্রকৃতগতভাবে আনন্দিত করে রাখে। তোমার আদি প্রকৃতি অনুযায়ী তুমি তো আনন্দময়, বুদ্ধিমত্তাশীল, সচেতন ও সজাগ। তোমাকে এমনভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে যাতে তুমি সর্বাধিক সম্ভাবনা ও সর্বোচ্চ অভিজ্ঞতা করতে পার।
যে চিন্তাধারা তোমার সর্বাধিক সম্ভাবনার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা বাস্তবায়িত করে, যা তোমাকে পুরোপুরি সক্রিয় করে, ভরপুর আনন্দ প্রদান করে, সম্পূর্ণরূপে জাগ্রত করে, পূর্ণ সজীব রাখে, সেই চিন্তাধারাকে আমরা মুক্ত চিন্তাধারা বলছি।
বৈদিক প্রথা দ্বারা নির্মিত ছয়টি মুক্ত চিন্তাধারা হল - সাংখ্য, যোগ, পূর্ব মীমাংসা, উত্তর মীমাংসা, ন্যায় ও বৈশেষিকা। এগুলি বৈদিক প্রথার শ্রেষ্ঠ প্রধান ছয়টি মুক্ত চিন্তাধারা।
-
সাংখ্য : অস্তিত্ব, প্রকৃতি যে নিয়মাবলী দ্বারা তা উৎস ও চেতনার সাথে যুক্ত : সেই নিয়মাবলীকে বোঝা এবং তার সাথে নিজেকে সারিবদ্ধ করা এবং এদের মাধ্যমে মুক্ত চিন্তা করা হল সাঙ্খ্য।
-
যোগ : তুমি যাকে 'তুমি' বলে চিন্তা কর, তোমার দেহ ও মন - এই দুইটিকে অস্তিত্বের সাথে সুর বাঁধা ও সারিবদ্ধ করা, তার মাধ্যমে পরম পূর্ণিমা, পরিপূর্ণ, জ্ঞান, উজ্জ্বলতা, মাৎসর্য, বৈরাগ্য, বাস্তবিক জ্ঞান কি বাস্তবিক কথা, এই সূক্ষ্ম ফিলাসফিকে বলা হয় যোগ।
-
পূর্ব মীমাংসা : তোমার কার্যের মাধ্যমে মহাজাগতিক শক্তির সাথে সারিবদ্ধ হওয়া এবং পরমকে অভিজ্ঞতা করা, জীবনমুক্তি, পরিপূর্ণিতা ও পূর্ণত্ব অভিজ্ঞতা করা – এই প্রকার মুক্ত চিন্তাধারার অভিজ্ঞতা হল পূর্ব মীমাংসা (কর্মকাণ্ড)।
-
উত্তর মীমাংসা : কেবল তোমার বুদ্ধির জীব-ঈশ্বর-জন্ম এই তিনের সাথে সারিবদ্ধ জীবনযাপন করা হল উত্তর মীমাংসা (বেদান্ত)। ন্যায় : যুক্তি দ্বারা কেবল ভাগ করতে করতে বিশ্লেষণ করতে বোঝা এবং মুক্ত চিন্তা করা হল ন্যায়। বৈশেষিকা : সংযুক্ত করতে করতে অভিজ্ঞতা করা ও তার মাধ্যমে মুক্ত চিন্তা করা হল বৈশেষিকা।
সাংখ্য, যোগ, পূর্ব মীমাংসা, ন্যায় ও বৈশেষিকা - বৈদিক প্রথা থেকে আসা এই ছয়টি মুক্ত চিন্তাধারা, মুক্ত চিন্তাধারার প্রতিটি স্বতন্ত্রভাবে তোমাকে মুক্ত চিন্তার সম্পূর্ণ অভিজ্ঞতা দেওয়ার জন্য পূর্ণ।
যদি তুমি সাংখ্য অভ্যাস কর, তোমার যোগ বা অন্যান্য থেকে কোন সাহায্যের প্রয়োজন নেই। তুমি এখন যেখানে আছ সেখান থেকে তোমার যেখানে যাওয়া উচিত তার জন্য সাংখ্যই যথেষ্ট। তুমি যেখানেই থাক না কেন পৌঁছে যাবে এবং তোমার যেখানে নিয়ে যাবে। এটা প্রাচীন, বুদ্ধিসম্পন্ন, যথেষ্ট স্বতন্ত্র চিন্তাধারা, যার মাধ্যমে তুমি মুক্তিটা অভিজ্ঞতা করতে পার। আছে এবং তুমি যেখানে আছ সেখান থেকে তোমার যেখানে যাওয়ার কথা সেখানে নিয়ে যাবার জন্য সাংখ্য একাই সক্ষম। সাংখ্য অভ্যাস করলে তোমাকে অন্য কোন চিন্তাধারা অভ্যাস করার দরকার নেই।
উপনিষদসমূহ, সমস্ত মুক্তিচিন্তাধারাগুলি বা দর্শনের উৎস
আমরা মুক্তিযোগ সংস্কৃত বলি দর্শন, উপলব্ধি করার সামগ্রী। 'দর্শন'কে ইংরাজীতে ফিলোসফি' (philosophy) অনুবাদ করা যায় না। ফিলোসিফ খুবই দুর্বল, অগভীর শব্দ। আমি একটা নতুন শব্দ ব্যবহার করব - ফিলোসিয়া (philosia), দেখার এক নতুন সম্ভাবনা।
বৈদিক প্রথা যে ষড় দর্শন বা ছয়টি ফিলোমিয়া নির্মাণ করেছে, তার সব কয়টি উপনিষদ হল মাতা যিনি ষড় দর্শনের জন্ম দিয়েছেন। প্রতিটি চিন্তাধারা, প্রতিটি মুক্তির ধারা হাজার সম্প্রদায়, পরম্পরার জন্ম দিয়েছে, যেগুলির প্রত্যেকটি পাশ্চাত্য অভ্যাস অনুযায়ী একেকটি ধর্ম (religion) শব্দের সমতুল্য। তোমরা পাশ্চাত্য জগতে রিলিজিয়ন (religion) বলতে যা বুঝেছ, সংস্কৃতে তার সমতুল্য পদ হল সম্প্রদায় (Order); কারণ সনাতন ধর্ম বা বৈদিকরাই হল মাতা এবং তাঁর থেকেই সমস্ত রিলিজিয়নের জন্ম হয়েছে। বৈদিক প্রথা বা হিন্দুরিসম-কে (Hinduism) 'রিলিজিনে' নামের এক ছোট্ট ফ্রেমে ধরে রাখা যায় না। এটা খুবই ছোট একটি ফ্রেম কারণ প্রতিটি রিলিজিয়ন একটি জীবনশৈলী। বৈদিক প্রথা, উপনিষদের জীবনশৈলী, ছয়টি মুক্ত চিন্তাধারা বা ষড় দর্শনের জন্ম দিয়েছে, আবার ষড় দর্শন থেকে পালাক্রমে অসংখ্য সম্প্রদায়, পরম্পরা, প্রথা ও ধর্মের জন্ম হয়।
উপনিষদসমূহ এত বিকীর্ণ যে তাদের কোন একটি রিলিজিয়নে রাখা যায় না। সর্বোত্তম সমস্ত চিন্তাধারার উৎস হল উপনিষদ। অভিযানের থাকার প্রণালী, নানা বৈচিত্রের পছন্দ সহকারে বাস করার পদ্ধতি এবং সম্ভাবনাগুলির উপনিষদ নানা পছন্দ (choice) গভীরতা প্রমাণ করে, বিভ্রান্তি নয়। বেদমাতার মহিমা দেখা তিনি কি ভাবে মানবতার জন্য তাঁর কত অবদান। আজ পৃথিবীতে তোমরা যা কিছু দেখ, যা তুমি কদর কর, উদ্যাপন কর, তা বেদমাতার অবদান। এখন তাঁর দেওয়া উপহার। প্রতিবিম্ব, বিজ্ঞান, শরীরবিদ্যা, শরীরবিদ্যার করা কেন, সমস্ত চিন্তার প্রোট, চিন্তাধারা, যা কিছু ভাল তুমি দেখ ও শোন, তা বেদমাতা প্রদত্ত উপহার - উপনিষদ থেকে আসা চিন্তাধারার উপহার।
উপনিষদসমূহ হল বৈদিক প্রথার সর্বোত্তম গ্রন্থ। বৈদিক শাস্ত্রগুলির মধ্যে উপনিষদসমূহকে সর্বোচ্চ শিখরে রাখা হয়েছে এবং তা অ-বিতর্কিত। সকল সম্প্রদায়, ষড় দর্শন - সাংখ্য, যোগ, ন্যায়, বৈশেষিকা, উত্তর মীমাংসা - এই ছয়টি মুক্তচিন্তাধারার প্রতিটি উপনিষদসমূহকে চূড়ান্ত, প্রথম ও অগ্রণী গ্রন্থ বলে স্বীকার করে। ইতিহাসবেত্তারা উপনিষদসমূহকে একটি রিলিজিয়নের (ধর্মের) ফ্রেমে শ্রেণীভূত করে বিরাট ভুল করেছে। আধুনিক বৈদিক প্রথাতে ঢুকিয়ে তাকে হিন্দুধর্ম বলে বর্ণনা করে। যদি আমরা উপনিষদসমূহকে কোন এক বিশেষ রিলিজিয়নে শ্রেণীভূক্ত করি, তাহলে আমরা উপনিষদসমূহের গরিমা ও সম্ভাবনাকে অশ্রদ্ধা করি। প্রথমত উপনিষদসমূহকে শ্রেণীভুক্ত করা যায় না। যদি শ্রেণীভুক্ত করতে হয়, আমি তাদের শ্রেণীবদ্ধ করব এই বলে - সমস্ত মুক্তিকে উচ্চতর স্তরে বিকশিত করাবার উপযোগী সমস্ত জীবনশৈলীর উৎস। যেহেতু উপনিষদসমূহ সকল মুক্তচিন্তারার উৎস এবং মানুষকে বিকশিত করে, তাই সুস্পষ্টভাবে উপনিষদসমূহ প্রথম ও অগ্রণী ঐশ্বরিক গ্রন্থাবলী।
উপনিষদসমূহ হল, অস্তিত্ব নিজেকে নিজের সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে ও উদযাপন করছে, অস্তিত্ব নিজেকে প্রদর্শন করাচ্ছে কিভাবে নিজসত্তা হওয়া যায়। উপনিষদের প্রতিটি শ্লোক একেকটি মুক্তচিন্তাধারার জন্ম দেয় এবং যা পালাক্রমে অসংখ্য মানুষকে মুক্ত করে।
উপনিষদসমূহ হল প্রথম ও অগ্রণী ঐশ্বরিক গ্রন্থাবলী যার ওপরে ভিত্তি ক'রে তোমার জীবনশৈলীকে সারিবদ্ধ করা উচিত। উপনিষদসমূহ বারংবার পাঠ ক'রে বুঝে তাদের আত্মভূত ও উপলব্ধি ক'রে তার আদর্শে জীবনযাপন করা উচিত, আমাদের মাধ্যমে তাদের বিকিরণ ক'রে প্রচার করা উচিত ও পূজা করা উচিত। উপনিষদসমূহ হল পবিত্রতম আদি সত্যসকল।
মহাজগতের নিজের কাছে স্পন্দনময় প্রকাশ
উপনিষদ অর্থ কেবলমাত্র উপবেশন করা (বসে থাকা)। উপবেশন করলে সত্য প্রকাশিত হয়। যখন ঋষিগণ মন্ত্রদ্রষ্টা হয়ে সমাধিতে উপবেশন করলেন, তখন তাঁদের সত্তায় মহাজাগতিক পবিত্র সত্যসকলের স্পন্দন শুরু হয়। এই অভিব্যক্তি হল উপনিষদসমূহ। যেভাবে উপনিষদসমূহ তোমাকে 'তোমার' কাছে উপস্থাপিত করে, যেভাবে তারা বিশ্বকে 'তোমার' কাছে উপস্থাপিত করে, যেভাবে তারা 'তোমার' কাছে ঈশ্বরকে উপস্থাপিত করে, যেভাবে তারা 'তোমার' কাছে জীবনকে তার কোন তুলাই অন্য কিছুর সাথে হয় না। উপনিষদসমূহ প্রদত্ত বিষয়বস্তুর বিশ্বরূপের বিশ্বব্যবহার বিশ্বব্যাপা অথবা কেবল ধ্বনিগুলি যার মধ্যে প্রচুর সুন্দরভাবে নিহিত করা হয়েছে - সবই ঐশ্বরিক অবদান। কেবল ভাষাবিদ্যাগত ও কার্যিক গুরুত্ব নয়, উপনিষদসমূহের ধ্বনিগত গুরুত্ব প্রচুর। ধর্মের ইতিহাসনেতারা উপনিষদের প্রতি অনেক শ্রদ্ধাপূর্ণের প্রতি অনেক শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছে। অবশ্যই হিন্দুরা এর উত্তরাধিকারী কিন্তু হিন্দুদের উপনিষদ অনুযায়ী জীবনযাপন শেয়ার করা উচিত। আমরা এর উত্তরাধিকারী, কিন্তু কেবল আমরা এর অধিকারী নই, সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ড এর অধিকারী!
উপনিষদ অর্থ উপবেশন করা (বসা), যখন মানুষ উপরেশন কর - আমি তোমার দেহের মাহাটির সত্য প্রকাশিত হয়। একমাত্র সঠিক প্রসঙ্গ থেকে উপনিষদসমূহের শিক্ষা প্রদান করা উচিত।
উপনিষদসমূহ! যখন ঋষিগণ তাঁদের মধ্যে সমাধিতে উপবেশন করলেন, তাঁদের সম্পূর্ণ সত্তা পবিত্র সত্যসকলের সাথে স্পন্দিত, অনুরণিত হতে শুরু করল। মহাজগৎ তাঁদের মধ্য দিয়ে গাইতে লাগল ও বিকিরণ করতে লাগল। এই অভিব্যক্তিই উপনিষদসমূহ।
সেইজন্য সংস্কৃত আমরা 'দ্রষ্টা' বলি - 'যাঁরা মন্ত্রকে দেখতে পান'; 'যাঁরা মন্ত্র লেখেন বা শোনেন' নয়। তার অর্থ যখন তোমরা অভিজ্ঞতা করছ, তখন দ্রষ্টা ও চক্ষু হারা অনুভূত হবে। যদি ধ্বনি কান দিয়ে শোনা হয়, তুমি শুনছ। যদি ধ্বনিকে পাঁচটি ইন্দ্রিয় অনুভূত কর, তবে তুমি অভিজ্ঞতা করছ।
তাই যখন তোমরা দশমান হও, তখন মন্ত্র দেখা যায়। যখন তোমার চক্ষুতে রেখাগুলি তুমি অভিজ্ঞতা কর, তাদের বলে 'অক্ষর'। আমাদের ঋষিগণ প্রতিটি ধ্বনি বা শব্দ অভিজ্ঞতা করেছেন। 'অ', যখন তাঁরা এই ধ্বনি অভিজ্ঞতা করেন, যে রেখার মাধ্যমে তাঁদের চক্ষু সেই রেখা হয়ে যায় অক্ষর। তাঁরা অত্যন্ত বিচলিত ছিলেন, একদম দুশ্চিন্তামুক্ত ছিলেন, বেঁচে থাকার জন্য প্রাচুর্য ছিল এবং তাঁরা এক সুউচ্চ স্তরে বাস করতেন। তা ছিল কতই না সুন্দর!
গঙ্গা নদীর জন্য উপনিষদসমূহ সম্ভব হয়। গঙ্গামাতা তাঁদের রক্ষা করেছেন। মৌলিক সমস্ত আবশ্যকতা তিনি পূরণ করেছেন। সৌভাগ্যবশত, কোন যুদ্ধ হয় নি এবং বেঁচে থাকার জন্য ঋষিদের লড়াই করা লাগে নি। সকল প্রাকৃতিক শক্তি তাঁদের সহায়ক ছিল, যাবতীয় প্রয়োজনীয়তা পূরণ করা হয়েছিল। সেই আকাশ তাঁদের জন্য এক চমৎকার সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছিল উপবেশন করার – নিজের সাথে, প্রকৃতির সাথে। প্রতিটি বস্তু নিজের সম্মন্ধে গান গাওয়া আরম্ভ করেছিল।
প্রতিটি উপনিষদের প্রেক্ষাপটের বিন্যাস আলাদা, কিন্তু সত্যসকল একই সুরে সুন্দরভাবে সমলয়ে আছে। একটি ব্রহ্মাণ্ডের সত্য অনাবৃত করছে, একটি মানুষের সত্য প্রকাশিত করছে, আরেকটি মৃত্যুর রহস্যে জীবনের সত্য আবিষ্কার করছে। যেন তোমার সমস্ত প্রশ্নগুলিকে গুছিয়ে ফেলা হচ্ছে এবং তুমি আছ মহাজগতের চেতনায়, আর সম্পূর্ণ মহাজগৎ আছে তোমার চেতনাতে। মহাজাগতিক চেতনায় মহাজগৎ আছে, তুমি মহাজগতের চেতনায় থাকা মহাজাগতিক চেতনা! মানুষকে মহাজাগতিক চেতনায় নিয়ে আসার জন্য যা কিছু বোধ প্রয়োজন, তা সবই সুন্দরভাবে প্রকাশিত ও পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য সন্দেহের উত্তর দেওয়া হয়েছে। তাই উপনিষদসমূহ আছে। এগুলি আমাদের কাছে থাকলেও তা প্রকৃতপক্ষে সারা বিশ্বের। আমাদের উপনিষদসমূহের উত্তরাধিকারী হওয়া উচিত, কিন্তু তার মালিকানা সমগ্র বিশ্বের। যারা জানতে ও বিজ্ঞান করতে চান, তাদেরকে উপনিষদ প্রদান করা উচিত, তাদের সাথে আমাদের উপনিষদ শেয়ার করা উচিত।
উপনিষদসমূহের প্রতিটি ধ্বনি, প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি প্যারাগ্রাফ শক্তিশালী চেতনা সহকারে স্পন্দিত। শক্তিশালী চেতনা। এখনও উপনিষদসমূহ ভারতবর্ষকে সজীব রেখেছে। উপনিষদসমূহে ভারতের ধারণা। আমাদের সমস্ত আধ্যাত্মিক আকাঙ্ক্ষা ও উপলব্ধিগুলি একসাথে হল উপনিষদসমূহ। উপনিষদসমূহ হল কোটি কোটি মানুষের লাখ লাখ বছরের আধ্যাত্মিক উপলব্ধির মূর্তপ্রকাশ।
উপনিষদসমূহের ভাষ্য, টীকা বা সম্পাদনা সম্ভব নয়
উপনিষদে অনুভব-বহির্ভূত কিছুই নেই; তাতে একটা শব্দও অনাবশ্যক নয়। তুমি তাদের সম্পাদনা করতে পার না, আবার তার ওপরে টীকা বা ভাষ্যও লিখতে পার না। ভাষ্য অর্থ কিছু জিনিস অ-ব্যাখ্যাত থেকে গেছে, তোমাকে তার ব্যাখ্যা করতে হবে। এডিটিং মানে অতিরিক্ত বা অনাবশ্যক কিছু শনাক্ত করা। এডিটিং সম্ভব নয়, আবার তার কোন অনুমতিও নেই। ভাষ্য করার অনুমতি আছে, কিন্তু কারণ অব্যাখ্যাত কিছুই সেখানে নেই। সমস্ত ভাষ্য, তা সে শঙ্করাচার্য হোন কি রামানুজ বা মাধবাচার্য হোন, সবই একই ধারণাগুলিকে পুনরাবৃত্তি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের দৃষ্টিতে নিয়ে এসেছেন। হাইলাইট করা হয়ত সম্ভব, কিন্তু জানানো নয়, কারণ উপনিষদসমূহে অব্যক্ত কিছুই নেই। উপনিষদের ভাষ্য করা সম্ভব নয়। ধর্ম অনুযায়ী তার অনুমতি আছে, কিন্তু সম্ভব নয়।
এডিটিং (সম্পাদন) সম্ভব নয় এবং তার অনুমতিও নেই। সমস্ত আচার্য (আধ্যাত্মিক শিক্ষক), এমনকি যারা হিন্দুধর্ম গ্রহণ করে না, তারাও 'এডিটিং করা হবে না' এই মৌলিক নৈতিকতা স্বীকার করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, রামানুজের কিছু অনুচ্ছেদ হয়ত স্বীকার করেন নি, কিন্তু তিনি কোন এডিটিং করেন নি। একইভাবে চার্বাক, এক বস্তুবাদী, কিছু শ্লোক হয়ত গ্রহণ করতে পারে নি, কিন্তু কোথাও এডিট করেন নি। এমনকি বৌদ্ধরাও একটি উপনিষদ স্বীকার করে না, এমনকি তারাও কখন কোন এডিটিং করে নি। তোমরা দেখতে পারো, যে কোন বৌদ্ধ বিহার বা বিশ্ববিদ্যালয়ে তালগাছগুলি হিন্দু মঠের রাখা আছে।
আদি লেখনে কোন প্রকার বিভ্রান্তির অবকাশ নেই; কোন উদ্দেশ্য সাধনের কোন ব্যাপার নেই, কোন বিকৃতি নেই। একইভাবে যদি শঙ্করাচার্যের (সম্প্রদায়ের) রক্ষিত সম্মানিত তালপত্রের সংরক্ষণাগারে গিয়ে পুরোপুরি সত্য অবস্থান করে নেতৃত্বে পাবে। তারা হয়ত বৌদ্ধধর্ম স্বীকার করে না, কিন্তু কেউ নিজের উদ্দেশ্যসাধনের জন্য হস্তক্ষেপ ক'রে তাতে কোন শব্দ প্রবেশ করানো বা মুছে দেওয়ার সাহস করবে না।
এই মহান হিন্দু সংস্কৃতি, জীবনশৈলী ও প্রথাতে তুমি যা দেখ, তুমি তাদের পরিবর্তন, এডিট অথবা বিকৃত করো না। কী সুন্দর সততা ও সাধুতা! কল্পনাতীত সাধুতা এবং বাণী (বাক্) বা মাত সরস্বতীর প্রতি শ্রদ্ধা! সরস্বতী হলেন পবিত্র কাপড়েশ্বরী। বৈদিক প্রথার, হিন্দু প্রথার ও ভারতবর্ষের জীবনরেখা এই উপনিষদসমূহকে তো কেবলমাত্র স্মরণ করেও মহানন্দ পাওয়া যায়।
মহাজাগতিক চৈতন্য! যখন তোমার চেতনায় মহাজগৎ থাকে, তখন মহাজগতের চেতনাতে তুমি থাক।
একমাত্র উপনিষদসমূহ অবতার সৃষ্টি করে
যে কোন আধ্যাত্মিক পুস্তক তোমাকে সত্যে নিমজ্জিত হবার জন্য উদ্দীপনা দিতে পারে; কিন্তু মহাজগৎকে তোমার মধ্যে নিমজ্জিত হবার উদ্দীপনা কেবল উপনিষদসমূহই দিতে পারে। তাই অবতার ঘটে ভারতে, যে পবিত্র দেশের শ্বাসপ্রশ্বাসই হল উপনিষদসমূহ।
যখন তুমি ভয় অনুভব কর, কোন কিছুর দ্বারা আতঙ্কিত হও, সেই পরিস্থিতিতে তুমি নিজের প্রচেষ্টায় পরিবর্তিত করার প্রয়াস কর; তা হল যোগ। আর তুমি সর্বোচ্চ বুদ্ধিমত্তার কাছে নিজেকে সমর্পণ করে ও সেই বুদ্ধিকে তোমাকে রক্ষা করতে অনুরোধ করতে অনুরোধ কর, তা হল ভক্তি।
কখনও তোমার হানি করা যায় না, এটা জেনে প্রকৃত আনন্দ সমস্ত ভয় ও আতঙ্ক মুছে ফেলে হল অদ্বৈত জীবন। উপনিষদসমূহ অদ্বৈত জীবন অভিব্যক্ত করে।
উপনিষদের নানা ব্যাখ্যা উপনিষদসমূহের পবিত্রতা ফেলে না। কখনও কখনও মানুষেরা হিন্দুধর্মের মধ্যে লড়াই এবং মতপার্থক্য সম্বন্ধে প্রশ্ন করে, 'এমনকি শঙ্করাচার্য, রামানুজাচার্য, মাধবাচার্যের মত মাস্টারদের মধ্যেও অনেক মতভেদ ছিল। সর্বোচ্চ পরস্পরের সাথে সমলয়ে নেই। তাহলে আমরা সাধারণ মানুষ কিভাবে কিছু বুঝতে পারব? কোনটাকে সঠিক ব'লে স্বীকার করব?'
এক বৈজ্ঞানিক কিছু আবিষ্কার করে এবং সে নোবেল পুরস্কার পায়। কয়েক বছরের মধ্যে আরেকজন বৈজ্ঞানিক আগের বৈজ্ঞানিকের আবিষ্কার করে এবং সে ও নোবেল পুরস্কার পায়। তার অর্থ এই নয় যে তাদের মধ্যে মতভেদ আছে, এখন অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে প্রকাশিত করা হল। তার অর্থ এই নয় যে প্রথম বিজ্ঞানীর আবিষ্কার ভুল ছিল। প্রকৃতপক্ষে প্রথম আবিষ্কারের জন্য, আর যেভাবে প্রথম বিজ্ঞানী আমাদের উত্থান করেছিল, সেজন্য দ্বিতীয়টি বিভিন্নভাবে সম্ভব হল। জ্ঞানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন মতামত অর্থ নানা চিন্তাধারা এবং একাধিক পছন্দের অবাক করা ক্ষমতা। অবাক করা সম্ভাবনা। সকলে নিজের মত ক'রে প্রকাশ করে। আর তুমি শঙ্করাচার্য পাঠ ও আত্মভূত করার
পরেও তুমি কখনও শঙ্করাচার্যের অনুগামী হবে না; তুমি কেবল শঙ্করাচার্যের একটি প্রকাশ হবে।
তাই শৈবদের একটি সুন্দর শব্দ আছে - শিবগণ, যারা শিবের ভাবনাতে থেকে শিবত্ব বিকিরণ করতে থাক, তুমি শিবের অনুগামী হবে না, তুমি শিবের মূর্তপ্রকাশ, শিবগণ হয়ে যাবে। গণ অর্থ, যে ভাবনার বাস্তব রূপ প্রদান করে, যে পরিপূর্ণ।
তাই উপনিষদের ওপরে মতভেদ ও ভিন্ন ভিন্ন ভাষা যেন তোমাকে উপনিষদ থেকে দূরে না সরিয়ে নেয়, বরঞ্চ এজন্য তোমার মূল উপনিষদসমূহ পাঠ করার জন্য অনুপ্রাণিত হওয়া উচিত। আমাদের হয়তো হাজার মতামত ও ধারণা আছে, কিন্তু কেউই উপনিষদসমূহের সাধুতাকে, তাদের প্রামাণিকতাকে, তাদের কর্তৃত্বকে প্রশ্ন করে না। সেখানেই সবাই একত্ব হয়, একসাথে হয়। প্রতিটি বিজ্ঞানীর হয়তো নানা আবিষ্কার, বিভিন্ন তত্ত্ব ও গবেষণামূলক মতামত আছে, কিন্তু তারা সবাই বিজ্ঞানের আত্মাকে স্বীকার করে চলে। একইভাবে, প্রত্যেক মাস্টারের হয়তো আলাদা ধারণা, ভিন্ন তত্ত্ব ও নীতি আছে, কিন্তু তাঁরা সকলে উপনিষদসমূহের আত্মাকে স্বীকার করেন। উপনিষদসমূহকে যত বেশী পাঠ করবে, বারবার পড়বে, বুঝবে ও আত্মভূত করবে, ততই তুমি অন্তর থেকে সুন্দর হবে। প্রতিটি সত্য যা তোমাকে মহাজাগতিক চেতনাতে জড়ায় চেতনাতে টেনে আনে। ব্রহ্মাণ্ডকে পিণ্ডাণ্ডে প্রবেশ করতে হবে এবং পিণ্ডাণ্ডকে প্রবেশ করতে হবে ব্রহ্মাণ্ডে। ব্রহ্মাণ্ড (macrocosm) হল বৃহৎ জগৎ ও পিণ্ডাণ্ড (microcosm) হল ক্ষুদ্র জগৎ, মনুষ্য ব্রহ্মাণ্ডকে পিণ্ডাণ্ডের অংশ হতে হবে, আর পিণ্ডাণ্ডকে অংশ হয়ে যেতে হবে। কেবল বিন্দু মহাসাগরে মিশে গেলে হবে না, মহাসাগরকে বিন্দুতে মিশে যেতে হবে।
বিন্দুর মহাসাগরে মিশে যাওয়া হল জীবনমুক্তি (Enlightenment)। যখন মহাসাগর বিন্দুতে মিশে যায়, তিনি এক অবতার (Incarnation)। উপনিষদসমূহ বারবার, বারংবার পাঠ কর, যত তোমার পাঠ করলে ও বুঝতে পারলে, তুমি সেই ধারণাতে মিশে যাও। কিন্তু যখন সেই ধারণা তোমার মধ্যে মিশে যায়। কেবল যেন ধারণা তোমার হয়ে সুরক্ষিত হওয়া হয়ে না, তা তোমার জীবনে হারিয়ে যাবে না, তা তোমার অংশ হয়ে যাবে।
পিণ্ডাণ্ডের ব্রহ্মাণ্ড হয়ে যাওয়া হল জীবনমুক্তি। ব্রহ্মাণ্ড হলে তা হয় অবতার। তোমার মহাজাগতিক চৈতন্য হয়েছে এবং মহাজগতের চৈতন্যে তুমি আহ্বান মহান সত্যসকলে মিশে যাওয়া এবং মহান সত্যসকলের তোমাতে মিশে যাওয়া; দুটো পুরোপুরি ভিন্ন।
উপনিষদসমূহ সহকারে মহান সত্যগুলি তোমাকে কেবল শেখাতেই উদ্দীপ্ত করবে, তা নয়, এমনকি সেগুলিও তোমার মধ্যে দ্রবীভূত হয়ে যাবে। যে কোন ধর্মগ্রন্থ অথবা মহাপুরুষ লিখিত কিছু শ্লোকের পাঠ তোমার জন্য উদ্দীপ্ত করতে পারে। সেটাকে বৈদিক প্রথার মহান ঋষি ও সাধক, মীরা, জ্ঞানসম্বন্ধর, মাণিক্যবাসগর, রামদাস, চৈতন্য মহাপ্রভু, এনারা বলেন 'ভক্তি'। তাঁরা সবই মহাজগতের সাথে মিশে যাবার জন্য ভাব ও আবেগের প্রকাশে ব্যবহার করেন।
তোমাকে সত্যে মিশে যাবার জন্য উদ্দীপ্ত করতে যে কোন ধর্মগ্রন্থই পারে; কিন্তু মহাজগৎকে তোমার মধ্যে মিশে যাবার জন্য অধীন করতে কেবল উপনিষদসমূহ পারে। কেবল উপনিষদসমূহ তোমাকে সেই উচ্চতায় উন্নীত করতে পারে – তুমি এত বিষয়ে মধ্যে মিশে যাও। পিণ্ড পিণ্ডও এত বড় হয়ে যায় যে ব্রহ্মাণ্ড তাতে দ্রবীভূত হয়ে যেতে পারে। পুরো ব্রহ্মাণ্ডকে তোমার মুখটিকে সম্পূর্ণ ব্রহ্মাণ্ডের আকারে হয়ে খুলতে হবে। সত্যকে তোমার মধ্যে মিশে যাবার জন্য তোমাকে তো সত্যটির থেকে দীর্ঘকায় হতে হবে। তা কেবল উপনিষদসমূহ দ্বারা ঘটতে পারে। সেইজন্য উপনিষদসমূহ কেবল জীবনমুক্ত সত্তা বিকশিত করে তা নয়, উপনিষদসমূহ অবতার তৈরি করে।
লোকেরা আমায় জিজ্ঞাসা করে, 'কেবল ভারতে কেন?' এই দেশের মাটি, উপনিষদসমূহ-ই কেবল অবতার নির্মাণ করতে সক্ষম, তাই ভারতে বহু অবতারগণ এসেছিলেন, আছেন ও আসতে থাকবেন। পৃথিবীতে যদি অবতারগণের সম্ভব হতে হয়, তা একমাত্র ভারতেই সম্ভব, কারণ উপনিষদসমূহ সহকারে জীবন যাপন কেবল ভারতেই হয়। কেবল উপনিষদসমূহের জন্য এই দেশ হল সবচেয়ে পরিবার। এই সত্য শ্বাস-প্রশ্বাস হয়ে আছে ও থাকবে, ভারতবর্ষে অবতার ঘটতেই থাকবে।
।। বেদ বেদান্ত সারঃ ॥ বেদ বেদান্তের সুগন্ধসার হল উপনিষদসমূহ। তোমাকে মহাজগতে নিয়ে যাবার জন্য এর সক্ষমতা, তোমাকে মহাজগতে উত্তোলন করার জন্য এর দক্ষতা, তোমাকে মহাজগতে বিকিরণ করানোর জন্য এর নিপুণতা; তা প্রশ্নাতীত, অকল্পনীয়।
বিজ্ঞান, ঐশ্বরিক চেতনার জন্য তোমার সত্তাকে বিশোধন কর
সত্তার সত্য সূর্য-চন্দ্র চক্র দ্বারা পরিবর্তিত হয় না। কিছু গ্রন্থ তোমার মধ্যে জ্ঞান ও ভক্তি জাগরিত করতে পারে; কিন্তু একমাত্র উপনিষদসমূহ তোমার সত্তায় জ্ঞান-ভক্তি-বিজ্ঞান তিনটি জাগ্রত করতে পারে।
উপনিষদসমূহ সুবিশাল! এর পাঠ ও উপলব্ধি দ্বারা বিশোধিত হয় ঐশ্বরিক ভাবানুভূতি ও তোমার অস্তিত্বের খবরতা। কিছু গ্রন্থ তোমার বুদ্ধিকে পরিশোধিত করে, কিছু গ্রন্থ তোমার ঐশ্বরিক ভাবাবেগ বিশোধিত করতে পারে, কিন্তু একমাত্র উপনিষদসমূহ তোমার বিস্ময়কর অস্তিত্বকে (সত্য, beingness) পরিশোধন করতে পারে।
তোমার বিশুদ্ধ অস্তিত্ব অর্থ, মুক্তিকে ভবিষ্যৎ-বর্তমান বিদ্যমানতা হিসাবে অভিজ্ঞতা করা; মুক্তিকে তোমার ভবিষ্যৎ-বর্তমান-অতীত হিসাবে অভিজ্ঞতা করা। তোমার সত্তাকে শোধন করলে পুত বুদ্ধি তোমার সত্তায় এবং তা তোমার সত্তায় চেতনা হয়ে থেকে যায়; এটা তো এক শক্তিশালী অভিজ্ঞসামনের সত্য।
উদাহরণস্বরূপ, যদি তোমার 'তুমি' সম্পর্কে একটি দৃঢ় বিশ্বাস থাকে - আশীর্বাদপূর্ণ সত্য, ঈশ্বর তোমার সহায়তা করছেন ও তিনি অবিরাম তোমার যত্ন করছেন: তুমি তার কাছে প্রার্থনা করলে তিনি তোমার সহায়তা করেন। এটা নিজের সম্পর্কে তোমার খুব সুন্দর সম্মোহ ও পবিত্র অভিজ্ঞতাগুলির মধ্যে একটি। একইভাবে যদি তোমার সেই অনুভূতির সংযুক্তি থাকে, 'যখনই আমি ঈশ্বর বা গুরুর দিকে থাকি, সাথে সাথে তিনি আমার কাছে উপলব্ধ হন,' যদি এটা তোমার অংশবিশেষ হয়, তাহলে এটা বিশ্বাস (faith or belief) নয়।
এগুলো বিশ্বাস, ফেইথ বা বিলিফ, নয়। এগুলো আরও অবহিত হওয়া চারপাশের তথাকথিত বাস্তবতার চেয়েও বড়ো। যদি তুমি অনুভব কর - যেই মুহূর্তে তুমি তোমার
ইষ্ট দেবতা বা গুরুর সাথে সাড়া দেন, তিনি তোমার সাথে থাকেন - সেটা সূক্ষ্মতম বিস্ময়ের ভাবাবেগ। আবার পরিণামে আমি জানি আমি জীবনমুক্ত হব এবং মহাজগতে আনন্দে থাকব। জন্মমৃত্যুচক্রের ধ্বংসের কোনও একটিকে মানুষ তার মধ্যে খুব গভীরতাবে অনুভব করে। এটা বিশ্বাস বা ফেইথ নয়, তা স্বচ্ছভাবে বুঝে নাও।
বিশ্বাস সূর্য-চন্দ্রের সাথে আসে আর যায়। যা কিছু সূর্য চক্রের সাথে উদিত হয় ও অস্ত যায়, তা বিশ্বাস। যদি পূর্ণিমাতে অনুভব কর সবকিছু ভাল চলছে, তারপর অমাবস্যায় দেখ, 'না। জানি না। এখন হচ্ছেটা কী?', তাহলে সেটা বিশ্বাস। সূর্য-চন্দ্রের চক্রের সাথে যা আসে আর যায় তা হল বিশ্বাস।
কিন্তু কখনও কখনও আসা-যাওয়ার বিশ্বাসের ঊর্ধ্বে কিছু উপলব্ধি তোমার জন্য স্থান হয়ে যায়, তা সেখানে সদাই সকল পরিস্থিতিতে থেকে যায়। কেবল সেগুলি সূক্ষ্ম, শুদ্ধ ভাবাবেগ, বুদ্ধি এবং সত্তার সত্য।
ঐশ্বরিক ভাবাবেগ, সত্তার সত্য এবং পুত বুদ্ধি, আসা-যাওয়ার সূর্য-চন্দ্র চক্রের রীতিকে পরিবর্তিত হয় না। যদি তোমার বুদ্ধিগত বোধ থাকে, 'আর যাই হোক এগুলি সব যেখান থেকে এসেছিল সেখানেই মিশে যাবে,' যদি এই উপলব্ধি সূর্য-চন্দ্রের আসা-যাওয়া দ্বারা পরিবর্তিত না হয়, তাহলে তাকে বলে জ্ঞান। একইভাবে, 'আমার যতই আত্মসংশয়, আত্মবর্জন থাকুক, যে উৎস থেকে আমি ঘটেছি তা আমাকে কখনও বর্জন করে না। তিনিই তো উৎপাদনস্থল ও আগামীকাল
আমাকে তাঁর সাথে মিশে যেতে হবে। তাঁকেই তো আমাকে তাঁর আধারের তাঁর মধ্যে মিলিয়ে যেতে হবে। তাই তিনিই তো পরা।' - যদি এই উপলব্ধি, এই অনুভূতির সংযুক্তি তোমার মধ্যে ঘটে, যা সূর্য-চন্দ্রের আসা-যাওয়া দ্বারা পরিবর্তিত হয় না, তাকেই বলে ভক্তি বা ঐশ্বরিক ভাবাবেগ। (আত্মসংশয় থেকে আত্মবর্জন হয়। ইংরাজীতে self-doubt, self-hatred, self-denial, স্বামীজী একে বলেন SDHD
আর যদি এরকম ধারণা হয় যে, 'আমি এখন বন্ধন বা মুক্ত, পরিণামে আমাকে কখনও বন্ধনে রাখা যায় না, কারণ আমি মহাজগতের প্রতিবিম্বন। সহজগৎ বা প্রতিবিম্বন - কোনটিকেই বন্ধনে রাখা যায় না, আবার জলে বা আয়নাতে তার প্রতিবিম্বনকেও বেঁধে ফেলা যায় না। তুমি আয়নাটিকে বেঁধে ফেলতে পার বা জলকে পাত্রে আটকে রাখতে পার। প্রতিবিম্বন তোমার অনুসরণ করে, যা সূর্য ও চন্দ্রের সাথে যাওয়া আসা করে না, উপরে নীচে হয় না, তাহলে সেটাকে বলে বিজ্ঞান, চৈতন্য, ঐশ্বরিক চেতনা, মহাজাগতিক চেতনা।
কিছু গ্রহ তোমার মধ্যে জ্ঞান জাগরিত করতে পারে, ভক্তি জাগরিত করতে পারে; কিন্তু একমাত্র উপনিষদসমূহ জ্ঞান-ভক্তি-বিজ্ঞান তিনটিই তোমার মধ্যে জাগ্রত করতে পারে। উপনিষদসমূহ, কেবল উপনিষদসমূহের তোমার মধ্যে এই তিনটিই জাগরিত করার সামর্থ্য আছে।
এটা গঙ্গামাতা ও সরস্বতীমাতার উপহার। সরস্বতী ও গঙ্গা উপত্যকায় সেই সভ্যতা ঘটে; তাদের যুদ্ধ হয়নি, সেই সভ্যতার কোনও শত্রুতা বা দখল করার প্রবণতা ছিল না, সেই সভ্যতা বহির্জগতের সুখের জন্য বিচলিত ছিল না। আমাদের পূর্বপুরুষেরা বহির্জগৎ সম্বন্ধে অবিদিত ছিলেন না, তারা বহির্জগৎ নিয়ে সচেতন ছিলেন।
বিত্রত হন নি! সেই মহান সভ্যতায়, যেখানে সমস্ত প্রয়োজনীয়তা পূরণ করে স্বাভাবিকভাবে বিরাট শান্তি প্রদান করা হয়েছিল, সেখানে উপনিষদসমূহ ঘটে। বাজ বুব নাও, জারার রাজ্য রাষ্ট্রপূর্ণ, ভারত মণ্য়া করণ ভার, জা রান জান - দেশবিক চরনী, জক - দেশীল জানা জুলাই বার বিশ্ববিদ্ চেতনা।
বুঝে নাও, উপনিষদসমূহ অভিজ্ঞতা করার জন্য তোমার যে বোধের প্রয়োজন তা হল উম্মুক্ততা, আর কিছুই নয়। উপানিষদসমূহকে উন্মুক্ত হয়ে গ্রহণ কর, তবেই জ্ঞান-ভক্তি-বিজ্ঞান, তিনটিই তোমার মধ্যে ঘটবে।
অদ্বৈত জীবন, উপনিষদসমূহের সুগন্ধসার
অদ্বৈত জীবন যাপন করার জন্য প্রয়োজনীয় বুদ্ধি -সম্পর্কিত সমস্ত বোধ হল জ্ঞান। অদৈত জীবন যাপনের জন্য প্রয়োজনীয় অনুভুতি -সংযুক্তির সমস্ত শক্তিগুলি হল ভক্তি। অদ্বৈত জীবন যাপনের জন্য সমস্ত প্রয়োজনীয় চেতনাগুলি হল বিজ্ঞান।
অছৈত জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত বৌদ্দিত আবার কা অর্থ সর্ব-শক্তি, সর্ব-জ্ঞান, সদা আনন্দ, সংচিদানন্দ বিকিরণ করা। সংচিদানন্দ বা সচ্চিদান্দ (সৎ - সত্য, চিৎ - জ্ঞান, আনন্দ) হিন্দু মতে বা নির্দিষ্টারণ্যের আদি প্রায় করেন বা নৈর্যিংয়ের আদি পাহিদান্দ এক বাস্তবতা: উপনিষদস্যুহ। উপনিষদস্যু অহৈত জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রসারণা উপনিষদস্যুহ যেভাবে জ্ঞান ব্যাখ্যা করে, তা বোঝার জন্য তোমাকে অথেত জীবন যাপন করতে হবে। এইপ্রকার অতি উৎকৃষ্ট মন্তিষ্কে অলীক কল্পনা অথবা বাঁরা এই প্রকার উচ্চপ্তরের সত্যসকলকে আয়ত ক’রে, উপনবি ক'রে কার্যের মাধ্যমে উপস্থাপিত করতে পারে, কোনভাবেই তুমি তাঁদের অলীক কল্পনা দোমারোপ করতে পার না। সেইজন্য সংচিদানন্দ বিভ্রান্ত সংচিদানন্দ বিভ্রান্তি নয়। তা তোমার প্রাতঃ রাশ বা শুভরাত্রির নিদ্রার মতই সত্য। যদি তুমি আমাকে এসে বল যে তুমি প্রাঙ্গাল (রেক্সফট) করেছ, আমি তোমাকে মায়া বা বিভ্রান্তিতে আছ বলে অভিযুক্ত করব না। আমি জানি তা এক বাস্তব কারণ প্রাঙ্গনাশ সম্ভব, তুমি তা খেতে পারে। যদি বল, রাতে ভাল ও শান্তিপূর্ণ ঘুম হয়েছে, তখন আমি তোমাকে বিভ্রান্ত বলব না। রাতে ভাল ঘুম তো এক সহজ সম্ভাবনা!
সৎচিদানন্দ - সর্ব-জ্ঞান, সর্ব-শক্তি, সদা-আনন্দ, এমনই এক সহজ সম্ভাবনা।
তোমার উচ্চতর সম্ভাবনার বিদ্যমানতাকে অস্বীকার করা খুবই হতাশাজনক, অস্বীকার করা হল তোমার ভবিষ্যৎকে বর্জন করা। যদি তুমি অস্বীকার কর যে তুমি কখনও ধনী, সুখী, সাচ্ছদ্যময় হতে পার, তুমি তাহলে তোমার সম্পূর্ণ ভবিষ্যৎকে অস্বীকার করছ। একইভাবে তোমার সংচিদানন্দের সম্ভাবনাকে অস্বীকার করার অর্থ হল তোমার আধ্যাত্মিক ভবিষ্যৎকে অস্বীকার করা হয়। কেউ যেন তোমাকে আধ্যাত্মিক আত্মহত্যা করার জন্য জোর না করে। আর অসংখ্য মানুষ আছে যারা তাদের সরাসরি ও পরোক্ষভাবে শিক্ষা ও প্রচারের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক আত্মহত্যা করার জন্য জোর করে যাচ্ছে। টিভি, সিনেমা, বই, নানা বিনোদনের শো, প্রচারমাধ্যম (মিডিয়া), ইন্টারনেটের মাধ্যমে লোকেরা অনবরত তোমার আধ্যাত্মিক সম্ভাবনাকে অস্বীকার করার জন্য জোর করে চলেছে। শুরু হল এই সকল অজ্ঞতার জন্য মৃত্যুর ঘন্টা। শুরু হল তোমার আধ্যাত্মিক সম্ভাবনার জন্য এক শক্তিশালী জেগে ওঠার ডাক। তোমাকে তোমার আধ্যাত্মিক ভবিষ্যতের নিমিত্ত জাগ্রত করা, তোমাকে তোমার আধ্যাত্মিক সম্ভাবনাতে জাগ্রত করা - তা হল গুরু বা মাস্টারের কাজ!
্ৰাম্য কৰিছিল। তেওঁ পাৰ্টি আৰু প্ৰায় বা অলীক কল্পনা নয়। সংচিদানন্দ জীবন যাপন করা সম্ভব। অদ্বৈত জীবন সম্বন্ধে এটাই আমি প্রথম বিবৃতি হিসাবে দিতে চাই দ্বিতীয় : সেই আধ্যাত্মিক সম্ভাবনার জন্য যে বোধসমূহ তোমার চাই, তা হল জ্ঞান।
তারপর যখন তুমি অদ্বৈত জীবন যাপন শুরু কর, রূপান্তরণের মধ্যে দিয়ে চালিত কিছু আবেগের-বল তোমার দরকার। ভক্তি, ভাব ও আবেগের প্রখরতাকে অদ্বৈত জীবনে প্রবলভাবে প্রবেশ করার জন্য ব্যবহার করা যায় এবং তবে তুমি উচ্চ থেকে উচ্চতর স্তরে যেতে পার।
বুদ্ধি দিয়ে বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্তে এসে মানুষের সামগ্রী এর নয় : যারা এরকম করেছে তাদের সংসারজীবন কখনও সাথক হয় নি। তোমার ভাবাবেগ এক বিশ্বজয়ী শক্তি যা তোমাকে এক আকাশে থেকে অন্য আকাশে নিয়ে যায়। যারা সেই ক্ষমতা, সেই শক্তি ব্যবহার করে সন্তান গ্রহণ করার নিমিত্ত নেয়, একমাত্র তারাই সফল সন্তানী হয়। বুদ্ধি দিয়ে যারা বিশ্লেষণ করেছিল, তারা কখনও নয়। যদি তুমি অদ্বৈত হতে পার, সেটা তোমার বিশুদ্ধ ভক্তির ক্ষমতা! সেটা কেবলমাত্র তখনই হবে যখন তুমি তোমার ভাবাবেগের ও ভক্তির শক্তিকে ব্যবহার কর। সেটাই তো জীবন।
বুঝে নাও, অদ্বৈতজীবন অভিজ্ঞতা করা নিমিত্ত প্রয়োজনীয় ঐশ্বরিক ভাবাবেগ হল ভক্তি। আর প্রয়োজনীয় ঐশ্বরিক চেতনা অর্থাৎ অদ্বৈতজীবন অভিজ্ঞতা করা নিমিত্ত কোন সংশয় বিনা মৌলিক বোধগুলি হল বিজ্ঞান।
আধ্যাত্মিক পুস্তক পাঠ অথবা সৎসঙ্গ শ্রবণ হল আধ্যাত্মিক চেতনার জন্য অনুমতি প্রদান করা। যদি তুমি মাস্টারের মুখনিঃসৃত দশটি কথা শোন, তুমি হয়তো দুটি ধারণা নিয়ে তর্ক করবে, কিন্তু হঠাৎ চার-পাঁচটা ধারণা অন্তরে প্রবেশ করে তোমার চেতনাতে মিশে যাবে এবং তোমার অটল বোধপতি হয়ে যাবে।
এমনকি তখন তুমি সেখানে সম্বন্ধে প্রশ্ন করাও ভুলে যাবে। তোমার আধ্যাত্মিক চেতনাকে প্রতিদিন উচ্চ থেকে উচ্চতর স্তরে নিয়ে যাওয়া, আত্মঘৃণা ও আত্মবর্জনের ঊর্ধ্বে নিয়ে যাওয়া হল সৎসঙ্গের উদ্দেশ্য।
উপনিষদসমূহের প্রধান সুগন্ধসার হল তোমাকে জ্ঞান, ভক্তি ও বিজ্ঞান প্রদান করে অদ্বৈতজীবন যাপনে সহায়তা করা। সত্যসকল, ঐশ্বরিক ভাবাবেগ, ঐশ্বরিক চেতনা -এই উপলব্ধিগুলিকে তোমার সত্তায় নিয়ে আসা হল অদ্বৈতজীবন।
উপনিষদসমূহ তোমার মহাদেব-উপাদানকে স্মরণ করায়
মহাদেব-উপাদান, যা তোমার ইচ্ছা পূরণ করে, যা তোমাকে নিজের সম্বন্ধে খুবই সুন্দর অনুভূতি প্রদান করে, তা হল প্রকৃত তুমি। তা কেউ ছিন্ন করতে, দগ্ধ করতে বা তোমার থেকে সরিয়ে ফেলতে পারে না!
উপনিষদমূহে অতিরিক্ত কিছুই বলা হয় নি। এতে কোন সম্পাদনা (এডিটিং) বা ভাষ্য ও টীকা সম্ভব নয়। তা এত সুব্যক্ত ও যথার্থ। তাতে অতিরিক্ত কিছু যোগ করা যায় না। হয়তো তাতে কোনকিছু হাইলাইট ক'রে বারবার পুনরাবৃত্তি করতে পারা যায়।
জীবনে শ্রেষ্ঠ হবার জন্য, তোমার সর্বোচ্চ সম্ভাবনাতে পৌঁছানোর জন্য, ঈশ্বরের বোধ প্রয়োজন, তা উপনিষদস্যুহ সম্পূর্ণরূপে আছে। পাশে কোন লোককে বসে থাকতে দেখলে তুমি কেন অনুভব কর; পাশে বসা একটি কুকুর দেখে তুমি কি অনুভব কর; সামনে একটি গাছ দেখলে তুমি কি অনুভব কর; তোমার সেই অনুভূতির ওপরে ভিত্তি করেই তারা তোমাকে সাড়া দেবে। যদি তুমি পাশে বসা লোকের প্রতি নির্মল হও, তুমি সাড়া দেবে প্রেম বা উপেক্ষা সহকারে অথবা অন্য কোন ভাবে। পাশে বসা কুকুরটিকে তুমি অন্য কোনভাবে সাড়া দেবে। কিন্তু যদি তুমি একইভাবে গাছকে সাড়া না দাও, তার অর্থ তুমি অনুভব কর না যে গাছেরা জীবন্ত।
এই যুক্তিটিকে শ্রবণ কর; তুমি সিদ্ধান্তটি বুঝতে পারবে। আমরা কেন বলি, মানুষটি আরও বেশী জীবন্ত, কুকুরটি একটু কম জীবন্তঃ কেন? কারণ, আমাদের একটি ভুল অবগতি আছে - কার্য জীবন নির্ণয় করে।
অস্তিত্ব জীবন নির্ণয় করে, কার্য নয়।
যেহেতু মানুষ কুকুরের চেয়ে বেশী কার্য করতে পারে, গাছের চেয়ে বেশী কার্য করতে পারে, তুমি কার্যের ভিত্তিতে জীবনের অস্তিত্বকে মাপ। এটাই মৌলিক ভুল। এই প্রকার মৌলিক ভুলগুলি একমাত্র উপনিষদসমূহ দ্বারা মেরামত করা যায়, কেবল উপনিষদের ঋষিদের শরীরেই সেই প্রকার অন্য-আকাশ আছে। তোমার পাশে বসা কুকুরকে দেখে তুমি যদি নির্মলতা হও, তুমি হয়তো সাড়াই দেবে না এবং সেই কুকুরটিও সাড়া দেবে না। যদি কুকুরটির অস্তিত্বকে স্বীকার কর, সে নিজেকে ভালবাসবে ও তোমাকেও ভালবাসবে।
যে তোমায় নিজেকে ভালবাসতে শেখায়, তুমি তাকে নিয়ম। তোমার মনোভাব ভিন্ন হতে পারে : শ্রদ্ধাশীল, কখনও সক্ষম, কখনও ভয়; কিন্তু যে তোমাকে তোমার নিজের সাথে প্রেম করাবে। আমার সমস্ত কাজ হল মানুষকে নিজের সাথে প্রকৃত প্রেম করানো। আমি অধিক জীবন হিসাবে তোমার অস্তিত্বকে সম্মান করছি। যেভাবে আমি তোমার অস্তিত্বে সাড়া দিই, একইভাবে আমি গাছগুলোর নিজের স্বার্থে শোষণ করার প্রবৃত্তি নেই এবং যা কিছু তারা নয়, তা তারা তাদের অংশ হিসাবে পেতে চায় না। কিন্তু মানুষ যা তাকে নিজের অংশ হিসাবে আত্মসাৎ করে। তাই যে মুহূর্তে আমি সেই অংশকে আলাদা করি এবং দেখাই - তুমি কি - তুমি আমার সাথে প্রেম করে ফেলবে !
মহাদেব-উপাদান, যা তোমার ইচ্ছা পূরণ করে, যা তোমাকে নিজের সম্বন্ধে খুবই সুন্দর অনুভূতি প্রধান করে, তা হল প্রকৃত তুমি। তোমাদের সবার মধ্যে মহাদেব-উপাদান আছে, যা তোমায় নিজের সম্মন্ধে এত সুন্দর অনুভূতি প্রদান করে। বলে যে সেই উপাদান তারা কখনও দেখে নি বা তাদের মধ্যে নেই অথবা তারা এখানে আসার
পরে কেউ তা চুরি করেছে। প্রেম করা কেউ তা কেটে দেয় না, তাকে কেউ দগ্ধে না বা তোমার থেকে নিয়ে নিতে পারে না। আমাদের সবার সঙ্গে মহাদেব-উপাদান আছে। তুমি যতই অস্বীকার কর না কেন, তুমি তা অভিজ্ঞতা করেছই করেছ। যেই মুহূর্তে আমি তোমাকে জীবনমুক্ত সত্তা, শিব-গণ, মহাদেবের প্রতিমূর্তি হিসাবে সম্মান করি, তুমিও নিজেকে শ্রদ্ধা করা শুরু কর।
যখন তুমি জানতে পার তোমার মধ্যে মহাদেব এখনও সক্রিয়, জীবন্ত ও তার মেয়াদ শেষ হয় নি, তখন তুমি তোমার সাথে প্রেমে পড়।
নিজের সাথে প্রেমে পড়া হল নিত্যোৎসাহ (নিত্য উৎসাহ) বা চিরন্তন উপায়। আর কিছু তোমাকে চিরন্তন উদ্দীপনা দিতে পারে না। তোমার মহাদেব –উপাদানের সাথে প্রেমে পড়, সেই উপাদান তো চিরন্তন উদ্দীপনা, অনুপ্রেরণা, নিত্যের ভিতরে চিরন্তন উৎসাহকে স্পর্শ করেছে, একমাত্র তারই ঠুকির ওপর সহিষ্ণু হয়ে থাকে। তোমার মধ্যে অযৌক্তিক সহিষ্ণুতা তখনই ঘটবে যখন তুমি তোমার মহাদেব -উপাদান, ঈশ্বরের অংশকে উপলব্ধি করে কারণ তুমি তো তখন অস্তিত্বের সাথে প্রেমে আছ। তুমি তো সেই অস্তিত্বের সাথে সমাধিতে আছ।
তোমার সেই মহাদেব-উপাদানের সাথে প্রেমে থাকা হল ভক্তি।
যখনই তুমি শুরু অনুভব কর, সেই উপাদানটিকে আবার আঁকড়ে ধর। সেই উপাদান তোমাকে অসাধারণ সহিষ্ণুতা দিয়ে আসবে যা সমস্ত যুক্তির ঊর্ধ্বে। যে যুক্তির ঊর্ধ্বের সহিষ্ণুতা
অর্জন করছে, সে কখনও বিরক্ত হয় না অথবা বিনষ্ট হয় না। এটা জীবনের নিয়ম। যখন তুমি তো অস্তিত্বের সাথে প্রেমে আছ, তুমি তো তোমার সম্ভাবনাগুলির সাথে প্রেমে আছ। এটা কোন বিভ্রম বা মায়া নয়। এটা তোমাদের সকলের সম্ভাবনা।
কেউ তোমার চেতনাকে সরিয়ে ফেলতে পারে না, কেউ তোমার জীবনমুক্তিকে হরণ করতে পারে না। কেউ তোমার উপলব্ধিকে সরিয়ে ফেলতে পারে না - তুমি তো মহাদেব।
পরিশ্রান্তি ও বিষন্নতা হলেই স্মরণে রাখ, 'আমি মহাদেব আমার মাস্টার। মহাদেবের অভিজ্ঞতায় পৌঁছানোর জন্য তিনি আমাকে সর্বদাই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন ও সহায়তা করছেন' এটা বুঝে নাও, চিন্তা করার অক্ষমতা কখনও তোমার মহাদেব-অস্তিত্বকে হরণ করে না। তোমার কার্য তোমার শিবত্বকে, তোমার মহাদেব-উপাদানকে স্পর্শ করে না। কেউ তা বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে প্রকাশ করে। কিন্তু কেউ তা প্রকাশ করে অতিরাং করে অতিহত সঙ্গীক'রে - এটা তোমার বিশ্বাস করা এক বিরাট মিথ্যা! বুঝে নাও, অহঙ্কারের অভাব তামার শিবত্বকে কেড়ে নেয় না। উদাহরণস্বরূপ, যদি কিছু লাভ হয় গেলে উদ্বিগ্ন হবে না। কিন্তু অহঙ্কারের অভাব তোমার শিবত্বকে প্রসারিত ও বিকিরণ করতে দেবে না। যদি তুমি অহঙ্কারী হও, তুমি তাহলে জটিল করবে।
যখন আমি বলি, তোমার কাছে মহাদেবের উপাদান আছে, তার অর্থ তোমার অস্তিত্বের সর্বজ্ঞান, সর্বশক্তি, সদানন্দের সর্বোচ্চ সম্ভাবনা আছে, কারণ সেটাই তো প্রকৃত তুমি। সেই উপাদান নিয়ে জীবনযাপন শুরু কর, সেই উপাদানকে প্রেম করা শুরু কর।
এই উপাদানকে তোমার পেশাতে, তোমার কেরিয়ারে, তোমার সঙ্গীতে, তোমার জীবনে প্রকাশ করা শুরু কর। স্থির করা হয় পরিস্তিতিতে সাড়া দেবেন। 'যদি মহাদেব এই পরিস্থিতিতে হতেন, তিনি কিভাবে সাড়া দিতেন'। সেটাই ধর্ম - তোমার সমস্ত সম্ভবনা সহকারে আনন্দে থাকা। যদি সেই মহাদেব-উপাদান তোমার মধ্যে না থাকত, তুমি তো শ্বাস নিতে পারবে না! তোমার কল্পনীয়, অকল্পনীয় প্রজেক্টগুলি সমাপন করতে যত কিছু করতে হয়, তার দশ হাজার ভাগের একভাগও তোমাকে শ্বাসপ্রশ্বাসের জন্য তোমার যত সচেতনা ও অস্তিত্ব আবশ্যক হয়, কেবল তার দশ হাজার ভাগের একভাগ প্রচেষ্টা ও সচেতনতা প্রয়োজন তোমার জীবনের সমস্ত তথাকথিত প্রোজেক্টগুলিকে সমাপন করার জন্য।
তোমার জীবন আরও অনেক সহজ হয়, যদি তুমি অস্তিত্বসাৎ হও। সমস্ত সম্ভাবনাগুলিকে বাস্তবায়িত করার জন্য তোমাকে কোন আলাদা পদ্ধতি বা প্রক্রিয়ার প্রয়োজন নেই। তোমার পক্ষে সম্ভব নয় বলে যা কিছু তুমি বিশ্বাস করছিলে, তোমাকে কেবল সেইসব ভুল বিশ্বাসগুলিকে নাকচ করতে হবে। যা কিছু তোমার পক্ষে সম্ভব নয় বলে তুমি ইতিমধ্যে বিশ্বাস করা আরম্ভ করেছ - তা ঠিক আছে। তুমি কোন মীমাংসা কর নি অথবা বিশ্বাস প্রতিষ্ঠিত কর নি যে সেগুলি তোমার পক্ষে সম্ভব নয় - সেইগুলি তোমার পক্ষে সম্ভব। কেবল সেগুলি তোমার মধ্যে খুলতে শুরু করবে। তুমি যদি সম্ভাবনা খুলতে শুরু কর, সেগুলি হঠাৎ তোমার জন্য উপলব্ধ হয়ে যাবে। অনেক কিছুর জন্য তুমি দরজা বন্ধ কর নি, সেগুলি তো তোমার কাছে এখনও উপলব্ধ ও খোলা।
তোমাকে তোমার সমস্ত সম্ভবনা সম্পর্কে স্মরণ করানো হল অদ্বৈত জীবন এবং তা একমাত্র উপনিষদসমূহ দ্বারা সম্ভব।
মহাজগতের মত জীবনযাপন করার জন্য মহাজাগতিক চেতনা
উপনিষদসমূহ হল প্রথম, অগ্রণী ও অন্তিম কথা, ব্রহ্মাণ্ডকে ব্রহ্মাণ্ডের দেওয়া, মানবজাতিকে মহাজগতের দেওয়া। প্রতিটি উপনিষদ মন্ত্র হল মহাজগতের মত বাস করার জন্য মহাজাগতিক চেতনা। উপনিষদসমূহ বিজ্ঞানের মত প্রতিদিন বিকশিত হচ্ছে না। দুইটার সঙ্গে কেউ যোগ করল এবং সবাই তা সত্য বলে মেনে নিল। সেই সত্যকে ভিত্তি করে মানুষেরা তাদের জীবনকে সেইভাবে সারিবদ্ধ করবে। তারপর লোকেরা জীবনকে সেইভাবে সারিবদ্ধ করবে। তার পাঁচ বছর পরে, অন্য কেউ আসবে ও সেটাকে ভুল বলে ঘোষণা করবে এবং অন্য কিছুকে সত্য বলে প্রমাণ করবে।
এটা বুঝে নাও, সত্য যদি আগামীকাল পরিবর্তিত হতে থাকে, তা আজকেও সত্য নয়, বিজ্ঞান তো বিকশিত ও পরিবর্তিত হচ্ছে। বিজ্ঞান যেন এক বিজ্ঞানী যেন জঙ্গলের অভ্যন্তরে একটা লণ্ঠন জ্বালিয়ে পার্কে সত্য বলছে, 'এখানে দশটি গাছ আছে, দুটি সাপ আছে এবং একটি হাতি আছে।' প্রথম সে জঙ্গলের আরেকটু গভীরে ঢোকে, সে বলে, 'না! জঙ্গলে কেবল দশটি গাছ ও একটি সাপ নেই, পঁচিশের বেশী গাছ এবং দুটি হাতিও আছে।' জঙ্গলের আরও গভীরে গিয়ে সে বলে, 'না! কেবল পঁচিশটা গাছ নয়। যেদিকেই আমি লণ্ঠন ধরি, চারিদিকে গাছ আর গাছ এবং বিভিন্ন প্রকার পশু!' এটাই হল বিজ্ঞান।
কিন্তু উপনিষদসমূহ হল, ঋষিগণ উপবেশন ক'রে সম্পূর্ণ জঙ্গল দেখে তার বর্ণনা করেন। এই দুটির সংযোগ পার্থক্য বাবা। লণ্ঠন তো সর্বদাই পরিবর্তিত হতে থাকবে।
কিন্তু ঋষিরা পাহাড়ের চূড়ায় বসে সমস্ত জঙ্গলকে বিদ্যুতের এক ঝলক দ্বারা দেখে নিয়ে তা লিখে রাখা হল উপনিষদসমূহ!
সত্য সকল ঘোষণা করার জন্য উপনিষদস্যুহের মত এত হৃদয়স্পর্শী আর কিছুই নেই ; জীবনযাপনের অতি সুন্দর উপায় ও সহজে ব্যবহারযোগ্য ! তোমার সম্পূর্ণ চেতনাকে শুদ্ধ কর ও তাকে প্রস্তুত কর। উপনিষদের মত বলা হয়েছে, উপনিষদ নয়! হিন্দু প্রথাতে এমনকি অবতারগণের বাণীও উপনিষদের স্তরে রাখা হয় নি।
শ্রুতি, যা শ্রবণ করা হয়েছে! উপনিষদ কোন ঋষি বলেন নি, তা ঋষিগণ শ্রবণ করেছেন।
উপনিষদ হল সরাসরি মহাজগতের নিজের সম্বন্ধে মহাজগৎকে মহাজাগতিকভাবে ঘোষণা করা। তা হল মহাজগতের নিজের সম্পর্কে গীত গাওয়া!
জীবন সম্বন্ধে তোমার সমস্ত পুরাতন ধারণা মুছে ফেল। নিজের সম্পর্কে, বিশ্ব সম্পর্কে তোমার সমস্ত বোধগুলিকে ফেলে দাও। তোমার পুরাতন ধারণাগুলিকে ফেলে দাও এবং সরাসরি মহাজগৎ থেকে আদি মহাজাগতিক চেতনা গ্রহণ করার জন্য, মহাজগৎ যেভাবে চায় সেভাবে তোমার জীবনযাপন করার জন্য। উপনিষদমূহ এতই সরস ও মসৃণ। এগুলি অসাধারণ উপলব্ধি প্রদান করে। এগুলি রসে ভরা; এগুলির সৌন্দর্য অনেক; এগুলিতে প্রচুর আনন্দ! এগুলি এতই সজীবতায় ভরা।
উপনিষদের প্রতিটি মন্ত্র তোমার জন্য মহাজগত হওয়ার জন্য এক মহাজাগতিক চেতনা। তোমার নিজের সাথে সম্বন্ধতা, তোমার ঈশ্বরের সাথে সম্বন্ধতা,
জীবনের সাথে তোমার সম্বন্ধতা উপনিষদের মন্ত্রগুলির দ্বারা নিরূপণ ও পুনর্নির্ধারণ করা যায়। উপনিষদের মন্ত্রসমূহ কতই না নিগূঢ়!
উপনিষদের মন্ত্রগুলি পৃথিবীতে শোনা যে কোন শব্দের চাইতে অনেক বেশী শক্তিশালী। এমন শক্তিশালী স্পন্দনে এই শক্তিশালী সত্যসকল তুমি গ্রহণ করতে যাচ্ছ। নিজেকে তৈরি কর, নিজের সম্পর্কে তোমার পুরানো ধারণার সাথে পূর্ণতা কর, কারণ তুমি পূর্ণের সাথে পূর্ণের সাথে পূর্ণের আকাশে প্রবেশ করতে যাচ্ছ, যাকে উপনিষদসমূহ বর্ণনা করে মহাজগতের অবস্থা হিসাবে, ব্রহ্মাণ্ডের অবস্থা হিসাবে। মহাজাগতিক উপলব্ধির জন্য প্রস্তুত হয়ে যাও, কারণ উপনিষদসমূহের প্রতিটি শ্লোক হল জীবনসম্মতিসূচক।
উদাহরণস্বরূপ, একটি উপনিষদের দ্বিতীয় শ্লোক বলে, 'এইপ্রকার মুক্তজীবনে শত বৎসর বাঁচার নির্ণয় নাও।'
কি দারুণ জীবনসম্মতিপ্রকাশ। এতে নেতিবাচক বা নকারাত্মক জীবনের কোন আভাসই নেই। আর প্রত্যেকে যারা এই মন্তব্য করে এ (DNA) শতান্তু হওয়ার নির্ণয় নেবে, নির্মিয় হুথা করার সহায়তা প্রার্থামিং করা হবে। কেবলাত্র এই মহাজাগতিক চেতনাগুলি প্রদান করাই নয়, সেগুলি তোমার অঙ্কগার বা ডি এন এ হয়ে যায়, তোমার জৈর্যুতি ও পেশীপতি তৈরি হয়। তোমার জৈন্দ্যতিকে উপনিষদস্যুর প্রোগ্রামিং করা হয়; তোমার পেশীপৃতি ও জেল্মেতিকে উপনিষদসমূহে পুনর্গঠন ও পুনর্বিন্যাস করা হয়।
প্রতিটি মন্ত্রকে শ্রুপ করা উচিত্, আত্মভূত করে বিকিরণ করে ও সম্ভকরণ করে জীননাপন করা উচিত। এই নতুন চেতনা সহকারে জীবনাগল করার জন্য পুরাতন ধারণাগুলিকে মুছে ফেলে প্রস্তুত হও।
পুরাতন ধারণাগুলিকে মুছে ফেলে, উপনিষদসমূহকে তোমার অঙঃসারে, তোমার ডি এন এ-তে রেকর্ড করা হল মহাজাগতিক চৈতন্য। সম্পূর্ণ হিন্দুধর্মে বৈদিক প্রথার জন্য গ্রন্থাবলী হল উপনিষদস্যু। এখানে ঋষিগণ বিশ্বব্রহ্মাণ্ডকে প্রধান সারবাণী প্রদান করেছেন। ধম্ম, বিশ্বে মহাজাগতিক চেতনা ছড়িয়ে দেওয়া - এটাই সবচেয়ে বড় সেবা যা মানুষ পথিবীতে করতে পারে। একবার এই উপনিয়নসমূহ সমন্ত হয়ে গেলে এই প্রস্ত বৈদিক প্রথার সারগ্রন্থ হয়ে যাবে। খুবই বিনয় সহজম আধ্যাত্মিক ঘটনাগুলির মধ্যে একটি এখন ঘটছে এই উপনিষদসমূহের প্রকাশে, উপনিষদসমূহের আকাশলেখন পাঠে।
আমি টীকা বা মন্তব্য করতে যাছি না; আমি কেবল বাংলা করে যা ছিল (context) থেকে প্রকাশ করেছিলেন, শ্লোকের আগে ও পরে। আমি তার পুনরাবৃতি করতে যাচ্ছি। উপনিষদসমূহ উপভোগ করার জন্য, বিকিরণ করার জন্য প্রস্তত হও। তোমারা সকলে শিবগণ হয়ে সরাসরি মহাদেবের আকাশ থেকে উপনিষদসমূহ গ্রহণ কর এবং তাকে জীবনে ধারণ কর, তা নিয়ে জীবনযাপন কর!
তোমার সমস্ত পুরাতন ধারণাগুলির সাথে পূর্ণতু কর। মহাজাগতিক চৈতন্যকে নিজ চেতনা হিসাবে পাবার জন্য প্রস্তত হও।
উপনিষদের পাখিগণ সমগ্র বিশ্বকে যা প্রদান করেছিলেন তা যেন আমরা গ্রহণ করতে পারি, সেইজন্য তাঁরা যেন আমাদের মধ্য দিয়ে বিকিরণ করেন ও আমাদের আশীর্বাদ করেন। আদি ঋষি, আদি গুৰু মহাদেৰ, যিনি উপনিষদসমূহ সপ্ত ঋষি এবং मनण, मनाकूसान, मनाजन, मनकाणि वर्र घाव मामिक साथा मध्याविष्ठ करवन, তাঁর কাছে আমরা প্রার্থনা করি এই মহান সত্যসকল প্রকাশ করার জন্য এবং যাতে পূর্ণ হয় আমাদের সকলের জীবন ও অভিজ্ঞতা করি শিবোহম।
অছৈত : দ্বই নয় এমন; বিশ্বক্ষাণ্ডের সাথে একত্ত ও অসীমত্ব অভিজ্ঞতা করার এমন এক আকাশ যেখানে প্রত্যেকে অসীম শক্তিময় ও অমিত বুদ্ধিনাতাশীল; সেই আকাশে সবই 'তুমি' এবং 'তুমি'ই সব। অদ্বৈতী : যে অদ্বৈত অবস্থায় আছে। অনুভূতির সংযুক্তি : Feeling connection অস্তিত্ব : বাস্তবতা, সত্তা, being, existence আকাশ : space, স্থান, জায়গা। এখানে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমন, অন্তর-আকাশ আকাশ-লেখন : আকাশিক রেকর্ড। আকাশে অতীত্তর সমস্ত ঘটনাবলীর মহাজাগতিক রেকর্ড। একমাত্র এক অবতার যিনি স্থান-কালের ঊর্ধ্বে, তিনি সরাসরি মহাজগতের সংরক্ষণাগার (আর্কাইভ) থেকে এই সত্য-লেখন পাঠ করে তার রহম্যোদ্ধার করে প্রকাশ করতে পারেন। আত্মসংশয়, আত্মহণা ও আত্মবর্জন : self-doubt, self-hatred and self-denial; আত্মসংশয় থেকে আত্মবর্জন হয়। আদি শংকর : অষ্টম শতাব্দীর জীবনমুক্ত অবতার ও মাস্টার শংকরাচার্য; তিনি অছৈত ব্যোগ্যেকারী ও সনাতন ধর্মের পুনরুদ্ধারকারী।
আবেগ-বল : emotional strength আর্কাইভ : (ইংরাজীতে Archive), সংরক্ষণাগার, মহাফেজখানা। উপনিষদ : পরিত্র মহাজাগতীয় প্রকাশ সমহ যা পণ্যত্বিত গ্রন্থ বা বেদসকলের উৎপাত্মক অর্থে উপনিষদ হল 'মাস্টারের সাথে বনা'। বেদের ১১৮০টি শাখার সাথে সম্পর্কিত ১১৮০টি উপনিষদ ছিল; তাতে ১০৮টি হল মুখ্য উপনিষদ। কুণ্ডলিনী : প্রতিটি মানুষের মূলাধার চতে স্থিত সম্ভাবনাত্মক শক্তি। গুরু : মাস্টার, যিনি গু (অন্ধকার) থেকে রু-তে (আলোক) পরিচালনা করেন; যিনি জন্মমত্যুচক্র থেকে মুক্ত করেন। চার্বাক : আশ্চরিক অর্থ হল স্বীকার্থীরা গোষ্ঠী জোর দেয় ঘুনিয়ার দিকে নির্দেশিত বন্ধবাদ, দার্শনিক সংশয়বাদ এবং নাস্তিকাবাদী তত্ত্বের দিকে। চৈতন্য মহাপ্রভু : বাংলার পঞ্চদশ শতাব্দীর জীবনমুক মাস্টার ও অবতার। তিনি ভারতবর্ষকে কৃষ্ণতক্তি র রসে প্লারিত করেন। চ্যানেল : ইংরাজীতে channel, পথ। জীবনমুক্তি : সোজা কথায় মুক্তি। মুক্ত জীবন লাভ করা, পরমজ্ঞান প্রাপ্তি, বুদ্ধত প্রাঙ্গি, enlightenment, liberation জৈবস্মতি : Bio-memory জ্ঞানসম্বন্দর : সপ্তম শতাব্দীতে তিরুজ্ঞানসম্বন্দর ছিলেন এক তামিল বালক ও অবতার। তিনি শৈব-সিন্ধান্তকে পুনর্জাগরিত করেন।
ডি এন এ : DNA বা ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড একটি লম্বা অণু যা কোমের ভিতরে জীবের বিশেষ জেনেটিক কোড বহন করে। তারক বন : ঋষিগণ অধ্যুষিত অরণ্যের ভিতরে সবচেয়ে পুরাতন আধ্যাত্মিক বিশ্ববিদ্যালয়। ত্যাগরাজা : ত্যাগের রাজা, শিবকে ত্যাগরাজা বলা হয়। দক্ষিণামূর্তি : দক্ষিণদিকে মুখ করা নিরাকার বিগ্রহ। আদি শুরু মহাদেব শিবের এই স্বতন্ত্র শক্তি স্পন্দন করেন। নকারাত্মক : নেতিবাচক, negative নৈনিষারণ্য : গোমতী নদীর তীরে পুরাণ ও মহাভারতে উল্লেখিত প্রাচীন বন। বহু বিশ্বয়কর প্রকাশ ও কথন এখানে ঘটে, যেমন, মহাভারত। পতঞ্জলি : যোগের পিতা ও প্রতিষ্ঠাতা। তিনি যোগশাস্ত্র 'পতঞ্জলি যোগসূত্র'-এর জন্য সুবিদিত। পরিচিতি : Identity, পরিচয় সম্পর্কিত পুরাণ : পুরাণকে mythology (মাইথলজি) বলে ভুল করা হয়। পুরাণে আছে মহান ঐতিহাসিক ঘটনাবলী, ঐশ্বরিক লীলার বর্ণনা। পণতু : Completion (কম্প্লিশন)। পূর্ণতের আকাশ বা অবস্থা যা এই সত্যেক উদ্দর হয়; THE SUPREME PONTIFF OF HINDUISM BHAGAWAN SRI NITHYANANDA PARAMASHIVAM প্রকাশিত করেছেন। স্বামিজী 'পূর্ণ' বোঝাতে ইংরাজীতে complete (কমপ্লিট) শব্দটি প্রয়োগ করেছেন।
প্রসঙ্গ : context, উপলক্ষ্য, অনুষঙ্গ, পূর্বাপর সম্বন্ধ।
বিজ্ঞান ভৈরব তন্ত্র : ভগবান শিব তার সঙ্গী দেবীপদেশ সম্মদিত পরিত্র প্রহ্ম। এতে পরম বাস্তবতাকে অভিজ্ঞতা করার জন্য ১১২টি প্যান প্রতিষ্ঠা (ধারণা) দেওয়া আছে।
রিবেকানন্দ : উনবিংশ শতাবীর জীবনমুক মাস্টার, রামকৃষ্ণ প্রধান শিষ্য। তিনি রামকৃষ্ণ মিশন স্থানা করেন। ইতরোপ ও আমেরিকাতে হিন্দুর্ষ ও যোগ ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য তিনি প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করেন।
ব্রক্ষাত্র : বা বেদাতপুর; ব্রক্ষণের ওপরে বাণী সংগঠিত আধাত্মিক গ্রহ্ণ। বলা হয় বেদরাস বা বলেয়াণ এর প্রকার। ব্রক্ষসূত্রে বেদান্তের বিভিন্ন শিক্ষাসমূহকে সমষ্টিগতভাবে যুক্তিসম্মত, প্রণালীবদ্ধ করা হয়েছে।
ভগবত পীতা : আগরিক অর্থ হল ভগবানের গীত। এটি হিন্দুদের প্রধান বর্ষণ হারা তাঁর শিষ্য অর্জুনকে সরাসরি উক্ত কথামত এতে লিখিত আছে; এতে পরমসত্য ও মুক্তির সুগন্ধসার আছে।
ভগবত্ পুরাণ : আগরিক অর্থ হল পরমেশনের শাখত ঐশ্বরিক ঘটনাবলী; শ্রী বেদরাস সংকলিত এই প্রস্থ ইস্টার প্রেনের সম্মদত্তম দর্শন। এটি জীবনের পথ ও বাচ্চ নির্দেশিত করে এবং এতে ব্রহ্মাণ্ডের (অস্তিত্তের) বিজ্ঞানসম্মত ইতিহাস আছে।
মনন : চিন্তন, contemplation, সনাতন ধর্মের অভ্যাসে শ্রবণ-মনন-নিদিধ্যাসনের মধ্যে দ্বিতীয়টি মনন।
মহাজগৎ : ব্রহ্মাণ্ড, cosmos, universe মহাদেব-উপাদান : Mahadeva component মাণিক্ষাসাগর : নবম শতকের তামিল সন্ত ও কবি; শিবভক্তির স্তুতি তিরুবাসাকম লেখেন; শৈব-সিধান্ত তিরুমুরই-এর প্রধান গ্রন্থকার। মাদ্বরাই : বা তিরুয়ালাভাই। দক্ষিণ ভারতে মীনাক্ষীদেরী ও শিবের মন্দির-নগর। বৈদিক সংস্কৃতে সমৃদ্ধ একটানা অধ্যুষিত সবচেয়ে পুরাতন নগর। মাধবার্ষ : এক মহান সন্ত, দাশনিক ও অবতার। তিনি বৈষ্ণবধর্ষণ ও তত্ত্বাদ হল বাস্তবার দর্শন। তিনি বেদ, উপনিষদমূহ ও ব্রক্তনের ওপরে বিস্তৃত ভাষ্য লেখেন। মাস্টার : গুরু, যিনি গু (অন্ধকার) থেকে রু-তে (আলোক) পরিচালনা করেন; যিনি জন্মমৃত্যুচক্র থেকে মুক্ত করেন। মুক্ত চিন্তাধারা : liberated thinking যোগ : অস্তিত্ব, চৈতন্য অথবা ঈশ্বরের সাথে একীভূত হয়ে যাবার অবস্থা। যোগসূত্র : যোগের পিতা পতঞ্জলি লিখিত যোগের ওপরে গ্রন্থ। যোগী : যিনি দেহ-মন-সত্তা সহকারে ঈশ্বর অথবা চৈতন্যের সাথে একীভূত। রামকর্ম পরমর্শ্ব : বাংলার দক্ষিণেশ্বরে উনবিংশ শতকে কালীভক্ত অবতার এবং ঈশ্বরমগ্ন হয়ে সমাধিতে থাকতেন। বিবেকানন্দ তাঁর শিম্য ছিলেন।
রামদাস : মহারাষ্ট্রে সপ্তদশ শতকের সন্ত ও কবি। তিনি প্রভু রাম ও হনুমানের পরমভক্ত ছিলেন। রামানুজ বা রামানুজাচার্য : একাদশ শতকের এক অবতার ও বিশিষ্ট-অর্ধেত তত্ত্বর প্রতিষ্ঠাতা। হিন্দু দর্শনের এক মহানতম শিক্ষক। সনত, সনতকুমার, সনাতন, সনকাদি ঋষিগণ : চার চিরন্তন যুবা ঋষি; তাঁরা দক্ষিণামূর্তিরূপী শিবের শিষ্য। সনাতন ধর্ম : ধর্মনিষ্ঠ জীবনের শাখত পথ (পরে একে হিন্দু বলা হয়); বিবর্ধনের সভাবনা সহকারে শক্তিয়ে শক্তিয়ে শুক্রা ও রুজ্জাপানা। এটা রিলিজিয়ন (religion) নয়, এটি জীবন, মৃত্যু ও তা ছাড়িয়ে এক পূর্ণ বিজ্ঞান। সন্ন্যাস : পার্থিব জীবনের সাথে পূর্ণতু করে তা পরিত্যাগ করা; অন্যদের সমৃদ্ধ করার জন্য বাস করা। সমাধি : মন-বিহীন, চিন্তা-বিহীন অবস্থা; এই অবস্থায় মানুষ তার আদি অবস্থায়, মুক্ত অবস্থায় চলে যায়। সারিবদ্ধ : Aligned
সংস্কৃত : সমস্ত ভাষার উৎস; দেবভাষা; স্বরবিষয়ক স্পন্দনের ওপরে ভিত্তি করা ঐশ্বরিক ভাষা। मिक्त : निर्शूक विद्युक्त मण्ड, जाँव जिन- मानिशुर्वजन बाँधा (जिफ्न) रायर। স্তোত্র : পরিত্র ভক্তি সম্বলিত অন্তরাকাশ থেকে স্তবগান, স্ততি বা বন্দনা। সৎসঙ্গ : সত্যের সাথে থাকা; এক জীবনমুক্ত মাস্টারের দেওয়া সত্য সম্মন্ধে আধ্যাত্মিক কথন বা ধর্মোপদেশ। শিব : মহাদের, দেবাদিদের মহাদের, হিন্দু, মহেশ্বর) মধ্যে নবতেজেদীগঞ্জরী মহেশ্বরা শির অর্থ 'কারণবিনা শুভতা - মঙ্গলতু'। এই সঙ্গলতুই তো অস্তিত্বের মূল সারপদার্থ।
শিবগণ : শিবকে পূর্ণরূপে অন্তরাকাশে গ্রহণকারী এক দল সত্তা ; কৈলাশে শিবের সেবকবুন্দ। শিব-সূত্র : 'বিজ্ঞান ভৈরব তন্ত্র'-এ বর্ণিত
শিবোহা : শির অহস, শির আমি। এটি মহাবাড় বা যোগা করে তোমার ভিতরে আমি' হল শিব', তুমিই পরম ক্ষতন্য, সর্বোচ্চ সম্ভাবনা যা তুমি প্রত্যক্ষরণ স্নগ করতে পার।
শৈব-প্রথা : বৈদিক প্রথার বিস্তীর্ণ এই শাখাতে ভগবান শিবকে পরমেশ্বর মানা হয়। ভক্তরা বিভূতি ও রুদ্রাক্ষ ধারণ করে ও তাদের শৈব বলা হয়। শংকর : আগে 'আদি শংকর'-এ বর্ণিত। উভয়ই এক।
শ্রুতি : যা শ্রবণ করেছে। শ্রুতি নির্দেশ করে প্রাচীন শাস্ত্রকল হেমন, বেদ, উপনিষদস্যু ও ভগবৎ গীতাকে, এইসকল প্রকাশিত শাস্ত্রসকলকে প্রবা করে ধরে রাখতে পেরেছেন।
হিলিং : (ইংরাজীতে Healing) নিরাময় করা
পরমপুজ্য পরমহংস নিত্যানন্দ সম্বন্ধে
THE SUPREME PONTIFF OF HINDUISM BHAGAWAN SRI NITHYANANDA PARAMASHIVAM আজ অখণ্ড সনাতন ধর্মের এক সুস্টি, রীতিসিদ্ধ, রাজনীতি উদাসীন প্রবকা হিসাবে স্বীকা। বিশ্বের লাখ লাখ মানুষের কাছে তিনি অতিচেতনার জীবন্ত অবতার বলে পুজিব। হিন্দুস্থানের প্রাচীন শীর্ষের তিনি এক মহানগুলেশ্বরা ইউ টিউ বে (Youtube.com) সর্বাধিক জনপ্রিয় আধাত্বিক শিক্ষক হিসাবে তাঁর বিভিন্ন ভাষণ করেছে। তিনি ৩০০-এর অধিক গ্রন্থের রচনা তা এবং সেগুলি ২০টির বেশী ভাষায় প্রকাশিত। তাঁর ভাষণ প্রতিদিন লাইভ দেখা যায় বহু অন্তরাষ্ট্রীয় চ্যানেলে এবং ভিডিও কনফারেঙ্গিং করে।
THE SUPREME PONTIFF OF HINDUISM BHAGAWAN SRI NITHYANANDA PARAMASHIVAM কে আজ বিশ্বে চেতনা ও কুণ্ডলিনী জাগরণ বিশ্বয়ে বিশেষজ্ঞ বলে গণ্য করা হয়। তিনি সফলভাবে যোগ -বিজ্ঞানের নানা রহস্য যেমন, আধ্যাত্মিক নিরাময় (ইলিং), লষিমা (লেভিটেশন (Teleportation), মেটেরিয়ালাইসেশন (Materialisation), বার্ধকা-বিগ্রীত (Anti-aging), নিরাহার ইত্যাদি উদ্মাটিত করেছেন।
তাঁর অসাধারণ আধ্যাত্মিক প্রতিভার জন্য ম্যানেজমেন্ট থেকে মেডিটেশন (ধ্যান), রিলেশন্শিপ থেকে রিলিজিয়ন এবং সফলতা থেকে আধ্যাত্মকতা বিষয়ে তিনি প্রস্থ অন্তর্গি প্রকাশ করেছেন। THE SUPREME PONTIFF OF HINDUISM BHAGAWAN SRI NITHYANANDA PARAMASHIVAM আমাদের জন্য নিয়ে এসেছেন ব্যবহারিক প্রায় জন্য অন্তরের স্থায়ী রূপান্তরের জন্য পদ্ধতি সময়।
THE SUPREME PONTIFF OF HINDUISM BHAGAWAN SRI NITHYANANDA PARAMASHIVAM বিশ্বজুড়ে বতিপয় অলাভজনক সংয়ার আধান। এই সংস্থাগুলি ব্যক্তিগত রূপান্তরের কার্যক্রম ও কোর্স, পুন্তক প্রকাশনা, আধ্যাত্মিক ইলিং এবং মানবহিতৈষী সেবা দ্বারা জীবনকে সমৃদ্ধ করে চলেছে।
এক বিশ্বপ্রেমী লোকছিল THE SUPREME PONTIFF OF HINDUISM BHAGAWAN SRI NITHYANANDA PARAMASHIVAM বিশ্বশান্তি প্রচারের জন্য মানুষের রূপান্তরের মাধ্যমে কাজ করছেন। তাঁর আগ্যাত্মি কমিশনে বিশ্বব্যাপী আশ্রম ও কেন্দ্রগুলি অন্তর্ভুক্ত। এই আধ্যাত্মিক লাবোরেটারীগুলিতে অন্তরের বিকাশ প্রগাঢ় এবং বহির্বিকাশ এক স্বাভাবিক পরিণাম।
সেবা কার্যসমহের মধ্যে আছে বিশ্বজুড়ে খান-শিবির, নিঃশুর চিকিৎসা শিবির, ক্রিন প্রত্যঙ্গ দান, প্রামাঞ্চলে শিশুদের সহায়তা, কয়েদীদের জন্য ধ্যান শিবির, বন্যা পীড়িত অঞ্চলে ত্রাণকার্য পরিচালনা করা।
হিন্দু সংস্কৃতি ও প্রচীন বৈদিক এতিয়া সংস্কে অন্যাপ্লাস করে পারেন্দ্র পর্ভাবন সমর্পিত। জীবনমুক অতীস্থিরবারী, আধ্যাত্মিক বিবর্ধন সহায়ক, প্রশিক্ষিত যোগী, শক্তিধর হীলার THE SUPREME PONTIFF OF HINDUISM BHAGAWAN SRI NITHYANANDA PARAMASHIVAM পথিবীতে কোটি কোটি মানুষের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।
তাঁর প্রামণিকতা ও অভিজ্ঞতার পভীরতাকে ব্যবহারিক ও উপভোগ্য করানোর বিরল প্রতিভার জন্য তাঁর শিক্ষার্থীদে দুর দুর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারছে। তিনি হাজার হাজার ব্যক্তির বিষ্ণুতা থেকে ক্যালারের মত রোগ হিন্দু এবং একবারমাত্র স্পর্শ করে। প্রার্থ করে। প্রার্থ করে বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষের সাথে কার্য ও শেয়ার করে THE SUPREME PONTIFF OF HINDUISM BHAGAWAN SRI NITHYANANDA PARAMASHIVAM এবং তাঁর মিশন মানবতাকে পরের যুগান্তকারী ধাপ, অতিচেতনাতে নিয়ে যাবার জন্য বদ্ধ পরিকর।