Books / Guaranteed Solutions For Lust Fear Worry... Bengali merged

1. নিনিত সমাধাি

# নিনিত সমাধাি

আধ্যাত্মিক, ধ্যান ও আি-উন্নয়ন

সূচীপত্র

প্ৰথম অধ্যায়
দ্বিতীয় অধ্যায় অবতরণিকা
তৃতীয় অধ্যায় প্রেম শক্তির উৎস হও
চতুৰ্থ অধ্যায়
পঞ্চম অধ্যায় যৌন-কামনাকে ঐশ্ববিক প্রেমে রূপান্তরিত কর 81
ষষ্ঠ অধ্যায় ভয়ের সম্মুখীন হও
সপ্তম অধ্যায় তুমি অনন্য, অদ্বিতীয়
অষ্টম অধ্যায় আমিত্বকে মুছে ফেল
নবম অধ্যায় কৃতজ্ঞতা সহকারে প্রস্ফুটিত হও
পরিশিষ্ট

মাদের সবাইকে ভালবাসা ও শ্রদ্ধা জানিয়ে সুস্বাগতম।

তোমরা সবাই এখানে কিছু আশা প্রত্যাশা নিয়ে এসেছো, জ্ঞান বাড়াবার জন্য, জীবনে নতুন দিশা পাবার জন্য, জীবনটা আরও ভালভাবে কিভাবে বাঁচা যায় তা দেখার জন্য।

বিয়ে প্রবেশ করার আগে তোমাদের কিছু বলতে চাই. যাতে তোমরা এখানে আসার ফলস্বরূপ সবচেয়ে বেশী করে লাভ অর্জন করতে পার।

প্রথমে মনকে খালি করো!

এখানে আসার আগে তমি হয়তঃ বহু জায়গায় গিয়েছ, অনেক লেকচার শুনেছ, নানা কলাকৌশল (technique) অভ্যাস করেছ। তা সব ঠিক আছে। খালি একটা জিনিস, যখন এখানে ব'সে আছ, একদম পুরোপরি 'এখানে'-ই অবস্থান কর, ব্যাস।

অন্য জায়গায় যত জ্ঞান আগে সঞ্চয় করেছ তা রেখে দিয়ে এসো এবং তারপর এখানে এসো। বাইরে একটা বোর্ড দেখেছ. 'জতা ও মন বাইরে রাখা' হয়তো অবাক হয়েছ এর মানে কি। এর মানে - যেভাবে বাইরে জুতা রাখলে, সেভাবে নির্ণয় নিয়ে মনটকেও বাইরে রেখে এসো! সঞ্চিত সমস্ত জ্ঞান তোমার জুতার পাশে রেখে তারপর ভিতরে এসো। ফেরার সময় তা নিয়ে যেতে পার। চিন্তা কোরো না. কেউ তা নিয়ে নেবে না। তা একদম সুরক্ষিত থাকবে। তোমার জন্য হয়তো কেউ নিয়ে যেতে পারে, কিন্তু তোমার মনঃ কেউ তা ছোঁবেই না, আমি তা গ্যারান্টি দিচ্ছি। মানুষ তার নিজের মনকেই সামনে তার নো, তারা কোনভাবেই তোমারটা ছোঁ‌বে না।

খালি মন নিয়ে এলে তোমার কোন পর্বসংস্কার (prejudice) থাকবে না আর আমি যা বলছি তা পর্ণরূপে আত্মভত করতে পারবে। যদি নিজের জ্ঞান নিয়ে আসো, তাহলে সারাক্ষণ আমার প্রত্যেকটা কথা তমি যা জানো তার সাথে অথবা আগে কারো কাছে যা শুনেছো তার সাথে তুলনা করতে থাকবে। এতে আমি কি বলতে চাইছি তা ধরতে পারবে না। তুমি আমার কথা তখনই আত্মভূত করতে পারবে যখন তুমি তোমার ভিতরের জায়গা খালি রাখবে। তুমি যদি পুরো ভরা থাকো তো আমাকে রাখবে কোথায়?

ছোট্ট গল্প :

  • পাশ্চাত্যের এক পণ্ডিত প্রফেসর জাপানে এক জেন-মাস্টারের (Zen-master) সাথে দেখা করতে যায়। প্রফেসর বহু বিষয়ে নানা রিসার্চ (অনুসন্ধান) করেছিলেন। আধ্যাত্মিকতা ভালভাবে বুঝতে ও তার সম্বন্ধে আরও জ্ঞান অর্জনের জন্য সে মাস্টারের কাছে আসে।
  • মাস্টারের বাড়ীতে পৌঁছে সে দ্যাখে যে মাস্টার চা বানাচ্ছেন। মাস্টার তাকে দেখে বসবার ইঙ্গিত দিলেন ও চা বানাতে থাকলেন। প্রফেসর বসল ও কিছুক্ষণ পরে বকবক করতে লাগল – তার নিজের ব্যাকগ্রাউণ্ড সম্মেল, তার অধ্যয়ন, আবিষ্কার ও বিশ্বভ্রমণ সম্বন্ধের সাথে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা সম্বন্ধে, নানা বিষয়ে তার সিদ্ধান্ত সম্বন্ধে, ইত্যাদি ইত্যাদি।
  • মাস্টার চা বানানো শেষ করে দুজনের মধ্যে দুটি কাপ রাখলেন। এবার তিনি প্রফেসরের কাপে চা ঢালতে থাকলেন। তিনি ঢালতেই থাকলেন, চা উপচিয়ে যেতে থাকল। প্লেট চায়ে ভরে গেল ও চা টেবিলে বইতে লাগলো।
  • প্রফেসর কি হচ্ছে তা দেখছিল এবং নিজেকে আর সামলাতে না পেরে চেঁচিয়ে বলল, 'মাস্টার, আপনি কি করছেন? চা ঢালা বন্ধ করুন। কাপ তো উপচিয়ে পড়ছে!'
  • মাস্টার থামলেন ও শান্তভাবে বললেন, 'তোমারও তো একই অবস্থা।'
  • প্রফেসর ধাক্কা খেল, কিন্তু বুঝল যে মাস্টার তাকে কি বলতে চাইছেন।
  • প্রফেসর চায়ের কাপের মত পুরো ভর্তি মাস্টার তাকে যাই বলতে চাইবেন তা খালি বাইরে উপচিয়ে পড়বে, তার ভিতরে যাবে না। প্রফেসর মাস্টারের একটা কথাতেই বুঝে গেল যে মাস্টার তাকে কি বলতে চাইছেন।

তাই বোঝ : যদি সত্যিই কিছু লাভ করতে চাও তো খালি কাপের মত হয়ে যাও। পুরোপুরি উন্মক্ত ও গ্রহণোশ্যখ হও। শিশুর মত সরল ও উৎসুক হও, স্পঞ্জের মত হও, শুষে নাওয়ার জন্য তৈরী: তা হলেই অনেক হবে।

তিন প্রকার জ্ঞান

তুমি দ্যাখো, তিন রকম জান আছে। প্রথম হল, বৌদ্ধিক (intellectual) জ্ঞান - মন সম্বন্ধীয় জ্ঞান। এর জন্য তোমার শুধুমাত্র মনের দরকার, আর কিছুই না। তুমি যদি মনোযোগী হও ও যদি তোমার ভাল স্মরণশক্তি থাকে , তাহলে যথেষ্ট। যদি যুক্তি ভাল প্রয়োগ করতে পার, যদি একটু সাধারণ বিচারবুদ্ধি (common sense) দিয়ে তুমি জিনিষগুলিকে সংযুক্ত করতে পার এবং বোঝ,

তা হলেই হবে। এই প্রকার জ্ঞান তোমরা করে বই মারফল্য গণিত ও বিজ্ঞান শেখার জন্য তোমার মন যথেষ্ট। তমি মহান গণিতজ্ঞ বা বৈজ্ঞানিক হতে পার।

দিতীয়টি হৃদয়ের জ্ঞান। এখানে তোমায় হৃদয়কে ব্যবহার করতে হবে, খালি মন নয়। শিল্প, সঙ্গীত, নত, কাব্য - এসবের মধ্যে পড়ে। খালি মন ব্যবহার করলে কিছুই হবে না। হৃদয়কেও ব্যবহার করতে হবে। ছবি আঁকতে , কবিতা লিখতে, গান গাইতে, তোমাকে অনুভূতিকাল হতে হবে। এগুলো সবই সঙ্গি কোনো হাসমের অভিযুক্তি। কোন অনুভূতি ছাড়া একটা কবিতা লিখতে পার কি? একমাত্র মন দ্বারা কোন শিল্পী চিত্রাঙ্কন করতে পারে কি? না! তাকে নিজেকে হুদয়ের সাথে জড়তে হবে, তাহলেই সে সাবলীলভাবে বয়ে চলবে।

মন দ্বারা তুমি কতগুলি পয়েন্ট নিতে পারে, কিছু কৌশল যার দ্বারা করে আঁকা যায়। কিন্তু শেষে জিনিয়টাকে হৃদয় থেকেই আসতে হবে।

ততীয়টি আধ্যাত্মিক জ্ঞান - মন বা হৃদয়ের জ্ঞান নয়, এটা তোমার সত্তার (being) জ্ঞান! আসলে এটাকে জ্ঞান বলা যায় না; এটা তোমার যুক্তির উদ্ধে এক গভীর উপলব্ধি। এটি শেখানো যায় না, কোথাও কুড়িয়ে নাওয়াও যায় না। এটা হতে পারে এক গভীর ভাবের আদান-প্রদান (communion) থেকে - সত্তাস্তরে (being level)।

আমি সর্বদা বলি : আমি তোমাদের আধ্যাত্মিকতা শেখাতে পারি না, কিন্তু তুমি শিখতে পার! সত্তাস্তরে আমার এই কথাগুলি আত্মভূত করে তুমি শিখতে পার - শক্তি বা এনাজী যেভাবে শোষিত হয়। মাস্টারের শব্দগুলিতে এত প্রচণ্ড শক্তি যে তুমি চাইলে তা তোমাকে ভেদ করে তোমার সত্তান্তরকে স্পর্শ করবে। এতে এমন এক রূপান্তর হতে পারে যা কেবল মনের কথা এবং হৃদয়ের অনভৃতি দিয়ে হয় না।

আমি যখন বলি, আমি বলি আমার পরমসত্যের অভিজ্ঞতা থেকে, আমার সত্তা (being) থেকে। তাই তুমি যখন শুনবে, তুমি সর্বতোভাবে শোন, তোমার সত্তা থেকে তুমি এই কথার পিছনে থাকা অভিজ্ঞতার ঝলক পেতে পার। আমি এখানে তোমাদের কথা শোনাতে আসি নি। তোমাদের কথার উর্ধে নিয়ে যেতে এসেছি। তোমরা যদি এখানে সম্মু সচেতনতা (acute awareness) ও নীরবতা নিয়ে থাকো, তাহলে কথার উদ্ধে যেতে পারবে এবং নিজের সত্তার ঝলক পাবে।

বিশ্বাস রাখো ও উন্মুক্ত হও

ঠিক আছে. আমরা আমাদের বসার ব্যবস্থার একটু পরিবর্তন করি। নিজের আত্মীয়, বন্ধু বা পরিচিতদের পাশে বোসো না। চেনো না, জানো না, এমন মানুষের পাশে বসা। চেনা মানুষের সাথে বসলে আমি যখন বলছি, তখন তোমরা দুষ্টি বিনিময় করতে পার বা কথা বলতে পার। অপরিচিতের সাথে বসলে, নিজের উদ্যমে আমাকে আরও ভালভাবে আত্মীভূত করতে পারবে।

আরেকটা ব্যাপার : যখন সেশন চলবে, একটা সুন্দর প্রবাহ হতে থাকবে, তখন এক শক্তি বা এনাজী সৃষ্টি হবে ও ঘরটিকে ম্পন্দিত করবে, তোমার ও আমার মধ্যে এক গভীর যোগাযোগ ঘটবে। দেরী করে এসে তাতে ব্যাংশত স ষ্টি কোরো না। সেই প্রবাহ विधिक रव। यन मुक्त रारे-अर्याज स्थान किया भएतना स्थान बनाने का जनवर का जानका हाज साथ किछु जाक অতিক্রম করতে গেলে তোমার পতি ধীরে করতে হবে, তারপর তার ওপর দিয়ে চল, অতিক্রম করে আবার গতি বাড়াও। সাবলীল প্রবাহ তো বিঘ্নিত হয়ে গেল।

আর দয়া করে সব মোবাইল ফোন সুইচ্ অফ্ (বন্ধ) কর। সেগুলো আজকাল আরেকরকম স্পীড-ব্রেকার! আসলে সেগুলো याद्याण आँकुनिक जनवर पर वर्कोद्र भव घाटकको स्थीन-ब्लूकान। जासि निर्मिण या वशाद जानार का कारण সেলফোন আছে!

তারপর, তোমরা যখন এখানে আছ, একদম গম্ভীর ও জড়বৎ হয়ে থেকো না। আন্তরিকভাবে শোন, উন্মুক্ত মন নিয়ে শোন। এটা আশা কোরো না যে প্রথম সেশনেই ভগবান উপলব্ধি করবে! সহজ ও হাঙ্কা মেজাজে থাকো, কোন প্রত্যাশা কোরো না, তুমি অনেক কিছু গ্রহণ করতে পারবে।

পরের জিনিষ : নির্ণয় নিয়ে তোমার সামাজিক পরিচয়টিকে বাইরে রেখে এসো। এখানে থাকার সময় হবার চেষ্টা করো। আশ্রম এবং মাস্টারের উপস্থিতি এক অতি উত্তম গবেষণাপার বা ল্যাবোরেটারী, যেখানে নিজেকে নিয়ে গবেষণা করা যায়, আমিত্ত (ego) বিসর্জন দেওয়া যায়, বোঝা যায়, বোঝা যায় যে তুমি অস্তিতেরই (existence) এক সুন্দর অংশ। তাই তুমি যদি সমাজে বড় কেউ হও, এখানে সাধারণ হবার চেষ্টা করো ও সবার সাথে জদ্ম দিয়ে মেশো। কেবল আমার কথাই নয়, মেলামেশার প্রতিটি মহুত, এখানে অবস্থান করার প্রতিক্ষণ, তোমার মধ্যে রূপান্তর খটাতে পারে। তোমাকে শুধুমাত্র

সচেতন থাকতে হবে, ব্যাস।

একটা ছোট গল্প :

এক বৌদ্ধ সাধু ছিলেন, তিনি ছিলেন মুক্ত পুরুষ। একদিন জাপানের এক রাজ্যপাল তাঁকে দেখতে এলো। রাজ্যপাল তার ভিসিটিং কার্ড মাস্টারকে পাঠালো। তাতে লেখা ছিলো, 'জাক-সান - জাপানের রাজ্যপাল।'

মাস্টার কার্ডটার দিকে একবার তাকিয়ে বললেন, 'এই বুদ্ধুর সাথে আমার কোন কাজ নেই! তাকে এখনি চলে যেতে বলো!'

Section 2

জেন মাস্টার কারো মন বা আমিত্ব ভেঙ্গে দেবার জন্য খুবই রূচ হতে পারেন। তাঁরা কর্কশ শব্দ ব্যবহার করতে কখনও ইতস্তত করেন না। তাঁদের শব্দের শক্তি আমিতুকে সাবলীলভাবে ভেদ করে ও মানুষকে রূপান্তরিত করে।

শিষ্য রাজ্যপালকে তার কার্ড ফিরিয়ে দিল ও মাস্টারের কথা হুবহু শোনালো। রাজ্যপাল কার্ড দেখে ব্যবহার করে পারলো। সে রদ্ধিমান ছিল, শুধু বুদ্ধিজীবী নয়। সে শান্তভাবে কার্ডে লেখা 'জাপানের রাজ্যপাল' কেটে ফেললো এবং কার্ডটি শিষ্যুকে ফিরিয়ে দিলো।

শিষ্য এবার কার্ডটি মাস্টারকে দিলে তিনি বললেন, 'তাকে ভিতরে নিয়ে এসো!'

উপাধি, পদবী এসব লেবেল সমাজই আমাদের ওপর সেঁটে দেয়। আমরা ভাবতে থাকি আমরা হচ্ছি সেই লেবেলগুলো। তুলে যাই যে আমরা এই লেবেল নই, আমরা আরও গভীর কিছু। লেবেলগুলো আমাদের খুব ভাল লাগে। কিন্তু মাস্টারের সান্নিধ্যে এই লেবেল নিয়ে কখনও যাওয়া যায় না। এই লেবেল নিয়ে তমি কদাপি অস্তিত্বক জানতে পার না। মাস্টার হলেন অস্থিতের এক মানবরূপ।

রাজ্যপাল যা করেছিল তাকে ভুল বলা যায় না। সামজিক সৌজন্যবিধি অনুযায়ী রাজ্যপাল ঠিকই করেছিলো। কিন্তু মাস্টারের কাছে আমিত পিছনে ফেলে যেতে হয়, আর সচেতনতাকে অবলম্বন করতে হয়।

মাস্টার ও অন্বেষণকারীর (seeker) মধ্যে কিছু একটা হয়। তাঁরা অন্তর্জগতের কিছু জিনিষ একসাথে শেয়ার করেন। এটা যখন ঘটে, বহির্জগতের লেবেল তাতে ব্যাঘাত ঘটায়। নিজব্যক্তিত্ব বিস্তুত হওয়াই আধ্যাত্মিকতা, ব্যাটিত তা সামাজিক ব্যাপার। আমরা এখানে এসেছি আমাদের স্বতন্ত্র-অস্তিত্বক পাবার জন্য, আমাদের স্বাভাবিক প্রকৃতিকে ফিরে পাবার জন্য, মাতৃগুর্ভে উপভোগ করা একাকীতুকে পাবার জন্য। অস্তিত্বের সাথে আমাদের সংযোগকেই তো পেতে হবে ও একমাত্র তাকেই উদযাপন করা প্রয়োজন।

পরীক্ষা করতে সিদ্ধান্ত নাও!

যখন আমার কথা শুনবে, দুভাবে তোমাদের মন কাজ করবে। এক সন্দেহ নিয়ে, দুই বিশ্বাস নিয়ে।

সন্দেহ বুদ্ধিজীবী মনের পথ। সন্দেহ থাকলে, গ্রহণ করার পথে অনেক যুক্তি ও তর্ক আসবে। এটা হলে পুরো ব্যাপারটটি তুমি ধরতে পারবে না।

আর বিশ্বাস? সোজাসুজি বিশ্বাস করলেও তুমি ধরতে পারবে না। শোন, তোমাকে কাউকেও বিশ্বাস করতে হবে না, আমাকেও না। তথাকথিত বিশ্বাসীরা সবচেয়ে দুর্বল মানুষ, কারণ বিশ্বাস ছাড়া বাঁচতে গেলে অনেক সাহস চাই। বিশ্বাস না থাকলে তোমার কাজকে সমর্থন করার জন্য কোন আশ্রয় থাকে না। বিশ্বাস নেই অর্থ যেন তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহারোপযোগী কোন পরিকল্পনা নেই, যা থেকে কি ভাবতে হবে ও কিভাবে করতে হবে, এসব উপদেশ পাওয়া যায়। বিশ্বাস বিনা থাকার জন্য অনেক সাহস চাই. কারণ তোমাদের তখন সবকিছুর জন্য নিজের বুদ্ধির ওপরে ভরসা করতে তোমরা নিজেদের অনিশ্চিত ও নিরাপত্তাহীন মনে করতে পার।

সন্দেহ ও বিশ্বাস - একই মুদ্রার হুই পিঠ - মুদ্রাটি যেন মন। অনেক গভীরে, তোমার বড় সন্দেহ কিছু বিশ্বাস নিয়ে থাকে এবং তোমার অগাধ বিশ্বাসেও কিছু সন্দেহ থাকে - আমি এটা তোমাদের জোড় দিয়েই বলছি।

তাহলে আমরা কি করব? কি করে শুনব?

একদম খোলা মন নিয়ে শোন, পরীক্ষা করার জন্য তৈরী থেকে, ব্যাস। যখন তোমরা পরীক্ষা করার জন্য তৈরী হয়েছ, তার মানে শিক্ষাগুলি ব্যবহারিক জীবনে প্রয়োগ করতে যাচ্ছ। আমি যদি বলি, 'সূর্য পূবদিকে ওঠে', তোমার সন্দেহ বা বিশ্বাস করার দরকার নেই। পরদিন সকালে উঠে নিজে সেটা পরীক্ষা করে দেখতে পার।

সেটাই ঠিক পথ। খোলা মনে জিনিষণ্ডলিকে গ্রহণ কর আর আমি যা বলছি তা প্রতিটি মুহূর্তে উপলব্ধি কর। বিশ্বাসের দরকার

নেই। পরখ করার ইচ্ছাই যথেষ্ট। আমি যা বলছি তা হাইপোখেসিস হিসাবে গ্রহণ কর, জীবনে তা কাজে লাগাও আর নিজে দ্যাখো তা কাজ করে কিনা। আপেলটি সুস্বাদ্ধ কিনা জানতে গেলে বিশ্বাস বা সন্দেহের প্রয়োজন নেই। একটি কামড় দাও, জানতে পারবে!

খোঁজ থামাও, তুমিই তো আনন্দ!

প্রাচীন ঋষি ও মাস্টারেরা বলেছেন যে মানুষের আসল প্রকৃতি হল আনন্দ। প্রযুকালে অনেক মাস্টার ঘটেছেন। বুজ, যীশু, কম্প বা মহাবীর - তাঁদের সকল বাণীর সারমর্ম কিন্তু একই। তাঁরা সবাই বলেছেন যে মানুষের আসল প্রকৃতি আনন্দ এবং সেই আনন্দের সাথে সংযোগ স্থাপনের প্রক্রিয়া তাঁরা দিয়ে গেছেন।

তাদের প্রকাশ হয়ত আলাদা আলাদা, কিন্তু তাঁদের বাণী বা শিক্ষা ছিল অবশ্যই বারংবার মানুষেরা এই বাণী হারিয়ে ফেলে, কারণ তারা মাস্টারের বাণী না নিয়ে কেবল মাস্টারের সাথে এঁটে থাকে। এই কারণেই পথ্যীগ্র হে এত অজ-গোঁড়ামি, ধর্মীয় যুদ্ধ ও আরো নানা কিছু হয়ে চলেছে।

যাই হোক সব মাস্টারের একই বাণী যে আনন্দ মানুষের অন্তরেই আছে এবং মানুষের সমস্ত প্রচেষ্টা হল ভিতরের এই আনন্দকে খুঁজে বার করা। কিন্তু সামাজিক নিয়ন্ত্রণ ও বিভ্রান্তিতে মানুষ তার উদ্দেশ্য ভুলে যায় আর এ ই আনন্দ বহির্জগতে খুঁজতে থাকে -বস্তুগত জিনিষে, নামে, আকারে, সমাজের দেওয়া লেবেলে, সম্পর্কে, পেশাগত উন্নতিতে, কিসে নয়।

একটা ছোট গল্প :

এক বদ্ধ তার পরিবারের সাথে সিনেমা দেখতে গিয়েছিল। সিনেমা সবে শুরু হয়েছে আর লোকটি অন্ধকারে মেঝেতে কিছু খুঁজতে লাগলো। তার পাশে বসা নাতনী বিরক্ত হল ও দাদুকে জিজ্ঞাসা করলো সে মেঝেতে কি করছে।

সে বলল, 'সোনা, আমার চুইংগামটা পড়ে গেছে।'

বাচ্চা মেয়েটা আরও বিরক্ত হয়ে বলল, 'দাদু, ছেড়ে দাও। আমরা পরে আরও চুইংগাম কিনে নেবো। এখন সিনেমা দেখো।'

বুড়ো বলে, 'আমার সেই চুইংগামটাই চাই।'

মেয়েটা বলল, 'দাদু, ছেলেমানুষি কোরো না। আমরা আরও চুইংগাম কিনে নেবো।'

বদ্ধ বলে, 'কিন্তু সোনা, আমার দাঁত তো ওতে আছে।'

দ্যাপো, আমরা আসলে একটা জিনিয় খুঁজছি, কিন্তু অন্য কোন নামে খুঁজছি। আমরা কত রকম নামে খুঁজছি। কিন্তু সেগুলো সব পাবার পরেও মনে হয় কিছু একটা পাই নি। ভিতরে একটা বিশেষ শন্যতা। বোঝার চেষ্টা কর, এই শূন্যতা আছে কারণ আমরা আসলে আনন্দ অন্ধেশ করছি, কিন্তু আমরা তাকে অন্য নামে নানা জায়গায় খুঁজে বেড়াছি। তাই আমরা কখনই পরিতৃপ্তি পাই না। আমাদের সত্তা ডাক দিচ্ছে, আমরা শুনি না। আমরা আমাদের সতাকে পুরোপুরি অবজ্ঞা করি কারণ আমরা বহির্জগতে ভীষণভাবে ডুবে আছি।

সত্তাকেন্দ্রিক না হয়ে আমরা পূর্ণতা উপলব্ধি করতে পারি না। আমরা হয়ত বহির্জগতের কাজকর্মে ভরে আছি. কিন্তু পরিতপ্ত হই নি। আর পরিতপ্ত না হবার জন্য, ভিতরে একটা শূন্যতা থেকে যায় এবং বহির্জগতে আমরা আবার খোঁজ করতে থাকি। সতাকেন্দ্রিক হলে, বহির্জগতে আমরা যাই করি না কেন, প্রতিটি মিনিট আমরা পরিত্তঃ থাকব। কারণ পরিতপ্তি আমরা কি করছি তা থেকে আসে না, আসে ভিতর থেকে, সত্তা থেকে।

তাই মাস্টারেরা বারবার কি বলছেন তা পরকার। অবিশ্রাম খোঁজার চেয়ে মাঝে মাঝে থেমে মাস্টারের কথার সত্যতার এক আবছা আভাস পাওয়া বেশী ভাল। কেবল খুঁজতে থাকলে তুমি তো এক পথিক হয়েই থেকে যাবে।

পথিকের এই ধারণা যেন 'বইটা ওঠানোর চেষ্টা, কিন্তু ওঠানো হচ্ছে না!' 'বইটা ওঠানোর চেষ্টা বলে কিছু হতে পারে কি? ওঠাও বা উঠিও না। ওঠানোর চেষ্টা কিভাবে করতে পার? যখন তুমি বইটা ওঠানোর চেষ্টা করছো, তুমি নিজেকে ঠকাছ! তুমি অন্যদের ঠকাতে পার না কারণ তারা জানে যে এটা সম্ভব নয়।

এইভাবে যাদের টাকাকড়ি করার ক্ষমতা নেই, তারা বলে যে যেহেতু তারা সং তাই তারা টাকাকড়ি করতে পারে না। সত্য হ'ল -তাদের ক্ষমতা নেই; কিন্তু তারা অন্য নানা কারণ দেখিয়ে তার ন্যায্যতা প্রতিপাদন করতে থাকে।

একইভাবে আমরা যখন আসল আধ্যাত্মিকতায় ডুব দিতে পারছি না, আর যদি সেইসময় আমরা আমাদের অজ্ঞানতা স্বীকার না করতে পারি, আমরা আমাদের নিজেদের দর্শনশাস্ত্র সঙ্গি করি আর সবাইকে বলি, 'আধ্যাত্মিকতা সম্বন্ধে সব বাংলাদেশ ।

। আশা কত্মি সে ঠিক করি কথাটা শুরনরে।

। । সে সতামারক ভাবায় সে তুত্মম ত্মনকৃষ্ট ও সতামারক ত্মনরেি োরথ লড়ায়।

। । । ।

। ।

প্রশ্ন জাগার আগেই তোমার উপলব্ধি হতে থাকবে। এইভাবে প্রশ্ন গলে যাবে। এটা বোঝা শুরু, কিন্তু একবার একটা অভিজ্ঞতা হলে চেতনা সম্বন্ধে আমি কি বলতে চাইছি তা ঠিক বুঝে যাবে। প্রশ্নগুলি অদৃশ্য হবে এবং উপলব্ধি তোমাকে ক্রমাণত গ্রাম করতে থাকবে।

यदि ब्रोफ़क बाब, जारल साथा वा बालिब ब्रांसाद का मान कर कर ना। जातान कथा थक ब्लोकिक छेशनकि शास ধ্যান তোমাকে চেতনার পদ্ধতিতে যেতে সাহায্য করতে পারে। ঘন্টার পর ঘন্টা আমরা মায়া আর ভ্রান্তি সম্মন্ত কথা বলতে পারি, কিন্তু তমি তাতে আরও গুলিয়ে ফেলবে।

বরঞ্জ, আমাদের বুদ্ধিমানের মত বেঁচে থাকার জন্য সাহায্যকারী সমাধানগুলি শিখে নাওয়াই শ্রেয়। একটা জিনিম তোমাদের বলি : या किकू सन थुरूक्षण करव, जार साथ जो जाति बनि, माया मम्भूर्क जानार रेशिश रूया ना। वदर वात्रु जानक হয়ে, আরও সচেতন হয়ে বাস করার চেষ্টা কর। তাহলে মায়া সম্পর্কে প্রশ্ন প্রাসঙ্গিকতা হারাবে।

আগেও বলেছি, আনন্দ আমাদের মধ্যে অবিশ্রাম ঘটছে। এটাই ধ্রুব সত্য। কিন্তু আমরা আনন্দ-প্রবাহকে লাগাতার পতিরোধ করে রাখি। ফলে, ভুগি। আনন্দ এই নয় যে এটা বাইরে পাওয়া যায় ও পেয়ে নিজের ভিতরে রাখবে। না। আনন্দ তোমার সহজাত প্রকৃতি। যখন পথিবীতে এসেছিলে, তমি তখন আনন্দ-অবস্থায় ছিলে। সমাজ যখন তোমাকে নিয়ন্ত্রণ করা শুরু করল, তুমি তা (আনন্দ) থেকে অনেক দরে সরে হেলে। তারপর তুমি তাকে ফিরে পাবার জন্য বহির্জগতে খুঁজতে থাকো।

আমরা দেখব এই 'আনন্দ বন্ধ করা যায়। আনন্দ মানে কিন্তু আমি সাধারণ সুখের কথা বলছি না, যে সুখ আমরা দৈনন্দিন জীবনে অনুভব করে। সাধারণ সুখ বহির্জগতে কিছু ঘটার ফল : কোন খুশীর অনুষ্ঠান, কিছু বস্তুগত লাভ, কোন খুশখবর, কোন কার্যকরী সম্বন্ধ - বহির্জগতে কোন বস্তু বা মানুষের সাথে সম্পর্কিত। এইপ্রকার সুখ বাইরের মানুষ বা পরিস্থিতির ওপরে নির্ভর করে। আবার এই প্রকার সংখ্যা দিকে ঠেলে দেয় . কারণ মানম ও পরিস্থিতি পরিবর্তন হতে থাকে। তারা এক থাকে না। ভিন্ন সময়ে তাদের ব্যবহার বিভিন্ন। আর যখন তাদের ব্যবহার বদলায়, আমাদের সুখও বদলায়।

Section 3

আমরা যে আনন্দের কথা বলছি তা ভিন্ন। এটা তোমার ভিতরের এক অবস্থা, যা বাইরের জগতের সাথে কোনভাবেই সংযুক্ত নয়। এটা তোমার অন্তঃসার বা মর্মবস্তু, তোমার চিরস্থায়ী অবস্থা। যখন এটা পাবে, তমি বহির্জগতকে আনন্দপর্ণ হয়ে লক্ষ্য করতে থাকবে। বহির্জগতে পুরোপুরি অংশগ্রহণ করবে, কিন্তু নিজের আনন্দকে না হারিয়ে।

একটা ছোট গল্প :

এক পরিবারে এক বন্ধ ছিল যে কোনভাবেই সন্তষ্ট হতো না। তার পরিবারের লোকজন তাকে যতই খুশী রাখার চেষ্টা করুক, সে সর্বদাই জেদি ও বদমেজাজী হয়ে থাকতো। তার ছেলেমেয়ে নাতীনাতনীরা দেখতে আসতো ও তাকে খুশী করার চেষ্টা করত। সব বথা। বুডো সবসময়েই মেজাজী।

হঠাৎ একদিন সে খুব ভদ্র ও প্রফল্ল হয়ে গেল। এই আকস্মিক পরিবর্তনে তার পরিবার অবাক। তার নাতনী জিজ্ঞাসা করে, 'দাদু, কি করে তুমি হঠাৎ পরিবর্তিত হলে?'

বদ্ধ জবাব দিলো, 'সারাজীবন আমি একটা পরিতপ্ত মন পাবার জন্য অনেক চেষ্টা করলাম, কিন্তু সার্থক হলাম না। তাই আমি এখন যেরকম মন, তাতেই সন্তুষ্ট হবার জন্য প্রযুত্বশীল হ'লাম।'

সবই তোমার মনের প্রক্ষেপণ (projection)! আমরা ঠিক করতে পারি আমরা কি হতে চাই। সবই তোমার মনেতেই আছে। মনের সাহায্যেই আমরা আমাদের ভিতর থেকে আসা আনন্দ-প্রবাহ বন্ধ করেছি। এটাই সত্য।

শোন : এক সার্বলৌকিক-চেতনা (universal consciousness) বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে ব্যাপ্ত আছে, আর আছে এক ব্যক্তিগত-চেতনা (individual consciousness) যা আমাদের ভরে রেখেছে। এই দুটির মধ্যে সংযোগসাধন করাই মানুষের আসল উদ্দেশ্য। যখন এই সংযোগ ঘটে মানুষকে মুক্ত বলা হয় - সে তখন নিত্যানন্দে (eternal bliss) থাকে। নিত্য মানে চিরন্তন বা অন্তহীন, তাই নিত্যানন্দ মানে অন্তহীন আনন্দ।

সুবিদিত মাষ্টারদের বাণী শ্রবণ করে ও তাঁদের দেওয়া ধ্যানপ্রক্রিয়া অভ্যাস করে আমরা এই সংযোগ সম্পর্কে উত্তরোত্ত র অবহিত হতে থাকি এবং তা অভিজ্ঞতা করার প্রচেষ্টা করি। কারণ একবার এই সংযোগ হয়ে গেলে, বহির্জগৎ ও অন্তর্জগতে সবই সহজ হয়ে যায়!

দুই প্রকার মনুষ্য আছে : যারা অপরের সাথে লড়াই করে ও জেতে এবং যারা নিজের সাথে লড়াই করে জেতে। অন্যের সাথে লড়াই করা বড় সোজা। কোন ব্যাপার নয়। নিজের সাথে লড়া খুবই কঠিন। সাহসী হলে তুমি নিজের সাথে লড়াই করবে ও

জিতবে। তুমি যা নও তাকে তুমি বিধ্যস্ত করবে, আর আনন্দময় হয়ে প্রস্তুতিত হয়ে উঠবে।

নিজের সম্ভাবনা বা সঞ্চশক্তি পর্বরূপ উপলব্ধি করাই মানবজীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সেটা হয় অন্তর্গুথী হলে এ বং নিজেকে শোধন করতে করতে যথেষ্ট বদ্ধিমান হয়ে আরও সংগ্রহ করা ও আরও অধিকার করা বন্ধু করলে।

আসলে স্বামী শব্দটির মানে যিনি তাঁর পুরো সম্ভাবনা উপলব্ধি করেছেন। আমাদের পথীগ্রহের সমস্ত অসুবিধাঙ্গলির কারণ হল আমরা আমাদের সম্ভাবনা রুবে উঠতে পারি নি। চলতি কথায় আছে : সিংহকে সিংহ না হতে দিলে তা শিয়াল হয়ে যাবে। আমাদের আসল সম্ভাবনা বা সুপ্তশক্তিকে চিনতে না দিলে, আমরা তা ভুলপথে প্রকাশ করব - নিজেকে ধ্বংস করবার জন্য বা অন্যদের বিনাশ করার জন্য।

তাই সজনশীল শক্তিকে, সংশক্তিকে, স্বচ্ছদ প্রবাহে প্রকাশ করতে দেওয়া উচিত। একদিকে সমাজের সেটা করতে দেওয়া উচিত: जनामिक वायरस कर राज करना करान के किया जाना के कि वाली रिक वाली कर मुख्याना उ अश्वर्षक क জেনেছেন, যিনি নিজে যা, সেভাবেই নিজেকে প্রকাশ করছেন, যিনি সম্পর্শভাবে নিজের সত্তার সাথে সরে বাঁধা: যিনি আনন্দময়।

তোমার মধ্যে অসীম সম্ভাবনা আছে। বারংবার মনোবিদ ও অতীন্দ্রিয়ারা দিয়ে তার পরো সম্ভাবনা বোঝে নি। আমরা কোথায় জিনিষ্টা ধরতে পারছি না? কোথায় আটকে যাচ্ছি? কেন আমরা আমাদের পরো সম্ভাবনা উপলব্ধি করতে পারছি না ?

আমাদের হালকা হবার ও অনুসন্ধান করার সাহস চাই, ব্যাস। তাহলে সবকিছুর উত্তর পেয়ে যাবো। আন্তরিকভাবে অনুসন্ধান আরম্ভ করলে চেতনার উল্লোচন শুরু হওয়ার অভিজ্ঞতা হবে এবং এই উন্মোচন তোমার ভিতরে এক জগৎ উন্মুক্ত করবে ও তুমি প্রস্ফটিত হবে।

প্রস্তুতি হলে তুমি রাজা হও। রাজার মত এই গ্রহে বাস কর। মানুষের হয়ত সবরকম সম্ভাব্য আরাম, ধন্য, জান ইত্যাদি আছে। কিন্তু তারা ভিখারী হয়ে থাকবে যদি তারা অন্তর্জপতের সন্ধান না পেয়ে থাকে। নিজের সত্যাকে ধুলী হওয়া। অন্তর্জগতের সম্পদই আসল সম্পদ।

আমরা বহির্জগতের ঘটনায় এত বেশী জড়িয়ে পড়েছি যে অন্তর্জগৎ সম্পর্কে আমরা একেবারে অজ্ঞ হয়ে থাকি। বহির্জগতের অভিযানে আমরা এত বেশী ব্যস্ত যে আমরা অন্তর্জপতের সুন্দর অভিযানের সুযোগ হারাই। মহান ঋষিগণ ও মাস্টারেরা তাঁদের জীবনে যে অভিজ্ঞতা পেয়েছেন তার নাগাল পাই না। এই অভিজ্ঞতাই আমি তোমাদের সবাইকে দিতে চাই।

প্রশ্ন : আধ্যাত্মিকতার সংজ্ঞা আপনি সংক্ষেপে কিভাবে দেবেন?

তোমার ভিতরে চারটি জিনিষ প্রক্ষুটিত হওয়াই আধ্যাত্মিকতা : শারীরিক সাস্থ্য, মানসিক সাস্থ্য, সুষম পারস্পরিক সম্পর্ক (smooth inter-personal relationship) এবং স্বতঃস্ফর্তভাবে সাড়া দেবার সঙ্গমতা। স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দেবার সম্মতাকে আমি দায়িত্বশীলতা (responsibility) বলি।

শারীরিক স্বাস্থ্য মানে রোগমুক্ত থাকা। ডাক্তারের কাছে গেলে সে যেন তোমায় ক্লিনিকালি ভাল আছো বলে ঘোষণা করে।

দিতীয় - মানসিক স্বাস্থ্য : সর্ব প্রকার অবচেতন ও গভীরভাবে খোদিত নকারাত্মক চিন্তার ছক্ক (thought pattern) থেকে মুক্ত হওয়া এবং দুশ্চিন্তা, বেদনা, ঈর্ষা বা পরশ্রীকাতরতা, অসন্তোষ, আমিতু, কামনা ইত্যাদিকে জয় করা।

ততীয়, তোমার চারিদিকের সমস্ত মানুষের সাথে সুষম পারস্পরিক সম্পর্ক রাখা। কেবল সবার সাথে সহৃদয় হলেই হবে না। কোন চাপ বা বেদনা অনুভব না করে সবার সাথে যে কোন পরিমাণে মিথস্তিয়া করার সামর্থ্য চাই। যে মুহূর্তে চাপ বা বেদনা অনুভব কর, তার মানে তোমার ভিতরে কিছু প্রতিবন্ধক আছে এবং মানসিক স্বাস্থ্যকে তা বাধা দিচ্ছে।

क्टूब - क्वरकूर्ण माज़ा मनाव मण्डर जासि मायिकू वनि। यथन कूमि मायिकू निर्ण मण्डर रुप्, यथन कूसि কোনকিছুতে স্বতঃক্ষ্তভাবে 'হ্যা' বলতে সক্ষম হও, তুমি সেই মুহূর্তে প্রসারিত হবে এবং শক্তি তোমার মধ্যে প্রবাহিত হয়ে সে কার্যে তোমাকে সফল করবে! নিশ্চিতভাবে সেই কার্য নির্বাহের জন্য শক্তি প্রয়োগ করাটা তোমার ওপর নির্ভর করে। সেটা করতে থাকলে তমি প্রসারিত হতে থাকবে।

यदि वर्त कावरि जिनिष जातान साथा भुकूण्णिक रूय, जबरे जून जान कर भुकूणन जासान भना, विवारिक ना অবিবাহিত, কম না বেশী বয়স, তাদের ওপর নির্ভর করে না।

প্রশ্ন : আপনি নিরামিষ বা আমিষ ভোজন সম্বন্ধে কি বলেন?

উত্তর : প্রথমে বলি, চারদিকে আমি কোনো না। না জেনে মতামত দেওয়া মানে ঝামেলায় জড়িয়ে যাওয়া! কিছু ব্যাপার যুক্তি দিয়ে সমাধান করা যায় না। যদি তাদের আমিম খেতে বারণ করো তাহলে তারা বলবে যে গাছ ও শাকসজীরও তো প্রাণ আছে। তাহলে আমরা তা কেন খাই? তাদের কি বলবে? এই তর্কের কোন শেষ নেই।

আমি তোমাদের বলতে পারি : দাঁত সহ মানুষের শরীর পুরোটাই তৈরী হয়েছে নিরামিম খাবার চিবানো ও হজম করার জন্য। আমি জীবনমক্ত মাস্টারেরা যখন বিশেষ কিছু করেন, আমরা তার বিচার করতে পারি না, কারণ তাঁদের কাজ সাধারণ বন্ধিতে বোঝা যায় না। আমরা তাতে ভুল বুঝতে থাকবো ও পরো জিনিষটাই হারিয়ে ফেলবো।

একটা অনুরোধ, খাবার অভ্যাস দেখে মানুষকে ভেদ কোরো না এবং মানুষকে আমিষ খাওয়া ছেড়ে দিতে জোর করো না।

একটা ছোট গল্প :

ভারতে টেলিভিশন চালু হবার সময় ভিক্ষুকদের বাড়ীতে একটা নতুন টেলিভিশন কেনা হল। একজন ছাড়া সবাই টেলিভিশনের প্রোগ্রাম দেখতো।

যে টেলিভিশন দেখতো না, সে বাড়ীর প্রধানের কাছে গিয়ে নালিশ করতো যে কিভাবে অন্যেরা ঘন্টার পর ঘন্টা টেলিভিশন দেখছে। অনেকবার নালিশ শোনার পরে প্রধান তাকে বলল, 'তোমারও কাল থেকে টেলিভিশন দেখা উচিত।'

লোকটি বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞাসা করলো, 'কেন?'

প্রধান বলল, 'তুমি না দেখার জন্য খুশী নও আর তাই কুব্ধ হচ্ছে। তোমার দেখার ইচ্ছা আছে কিন্তু দেখো না : কারণ তমি অন্তরে ভাল বোধ করতে চাও। সেটা দমিয়ে রাখার জন্য তোমাকে নালিশ করতে হচ্ছে।'

দেখো, তুমি যদি আমিষ না খাওয়ার জন্য খুশী না হও, তুমি অন্যদের নিরামিশামী হতে জোর করবে। যখন তুমি কিছুতে পুরোপুরি তুলে আছো, তুমি কখনই অপরকে জোর করবে না। যখন তুমি সেটা সন্দেহ নিয়ে করছ না পুরো উদ্যমে করছ না , তখনই তমি অন্যদেরও সেখানে টানবে। পরোপরি কিছুতে ঢুকেছ নাকি তা বোঝার জন্য এটা একটা মাপদণ্ড। যখন তমি পর্য, তুমি তোমাতে পুরোপুরি আছো, তোমার কোন অনুতাপ নেই। তাই তুমি কাউকে বিরক্ত করবে না। তুমি তাদের স্বাধীনভাবে থাকতে দেবে।

আমি বরং বলব যে যারা দিনে এক ঘন্টা আমিষ খায়, এমন মানুষেরা তাদের চেয়ে ভাল, যারা নিরামিশামী কিন্তু সর্বদা আমিষ ভোজনের কথা চিন্তা করে!

একটা ছোট গল্প :

এক জেন-মাস্টার তাঁর শিষ্যদের নিয়ে শহরের দিকে যাচ্ছিলেন। রাস্তায় একটা নদী পড়লো। সেখানে এক সন্দরী মহিলা নদীর তীরে দাঁডিয়ে।

মাস্টারকে দেখে মহিলাটি তাকে নদী পার হবার জন্য সাহায্য চাইল। মাস্টার সঙ্গে সঙ্গে তাকে বহন করে নদী পার করে দিলেন এবং মহিলাটিকে ওপারে ছেড়ে এপারে ফিরে এলেন। শিষ্যদের মন তা দেখে চঞ্চল হল ও ভিতর ভিতর জুলতে থাকল। শহরের প্রায় কাছে এসে গেলে তারা আর থাকতে না পেরে জিজ্ঞেসা করল. 'মাস্টার.আপনি কিভাবে মাস্টার হয়ে একজন মহিলাকে স্পর্শ করলেন, এমনকি বহনও করলেন?'

মাস্টার উত্তর দিলেন, 'আমি তাকে সেখানে বহু আগেই ছেড়ে এসেছি। তোমরা তাকে এখনও বহন করছ কেন?'

মাস্টারেরা সব সময়ে প্রশ্নকর্তাকে উত্তর দেন, প্রশ্নকে কখনও নয়। এই গল্পে মাস্টার শিষ্যদের ব্যাখ্যা করে বোঝাতে পারতেন যে জীবনমুক মানুষের কোন লিঙ্গভেদ নেই। কিন্তু তিনি তা করলেন না। তিনি শিষ্যদের বুঝিয়ে দিলেন যে বাধা বা প্রতিবন্ধক শিষ্যদের মনেই আছে, মাস্টারের কাজে নয়!

Section 4

যদি দ্যাখো যে তোমার আমিম খাদ্য গ্রহণের খব হচ্ছা ও তা ছাড়তে পারছো না , তাহলে তা খেতে থাকো যতক্ষণ না তা নিজে থেকে ছাড়ছ। আমি কিন্তু আমিষ খাদ্য খাওয়ার নির্দেশ দিচ্ছি না। আমার নিজের শরীর, মন ও জীবনের জন্য নিরামিষ খাবার সহায়ক, তাই আমি নিরামিষ খাই। যদি তুমি আমার জীবনশৈলী অবলম্বন করতে চাও, তবে নিরামিশামী হয়ে যাও, ব্যাস।

কিন্তু ছেড়ে দিয়ে সেটা আর কামরা বা এবং অন্যদেরও আমিম ছাড়তে বলে অত্যাচার কোরো না। আমরা শাকাহারী অভ্যাসের মত ছোট ছোট ব্যাপারে অনেক সময় নষ্ট করি, এটাই সমস্যা।

এই তিন শ্রেণীর মধ্যে তুমি এক শ্রেণীতে পডবে :

প্রথমে, আমিষ্ঠ না খাওয়া ও তার সম্বন্ধে চিন্তা না করা। দ্বিতীয়টি, আমিষ খাওয়া ও খেয়ে ভলে যাওয়া। ততীয়টি আমিম না খাওয়া ও নিজেকে বঞ্চিত মনে করা, তাই আশেশাশের মানুষকে আমিম না খাওয়ার জন্য পীডিত করা। দরা করে ততীয় শ্রেণীর মানুষ হয়ো না।

প্রশ্ন : বাসে এক বদলে দেখে, ভাল কাজ করব ভেবে, তাকে আমার সীটটা দিতে চাইলাম: কিন্তু বাকী সফর দাঁডিয়ে থাকতে হবে রবে আমি সেটা করলাম না। অথচ যখন সিগারেট খেতে চাই, নিজের ভিতর থেকে পর্ণ সহমতি পাই। অন্তর বলে যে একটা সিগারেটে আমার জীবন নষ্ট হবে না। আমি কেন নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারি না আর যা সঠিক তা করতে পারি না?

উত্তর : দ্যাখো. তমি যখন কিছু জিনিষ মন দ্বারা ভিতরে গ্রহণ কর, যা কিছু বাইরে থেকে বলা হয়েছে, তুমি তার উপকার পরিষ্কার ও গভীরভাবে দেখতে পাও না। তমি হয়তো তা বৌদ্দিক স্তরে বনেছে। কিন্তু যখন তুমি তোমার গভীর থেকে কিছু উপলব্ধি করো , তা তোমার নিজের অভিজ্ঞতা হয় এবং তমি তাকে কোন সমস্যা ছাড়াই পরোদমে সমর্থন কর।

সিগারেট তোমার সত্তার সাথে মিশে গেছে। তুমি নিজে তা উপলব্ধি করেছে। অন্যে প্রচার করে নি, এটা তোমার নিজের অভিজ্ঞতা। তাই তোমার হৃদয় তা মেনে নেয়।

কিন্তু বাসে সীটি অন্যকে দিলে যে আনন্দ হয় তা তুমি নিজের গভীরে উপলব্ধি করো নি। তুমি লোকের মুখে শুনেছ যে বয়স্ক মানুষকে সীটি দেওয়া ভাল কাজ, ব্যাস। খুব বেশী হলে, সামাজিক আচরণ অনুসরণ করবার জন্য এক ধরণের সন্তোষ তোমার হতে পারে। এদিকে সিগারেটের ব্যাপারে তমি নিজেই অভিজ্ঞতা হয়ে গেছো !

তুমি নিজে যে বিষয়ে অভিজ্ঞতা লাভ করে নি তার দিকে তুমি আকৃষ্ট হবে না। যদি তুমি অপরকে সাহায্য করার আনন্দ উপলব্ধি করে থাকতে, তুমি বৃদ্ধকে সীটি দিয়ে দিতে।

প্রকৃত উপলব্ধি ঘটার জন্য ধ্যানই পথ। ধ্যানে আমাদের হৃদয়, যা পাথরের মত শত, প্রকুটিত হবে, তুলার মত নরম ও সংবেদনশীল হবে এবং আমাদের অপরের প্রতি করুণা হবে।

আমরা ম্যাগাজিনে পড়েছি বা বড়দের মুখে শুনাছি যে বাসে বয়স্কদের নিজের সীট দিয়ে দেওয়া ভাল কাজ , ব্যাস। বরঞ্চ, সেবার ভাবনা নিজের ভিতরে প্রস্ফটিত হওয়া উচিত এবং তারপর আমাদের সেবা নিবেদন করা উচিত।

আমাদের মধ্যে ধ্যান হলে, সংবেদনশীলতা আপনা আপনি আসবে, নয়তো তা ভাসা-ভাসাই থেকে যাবে। ধ্যান যেন এক ছিদ্র করার কাজ এবং খ্যান সেই শিক্ষাকে মন্তিষ্ক থেকে হৃদয়ে ঠেলে দেয়। তাহলেই ন্যায়পরায়ণতা, সততা ও অনুরূপ গুণাবলী জীবনে সর্বদা প্রকাশ পায়। নতুনা, এই সব গুণাবলী অভিজ্ঞতামলক জ্ঞান না হয়ে খালি বৌদ্ধিক জ্ঞান হয়েই থাকে।

তোমাদের সবাইকে ধন্যবাদ।

ক আছে. চলো, এবার বিষয়ে ঢোকা যাক।

প্রথমে দ্যাখা যাক, মানুষের মন কিভাবে কাজ করে। তুমি আর তোমার মধ্যে আছে একমাত্র মন। যদি মনকে ফেলে দাও, তুমি জীবনমুক্ত হবে!

তোমার হার্ডওয়ার ও সফটওয়ার রি-প্রোগ্রাম কর

মন কিভাবে কাজ করে তা বোঝার আগে, মনের সম্বন্ধে কিছু বর্ণন করি যে মাস্টারের উপস্থিতি কিভাবে একজনের সম্পর্ণ মানসিক গঠন বদলে দেয় :

তোমার মধ্যে দুটি জিনিষ আছে : হার্ডওয়ার ও সফটওয়ার, মন হল সফটওয়ার, ব্রেন হার্ডওয়ার। সফটওয়ার বা মনে আবার দুটো ভাগ - চেতন (conscious) অঞ্চল ও অচেতন (unconscious) অঞ্চল। চেতন অঞ্চল হল সফটওয়ার, অচেতন অঞ্চল ভাইরাস! চেতন অঞ্চলকে শিক্ষা দ্বারা শুদ্ধ করা যায়, অচেতন অঞ্চলকে পরিষ্কার করার জন্য চাই ধ্যান। নতুন পরিবর্তিত মন বা সফটওয়ার নতুন উপলব্ধি দেবে। এখন নতুন পরিবর্তিত মন বা সফটওয়ারকে ধরে রাখতে গেলে ত্রেন বা হার্ডওয়ারকে পোক্তভাবে তৈরী করতে হবে। এটা মাস্টারের আশীর্ষাদে হয়, তার থেকে পাওয়া দীক্ষা(initiation) দ্বারা হয়।

তুমি চেতন ও অচেতন ক্ষেত্র পরিষ্কার করে এক প্রভাব সঙ্গি করলে, কিন্তু হার্ডওয়ার সেই প্রভাবকে সময়ে নিতে ও ধরে রাখতে नाउ भारत। यदि साम्राजन (शक मीना शास, रार्डअयाव बनन भविवर्णिक राय वा शतक बाथरण भारत। साम्राजन অনুপস্থিতিতে ক্রমাগত ধ্যান ও শিক্ষা হার্ডওয়ারকে বদলাতে পারে। আমাদের বর্তমান হার্ডওয়ার যেন সংস্কারসমূহ দ্বারা ব্রেনে অনেক খাঁজ (groove) সুষ্টি করেছে। সংস্কার হলো সঞ্চিত অতীত স্মতি। নতুন সফটওয়ার ধীরে ধীরে বদলাবে। কিন্তু যদি তুমি হার্ডওয়ারকে একুনি পরিবর্তন করতে চাও, তাহলে মাস্টারের উপস্থিতি সিধা হার্ডওয়ারকে বদলে দেবে।

মাঝে মাঝে সফটওয়ার না বদলিয়েই হার্ডওয়ার বদলানো যায় আর মানুষটি সিধাসিধি সঠিক সফ ট্রওয়ারের প্রভাব দ্যাখাতে থাকে। এটা হয় শিষ্য যখন মাস্টারের কাছে নিজেকে পুরোপরি খুলে দেয়; যদি সে কোন কারণ ছাড়াই মাস্টারের প্রেমে পডে। কখন কখন শিষ্য কোন কারণ ছাড়াই মাস্টারের প্রেমে পড়ে। সে হয়তো তার শিক্ষা ও ধ্যান প্রক্রিয়া সময়ে আকষ্ট হয় নি ; সে খালি প্রেমে পড়েছে, ব্যাস। এই অবস্থায় সরাসরি তোমার হার্ডওয়ার বদলে যাবে। এই প্রকার শিষ্যেরা অভ্যাস না করেই মাস্টারের শিক্ষা ও ধ্যানপ্রক্রিয়ার সুফলগুলো সরাসরি বিকিরণ করতে থাকবে।

वधन घरवि कामान शास्त्र करण्ड का प्रकोश्य, वार्वजन जनार मिर्का अभ्यावन मिटका सेनाल का कारण সফটওয়ার অন্তর্মুখ হয়, আধ্যাত্মিকতার দিকে, পরিশুদ্ধিকরণের দিকে। চেতন অঞ্চল শিক্ষা দ্বারা শুদ্ধ হয়, আর অচেতন অঞ্চল भविष्ठान राजा माता। मरण्डमान वास्तुनि रलउ. रार्डअयान जा जार राजनार राजनार राजध्यान जान वधुना হার্ডওয়ার আস্তে আস্তে পরিবর্তিত হবে। কিন্তু শিক্ষা নিয়ে ধ্যান করার পর যদি দীক্ষাও নাওয়া হয়, তাহলে হার্ডওয়ার বদল হবে এবং নতুন সফটওয়ারকে ধরে রাখতে শুরু করবে। সে নতুন অভিজ্ঞতাকে ধরে রাখতে তৈরী হয়ে যাবে। এই ব্যাপারটা পরিষ্কার করে বুঝতে হবে যাতে তুমি যথেষ্ট সচেতনতা নিয়ে এসে রূপান্তরিত হতে মেনে নাও।

মন কিভাবে কাজ করে?

মন কিভাবে কাজ করে? এই রেখাচিত্রটি দেখো। রেখাচিত্রটিতে দেখানো হয়েছে যে চোখে প্রবেশ করা তথ্যকে কিভাবে প্রসেস করা হয়। আসলে একমাত্র চোখই নয়, পাঁচ ইন্দ্রিয় মানে চোখ, কান, নাক, জিভ ও স্পর্শ সম্মক্কীয় তথ্যকে একইভাবে প্রসেস করা হয়। উদাহরণস্বরূপ আমরা চোখকে নিলাম। এখন আমায় ব্যাখ্যা করতে দাও।

यथन जूसि किकू मार्था, जांच वा वर्षिक विश्व मण्डर एक करण, राजे वाकि वा कांच बाता दिशा कथाक ডিজিটাইসড (digitized) করে। এটা যেন এক ডিজিটাল সিগনাল প্রসেসর (ডি এস পি)। সিগনাল বা ইনপুটকে চক্ষু ডিজিটাল ফাইলে পরিবর্তিত করে। একমাত্র চোখ নয়, এই পরিবর্তন সমস্ত পাঁচ ইন্দ্রিয় দ্বারা গহীত তথ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

তারপর ফাইল যায় মেমরিতে। সংস্কতে তাকে বলা হয় চিত্ত। মেমরিতে ফাইলের ওপর আরও কিছু কাজ করা হয়। উদাহরণস্বরূপ ধর তুমি আমাকে এখন দেখছো, দেখার ফাইলকে চক্ষু প্রসেস করছে, তারপর ফাইল যায় চিত্ততে এবং চিত্ত বা মেমরি তাকে বিশ্লেষণ করতে থাকে। এখানে ফাইলটিতে এক বর্জন-প্রক্রিয়া করা হয়। বলা হতে থাকে, 'এটা জানোয়ার নয়, এটা উদ্ভিদ নয়, এটা পাথর নয় ইত্যাদি।' এই বর্জন-প্রক্রিয়া চিত্ত দ্বারা করা হয়।

তারপর ফাইল যায় মন বা মানসে। মন ফাইলকে শনাক্ত করার কাজ করে ও বলে, 'এইটি মানুষ। মানুষটি ক্লাস নিচ্ছে।' ফাইলটা কি, মন সেই সিদ্ধান্তে আসে।

এরপর ফাইল এক বড় লাফ দিয়ে ঢোকে আমিতুতে (ego)। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে তোমার আমিত পরবর্তী কাজ বা সিদ্ধান্ত কি হবে তা ঠিক করে ফেলে। যদি অতীতে তোমার ক্লাসের অভিজ্ঞতা থাকে এবং তা যদি ভাল অভিজ্ঞতা হয়ে থাকে, তমি তাহলে এখানে বসে থাকা ঠিক করবে, নয়ত এখান থেকে চলে যাওয়াই সমীচীন বলে মনে করবে।

এই প্রসেস্টা ঠিক করে বোঝার চেষ্টা কর : তুমি আমাকে দেখছ। অক্ষি চক্ষুতে তথ্য পাঠাল। চকু সেই সিগনালকে ডিজিটাল সিগনালে পরিবর্তন করল। মেমরি তারপর এই ফাইলের ওপর বর্জন-প্রক্রিয়া করে - 'এটা নয়...' এরপর মন कोरलाजिक मनाक करव - ' जो অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে তুমি সিদ্ধান্ত নাও, এখানে বলে থাকবে নাকি হলঘর থেকে বেড়িয়ে যাবে।

এই উদাহরণে বর্জন-প্রক্রিয়া ও শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া আরও ভাল বোঝা যাবে। ধর, ডিকশনারী বা অভিধানে 'পথিবী' শব্দটা খুঁজতে চাও। তুমি 'ক' থেকে শুরু করবে ও বর্জন করতে থাকবে। 'ক' নয়, 'গ' নয়, 'গ' নয়, যতক্ষণ না 'প'-তে আসছ, 'প'-তে আসার আগে পর্যন্ত সেটা ছিল বর্জন-প্রক্রিয়া। 'প'-তে এলে শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া হল। এবার তুমি শনাক্তকরণ করে 'প', তারপর পথ' এবং পথী' ইত্যাদি। শনাক্তকরণ প্রক্রিয়াতেও বর্জন হয়, কিন্তু তা বর্জন-প্রক্রিয়ার মধ্যে পরে না, তোমার পুরো মনোভঙ্গি এই সময় পরিবর্তন হয়েছে। 'প'-তে আসা অবধি তুমি অন্য কোনদিকে দেখই না: কেবল বর্জন করতে থাকা। 'প'-তে আসার পরে, 'প' একটা দুষ্টিকোণ হয়৷ তারপর তুমি খুঁজতে থাক 'প', 'পথ', 'পৃথা' ইত্যাদি৷

Section 5

তাই দ্যাখো হাজার হাজার ফাইল তোমার মনে মজুত করা আছে। এখন ধর তুমি আমাকে দেখছ। তুমি প্রথমে বর্জন-প্রক্রিয়া করতে থাকবে : এটা পাথর নয়, এটা জন্তু নয়। তারপর তুমি সিদ্ধান্তে আসো, 'এটা এক মানুষ।' একবার মানুষে এলে তুমি শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া শুরু কর : গেরুয়া কাপড়, আমার মাস্টার, নিত্যানন্দ ইত্যাদি। তাই বর্জন প্রক্রিয়ায় তুমি সঠিক শ্রেণীবিভাগ (classification) কর। বর্জন হল চওড়াই বা প্রশস্ততা, শনাক্তকরণ হল গভীরতা। অনেক ফাইল হাজ্জেল করা যেন বর্জন-প্রক্রিয়া। ফাইলের গভীরে যাওয়া যেন শনাক্তকরণ-প্রক্রিয়া।

। ।

। তিন ত্মেদ্ধান্ত নাওয়া হ ।

। ।

। । ।

ভ্য, তার চেয়ে বেশী বা বড় কাজ তোমাকে দিয়ে হবে না।

এই স্তরে, তমি কেবল তথ্য সংগ্রহ করবে, প্রসেস করবে আর ডেলিভার করবে: তমি কম্পিউটার ছাড়া আর কিছু হবে না। এই সময় চাঞ্চল্য সহকারে ভুল নির্ণয় নাও না: যুক্তি ও সজাগতা দ্বারা নির্ণয় নাও। তুমি এক ব্লেক-ইভেন (break-even, লাভঙ্গতি উভয়ই নয়, এমন অবস্থা) অবস্থায় আছো। এই স্তরে তুমি এখনও তোমার পরো সম্ভাবনাকে কাজে লাগান্দ না।

পরের স্তর হল স্বজ্ঞা বা অন্তর্জ্ঞান-স্তর (intuition-level), যেখানে তোমার পুরো সম্ভাবনাকে বাস্তব রূপে পাওয়া যায়। যদি অচেতন অঞ্চলে গভীর নীরবতা ও চেতনার সঞ্চার করতে পার, আর খোদিত স্মৃতি বা ফাইলগুলিকে নীরবতা ও চেতনা দিয়ে প্রতিষ্ঠাপন করতে পার, তবে তমি অন্তর্জ্ঞান-স্তরে আছো।

যদি তুমি স্মতির ভার থেকে মুক্ত হও, অচেতন অঞ্চলে শন্য ও আনন্দময় হও, অতীতের ভার ছাড়া যদি জীবন্ত ও সতেজ হও, এনগ্রামের গুরুভার বিনা তোমার সত্তার শক্তি নিজে থেকেই সবচেয়ে বিশ্বদ্ধরূপে প্রকাশিত হবে। এটা হলে. আমরা বলি যে তোমার বদ্ধি সর্বোচ্চ শিখরে, কারণ শক্তি বা এবং তা এক শক্তি বা এনাজী থেকে সিদ্ধান্ত নাও, এই শক্তিই অন্তর্জন বা ইনটিয়ুশন; এখানে তুমি অসাধারণ স্পষ্টতা নিয়ে পুরোপুরি জানো। বোঝ যে, অতীতের মেমরীঙ্গলি কোন সমস্যায় ফেলে না। সেগুলির সাথে বন্ধনই ছিল আসল সমস্যা।

অন্তর্জ্জন-ম্তরে যখন আছো, তখন তুমি নির্ণয় নেবে অন্তর্জ্ঞানের শক্তি থেকে, গভীর চেতনা ও শান্তি থেকে, আনন্দ থেকে!

এই ধারণার জন্য এক গভীর উপলব্ধি চাই। সম্পূর্ণ বিজ্ঞানে তোমাকে গভীরভাবে ঢুকতে হবে, তাহলেই বুঝতে পারবে যে অন্তর্জান বলতে কি বুঝিয়েছি। বদ্ধি ছাড়িয়ে তোমার মধ্যে কিছু একটা হয়, সেটাই অন্তর্জান।

অন্তর্জ্ঞানের ক্ষমতা

অন্তর্জ্ঞান বা ইনটিয়শন কি?

আমাকে বোঝাতে দাও। হঠাৎ তুমি নিঃসংশয় হয়ে কোন একটা নির্দিষ্ট জিনিষকে সঠিক জিনিষ জেনে সেটা করার জন্য নিজের ভিতরে যথেষ্ট শক্তি অন্তত্য করে, কিন্তু সেটা করার জন্য সংশ্লিষ্ট পদক্ষেপগুলি জানো না যে কোন পদক্ষেপে এই সিদ্ধান্তে এলে, কিন্তু তুমি অতি নিশ্চয় হয়ে জান যে তোমার সিদ্ধান্ত একদম ঠিক। এটাই অন্তর্জ্ঞান বা স্বজ্ঞা।

পর্ব নজির ছাড়া যখন কোন পরিস্থিতিতে এসে যাও, তখন অন্তর্জানের শক্তি চাই। যখন তোমার কাছে খব কম তথ্য আছে আ র তোমাকে কোন সিদ্ধান্তে আসতে হবে, অথবা তোমার কাছে অনেক বিকল্প আছে এবং কোন সিদ্ধান্তে আসতে পারছো না; এই রকম পরিস্থিতিতে অন্তর্জ্ঞান সাহায্য করে। কেবল এইপ্রকার পরিস্থিতিই নয়, তুমি যদি সত্তার এই অঞ্চলে সর্বদা বিরাজমান থাকো, তুমি তবে প্রতিটি মহুর্তে পুরোপারি বিদ্যমান থাকবে এবং ভবিষ্যতের মুহূর্তগুলিকেও একই প্রকারে জন্ম দিতে থাকবে।

আমি এখন তোমাদের কি বলছি, যদি তুমি তা আত্মস্থ করতে চাও, যদি কিছু মিনিট নিজের সাথে বসে কাটাতে পার এবং অন্তত্য করতে পার যে সঞ্চিত এনগ্রামগুলি কিভাবে তোমার ওপরে চাপ সঙ্গি করছে, যদি তুমি আমার কথার সত্যতা বুঝতে পার, তুমি ধীরে ধীরে এই আবর্ত থেকে বেড়িয়ে পরার দক্ষতা অর্জন করবে এবং সত্তার উচ্চতর তলে পৌঁছে যাবে।

অন্তর্জন কেবল নির্ণয় নেবার শক্তি দেয়া হয়ে অন্তর্জান তোমার নির্ণয় সম্পাদন করার শক্তিও দেয়। লোকেদের এটা বললে তারা জিজ্ঞাসা করে, 'সামীজী, কি করে ব্যবা যে আমার কোন একটা বোধ অন্তর্জন থেকে এলো নাকি বুদ্ধি-ম্তর থেকে এলো? তারা বলে, 'সামীজী, আমি গুলিয়ে ফেলছি, এটা বুদ্ধি না অন্তর্জান।' আমি তাদের বলি, পরিষ্কার করে বুঝে নাও যে যদি গুলিয়ে ফেলছো তো সেটা বুদ্ধিগত ব্যাপার! যখন তোমার অন্তর্জান আছে, তখন তুমি এতই নিশ্চিত হবে ও শক্তিতে ভরপুর থাকবে যে সেখানে গুলিয়ে ফেলার কোন প্রশ্নই থাকবে না।

অন্তর্জন দ্বারা তোমার সত্তার ভিতরের সুপ্তশক্তি সাবলীলভাবে প্রকাশিত হয়। তুমি উন্মুক্ত হও ও তা প্রদর্শন করতে থাকো। যে সব বৈজ্ঞানিক ও শিল্পপতিরা তাদের ক্ষেত্রে খুব বড় কিছু করেছে, তুমি যদি তাদের সম্পর্কে পড়, দেখবে বারবার তারা বলেছে যে বুদ্ধি পেরিয়ে অন্য কোন জিনিষ থেকে তাদের সফলতা এসেছে, সেই জিনিষই তাদের সমস্ত সিদ্ধান্তগুলি নিতে বল ও সাহস জুপিয়েছে।

তোমাদের সবার মধ্যে অন্তর্জানের বল আছে। একটা প্রশ্ন করি : তোমাদের মধ্যে কয়জন কমসেকম একবার জীবনে অভিজ্ঞতা করেছ যে যখন কারো সম্মুন্ধে ভাবছ, ফোন বাজলো এবং ঠিক সেই ব্যক্তি লাইনে আছে? অথবা কোন নতুন জায়গায় গেলে এবং মনে হল যে তমি সেখানে আগে এসেছো? অথবা এই রকম অন্তর্জ্ঞানের ঘটনা?

(উপস্থিতের ৮০%-এর বেশী মানুষ হাত তুললো)

দ্যাশো, এখন হল অন্তর্জানের মুহূর্ত যা তুমি জীবনে আকস্মিকভাবে উপলব্ধি করেছো। এই মুহূর্তগুলিতে তুমি আকৃতিকভাবে ধ্যানাবস্থায় চলে যাও। এই মুহূর্তগুলিতে তোমার সাথে সম্পর্ক স্থাপন করার চেষ্টা করে। কিন্তু তুমি কি করে ? তুমি এইসব ঘটনাকে সমস্থানিক বা আকস্মিক যোগযোগ বলে মনে করে গ্রাহ্ণ কর না ও নিজের সতাকে উপেক্ষা করা। নিজের সতার উচ্চতর মাত্রাকে পরদর্শ্বর উপেক্ষা কর। ৮০% মানুষের যা হয়েছে তা সমস্থানিক (coincidence) কিভাবে হয়?

একদম পরিষ্কার করে বোঝ : অন্তর্জানের এই মহুর্তগুলি তোমার সুপ্রশক্তির স্পষ্ট প্রমাণ। তমি যদি তাকে মেনে নাও ও উৎসাহ দাও, তাহলে তোমার সত্তার উচ্চতর মাত্রাকে প্রকাশ করতে পারবে।

লেসার ও মেসার (LASER and MASER) ক্ষেত্রে নোবেল প্রাইজ প্রাপ্ত বিজ্ঞানী ডঃ চার্লস টাউন্সের সাথে একবার ভোজন করার সুযোগ হয়। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, 'কি করে এটা হল? কিভাবে এটা আবিষ্কার করতে পারলেন?' তিনি সন্দরভাবে উত্তর দিলেন, 'আমি ওয়াশিংটনের পার্কে বসেছিলাম আর হঠাৎ আমার মধ্যে কিছু একটা ঘটল। হঠাৎ সিদ্ধান্তটি আমার কাছে প্রকাশিত হল। আমি সাথে সাথে তা লিখে রাখলাম। তারপর বুঝলাম আমার একটা সমস্যা আছে। আমার কাছে সিদ্ধান্তটি আছে কিন্তু পদক্ষেপগুলি নেই! আমি কারও কাছে তা উপস্থাপন করতে পারলাম না, কারণ আমি কেবল সিদ্ধান্তটি জানি না। তারপর আমি বসলাম ও যুক্তিগত পদক্ষেপগুলিকে পেলাম।'

খালি চালস টাউন্সই নয়, সুবিদিত বিজ্ঞানী এলবার্ট আইনস্টাইন পর্যন্ত বলেছেন, 'আমার যা কিছু নতুন উপলব্ধি হয়েছে, তা অন্তর্জন থেকেই এসেছে. বদ্ধি থেকে আসে নি।' অতি সন্দরভাবে তিনি বলেন, 'অন্তর্জ্ঞানী মন এক পবিত্র উপহার, আর যৌক্তিক মন এক প্রভুক্ত ভ্যা' আমরা এমন এক সমাজ সষ্টি করেছি যা ভত্যকে সম্মান করে এ বং উপহারকে ভুলে গেছে।

আমরা বিশ্বাস করি কি না করি, গ্রহণ করি কি না করি, অন্তর্জান বলে একটা জিনিষ আমাদের ভিতরে আছে। আইনস্টাইন তাকে উপহার বলেছেন কারণ তিনি জানতেন না যে এটাকে নিয়মিতভাবে ধরে রাখা যায় কিনা। তিনি নিশ্চিত ছিলেন না কখন এটা হতে পারে। কিন্তু প্রাচ্যের মহান যোগীবন্দ বারংবার বলে গেছেন যে তোমরা এটা সর্বদাই পেতে পার। অন্তর্জনকে উপহার বলে ভাবতে হবে না। তুমি তাকে পাবার জন্য কাজ করতে পার। এটা তোমার জীবনের এক অংশ হতে পারে।

রদ্ধি ছাড়িয়ে যখন তোমার অন্তর্জন হয়, তোমার সমস্ত সত্তা সুসংহত হয়। তখন তমি তোমার সর্বোচ্চ শিখরে। সর্বোচ্চ শিখরে। সর্বোচ্চ শিখরে এলে কিছু একটা খুলে যায়। একে তুমি বলতে পার বিষয়কর প্রকাশ বা অন্যক্তান বা অন্য কিছু। যোগীবন্দ বারংবার বলেছেন যে जनवर को विज्ञान। তমি তবে তা নিজের জীবনে নিয়মিতভাবে উপযোগ করতে পার।

অন্তর্জ্জন তোমার সত্তার শক্তি। এই বিশ্বদ্ধ শক্তি যখন অচেতন স্তর থেকে, তখন তোমার শারীরিক, মানসিক ও আবেগগত নিরাময় হয়। নিরাময় করা ছাড়াও তা চাপ (স্টেস) কমায় এবং তোমাকে অবিলম্বে নির্ণয় নিতে সাহায্য করে।

স্বতঃস্ফূর্ততার সাথে তোমার সংগঠিত তথ্যের কোন সম্পর্ক নেই ; তার সাথে কিভাবে তথ্য প্রসেসিং (data processing) করছ তার সম্পর্ক আছে।

একই তথ্য বা ডাটা, একই জ্ঞাপন বা ইনফর্মেশন, নানাভাবে প্রসেস করা যায়। বুদ্ধিতে সীমাবদ্ধ না হয়ে, এই ডাটা তুমি কিভাবে প্রসেস কর এবং কিভাবে সিদ্ধান্তে আস, তা অন্তর্জান সম্বন্ধীয়। বিভিন্ন প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি দ্বারা আমরা নিজেদের তৈরী করতে পারি এবং অন্তর্জ্ঞানের শক্তির সাথে সুর বাঁধতে পারি।

এই প্রক্রিয়াগুলিকে আমরা ধ্যান বলি। নিজের সত্তার উচ্চতর শক্তির জন্য প্রাচ্যে জন্য প্রাচ্যে জন্য প্রাচ্যে জন্য প্রাচ্যে জমনা খ্যান শব্দটি ব্যবহার করি। সত্তার এই শক্তি সবসময় আমাদের তার অভিজ্ঞতা পাবার জন্য আমন্ত্রণ করে।

যখনই সময় পাবে, নিজেকে নিয়ে বসো এবং নিজেকে লক্ষ্য কর। আমরা সর্বদা অপরকে সাক্ষাৎ করার জন্য সময় দিই, কিন্তু কখনই নিজেকে তা দিই না! যদি ঠিক নিজেকে নিয়ে বসো, দেখবে যে তোমার সত্তার কিছু অংশ প্রকাশিত হতে চাইছে, আরও বেশী কিছু করতে চাইছে, কিন্তু তুমি কখনই তোমার সত্তার সেই অংশকে সুযোগ বা সময় দাও না।

আমরা আমাদের বুদ্ধিতে জড়িয়ে যাই। আমরা ভাবি আমাদের বুদ্ধিই চড়ান্ত বা চরম, কিন্তু যোগীরা বারবার প্রমাণ করেছেন যে বদ্ধিকে ছাড়িয়ে অন্য জায়গায় যাওয়া সম্ভব।

আমাদের শরীরের অভ্যন্তরের শক্তি-কেন্দ্রগুলি

যদি আমরা বুঝি যে মন কিভাবে কাজ করে, অচেতনে মজুত পভীরভাবে খোদিত স্মতিগুলির ভার কিভাবে খালি করা যায়, নতুন ভার কিভাবে আর না ওঠানো যায় এবং কিভাবে আমাদের সত্তার সুপ্তশত্তিকে জাগরিত করে অন্তর্জ্ঞান-অঞ্চলে প্রবেশ করা যায়, তবেই আমরা এক মাস্টারের মত বাঁচব, ভত্যের মত নয়।

![](_page_24_Picture_3.jpeg)

এখানে এই চার্টটি দেখো। একটি মানুষের ছবিতে সাতটি চিহ্ন দেখছো। সবাই দেখতে পাচ্ছো কি? ঠিক আছে। মানুষের আকারে এই সাতটি চিহ্নকে 'চত্র' বলা হয়।

আমাদের শরীরে চক্রগুলি অতিসক্ষ্ম শক্তিকেন্দ্র। তারা আমাদের শরীরে শক্তির সাতটি চাকা।

আমাদের ভাবনা অনুযায়ী কিন্তু আমাদের কেবল একটা শরীর নেই। আমাদের আছে সাতটি শরীর - শক্তি-শরীর। আমি প্রথম তিনটি এখন ব্যাখ্যা করব।

প্রথম শরীর - যেটা দ্বারা এখানে এসেছো, যেটাতে চলাফেরা করছো, কথা বলছো, লিখছো - এটাকে বলে 'জাগ্রত শরীর।'

পরেরটা হল 'সক্ষ্ম শরীর' - যেটাকে তুমি স্বপ্নাবস্থায় ব্যবহার কর। এই শরীরকে তুমি স্বপ্নে নানা স্থানে ভ্রমণ করার জন্য ব্যবহার করা স্বপ্নে তুমি নিজেকে বিভিন্ন জায়গায় দেখ। স্বপ্নে কখনও নিজেকে এমন জায়গায় দেখ যেখানে জাগ্রত অবস্থায় কদাপি যাও নি।

তৃতীয় শরীর হল 'কারণ শরীরা' এটাকে গভীর নিদ্রার সময় তুমি ব্যবহার কর। এই শরীর চলাফেরা করে না।

এই পরের দুটো শরীর জাগ্রত শরীরের দৈর্ঘ্য বরাবর সাতটি বিদ্যুতে মিলিত হয়। এই সাতটি বিন্দুকে চক্র বলা হয়। এই সাতটি হল প্রধান চক্র। এছাড়াও অন্য বহু গৌণ-চক্র আছে, কিন্তু এই সাতটি গুরুত্বপূর্ণ চক্র আমাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য দায়ী।

বহুদিন আগে বৈদিকযুগে এই চক্রগুলির আবিষ্কার হয়। অনেক আধ্যাত্মিক স্তবে এই চক্রপ্তলির নামের উল্লেখ আছে। আজ বিজ্ঞান

প্রমাণ করেছে যে প্রতিটি চলে এবং একটি করে গ্রন্থ বা গ্ল্যাণ্ড আছে যা সেই চক্রের সাথে সমন্ধিত। এই সাতটি চক্র গ্ন্যাণ্ডগুলিকে শক্তিপ্রদান করে।

এই সাতটি চুক্ত আমাদের শারীরিক, মানসিক ও আবেগগত কাজকর্মকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। তাদের অনেক শক্তি। তারা শক্তিকেন্দ্র এবং যদি তাদের শুদ্ধ ও জাগ্রত অবস্থায় রাখা যায়. তারা আমাদের এক সঙ্গ ও পরমানন্দ জীবনযাপনে সাহায্য করে।

এই চক্রগুলির মধ্যে কোন একটির অসন্তলিত (imbalance) অবস্থাই অসুস্থতা, কারণ আমাদের শরীর ও মনের শিকড় আছে আমাদের অন্তরে, আমাদের চেতনাতে। চক্রগুলিকে সুস্থ অবস্থায় রাখলে আমরা আমাদের শারীরিক ও মানসিক স্তরে এক রূপান্তর ঘটনে দেখি।

তোমাদের একটা ছোট গল্প বলি :

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরে একটা বাই-প্লেন বা ছোট প্লেন এশিয়ার কোন এক সুদর আদিবাসী অঞ্চলে পরিত্যক্ত হয়। আদিবাসীরা জীবনে কখনও প্লেন দেখে নি। সবাই খব বিস্ময়ে উত্তেজিত হল ও বহু লোক তার পাশে জড় হল। তারা অবাক হল যে জিনিষটা কি? সবাই নিজের মতামত দিতে থাকলো। সবশেষে তারা সবাই একমত হল, যেহেত জিনিষ্ঠার চাকা আছে. সেটা একটা গরুর গাড়ীই হবে! নতুন গড়ী সম্বন্ধে খবরটা গ্রামের চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল। গ্রামে অনেক উৎসব চলতে থাকল এবং জোয়াল দিয়ে বাই-প্লেন্টার সাথে দুটো বলদ জুডে দিয়ে নতন গরুর গাড়ীকে সারা গ্রামে প্রদর্শন করানো হল।

কিছুদিন পর এক তরুণ আদিবাসী শহর থেকে পড়াশুনা শেষ করে সেই গ্রামে ফিরল। সে বাই-প্লেন্টা দেখল। সে তাকে ভালভাবে দেখলো ও ভিতরে ঢুকে পরীক্ষা করল, সুইচ ও গিয়ার নিয়ে নাড়াচাড়া করল। হঠাৎ ইঞ্জিন চাল হয়ে গেল! কোনরকমে সে তাকে নিয়ন্ত্রণ করে মাটিতে কিছুদুর চালাতে পারল আর গ্রামবাসীরা তা দেখে হতবাক। ছেলেটি ট্রাক্টর ব্যবহার হতে দেখেছিল আর সবাইকে বলল যে নতুন জিনিষটি গরুর গাড়ী নয়, সেটা এক প্রকার ট্রাক্টর।

গ্রামে আবার উৎসব হল আর বাই-প্লেনটি ট্রাক্টর হিসাবে ব্যবহৃত হতে থাকল!

কয়েক দিন পরে এক অবসরপ্রাপ্ত সামরিকবাহিনীর পদকর্তা বা আর্মি-অফিসার গ্রামে এলো। সে দেখল একটি বাই-প্লেন ট্রাক্টর হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে আর তাই দেখে খুব অবাক হয়ে গেল। সে গ্রামবাসীদের চেষ্টা করল যে এটা ট্রাক্টর নয়. এটা উডতে পারে, নাম প্লেন।

তারা তাকে বিশ্বাস করতে অস্বীকার করল, কারণ তারা তো কেবল পাখীদের উডতে দেখেছে। আর্মি-অফিসার প্লেনের ভিতরে ঢুকল এবং প্লেনটা একটু উড়িয়ে মাটিতে নেবে এল।

গ্রামবাসীরা বিস্তয়ে হতবাক। তখন তারা জিনিষটার আসল সম্ভাবনা ও সপ্তশক্তি বঝল।

বোঝ : মানম এমন খুব সুন্দর এক নির্মাণকৌশল যে উড়তে পারে। কিন্তু আমরা আমাদের পুরো সম্ভাবনা জানি না। নিজের সম্বন্ধে আমাদের ধারণা সীমিত। আমাদের মধ্যে বেশীর ভাগ মানুষই পরুর গাড়ী হয়ে থাকি , সহজপ্রবতি-মনে, আবেগের কাছে সমর্পিত হয়ে।

যখন আমরা বেশীরভাগ সময়ে বহির্জগতের বাড়ী, গাড়ী, পেশা ও অন্য প্রাথমিক জিনিষের সাথে নিজেদের জুডে রাখি, আমরা আমাদের শরীরকে গরুর গাড়ীর মত ব্যবহার করি। আমরা কেবল সহজপ্রবতি -স্তরে কাজ করি এবং খুবই ভারী অচেতন মন নিয়ে থাকি।

তদুপরি আমরা শিল্পকলা, সজনশীলতা, দর্শন এবং অন্যান্য বিষয় যাতে কেবল মন নয়, হৃদয়েরও প্রয়োজন, তা নিয়ে থাকলে আমরা নিজেদের শরীরকে টাক্টর হিসাবে প্রয়োগ করি। আমরা আমাদের ভিতরে কিছুটা পরিতাপ্ত পাই। যে মানুষ একটা কাব্যের জন্ম দিয়েছে সে এক সাধারণ মহিলার বাচ্চা জন্ম দেওয়ার চেয়ে বেশী খুশী হবে। মহিলাটির ক্ষেত্রে সঙ্গি হয় পাকস্থলীর নীচ জরায় থেকে, কবি সঙ্টি করে হৃদয় থেকে এবং তাই কবির পরিতণ্ডি বেশী। এই প্রকার মানুষেরা বুদ্ধি-স্তর থেকে কাজ করে।

অবশেষে মানুষ আধ্যাত্মিকতায় প্রবেশ করলে সত্য জানের জন্য তম্ভাব হয় এবং বোঝে যে সে নিজেই চুড়ান্ত -শক্তির (existential energy) শানীরিক প্রকাশ। সে তখন শরীরকে প্লেন হিসাবে ব্যবহার করে। জীবনমুক্ত মাস্টারেরা তাঁদের শরীরকে প্লেন হিসাবে ব্যবহার করেন। তাঁরা সর্বদাই পরমানন্দে থাকেন। তাঁরা গরুর গাড়ী ও ট্রাক্টরের সমস্ত দুর্দশা থেকে উত্থান করেন এবং স্বচ্ছন্দে ওডেন। তাঁরা অন্তর্জ্ঞান-স্তরে কাজ করেন।

একটা প্লেন বা উড়োজাহাজ হতে গেলে কি করতে হবে? প্রামবাসী ও আর্মি-অফিসারের মধ্যে কি প্রভেদ? প্লেনটি তা মনে করিয়ে দেয়। প্লেনে কিছুই যোগ বা বিয়োগ করা হয় নি। তার কোন বস্তুগত পরিবর্তন করা হয় নি। তাহলে পার্থক্য কি ছিল?

জ্ঞান। প্লেন সম্বন্ধীয় জ্ঞান। গ্রামবাসীরা জানতো না যে যন্ত্রটিতে এমন নির্মাণকৌশল আছে যে তাকে ঠিক করে চালাতে পারলে সে উডতে পারে। কিন্তু আর্মি-অফিসার তা জানত, ব্যাস, এটাই পাথকা। যে কৌশলে তারা যন্ত্রটিকে ব্যবহার করে, তাতে প্রথমে সেটা হয় গরুর গাড়ী, পরে ট্রাক্টর এবং সবশেষে একটা উডোজাহাজ।

একইভাবে আমাদের ভিতরেও 'চক্র' বলে কিছু নির্মাণকৌশল বা গিয়ার আছে যা অসীম শক্তির কেন্দ্র। তাদের প্রতিটি আমাদের ভিতরের একেকটি আবেগের সাথে যুদ্ধ আমরা ঠিক করে আবেগগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করতে শিখি, আমরা উডোজাহাজ হয়ে কাজ করতে পারব।

মৌলিক আবেগগুলির মধ্যে কয়েকটার বিজ্ঞান যদি আমরা আমাদের বর্তমান গভীর অচেতন অবস্থা সম্পর্কে অবহিত হতে পারি। তারপর নিজেদের অচেতনতার ভার থেকে মুক্ত করতে পারি এবং আমাদের সত্তার উচ্চতর মাত্রাগুলিতে যেতে পারি।

চক্রগুলির কোন শারীরিক অস্তিত্ব নেই। সেগুলি এক অধিবিদ্যামলক (metaphysical) রূপায়ণ, কারণ এগুলি সম্মুদেহে আছে, স্থল শরীরে নয়। কিরলান ফটোগ্রাফিতে চক্রগুলির ছবি নিয়ে তাদের সক্ষ্মদেহে অভিত্তের প্রমাণ করার চেষ্টা হয়েছে।

এটা প্রমাণিত হয়েছে যে মানুষ নকারাত্মক আবেগের সাথে সংশ্লিষ্ট চক্র কোটের রোতামের মত ছোট হয়ে যায়। কিন্তু ব্যক্তিটি যখন একই আবেগের সকারাত্মক ভাব পায়, তার চক্রটি গাড়ির চাকার সাইজে প্রসারিত হয়। চক্র অর্থাৎ শক্তিকেন্দ্রগুলিকে আমাদের আবেগসমগ এইভাবে প্রভাবিত করে।

নকারাত্মক ভাবনা দ্বারা চক্রগুলিতে আমাদের শক্তিপ্রবাহ বিঘ্নিত হয়ে আছে এবং আমাদের তা জানা নেই।

বোঝ : কীটের মত মাটিতে চলার জন্য মানুষের সংকল্পনা করা হয় নি: তাকে আকাশে ওডার জন্য তৈরী করা হয়েছে। প্রামবাসীরা ঠিক যেভাবে জানত না যে যন্ত্রটি উড়তে পারে, মানুষও জানে না যে সে উড়তে পারে। মানুষ সর্বদা ভাবে যে জীবনমুক্ত মানুষেরা বিশেষ গুণসম্পন্ন এবং দুরে দাঁড়িয়ে তাঁদের সম্ভব করাই মানুষের কর্তব্য। সে কখনই তাঁদের মত হতে চায় না। আমি এখন তোমাদের বলি : বাঙাবিক তামি যদি অন্তর্জগতত সফল হতে চাও, তমি তা পারবে, সে যা কিছু হোক না কেন। সমস্যা হল তুমি বিশ্বাস কর না যে তুমি তা পেতে পার। ঠিক যেভাবে গ্রামবাসীরা বিশ্বাস করে নি যে যন্ত্রটি উড়তে পারে, তুমিও বিশ্বাস করতে চাও না যে তুমি আসলে আরও উচ্চতর জিনিষ পাবার জন্যই নির্মিত।

অভিজ্ঞতা থেকে শিখো না, বুদ্ধি থেকে শেখো!

একটা ছোট গল্প :

একটি ছোট মেয়ে পিয়ানো শেখে। সে শিক্ষকের দেওয়া পিয়ানোর পাঠ নিয়ে খুব বিব্রত ছিল। একবার মেয়েটি এক দক্ষ পিয়ানো-বাদককে পিয়ানোতে এক সন্দর সর বাজাতে দেখে। মেয়েটি তাকে কিছুক্ষণ দেখে জিজ্ঞাসা করে . 'স্যার, বাই-চাঙ্গ আপনার হাতে কি আমার চেয়ে বেশী আঙ্গল আছে?'

আমরা সবসময়ে ভাবি যে আমরা সঠিক গুণসম্পন্ন নই। সত্য হল, আমাদের যা দরকার তা সবই আমাদের কাছে ইতিপর্বেই আছে। আমরা খালি সেগুলিকে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে জানি না। আমরা বেশীরভাগই গরুর গাড়ী বা ট্রাক্টরের মত নিজেদের সম্ভাবনাকে প্রদর্শন করি। আমরা জানি না যে এটা একটা উড়োর শক্তি তোমার মধ্যে আছে, কিন্তু তা সবসময় সুপ্ত থাকবে যদি না তুমি আবেগ সম্বন্ধীয় বিজ্ঞান শেখ।

এই কয়েক দিনে তোমার মৌলিক আবেগসমূহ সম্মন্ধে এক স্বচ্ছ অন্তর্দটি হবে।

এক মাস্টার তাঁর চরম অভিজ্ঞতা সম্বন্ধে কথা বলেন। তিনি চরম কর্তৃত নিয়ে কথা বলেন কারণ তাঁর চরম অভিজ্ঞতা হয়েছে। সাধারণত আমরা এই ধারণার বশবর্তী যে কেবল বয়স ও অভিজ্ঞতা সহকারে পরিপক্ততা হয় ও মানুষ প্রস্তুতিত হয়।

মাস্টারেরা জুলন্ত উদাহরণ যে পরিপক্ষ ও বিকশিত হবার জন্য সময়ের প্রয়োজন নেই। তোমাদের আরেকটু বোঝাতে দাও।

ছেলেবেলায় খেলনাতে খুব আসক ছিলে, ঠিক কিনা? যদি তোমার কাছ থেকে কেউ খেলনা নিয়ে নিলে তুমি কিভাবে সাড়া দিতে ?

। তািপি আমিা সটারভি আগুরন হাত ত্মিই ও ত্মশত্মি সে সটারভি আগুনাও হাত সপারড়। ত্মেগারিরটি আগুরন হাত ত্মিরয় ত্মশত্মি সে তারতও আঙ্গলু সপারড়। তািপি কয়লাি আগুন েুুঁরয় সিত্মি সে তাও সপাড়ায়।

শ্রী রামকম্প পরমহংসের সরাসরি শিষ্য স্বামী ব্রহ্মানন্দের একটি সন্দর গল্প আছে

একদিন স্বামী ব্রহ্মানন্দ বন্দাবনে ধ্যান করছিলেন। এক ভক্ত এসে তাঁকে একটি মল্যবান কমল অর্গণ করে গেল । খামী ব্রহ্মানন্দ কিছুই বললেন না। তিনি নীরবে সব প্রত্যক্ষ করছিলেন। কয়েক ঘন্টা পরে, একটা চোর এলো, কম্বলটা দেখল এবং সেটাকে নিয়ে গেল। তাতেও স্বামী ব্রহ্মানন্দ একইভাবে নীরবে প্রত্যক্ষ করতে থাকলেন, কোন প্রতিক্রিয়া ছাড়াই। পাওয়াতে বা হারানোতে তিনি কোন পার্থক্যই দেখলেন না।

ভগবান রামানা মহর্ষির জীবনাও একটি অনরূপ গল্প আছে :

আশ্রমে একদিন কিছু চোর এব। তারা যৎসামান্য যা পেল তা নিল, এমনকি যাবার সময় তারা মহার্ষিকে একটি ধাকাও দিয়ে গেল।

শোনা যায় যে ভগবান কোন প্রতিক্রিয়া দেখান নি, এমনকি এই ঘটনায় তাঁর শাসের গতিও পরিবর্তন হয় নি! তিনি ঘটনায় একেবারেই অন্তর্জেজিত ছিলেন।

আমরা যখন নিছক দ্রষ্টা হয়ে যাই, আমাদের মন সেফ এক হাতিয়ার হয়ে যায়। আমরা তখন তাকে ইচ্ছামত ব্যবহার করতে পারি: নতুনা, মন সহজেই আমাদের তার গোলাম বানিয়ে দিতে পারে। যখন দরকার তুমি যদি তোমার মনকে প্রয়োগ করতে পার , তমি মনকে ফেলে দিতে শিখেছ! আর তমি এক মাস্টার হয়ে গেছ!

তাই এই কয়েক দিন আমরা শিখব আবেগ নিয়ন্তণ করা ও জীবনের দ্রুষ্টা হয়ে থাকা: আমাদের অন্তর্দেশে নিজেকে কেন্দ্রীভত করা এবং তার পরিধিতে শংখলতার সাথে কাজ করা।আমরা দেখব কিভাবে এক মানসিক গঠন সঙ্গি করা যায় যা খোদিত স্মৃতিসমূহ থেকে ষুক্ত। এই খোদিত স্মৃতিসমুহ অচেতন অবস্থায় ভুল সিদ্ধান্ত নেবার জন্য দায়ী। আমরা দেখব কি করে আমাদের অন্তর্জ্ঞানের শক্তিকে আহরণ করা যায়; কি ভাবে অচেতন থেকে চেতনে ও তারপর অতি-চেতনে (super-conscious) যাওয়া যায়; কিভাবে সহজপ্রবতি থেকে বুদ্ধি ও তারপর অন্তর্জানে যাওয়া যায় : কিভাবে আমাদের ভিতরের আনন্দ-ফোয়ারাকে জাগানো যায়!

পরের সেশনে দেখা হবে।

ধন্যবাদ।

নোযোগ পাবার চাহিদা - ব্যাপারটা কি?

প্রেম প্রসঙ্গে যাবার আগে, 'মনোযোগ পাবার চাহিদা' শব্দসমষ্টির মানে বোঝা যাক।

আমরা যাই করি, যাই ভাবি, আমরা অবচেতন (subconscious) মনে আমাদের চারপাশে লোকেদের কাছ থেকে সম্মুরূপে এক সমর্থন চাই। আমরা অতি উৎসুক যে সবাই আমাদের ভাল বলুক। আমরা এটা হয়ত একদম সোজাসুজি কায়দায় করি না। কিন্তু যদি গভীরভাবে বিশ্লেষণ কর. দেখবে যে তোমার চারপাশে লোকেরা তোমায় তারিফ ও সমর্থন না করলে তুমি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ কর না। এই অনুমোদন, এই সমর্থন পাবার ইচ্ছাই হ'ল 'মনোযোগ-পাবার-চাহিদা'

আমাদের ৮০% সমস্যা আসে অপরের মনোযোগ আকর্ষণ করার বাসনা বা অন্যদের আকষ্ট করার চাহিদা থেকে। যদি বসে লেখো তাহলে স্পষ্টভাবে দেখবে যে দিনে কতগুলি জিনিম তুমি করে যাচ্ছ যাতে তোমার ভাল না ম হয়, পরিবার ও সমাজে যশ বজায় থাকে।

দেখবে যে পুরো ২৪ ঘণ্টা, পুরো জীবনকাল, তুমি অপরের অনুমোদন পাবার জন্য কাটিয়ে দিলে। পুরো জীবন তুমি যেন এক স্বাক্ষর সংগ্রহের অভিযানে আছ. সমাজের ও পরিবারের অনুমোদনের স্বাক্ষর।

যেন তুমি একটা বড় রেজিস্টারে লাইন কলম বানিয়ে লেখ : ভাল পিতা, এবং বাচ্চাদের জন্য যা যা করেছ, সেই কলমের নীচে বাচ্চাদের অনুমোদনের স্বাক্ষর আশা কর! তারপর তুমি তোমার পত্নীর কাছে যাও, বস্-এর কাছে যাও, বন্ধুদের কাছে যাও। কলমণ্ডলির শিরোনামা বা হেডিং তৈরি করেছ - ভাল পতি, ভাল কর্মচারী, ভাল বন্ধু ইত্যাদি আর নীচে তাদের স্বাক্ষরের জন্য অপেক্ষা করে।

আবার এই সব মানুষেরাও তোমার কাছে তোমার স্বাক্ষর নিতে আসে ! তোমাকেও তাদের রেজিস্টারে যে কলমটি তোমার জন্য প্রযোজ্য তার নীচে স্বাক্ষর করতে হয়।

নিজের সম্পর্কে অন্যের মতামতের জন্য আমরা এত বিব্রত কেন হই? কেন আমরা নিজের শক্তি ঘারা নিজেকে বিচার করতে পারি না এবং নিজের কাজ করতে থাকি না? কেন আমরা অপরের কাছ থেকে শক্তি আহরণ করে? এগুলি দুটো জিনিষের জন্য হয়। এক : আমরা নিজেদের সম্বন্ধে কিছুই জানি না। আমরা নিজেদের জানি আমাদের সম্পর্কে অপরের মতামত মারফ : অপরের সার্টিফিকেট মারফৎ। দুই : অন্যেরা যখন আমাদের অনুমোদন দেয় ও আমাদের দিকে মনোযোগ দেয়, তারা যেন আমাদের জীবনযাত্রার জন্য শক্তি দেয়। মনোযোগ এক শক্তি। তাই আমরা অপরের মনোযোগ আকর্ষণ করে এত খুশী হই।

অপরের যে কোন প্রকার মনোযোগ পেলেই আমাদের চলবে। বেশীরভাগ বাড়ীতে শাখড়ি ও বউ ঝগড়া করতে থাকে। সর্বদাই তারা অন্যজনের ওপরে ঘরের বেচারা পুরুষের কাছে নালিশ করতে থাকে। কিন্তু হজনের মধ্যে একজন কিছুদিনের জন্য শহরের বাইরে গেলে কি হয়? তারা অপরকে মিস করতে থাকে! যদিও তারা ঘরে ঝগড়া করছিল, একসাথে না থাকলে তারা একে অপরকে মিস করে। এটা কেন হয়? তারা যখন ঝগড়া করে, তখন আসলে তারা অন্যজনের মনোযোগ পায়!

ভেবো না যে কেবল সকারাত্মক মনোযোগেই শক্তি আছে। যে কোন প্রকার মনোযোগেই শক্তি আছে। শ্বাশুড়ি ও বউ, দুজনেই রুপড়ার সময় একে অপরকে যে মনোযোগ দেয়, তা তারা অবচেতন মনে উপভোগ করে। তাই একজন দুরে গেলে মনোযোগ না পাওয়ার কারণে একে অপরকে মিস্ করে এবং সেটাকে প্রেম মনে করে। তারা বলে যে তারা একে অপরকে মিস্ করে কারণ তাদের মধ্যে ভালবাসা আছে।

মনোযোগ হল এক ধরনের শক্তি যা আমাদের উচ্ছুসিত রাখে। এতে সুস্থরূপে আমাদের মধ্যে শক্তির সঞ্চালন হয় এবং আমরা সে সম্বন্ধে সচেতন নই। আমাদের কিছু একটা চাই, সেই 'কিছু একটা' প্রেম নয়, তা 'মনোযোগ' তোমার প্রেমের প্রয়োজন নেই, তুমি নিজেই তো প্রেম। তাই তুমি যখন বল যে তোমার প্রেমের প্রয়োজন আছে, যখন বল যে কেউ তোমাকে ভালবাসুক, আসলে তুমি অপরের মনোযোগ আকর্ষণ করার চেষ্টা করছ, প্রেম নয়।

অনেকে আমাকে বলে যে তাদের ছেলেরা ও মেয়েরা বুড়ো বয়সে তাদের ভালবাসে না। তারা আসলে বলতে চায় যে তাদের ছেলেমেয়েরা তাদের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে না, যে শক্তিটা তাদের বন্ধাবস্থায় দরকার।

প্রক্রপক্ষে বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমাদের নিজেদের ভিতরে আরও বেশী কেন্দ্রীভূত হওয়া দরকার , অন্তরের অস্তিত্বের শক্তির সাথে সংবেদনশীল হওয়া দরকার। কিন্তু কি হয়, যেহেতু আমরা সারাজীবন অপরের মনোযোগ ও শক্তির ওপরে নির্ভরশীল ছিলাম, যেহেতু আমাদের জানা প্রেম খালি আত্মীয়তায় ও বন্ধুতে আমরা অন্তর্জগৎ সম্বন্ধে অচেতন ও সংবেদনহীন

হয়ে থেকেছি. বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমরা বাইরে থেকে আসা ভালবাসা বা মনোযোগ হারাতে থাকি। পরিবার অন্যান্য বিষয়ে ব্যস্ত হয়ে ওঠে এবং আমাদের অত সময় দিতে পারে না যতটা আগে দিত। তাই আমরা বয়স বাড়ার সাথে সাথে অভিযোগ করতে থাকি।

'আমাদের শক্তির উৎস আমাদের ভিতরেই আছে' ঠিক এই কথাটা না বোঝার জন্য দ্যাখো, আমরা চরম জীবনীশক্তিতে ও আনন্দে জীবন না কাটিয়ে কম জীবনীশক্তি ও আনন্দে জীবন কাটাই।

শক্তির সার্টিফিকেট?

শক্তির জন্য বাইরের উৎসের ওপর নির্ভর করে তো তমি মনস্তাতিকভাবে প্রতিবন্ধী হয়ে গেলে। যখন শারীরিক সাহায্য চাই , তমি শারীরিকভাবে পঙ্গ। যখন মানসিক সাহায্য চাই, তমি মানসিক দিক থেকে পঙ্গ বা প্রতিবন্ধী।

শারীরিকভাবে কেউ পক্ষ হলে পরিষ্কার করে দেখতে পার, তাই তা অনায়াসে রবাতে পারে; কিন্তু মানসিকভাবে পক্ষ মানুষকে চেনা শক্ত। এটা সম্বন্ধে তুমি সচেতন নও, পরিণতি সম্মন্ধ তোমার কোন ধারণাই থাকে না। যখন সত্যিকারের অ-সং (dis-ease) হয়, তার কারণ জানতে পেরে অবাক হয়ে যাও।

বাচ্চাদের খেলতে দেখেছ. দেখেছ তারা কিভাবে তাস দিয়ে দুর্গ বা ক্যাসেল বানায়। কোনাকুনি ভাবে, অনেকগুলি তলে, পিরামিডের আকারে তারা তাসগুলি রাখে। দেখতে সুন্দর লাগে। কিন্তু যে কোন একটা তাস সরিয়ে নিলে পরো ক্যাসেল টাই ভেঙ্গে পড়ে! যত উঁচু ক্যাসেল, তার ভেঙ্গে পড়ার ঝুঁকি তত বেশী।

ঠিক এইভাবে, আমরা তাসের দুর্গের মতামত দিয়ে আমাদের আত্মাভিয়ান তৈরি করে। বাবা , মা. সঙ্গি, সুন্দিনী, শিক্ষক, বন্ধ ও আরো অনেকের কাছ থেকে যাচ্ছে বা সার্টিফিকেট নিই এবং এই সব সার্টিফিকেট সাজিয়ে তাসের দুর্গের মত নিজের ভাবমুর্তি তৈরি করি। মুর্তিটা দেখতে ভাল লাগে এবং আমরা খুশী হই।

কিন্তু যদি কোন একজন তার সার্টিফিকেট সরিয়ে নেয় তো কি হয়? ক্যাসেল ভেঙ্গে পড়ে! তুমি নিজেকে প্লেস্ট্রে দেখো, বিষাদগ্রস্ত হও। ভাবো যে পুরো দুনিয়া শেষ হতে চলেছে।

কমপক্ষে বাচ্চারা ক্যাসেল নিজের তাস দিয়ে বানায়। কিন্তু আমরা তা বানাই অন্যের সার্টিফিকেট দিয়ে। আমাদের এই ক্যাম্পেলের ওপরে কোন নিয়ন্ত্রণ নেই কারণ তা অন্য মানুষের সার্টিফিকেট দিয়ে তৈরি।

তাই আমরা কি করি? আমরা এই তাসের দুর্গকে রক্ষা করার জন্য প্রবল চেষ্টা করতে থাকি। আমরা এইভাবে ব্যবহার করতে থাকি যাতে অন্যেরা সার্টিফিকেট সরিয়ে না নেয়। তাদের লাগাতার সমর্থন পাবার জন্য কাজ করতে থাকি, কারণ তাদের সমর্থন দ্বারাই আমরা বেঁচে থাকি।

ছোট গল্প :

এক মহিলা তার পতির সাথে বাজারে একটি কোট কিনতে গেছে। অনেক দোকানে ঘুরেও কোন কোট মহি লাটির পছন্দ হ'ল না।

পতি পরিশ্রান্ত। সে জিজ্ঞাসা করে, 'প্রিয়ে, তুমি কি জান যে কি রকম কোট তুমি কিনতে চাইছ?'

পত্নী বলে, 'অবশ্যই! আমি একটা পড়ে-মর কোট খুঁজছি।'

পতি জিজ্জেস করে, 'প্রিয়ে, পড়ে-মর কোট কি?'

  • পত্নী উত্তর দিল, 'যখন লোকেরা দেখবে, তারা মরে পড়ে যাবে!' মানুষের কাছ থেকে কিভাবে সার্টিফিকেট আদায় করা যায়, আমরা সর্বদাই সে চেষ্টা করে যাচ্ছি! লোকে কি বলবে বা লোকে কিভাবে সাড়া দেবে, এই ভেবেই আমরা আমাদের সব কাজ করে থাকি।

ধর একটা ব্যাগ তোমার বাজেট বা তোমার যেমন দরকার সেই অনুযায়ী ঠিক আছে, কিন্তু অচেতনভাবে মন বলবে যে লোকে এই ব্যাগটাকে তেমন প্রশংসা নাও করতে পারে। তুমি আবার অন্য ব্যাগ পছন্দ করতে থাকে। তমি মানতে রাজী হবে না যে তমি অন্যের সার্টিফিকেটের জন্য আরও ভাল ব্যাগ খুঁজছ, কারণ এটা তোমার ভিতরে একটা অচেতন প্রক্রিয়া।

Section 8

আমরা প্রায় কেন্নোর মত হয়ে যাই। হাঁটতে গেলে কেন্নোর একশটা পা লাগে। ঠিক সেইভাবে জীবনের পথ চলার জন্য আমাদের দরকার সকলের কাছ থেকে তালে তাল মেলানো সম্মতি। কেন্নোর একটা পা অকেজো হলে কি হয়? সে আর চলতে পারে না।

একটা সম্মতি না পেলে আমাদের কি অবস্থা হয়? আমরা বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়ি।

আমরা যদি অপরের ওপরে এত নির্ভরশীল হয়ে পড়ি. তাহলে তো আমাদের বিষাদগ্রস্ত হবারই সম্ভাবনা। যারা বিষাদে ভোগে, তারা আসলে ভগছে 'মনোযোগ পাবার চাহিদা' থেকে। সময়কালে আমরা পর্যাপ্ত মনোযোগ পাই না এবং আমরা সামাল দিয়ে উঠতে পারি না। একটা কথাই যথেষ্ট. তা আমাদের বিষাদগ্রন্ত করে দেবে। কিন্তু আমরা আমাদের বিষয়দের আসল কারণ জানি না।

তাই আমরা কি করি? তা ঠিক করতে আমরা ওষুধ নিতে থাকি।

কি করে তা নিরাময় হবে? বিষাদের কারণ তোমার ভিতরে এবং তুমি সাহায্যের জন্য ওষুধ চাইছো। লোকেরা বিষাদ নিয়ে আমার কাছে এলে, শুরুতে তাদের সহজ মহামন্ত্র ধ্যান করতে বলি, আর বলি যে আমরা আস্তে আস্তে ওষুধ বন্ধু করব।

দ্যাখো, এই মানুষদের প্রদর্শন করাতে হবে যে তাদের ভিতরে আছে। ধ্যান তাদের সেটা দেখতে পারে।

তাদের ধ্যান করার আন্তরিকতার ওপর নির্ভর করে যে তারা নিজের ভিতরের শক্তি ব্যবহার করবে এবং বিষাদমুক্ত হবে। ওষুধ কিন্তু তাদের আরও ভোঁতা করে দেবে। এটা বুঝতে হবে।

বলছি শোন, যখন তুমি বাইরে থেকে শক্তি আহরণ করে, তা সহজেই তোমার সাথে ধ্বংসাত্মক খেলায় মেতে উঠতে পারে। তুমি তার হাতের পুতল হয়ে যাও।

তোমাদের একটা গল্প বলি। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে এই পরীক্ষাটা করা হয়।

  • একটি কমবয়সী, সুস্থ ও বুদ্ধিমান লোক সকালে তার কাজে বেরুবে। তার পত্নী তার দিকে তাকিয়ে বলে, 'তোমাকে ক্লান্ত দেখাচ্ছে, তুমি ভাল আছো তো?'
  • সে পত্নীর কথায় বিরক্ত হয়ে তাকে উল্টোপাল্টা কল্পনা করতে বারণ করল ও ঘর থেকে বেরুল।
  • গ্যারেজ থেকে গাড়ী বার করার সময় তার প্রতিবেশী তাকে দেখে ও জোরে জোরে বলে। 'তুমি ঠিক আছো তো? তোমাকে যেন কেমন দেখাচ্ছে।' লোকটি বিস্মিত হয় ও সে ঠিক আছে বলে উত্তর দিয়ে গাড়ী বার করে বেডিয়ে পড়ে।
  • সে অফিস পৌঁছাল। ভিতরে ঢোকার সময় রিসেপ্সনিস্ট্র উদ্বিগ্ন দৃষ্টিতে তাকে জিজ্ঞাসা করে, 'স্যার, আপনাকে অসুস্থ দেখাচ্ছে! আজকে কাজে কেন এলেন?
  • লোকটি উত্তর দিল, 'ভাল, আমার তো মনে হচ্ছে আমি ভালই আছি। দ্যাখা যাক...' বলে অফিসে ঢুকল।
  • সে কাজ শুরু করে ও একজন সহকর্মী এসে বলে, 'ওহে! তোমাকে খারাপ দেখাচ্ছে! কি ব্যাপার? তোমার জুরটর হয়েছে নাকি?'
  • এতক্ষণে লোকটির অবস্থা খারাপ। সে অস্বস্থকর ও অসুস্থ বোধ করতে থাকল। ঠিক সেই সময় তার বস তাকে ডেকে পাঠাল। বস তাকে দেখে বলল, 'তোমাকে আজ একদম অসুস্থ দেখাচ্ছে। তুমি কি নিশ্চিত যে আজকে কাজ করতে পারবে? তুমি যাও আর ডাক্তার দেখাও না কেন?'
  • কমবয়সী লোকটির পক্ষে খুব বেশী হয়ে গেলো। সে এবার সত্যি সত্যি অসুস্থবোধ করতে লাগল: ছুটি নিয়ে সে ঘরে চলল। ঘরে যাবার সময় সে দেখল যে তার শরীরের তাপমান বেড়ে যাচ্ছে। তার পত্নী তাকে বাড়ীতে ফিরতে দেখে অবাক। সে তার কপালে হাত দিয়ে দেখে যে তার তাপমান বেশ বেশী।
  • যে মানুষটি সকালে সম্পর্ণ সুস্থ ছিল, সে বিকালে অসুস্থ হয়ে পড়ল! আর সে কিভাবে অসুস্থ হল? কেবল কতণ্ডলি মানুষের কথায়। সংশ্লিষ্ট লোকদের আগে থেকে বলা ছিল তাকে একই কথা বলতে যে তাকে অসুস্থ দেখাচ্ছে। এই পরীক্ষা অনেক লোকের ওপর করা হয়েছিল এবং শেষে সবাই অসুস্থবোধ করেছিল।

তুমি তোমার ভিতরের শক্তিতে কেন্দ্রীভূত না হলে এটাই হয়। কেবল বাইরে থেকে আসা প্রভাবে তুমি উপর থেকে নীচে চলে যেতে পার। তুমি নিজেতে কেন্দ্রীভূত হলে, বাইরের কিছুই তোমাকে নাড়াতে পারবে না।

লোকেরা আমাকে বলে, 'স্বামীজী, আমরা প্রশংসা বা অনুমোদনের জন্য কাজ করি না: আমরা আমাদের কর্তব্যের খাতিরে কাজ করি।'

সাফ সাফ বোঝ : যেই মুহূর্তে তুমি দাবী করছ যে তুমি তোমার কর্তব্য করছ, তুমি সেটা করছ কারণ তুমি তা না করলে, তোমার লোকেরা তোমাকে অনুমোদন করা বন্ধ করে দেবে। যতক্ষণ তুমি তোমার থেকে প্রত্যাশিত প্রতিটি কর্তব্য করে যাচ্ছ. তোমার

। পত্নী পত্মতরক িুরটা শাটু উপহাি ত্মিল। পত্মত িুব আরবরগি োরথ স াষণা কিল সে তািা বাড়ীরত িান্না না করি বাইরি সকাথাও সিরত োরব। এটা ত্মেল তারিি এক সকামল মুহূতু ।

। ।

। ।

সংখ্যা জন্য অপরের ওপরে নির্ভর করলে তমি তাদেরকে তোমার জীবনের ওপরে কর্তৃত প্রদান করছ । তোমার শক্তি ও অনুপ্রেরণার উৎস নিজের ভিতরে পাও না কেন? একটা পরিষ্কার বোঝাপডায় আস যে যখন তুমি তোমার কেন্দ্র অন্যের কাছে রাখ, আসল সুখ সম্ভব নয়। এটা বুঝলে অর্ধেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

একটা ছোট গল্প :

মানব ইতিহাসে ব্রহ্মসূত্র একটি মহান গ্রন্থ। বিশ্বের দর্শনের এটা একটা অসংক্ষেপিত সংস্করণ, যার থেকে অন্যান্য সকল দর্শন উদ্ভব হয়েছে, এটি সমস্ত গ্রন্থের গ্রন্থ। ভারতবর্ষের সবচেয়ে মহান পণ্ডিত মহার্য বেদব্যাস এর রচয়িতা।

একজন জীবনমন্ত মাস্টার এই বইটি তাঁর শিষ্য বাচস্পতি মিশ্রকে দিলেন ও শিষ্যকে বইটির ওপরে ভাষ্য লিখতে বললেন। এদিকে মাস্টার তাঁর কন্যা বামাতিকে বিবাহে বাচম্পতি মিশ্রকে দিলেন ও কিছুদিন পর দেহ রাখলেন।

বাচম্পতি মিশ্র স্থিরসংকল্প হয়ে ভাষাকারের কাজ শুরু করলেন ও একটানা লিখেই যেতে থাকলেন। এটা ছিল তাঁর এক প্রগাদ ধ্যান যাতে তিনি রূপান্তরিত হয়েছিলেন। মাসের পর মাস, বছরের পর বছর লিখে চললেন, শেষে কয়েক দশক হয়ে গেল। তখন তিনি আর কিছুই দেখতেন না, আর কিছুই ভাবতেন না, আর কিছুই শুনতেন না।

সবশেষে তাঁর মহান কার্য সমাপন হল। কেবল বইটির নাম দেওয়া বাকী। তিনি বইটি থেকে মুখ ্য তার প্রতিষ্ঠান করে তার প্রতিষ্ঠান করে পারে। তার প্রতিষ্ঠান করে পারে পারে পারে পারে পারে পা এক বুদ্ধা তার জন্য প্রদীপ জ্বালাচ্ছেন। তিনি অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, 'তমি কে?'

মহিলা উত্তর দিলেন, 'আমার জন্য ভেবো না। তোমার কাজ করে যাও।'

বাচস্পতি বললেন, 'আমার কাজ শেষ হয়েছে। বল তৃমি কে?'

মহিলাটি বলেন, 'আমি আপনার পত্রী।'

বাচম্পতি মিশ্র প্রচণ্ড বিশ্বিত হলেন ও কি হয়েছে তা বুঝে কষ্ট পেলেন। কয়েক দশক ধরে তিনি বইটি লিখে যাচ্ছিলেন , কিন্তু নিজের পত্নীকে একেবারেই ভুলে গিয়েছিলেন। তিনি নিজেকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না।

'আমাকে এই কয়েক বৎসরে মনে করিয়ে দাও নি কেন?', তিনি আকুল হয়ে বলেন।

িক জন্য?' পত্নী বলেন। 'আপনি তো বইতে ডুবে ছিলে। আপনার মনোযোগ নষ্ট করার প্রয়োজন বোধ করি নি ' শান্তভাবে বলেন।

বাচম্পতি মিশ্র বলতে থাকলেন, 'মন্তব্যজাতির জন্য তুমি তোমার সমস্ত জীবন উৎসর্গ করলে। এখন তোমার জন্য আমি কি করতে পারি?'

বামাতি বলেন, 'আপনার সেবা করায় এক আনন্দ আছে। আমি মনে করি আপনার এই মহান পুস্তকটি লেখার সময় আপনাকে সেবা করতে পেরে আমি ধন্য। আর কিছু আমার চাই না।'

বাচস্পতি মিশ্রের চোখে আনন্দের অশ্রু। তাঁর পত্নীকে তিনি পরম শ্রদ্ধা জানালেন। তাঁর সমস্ত জীবনের কাজকে পত্নীর নাম দিলেন : বামাতি।

এমনকি আজও, মানবজাতির সর্বাধিক মূল্যবান পুস্তকের সবচেয়ে বিশিষ্ট ভাষ্য তাঁর নাম বহন করে : 'বামাতি।'

বাসাতি অমর হয়ে গেলেন, তাঁর নিঃসার্থ ভক্তি ও প্রেমের জন্য। তিনি নিজেই নিজের কাছে যথেষ্ট ছিলেন। এটা নয় যে তিনি তাঁর পতিকে বিরক্ত করতে চান নি. তাঁর প্রয়োজনই হয় নি। দুটোর মধ্যে অনেক পাথকা। বেশীরভাগ সময়ে আমরা অন্যের মনোযোগ আকর্ষণ করতে চাই, কিন্তু এই ভেবে শান্ত থাকি যে আমাদের অন্যকে বিরক্ত করা উচিত নয়।

কিন্তু এখানে এমন একজনের কথা হচ্ছে যাঁর অন্যের মনোযোগ আকর্ষণ করার প্রয়োজনই নেই - এই পার্থক্য। তিনি ভাবেন নি যে তাঁর যৌবন নিষ্ণল গেল; তিনি সে সম্বন্ধে কিছুই ভাবছিলেন না। তিনি তাঁর স্বাভাবিক সত্তার সাথে জুড়ে ছিলেন, ব্যাস। তাঁর পক্ষে পাতিকে ডিস্টার্ব না করাটা কোন কঠিন কাজ ছিল না। তিনি তাঁর নিজের শক্তিতে এতই কেন্দ্রীভূত ছিলেন যে তাঁর কাছে এটা কোন ব্যাপারই ছিল না।

মত্যুর পরেও বামাতি বেঁচে আছেন। আর আমরা বেঁচে থাকা অবস্থায় প্রতিটি মিনিটে মরছি। এই পার্থক্য।

আজকাল তুমি বাড়ীতে আধা ঘণ্টার জন্য শান্তিতে সংবাদপত্র পড়তে পার কি? তোমার স্ত্রী আধা ঘণ্টার জন্য কি টিভি-তে তার পছন্দের ধারাবাহিক দেখতে পারে? ঠিক যখন পেপার পড়ছো, তোমার স্ত্রী আগের দিন ঘরে যা ঘটেছে তা বলতে চাইবে। সে নালিশ করবে যে তুমি তাকে পর্যাপ্ত মনোযোগ দিচ্ছ না। সে বলবে যে তুমি সবসময় পেপার নিয়েই থাক।

আর যখন তোমার স্ত্রী তার পছন্দের ধারাবাহিক দেখছে, তোমার তখন কিংে পাবে এবং তাকে খাবার দিতে বলবে। ভুল সময়ে ধারাবাহিক দেখানোর জন্য টিভিকে গালি দেবে।

একটা ছোট গল্প :

রেস্টুরেন্টে স্ত্রীর সাথে পতি বসে আছে। তারা খাবারের আদেশ করে অপেক্ষা করছে। স্ত্রী অভিযোগ করে, 'যখন থেকে রেস্টরেন্টে এসেছো, তমি ঐ পেপারটা পডে যাচ্ছ।'

পতি ক্ষমা চাইল. 'আমি দুঃখিত প্রিয়ে' এবং ওয়েটারের দিকে ইঙ্গিত করল। 'দয়া করে আমরা কি আরেকটা খবরের কাগজ পেতে পারি?'

দ্যাখো। আমরা সবাই সবসময় অপরের মনোযোগ আকর্ষণ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। আর যখন সেটা পাই না, আমরা অস্থির হয়ে যাই। আমাদের জীবনে সমস্ত ক্রোধ, হতাশা ও নৈরাশ্যের মল কারণ এটাই।

আমাদের চাওয়া বন্ধ করতে হবে এবং দিতে শুরু করতে হবে। অপরের কাছে শক্তি না চেয়ে আমাদের নিজের শক্তি বিকিরণ করতে হবে। কিন্তু আমাদের তো জানাই নেই যে কিভাবে অপরের থেকে সরে নিজের দিকে কেন্দ্রীভূত হওয়া যায়। আমরা নিজেকে মনোযোগের কেন্দ্র বলে দেখতে এতই অভ্যস্ত হয়ে গেছি। আমাদের তো বহির্জগতকে মনোযোগের কেন্দ্র বলে দেখতে শুরু করা প্রয়োজন। কি করে সেটা করা যায়?

কেন্দ্রটি স্থানান্তরিত কর

Section 9

পরবর্তী কয়েকদিন আমি চাই তোমরা এই ছোট অভ্যাসটি কর : তোমাদের মধ্য থেকে একজন সাথী পছন্দ কর, ছেলেরা ছেলে সাথী ও মেয়েরা মেয়ে সাথী পছন্দ কর। সেই সাথীকে সম্পর্শ সেবা কর। তোমার সাথীর তৃপ্তিই যেন তোমার প্রথম উদ্বেগ হয়। তুমি সর্বদাই দেখবে যে তোমার সাথী খুশী ও স্বস্তিপূর্ণ আছে কিনা। দ্যাখো তারা কিছু চায় কিনা। খাবার সময় নিজের জন্য প্রথমে প্লেট হাতিয়ে নেবার আগে, তাকে আগে প্লেট দাও ও তারপরে নিজের জন্য নাও। নিজের ঘরে গরম জল আসছে নাকি দেখার আগে তাদের ঘরে গিয়ে দেখো তারা গরম জল পাচ্ছে নাকি।

আমি চাই না তোমরা তোমাদের আত্মীয় বা বন্ধুদের মধ্যে কাউকে বেছে নিয়ে জোড়া জোড়া হও! আমি চাই না যে তুমি এমন কাউকে বেছে নাও যার সাথে ঠিকানা বিনিময় করতে পার, আর পরে তার বন্ধু হতে পার! শুধুমাত্র একজন অপরিচিত ব্যক্তি পছন্দ কর – যে এখন তোমার কাছে দাঁড়িয়ে। এলোপাতাড়িভাবে বেছে নাও।

আমাদের সমস্ত জীবন ধরে আমরা কেবল নিজেদের সম্পর্কে চিন্তায় ভুগি। খুব বেশী হয়ত আমাদের পরিবারের ঘনিষ্ঠ জনের জন্য চিন্তা করি এবং তাও করি এই ভেবে যে এটা আমাদের কর্তব্যবদ্ধ প্রেম। যখন এই অনুশীলন শুরু করবে, নিঃস্বার্থ প্রেস কি তা বোঝার সুযোগ পাবে! এটা নিঃস্বার্থ কারণ তুমি অন্য মানুষটির কাছ থেকে কিছুই আশা কর না।

প্ৰকৃত প্ৰেম

প্রক্ত প্রেম এত গভীর, এত শক্তিপ্রদানকারী, যে উপলব্ধি না করলে তা জানতে পারবে না। প্রেম শক্তির এক প্রকাশ বা অভিযুক্তি, প্রেম কোন লেনদেন করার জিনিষ নয়। আমাকে বল : প্রথমবার কারো সাথে দেখা হলে তাকে ভালবাসতে পারঃ

(শোতমণ্ডলী থেকে : না স্বামীজী! আমরা তাদের চিনি না. কি করে তাদের ভালবাসবো?)

একদম তাই! তুমি তাই ভাব। তোমাদের বলি, একটি বুদ্ধিগত উপলব্ধি ও ধ্যান দ্বারা দেখবে যে তুমি কারণ ছাড়া, কারণবিহীন হয়ে যে কোন মানুষকেই ভালবাসতে পারছ। তুমি রাস্তার গাছগুলিকে ভালবাসছ, তুমি তাদের সঙ্গেছে স্পর্শ করছ ও তোমার থেকে শক্তিপ্রবাহ অনুভব করছ। রাস্তায় যে অচেনা লোক পাশ দিয়ে চলে গেল, তাকেও ভালবাসা যায়। আসলে তোমার সত্তাই তো প্রেম, প্রেম তোমার দ্বারা প্রসেস করা কোন শোধিত গুণ নয়।

আজকের দিনে প্রেমকে সবচেয়ে বেশী ভুল বোঝা হয়। আজ প্রেম লেনদেনের পর্যায়ে চলে গেছে। কেউ তোমাকে ভাল কথা বললে তুমি তাকে ভালবাস; আগামীকাল সে তার থেকে কম কিছু করলে তুমি তাকে আর ততটা ভালবাসবে না , হয়ত তাকে ঘণাই করবে।

এমনকি তোমার সারা জীবনের বন্ধু, যার সাথে তুমি প্রায় রোজই কম্পিয়ুটারে চ্যাট কর, সে যদি তোমার অনুমোদনের বিপক্ষে কিছু বলে, তাকে আর তত কাছের মানুষ মনে কর না। এই সময় তোমার প্রেম কোথায় গেল ? তোমার প্রেম আঘাত পেয়েছে।

এই খেলাই তোমরা খেল, যেখানে ভালবাসা ও যণা পালা করে ও পরস্পর অদলবদল ক'রে ভেঙে থাকে। এই ভালবাসা-ঘণা সম্বন্ধ মোটেই প্রেম নয়। একদম ঠিক করে বোঝা এটা কেবল কোন মানুষ ও পরিস্থিতির ওপর তোমার প্রতিক্রিয়া ব্যাস। এটাকেই তোমরা প্রেম বল। এটা প্রকৃত প্রেম নয়। এটা তো বিষয়ীকেন্দ্রিক প্রেম (subjective love)।

প্রকৃত প্রেম কোন উদ্দেশ্য রাখে না। কোন বস্তু বা মানুষ থাকুক প্রেস প্রেম কিন্তু থাকবে। প্রকৃত প্রেম নিজেই একটা বিষয়৷ তার কোন উদ্দেশ্য থাকে না৷ তুমিই বিষয় এবং তুমি প্রেম হয়ে গেছো , ব্যাস৷ কোন বস্ত তার সংস্পর্শে এলে তা অন্যভব করে। নদী যেভাবে স্বাভাবিকভাবে বয়ে চলে আর মানুষেরা তাকে নানা স্থানে উপভোগ করে , তেমনি প্রকৃত প্রেম একটি মানম থেকে নির্গত হয় ও তার আশেপাশের মানুষ তা উপলব্ধি করতে পারে।

প্রকত প্রেমকে নিরূপণ বা নিয়ন্ত্রণ করার কোন সুযোগই নেই। তোমার ভিতরের শক্তি ছাপিয়ে ওঠা উচিত এবং তা প্রেম হয়ে কি কি তা করে। তখনই তুমি সম্বন্ধতার ভীষণ গাঁটগুলি খুলে ফেলে নিজেকে অতি সুন্দরভাবে প্রকাশ করতে পারবে, একজন প্রেমী সত্তা রূপে!

তোমার সত্তার গুণ বা প্রেম আবিষ্কার করা জন্য দুটি জিনিষ করা যায়। প্রথম : বারবার এই রকম কথা শোন যাতে করে সেই কথা তোমার মধ্যে প্রকৃত প্রেমের এক দ্যু বিশ্বাস উৎপন্ন করে, যাতে করে রূপান্তরের প্রক্রিয়ার জন্য তোমার ভিতরে একটি স্থান সুষ্টি হয়। দ্বিতীয়টি : ধ্যান কর যাতে রূপান্তর প্রকৃতপক্ষে ঘটে।

বাস্তবিক জীবনে তুমি যখন সম্বন্ধতার গভীরে যেতে থাক, তুমি বুঝতে পার যে তুমি যা অনুভব করেছিলে তা প্রকৃত প্রেম নয়, তা ছিল এক দেওয়া-নাওয়ার ব্যাপার। তোমার তথাকথিত প্রেম হল কিছু মানিয়ে নাওয়া বা আপোস মীমাংসা , কিছু কর্তব্যে সীমিত ভাবনা, কিছু ভয়, কিছু অপরাধবোধ।

ধ্যান তোমাকে প্রেম সম্বন্ধে এই ভ্রম থেকে বার করে আনবে। তাই এটা সংক্ষিপ্ত বা সোজাপথ! যখন তোমাকে জীবনের পথ নিজে চলে নিজে সবকিছু জানতে হয়, তখন পুরো জীবনকাল লেগে যায়। কিন্তু ধ্যান দ্বারা তোমার ভিতরে এক জায়গার সৃষ্টি হয় যেখানে তুমি নিজেই এ সম্বন্ধে পরিষ্কারভাবে অভিজ্ঞতা লাভ করতে পার।

কেবল একটা জিনিম বোঝ : যখন তমি কারণ ছাড়াই ভালবাসতে পারবে, তখন তুমি বিশালভাবে প্রসারিত হবে। তোমার দুনিয়াকে হঠাৎ নানা রঙে রঙ্গিন মনে হবে। এটা হবে পরমানন্দদায়ক। তুমি তোমার নিজের ও অপরের শক্তির উৎস হবে। তুমি এত উপচে পড়বে বা ছাপিয়ে উঠবে যে তোমার শক্তি অন্যদের ছোঁবেই। আর কোন রাস্তাই নেই। অন্যরা তোমার দিকে স্বাভাবিকভাবে আকর্ষিত হবে।

প্রশ্ন : মা ও তার শিশুর সম্বন্ধে কি হয়? সেটা কি মায়ের নিঃস্বার্থ প্রেম নয়?

এমনকি মায়ের ভালবাসাতেও প্রত্যাশা থাকে। এই কথা বললে অনেক সময় মানুষেরা আমার সাথে লড়াই করে , তর্ক করে। শোন, মা তার ছেলেকে ভালবাসে, ঠিক কথা। কিন্তু সেই প্রেমে কোথাও না কোথাও একটা অলিখিত প্রত্যাশা আছে। যদি ছেলে একটু বিরোধ করে, মা ছেলের জন্য ছোটবেলা থেকে কত কিছু করেছে তার লিস্ট সামনে নিয়ে এসে পড়তে থাকে। সম্বন্ধতা একটু চোট পেলেই পুরো জিনিষটা খুলে যায়।

প্রকৃত প্রেম হল তোমার ভিতরের অস্তিত্বের শক্তির প্রকাশ এবং এই প্রেম এই ধরণের যুক্তিতর্ক কখনই চিন্তা করতে পারে না। কোন উদ্দেশ্য বিনা সে কেবল প্রবাহিত হতে জানে। কি করে সমস্ত তথ্য বা ট্র্যাক-রেকর্ড বিবরণ সহকারে লিখে রাখতে হয়, তা সে জানে না।

যেই মুহূর্তে তুমি অতীতের ঘটনা টেনে আন, তার মানে প্রত্যাশা সর্বদাই ছিল এবং তা ছিল তোমার ভালবাসার পিছনে লুকিয়ে। এরকম হলে তা কখনই প্রকৃত প্রেম হতে পারে না।

একই কথা ছেলের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। ছেলে মাকে ভালবাসে, আশা করে মা তাকে দেখাখনা করে মা সকাল পাঁচটায় উঠে তার জন্য টিফিন গুছিয়ে দেবে, তার কাপড়চোপড় ঠিকঠাক রাখবে, একদিনও যেন এর থেকে বিচ্যুতি না হয়। সে মাকে পছন্দ করে কারণ সে সেবা ও বিলাস উপভোগ করে।

একটা ছোট গল্প :

একটা ছেলে স্কুলে গণিতের কলসে ভগ্নাংশ শিখছিল। একদিন শিক্ষক তাকে জিজ্ঞাসা করে, 'যদি একটা কেক পাঁচ ভাগে কর এবং তোমার পরিবারের পাঁচজন একটি করে ভাগ পায়, তাহলে কেকের কত ভগ্নাংশ তুমি পাচ্ছ?' ছেলেটি বলে, '২/৫ ম্যাডাম।' টীচার বলে, 'কিভাবে? তমি ভগ্নাংশ ঠিক করে পড নি?' ছেলেটি বলে, 'ম্যাডাম, কেকটি ভাল লাগলে মা আমাকে তার টুকরোটাও দিয়ে দেবে।'

মা তার সন্তানের জন্য উৎসর্গ করতে চায়, ঠিক আছে, কিন্তু যে মনোভাব নিয়ে তারা উৎসর্গ করে আমরা এখানে তার সম্মন্ধে বলছি। তাদের এই উৎসর্গ করা উচিত ভিতর থেকে এক উপচে পড়া ভাব থেকে, কোন লুকানো প্রত্যাশা থেকে নয়। ঘটনাগুলি কখনই তাদের মধ্যে রেকর্ড হবে না যদি তারা এটা উপচে পড়া ভাব থেকে করে। আর রেকর্ড হলেও, তেমন কিছু ঘটনা ঘটলে, প্রতিহিংসা সহকারে সেগুলি বেড়িয়ে পরবে না।

সাধারণ প্রেম আশা প্রত্যাশার ওপরে দাঁড়িয়ে থাকে। কেউ তা অস্বীকার করতে পারে না, যদিও অনেকে সেটা অস্বীকার করার চেষ্টা করতে পারে। প্রেমে প্রত্যাশা জিনিষ্টা এমনভাবে গেঁথে গেছে যে তাকে আলাদা করে দেখা খুবই কঠিন। সেটাই সমস্যা।

আসলে যতক্ষণ সব ঠিকঠাক আছে, আমি কি বলছি তা বিশ্বাস করা শক্ত। কিন্তু অনেক ঘটনা শুনি যে অতি সাধারণ কারণে পুত্র বা কন্যাকে পরিবার থেকে বার করে দেওয়া হয়েছে। কারণ তারা অন্য জাতিতে বিবাহ করেছে বা দ্বুটি পরিবারের মধ্যে কোন কলহ ছিল। তখন সমস্ত ভালবাসা হঠাৎ করে কোথায় অদশ্য হয়ে যায় ?

এই প্রকার ঘটনা ঘটার আগে অবধি পুত্র বা কন্যাকে অনেক ভালবাসা হত। আকস্মিক কি হয়ে গেল ? প্রকৃত ভালবাসা হঠাৎ মিলিয়ে যায় কি করে? প্রকৃত প্রেম কখনও বন্ধ করা যায় না, কারণ তা কার্য্য-কারণ চক্রে বাঁধা নয়।

পরিবারের কোন সুক্মু ঘটনা যদি ভাল করে দেখ, বুঝতে পারবে তোমার প্রেম বন্ধনে সীমিত। তোমার জীবনের কয়েকটা জিনিষ পুনর্বিন্যস্ত কর এবং লক্ষ্য কর তোমার পরিবার কিভাবে তাতে সাড়া দেয়।

সন্তানদের যতক্ষণ ভালবাসার নাম করে দিতে থাক, তারাও ভালবাসার নামে উপভোগ করতে থাকে। যতক্ষণ তোমরা একে অন্যের মন রেখে চলছ, ঠিক আছে। কিন্তু তোমাদের মধ্যে একজন অপ্রত্যাশিতভাবে ব্যবহার করলে, প্রেমের মেজাজ পরিবর্তন হয়, রঙ বদলায়।

যে প্রেম সর্বদা আশঙ্কাতে আছে তা প্রকৃত প্রেম নয়। সেটা কেবলমাত্র সমঝোতার জিনিষ পূর্ণ হতে পারে না। আর যা পূর্ণ নয় তা সর্বদাই আশঙ্কায় থাকবে। প্রেম তো এক পূর্ণ আনন্দ উদযাপন, কর্তব্য নয়।

সম্মান করা প্রেম নয়

আরেকটা ব্যাপার : আমরা সবাই সম্মান করা ও প্রেম গুলিয়ে ফেলি। যখন সম্পূর্ণরূপে প্রেম কর, তোমার কোন কাজেই অসম্মান করার চিহ্ন পাওয়া যাবে না। যখন সম্মান করাকে মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ কর, দেখবে যে কিছু মানুষের যে কাজগুলি একেবারে স্বাভাবিক মনে হয়, সেই একই কাজ অন্যেরা করলে খারাপ লাগে। যে শক্তি দিয়ে মানুষটি কাজ করছে . সেই শতিই ঠিক করায় যে কাজটি সম্মানসচক না অসম্মানসচক।

Section 10

তোমার শক্তি যখন পূর্ণ, যখন তুমি কেবল প্রেমশক্তি, তখন তুমি যা কিছু করতে পারে। তুমি যখন নিজের সম্বন্ধে নিশ্চিত নও, তুমি সম্মান করার সমস্যার সাথে ধরা পডে যাবে। আমি তোমাকে অসম্মান করতে বলছি না। আমি খালি এটা বলছি যে যখন তোমার সত্তা প্রেমে ভরে যায়, তোমার দেহভঙ্গী, চলাফেরা ও কথাবার্তায় কখনই অসম্মান করার লেশমাত্র থাকবে না।

কিন্ত তুমি যদি প্রেমের জায়গায় সম্মান করাতে আটকে যাও, তুমি পুরো জিনিষটাই হারিয়ে ফেলছ। তাহলে প্রেমময় না হয়ে, তুমি ভান বা ছল করতে থাকবে। ভান করে কি পূর্ণ হওয়া যায়?

তুমি সম্মান করাতে কেন্দ্রিত থাকলে, তুমি ভান করবে, কারণ সম্মান করা সামাজিক ব্যাপার এবং তা সংজ্ঞার্থ পরিবর্তন করতে থাকে। কিন্তু যদি তুমি প্রেমে কেন্দ্রীভূত থাক, তাহলে সম্মান করা একটি মনোরম বাই-প্রোডাক্ট। তাই প্রেমে কেন্দ্রীভূত থাকো. সম্মান করা স্বতক্ষলভাবে হবে।

মনে রেখো : সম্মান করা মৃত। প্রেম জীবন্ত। সম্মান দূরত্ব সৃষ্টি করে, প্রেম কোন দূরত্ব জানে না।

লোকেরা ভগবানকে ভয় ও সম্মান করতে প্রশিক্ষণ পেয়েছে। তাদের কখনই ভগবানকে প্রেম করতে শেখানো হয় নি। তাদের মন্দিরের মূর্তিগুলিকে ছোঁবার অনুমতি নেই। আশা করা হয় দাঁড়িয়ে প্রণাম করবে। তাদের ভগবানের থেকে সতর্ক থাকতে বলা হয়। বোঝ যে ছোটদের প্রথমেই ভগবানকে ভালবাসতে শেখানো উচিত।

ভগবানকে আলিঙ্গন করতে না পারলে, আর কাকে আলিঙ্গন করবে? কারণ ভগবানই তো সব! তুমি যখন তোমার সন্তানকে শেখাচ্ছ যে ভগবানকে আলিঙ্গন করা যায় না. তুমি আসলে তাকে শেখাচ্ছ যে ঈশ্বর সবকিছু থেকে আলাদা। ভগবানকে বেদীতে রেখে তুমি আসলে ছোটদের সম্পূর্ণ অস্তিত্ব সম্বন্ধে অজ্ঞ করে রাখছ।

কিছু সামাজিক বুদ্ধি রাখ এবং দরকার খেলা বুদ্ধি সহকারে খেল, ব্যাস। মনে করিয়ে দিই, এই প্রকার সম্মান করা গভীর সজাগতা ও বুদ্ধির সাথে হবে। এতে তুমি লেশমাত্র কম প্রেমময় হবে না।

একটা ছোট গল্প :

মা তার মেয়েকে নিয়ে এক পাবলিক ফাংশানে গেছে। তারা সেখানে ভীড়ে আলাদা হয়ে গেল। মা ঘাবড়ে গিয়ে চারিদিকে মেয়েকে খুঁজতে লাগল।

হঠাৎ সে পিছন থেকে এক আওয়াজ শোনে, 'মারিয়া! মারিয়া!'

মা ফিরে দেখে যে সেটা ছিল তারই মেয়ে। সে তার দিকে দৌড়ে গেল ও তাকে কোলে নিয়ে নিল। মা জিজ্ঞেসা করে, 'আচ্ছা, আমাকে মা বলে না ডেকে মারিয়া বলে কেন ডাকছিলে?'

মেয়েটি বলল, 'তাহলে কাজ হত না। এখানে তো অনেক মা আছে।'

বাচ্চারা তাদের নিজের মধ্যে কেন্দ্রিত থাকে এবং তারা আমাদের চেয়ে বেশী জীবন্ত ও সজাগ। তাদের প্রেম, তাদের দেহভঙ্গী তাদের হয়ে কথা বলে। এইজন্য তারা যা বলে বা করে, তা নিষ্পাপ মনে হয়, কখনই তা অশ্রদ্ধার মনে হয় না। সামাজিক নিয়ন্ত্রণ একবার মনে ঢুকে গেলে, এই নিষ্পাপতা মিলিয়ে যায়। তখন আমাদের শব্দ প্রয়োগ করে ও ভান করে তা মানিয়ে নিতে হয়।

প্রেম যখন কর্তব্য হয়ে যায়, তা এক বোঝা হয়। আর বোঝা বা ভার হয়ে গেলে তা আর কোন উদযাপন নয়: তুমি সবসময়ে সেই বোঝাকে ধরে রাখার চাপে থাকবে।

মুক্তিদায়ী প্রেম

বাবা মায়েরা সন্তানদের ভালবাসার কারণ শেখায়। ছেলেবেলা থেকেই ভালবাসা শেখানো হয়েছে কারণ দিয়ে। আমরা কি তাদের পথীকে ভালবাসতে শেখাই? তাদের প্রকৃতিকে ভালবাসতে শিক্ষা দিই? না। কিন্তু তাদের শেখাই যে আত্মীয় পরিজনদের ভালবাস, আমাদের ভালবাস। যাদের থেকে কিছু পাবার আছে, আমরা সন্তানদের কেবল তাদের ভালবাসতে শেখাই।

যদি তুমি তাদের প্রকৃতিকে আলিঙ্গন করতে শিক্ষা দাও, তুমি তাদের মধ্যে প্রকৃত প্রেমের বীজ বপন করছ। অনেক মা-বাবাকে দেখেছি যারা বাচ্চাদের পাব্লিক প্লেসে নোংরা ফেলতে শেখায়। একই মা-বাবা যারা পরিবারকে ভালবাসতে শেখায় তারাই প্রকৃতিকে অমর্থাদা করতে শেখায়। তোমার ভিতরে প্রকৃত প্রেম থাকলে তুমি কখনই প্রকৃতিকে অমর্যাদা করবে না। তুমি মানুষ ও প্রকৃতিকে একইভাবে আলিঙ্গন করবে।

সঠিক বীজ বপন কর। তাহলেই অভিষ্ট গাছ হবে। সন্তানের ভিতরে প্রেম প্রক্ষুটিত হবার জন্য সঠিক অবস্থা সৃষ্টি করলে, সন্তানটি বিকশিত হবে। ধ্যান বীজ বপনে সাহায্য করে, অন্তর্দেশে সঠিক জায়গা সষ্টি করে। বাইরে থেকে কিছুই জোর করা যায় না। জোর করলেই তাতে বাধা আসবে এবং বাধ্যতামূলকভাবে সেটা করতে হবে, যাকে তুমি কর্তব্য বল।

যে প্রেম সম্বন্ধে আমরা কথা বলি তা হল মনস্তাত্ত্বিক দাসত্ব। তুমি প্রেমের নামে মানুষটিকে ভৃত্য বানিয়ে ফেলেছ এবং তাকেও সেই অনুসারে ব্যবহার করতে হয়। শারীরিক দাসত্বে আর যাই হোক তুমি জান যে তোমাকে ক্রীতদাস বানানো হয়েছে। মনস্তাত্বিক দাসত্ত্ব ব্যাপারটা এত বড় ধূর্তামি, তুমি বুঝতেই পারবে না যে তুমি ক্রীতদাস হয়ে গেছ।

তোমরা কি বলতে পার আমাদের সবার মধ্যে এত অপরাধবোধ কেন? কারণ যাকে আমরা প্রেম বলে জানি, তা আমাদের সর্বদাই অপরাধবোধের দিকে ঠেলে দেয়। যখন প্রেম পূর্ণ, যখন তা তোমার সত্তার পবিত্র শক্তি, তা কখনই অপরাধবোধ দিতে পারে না। তুমি সর্বদাই অপরাধবোধে থাকো যে তুমি যথেষ্ট ভালবাসো নি, যে তুমি কোথাও একটা ব্যর্থ হয়েছ। আর তুমি যথেষ্ট ভালবাসো নি কেন? কারণ তোমাকে শেখানো হয়েছে সেই প্রেম যার কোন কারণ আছে, পূর্ণ প্রেম শেখো নি।

তুমি দেখবে তুমি যদি পূর্ণরূপে প্রেম করে থাকো, কেউ মারা গেলে কখনই অপরাধবোধ বা বিষাদে ভুগবে না। শারীরিক বিচ্ছেদে হয়ত দুঃখ পাবে, কিন্তু তুমি কখনই ভাববে না যে তাদের জীবদ্দশায় তুমি কিছু হারিয়েছ। যখন আমি পূর্ণ প্রেমের কথা বলছি,

তখন আমি এই বলতে চাইছি না যে অপরের মনোযোগ পাবার ইচ্ছা ও তাদের প্রয়োজন মিটানোর সমস্ত আশা তোমাকে পর্ণ করতে হবে। আমি বলতে চাইছি যে তোমাকে তোমার ভিতরে সুন্দরভাবে কেন্দ্রীভূত থেকে অপরের দিকে শক্তিয়ে প্রেস বিচ্ছেরণ করা উচিত, তাদের অস্তিতের অংশ বলে দেখে ও শ্রদ্ধা করে।

এইভাবে প্রেম করলে তুমি তাদের পর্ণরূপে অনুভব করে থাকবে এবং তারা চলে গেলে তোমার কোন অপরাধবোধ থাকবে না। পরিবার সর্বদাই তোমার মধ্যে অপরাধবোধ জাগিয়ে রাখে, যাতে তারা তোমাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে।

নানারকম ভাবের একসাথে মদ্যপের মত প্রতিক্রিয়াই অপরাধবোধ, কারণ তুমি ঐ ভাবগুলির মধ্য দিয়ে সম্পর্ণরূপে যাও নি। অপরাধবোধ যেন কখনও তোমাকে বশে না আনে।

আমি কিন্তু এটা বলছি না যে, যা ইচ্ছা হয় তাই করবে এবং তাতে নিজেকে দোষী ভাববে না। আমি বলছি যে তোমার অন্তরের কেন্দ্রে বিদ্যমান থেকে এবং গভীর সচেতনতা ও উপলব্ধি নিয়ে পার্লা সজীব থাক। তাহলে অপরাধবোধের কোন জায়গাই থাকবে না।

প্রকত প্রেম সর্বদাই প্রদান করে, জিজ্ঞাসা না ক'রে। তা নিতে জানে না। একমাত্র দিতে জানে। একে সঙ্গিও করতে পার না। এটা এরকম : তুমি প্লাস্টিকের গোলাপ তৈরি করতে পার, কিন্তু তাতে কি গোলাপের সুগন্ধ থাকবে? না। সেরকম প্রকল্প প্রকল্প করে প্রশ্ন কখনই সঙ্টি করা যায় না।

আসল গোলাপ হতে গেলে তোমাকে সঠিক অবস্থার সঙ্গি করতে হবে, সঠিক মাটি, ঠিকমত জল এবং তবেই সে নিজে থেকে হবে। সেইপ্রকার প্রকৃত প্রেম ঘটতে গেলে, তোমাকে তোমার ভিতরে সচেতনতা ও গভীর উপলব্ধির ক্ষমতা সঙ্গি করা চাই -দেখবে প্রেম তোমার ভিতর থেকে প্রস্ফুটিত হবে।

কলেজের সমাবেশে একটি মেয়ে একবার আমায় জিজ্ঞাসা করে, 'স্বামীজী, প্রেমে ব্যর্থ হওয়ার কারণে কি আপনি সন্ন্যাসী হয়েছেন?'

আমি তাকে বললাম যে প্রেমে সফল হওয়ার কারণেই আমি সন্ন্যাসী হয়েছি। প্রেমে অসফল হলে তো দেবদাস সঙ্গি হয়। সন্ত্যাসী নয়। একমাত্র যখন তুমি পুরো বিশ্বকে প্রেম করতে পার, তুমি সন্নাসী হতে পার। যখন সমগ্র বিশ্বকে প্রেম করতে পার, সেটাই তখন প্ৰকৃত প্ৰেম।

প্রকত প্রেম কোন সম্বন্ধ সহকারে হয় না। কেবল সাধারণ প্রেম সম্বন্ধ সহকারে হয়। সাধারণ প্রেমে তুমি পিতাকে ভালবাস কারণ সে তোমাকে দেয়। মাকে ভালবাস কারণ সে তোমায় প্রেমিকাকে ভালবাস কারণ সে তোমাকে যৌনসুখ দেয়।

প্রকৃত প্রেম সেরকম নয়। সে বলে না 'ও! এটা আমার বাবা। আমার তাকে ভালবাসা চাই'… না! সে সবাইকে ও সবকিছুকে সবসময় ভালবাসতে জানে, ব্যাস। সাধারণ প্রেম বাঁধন সুষ্টি করে, প্রকৃত প্রেম মুক্তি দেয়। সাধারণ প্রেমে, সফলতা ও অসফলতা া প্ৰকাশ কৰিছিল। তেওঁ প্ৰথম কৰিছিল। তেওঁ প্ৰথম কৰে। তেওঁ প্ৰথম কৰিছিল। তেও পাৰে পাৰে পাৰে পাৰে পাৰে পাৰে পাৰে পাৰে। তেও

লোকেরা ভাবে যখন তোমার পক্ষে কিছুই সুবিধার হচ্ছে না, যখন সব ভালবাসা হারিয়ে গেছে, তুমি সন্ধ্যাসী হয়ে যাও। লোকেরা ভাবে হতাশায় সব ছেড়েছুড়ে মানুষ সন্ধ্যাসী হয়। না। শোন, যারা এসব বলে আমি তাদের জন্য দুঃখিত হই। তারা এত অজ্ঞান। অজ্ঞ অবস্থায় তারা অবিশ্রাম বিচার করে। ভাল করে বোঝ : সন্ন্যাস এক চ্যান্ত বিবাহ, ঈশ্বরের সাথে!

একজন যথাৰ্থ সন্নাসী এত প্ৰেময় ও কৰুণাময় যে উনি হেঁটে গেলে ঘাস মরে না। এটা গল্প নয়। এটা সত্যি কথা। যথাৰ্থ সন্নাসী অস্তিত্বের দিকে প্রেম ও করুণা ঝরিয়ে দেন। তিনিই হলেন একজন যথার্থ সন্ন্যাসী, যিনি জানেন যে প্রার্থনা প্রেম এবং প্ৰেমই প্ৰাৰ্থনা।

যখন প্রকৃত প্রেস খুঁজে পাবে, তোমার প্রার্থনা কেবল তার এক প্রকাশ হবে। মীরার ভজনগুলি কি? সেগুলি হল মীরার প্রেমের ঝর্ণা। মীরা হলেন ভারতের এক জীবনমুক্ত সত্তা। তিনি কেবল অনুরণিত হয়েছেন কৃষ্ণের সাথে, কৃষ্ণই তো অস্তিত্ব। মীরা তাঁর সত্তা থেকে ঢেলে দিয়েছিলেন। তাই তাঁর ভজনগুলি আজও বিখ্যাত। সেই ভজনগুলির শক্তি কখনই মিয়মান হতে পারে না, কারণ সেঞ্জলিতে অস্তিত্বের শক্তি আছে। সাধারণ প্রেমকে এত বছর ধরে এত লোক অনুভব করতে পারে না। কেবল প্রকত প্রেমই এইপ্রকার স্থায়ীরূপে শক্তি বিকিরণ করতে পারে।

আর মীরার ভজনগুলি তো তাঁর উপাসনা ছিল। যখন তুমি প্রকৃত প্রেম পেয়ে গেছে, আর কোন রাস্তা নেই - উপাসনা বা প্রার্থনা প্রেম হয়ে যায়।

সাধারণ প্রেমে আমরা কেবল চাই যে কেউ আমাদের মনস্তাত্ত্বিক প্রতিমুর্তিকে পরিত্রস করে আমাদের মানসিকভাবে সমর্থন করুক।

Section 11

তোমার প্রয়োজন কেউ মিটিয়ে দেবে, সেটাই তুমি চাও। যখন তুমি হতোদ্যম, চাও যে কেউ তোমায় উদ্দীপ্ত করুক। তুমি চাও সে তোমাকে সহানুভূতি দেখাক আর তোমার দুশ্চিন্তাগুলিকে দৃঢ়ভাবে প্রতিপন্ন করুক। এটাকে তুমি প্রেম বল। কিন্তু প্রকৃত প্রে ম তো নাম ও আকার, শরীর ও মনের সীমা পেরিয়ে। একমাত্র যে মানুষ এগুলিকে পেরিয়ে সমস্ত বিশ্বকে ভালবাসতে পারে সে সন্ন্যাসী হয়। সে বিবেকানন্দ হতে পারে!

আমরা প্রেম কিভাবে জটিল করি

বিবেকানন্দ যখন বলছেন, 'ওঠো! জাগো!' তার মানে কি আমরা ঘুমিয়ে আছি? আমরা ঘুমাছি, না জেনে ঘুমাছি। আর ঘুমন্ত অবস্থায় বিচার করছি। ঘুমিয়ে সমালোচনা করছি। ঘুমিয়ে দোষ দিচ্ছি। আমরা ভাবছি আমরা জেগে আছি ও ত্রুটিনির্দেশ করছি। আমরা ভাবি যে আমরা সব বিষয়ে সবকিছু জানি, এমনকি প্রেম বিষয়েও।

একটা ছোট গল্প :

একজন মানুষের এক ধনী মাসী ছিল ও তাকে প্রায়ই দেখতে যেত। তার মন ছিল মাসীর ধন-সম্পত্তির ওপরে এবং মাসীকে খুশী রাখার জন্য অনেক প্রচেষ্টা করত। মাসীর দুটো বেডাল ছিল এবং মাসী তাদের খব ভালবাসত। লোকটি সেটা জানত ও মাসীকে খুশী করার জন্য বেড়াল দুটিকে খুব সেবা করত। তার গুপ্ত বাসনা ছিল, মাসী যেন উইলে তার নামে কিছু সম্পত্তি লিখে যায়। সে রোজ আসে, বেড়ালগুলিকে দুধ খাওয়ায়, তাদের সাথে খেলে, অনেক সময় কাটিয়ে তবে ফিরে যায়। লোকটির বেড়াল-সেবা দেখে মহিলাটি খুব খুশী।

মাসী একদিন মারা গেল। তার উইলে সে লোকটির জন্য বেড়াল দুটি লিখে গিয়েছিলেন। লোকটির হতাশা বুঝতে পারছ! সে নিশ্চয় নিজেকে প্রতারিত মনে করছিল।

সাধারণ প্রেমে প্রতারিত মনে হবার সুযোগ খুব বেশী। লোকেরা ধন -সম্পদের জন্য ভালবাসে, অনুগ্রহ পাবার জন্য ভালবাসে, পরামর্শ পাবার জন্য ভালবাসে, অন্যের ভোলামনের সুযোগ নেবার জন্য ভালবাসে ... আরও কত কি। ভালবাসা সরকমথেই কারণের সাথে আসে।

কিন্তু মানুষেরা এটাকে কখনই মানবে না। তারা এটা গ্রহণ করে না কারণ তারা নিজেদের সাধারণ প্রেমে একেবারেই বিভ্রান্ত। তারা ভাবে প্রেম এভাবেই হয়। ভাবে যে তারা কত প্রেময়, আর আমিই যেন তাদের প্রেমকে নীচে নামিয়ে আনছি।

সততার সাথে বসে যদি ভাবো, তুমি আমার কথার সত্যতা বুঝতে পারবে। অকপট হয়ে নিজেকে অনুসন্ধান করা ও লক্ষ্য করা। কেবল বসে পড় ও ছবির মত মনে দ্যাখ তোমার মা, বাবা, ভাই বা বোন তোমার সাথে একটু অন্যরকম ব্যবহার করলে তুমি কিভাবে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করবে। তাহলে তুমি বুঝবে আমি কি বলতে চাইছি।

আমরা সর্বদাই কারো না কারো কাছ থেকে কিছু না কিছু চেয়ে যাচ্ছি এবং তাই সবসময়ে আমরা তাদের কাছ থেকে এসব পাবার জন্য মসণভাবে পথ তৈরি করে দিই। এই মসণপথটিকে আমরা বলি প্রেম। ভেবো না যে এটা কেবল বস্তঃগত সম্পদ পাবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এমনকি কোন মানুষের থেকে বিশেষ ব্যবহার পাবার জন্যও তুমি তার সা থে বিশেষজ্ঞপে ব্যবহার কর। যতক্ষণ তোমরা দুজনেই একই ভাবে ব্যবহার করতে থাক, তোমরা পরস্পরকে ভালবাস। কেউ একটা ভুল করলেই, ভালবাসা তখনকার মত মিলিয়ে যায়!

আমাকেই উদাহরণস্বরূপ নাও। তোমরা সবাই দাবী কর যে আমাকে খুব ভলোবাস। তোমাদের প্রত্যেকের বিশেষ বিশেষ ধারণা আছে যে তোমাদের সাথে আমার কিভাবে ব্যবহার করা উচিত। আমি তোমাদের প্রত্যেকের সাথে সেইভাবে আচরণ করি। আসলে আমি এখন তাই তো করছি। কি হয়? যদি একবার তোমার দিকে তাকিয়ে না হাসি বা তোমাকে কিছু বলি যা আমার সম্মন্ধে তোমার কাঠামোতে মানানসই হয় না, তুমি ভাবতে থাক আমি আর তোমায় ভালবাসি না।

তুমি ভাবতে থাক হয়ত আমি অত ভালবাসার যোগ্য নই। তুমি কল্পনা করতে থাক কেন আমি তোমায় বিশেষ কিছু একটা বলেছি অথবা কেন তোমার দিকে তাকিয়ে মদু হাসি নি।

আমি হয়ত কারো সাথে কথা বলছিলাম বা আমি এমনিই তোমার দিকে তাকিয়ে হাসি নি - তোমার আমিতকে একটু শান্ত করার জন্য, ব্যাস। কিন্তু তুমি পুরো খেলাটাই হারিয়ে ফেল এবং তোমার প্রেমের অভিধানের সাহায্যে আমার কাজগুলিকে ব্যাখ্যা করতে থাক। এতে কি হবে? তুমি দুর্দশার গভীরে ডুবে যাবে।

প্রেমকে তোমরা এইভাবে জটিল করে ফেল। কমপক্ষে এটা যখন আমার কাছে আসে. আমি কিন্তু আমার দিক থেকে তাতে কোন জটিলতা যোগ করি না। কল্পনা করে তাদেরা দুজনে যদি এইভাবে নিজেদের সম্পর্কে জটিলতা যোগ করতে থাক, তো কি অবস্থা হবে? পরো বিশংখলা হয়ে যাবে! তমি প্রেমের উপর থেকে নীচে, নীচ থেকে উপরে - এভাবে চলতে থাকবে, ব্যাস!

লোকেরা বলে, 'স্বামীজী, আমরা আমাদের সন্তানদের অনেক প্রেম করি ...'

তাদের দুষ্টামির সময় তুমি তাদের কতবার বাজে ভাবে বকেছ? একটি মেয়ে আমায় আশ্রমে বলছিল, 'স্বামীজী, আমার মা আমার সন্তানদের ভালবাসে যদি তারা ঠিকমত ব্যবহার করে। সে চায় যে আমি আমার সন্তানদের নিয়ে আসি আর মা নাতিদের নিয়ে গিয়ে তার বন্ধদের দেখাবে, কিন্তু সেখানে তাদের দুষ্টামির জন্য এসে আমায় বক্তব্যে'

বাচ্চাদের দেখলে তুমি তাদের সরলমতির দিকে আকষ্ট হও। সেটা এক ব্যপার। দ্বিতীয়ত , এটা তোমাকে একটা গর্বের ভাব দেয়, আমিত্বকে বর্দ্ধিত করে, যখন দ্যাখ যে তারা তোমারই সঙ্গি। অবশ্যই তুমি তাদের যত্ন কর ও তাদের খুশী রাখা কিন্তু আমি বলছি যে এরকম ভালবাসাও কিছু সীমাবদ্ধতা ও পছন্দের ভাব নিয়ে আসে। এটা বাচ্চাদের মনকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করে।

একটা ছোট গল্প :

একটি লোক কংক্রিটের রাস্তা বানানো ঠিক শেষ হবার আগে পাশের গ্রামের একদল বাচ্চা সেখানে দৌডে এল ও তাদের পায়ের ছাপ রেখে গেল। লোকটি খব রেগে গেল এবং তাদের গালি দিল। তার বন্ধু জিজ্ঞাসা করে, 'আরে, কি ব্যাপার? আমি ভাবেছিলাম তুমি বাচ্চাদের ভালবাস।' লোকটি উত্তর দেয়, 'হ্যাঁ, ঠিক কথা। কিন্তু কংক্রিটের ওপরে নয়।'

সাধারণ প্রেম সর্বদাই কিছু শর্ত নিয়ে আসে ! কোথাও কোন ফাইন-প্রিন্ট থাকবে। আমি সেটাই বলতে চাইছি। আমরা মানুষকে প্রেম করি, নাম, জায়গা, মেজাজ ও অবস্থা দেখে।

একজন জীবনমুক্ত সত্তার প্রেম

বিবেকানন্দের জীবনের একটি ছোট গল্প :

একরাত্রে বিবেকানন্দ রাত ছুটার সময় জেগে গেলেন ও শিষ্যদের জাগালেন। তাঁর শিষ্যেরা উদ্বিগ্ন হল ও জানতে চাইল কি হয়ছে। বিবেকানন্দ বললেন যে তিনি খুব বেদনা অনুভব করছেন আর মনে হচ্ছে যেন পথিবীর কোথাও প্রাকতিক দুর্যোগের জন্য এই বেদনা হচ্ছে। পরের দিনে পেপারে দেখা গেল যে ফিজি-তে ভয়ংকর ভূমিকম্পে অনেকে মারা গেছে।

হাজার মাইল দুরে ঘটনার সাথে তিনি সংবেদী ছিলেন। তোমার কি মনে হয় যে স্বাভাবিক মানুষেরা এইপ্রকার সংবেদী হতে পারে? নিজের প্রতিবেশীর অসুখও আমাদের প্রভাবিত করে না।

একটা ছোট গল্প :

একজন মানুষ তাদের পরিবারের ডাকারকে ফোন করে বলে, 'ডক্টর, মনে হচ্ছে আপনি একবার এসে আমার স্ত্রীকে দেখে গেলে ভাল হয়।'

ডাক্তার জিজ্ঞাসা করল, 'কেন? তার কি শরীর খারাপ?'

লোকটি বলে. 'তাই মনে হচ্ছে ডক্টর। গতকাল সে তার স্বাভাবিক সময়ে উঠল। চান করল, রান্না করল, বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাল, কাজের লোক আসে নি বলে ঘর পরিষ্কার করল, কাপড় ধুল, বাচ্চাদের স্কুল থেকে নিয়ে এল, তাদের হোমওয়ার্ক করাল এবং শুতে গেল। মাঝরাতে সে বলে যে সে ক্লান্ত। মনে হচ্ছে তার চেকআপ প্রয়োজন।'

আমরা আজকাল এত সংবেদনহীন হয়ে গেছি। আমরা সেই মানুষটার সাথে সংযোগ সাধন করতে পারছি না যার সাথে আমরা ২৪ ঘন্টা ও ৩৬৫ দিন আছি। আর অন্যদিকে জীবনমুক্তেরা সমগ্র বিশ্ব সম্বন্ধে গভীরভাবে সংবেদী।

বিবেকানন্দের যেটা হয়েছিল তাকে একাত্মতা (empathy) বলে। মনে করিয়ে দিচ্ছি, এটা সমবেদনা বা অনুকম্পা (sympathy) নয়। অনুকশা শব্দটি বড় অগভীর। আমাদের অনুকম্পা করার সামর্থ্য আছে। যখন কেউ তার কষ্টের কথা বলে তুমি তাদের কঙ্গ ্রামে বাংলাদেশ করে সেটা অনুষ্ঠান করে তার প্রতি অসুস্থ তার পাত অসুস্থ ক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠান করে পারে। এই সামাজিক সংযোগ দুঃখিত। দুশ্চিন্তা করো না, সব ঠিক হয়ে যাবে।' অনুকম্পার নামে আমরা তাদের দ্বংখকষ্ট পাবার ব্যাপারটাকে স্বীকার করি এবং পালাক্রমে তারা বলে যে আমরা তাদের প্রতি কত যত্নশীল ও তাদের কত ভালবাসি।

আসলে তারা আমাদের ভালবাসে কারণ আমরা একমত হয়েছি যে তারা কষ্টভোগ করছে: এতে তাদের আমিত সুস্মভাবে বর্দ্ধিত হয়। তাদের ভাল লাগে যে আমরা স্বীকার করছি যে তারা বিরাট দুঃখকষ্টের সাথে মোকাবিলা করছে। সমাজ এটাকে অনুকম্পা বা সমবেদনা বলে।

মাস্টার যেটা অনুভব করেন তাকে সমবেদনা বলে না, তা হল একাত্মতা (empathy)। একাত্ম হলে অপরের বেদনাকে নিজের সত্তায় অনুভব করবে। তখন একজন মানুষকে তার নিজের কষ্ট সম্পর্কে বলতে হবে না , তুমি তা সহজেই জান কারণ তোমার ভিতর অস্তিতের শক্তি তা অনুভব করে।

একজন মাস্টার তোমার সাথে একাত্ম কারণ তিনি অস্তিতের সাথে একাত্ম, তুমি তো সেই অঞ্চিত্বেরই অংশ; কেবল তুমিই তাদের আলাদা করে দেখ। তোমার সাথে এক হয়ে থাকার জন্য মাস্টার নিজের হৃদয়ে তোমার দুঃখকষ্ট অনুভব করেন। তাঁরা আর কোন রাস্তা জানেন না এবং তাঁদের সেই বেদনা প্রত্যক্ষ করার সামর্থ্য আছে।

সাধারণ প্রেমে সন্তানের জন্ম হয়, প্রকল্প তোমার নিজের প্রকৃত সত্তার জন্ম হয়। তুমি নিজেকে নতুন জন্ম দাও, এক রূপান্তর ঘটে। যেভাবে শুঁয়োপোকা প্রজাপতি হয়ে যায়, মানুষ আত্মজ্ঞানী হয়। তোমার ভিতরে সুগু প্রেমশক্তির জাগরণ হয়।

মাস্টার তাঁর প্রেম দিয়ে তোমার রূপান্তর ঘটায়। আমি সর্বদাই আমার শিষ্যদের বলি, 'আমি যদি সহানুভূতি দেখাই, আমি তোমাদের ঠকাছি এবং যখন বকছি তখন শিক্ষা দিচ্ছি।' যেকোনভাবেই তুমি এগিয়ে চল। কখনও আমি আমার করুণা খুব প্রেম দিয়ে প্রকাশ করি যাতে তামি আমার আঙ্গলের ছোঁয়ায় রূপান্তরিত হবার জন্য নমনীয় থাক। কখনও আমি আমার করুণা প্রকাশ করি তোমাকে বকুনি দিয়ে, যাতে তুমি আকস্মিক ধাক্কা খেয়ে আরও গভীরভাবে সচেতন হয়ে যাও। দুটি ঘটনাই কিন্তু ঘটে তোমার ওপর আমার পবিত্র প্রেমের কারণে।

Section 12

মাস্টার অসীম প্রেমের মহাসাগর এবং কেবল দিতে জানেন। যদি তুমি তাঁর কাছে একটি বাটি নিয়ে যাও, তুমি তাঁকে সেই বাটিতে ভরে নিয়ে ফিরে আসবে। তাঁর কাছে একটি কলস নিয়ে গেলে, তাঁকে সেই কলস্টিতে ভরে নিয়ে ফিরবে। তমু করে। তার প্রতিষ্ঠান করে পারে পারে পারে পারে পারে পারে পারে। তার প ওপরে এটা নির্ভর করে. ব্যাস। যত বেশী তম্পার্ত হবে তত বড় পাত্র নিয়ে তুমি তাঁর কাছে যাবে।

তিনি কিন্তু সর্বদাই আছেন, তোমাদের দেখছেন যে তোমরা তাঁর কাছে নানারকম আকারের পাত্র নিয়ে আসছ এবং তোমার অনিশ্চয়তা যা তোমার মনের খেলা, তা মাস্টারের ওপরে অভিক্ষিপ্ত করতে দেখে নিজে নিজে হাসছেন।

পরিষ্কার করে বোঝ যে আমি তোমাদের কোন ভগবান বা মাস্টারকে প্রেম করতে বলছি না। যা দেখনি তা ভালবাসা তোমার পক্ষে বড়ই কঠিন। কিন্তু যা কিছু দেখতে পাচ্ছ তা ভালবাসতে পার, তাই নয় কি? তুমি পশু, গাছ, মানুষ ইত্যাদি ভালবাসতে পার। সরাসরি তাদের কোন কারণ ছাড়াই প্রেম কর - কেবল প্রেম করার আনন্দে।

তাদের সাথে এক গভীর সংযোগ অনুভব কর। একবার এটা করা শুরু করলে অস্তিত্ব সম্মন্ত তোমার এক বিশ্বাস উৎপন্ন হবে কারণ অস্তিত্ব সমস্ত কিছুর মধ্যেই বিদ্যমান। বিশ্বাস তোমার ওপরে চাপানো যায় না। বিশ্বাস চাপানো হলে বিশ্বাসের বস্তর ওপরে তুমি এক গভীর প্রতিহিংসাকে আশ্রয় দেবে।

যখন বিশ্বাস ঘটে, ধীরে ধীরে তোমার প্রেম হয়ে যাবে সম্পর্ণ অভিত্তের জন্য প্রেম। তবেই তোমার ভিতর শিকড় গাড়বে পরম ধর্ম - কৃতজ্ঞতা ও প্রেমের ধর্ম।

কতজ্ঞতা ও প্রেম নিকট সম্মদ্ধীয়। যখন তোমার সত্তার কেন্দ্রে তুমি কতজ্ঞতা উপলব্ধি করা, তখন তোমার ভিতরে কেবল প্রেম থাকবে, আর কিছুই থাকবে না। প্রকৃত প্রেম উপলব্ধি করার প্রথম পদক্ষেপ হল কৃতজ্ঞ বোধ করা। তোমার সিন্টেমে যতক্ষণ অসন্তোষ যাছে, প্রকৃত প্রেম হতে পারে না। কতজ্ঞতা ও প্রেম হাত ধরে চলে।

অন্তৰ্হিত হও! সেটাই প্ৰেম

কেউ কেউ আমায় বলে, 'স্বামীজী, আমি সমস্ত পথিবীকে ভালবাসি। আমি তো একটা ছোট্ট পিপড়েরও ক্ষতি করি না …'

এসব বলে নিজেকে বিভ্রান্ত করছ কেন? তুমি তোমার প্রতিবেশীকে পুরো হৃদয় ভালবাসতে পার? একটা কথা শোন : এটা বলা খুব সোজা 'সমস্ত পথিবীকে ভালবাস', কারণ এটা প্রমাণ করতে তাদের নির্দিষ্ট কিছু করতে হবে না। তারা অনবরত বলতে থাকবে যে তারা পুরো বিশ্বকে প্রেম করে, এদিকে কাজ কিছুই করছে না। তা দেখাবার জন্য তাদের বিশেষ কিছু করতে হবে না। আর যাই হোক বিশ্ব এক দুরধিগম্য (intangible) প্রকাশ, এক স্বচ্ছ প্রকাশ নয়।

কিন্তু তুমি যখন বল যে তুমি প্রতিবেশীকে ভালবাস, সমস্যা শুরু হয়ে যায়! তোমাকে তার মুখ রোজ দেখতে হবে। তোমাকে নির্দিষ্ট কিছু করে প্রমাণ করতে হবে যে তুমি তাকে ভালবাস। এটা তো একটা সমস্যা!

একটা পিঁপড়ের ক্ষতি না করে নিজেকে এত বিরাট ভাব কি করে? পিঁপড়ে কি তোমার অথবা তোমার সম্পত্তির কোন অনিষ্ট করতে পারে? এটি কি তোমার প্রেম চাখতে সমর্থ: এটা চোখে প্রায় দেখাই যায় না আর তুমি তার সম্বন্ধে কথা বলে যাচ্ছে। এগুলি হল সত্য থেকে পলায়ন করার অভিসন্ধি।

কেবল একটা জিনিষ বোঝার চেষ্টা কর : তোমার স্বাভাবিক প্রকৃতি হল প্রেম এবং প্রেম চিরসায়ী। অন্য সকল ভাব আসরে আর যাবে, ব্যাস। তুমি বুঝতে শিখেছ অন্য সকল ভাবগুলি আসল এবং তারা প্রেমকে সংহার করছে। প্রেমকে কখনই ধ্বংস করতে পারা যায় না। যদি তা পারা যেত, প্রেম বহুদিন আগেই লুপ্ত হয়ে যেত।

যখন তোমার প্রেম আসল. তখন বিপরীত ভাবগুলি তোমার মধ্যে প্রবেশ করতে পারে না। তারা সহজেই বাদ পরবে। ঘরে উজ্জ্বল আলো থাকলে অন্ধকারকে কি নিয়ে আসা যায়? না! বাতিগুলিকে মহু করলে অন্ধকার আসতে পারে। একইভাবে যখন প্রকৃত প্রেম হয় নি, অন্যান্য আবেগগুলি প্রবেশ করতে পারে। যখন প্রেমে উদ্ভাসিত হচ্ছ, অন্য আবেগের ঢোকার কোন প্রশ্নই ওঠে না।

হয়ত উপলব্ধি করেছ যে যখন ঐক্যন্তিক হয়ে কিছু কর্ , তুমি নিজেকে ভুলে যাও। যে কোন কিছুই হতে পারে - রঙ করা, ছবি আঁকা বা বই পড়া বা অন্য কিছু। তাতে গভীরভাবে প্রবেশ করলে তুমি নিজেকে ভুলে যাও। খুব মাথা ব্যাথা হলে, খুব উৎসাহী হয়ে কিছু একটা করার চেষ্টা কর, দেখবে মাথাব্যাথা সেরে গেছে।

যেহেতু তুমি সর্বদাই মাথা সম্পর্কে সচেতন, তোমার মাথাব্যাথা বহাল থাকে। যেই মুহূর্তে অন্য কিছুর গভীরে ঢুকে পড়, মাথাব্যাথা অদশ্য হয়ে যায়। কেবল যখন মাথাকে মনে রাখছ, মাথাব্যাথা আছে। যখন তুমি কোন ভাবের পভীরে প্রবেশ করে, কেবল সেই ভাবই থাকে এবং তুমি থাক না। একেই আমরা বলি সমগ্রতা।

এই 'তুমি' মিলিয়ে যাবার মুহূর্ত হয়ত কয়েক সেকেণ্ড উপলব্ধি করেছ। কিন্তু প্রগাদ হয়ে কাজ করলে ও সমগ্রতা নিয়ে এলে. এই 'তুমি' মিলিয়ে যাবার অভিজ্ঞতা বারবার হবে ও বেশী সময় ধরে হবে। শীঘ্রই তুমি ঐকান্তিক হয়ে কাজ করার কলা আয়ত্ত করবে এবং সেই কাজ 'তুমি' অনুপস্থিত থেকে সম্পাদিত হবে।

একইভাবে যখন প্রেমে উদ্ভাসিত হচ্ছ, তুমি নিজেকে খেয়াল কর না, কেবল প্রেম উপলব্ধি কর: তুমি প্রেম হয়ে যাও। একমাত্র যখন প্রেম হও, তমি প্রকৃত প্রেম খুঁজে পেয়েছ। যখন প্রেম হও, স্বাভাবিকভাবে তুমি সকলের দিকে ও সব কিছুর দিকে করুণা ছড়িয়ে দেবে। তুমি তোমার চারিদিকের গুরুদায়িতু নাও। জনসেবা করার আমিত থেকে এই দায়িতু নাওয়া হয় না, কিন্তু উপচে পড়া প্রেমশক্তি থেকে এই দায়িত্ব নাওয়া হয়।

প্রেম ও দায়িত্ব

প্রেস ও দায়িত হাতে হাত দিয়ে চলে। যখন সত্যিকারের প্রেম হয়, তুমি পরো দায়িত নেবেই নেবে। লোকে ভাবে সন্নাস তাদের জন্য যারা দায়িত থেকে পালিয়ে বেডায়। বুঝে নাও : নিজের পরিবারের দায়িত পেরিয়ে একজন সন্ন্যাসী আরও অনেক বড পরিবারের দায়িত্ব নেয়, মানবজাতি সেই বড় পরিবার যা তোমার পরিবারের চেয়ে কোটিগুণ বড়। লোকেরা এটা না বুঝে কেবল সমালোচনা করে।

দায়িত্ব খুব সহজেই ঝেড়ে ফেলা যায়। যত বেশী দায়িত্ব নেবে তত বেশী প্রসারিত হবে এবং ঐশ্বরিক শক্তি সাভাবিকভাবে তোমাতে প্রবাহিত হবে। আমি আমার হীলারদের (healer) যত পারে তত বেশী করে চারিদিকের দুঃখকষ্ট ও বেদনার জন্য দায়িত্ব নিতে বলি ও অবিশ্রাম লোকেদের নিরাময় করতে বলি।

যখন তুমি ভাব যে আশেপাশের দুঃখকষ্টের জন্য তোমার দায়িত্ব আছে তুমি স্বতক্ষলভাবে এই দুঃখকষ্ট যে করে হোক কমানোর জন্য উঠেপড়ে লাগবে। মানুষ প্রায়ই ভাবে যে নিজের পরিবারের জন্য কাজ করাই যথেষ্ট। এটা একপ্রকার সংকোচন, প্রসারণ নয়। বিকশিত হবার জন্য তোমাকে প্রসারিত হতে হবে। তুমি দায়িত্ব নিলে থেকেই তোমার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হবে।

লোকেরা আমায় বলে, 'স্বামীজী, ঠিক করে নিজের পরিবারের যতু করলেই তো যথেষ্ট।' পরিষ্কার করে বোঝ : নিজের চারপাশে একটা কড়া সীমারেখা টানার জন্য এটা খালি একটা অজুহাত, নিজেকে সংক্রচিত করার উপায়।

তুমি হয়ত বোধিধর্মের বিখ্যাত পথক্যিগুলি শুনেছ :

বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি, ধর্মং শরণং গচ্ছামি, সংঘং শরণং গচ্ছামি।

এর মানে :

আমি বুদ্ধের শরণাগত আমি ধর্মের (বুদ্ধের শিক্ষার) শরণাগত আমি সংঘের (বুদ্ধের মিশন বা প্রতিষ্ঠানের) শরণাগত

বুদ্ধ বা কোন মাস্টারের শরণাগত হওয়া খুবই সোজা। তোমাকে সেজন্য বেশী কিছু করতে হবে না। মাস্টারেরা নিজেদের ঈশ্বরতের জন্য সকলকে বিষুগ্ধ করেন। মাস্টারের প্রতি আকর্ষিত হতে তোমার বেশী সময় লাগে না। অনেকে বলে , যে মুহূর্তে তারা আমায় দেখে, তাদের মধ্যে আমার ওপরে একটা বিশ্বাস জাগে। আমি বলি, এটা বড় কিছু নয়। আমার এই আকারে যে অস্তিত্ব-শক্তি প্রবাহিত হয়, তাই তোমায় টেনে নেয়, ব্যাস!

পরের বর্ণনা : আমি বুদ্ধের শিক্ষার কাছ সমর্পিত বা শরণাগত। এটা প্রথমটার চেয়ে কঠিন, কারণ যেই মুহূর্তে এটা বল, তোমাকে দেখাতে হবে যে তুমি এটা অনুসরণ করছ। উদাহরণস্বরূপ, আমি তোমায় বলি, 'আনন্দময় হও!' এটা আমার শিক্ষা, তখন তুমি কি বল? 'না না স্বামীজী, এটা প্র্যাকটিকাল, নয়...' সাফ সাফ বোঝ : আমই কেবল বাস্তব কথাই বলি। তুমি ভাবতে থাক যে আমি জীবনমুক্ত এবং আমি তোমার তথাকথিত বাস্তবিক জীবন সম্বন্ধে কিছুই জানি না।

তুমি দৈনন্দিন জীবনে যা হতে পার আমি কেবল সেটাই বলি। যখন তোমায় বলি 'আনন্দময় হও', আমি তোমার সাথে আমার অভিজ্ঞতা শেয়ার করছি, ধর্মোপদেশ দিচ্ছি না। যে পরমানন্দে আমি তা তোমায় উপলব্ধি করতে আকর্ষণ করছি। আর ব্যাপারটা একেবারেই প্র্যাকটিকাল কারণ আমি এখানে তোমাদের সামনে পরমানন্দে জীবন্ত।

তৃতীয় লাইন বলে, আমি বুদ্ধের মিশন বা প্রতিষ্ঠানে সমর্পিত বা শরণাগত। প্রধান সমস্যা এখানে শুরু হয়। এটার জন্য তো নিজেকে অনেক দায়িত্ব নিতে হবে।

এটা বোঝ যে মাস্টার তাঁর শরীরের চেয়ে তার মিশনে বেশী জীবন্ত। তাঁদের মাত্র ৩৩% শক্তি তাঁদের দেহে। বাকী ৬৬% শক্তি থাকে তাঁদের মিশন ও শিক্ষায়। তাঁরা সেই প্রকার দায়িত্ব নেন। আমি সক্যময়েই বলি যে আমি শক্তি পাই আমার 'নিত্যানন্দ মুজ্জমেন্ট' থেকে, যা খাই তা থেকে নয়।

কোন কর্ম বা অতৃপ্ত বাসনা পূরণ করার জন্য মাস্টারেরা জন্ম নেন না, কারণ তাঁদের পূরণ করার জন্য কোন কর্ম নেই। তাঁরা জন্ম নেন নিছক করুণা নিয়ে, নিছক প্রেম নিয়ে, মানুষের ঈশ্বরতুকে জাগাবার জন্য।

মাস্টারেরা তাঁর শরীরের চেয়ে তাঁর কথা ও মিশনে বেশী জীবন্ত। তাই আমি সর্বদাই লোকেদের আমার আকার মন থেকে মুছে ফেলতে বলি এবং পরিবর্তে আমার মিশনের শক্তি সম্বন্ধে অনুভূতিশীল হতে বলি।

কিন্তু তুমি কি কর? তুমি সব সময়ে আমার চেষ্টা কর। দ্যাখ, আমার কাজ করলে তোমার নিজের প্রকৃতিন হবে, কিন্ত তা করার বদলে, আমার পিছনে নিজেকে ট্যাগ লাগিয়ে সারাক্ষণ আমার সাথে থাকতে চাও। আর আমি তা বললে তুমি কখনই সেটা বোঝ না।

বোঝ যে তুমি যখন কোন ধর্মীয় মিশনের কাজ করছ, তুমি দুটি জিনিম করছ। এক, তোমার নিজের আধ্যাত্মিক পথে এগিয়ে যাবার জন্য ধ্যান এবং দ্বিতীয়, সমাজসেবা, যেটা সবচেয়ে গুরুদায়িত্ব। দ্বিতীয়টি কেবল এক বাই-প্রোডাক্ট। মিশনের কাজ করার সময় তোমার যে রূপান্তর হয়, সেটাই তো আমার আসল উদ্দেশ্য বা মিশন!

Section 13

তাই খুশী হয়ে দায়িত্ব নাও! তাতে তুমি নিঃস্বার্থ প্রেমের দিকে যে এগিয়ে যাচ্ছ তা উপলব্ধি করবে। পুরো বিশ্ব তোমার পরিবার হবে। সামনে আপাতদৃষ্টিতে বড় কাজ এলে তুমি সহজেই সেই দায়িত্ব নেবে। নিজের ভিতরের কোন প্রতিরোধ ছাড়া ঐ দায়িত্ব নাওয়াই যথেষ্ট। অস্তিত্ব বাকী ব্যবস্থা করে দেবে।

মাইসোর পাক সম্বন্ধে শুনেছ? এটি প্রসিদ্ধ ভারতীয় মিষ্টি। এটা দেখতে ভারী, কিন্তু মুখে দিলে গলে যায় আর তোমায় নতুন শক্তি

দেয়। সেইরূপ তুমি যখনই এক ভারী দায়িত্ব নেবার জন্য হ্যাঁ বললে, তুমি সঙ্গে সঙ্গে তা পালন করার জন্য শক্তি পাবে। দায়িত্ব নেবার নির্ণয়ই তোমাকে প্রয়োজনীয় শক্তি যোগাবে। তোমাকে অস্তিত্বের এই প্রেমশক্তিকে তোমার ভিতরে আবিষ্কার করতে হবে।

দায়িত নেবার জন্য বাছবিচার ছাড়াই পূর্ণ অস্তিত্বকে প্রেম করা চাই। বৈষম্য ছাড়া প্রেম করলে, তুমি বৈষম্য ছাড়া দায়িত্ব নিতে পার। দায়িত স্বতঃষ্ণুভাবে সাড়া দেওয়া ছাড়া আর কিছুই নয়। যখন একটা চিন্তা, একটা প্ল্যান বা পরিকল্পনা ছাড়া সাড়া দিতে পার, যখন যে কোন কিছুর মুখোমুখী হতে রাজী হয়েছ, তখন তুমি তৈরি হয়েছ!

প্রশ্ন : আমি ভালবাসতে চাই কিন্তু আমি ছাড়তে পারছি না ......

পর্ণরূপে প্রেময় হওয়া আমিতের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। পূর্ণরূপে প্রেমময় হওয়া মানে নিজেকে পূর্ণতে নিষজ্ঞতাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্প করে ফেলা । আমিতের জন্য এটা এক বড় সমস্যা। তুমি এখন টুকরা টুকরা হয়ে আছ; তুমি সমগ্রতা বা সংহতি পাও নি। খণ্ড খণ্ড হয়ে থেকে তুমি বিভিন্ন খণ্ডের সাথে খেলা করা ও পালিয়ে বেড়াও, ব্যাস। প্রেমময় হওয়া মানে সংহত হওয়া। কিন্তু তুমি ভয় পাও, কারণ তমি সংহত হলে তমি সামগ্রিকভাবে বর্দ্ধিত হও। তোমার খণ্ডগুলিকে মরতে হবে এবং তোমাকে পূর্ণ হতে হবে।

খণ্ডিত থাকার এত অভ্যাস হয়ে গেছে যে তুমি সুসংহত হতে ভয় পাও। তাতে তোমার আমিত বাধা দেয়। প্রেমনয় হবার সময় তুমি তোমার আমিত্বকে গলিয়ে ফেল। আগে তোমার আমিত শক্ত ছিল, কঠিন ছিল এবং তা তোমার ভাল লাগত। তোমার আমিত গলে গেলে কি হবে? তোমার মনে হবে তুমি নিজের পরিচয় হারিয়ে ফেলছ, দৃঢ়মুষ্টি হারিয়ে ফেলছ।

মাত্র একবার যদি ছেড়ে দেবার সিদ্ধান্ত নাও, তুমি এক অদ্ভুত স্বাধীনতা অনুভব করবে, তোমার ভিতরে এক মুক্তির উপলব্ধি পাবে। ছেডে দেবার জন্য ও প্রেময় হবার জন্য সাহস চাই। প্রথম পদক্ষেপ হিসাবে কমপক্ষে তোমার গভীরে এই সম্বন্ধে সচেতন হও, বাকীটা নিজে নিজেই হবে। বন্ধ তালা খোলার জন্য সচেতনতাই চাবি।

নাম যশ পেড়িয়ে যখন প্রেম করতে শুরু কর, তখন তুমি কিছুই হারাজ না, তুমি কেবল সেটাই হারাজ্য যা তুমি নও; যে ভ্রম তোমার হারানো উচিত। তুমি লাভ করেছ বাস্তব অস্তিত্ব। তাই কেবল বিশ্বাস রাখ ও পর্ণের সাথে মিলে যাবার সময় ভয় পেয়া না।

ছেড়ে দাও, স্বস্তিতে থাক ও অন্তরের রূপান্তর ঘটা প্রত্যক্ষ করে যে, তুমি কেমন বোকার মত তোমার আমিতের কথামত চলতে আর আমিতের মুখোশের পিছনে লুকিয়ে কত কি হারিয়েছ।

প্রকৃত প্রেম কখনই হিসাব করে না। প্রকৃত প্রেম হাদক হয় এবং হু দয় হিসাব জানে না। হিসাব জানে কেবল মন । মন থেকে হৃদয়ে যাবার সময় এসেছে। মনের কথা অনেক শুনেছ ও মেনেছ। এখন হৃদয়কে শোনার সিদ্ধান্ত নাও। যখন হৃদয়ের সাথে জীবন্ত থাকছ, জীবনে কিছুতেই আফশোস হবে না কারণ সব কিছুতেই এক পর্ণতা থাকবে।

প্রকৃত প্রেম মন দ্বারা উপলব্ধি করা যায় না। তা উপলব্ধি করা যায় কেবল হৃদয় দিয়ে। তোমার সত্তার কেন্দ্রে প্রেমের উপলব্ধি করতে হয়। তোমার সত্তার কেন্দ্র তো পূর্ণরূপে নীরব থাকে ; সে কোন কথা বা চিন্তা জানে না। কোন চিন্তাই তাকে ভেদ করতে পারে না।

সেইজন্য বারংবার মাস্টারেরা তোমাদের নিজেদের গভীরে প্রবেশ ক'রে তোমাদের প্রকৃত স্বরূপ আবিষ্কার করতে বলছেন। তোমার কেন্দ্রই তোমার প্রকৃত স্বরূপ। এটাই প্রকৃত 'তুমি।' কিন্তু তুমি নিজেকে অন্য জায়গাণ্ডলিতে খুঁজতে থাক - সম্বন্ধতায়, বিভিন্ন বস্তুতে ও আরও কত কি। তুমি লাগাতার সত্য থেকে দরে থাকছ। এখন তাকে নিজের অন্তরে দেখার সময়।

আমরা প্রেম সম্বন্ধে অনর্গল কথা বলি, সোজা কারণ হল আমরা এখনও এটার স্বাদ পাই নি। যখন একজন মানুষ তফতর্ত, সে সর্বদাই জলের কথা বলে, তার স্বপ্ন দেখে। তৃষ্ণা মিটে গেলে সে আর জলের কথা বলে না। আমাদের 'ছেড়ে-দেওয়া' অবস্থায় এসে প্রকৃত প্রেমকে উপলব্ধি করা উচিত। এই প্রেম তোমাকে পূর্ণের সাথে মিলিয়ে দেয়। তবেই আমরা প্রেম সম্বন্ধে কথা বলা বন্ধ করব।

প্রেম আসলে সমর্গণ। কিন্তু আমাদের অনেকের মধ্যে এটা হয়ে যায় এক লড়াই। যখন আমি সমর্পণের কথা বলছি, আমি স্বীকার করে সমর্পণের কথা বলছি না। গভীর উপলব্ধি থেকে সমর্পণের কথা বলছি। মেনে নিয়ে বা স্বীকার করে সমর্পণ করলে তো তুমি আপোস করছ। প্রেম কখনই একটা আপোস হতে পারে না। যেই মুহূর্তে আপোস করছ , সেটা আর প্রেম থাকল না। কেবল যখন তুমি উপলব্ধি কর ও দ্রবীভূত হও, সেটাই প্রেম।

একজন মাস্টারের সান্নিধ্যে যাওয়া মানে প্রেম আবিষ্কার করার জন্য এক চিরজীবনের সুযোগ পাওয়া ; মরে গিয়ে নতুন জন্মের মহাসযোগ। মাস্টারের উপস্থিতিতে যে অ্যালকেমি প্রক্রিয়া হয় তাতে তোমার মরণ হয়ে প্রকৃত প্রেম নিয়ে আবার জন্ম হওয়া ছাড়া ।

। ।

। ।

। । তািা সতামায় বরল সে তারিি কথা মানাই সতামাি পরে েরথষ্ট।

যারা দ্রবীভৃত হওয়ার অ্যাডভেঞ্চারের জন্য, পর্ণকে উপলব্ধি করার জন্য প্রস্তত, তারা নির্ভীক। সাধারণ প্রেম বলে যাকে জান তা চার দেওয়ালের মধ্যে বেষ্টিত থেকে সংগ্রাম করার মত। প্রকৃত প্রেম বাইরের ঠাণ্ডায় রাস্তায় লড়াই করার মত। নির্ভীক মানুষ রাস্তায় লড়ে ও জেতে। যখন চার দেওয়ালের মধ্যে লড়াই করছ, তুমি উত্তম বোধ কর, কিন্তু বাস্তবতা হারিয়ে ফেলেছ। যখন রাস্তায় নেমে লড়াই করছ. তখন বাস্তবে আছ ও জীবন্ত আছ!

বাইরে সংগ্রাম করার জন্য আতঙ্কিত হবার দরকার নেই। অন্তিতের করুণাময়ী দুষ্টির সামনে লড়াই করলে , তোমার ভয়ের প্রয়োজন নেই. কারণ যদি পডেও যাও, তুমি তো অস্তিতেরই কোলে পড়বে! কিন্তু তোমার দাঁড়িয়ে পড়ে লড়াই করার সাহস চাইই চাই। তোমার দিক থেকে এই পদক্ষপটি নিতে হবে। অস্তিত বাকীটার ভার নেবে।

সত্য জানার জন্য আরও উৎসুক হলে এটা হবে। কেবল ঔৎসুক্য পর্যাপ্ত নয়। যদি তুমি খালি উৎসুক হও, তুমি আসবে, একটু মাখামাখি করবে ও কেটে পড়বে। উৎসকের চেয়ে বেশী হলে, তোমার ভিতরে যদি মাঝে মাঝে এক তীব্র ইচ্ছা জাগে, তমি জানা ও উপলব্ধি করা শুরু হবে। তুমি কেবল উৎসুক হলে, ভক্তি ও উৎসর্গ থাকবে না। ভিতরে আগুন থাকলে ভর্তি ও উৎসর্গ থাকবে। উৎসর্জন তোমাকে এখানে বারবার নিয়ে আসে।

এখান থেকে পালিয়ে যেতে চেষ্টা কর, পারবে না! হয়ত কিছুদিন দরে থাকলে, কিন্তু ভিতরের তীব্র ইচ্ছা আবার তোমায় এখানে নিয়ে আসবে। প্রকৃত প্রেম আবিষ্কার করার জন্য, তোমার এই ঐকান্তিকতা চাই।

প্রেম তোমায় সুন্দর ও সম্পদশালী করে

বিনিময়ে কিছু না চেয়ে যত পার প্রেম করা কোন কারণে প্রেম, প্রেম নয়; তা এক ব্যবসায়ীর কারবার। তুমি যখন বিনা কারণে প্রেম করতে পার, যা কিছু ও যে কেউ তোমার সামনে আসে তাদের প্রেম করতে পার, তুমি অসাধারণ শক্তি ও সুন্দরতা বিষুক্ত করবে। তোমাকে অতি সুন্দর দেখাবে, শারীরিকভাবে সুন্দর হও কি না হও।

ভেবো না যে নিঃশর্ত প্রেম তোমায় কিছু ফিরিয়ে দেবে না। তোমাকে নানাভাবে তা ফিরিয়ে দেবে। কিন্তু তোমার এমন এক স্তরে বিকশিত হওয়া উচিত যেখান থেকে তুমি এইসব জিনিষ তোমার দিকে আসছে দেখবে , কিন্তু প্রেম করতেই থাকবে কেবল প্রেম করার খাতিরে। বুদ্ধি তোমাকে দেখাবে যে তুমি কি বদলে কি পাচ্ছ এবং সেই বুদ্ধি তোমাকে সেই জিনিষগুলি থেকে পরমানন্দে মুক্ত করে রাখবে।

তোমার হৃদয়ে এক বিরাট পরিবর্তন আসবে এবং তুমি এক নতুন মানুষ হবে। অন্যেরা তোমার মধ্যে এক সুন্দর রূপান্তর দেখবে। তারা তোমায় নতুনভাবে শ্রদ্ধা করবে। তারা তোমাকে প্রস্কুটিত হতে দেখবে, যা তাদের কাছে অবোধগম্য।

নিঃশর্ত প্রেম করার জন্য, তোমাকে স্বাধীন অনুভব করতে হবে। স্বাধীন বলতে আমি কি বোঝাছিল জাতি, বর্ণ, ধর্ম, পরিবার, আত্মীয় প্রভৃতি দ্বারা বন্ধনে না আবদ্ধ হওয়া। কারণ এগুলি দ্বারা যখন বন্ধনে পড়, তোমার প্রেম বন্ধন পড়বে এবং বাঁধা প্রেম প্রকৃত প্রেম নয়। সীমিত থেকে কিভাবে প্রেম করবে? তা তো প্রেমের সজ্ঞার বিপরীতে!

আমি তোমার পরিবার, ধর্ম ইত্যাদি ভোলা উচিৎ বলছি না। এদের প্রসঙ্গে প্রেমকে দেখো না, ব্যাস। তোমার অন্তর্দেশকে এই সকল বন্ধন থেকে মুক্ত কর। যখন তুমি অনুভব কর যে তুমি পূর্ণ অন্ধতত্বর অংশ, তুমি কোন সীমা ছাড়াই প্রেম করতে পারবে।

আমি সর্বদাই লোকেদের বলি : আমার জন্য যে প্রেম অনুভব কর তা যদি সকলের জন্য অনুভব কর, তাহলে প্রকৃত প্রেম ক্ষণিকের জন্য হলেও অনুভব করেছ। আমায় প্রেম করা খুবই সোজা! কিন্তু সেই একই প্রেম তুমি যদি সকলকেই করতে পার তাহলে প্রকৃত প্রেম ঠিকভাবে উপলব্ধি করেছ; তাহলে তুমি সবকিছুতে অন্তত্যের উপস্থিতি অনুভব করতে শুরু করেছে। তারপর ধীরে ধীরে তুমি সবকিছু ও সবাইকে অস্তিতের অংশ বলে আলিঙ্গন করবে।

আমাদের ভিতরে শক্তির উৎসকে উপলব্ধি করার জন্য এখন একটা সোজা এবং খুব কার্যকর ধ্যান -প্রক্রিয়া করব - তার নাম 'মহামন্ত্র ধ্যান।' এই ধ্যান দ্বারা হার্ট অঞ্চলে অবস্থিত 'অনাহত চক্র'-তে শক্তির সঞ্চার হয়।

আবেগ : প্রেম চক্র : অনাহত চক্র অবস্থান : হার্টি বা হৃদয় অঞ্চল

সংস্কৃতে অনাহত মানে 'যাকে সুষ্টি করা যায় না।' পবিত্র প্রেম কখনই সুষ্টি করা যায় না। তা নিজে থেকে প্রস্ফুটিত হয়।

অপরের মনোযোগ ও ভালবাসা আকাঙ্খা করতে থাকলে এই চক্রটি বন্ধ থাকে এবং কারো কাছ থেকে কিছু প্রত্যাশা না করে নিঃস্বার্থ প্রেম প্রকাশ করলে এই চক্রটি প্রফুটিত হয় !

প্রেমশক্তির উৎস হবার ধ্যান-প্রক্রিয়া : মহামন্ত্র ধ্যান - তিব্বতের বৌদ্ধদের প্রক্রিয়া।

মহামন্ত্র ধ্যান

(সময় লাগবে ৩০ মিনিট। খালি পেটে করতে হয়)

Section 14

মহামন্ত্র ধ্যান একটি পুরাতন তিব্বতীয় বৌদ্ধ পদ্ধতি যা তোমাকে তোমার ভিতরের শক্তির উৎস অনুভবে সাহায্য করে। এটা তোমার ভিতরে এক সুন্দর শক্তি প্রবাহ সঞ্চার করে। এটা তোমাকে কানায় কানায় শক্তিতে পূর্ণ করে দেয় যাতে করে তুমি অপরের মনোযোগ আকর্ষণের আকাঙ্কা করা বন্ধ করে এবং উপচে পড়া শক্তি ও প্রেম অপরকে দিতে থাক। এই প্রক্রিয়া হার্ট অঞ্চলে অবস্থিত অনাহত চক্রকে জাগ্রত করে।

এটা তোমার মনকে দৃঢ় ও স্থির করে। তোমার মন তো চিন্তায় আন্দোলিত হচ্ছে। এই ধ্যানে তোমার মন এক মন-বিহীন অঞ্চলে প্রবেশ করে ও স্থির হয়। এটা যেন অসীমে যাবার জন্য একটা জাম্পিং-বোর্ড (jumping board)।

এই ধ্যানের সময় তোমার পলায় মালা পরতে পারে। ধ্যানকালে যে তুমি যে শক্তি উৎপন্ন করবে , তা এই মালাতে সঞ্চিত করতে পার। এই ধ্যান খালি পেটে করতে হয়, খুব সকালে করাই শ্রেয় অথবা যে কোন ভোজনের দু ঘন্টা পরে। এটা একা বা একত্ব হয়ে করা যায়। একসাথে করলে, যেখানে এটা করা হল সেই জায়গায় সার্থকরূপে শক্তির সঞ্চার হয়।

তোমাদের প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করি :

মেঝেতে পা মুড়ে আরামদায়ক ভঙ্গিতে বস। তোমার মাথা, ঘাড় ও শিরদাঁড়া এক সরলরেখায় রাখা তোমাদের মধ্যে যারা মেঝেতে বসতে পার না তারা চেয়ারে বসতে পার। নিজেকে রিল্যাক্সড় ভাব ও চোখ বন্ধ করে। এমন কি চোখ বন্ধ করার পরেও আমরা চোখের পর্দার পিছনে নানা আকার ও ছবি দেখি। এটাকে মোকাবিলা করার জন্য ভাব যে তোমার অক্ষিগোলক দ্বটি পাথর হয়ে গেছে। মানসিক বল দিয়ে তাদের কঠিন করে দাও; তাহলে ছবিগুলি চলে যাবে। চোখের নাড়াচাড়ার সাথে চিন্তার আসা যাওয়ার অনেক সম্বন্ধ আছে। তাই চোখের গোলকের গতিচাঞ্চল্য বন্ধ করতে বলা হয়। তাদের বন্ধ রাখার জন্য খুব পরিশ্রান্ত হয়ো না। ধ্যানে সহজভাবে প্ৰবৃত্ত হও।

ঠোঁট দুটি একসাথে রেখে ভিতর থেকে 'মমমম…' আওয়াজ বার কর। একটা অ্যালুমিনিয়ামের বাসনের ভিতরে মুখ ঢুকিয়ে গুঞ্জন করলে যে আওয়াজ শোন, সেই প্রকার আওয়াজ হবে। লক্ষ্য করে এটা 'হাম…' নয়, এতে তোমার ঠেটি দুটি

সর্বদাই একসাথে লেগে থেকে 'মমুম...' ধানি হবে। এই গুঞ্জন ধ্বনি পরের শাস নেবার আগে পর্যন্ত যতটা পার লম্বা সময় ধরে কর। আওয়াজ যত গভীর থেকে সম্ভব আসবে, নাভি থেকে আসবে এবং যত জোরে বা উচ্চেঞ্চরে পার কর।

প্রতিটি 'মমমম…' ধ্বনির পরে পভীর শ্বাস নেবার প্রচেষ্টা কোরো না: শরীর নিজেই দরকার মত শাস নেবে। শায়বিক কোন চাপে থেকো না। নিজের সমস্ত সত্তা ও শক্তিকে এই স্পন্দন সঙ্গির কাজে লাগিয়ে দাও। একদম এই গুঞ্জন হয়ে যাও। তোমার সমস্ত শরীর যেন এই গুঞ্জনের স্পন্দনে ভরে যায়। কিছু সময় পরে, দেখবে যে এই গুঞ্জন তোমার প্রচেষ্টা ছাড়াই হয়ে চলেছে এবং তমি তার শ্রোতা হয়ে গেছো।

কুড়ি মিনিট পর, গুঞ্জন বন্ধ করে। যদি সিভি শুনছ তাহলে প্রবৃত্তি শুনতে পাবে এবং যে অবস্থায় আছ সঙ্গে সঙ্গে থানা। একটা গুঞ্জন শেষ করার চেষ্টা কোরো না, একদম আকস্মিকভাবে থাম।

গুঞ্জন থামানোর পর, চোখ বন্ধ রাখ এবং দশ মিনিট হাসিমুখে ও আনন্দময় মেজাজে নীরব ও নিষ্ক্রিয় থাক। কোন চিন্তা এলে আসতে দাও। সহজভাবে মন্তক দেখো, যেন তুমি টেলিভিশন দেখছ। চিন্তাকে বাধা দিও না অথবা তাদের কোনরূপে বিচার কোরো না। নীরবে ও আনন্দে থাক। এই সময়ে ২০ মিনিট ধরে গুঞ্জন করার সময় যে শক্তি সঙ্গি হয়েছে তা তোমার সত্তার প্রতি টি কোণাতে পৌঁছাবে এবং তাদের গভীরভাবে বিশোধন করবে।

দশ মিনিট পর, ধীরে, খুব ধীরে ধীরে, তোমার চোখ খোল। কমপক্ষে পরের আধ ঘন্টা খুব কম কথা বলার চেষ্টা কর।

ধন্যবাদ।